অমিত চক্রবর্তী-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

যে কয়েকজন মানুষ এখন এই রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে লোকাল সার্ভিসের বাসটা আসার অপেক্ষা করছে, যাদের অনুভূতিশূন্য চেহারার চারপাশে এই শবরঙা গোধূলি ছড়িয়ে ছিটিয়ে লেগে আছে, যাদের সামনে আরেকটি সন্ধ্যা তার যাবতীয় বিষণ্নতা নিয়ে আসি আসি করছে তারা আসলে এই ডায়াস্পোরিক সময়ের কব্জিতে ঝুলে থাকা কয়েকজন মানুষ বা তারা মনে করে তারা মানুষ হিসেবে একটি স্বার্থক জীবন যাপন করছে অথবা নিদেনপক্ষে দেখাতে চায় যে তারা মানুষ হিসেবে একটি স্বার্থক জীবনকে অতিবাহন করছে। এর মধ্যে এজমার সমস্যাজনিত কারণে একজন মুখ হা করে নিঃশ্বাস নিচ্ছে, আরেকজন বাম হাতের কনুইয়ে ঘাপ্টি মেরে থাকা আঁচিলটা বার বার আঙুল দিয়ে অনুভব করছে এবং মনে মনে নখ দিয়ে আঁচিলটা তুলে ফেলতে চাচ্ছে আর অন্য আরেকজন চটচটে ঘামে শরীরের সাথে লেপ্টে থাকা হালকা নীল রঙা শার্ট নেড়ে চেড়ে নিজেকে খানিক স্বস্তি দিতে চাচ্ছে। আমাদের এই আলোচ্য কয়েকজন মানুষেরা যেভাবেই হোক শহরের মানুষদানির ক্ষীনতর শূন্যস্থানের উপর জেঁকে বসেছে এবং এক ধরণের তীব্র আগ্রহে সম্ভাব্য বাসটির জন্য অপেক্ষা করছে আর মনে মনে ফন্দি আঁটছে কিভাবে জানালার পাশে একটি সুবিধেজনক সিট বাগিয়ে নেওয়া সম্ভব। বাসটির ভেতরের সম্ভাব্য ভীড়, বাসটি থামার পর দরজা খুলে ঢুকে পড়ার প্রয়োজনীয় ক্ষীপ্রতা, ঘাম চটচটে হাত ব্যবহার করে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষদের সরিয়ে নিজের জায়গা দখল করে নেওয়া- কোনো ধরণের ফ্যাক্টই বাদ দিচ্ছে না তারা। যে ডায়াস্পোরিক সময়ের কথা বলা হচ্ছে- মূলত যাকে ধরেই এই মানুষগুলো ঝুলে আছে- সেটি রাবারের মতো নিখুঁত স্থিতিস্থাপকতায় প্রসারিত হয়েই যাচ্ছে। যেকোনোসময় এটি ছিঁড়ে যেতে পারে এইরকম কোনো টেনশান মানুষগুলোকে প্রভাবিত করতে পারছে না মোটেও। এই ধরণের মানুষেরা, যারা মূলত ঝুলে আছে তারা নিজস্ব চক্র নিয়েই বেশি ব্যস্ত আর উৎকণ্ঠিত। অথবা ধরে নেয়া যায় মানুষ হিসেবে বেচে থাকতে হলে বা অন্তত নিজেকে একজন মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করার জন্য তাদেরকে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সেইফটি ফ্যাকটরটা অনেক বড় করে ধরে নিতে হয়। তাই তারা তাদের এই জড়অস্তিত্বের অতিকায় ভরের সাথে সময়ের সংলগ্নতা যথাসম্ভব কমিয়ে আনতে এক ধরণের সাময়িক মোমেন্টাম অর্জন করতে চায় এবং এই ছোট ছোট সাময়িক মোমেন্টাম দিয়েই তারা নিজেদের চালায়। সেইক্ষেত্রে মুহূর্তের ক্ষীপ্রতায় লোকাল বাসে উঠে পড়া বিষয়ক ভাবনাটুকু বাদ দিলে তাদের চেতনায় বড়জোর প্রাধান্য পেতে পারে শ্বাসকষ্টের ফলে মুখ হা করে নিঃশ্বাস নেয়া বা একটা নিরবিচ্ছিন্ন ব্যধির মতো বাম হাতের কনুইয়ে আঁচিলের উপস্থিতি অথবা ঘাম চটচটে শরীরের সাথে শার্টটির লেগে থাকা। গল্পের ঠিক এই পর্যায়ে, যখন সন্ধ্যা মোটামুটি শহরের চারদিকে থকথকে অন্ধকারের পেষ্ট ছড়িয়ে দিতে উদ্যত আর সিটি কর্পোরেশানের একটা টাইমলাইন গুবলেট করে ফেলা লরি অন্ধকারের সাথে সাথে এক ধরণের নাগরিক দূর্গন্ধ ছড়িয়ে দিতে প্রস্তুত, ঠিক সেই সময়টিতেই আমাদের কাঙ্ক্ষিত বাসটিকে এখন পর্যন্ত গল্পের আলোচ্য মোড়টিতে দেখা যায়। তখনই নির্বিকার মানুষগুলোর চেহারায় এক ধরণের তেলতেলে চাঞ্চল্য ফুটে উঠে। তাদের প্রত্যেকের শিথীল ও ক্লান্ত মাংসপেশীতে উৎসাহের কয়েকটি ন্যানো-ঘোড়া দৌড়াতে শুরু করে এবং সর্বোপরি এই বিমর্ষ শহরাংশে এক ধরণের উৎসব উৎসব ভাব নেচে উঠে। বাসটির অসুস্থ হলুদরঙের হেডলাইট, কন্ডাকটরের পানখাওয়া লালচে দাঁত, জানালায় বসে থাকা পৌঢ়ের বিরক্ত অভিব্যক্তি অথবা পেছনের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা উন্মাদ যুবকের উড়ন্ত বখাটে চুল- সবি তাদের কাছে নিখুঁত রকমের সিনেম্যাটিক ও সুন্দর বলে ভ্রম হয়। তারা শ্বাসকষ্ট, বামকনুইয়ের আঁচিল অথবা ঘাম চটচটে শার্টের থেকে সৃষ্ট ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জটিলতাগুলোকে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে সমস্ত মনোযোগে বাসটির পা-দানির দিকে হামলে পড়ে। এবঙ পুরো ঘটনাকে আরো একটু নাটকীয় আর রোমাঞ্চক করে তোলার অভিপ্রায়ে তখনই সন্ধ্যা তার অন্ধকারের পেষ্ট আর সিটি কর্পোরেশানের লরি তার নাগরিক দূর্গন্ধ একই সাথে ছড়িয়ে দেয়। মোটামুটি অক্ষতভাবে পেছনের দরজা দিয়ে তাদের দশাসই অস্তিত্বকে সেঁধিয়ে দেয়ার পর একধরণের খলহাসি ফুটে উঠতে দেখা যায় তাদের ভাবলেশহীন চেহারায় আর প্রাথমিক লক্ষ্য অর্জনের আনন্দে তারা উৎফুল্ল হয়। তাদের ওঠার সাথে সাথে পেছনের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা যুবকটি নেমে যায় বাস থেকে। তার কথা আমরা একটু বলব এই গল্পে, কারণ কোনো না কোনো ভাবে এই গল্পে তার ভয়াবহভাবে জড়িত থাকার কথা ছিল।
যুবকঃ
সে প্রতিদিন খুন করে এবং খুন হয়। তার প্রতিদিনকার খুনের সাক্ষী একটি বেসিন আর একটি স্কয়ারমিরর। এই শহরে সমুদ্র নাই এবং এই শহরের সন্ধ্যাটা আনহাইজেনিক। সে শহরে বের হলেই অদ্ভূত ডিহাইড্রেশানে ভোগে। ভয়ংকর তৃষ্ণা তাকে দখল করতে আসে। তীব্র সামুদ্রিক হাওয়ায় ভেসে ভেসে অন্যকোথাও যেতে চায়। তার বন্ধুর ছাদে উঠে সে সেই হাওয়া খুঁজে। ডিহাইড্রেশানের মোকাবেলা করতে আলোড়িত হাওয়ায় শরীর ডোবায়। আহা! গভীর শূন্যতার মতো শূন্য একটা হাওয়া। তার মাথা হাল্কা হয়ে যায়। মগজ উড়তে থাকে। তার উরু দুটি উড়তে থাকে। তার হাত দুটি উড়তে থাকে। তার পা দুটি উড়তে থাকে। সে ভাসে। সে উড়ে।বিষাদের মতোই তীব্র কোনো সুখ আহা! জীবনানন্দের অনন্ত নক্ষত্ররাজির নিচে সে এদিক ওদিক করে। খুন হয়। গান গায়। হেসে উঠে। অলৌকিক কোনো প্যারালাইসিসে আক্রান্ত জীবনানন্দের নক্ষত্ররাজি নড়তে পারে না। এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে তার দিকে। সেও ব্লিক একটা দৃষ্টি ফিরিয়ে দেয়। ভ্যান গগের স্ট্যারি নাইট তার চোখের হরাইজনে। সে মূক আর বধির আনন্দে খুন হয়। গান গায়। হেসে উঠে। এই ঘোলাটে হাওয়ায় এতো সুখ! তার সুখে আত্মহত্যা করতে ইচ্ছে হয়। কিন্তু আচম্বিতে সে টের পায় দীর্ঘদিন হয়ে গ্যালো সে মৃত। “I was never alive and nobody knew when I died”- সে বিড়বিড় করে। লাইনটা তার মাথার ভেতর ঢুকে যায়। সে কিছুতেই ভুলতে পারে না। “I was never alive and nobody knew when I died” । সে খুন হয়। “I was never alive and nobody knew when I died”। সে গান গায়। “I was never alive and nobody knew when I died”। সে নেচে উঠে। তার বুকপকেট থেকে একটা সমুদ্র গড়িয়ে পড়ে যায়। সে দেখে সমুদ্রে রোদ অনেক। বুড়ো সান্তিয়াগোকে তাড়া করছে হাঙরের ঝাঁক। ওদের দাঁতে, চোখে, পাখনায় মৃত্যু। সে ঐ হাঙরের ঝাঁকের মাঝখানে ঝাপ দিতে চায়। ওদের একসারি ধাঁরালো দাঁত তাকে আকর্ষন করে। কিন্তু আচমকাই তারা উধাও হয়ে যায়। আবার ভ্যান গগের স্ট্যারি নাইট। আর সেই শূন্য হাওয়া। একসময় সব শান্ত হয়ে আসে। কোনো শব্দ নাই এই পৃথিবীতে। সে ডুবে যেতে থাকে।
পরেরদিন ঘুম ভাঙার পর সে দেখে সে আবার জেগে উঠেছে। হনন ও বিকৃতি থেকে সে আবার কুৎসিত একটা ফুল হয়ে ফুটে উঠেছে। সে শহরে বের হয়। আজ বেসিন ও আয়নার অলক্ষ্যে একটা খুন করা দরকার। নম্বর বা গন্তব্য না দেখে একটা বাসে উঠে পড়ে। বাস ঘুরছে শহরকে ঘিরে। আর শহরটা ঘুরছে বাসকে ঘিরে। প্রতিটা মানুষ কুৎসিত। প্রতিটি দালান কুৎসিত। একটা সমুদ্রের জন্য তার বুক খাঁ খাঁ করে। বাসের পেছনের দরজায় দাঁড়িয়ে সে পরবর্তী খুনের চরম একটা ছক কষে ফেলে। খুব সহজ ও সুন্দর ছক। কেউ উঠবে। বাসে জায়গা থাকবে না। সে দাঁড়াবে তার ঠিক পেছনে। অতঃপর বাসের সঠিক গতি ও টাইমিং এর অপেক্ষা শুধু...
ফের ডায়াস্পোরাঃ
তারা ভালোভাবে বাসটা পর্যবেক্ষন করে। যতোটুকু ভীড় বাসের ভেতর আশা করেছিলো ততোটা ভীড় নেই দেখে এবং সবারই জানালার পাশে একটা সুবিধাজনক আসন বাগিয়ে নেয়া নিশ্চিত হলে তারা আরো উৎফুল্ল হয় এবং নিজ নিজ আসনে বসে প্লেটোনিক দৃষ্টিতে জানালার বাইরে তাকায়। তাদের কাছে শহরের সবগুলো কুৎসিত দালান, কুৎসিত নিয়ন আর জটপাকানো কারেন্টের তারগুলোকে সুন্দর লাগে। পুরো লাইনটিতে কোনো কাককে ঝুলে থাকতে না দেখে তারা পুলক অনুভব করে। হঠাৎই কাক নামের সেই কুদর্শন বোকা পাখিজাতির প্রতি তারা গভীর করুণা অনুভব করে। তাদেরকে দেখে সুখী মানুষ বলে মনে হয় যারা জীবনকে পুরোমাত্রায় উপভোগ করে আর যাদের এই দ্ব্যার্থক জীবনটাকে বয়ে নিয়ে যাওয়াজনিত কোনো দুঃখ বা সন্তাপ নেই। সেই মানুষটার কথা ধরা যাক যে কিছুক্ষণ আগেও বামকনুইয়ের আঁচিলটিকে নিয়ে বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ ছিলো। তার এই দীর্ঘজীবনের সূচনালগ্ন থেকে সঙ্গী আঁচিলটাকে এখনো সে নিজের পরিচিতির অংশ হিসেবে ভাবতে পারে নাই। সে যখন বাসটির জন্য অপেক্ষা করছিলো তখন তার বার বার মনে হচ্ছিল কোনো একভাবে এই আচিলটাকে যদি নিশ্চিহ্ন করে দেয়া যেত কনুই থেকে তাহলে খুব সম্ভবত সে সত্যিকারের স্বস্তি আর সুখ অনুভব করত। এখন সে এই বাসের জানালার আসনটিতে বসে বসে ভাবে, এই মনোরোম সন্ধ্যায় বহুল আকাঙ্ক্ষিত আসনে বসে সান্ধ্যহাওয়া উপভোগ করতে করতে শহরটা দেখা- শুধুমাত্র এইজন্য, এই একটা মুহূর্ত উপভোগ করার জন্যও তো বেঁচে থাকা যায় আসলে। সে তার বাবার রুগ্ন চেহারাটা ভুলে যেতে চায়। গ্রামে তাদের খুব একটা জমিজমা নেই। তারা কোনোভাবে বেঁচে আছে হয়তো। মানুষ তো বেঁচে থাকে নানাভাবেই। মায়ের ছানি পড়া চোখের চিকিৎসার কথাও সে ভুলে যায়। নিজেকে একজন শুধু আলাদা ও একা মানুষ হিসেবে ভাবতে তার ভালো লাগে। সে শুধুই একজন মানুষ। তার কোনো অতীতসূত্র নাই। হঠাৎ মধ্যরাতে মায়ের ছানিপড়া চোখটার কথা ভেবে তার ঘুম ভাঙে না। সে ফি-রাতে যখন আলু-সিদ্ধ বা একটা ডিম মামলেট কাঁচা পেঁয়াজ মরিচ দিয়ে মাখিয়ে গোগ্রাসে ভাত গিলে তখন কখনোই তার রুগ্ন-হাড্ডিসার বাবা বিছানায় তার পাশাপাশি বসে গায়ে হাত বুলিয়ে বুলিয়ে করুণকণ্ঠে বাড়িতে টাকা পাঠানোর কথা বলে না । সে একজন বিচ্ছিন্ন মানুষ। যে প্রতিদিন নিয়ম করে সারা মুখে গোধূলি মেখে এই বাসটির জন্য অপেক্ষা করে। অপেক্ষা করতে করতে বামকনুইয়ের আঁচিলের দিকে বিরক্তি নিয়ে তাকায় এবঙ একসময় বাসটির জানালার পাশের আসনে বসে সন্ধ্যাপান করে। কিংবা সাইনোসাইটিসে ভোগা মানুষটির কথাও ভাবা যেতে পারে। সেও তার আকাঙ্ক্ষিত জানালার পাশের একটি আসনে বসে আছে এখন। এক ধরণের গভীর কামনায় সে বিলবোর্ডে উজ্জ্বল, হাস্যরতা মেয়েটিকে দেখে। মেয়েটির লাস্যময়ী গ্রীবায়, সজীব দেহের করিডোরে সে অন্ধের মতো, লোভীর মতো, জন্তুর মতো ঢুকে যেতে চায়। এ নিয়ে সে কোনো অপরাধবোধে ভুগে না। সে ভাবে তার এটাই করার ছিলো। সারাদিনের ক্লান্তি শেষে, হিসেব করা ক্যালোরিগুলো তার নিস্ক্রিয় জীবনের আরেকটি বিকেলের দিকে ছুঁড়ে দিয়ে তার এই বাসেই চড়ে বসার কথা ছিলো, গভীর কামনায় বিলবোর্ডের মেয়েটিকেই দেখার কথা ছিলো। সে তার সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মারা যাওয়া মৃত স্ত্রীর কথা ভাবে না আর। তাদের দারিদ্র্যের সাথে লড়াই, তার শ্যামলা স্ত্রীর নাকফুলের জ্যোতি বা কখনোই জন্ম না নেয়া তার সন্তানটির শরীরের ঘ্রাণ- কিছুই মনে পড়ে না আর। এই স্থবির সন্ধ্যার কুঁজোতে একটা নির্বিকার হেলান লেপ্টে দিয়ে হাস্যরতা লাস্যময়ী সম্পর্কিত কল্পনাগুলোকে অতিরঞ্জিত করে। যেমন করে ঘাম চটচটে লোকটা তার মুদি দোকানদার, মেস-ম্যানেজার আর অন্যান্য পাওনাদারের মুখ ভুলতে চায়। তারা ট্রাদিক জ্যামে আটকে থাকা বাসটিতে এই ক্যাওটিক শহরের কেন্দ্রস্থলে বসে নিজেদের একেকটা বিচ্ছিন্ন ও পারফেক্ট মানুষ হিসেবে সাজিয়ে তুলতে থাকে। সড়ক দূর্ঘটনায় একের পর এক মানুষ মারা গেলেও তাদের কিছু যায় আসে না। চার সন্তানকে নিয়ে কোনো মায়ের ট্রেনের নিচে ঝাপিয়ে পড়ার খবরেও তাদের মধ্যে কোনো ভাবাবেগের সৃষ্টি হয় না। তারা ভাবে এই বাসের জানালার পাশের আসনে বসে সান্ধ্যহাওয়া উপভোগ করা, বিলবোর্ডকন্যার সাথে কাল্পনিক প্রেম করা বা সারাদিনের ক্লান্তি মুছে ফেলার মতোন একটা ঘুম- এইরকম যেকোনো একটি ঘটনার জন্যও বেঁচে থাকা যায়।
এই কয়েকজন মানুষ, যারা এই ডায়াস্পোরিক সময়ের কব্জিতে খুব নির্লিপ্ত ঝুলে আছে, এরা সবাই খুব বিচ্ছিন্ন ও আলাদা মানুষ। তারা কিছু সাময়িক মোমেন্টামের উপর বাঁচে। কিংবা হয়তো বাঁচেই না! তাদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অপেক্ষাগুলোর ভেতর একটি বৃহত্তর অপেক্ষা ঘাপ্টি মেরে বসে থাকে। সেটি হচ্ছে সময়টি ছিঁড়ে যাওয়ার। এবঙ কি বিস্ময়করভাবেই না সময় প্রসারিত হতেই থাকে, হতেই থাকে। যারা এই ডায়াস্পোরিক সময়ের কব্জিতে ঝুলে আছে তারা একসময় ছিটকে পড়ে- অসহায় পতনে।
সময় ছিঁড়ে না...
মন্তব্য
মুগ্ধপাঠ বরাবরের মতই।
একটি বাস আসবে, যেখানে ঠাঁই নেবে কিছু আপাতসুখের অভিনেতা। বাস আর নিজস্ব সমস্যা ছাড়া যারা ভাবতে পছন্দ করে না।
তারা জানে এবঙ না জানার ভান করে যে তাদের বেঁচে থাকার জন্য মোমেন্টাম অত্যাবশ্যক।
আমরা দেখি, বাস আসে। অপেক্ষারত মানুষ উঠে বসে। তারপর নিজেকে মাতিয়ে তুলতে চেষ্টা করে। কিন্তু বাতাস তখনো দূষিত।
আমাদের প্রশ্ন জাগে, বাসটা আসলেই বাস?
সময়টা কি আসলেই এত উদার যে ছিঁড়ে যায় না? নাকি, ওরাই ছিঁড়তে পারে না?
আমাদের প্রশ্ন জাগে, কারণ একটি খুনের পরিকল্পনা হয়। খুনী কে ঘৃণা না করে আমরা ভালোবেসে ফেলি। খুনি টা কি এই ভালোবাসাকেই খুন করতে চায়? সম্ভবত।
আমাদের চোখের ভেতর জেগে উঠে ডায়াস্পোরা। অগোছালো শহর।
যেখানে কল্পনা করার জন্য সহায়ক বাতাস আছে, বিলবোর্ড ও পণ্যনারী আছে।
আমাদের মনে হয়, বাসের লাইট আসলে ঠুঁটো জগন্নাথ, কন্ডাক্টর প্রচন্ড আত্মানুরাগী, পৌঢ় তথাকথিত সুশীলতা। আর যুবক।
আমরা যুবকদের অপেক্ষায়।
আচ্ছা, ঝুলে যাওয়া এই সময়ের পরিধি জুড়ে জীবন কোথায়!
লেখকের মন্তব্য
চমৎকার এই পাঠ। বহুমুখী আর সাবলীল।
ভালো লাগলো সোহেল।
শেষ লাইনে বলা প্রশ্নটিই করতে চেয়েছিলাম গল্পে। উপলব্ধি করতে পারার জন্য ধন্যবাদ।
শুভরাত্রি।
কবির লেখা গল্পে দারুন কিছু শব্দের ব্যবহার পেলাম, বর্ননা রীতিও ছিল অসাধারন। আর জীবিত অথবা মৃত মানুষদের প্রতিদিনের যে গল্প আমরা দেখছি, অথবা ঠিক এই গল্পটাই আমরা বাঁচছি, সেটার মাঝখানে বসে আছি, ডুইন্ডলিং। থাম্বস আপ মেট।
লেখকের মন্তব্য
আমার গল্প লিখার ব্যাপারটিকে গরীবের ঘোড়া রোগ বলা যায়।
নিরন্তর উৎসাহ দিয়ে যাও, আসলে এর উত্তরে ধন্যবাদ খুবি মিউয়ে যাওয়া একটা শব্দ। এরচেয়ে বরং শুভেচ্ছা জানাই।
শুভরাত্রি মেইট।
আজীবন অ-জীবন! গল্পটা পড়ে কেমন যেন হীনবোধ জাগে। খুবই স্ট্রাইকিং। ব্রাভো!
লেখকের মন্তব্য
ঋণাত্মক কিছুই কি চোখে পড়ে নাই?
অইসব জানতে ভালো লাগে।
শুভেচ্ছা ডিয়ারডেভিল।
এটাকেই বলে অমিত ছোঁয়া।
------------
স্ট্রাইকিং
দুদার্ন্ত
লেখকের মন্তব্য
রিশাদের গল্প পড়া হয় নাই বেশ কিছুদিন হল।
শুভেচ্ছা।
আমি শেষ যেটা লিখেছিলাম, সেটা পড়েছিলেন। এরপর আর দেয় নি
-------------------
শুভেচ্ছা অমিত কবি
লেখকের মন্তব্য
ওহ।
গল্প আসুক তাড়াতাড়ি।
শুভরাত্রি।
যেসব লেখা পড়ে ভাষা হারিয়ে যায়, মন্তব্য করতে গেলে একরাশ অনুভব আর অন্যরকম একটা রেশ বিহ্বল করে রাখে, ঠিক এরকমই এটা। আমি নিয়মিত অনিয়মিত মিলিয়ে প্রায় চল্লিশ হপ্তা আছি চতুরে, আমার দেখার মধ্যে, এটাই অমিতশ্রেষ্ঠ!
লেখকের মন্তব্য
শব্দপুঞ্জ, আপনার উচ্ছ্বাস আর আন্তরিকতা দুটোই টের পাচ্ছি। কৃতজ্ঞতাও টের পাচ্ছি নিজের ভেতরে।
শুভেচ্ছা রইল অনেক।
গল্প ও কবিতার মিশেলে তৈরি প্রতিটি লাইনই মাইন্ডব্লোয়িং,,,,,,,,,,,,,,,,চরম লাগলো দাদা।
লেখকের মন্তব্য
চ্রম চ্রম চা গ্রম।
ঢাকা আছো তো ঈদের পর?
হুমম ঢাকাতেই আছি । তুমি আসছ কবে?
লেখকের মন্তব্য
ইউ নেভার নো!
যেকোনো একদিন চলে আসব।
তাড়াতাড়ি চইলা আসো,,,ভালো লাগেনা কিছু । চলো এক লগে চা বিড়ি খাই। জীবনটা দিন দিন থিমলেস হইয়া যাইতাছে,,,মসতিষ্কের জায়গামতো একটু ধুপ জ্বালানো দরকার।
লেখকের মন্তব্য
আমিও ফিউজবাল্ব এখন। তয় চা-বিড়িতে আপত্তি নাই কখনোই! দেখা হবে।
অসাধারণ লাগলো। মনে হচ্ছে এই লেখাটায় আটকে গিয়েছি।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ এরে।
কিছুদিন আগে মনকৌটা নামে আপনার চমৎকার একটি লিখা পড়েছিলাম। মন্তব্য করা হয়ে উঠে নাই।
শুভরাত্রি।
অমিত'দা, অনেকদিন পর আপনার লেখা পড়লাম। প্রতিটি লাইনে আটকে গেলাম। তারপর এমন অনুভূতি-যা অন্যকোন লেখা পড়ে কখনো অনুভব করিনি।
লেখকের মন্তব্য
হালিম ভাই, আপনার আন্তরিকতা খুব স্পর্শ করে। যা অনুভব করেন, যতোটুকু অনুভব করেন তা বহুলাংশেই আপনার ভালোবাসার কৃতিত্ব, লেখণীর নয়।
আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই আপনাকে।
মুগ্ধপাঠ! যেমন শিরোনাম, তেমনি অগল্প!
লেখকের মন্তব্য
অগল্প মানে আসলে "অমিতের গল্প"।
মুগ্ধ হয়ে থাকলে সেটাকে আপনার সংবেদের গ্রহণযোগ্যতা বা দক্ষতা বলতে চাই।
শুভেচ্ছা।
আমিও অগল্প (অনামিকার গল্প) লিখতে চাই একদিন।
আপনি যদি কিছু না মনে করেন, আপনার academic background সম্পর্কে জানতে ইচ্ছে করছে - নিছক কৌতুহল।
আপনার শব্দভাণ্ডার অবলোকনে বিস্মিত!
লেখকের মন্তব্য
জ্বি মনে করার কিছু নাই। আমি খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যন্ত্রকৌশলে গ্র্যাজুয়েশান করেছি।
টুপিটা এখনই রেখে যাওয়া যায় । আমার টুপিটাসহ দুটো জোড়া টুপি !
না, এখনই না ! সামনে আরো অনেক মুগ্ধ সময়ে, মুগ্ধ গল্পের পথে হাঁটবো নিশ্চয় ।
দা রু ণ !
গল্প বলার ব্যতিক্রম ভঙ্গিমাও বেশ !
লেখকের মন্তব্য
শিপন ভাই আর তার প্রশ্রয়ের ব্যালকনি। সাবধানে বসতে চাই অইখানে।
আপনাকে পাঠক হিসেবে পেলে ভালো লাগে আমার।
শুভেচ্ছা জানবেন।
চমৎকার একটা লেখা পড়া হল -
শিরোনাম আরেকটু শর্ট করা যায় না?
লম্বা ২টা প্যারাকে ভেঙ্গে আরও ২ টা প্যারা বাড়ান যায় না ( পড়ার সুবিধার্থে)
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ কবি। আপনার সমালোচনা ও সাজেশান ভালো লাগে।
কিন্তু শিরোনামটা আর ছোটো করা যায় না একেবারেই।
শুভেচ্ছা।
বাপরে! গল্প পড়তে এত মনোযোগ দেওয়া যায়? একেবারে ঘাড়ে ধরে মনোযোগের ভিতরে ঠেঁসে দিয়ে পড়িয়েই ছাড়লো। লম্বা শিরোনামে ভীত হয়ে এদিকে আগে পা বাড়াই নি। ভুলই করেছিলাম, এই গল্প না পড়লে চতুরের একটা বড় সম্পদ চোখের আড়ালে থেকে যেত।
পাঠকের সুবিধার্থে প্যারাকে কী ছোট করা যায়? কয়েকটা বাক্য শ্বাস রোধ করে পড়তে হয়, আর কয়েকটি পড়তে শ্বাস রুদ্ধ হয়ে আসে, যতিচিহ্ন ব্যবহারে একটু উদারতা দেখানো যায় না? অল্প কয়েকটা টাইপো আছে, লেখকের সরল পাঠ একবারই যথেষ্ট সেগুলোর ব্যবস্থা করতে।
ধন্যবাদ অমিত।
লেখকের মন্তব্য
হুদা ভাই, মনোযোগী পাঠটির জন্য অনেক ধন্যবাদ। দেখব অবশ্যই।
শুভেচ্ছা রইল।
যা তা হইসে লেখাটা!
তোমার যে কোনো ভালো লেখা আনন্দ দেয় আমাকে খুব!
সে মূক আর বধির আনন্দে খুন হয়
প্রিয় অমিত!
লেখকের মন্তব্য
হাই রানা ভাই!
আপনে কিন্তু আমারে যা-তা ভাবে শরম দিতেছেন। এইটা ঠিক না কোনো বিচারেই।
ভালো থেকেন।
মন্তব্য করুন