আবদুর রাজ্জাক শিপন-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

১.
প্রিন্ট মিডিয়ার আট টাকার বড় বড় পাতাগুলোতে লেখে ভড়িয়ে ফেলেন যেসব লেখকরা, বা অসফল সাহিত্যিক এবং তথাকথিত সফল সাহিত্য সম্পাদকের সাহিত্যপাতায় নিত্য সাহিত্যের ছা'পোনা প্রসব করেন যেসব বিদগ্ধ লেখক- কবি, তাদের নাকখানি বিভৎসরকম উঁচু । উঁচু নাকের জন্য অনেক দৃশ্যমান বস্তুও তাদের অদেখা থেকে যায় । ফলে, ওয়েবলগের লেখকদের তারা দেখেন না বলে নাকচ করে দিতে চান । আদতে, সাহিত্যের ছা-পোনা প্রসব করা সেইসব ফরমায়েশী লেখকদের চে' দশগুণ ভালো লেখেন এরকম অন্তত শ'খানেক ব্লগার বিভিন্ন ব্লগে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন । সাহিত্য পাতার লেখকরা আবার লেখালেখির পাশাপাশি বিশেষ গুণের অধিকারী হওয়া বাঞ্চনীয় । সাহিত্য পাতার বিভাগীর সম্পাদকের অনুরক্ত দলে নাম লেখাতে হবে । কিঞ্চিত তৈলচর্চার অভ্যেস রপ্ত করতে হবে । বাংলাদেশের সব ক'টি দৈনিকের এরকম অনুরক্ত দল রয়েছে । পত্রিকাওয়ালারা যে পাঠক ফোরাম, পাঠক সংগ তৈরি করছে, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সেসব সংগঠন ছড়িয়ে দিচ্ছে, তা নিজেদের অনুরক্ত একটি ভক্তদল গড়ে তোলার ব্যবসায়ী বু্দ্ধি ছাড়া কিছুই না । ওয়েবলগের লোকজন আবার এসব পোছেনা । ব্লগ নামের বিকল্প মিডিয়াতে তারা লিখে যাচ্ছেন কোনরকম কাঁছি-ছুড়ির কাটাছেঁড়া ছাড়াই । বিশেষ কোন গোষ্ঠিকে খুশী করবার ব্যাপার মাথায় রাখতে হয়না ব্লগারদের । বিকল্প মিডিয়ার এই উত্থান স্বভাবতই প্রিন্ট মিডিয়ার উঁচু নাকের লোকদের আঁতে ঘা দিচ্ছে । ঈর্শাপরায়ণ হয়ে তারা তাই, ওয়েবলগের লেখকদের স্বীকৃতি দিতে গাঁই-গুই করেন ।
২
তাদের স্বীকৃতির প্রয়োজনও নেই আমাদের । পত্রিকায় ছাপার অক্ষরে নিজের নাম দেখলেই জাতে উঠা হয়-এ মানসিকতা আমাদের দূর করতে হবে । ইন্টারনেট আমাদের দেশে এখনও সহজলভ্য নয় । পত্রিকায় সহজেই পাঠকের কাছাকাছি পৌঁছা যায়-এতে দ্বিমত করার কারণ নেই । কিন্তু পত্রিকায় লেখার সুযোগ সবার হবেনা বলে, সবাই অনুরক্ত দলে নিজেকে বদলাতে পারবেনা বলে,তৈলবাজী করতে পারবেনা বলে, তাঁদের ভালোবাসার লেখালেখির জায়গাটি সেই তিমিরেই থেকে যাবে, এরকমও বিশ্বাস করার কারণ নেই । তাহলে ওয়েবলগের লেখকরা কীভাবে আরো বেশী পাঠকের কাছাকাছি পৌঁছবে ?
৩
এই প্রশ্নবোধক চিহ্নটি যখন আমাদের নাকের ডগায় ঝুলতে থাকবে, উত্তরটি তখন নিজের কাছ থেকেই আমাদের জেনে নিতে হবে । ছাপার অক্ষরের ব্লগ সংকলন, আরো বেশী পাঠকের কাছাকাছি পৌঁছবার সর্বোত্তম ধাপ । মলাটবদ্ধ একটি সংকলনে এতো চমৎকার সব লেখার সম্মিলন অন্য কোথাও কমই পাওয়া যাবে । ব্লগ সংকলন যতো বেশী ছড়িয়ে দেয়া যায়, ব্লগ এবং ব্লগারদের লেখনী শক্তির ব্যাপারে মানুষের ধারণা ততো বাড়বে । তথাকথিত মূলধারার লেখকদের সঙ্গে বিকল্প ধারার লেখকরা দাঁড়িয়ে যাবেন সসম্মানে। সর্বস্তরে ব্লগারদের সংকলন ছড়িয়ে দেবার কাজটা করতে হবে ব্লগারদেরই । তো এ-কাজে ব্লগারদের সমস্যাটি কী ?
৪
সমস্যা মানসিক । গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন ব্লগ সংকলনগুলো কাছ থেকে দেখে, ব্লগ সংকলনের সঙ্গে যুক্ত থেকে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি, তার সরল বয়ান খানিক অপ্রিয় শুনালেও অসত্য নয় । ব্লগ সংকলনে যাদের লেখা যায়না, তারা সংকলনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন । ফলে, বই পাড়াতে একটা কথা প্রবাদতুল্য হয়ে যাচ্ছে,- 'ব্লগারেরা ব্লগারদের বই কিনেনা !' যাদের লেখা যাবে শুধু তারা নয়, ব্লগটাকে যদি একবার নিজেদের পরিবার মনে করা যায়, ব্লগারদের যদি সেই পরিবারের সদস্য হিসেবে হৃদয়ে স্থান দেয়া যায়, তো আমার সহব্লগার বন্ধুর লেখা ছাপা হওয়া মানে, আমার ভায়ের লেখা ছাপা হওয়া, এই বোধটা যদি একটিবার প্রতিজন ব্লগারের ভেতর তৈরি হয়, নিশ্চিত করে বলতে পারি, ব্লগারেরাই বই বাজারে একটি বিপ্লব ঘটাতে পারে ! চতুরের নিয়মিত ব্লগারদের প্রতিজন যদি এক কপি চতুর সংকলন কিনেন, এবং প্রত্যেকে অন্তত আরো একজন করে পরিচিতজনের কাছে বইটি বিক্রির ব্যবস্থা করেন তো ৫০০কপি বই মাসব্যাপী একুশের মেলাতে নিঃশেষিত হওয়া খুব কী কঠিন ? একটা সুন্দর শার্ট-প্যান্ট কিনতে আমরা হাজার-দু'হাজার টাকা খরচ করে ফেলতে পারি, একটি সুন্দর বই কিনতে কেন আমরা ২০০টাকা খরচ করবো না ? দরকার শুধু সদিচ্ছার । এমন অনেক ব্লগার আছেন, যারা হয়তো জীবন রেসে হেরে যাবেন, হারিয়ে যাবেন,কিন্তু তাদের লেখাগুলো জ্বলজ্বল করবে বইয়ের পাতায়, শুধু এজন্যওতো প্রতিজন ব্লগারের উচিত চমৎকার এই সংকলনটি সংগ্রহে রাখা ।
অন্যান্য ব্লগের চেয়ে চতুরের কিছু গুণগত পার্থক্য ইতোমধ্যেই সুস্পষ্ট হয়েছে । বন্ধুভাবাপন্ন চতুরেরা নিজেদের এই বইটিকে পরিচিত মহলে ছড়িয়ে দেবে-এই আশা নিশ্চয় দূরাশা নয় । চতুরের প্রথম সংকলন থেকে বিপ্লবের সূচনাটা হোক । এই সংকলনে হয়তো আপনার লেখা নেই, ভবিষ্যতের সংকলনগুলোতে নিশ্চয় থাকবে । যোগ্যরা নিশ্চয় উঠে আসবে । সব হীনমন্যতা দূরে ঠেলে আমাদের চতুর্মাত্রিক পরিবারের সংকলনটিকে আমরা বই বাজারে আলোচনার শীর্ষে নিয়ে আসি । প্রিন্ট মিডিয়ার লোকদের যে নাক সিঁটকানো হামবড়া ভাব ব্লগারদের প্রতি তার জবাব দেবার মানসিকতা তৈরি হোক প্রতিজন ব্লগারের !
চতুর্মাত্রিক সংকলন এবং চতুর্মাত্রিকের সব ব্লগারদের বইগুলো দারুণ পাঠকপ্রিয়তা পাক--শুভ কামনা ।
মন্তব্য
ঠিকই বলেছেন। একমত।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ ।
সহমত !
ব্লগ সংকলন চতুর্মাত্রিকের সফলতা কামনা করছি !
লেখকের মন্তব্য
প্রিয় কবি ভাই, মাসুম । নিশ্চয় নিজস্ব গন্ডিতে ব্লগের বইয়ের প্রচার চালাবেন ।
লেখকের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করছি।
হুমম ঠিক
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ, জলের ভেতর জলরঙ আলো ।
ওয়েবলগের লেখকদের তারা দেখেন না বলে নাকচ করে দিতে চান । আদতে, সাহিত্যের ছা-পোনা প্রসব করা সেইসব ফরমায়েশী লেখকদের চে' দশগুণ ভালো লেখেন এরকম অন্তত শ'খানেক ব্লগার বিভিন্ন ব্লগে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন । সাহিত্য পাতার লেখকরা আবার লেখালেখির পাশাপাশি বিশেষ গুণের অধিকারী হওয়া বাঞ্চনীয়
আ রা শি ! এইটা খুবই সত্য একটা কথা , আপনারে সেলাম ।
চতুরের ব্লগ সংকলন সফল হবে , এই কথাটা কেন যেন অনেক বেশী বিশ্বাস করি ।
শুভেচ্ছা ।
লেখকের মন্তব্য
চতুরের ব্লগ সংকলন সফল হবে-এটা আমিও বিশ্বাস করি ।
ধন্যবাদ...আগন্তুক !
সময়োচিত উচিৎ কথাটি সবার গোচরে আনবার জন্য ধন্যবাদ শিপন।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ, হুদা ভাই ।
সহমত শতভাগ।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ, মানিক ভাই ।
প্রিয় আরাশি,
পোস্টের প্রতিটা কথার সাথে একদম অক্ষরে অক্ষরে একমত।
চমৎকার পোস্ট টির জন্য ধন্যবাদ।
মডারেটরডের দৃষ্টি আকর্ষণ করে রাখছি। মেলা শুরু হবার পরে এই পোস্ট টিকেও স্টিকি করবার। কারণ ব্লগাড়দএর বই কেনার মোটিভেশন হিসাবে এই পোস্ট টি চমৎকার।
ভুটাপ শিমুল ভাই।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ, প্রিয় শিমুল ।
নিজের সামর্থানুযায়ী ব্লগের বই গুলোর প্রচার করবেন আশা করছি ।
খাইছে খাইছে খাইছে!!
শুরুতেই তো বস আপনে ধুইয়া ফেললেন।
আমি ঐখানে একটু ডিফার করি, অনেকটা আশা করি যে, ব্যাপারটা এমন না।
মূলত, জানা না থাকার কারনে, ঐ দিকের লোকজনের ব্লগের সম্পর্কে একটা ওঁচা ভাব আছে।
কিংবা, রেগুলার ব্লগার না হৈলে, ৪০/৫০ হাজার ব্লগার থেকে ঐ কয়েকশ ভালো লেখকের সম্পর্কে ভালো ধারনা রাখা---যাই হোক, ইত্যাদি আরকি।
আবার উল্টাটাও ঠিকনা, তেমন বলিনা। যাই হোক, আমার এক্সপেকটেশনে আসলে একদিন দুইটাই পাশাপাশি প্রতিযোগী মূল ধারা না হয়ে, সাথাসাথে মূলধারা হবে।
বড় কথা, ব্লগ সাহিত্য এখন নিজের শক্তিতেই দাড়াইছে/ দাড়াইতাছে, কারো সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা কিংবা অসহযোগিতার ভয় মামুলি ফ্যাক্টর।
দিনই বদ্লাই গেছে, কেউ পিছনে পৈড়া থাকলে তারাই মিস্কর্বে!!
লেখকের মন্তব্য
দিনই বদ্লাই গেছে, কেউ পিছনে পৈড়া থাকলে তারাই মিস্কর্বে!!
ঐটাই আসল কথা ।
কাগজের সাহিত্য সাময়িকীতে লেখা ছাপানোর চেষ্টা থাকা উচিত নবীন লেখকদের। (প্রিন্ট মিডিয়ায় নবীনদের লেখা প্রকাশ না হওয়ার একটা বড় কারন, নবীন নামখানার তখনো ব্রান্ড না হয়ে ওঠাটা। চেনা 'বামুনের' নাম লেখার মৌলিকত্ব নিশ্চিত করে, সম্পাদককে রেফারেন্স ঘাটতে হয়না, বা কম ঘাটতে হয়। ভাল লিখলে পত্রিকাওয়ালারা ছাপবে না কেন? একটু সময় লাগে, এই যা! তাড়াহুড়ার কিছু নেই।)
লেখকের মন্তব্য
বস, প্রথমেই আপনেরে সালাম ঠুকি । আসেন কোলাকুলি করি ! খালি ভাবির লগেই কোলাকুলি করবেন, আমগোরে একদম ভুইলা যাবেন,- এইটা কিন্তু ঠিকনা বস ! কিছু মানুষ দূরে থেকেও আত্মার কাছাকাছি থাকে । প্রিয় গল্পকার হিসেবে আপনি আমাদের তেমনই একজন । আপনার লেখা মিস করি, মিস করি, মিস করি ।
সাহিত্য সাময়িকীতে নবীনদের লেখার বিষয়ে আমার কোন দ্বিমত নাই । আমার লেখালেখির শুরুটাও কাগজ থেকেই । তবে, ওই যে বললাম,-
আপনি নিয়মিত হচ্ছেন তো?
সহমত।
লেখকের মন্তব্য
ব্লগের বইয়ের প্রচারে আমাদের কাজ করতে হবে ।
এই পোস্টটা বান্ধায়া রাখতে মঞ্চায়!!!
আমার ব্লগিংয়ের শুরু হয়েছিল ২০০৮-এর বইমেলার একটু আগে আগে। বইমেলার সময় ব্লগে যে উচ্ছ্বাস উদ্দীপনা দেখেছি, সেটা বাস্তব জগতের চাইতে বেশি। বইমেলাকে নিয়ে ব্লগের আগ পর্যন্ত আমার উচ্ছ্বাসও একটা সীমার মধ্যে থাকতো, মাসের ২৮ দিনের মধ্যে ৩/৪ দিন যেতাম, বেশিরভাগ সময়ই ছুটির দিনে বাবা-মায়ের সাথে এবং বই কিনে বাড়ি চলে আসতাম। ধারণা করতে পারি, তখনও মূলধারার লেখকগোষ্ঠী দিনের পর দিন আড্ডা দিতেন, ঘুরে বেড়াতেন এবং বই ঘাঁটতেন-কিনতেন-পড়তেন, কিন্তু জনসাধারণকে এইটার মধ্যে সম্পৃক্ত হইতে দিতেন না, বা ডাকতেন না। এখন যেমন আমি এবং অনেক ব্লগার বইমেলায় অনেক বেশি যাই, বেশি সময় থাকি, বেশি বই কিনি, এই পরিবর্তনটা ১০০ ভাগ ব্লগের অবদান। আমিসহ আরো অনেককে বইমেলামুখি করেছে এই ব্লগ। এখানে সাহিত্য সাময়িকী বা মূলধারার লেখকগোষ্ঠীর অবদান নাই।
এটাও ঠিক, যে খাঁটি সাহিত্যচর্চা বা পেশাদারিত্বের জায়গায় ব্লগ এখনো যায় নি। সময় লাগবে। আরো কিছু বছর পরে যাবে। আমি মনে করি, ব্লগীয় দলাদলি-রেষারেষি তো অনে--ক হলো, এখন এই কম্পিটিশনটারে অন্য লেভেলে নেয়া উচিত। বইমেলায় কোন ব্লগ কতোটা নিজেদের লেখক ও পাঠক, সর্বোপরি ব্লগারদের প্রকাশের প্ল্যাটফর্ম হতে পারছে, সেই প্রতিযোগিতা শুরু করা উচিত! আমার ধারণা, এটা একটা সুস্থ ইতিবাচক সংস্কৃতি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
দুটো সিম্বায়োটিক উপাদান এখানে বিদ্যমান।
১) নবীন লেখক
২) নবীন প্রকাশনী
এরা পরষ্পর একে অপরের কাছে জরুরি। ব্লগকে ব্যবহার করে, তারা নিজেদের খুঁজে নিতে পারেন কিন্তু!
এবার চতুরের বইগুলো আমাকে এই লক্ষ্যপূরণে আশাবাদী করছে!
অন এ ডিফারেন্ট নোট - অপরবাস্তব ৪ প্রকাশের পর আপনাকে ও প্রকাশনা টিমকে অনেক কিছু বলেছিলাম, তার কিছু কিছু আসলে আপনারা ডিজার্ভ করতেন না, এটা এখন বুঝতে পারতেছি। নিজগুণে ভুলে যাইয়েন।
লেখকের মন্তব্য
সুন্দর গুছিয়ে বলেছেন,-
খুবই জরুরি বিষয়ে আলোকপাত হয়েছে ।
আরে ব্যাপারস না ! ওইগুলাতো কবেই ভুলে গেছি । তবে, অপরবাস্তব-৪ এর সঙ্গে যুক্ত থাকা আমার একটা প্রিয় অভিজ্ঞতা । আসলে মাত্র ১০ দিনের মধ্যে বইটি বাজারে নিতে পারাটা ছিলো অসাধ্য সাধন । আমরা যারা কাজ করেছি, তারা কয়েক রাত ঘুমাইনি ।
আমার যে সব লেখা এখন ব্লগে যাচ্ছে, তার অনেক গুলোই প্রিন্ট মিডিয়ায় ছাপা হয়েছে।
কিন্তু নতুন যে লেখা গুলো এখন লিখছি, তা শুধু ব্লগের জন্যই লিখছি।
কখনো তা আর প্রিন্ট মিডিয়ায় দেব না।
দীর্ঘ আট বছর প্রিন্ট মিডিয়ায় শ্রম দিয়ে, সময় দিয়ে
অবশেষে অনেক আগেই মোহ মূক্তি ঘটেছে আমার।
আরাশি, আপনার বক্তব্যের সঙ্গে সহমত।
লেখকের মন্তব্য
আপনি প্রিন্ট মিডিয়াতে সরাসরি যুক্ত থাকায় ভেতরের অনেক রাজনীতির খবরও জানেন,
ওগুলো আমাদের সঙ্গে শেয়ার করলে ভালো লাগবে । ঈশানদা ।
সহমত পোষণ করছি। বেশী কিছু বললাম না , খুব ভালো লাগলো পোস্টটা।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ, রোদ্দুর !
বেশ ভালো লাগল.........সত্যকথন।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ, মাহবুব ভাই ।
নাক উঁচা কারা? আমার কপাল ভাল না খারাপ, জানিনা, কিন্তু, ঐরকম উঁচা নাকের দেখা পাই নাই এখনও। একদিক থেকে ভালই হয়েছে - তিক্ততা কারই বা ভাল লাগে? তবে ব্লগের লেখকদের গড়পড়তাভাবে যদি কেউ ফালতু ভাবে - তবে সে হল কূপমণ্ডুক।
লেখকের মন্তব্য
এখানে আরেকটা বিষয় আরেকটু পরিস্কার করবার ব্যাপার আছে । যেরকম সাহিত্য সম্পাদকদের কথা(ব্যতিক্রম নিশ্চয় আছে, নগণ্য) উপরে উল্লিখিত হয়েছে, তেমন সাহিত্য সম্পাদকরা শুধু ব্লগার বলে নয়, নিজের পরিচিত গন্ডির বাইরের কারো লেখা ছাপবার উদারতা দেখান না । তারা বলয়বদ্ধ থাকেন । নিজস্ব বলয়ের লোকজনই ঘুরেফিরে সুযোগ পায় । সাহিত্য সম্পাদক আপনার পূর্ব পরিচিত হলে, আপনি যোগ্য লেখক, অবস্থা এই !
============
আমাদের দৈনিকগুলো সাপ্তাহিক সাহিত্য আয়োজন সাধারণত শুক্রবারে রাখে। কিছুদিন আগের দুটি প্রধান দৈনিকের, যাদের চুলোচুলি কিংবদন্তীর পর্যায়ে চলে যাচ্ছে, সাহিত্যপাতা দেখুন। একটিতে ২০১১-এর বইমেলায় ১০জন নবীন লেখকের বই নিয়ে আলাপ। ১০ জনের ৭ জন মুদ্রণমাধ্যমে চেনা নাম, কেউ কেউ লিটলম্যগের সম্পাদকও। বাকী ৩ জন প্রতিষ্ঠিত লেখক/বুদ্ধিজীবীর সন্তান। যাদের বইয়ের বিষয়বস্তু হলো প্রয়াত প্যারেন্টের অপ্রকাশিত আলোকচিত্র, দিনপঞ্জী, চিঠি, বাজারফর্দসহ দৈনন্দিন স্মৃতিচারণ। এই তিনজন হয়ত ভবিষ্যতে প্যারেন্টকে ছাপিয়ে যেতেও পারেন, তবে সেটা ভবিষ্যতের জন্য তুলে রাখার যুক্তিবুদ্ধি মুদ্রণমাধ্যমের নেই। তেলা মাথায় তেল না দিয়ে এদের জায়গায় মুদ্রণমাধ্যমে অপরিচিতনামা তিনজন নবীন লেখকের সৃজনশীল/মননশীল বইয়ের নাম নিতে পারেন না তারা। দ্বিতীয় পত্রিকাটির দুটি প্রধান আইটেমে স্বয়ং পত্রিকা সম্পাদকের নাম জ্বলজ্বল করে দিনের পর দিন। প্রথমটি রোগশয্যায় থাকা সেলিব্রিটি লেখকের উইয়ে খাওয়া এক পুরনো সাক্ষাৎকার। দ্বিতীয়টি একই ব্যক্তিকে নিয়ে তেলফেনাসিক্ত স্মৃতিচারণ। তৃতীয় ও চতুর্থ আইটেম দুটি সম্পাদক মহোদয়েরই পুরনো একটি বই নিয়ে পুনরালোচনা। মাঝেমধ্যে পুস্তকালোচনা হয়, সেখানে বয়সের হাফসেঞ্চুরি করা প্রতিষ্ঠিত লেখকও “তরুণ”।
আরেকটা চক্র নাকি আছে (শোনা কথা, তবে যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্য)। “আমরা সবাই সম্পাদক আমাদের এই সম্পাদনা-রাজত্বে”। দুচারজন দৈনিকের সাহিত্যপাতার, বাদবাকীরা সাময়িকপত্র অথবা ওঁচা লিটলম্যাগের। ক ছাপবেন খ, গ, ঘ, ঙ এর লেখা; ঘ ছাপবেন ক, গ, চ, ছ- এর; পারমুটেশন-কম্বিনেশনে ঘুরেফিরে হিজ হাইনেস, হার এক্সেলেন্সিজ সবাই তাঁরা-তাঁরাই। নতুন লেখকের লেখা পড়ে দেখার সময় বা প্রয়োজন কারো আছে!
ব্যতিক্রম অবশ্যই আছেন; তাঁদের সংখ্যা খুব কম।
================
মুদ্রণমাধ্যমে নিয়মিত ও প্রতিষ্ঠিত লেখকদের কেউ কেউ ব্লগেও আসছেন। সহব্লগাররা তাঁদের যথাযথ সম্মান দিচ্ছেন, পড়ছেন ও মন্তব্য জানাচ্ছেন। কিন্তু দুঃখজনক সত্য হলো, নিজেদের লেখার প্রোমোশন ছাড়া ব্লগে তাঁরা তেমন সক্রিয় নন। সহব্লগারদের মানসম্পন্ন বইয়ের প্রচারে ভূমিকা রাখা দূরের কথা, ব্লগে তাদের লেখা পড়ার বা মতামত দেয়ার সময় বা উদারতাটুকুও তাঁরা কমই দেখান। একটা মন্তব্য পেলে একটা মন্তব্য করব—সেটা সময়াভাবে সম্ভব নাও হতে পারে। কিন্তু “আমি একটা পোস্ট দিলে অন্তত একজন সহব্লগারের একটা পোস্ট পড়ব, দুএক বাক্যে মন্তব্য জানাব”—এটুকু কি একেবারেই অসাধ্য? যাকগে, মুখ খুলে আগেও ঝামেলায় পড়েছি।
=================
সক্রিয়তা নির্বিশেষে সহব্লগারদের প্রতি, এবং ব্লগের সরব ও নীরব পাঠকদের প্রতি সামান্য নিবেদন।
আপনার পড়তে ভাল লাগে, তাই ব্লগ পড়েন। শুধু ব্লগ পড়ার জন্য বাড়তি অর্থব্যয় করছেন না; হয়ত সময় ব্যয় করছেন, অথবা সময় কাটানোর জন্যই পড়ছেন। এখানে প্রকাশিত লেখার সবগুলো না হোক, ক্ষুদ্র একটি অংশ পড়েও আপনি কখনও সচেতন, কখনও বিনোদিত, চিন্তিত অথবা আপ্লুত হয়েছেন। সেই ব্লগারদের দুচারজন যদি নিজেদের লেখা মলাটবন্দী করতে চান, পাঠক হিসেবে তাদের এড়িয়ে যাবেন না প্লিজ। বই কিনুন, বই পড়ুন, বই উপহার দিন। এক্ষেত্রে ব্লগের পাঠক হিসেবে ব্লগের লেখকদের বই যেন আপনার আন্তরিক সুদৃষ্টি থেকে বঞ্চিত না হয়।
ভুটাপ নুশেরা!
মুদ্রণমাধ্যমে নিয়মিত ও প্রতিষ্ঠিত লেখকদের কেউ কেউ ব্লগেও আসছেন। সহব্লগাররা তাঁদের যথাযথ সম্মান দিচ্ছেন, পড়ছেন ও মন্তব্য জানাচ্ছেন। কিন্তু দুঃখজনক সত্য হলো, নিজেদের লেখার প্রোমোশন ছাড়া ব্লগে তাঁরা তেমন সক্রিয় নন। সহব্লগারদের মানসম্পন্ন বইয়ের প্রচারে ভূমিকা রাখা দূরের কথা, ব্লগে তাদের লেখা পড়ার বা মতামত দেয়ার সময় বা উদারতাটুকুও তাঁরা কমই দেখান। একটা মন্তব্য পেলে একটা মন্তব্য করব—সেটা সময়াভাবে সম্ভব নাও হতে পারে। কিন্তু “আমি একটা পোস্ট দিলে অন্তত একজন সহব্লগারের একটা পোস্ট পড়ব, দুএক বাক্যে মন্তব্য জানাব”—এটুকু কি একেবারেই অসাধ্য?
খাঁটি কথা!
নুশেরাবু কে ভুটাপ।
এখানে আমি একটু বলি, আমি নিজে কিন্তু তেমন একটা ভালো ব্লগার না। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে আমার পড়তে ভালো লাগে।তাই এই পড়ার মধ্যে দিয়ে চতুরের সবার সাথে এমন একটা পারিবারিক সম্পর্ক হয়েছে যে, চতুরের সমস্ত কর্মকাণ্ড নিজ কর্মকাণ্ডে রূপ নিয়েছে।
গত বছর আরাশি ভাই থেকে খবর পেয়ে আমি নিজ উদ্যোগে ৫কপি অপরবাস্তব৪ সংগ্রহ করেছি, এবং আমার কিছু পাঠক প্রিয় মানুষকে বিভিন্ন অকে-শনে বই গুলি উপহার দিয়েছি। তাঁরা বই পড়ে চমকপ্রদ হয়েছে।
তো এখানে আমার বক্তব্য হচ্ছে আমি গত বছর এই দিনে ব্লগ ভালো করে চিনতামও না। তার পরেও আমি বই সংগ্রহ করেছি আনন্দ সহকারে। এটা হচ্ছে একটা মানসিক ব্যাপার।
আর চতুরের ব্যাপারে-তো বলার অপেক্ষা রাখেনা। আমরা যারা চতুরের পরিবারের সাথে জড়িত তাদের বুঝা উচিত চতুরের কোন উদ্যোগ সফল না হওয়া মানে আমাদের ব্যর্থতা।
তাই সবাইকে নিজ নিজ স্থান থেকে দায়িত্ব নিতে হবে।
সম্মেলিত প্রচেষ্টায় সবি সম্ভব, এটা প্রমাণ করতে হবে।
লেখকের মন্তব্য
দু'টা ভুল-
চমকপ্রদ> চমৎকৃত
সম্মেলিত > সম্মিলিত
লেখকের মন্তব্য
আমার না বলা কথাগুলো আমার চে' সুন্দর এবং গুছিয়ে বলেছেন আপনি, নুশেরাবু !
ভোটাপ দিলাম । বিশেষভাবে লক্ষণীয়-
"আরেকটা চক্র নাকি আছে (শোনা কথা, তবে যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্য)। “আমরা সবাই সম্পাদক আমাদের এই সম্পাদনা-রাজত্বে”। দুচারজন দৈনিকের সাহিত্যপাতার, বাদবাকীরা সাময়িকপত্র অথবা ওঁচা লিটলম্যাগের। ক ছাপবেন খ, গ, ঘ, ঙ এর লেখা; ঘ ছাপবেন ক, গ, চ, ছ- এর; পারমুটেশন-কম্বিনেশনে ঘুরেফিরে হিজ হাইনেস, হার এক্সেলেন্সিজ সবাই তাঁরা-তাঁরাই। নতুন লেখকের লেখা পড়ে দেখার সময় বা প্রয়োজন কারো আছে!"
আহা ! এই কথাগুলো যদি আমি এরকম সুন্দর করে বলতে পারতাম,-
"আপনার পড়তে ভাল লাগে, তাই ব্লগ পড়েন। শুধু ব্লগ পড়ার জন্য বাড়তি অর্থব্যয় করছেন না; হয়ত সময় ব্যয় করছেন, অথবা সময় কাটানোর জন্যই পড়ছেন। এখানে প্রকাশিত লেখার সবগুলো না হোক, ক্ষুদ্র একটি অংশ পড়েও আপনি কখনও সচেতন, কখনও বিনোদিত, চিন্তিত অথবা আপ্লুত হয়েছেন। সেই ব্লগারদের দুচারজন যদি নিজেদের লেখা মলাটবন্দী করতে চান, পাঠক হিসেবে তাদের এড়িয়ে যাবেন না প্লিজ। বই কিনুন, বই পড়ুন, বই উপহার দিন। এক্ষেত্রে ব্লগের পাঠক হিসেবে ব্লগের লেখকদের বই যেন আপনার আন্তরিক সুদৃষ্টি থেকে বঞ্চিত না হয়।"
একেবারে ব্যক্তিগত কিছু অভিজ্ঞতা শেয়ার করি। গত একদেড় বছরে মাঝেমধ্যে মুদ্রণমাধ্যমে লেখা পাঠিয়েছি, তার একমাত্র কারণ আমার মায়ের নেটপ্রযুক্তিপরিচিতি নেই। সবচেয়ে ইতিবাচক অভিজ্ঞতা হলো- একটি পত্রিকায় গল্প পাঠিয়ে প্রাপ্তিস্বীকারপত্রসহ তিনদিনের মধ্যে ছাপা হবার খবর জানিয়েছিলেন বিভাগীয় সম্পাদক অথবা তাঁর পক্ষে কেউ (পত্রিকার নাম ইত্তেফাক)।
একদম বিপরীতে কোথাও পাঠানো লেখা ছাপা হয় নি, মেনে নিলাম মানসম্পন্ন কিছু লিখতে পারি নি। কিন্তু কোথাও থেকে এমন মেইলও পেয়েছি যার বক্তব্য হলো ব্লগারদের লেখা নিয়ে কখনও সংখ্যা বের করলে উনারা বিবেচনা করার কথা ভাববেন (আমার লেখাটি ব্লগে পূর্বপ্রকাশিত ছিল না, এর গায়ে "ইহা ব্লগার কর্তৃক লিখিত" ছাপ মারা ছিল কিনা জানি না, তবে বুঝতে পারলাম ব্লগ তাঁরাও পড়েন!)।
মধ্যবর্তী অভিজ্ঞতার মধ্যে বলতে পারি, "এটা আমরা ছাপব, অন্য কোথাও দেবেন না"-র দীর্ঘ আটমাস পর লেখাটা ছাপা হওয়া অথবা ওরকম কোন কথার পরও আদৌ ছাপা না হওয়া!
কবি আহসান হাবীব একসময় দৈনিক বাংলার সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন। উনি নাকি প্রত্যেক কবি/লেখকের লেখা খুঁটিয়ে পড়তেন, ফিরতি চিঠিতে মনোনয়ন সংবাদ জানাতেন, অথবা পরামর্শ দিতেন কোথায় লেখাটা সম্পাদিত হলে আরো ভাল হতে পারে। "আমি কোনো আগন্তুক নই"-- তাঁরই কবিতার উদ্ধৃতি সবাই অনুভব করত নিঃসন্দেহে। সেই দিন আর নেই, সেই মানুষও নেই, এই আরকি!
লেখকের মন্তব্য
দৈনিকগুলোর সাহিত্য পাতা সম্পর্কে খানিক ধারণা আমার আছে । তাই, লেখা পাঠাতেই বিরক্ত লাগে ।
এদের প্রতি আস্থা বা ভরসার জায়গাটি দৃঢ় নেই ।
আয়রনি হলো চক্রবহির্ভূত-লেখক না শুধু, এদের পাঠকের অবস্থাও সেরকম। গতবছর দেশে গিয়ে দেখি প্রতি শুক্রবার আমাদের বাসায় বাংলা-ইংরেজি মিলিয়ে দশের বেশি সাহিত্যপাতা আসছে। ঘটনা হলো, ১৮ ফ্ল্যাটের বহুতল বাড়িটিতে মাত্র ২টি বাসায় সাহিত্যপাতার খোঁজ পড়ে। হকার ছেলেটির মোট গ্রাহকের মধ্যে পার্সেন্টেজটা নাকি মোটামুটি সেরকমই। বাকিগুলো সে সেরদরা বেচার জন্য রেখে দেয়। এটা টের পেয়ে মা সেখান থেকে কিছু রাখে, দুএকটাকা করে বোধহয় দর
তবে কী আপু, আমার যেটা মনে হয়- যে পত্রিকার সেরা দশ তরুণের তালিকার কথা বললেন, হয়তো সেখানে মিডিয়ার কারিগরিই মুখ্য। কিন্তু আমার পাঠ বলে, সেই তালিকায় অন্তত এমন একজন কথাসাহিত্যিক ও এমন একজন কবি আছেন, যে দুজন ভবিষ্যাতের বাংলা সাহিত্যে বড় কাজ করার ক্ষমতা ষোলআনাই রাখেন (এ আমার ব্যক্তিগত মত)।
লেখকের মন্তব্য
সেই দুইজনের নাম করেন দেখি। ভবিষ্যতে খোঁজ খবর রাখুমনে !
ভাই মুহিত, ওই তালিকার ৭জনের লেখনী-মান বা ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন নেই। কয়েকজনের লেখা সাহিত্যপাতাগুলোতে নিয়মিতই আসে। তাঁদের বইয়ের আলোচনা নিয়মিত রিভিউতেই আসতে পারে, বরং বলা যায় স্রেফ "তরুণ লেখক" বা "নবীন লেখক" তকমা লাগিয়ে বাড়তি এক্সপোজার দেয়ার দরকার ছিল না।
আমার আপত্তি প্যারেন্টের অপ্রকাশিত টুকিটাকি ভরিয়ে স্মৃতিচারণ গোছের বই আর তার 'লেখক'কে প্রোমোট করা নিয়ে।
লেখকের মন্তব্য
দারুণ একটা পয়েন্ট পেলাম নুশেরাবু ! আপনাকে একটু পরীক্ষায় ফেলি !
মুদ্রণ মাধ্যমের সেই নিয়মিত ৭জনের পাশাপাশি ব্লগগুলো থেকে এরকম ৭জনের নাম করেন,
যারা সেই ৭জনের চে' ভালো না হোক, অন্তত তাঁদের মানের লেখতে পারেন বলে আপনি বিশ্বাস করেন !
সাতজনের মধ্যে কবি আর প্রবন্ধকারও আছেন, সেই ক্যাটাগরিতে তুলনা আমার অসাধ্য
গল্পকারদের সঙ্গে ব্লগের গল্পলিখিয়েদের তুলনা করব, সেখানেও সমস্যা, গত এক বছরে চতুর ছাড়া অন্য কোন ব্লগ পড়াই হয় নি, এর বাইরে মাঝেমধ্যে সচলায়তন দেখি। সবচেয়ে ভাল হয় তোমার পাঠের আওতায় যে শখানেক ব্লগার আছেন তাদের মধ্য থেকে দৈবচয়ন ভিত্তিতে সাতজন নিয়ে নেয়া
লেখকের মন্তব্য
বুজি ! আপনি না করে আমার দিকে ঠেলে দেয়া কী ঠিক হলো !
এভারেজ ব্লগপাঠের যে অভিজ্ঞতা সেখান থেকেই আলাদা করতে পারেন ।
ইদানীং সাহিত্য পাতা কম দেখা হয় আমার । যেকালে নিয়মিত পাঠক ছিলাম সাহিত্য পাতার সেই অভিজ্ঞতা থেকে , এবং এদের বলয়বদ্ধ রাজনীতির ব্যাপারে জানি বলে বলতে পারি, ব্লগারেরা অনেক স্বাধীনচেতা এবং তাদের গল্পে ভ্যারিয়েশনটাও আলাদাভাবে চোখে পড়ে ।
লেখকের মন্তব্য
নুশেরাপু.......................................
কতদিন পর দেখলাম আপনাকে; ভালো আছেন তো
কাঁকন
কাঁকন.......................................
কতদিন পর দেখলাম তোমাকে; ভালো আছো তো
রোবোট
লেখকের মন্তব্য
কাঁকনদি.......................................
আপনি যেমন নুশেরাবুকে দেখে আনন্দে আপ্লুত হয়েছেন,
আপনাকে দেখেও আমি আপ্লুত ! চতুরে নিয়মিত হোন না, প্লীজ !
--আরাশি !

নুশেরার শেষ কথাগুলা তো দূর্দান্ত! মারাত্মক!
লেখকের মন্তব্য
হু, আমাদের সহব্লগার বন্ধুদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ কথাগুলো ।
আপনি একটা নতুন গল্প ছাড়েন, রিপন ভাই । আপনার নতুন গল্প পড়তে ইচ্ছে করছে ।
আর আপনার বই কবে হাতে পাবো ?
নুশেরা বলেছেন:
"আপনার পড়তে ভাল লাগে, তাই ব্লগ পড়েন। শুধু ব্লগ পড়ার জন্য বাড়তি অর্থব্যয় করছেন না; হয়ত সময় ব্যয় করছেন, অথবা সময় কাটানোর জন্যই পড়ছেন। এখানে প্রকাশিত লেখার সবগুলো না হোক, ক্ষুদ্র একটি অংশ পড়েও আপনি কখনও সচেতন, কখনও বিনোদিত, চিন্তিত অথবা আপ্লুত হয়েছেন। সেই ব্লগারদের দুচারজন যদি নিজেদের লেখা মলাটবন্দী করতে চান, পাঠক হিসেবে তাদের এড়িয়ে যাবেন না প্লিজ। বই কিনুন, বই পড়ুন, বই উপহার দিন। এক্ষেত্রে ব্লগের পাঠক হিসেবে ব্লগের লেখকদের বই যেন আপনার আন্তরিক সুদৃষ্টি থেকে বঞ্চিত না হয়।"
- নুশেরা, ঐকমত্য জানাই!
লেখকের সাথে শতভাগ সহমত প্রকাশ করছি।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ, সুরঞ্জনাদি !
একমত, শিপন ভাই!
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ, ফয়সাল (নাম ঠিকাছেতো ?) !
পলাশ হবে!
লেখকের মন্তব্য
ওক্কে ! মনে রাখলাম, পলাশ !
ঠিক মনের কথাগুলো বলেছেন শিপন ভাই। তবে এইক্ষেত্রে একটা ব্যতিক্রম অভিজ্ঞতা বলি। ইত্তেফাকের সাহিত্য পাতায় আমি সহ চতুরের অনেকের লেখাই ছাপা হয়েছে। জুলিয়ান সিদ্দিকি ভাই, কৃষ্ণতরুণ। ওরা প্রায় পাঠকদের কাছে লেখা আহবান করছে এবং ছাপাচ্ছে।
চতুরের এই উদ্যেগ সফল হোক
লেখকের মন্তব্য
রিশাদ, ব্যতিক্রম নিশ্চয় আছে, আর ব্যতিক্রম আছে বলেই এখনও শুভবোধ আর শুভ্রতা বেঁচে আছে ।
অনেক অপ্রিয় সত্য এবং প্রাসঙ্গিক বিষয় চলে এসেছে।

লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ, জাতীয় ফুল শাপলা ।
কথাগুলো খুব খুব সত্যি
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ, মুহিত হাসান ।
সহমত।
লেখকের মন্তব্য
ভাইডি, প্রচারণার কাজে নেমে পড়ুন !
সহমত, সম্পূর্ণ পোস্টেই সত্যকথন। চেষ্টা করব বন্ধুবান্ধবদের চতুরের সংখ্যা কিনতে বলতে।
লেখকের মন্তব্য
মাহফুজ, প্রচারণার কাজ জোরে চলুক !
ঘ্যাচাং(এক কমেন্ট দুইবার চলে এসেছিল)
“আমরা সবাই সম্পাদক আমাদের এই সম্পাদনা-রাজত্বে”
একবার আমি একটা বড় লিটল ম্যাগ নিয়ে কথা বলছিলাম। সেখানে একদুইটা অচেনা ছেলেও ছিলো। সাথে সাথে আমার দুই বন্ধু একটা অচেনা ছেলেকে দেখিয়ে বললো, এই যে একে বলেন - এ ঐ ম্যাগের সাথে জড়িত। এবার আমি থতমত খেয়ে গেলাম। তখন মিষ্টি করে বলার চেষ্টা করলাম কিছুটা - কিন্তু মনে হয় না যথেষ্ট মিস্টি শোনালো। যা হোক ইনিয়ে বিনিয়ে কথা থামার পরই আমার বন্ধুরা বলা শুরু করলো হুজ হু - অর্থাৎ কে কে কোন দৈনিকের সাহিত্য পাতার সাথে আছে আর লিটিল ম্যাগ জগতের তারা কে কি, শুনতে শুনতে আমিই ঘাবড়ে গেলাম, উঋ! একটানে এত লোক নিয়ে কথা বলেছি! মানে অনেক লোকজন খুব রিলেটেড - কেমন যেন অলিগোপলি মতন একটা ব্যাপার - হয়তো হতে পারে এখানে লাভটাভও অলিগোপলির মতন - কি জানি! ঐ ছেলেটা যথেষ্ট ভদ্র এবং পড়াশুনা করা ছেলে। অনেক জানে। পরে তার সাথে আরো দেখা হয়েছে। ভিতরে একটা বোল্ডনেসও আছে। কিন্তু সে এইরকম গ্রুপিং পলিটিক্স এইসবের খোজ রাখে এটা আমার মন মানতে চায় না। হয়তো সে ওরকম আসলেই না। কারন ওর গ্রুপিং না করা অনেক বন্ধুবান্ধবও আছে। হয়তো অনেক ছেলে ঢাকায় এসে গেছে সাহিত্য করে খাবার জন্য তাদের টিকে থাকার এসব জরুরী। কিন্তু এখানে অনেক মেধাবী ছেলেপেলে আছে যারা ওসব ছাড়াও টিকতে পারতো বলে মনে হয়। কিরকম জানি একটা প্যাচগোচ! ভাল্লাগে না আরকি। মনে হয় যেন উপরের দিকে - কোনো এক সিড়ির উপরের ধাপে হয়তো কিছু ভীতু কাপুরুষ কম মেধাবী কম চিন্তক লোক বসে আছে। তারা নিজেদের টিকিয়ে রাখার জন্য এরকম গুরুমুখি এক যন্ত্রনাদায়ক সিস্টেম খাড়া করেছে। নিজেদের চারপাশে তারা নিজেদের চেয়ে কম মেধাবী ছাড়া কাউকে ঘেষতে দেয় না - আর এখানে হয়তো প্রচুর হালুয়ারুটির বন্দোবস্ত আছে। মধুর যোগান না থাকলে মৌচাক তৈরি হতে পারতো না।
কিন্তু এখন যেহেতু বাজার অর্থনীতি আছে সূতরাং তার সুযোগে যাদের কিছু বলার আছে তাদেরকে তা শোনার কান খুজে নিতে হবে। একদিনে কিছুই হয় না, কিছু তেমন এক দশকেও হবে না তবে ব্লগ স্বাধীন চিন্তা, মত প্রকাশ, ও পাঠের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্লাটফর্ম হয়ে উঠছে সেই আশার ব্যাপারটা চালু থাকা দরকার।
লেখকের মন্তব্য
আমরা আশায় বাঁচি ! আশাবাদী হই । এক দশকে কিছু একটা হবে । নিশ্চয় হবে । তার পূর্ববার্তা এখনই পাচ্ছি আমরা ।
ইতোমধ্যে ব্লগগুলোর বয়স বাড়ছে, ব্লগারেরা অনেক এগিয়ে যাচ্ছেন । ব্লগারেরা সচেতনভাবে নিজেদের বইগুলোর প্রতি আন্তরিক সুদৃষ্টি দিলেই কাজটা হয় ।
ধন্যবাদ, সুন্দর মন্তব্যের জন্য ।
দারুণ পর্যবেক্ষণ সাকাধূ!
ওলিগোপলির কার্টেলটা পরীক্ষায় বিশেষ আসতো না তবে বাস্তবে এটার উদাহরণই সবচেয়ে বেশি দেখি!
তুমি লেখালেখির ব্যাপারে যথেষ্ট প্যাশনেট, চেনোজানোও। আমার পড়াশোনা কম, তেমন কাউকে চিনিও না, পঠনসূত্রে নাম জানি কিছু এই যা। গতবার মেলায় একজনের সঙ্গে একটুখানি আলাপ হলো, গল্পকার, বেশ কিছু গল্প পড়েছি এখানে-ওখানে। বেশ নাম আছে এমন একটা লিটলম্যাগ যারা কি-না সাহিত্য পুরস্কার-টুরস্কারও দেয়, সেখানে ওই গল্পকারের গল্প নিয়ে বড় একটা আলোচনাও দেখেছি। সেরকম কিছু বলছিলাম, লেখক ভদ্রলোক আমাকে থামিয়ে একেবারে উল্টো লাইনে গিয়ে, শিমুল মুস্তাফার আবৃত্তির ঢঙে বলে বসলেন, "আপনার পরিবারে কি কোন শিশু আছে? তাহলে তার জন্য আমার এই বইটি নিতে পারেন... আমি নিশ্চিত সে খুব পছন্দ করবে..."
বইটার নাম "মিস্টার ভূত অ্যান্ড মিসেস পেত্নী"-টাইপের কিছু...
লেখকের মন্তব্য
প্রথমেই ধন্যবাদ আপনি দারুণ একটা বিষয় নিয়ে লিখেছেন। আমি আবার সিরিয়াস আলাপ টালাপে কমই উপস্হিত হই, নিজেকে খুবই আনফিট মনে হয়, তাই আর কি!
======
চতুরের এই সংকলনটার প্রচার আমরা কেনো করবো না? আমি তো মনে করি এই সংকলনটা সকল ব্লগারের(এট লিস্ট, চতুরের তো বটেই) সংগ্রহে রাখা এবং থাকা উচিত সমানভাবে। এত্ত এত্ত ভাল লেখকদের লেখা এক মলাটের ভিতরে পাওয়ার সুযোগ চাট্টিখানি কথা নয়!
আবদুল করিম ভাইয়ের কথাটার সাথে আমিও বলতে চাই, আমরা যারা চতুরের পরিবারের সাথে জড়িত তাদের বুঝা উচিত চতুরের কোন উদ্যোগ সফল না হওয়া মানে আমাদের ব্যর্থতা।
=========
আমি নিজে এই সংকলনটা সংগ্রহ করবো এবং আমার পরিচিতদেরকেও বলবো।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ, নয়ন ।
আপনার লেখাটি প্রথম দিনেই পড়েছিলাম। ব্যস্ততার জন্য লিখতে পারি নি।
আমি লিস্ট করছি--এবারের বইমেলায় কয় টি বই কিনবো-- ইতোমধ্যে ২০ ছাড়িয়ে গেছে--ভালোই খসবে এবার!
আমি কখনো বইমেলাতে এতো বই কিনিনি, কিন্তু এবার কেনা্র চিন্তা করছি, কেনো?
ভেবে যেটা মনে হলো, নিজে হয়তোবা একটি বইয়ের সাথে জড়িয়ে গেছি, তাই বুঝতে পারি অনুভূতিটা। ব্লগের সবাইকে আপন মনে হয়, মনে হয় সব বই-ই আমার লেখা!
সাহিত্য পাতায় আমি লিখি না, সে চষ্টাও করি না, তাই ঐ পলিটিকসও জানি না।
আপনার আর নুশেরা আপুর কথাগুলো খুব ভালো লাগলো।
লেখকের মন্তব্য
আপনার আন্তরিকতার জন্য ধন্যবাদ, নিয়াজ ।
সবাই এইভাবে ভাবতে শিখুক ।
এইবার এট্টু মজা করি-

মনে রাইখেন,- বই কিনে কেউ দেওলিয়া হয়না ! হে হে হে !
২০টা বই কিনতে ২৫০০-৩০০০ হাজার টাকা যাবে, ডাক্তারদের জন্য এটা ব্যাপারস না !
হা হা হা -----
লেখকের মন্তব্য
বলার কিছু নাই। সহমত।
লেখকের মন্তব্য
হুম...ধন্যবাদ, উদরাজী ভাই ।
এই পোষ্টটি আসার সাথে সাথে শিমুল ভাই একটি প্রস্তাব করেছিলেন,যে মেলা চলা কালে পোষ্টটি যেন স্টিকি হয়।
আমি আবার জোর দাবী জানিয়ে যাচ্ছি।
পোষ্টটি যেন স্টিকি করা হয়।
তাতে অন্তত নতুন ব্লগাররা সংকলন সংগ্রহের ব্যাপারে সচেতন হবে।
লেখকের মন্তব্য
এই পোস্টটা আসলে স্টিকি হবার মতোনা । একটা বিশেষ লেখক শ্রেণীকে আমি ব্যঙ্গ করেছি এই লেখাতে ।
এরকম পোস্ট স্টিকি না হওয়াই ভালো ।
মন্তব্য করুন