লেখকের ক‌থা

সদর দরজা

স্মৃতির পাতায় বিটিভি : প্রসঙ্গ জনসচেতনতা মূলক অনুষ্ঠান

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

জনসচেতনতা নিয়ে গল্প করতে গিয়ে বিটিভি প্রসঙ্গ আনলেও আমার এই লেখার মূল উদ্দেশ্য হিসাবে জনসচেতনতার চাইতে স্মৃতিচারণই অনেক বেশি প্রাধান্য পাবে। ব্যাক্তিগত জীবনে আমি কতটুকু অচেতন সেটা জানলেই অবশ্য আমার সচেতন করার চেষ্টার নিরর্থকতা ধরা পড়বে। সেসব প্যাচাল দূরে রেখে বিটিভির প্রতি ভালোবাসা এবং বিভিন্ন সময়ে ভালোলাগা আমার উপর প্রভাবগুলোই বেশি করে মনে পড়ে। আশির দশকের শেষের দিকে টেলিভিশনের আগমন ঘটে আমাদের বাসায়। আর সেইসময় থেকেই বিনোদনের একটা বড় অংশ জুড়ে টেলিভিশন জায়গা করে নিয়েছিলো। দলবেঁধে পরিবারের সাথে নাটক দেখতে বসে কিছু না বুঝে ঘুমিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটলেও মূলত সুর আর ছন্দের আবেদনে বিজ্ঞাপন অনেক বেশি টানতো। তবে এসব কিছুকে ছাপিয়ে বিটিভি প্রথম ভয়ের কারণ নিয়ে আমার কাছে হাজির হয় এক বিশেষ সাক্ষাতকার দেখে। এসো গান শিখির মিঠু মন্টির আদলের ছয় পাপেটের বসে থাকা দিয়ে শুরু । আর তাদের পরিচয়ে যক্ষ্মা পোলিও হাম ডিপথেরিয়া হুপিংকাশি এবং সবশেষে নিজের কর্কশ কন্ঠে পরিচয় দেওয়া ধনুষ্টংকার এর পরিচয় আমি পেয়ে যাই।

" হগলে যেই হারে টিকা লইবার শুরু করছে তাতে আমরা চোখে আন্ধার দেখতেছি।"
"অনেক মা-ই ধনুষ্টংকারের কোর্স পুরা করে নাই।একডোজ লইয়া আর দ্বিতীয় ডোজ লইতে টিকাদান কেন্দ্রে যায় নাই।"

এই জাতীয় কথার পরে শিকারের খোঁজে তারা বেরিয়ে পড়ে। তার কিছুদিন পরে স্কুলে আমার এক সহপাঠীনি যখন হুপিংকাশিতে আক্রান্ত হয়ে স্কুল ছাড়ে ভয় প্রবল হয় আমার মাঝে। তারও কিছু দিন পরে যখন আমার শরীরে হামের দানা দেখি, আমার টিকা দেয়া হয়েছে কিনা মনে করবার চেষ্টা করি। টিকার কোন স্মৃতি মানসপটে না থাকায় ভাবিত হয়ে উঠি তুমুল মৃত্যু ভয়ে। কোন এক ভয়ার্ত মুহূর্তে মা-কে বলার পরে আমার শরীরে টিকার দাগের চিহ্ন দেখিয়ে সেই যাত্রায় আমার মা ভয় দূর করে।

ভয় দিয়ে শুরু হলেও ভয় পিছু ছাড়ে না। এবারে অবশ্য মৃত্যু ভয় না।রাতকানা রোগের কোপে অন্ধ হবার ভয়। শ্মশ্রুমণ্ডিত চেহারার (সংকর শাওজাল) একজনকে ঢোল হাতে দেখতে পাই আমি। পাশে তার ছেলে। সেই ছেলেকে নিয়ে গান ধরেন তিনি

শোনেন শোনেন বন্ধুগণ, শোনেন দিয়া মন
অভাগী এক দুঃখীর কথা করিব বর্ণন
একটা মাত্র ছেলে আমার এমন কপাল মন্দ
চক্ষু লইয়া জন্ম নিয়াও আমার দোষে অন্ধ
ভাইরে আমার দোষেই অন্ধ।

আমি জানতাম না। সবুজ শাক সবজি না খাইলে রাতকানা রোগ হয় । মাসুম শিশু অন্ধ হইয়া যাইতে পারে। (এমন সময় একজন চিন্তা কিষ্ট মাকে বাচ্চাকোলে আতকে উঠতে দেখা যায়। )আবার গান শুরু হয়। ভিড়ের এক ডাক্তারকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়

কোন কোন মা বোনেরা কয় শাকসবজি খাইলে নাকি পেটের ব্যারাম হয়।

ডাক্তার: একদম বাজে কথা, সবুজ শাক ভালো করে তেল দিয়ে রেধে খেতে দিলে বাচ্চাদের পেটর অসুখ হয় না।

শেষ দৃশ্যে দেখা যায় অন্ধ ছেলেটি করুণ ভাবে বলে

রোগবালাইতো আছে দুনিয়ায়, ভালো থাকার আছে যে উপায়
ভালো থাকার আছে যে উপায়।

এইটা দেখার পর থেকে রাতকানা রোগের ভয়েই হোক কিংবা সেই ছেলেটির করুণ চোখের দিকে তাকিয়েই হোক আমার খাদ্যতালিকায় শাকসবজি ছোট মাছের সমাগম হয় বিপুল। আমার তাগিদেই মলা ঢেলা মাছের সমাগম ও ঘটতে থাকে আমাদের বাড়িতে প্রবলভাবে। শাকসবজি বিষয়ক আরেকটি গানও ছিলো। গর্ভবতী মায়েদের জন্য খাবারের পাথেয় হিসাবে। একতারার সুরে তোলা গানটি ছিলো এমন

চারপাশেতে রইছে কত সবুজ লতা পাতা / আমরা কি ভাই জানি এদের সকল গুণের কথা
কচু শাক আর ধইন্যা পাতা পুঁইয়ের পাতার মাঝে/ কত যে গুণ থাকে
ফুল কপির পাতায় আর ছোলার শাকে ভাই/ আমরা কত পুষ্টি পাই
শরীরটাকে সুস্থ রাখতে এর তুলনা নাই।

আমার মনে হয় সামাজিক প্রেক্ষাপটে এই ছোট ছোট গান কিংবা নাটিকার বেশ ভালোই ইমপ্যাক্ট ছিলো। সেইসময়ের আরেকটা সাধারণ প্র্যাকটিস ছিলো সাড়া জাগানো নাটক সিনেমা চরিত্রগুলোর মুখ দিয়ে সামাজিক সচেতনতার কথা বলা। সেইসময়ের কিছু আগে হয়ে যাওয়া 'এসব দিন রাত্রি'র চরিত্রগুলোকে নিয়ে খাবার স্যালাইন বানানোর ডেমো দেয়া হতো। সেই নাটিকা গুলো হতোও খুব মজার। খাবার স্যালাইনের সেই নাটিকাতে আসাদুজ্জামান নুর আর তার মা দিলারা জামানের কথার শুরু ছিলো এমন
--আবার ডায়রিয়া বাধিয়েছিস। আশ্চর্য।
--আরে ওটা কি আমি ইচ্ছা করে বাঁধিয়েছি।
--কত করে বলি খাবার আগে ভালো করে হাত দুতে।
--আরে আমি কি হাত না ধুয়ে ভাত খাই।
-- নিশ্চয়ই খোলা খাবার খেয়েছিস। অথবা পঁচা বাসি খাবার খেয়েসিস।
--মা, কানের কাছে কটকট না করে খাবার স্যালাইন বানিয়ে নিয়ে এসো তো।
--তুই আবার যাচ্ছিস কোথায়?
--আবার যাবো কোথায় বাথরুমে যাচ্ছি!! ঐটাই ত আমার স্থায়ী ঠিকানা।

এই নাটিকার পরের ভাগে সাদেক আলী সাহেব ওরফে সুজা খন্দকারের আগমন ঘটে। তিনি যেভাবে নুরের সামনে খাবার স্যালাইন বানানোর ডেমো দেন আর শেষে ঘুটাআ ঘুটাআআ ঘুটাআআ করতে থাকেন সেটা একদিকে যেমন সরেস তেমনি অন্যদিকে দর্শকদের মাথায় গেঁথে যাওয়ার মতো। সুজা খন্দকার অকাল প্রয়াত একজন মেধাবী অভিনেতা । এইসব শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান গুলোতে তার ছিলো ব্যাপক পদচারণা। ইলিশ ঝাটকা সংক্রান্ত তার করা নাটিকাটি সকল মহলে খুবই আলোচিত হয়েছিলো। সেখানে তার সাথে সালেহ আহমেদ অভিনয় করেছিলেন। সেখানে সুজার ছান্দিক ডায়লগ থ্রোয়িং যেকোন শ্রোতা দর্শকের মাথায় গেঁথে যাওয়ার মতো। ঝাটকা নিধন বন্ধে ব্যবহৃত এই চমৎকার নাটিকার ডায়লগ গুলি ছিলো এমন

--মাছের গুষ্ঠি দেখাও ফাল/ লগে আনছি কারেন্ট জাল
কপালের ফের কী আর করা/ আন্দা বাচ্চা সহ পড়বা ধরা।
ঝাঁকে ঝাঁকে জাটকা/ কারেন্ট জালে আটকা
ইলিশ মাছের পোনারে/ টাকার খবর সোনারে।
(এমন সময় পাঞ্জাবি পায়জামা পরিহিত সালেহ আহমেদ-এর আগমন )
-- আরে সাদেক আলী। তুমি কারেন্ট জালে মাছ ধরতাসো। তুমি জান না কারেন্ট জালে মাছ ধরা নিষেধ। মৎস্য আইনে তোমার পাঁচশত টাকা জরিমানা অথবা ছমাসের জেল হয়ে যাবে। জাটকা মাছ ধরা আইনত নিষেধ আছে।
--মাছ ধরমু তাতেও আইন/ যা শুনাইলেন স্যার সত্যিই ফাইন।
ঐ বোকারাম বৎস /নিশ্চিন্তে শিকার কর মৎস্য/মৎস্য মারিব খাইবো সুখে/ কী আনন্দ লাগছে বুকে।
-- (বেশ ঝাঝালো স্বরে) সাদেক আলী । তুমি দেশের ক্ষতি করতাসো।
-- মাছ ধরলে দেশের ক্ষতি /ঠিক আছে তো মতিগতি।
-- তুমি কি জানো জাটকা মাছ বড় হয়ে ইলিশ হয়।
(পরের দৃশ্য সালেহ আহমেদ একজনকে ডাকেন। বড় ইলিশ দেখিয়ে বুঝান যখন তা ছোট ছিলো তখন জাটকা। এখন ইলিশ। বড় হইছে।)
-- জানি, আমি স্যার মোটামুটি জ্ঞানী/ এইটা জানি।
--জাইনা শুইনা তুমি এমন কাজ করো। তোমার মতো লোভী মানুষদের জন্য বাংলাদেশ প্রতিবছর সোয়া এক লাখ টনেরও বেশি মাছ থেকে বঞ্চিত হয়।
-- এত ইলিশ , সোয়া এক লাখ টন// কী কন?
-- শোন মিয়া, মৎস্য আইনে পোনা মাছ ধরা নিষেধ ডিম ওয়লা মাছ ধরা নিষেধ জাটকা মাছ ধরা নিষেধ। একটা কথা মনে রাইখো। মাছের পোনা দেশের সোনা।
--বাহ বাহ বাহ। কী সুন্দর কথা শুনাইলেন স্যার।
মাছের পোনা দেশের সোনা/ আজ যে পোনা / কাল সে বড়/ ঐইই মিয়ারা সবুর করো।
মাছের পোনা মারুম না/ জেল খাটতে পারুম না। ধরুম না আর জাটকা/ইলিশ খামু টাটকা।
যেই ব্যাটারা জাটকা ধরে আটকা ওদের আটকা।

এইটার তুমুল জনপ্রিয়তা ছিলো আমাদের মাঝে। আমরা এটা দেখে সবাই সুরে সুরে সাদেক আলী হবার চেষ্টা করতাম। সুজা খন্দকারের গাছ নিয়াও আরেকটা ছিলো , যেটায় সে বলে 'কাটো গাছ খাও মাছ'। পরে ভুল বুঝতে পেরে সে আবার জানায় লাগাও গাছ খাও মাছ। গাছ বিষয়ে প্রয়াত আবুল খায়েরের আরেকটা জনপ্রিয় নাটিকা ছিলো। যেটায় সে কবিরাজ ছিলো। এবং গাছ থেকে ঔষধ বানায়। সেটার প্রতিটা ডায়লগ মন ছোঁয়া। এমনি একটি ডায়লগ ছিলো ' লাকড়ী বানায়া চুলায় দিছি, খাট পালং বানায়া শুইয়া রইছি টাকার দরকার পড়ছে গাছ কাটছি। যা কাটছি, তা কি পূরণ করছি। বাপ দাদার লাগানো গাছ কাটছি। নিজেদের সন্তানদের জন্য কী রাখছি। অক্সিজেন ফ্যাক্টরী ধীরে ধীরে শেষ হয়ে আসতেসে।' গাছ নিয়ে আরেকটা মজার নাটিকাও ছিলো। যাতে গাছের উপর কোপ পড়ায় মা কেঁদে উঠেন। পরে দেখা যায় তার শ্বশুর তাকে বলে যান ব্যাকসিনে, 'তোমার পোলা বড় হবে গাছও বড় হবে'-- এই জাতীয় ডায়লগ। শেষ কথা ছিলো একটা কাটলে তিনটা গাছ লাগানো লাগবে।

মধ্য নব্বইয়ে হঠাৎ করেই বাংলাদেশে এইডস নিয়ে একটা তোলপাড় শুরু হয়। আর এরই ক্রম ধারাবাহিকতায় এইডস নিয়ে নানা রকম সচেততা মূলক অনুষ্ঠান প্রচার হতে থেকে। তখন এইডসের চিকিৎসা নেই এটা বলে বলা থাকতো এইডস প্রতিরোধের উপার 'ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলুন।' এর প্রভাব এমন যে আমাদের ছোটদের মাঝেও এইডস নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে যায়। টিভির সূত্র ধরে এক বয়স্কা আত্মীয়ার কাছে এইডস হবার কারণ জানতে চাই। এর সাথে প্রতিরোধের ধর্মীয় অনুশাসনের ব্যাপারটাও জানতে চাই। ফলাফল ছিলো তুমুল এক রাম ঝাড়ি। সেই সাথে আমাকে বলা হয়েছিলো এইডসের কিছু প্রচার হলেই আমি যাতে টিভির সামনে থেকে উঠে যাই। নিষিদ্ধ আগ্রহ থেকেই এইডস বিষয়ক সবকিছুই দেখা হতো। সেইসময়ে এইডস নিয়ে প্রচারিত হতো দুর্দান্ত এক গান। যার ভিডিওতে অংশ নেন দেশের সকল নাট্য সিনেমা ক্রীড়া ব্যাক্তিত্ব। এই গানের দুর্ভোগ বলার সময় আনোয়ার হুসেন এর অভিব্যাক্তি দেখে তাকেই আমি সম্ভাব্য এইডস ব্যাক্তি বলে ধরে নেই। একইভাবে হাত তুলে গুলি করার ভঙ্গি করা ইলিয়াস কাঞ্চনের প্রতি কেমন যেন শ্রদ্ধা জন্মে যায়। নিষিদ্ধ আনন্দ থেকেই হোক কিংবা তারকা প্রীতি থেকেই হোক সেই গানটি এক দম মাথায় গেঁথে যায়। গানটি ছিলো এমন

শোনো মানুষ / শোনো মানুষ/ শোনো মানুষ/ শোনো মানুষ/
এসেছে এসেছে পৃথিবীতে / এক মহারোগ / এক মহারোগ /এক মহারোগ

সাবধান,সাবধান/এইডস হতে সাবধান/মৃত্যুই যার পরিণাম

মনে রেখো এইডস এমন কঠিন রোগ/ চিকিৎসা নেই নেই নেই / আছে আমৃত্যু দুর্ভোগ।
আসছে ধেয়ে আসছে ধেয়ে সেই সে মহারোগ।

অসাবধানে অসৎ সঙ্গে পায় তারে প্রথমে/
ঠেকাও ঠেকাও ঠেকাও/ তুমি মানুষ তোমার শক্তি শিক্ষা দিয়ে তারে ঠেকাও/ তুমি ঠেকাও/ তারে ঠেকাও।

সৃষ্টির সেরা তুমি রাখিও স্মরণ/ তুমি যেন না হও তোমার মরণের কারণ/তুমি যেনো না হও তোমার/ মরণের কারণ।
তুমুল সাড়া ফেলা এই গানটি শুনতে পারেন নিচের লিংক থেকে

See video

নব্বইয়ের দশকে প্রাথমিক শিক্ষা অবৈতনিক হবার পরে তার প্রচারণা লেগে যায় জোরে সোরে।বিটিভিতে এর প্রথমিক ধাপ ছিলো গণশিক্ষার আসর নামে একটা অনুষ্ঠানে। দিলারা হাফিজের উপস্থাপনায় সেই অনুষ্ঠানটি আমার কাছে বেশ লাগতো। বিশেষভাবে আসরের শেষে একটা শিক্ষামূলক নাটিকা দেখানো হতো। সেটা দেখার জন্য আমরা খুব আগ্রহ নিয়ে থাকতাম। তাছাড়া শিক্ষার আসরে থাকা বয়স্ক লোকজনের মাঝে খুনসুটিও বেশ উপভোগ্য ছিলো। নাটিকার মাধ্যমে মূলত সামাজিক অসংগতি তুলে ধরা হতো। গ্রামের মানুষদের সরলতার সুযোগ নিয়ে তাদের কীভাবে ঠকায় এবং শেষে সেই ঠগ লোক কীভাবে ধরা খায় এমনই ছিলো মোটামুটি থিম। ঈশপ ঘরনার হলেও ভালোই লাগতো দেখতে। প্রাথমিক শিক্ষার গুণাগুণ বলতে তখনকার জনপ্রিয় নাটকে অয়োময়ের মির্জার পোশাক নিয়ে হাজির হন আসাদুজ্জামান নুর সাথে তার পেয়াদা হানিফ ওরফে মোজাম্মেল হক। তবে এটা প্রচারের অনেক আগেই কুদ্দুস বয়াতির 'এই দিন দিন না আরো দিন আছে' এই গানটি সচিত্র প্রকাশ হয়। সেই গানের মাঝে একজায়গায় 'আহারে কী মজার স্কুল' নামে একটা লাইন ছিলো। যেটা আমাকে চরমভাবে দ্বন্দ্বে ফেলে দেয়। কারণ তখন স্কুলে স্যারদের গুতানি প্যাদানি খেয়ে মূলত অসহ্য লাগতো যেতে। এই গানে স্কুলের মজার কথা অনেক চিন্তা করেও কিছুতেই খুঁজে পাই না। তবে গানটা বেশ মন কাড়া ছিলো। বিটিভিতে প্রচারিত গানটা না পাওয়া গেলেও কোন এক অনুষ্ঠানে কুদ্দুস বয়াতির গাওয়া গানটির একটা ভিডিও পেলাম ইউটিউবে

See video

কুদ্দুস বয়াতি এই গান গিয়ে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জ ন করেছিলেন। পরবর্তীতে বাল্যবিবাহ বিরোধী আরেকটি প্রচারণাতেও তিনি অংশ নেন। যার গানের কথা ছিলো অনেকটা এমন

আম খাইয়ো জাম খাইয়ো তেঁতুল খাইয়ো না
অল্প বয়সে বিয়া কইরা প্রাণে মইরো না।

যা হোক বলছিলাম শিক্ষা বিষয়ক প্রচারণা নিয়ে। মাসুদ আলী খান মামুনুর রশীদ শিলা আহমেদ ও নাজমা আনোয়ার অভিনীত আরেকটা নাটিকা ছিলো। যেটায় ক্ষেতের কাজে সাহায্যের জন্য বাপ মেয়েকে স্কুল ছাড়িয়ে নেয়। পরে অন্ধ দাদী ক্ষেতে খাবার নেবার কথা বলে পুনরায় নাতনীকে স্কুলে পাঠায়। সেটার মজার কিছু ডায়লগ এমন

-- মাইয়াটারে নিয়া যাবা কুদ্দুস । মাইয়া টা এতো ভালো ছিলো। এই দেখো কী সুন্দর তার হাতের লেখা।
-- হাতের নেহা। ঐ হাতের নেহা দিয়া আমি করবাম। ধুয়া পানি খাইবান।

কিংবা
-- লেহাপড়াতো শিখছে। আর কত শিখবো। লেহা পড়া শিখা তো জজ ব্যারিস্টার হইতো না।
--হইতেও তো পারে মানুষইতো জজ ব্যরিষ্টার হয়, গরু ছাগলে হয় না।

এই নাটিকা নিয়া একটা মজার কাহিনী আছে। আমরা এই নাটিকা দেখে এত মজা পেলাম আমাদের ক্লাশের বোর্ডে একজন লিখে রাখলো আরে ব্যাটারে আমি আন্ধা হইয়াও তর চেয়ে বেশি চোখে দেখি। স্যার হঠাৎ ঢুলেন। ফলে ঐ লেখা মুছা হলো না। স্যারের মোটা চশমা থাকায় তিনি ধরেই নিলেন তাকে খোঁচা মেরেই কথাটা লেখা। ফল হিসাবে লেখককে খুঁজে বেশ করে মৃদু ভর্ৎসনা।

মাঝখানে সাইবেরিয়া থেকে আগত অতিথি পাখিদের মেরে ফেলার একটা চল শুরু হয়েছিলো। বাজারে বাজারে অতিথি বেশ উঠে। আর অতিথি পাখি নিধন বিরোধী সামাজিক প্রচারণা মূলক নাটিকায় অংশ নেন জনপ্রিয় অভিনেতা আজিজুল হাকিম, উৎপল ডলি জহুর এবং একজন শিশু শিল্পী। সেখানে বাজার থেকে অতিথি পাখি নিয়ে এসে আজিজুল হাকিমকে খুব উচ্ছসিত দেখা যায়। কিন্তু বোন দুলাভাইয়ের তীব্র ঝাড়ির মুখে চুপসে যান। শেষে কাচুমাচু ভাবে বলেন, নিয়েই যখন এসেছি আজকের মতো তো খাই। তখন তার ছোট ভাগ্নে বলে উঠে, সবাই খেলেও আমি খাবো না অতিথি পাখি। দাও পাখিগুলোকে আমার কাছে। তারপরে সেই পাখিকে মুক্ত করে ছেড়ে দেওয়া হয়।

মজুরি বিষয়ক আরেকটি শিক্ষামূলক নাটিকা ছিলো। মেয়েদের কম মজুরি দেয়া নিয়ে। কাঙালিনী সুফিয়ার গান ইউস হইছিলো। গান "পরানের বান্ধব রে, বুড়ি হইলাম তোর কারণে/ কত কষ্ট কইরা আমি , কামাই রোজগার করে আনি/ মাথার ঘাম পায়ে ফেলি/তবু দুঃখ গেলো না রে/বুড়ি হইলাম তোর কারণে।/ কোদালে কাটিয়া মাটি/ হাতুর দিয়া পাথর ভাঙি/মাথার ঘাম পায়ে ফেলি/ তবু তোর মন পাইলাম নারে / বুড়ি হইলাম তোর কারণে।"
তার পরের দৃশ্য দেখা যায় মালিক বসে আছে। লাইনে শ্রমিকরা ডাঁড়িয়ে । ডাকে আবুল হোসেন ( নামগুলো ঠিক খেয়াল নাই)। "তোমার তিনদিন ৩ পঞ্চাশে একশত পঞ্চাশ।
আইচ্ছা।
তারপরে আরেকজনকে ডাকে ।বলে,
তোমার তিনদিন । তিন পঞ্চাশে দেড়শো।
তারপরে একটা মেয়েকে দাকে ডাকে। বলে "আসছো। তোমার তিনদিন । তিন তিরিশে নব্বই।"
সবাই সমান সমান কাম করলাম আমার ষাইট টাকা কম কেন?
মাইনা মাইনষের মজুরির কমই হয়।
তারপরে মেয়েটা টাকা হাতে নেয় আর নিয়ে বলে এইটা আবার কোন বিচার ??

কাঙালিনী সুফিয়ার গানটি শুনতে পারেন এইখান থেকে

See video

তালাক বিষয়ে সামাজিক সচেতনতার একটা নাটিকা ছিলো। মাথা গরম স্বামী রাগের মাথায় তিনবার তালাক বলে ফেলেন। ব্যাকগ্রাউন্ডে বলা হয় তিনবার তালাক বললেই তালাক হয় না। এর পিছনে রয়েছে আইনগত প্রক্রিয়া। এছাড়াও বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার, স্যানিটেশন বিষয়ক আরো অনেক ভালো ভালো সচেতনতা মূলক নাটিকা প্রচার হতো। এসিড সন্ত্রাস নিয়ে হৃদয় স্পর্শী একটা নাটিকা ছিলো। এসিড সন্ত্রাসকারী ছেলের বাবাকে বলতে শোনা যায়, তার ছেলের ছবি দেখিয়ে। "এই ছবিটা ছিলো ওর ভার্সিটির শুরুতে। তখনো সে মানুষ ছিলো।" তারপরে তার বর্তমান ছবি দেখানো হলে চিৎকার করে উঠেন, অমানুষ, আমি ভাবতে পারি না আমার ছেলে কারো গায়ে এসিড ছুড়েছে। পিছনে ছেলেটির বোনকে কাঁদতে শোনা যায়। বাবা বলেন এই কাঁদবি না। অমানুষের জন্য কান্না কিসের!! তখন মেয়েটি অপ্রকৃতিস্থ হয়ে ফোঁপাতে ফোঁপাতে বলে, মা!! কেউ যদি আমার গায়ে এসিড ছুড়ে !!!! এসিড বিষয়ক নাটিকাটি দেখতে পারেন নিচের লিংক থেকে

See video

ডিবিবিএল সৌজন্য যৌতুক বিরোধী মর্মস্পর্শী আরেকটি নাটিকা যা সাড়া ফেলেছিলো অনেক দেখতে পারেন নিচের লিংক থেকে

See video

শেষ করবো নিজের ভালো লাগা একটি নাটিকার কথা বলে। মরণোত্তর চক্ষুদানকে উৎসাহিত করে দেয়া এই নাটিকায় বেশ একটা রাশ গম্ভীর শুরু। তারপরে একটা হাসপাতালের বেড দেখা যায়। সেখানে শায়িত রোগী শীলা আহমেদের চোখের উপর থেকে ব্যান্ডেজ খোলা হয়। আশেপাশে মেয়েটির বাবা মা সবার মুখে উৎকণ্ঠা। খোলার পরেও মেয়েটি এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। সবাই চিন্তিত হয়। বাবা বলেন দেখতে পাচ্ছিস। মেয়েটি কিছু বলে না। তার মা কান্না করতে থাকে। হঠাৎ করে মেয়েটি অদ্ভুতভাবে বলে উঠে , আমি দেখতে পাচ্ছি। আমি সব দেখতে পাচ্ছি। মা আমি দেখতি পাচ্ছি । আমি সঅঅব দেখতে পাচ্ছি। সেই সময়ের অনুভূতির কথা ভেবে নিজেই আলোড়িত হই। মরণোত্তর আরেকজনের চোখে দুনিয়া দেখবার সুপ্ত বাসনা জেগে উঠে।

[ ডিসক্লেইমার : বন্ধু মেহরাব শাহরিয়ার ও রেজাউল করিম রানার কাছে বিশেষ কৃতজ্ঞতা তথ্য উপাত্তের জন্য। ধন্যবাদ মেহরাব শাহরিয়ার ও জলরঙ যাদের উৎসাহ এই লেখাটার অনুপ্রেরণা। রিলেটেড ভিডিও খুঁজে পাই নি। কেউ পেলে মন্তব্যের ঘরে জানিয়ে দিলে পোস্টে আপডেট করা হবে। ধন্যবাদ। ]

6.918331
আপনার মূল্যায়ন: আপনি মূল্যায়ন করেন নি। গড় রেটিং: 6.9 (১২ জন মূল্যায়ন করেছেন)
শেয়ার করুন » Facebook Twitter Delicious Digg MySpace Google Orkut Blogger Google Buzz Technorati
অথবা এই সংক্ষিপ্ত লিংক শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৬৮৮০(১)    

জন্মের আগেরগুলো চিনতে পারি নি। বাকিগুলো মনে পড়ল। :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৬৯৩৬(২)    
লেখকের মন্তব্য

পড়বার জন্য ধন্যবাদ।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৬৮৮১(৩)    

নস্টালজিক হয়ে গেলাম...এতগুলো স্যাটেলাইট চ্যানেল এলো,কোনোটাই সেইকালের বিটিভির লেভেলে উঠতে পারলো না-আর বিটিভিও তার মান ধরে রাখতে পারলো না অতিরিক্ত পা-চাটাচাটির কারণে :( ভুলসবিভুল

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৬৯৪৫(৪)    
লেখকের মন্তব্য

পড়বার জন্য ধন্যবাদ। আমি মনে করি আসলে স্যাটেলাইটের আগ্রাসনের অনুষ্ঠানের কোয়ান্টিটি বৃদ্ধি কোয়ালিটি ফল করার অন্যতম কারণ। আর হ্যা সেই সাথে আরেকটা বড় ব্যাপার অবশ্যই সময়ের সাথে মানউষের রুচির পরিবর্তন।
তবে আমি আশাবাদী মানুষ। আমি মনে করি হয়তো এখনও এমন কিছু রয়ে গেছে, আজ থেকে দশ বা বিশ বছর পরে আমার মতই কেউ সেই বইষয়গুলো নিয়ে স্মৃতিচারণ করবে সেটা যে মাধ্যমেরই হোক।
ভালো থাকবেন।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৬৮৮২(৫)    

আআআহ! দারুণ! দারুণ! আমিন শিমুল, আপনেরে স্যালুট! টুপি খোলা সালাম! এইটারেই বোধ হয় 'এইডেটিক মেমোরি' বলে!

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৭০১০(৬)    
লেখকের মন্তব্য

বাপী হাসান ভাই আপনার মন্তব্যে সম্মানিত বোধ করলাম, তেমনি লজ্জাও পেয়ে গেলাম।
আপনার ভালো লাগা সাদরে গৃহীত হলো।
ভালো থাকবেন।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৬৮৮৬(৭)    

আমি শোনোওওওওওওও মানুষ শোনোওওওওওওও মানুষ কতক্ষন খুঁজলাম নেটে, পেলাম না
ঐ সময় ঐটা বেশ ভালো লাগতো আজকে দেখতে ইচ্ছা করছিলো এজন্য

See video

বুড়ি হইলাম তোর কারণে

তোমার মাথায় মনে হয় সবই ধরা থাকে। কিছু কি ভোলো টোলো আসলে!!!!!

----

ইয়ে পোস্টের শেষে নিজের নাম দেখে একটু শরমিত
ধন্যবাদ শিমু আপা
আর স্বাগতম
:)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৭০১৬(৮)    
লেখকের মন্তব্য

শোনোওওও মানুষ গানটা আমি হারিকেন জ্বালায়া খুঁজেও পাই নি। আমার নিজের কাছেও ঐ গানটা খুব ভালো লাগে।
সুফিয়ার গানটা শেয়ার করবার জন্য ধন্যবাদ। পোস্টে এ্যাড করে দিলাম।
----
আর পোস্টের শেষে নাম এ্যাড করা প্রসঙ্গে একটু বলি, স্মৃতিচারণ মূলক লেখা লিখতে আমি ভয় পাই আমার পরিমিতিবোধের অভাবের কারণে। মানে কোথায় গিয়ে থামতে হবে আমি বুঝি না। মেহরাবের পোস্টে আপনার কমেন্টের সূত্র ধরেই এই পোস্ট লেখবার অণুপ্রেরণা। তাছাড়া মেহরাব নিজ উদ্যোগে এগুলো সংরক্ষণের চিন্তা করছে। তাই আমার মাথা থেকে হাবিজাবি কিছু রিলিজের চেষ্টা এ দুয়ের যোগফল। পোস্টের অনেক বর্ণনা ইচ্ছাকৃত ভাবেই ছোট রাখা হয়েছে যাতে পাঠকের ধৈর্য চ্যুতির কারণ না হই।

ধন্যবাদ স্বাগতম দুইটাই সাদরে গৃহীত হলো।
:)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৬৮৮৯(৯)    

কতবার দেখেছি এ সব, দেখে কখনও হেসেছি, কখনোবা চোখ ঝাপসা হয়ে এসেছে, কিন্তু এমন করে স্মৃতির পর্দায় আসন গেড়ে বসতে পারে নি। আমিন শিমুল যেমন করে ছবির মত বর্ণনায় একেকটা চিত্রায়িত করেছে, তা প্রশংসনীয়।
সে সময়েও বিটিভি নিয়ে নানান অভিযোগ ছিল, ক্ষমতাসীনদের গুণগানই সেখানে হতো বেশি, তবুও এমন কিছু প্রাচারিত হতো যা মনের গভীরে চিরস্থায়ী ছাপ ফেলতো।
খুটিনাটি মনে রাখা ও তা এমন সুন্দর করা গুছিয়ে আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ শিমুল।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৭১১৬(১০)    
লেখকের মন্তব্য

হুদা ভাই আপনার প্রশংসা পেয়ে অনেক ভালো লাগলো।
বিটিভির লেজুর বৃত্তির দুর্নামের পরেও এই জিনিসগুলো বিটিভিকে অন্তত আমার কাছে একযটা বিশেষ জায়গা দিয়েছে। ব্যাক্তিগত পর্যায়েই না শুধু মনে হয় এই নাটিকার গুলোর সামাজিক সযুফলও ছিলো বেশ।
এই পোস্টের কলেবর ইচ্ছাকৃতভাবেই ছোট রাখা হয়েছে।
আপনার মন্তব্যে অনুপ্রাণিত হলাম।
ভালো থাকবেন হুদা ভাই।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৬৯০৪(১১)    

ছোটবেলায় দেখেছি এমন সব !! শিমুল ভাই, আপনার লেখার ধরণ, আপনার ভাবনার বৈচিত্র অনবদ্য। অনেকটা শৈশব, কৈশোর পেরিয়ে আসবার সময়টাই মনে করে দিল। স্যালুট!

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৭১২৭(১২)    
লেখকের মন্তব্য

পড়লে নস্টালজিক হবারই কথা।
আপনাকে ছুঁতএ পারলো জেনে ভালো লাগলো।
ভালো থাকবেন হালিম ভাই।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৬৯০৫(১৩)    

ফেলে আসা দিনগুলি মনে পড়ে গেল।
বিনোদনে অপ্রতিদ্বন্ধি বিটিভি'র সাথে মিশে আছে অনেক স্মৃতি হাসি-কান্নার। সে শুধু বিনোদন প্রদায়কই ছিলো না, ছিলো শিক্ষার উপকরণও। কাঁচা মনে তোলপাড় জুড়ে, গেঁথে দিতো অনেক শিক্ষাও করণীয়।
সাত্তারা।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৭১২৯(১৪)    
লেখকের মন্তব্য

আসলে ঐ সময়ে প্রযুক্তিগত অনেক দিক থেকে আমরা পিছিয়ে থাকাতেই হয়তো টেলিভিশন বিনোদনে এমন জায়গা করে নিয়েছিলো।
এই জিনিসগুলো ছোট ছোট হলেও একদম ফেলনা না। বরং আমার কাছে এইজিনিসগুলো ধরে রাখাটা গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে।
ভালো থাকবেন মানিক ভাই।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৬৯১৯(১৫)    

লেখাটি পড়লাম। মাঝে মাঝে খেই ধরতে পারলাম না। হয়তো বিটিভি তেমন দেখা হয়নি বলে। আপনার প্রচেষ্টা যথেষ্ট ঐতিহাসিক। অভিনন্দন।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৭১৪০(১৬)    
লেখকের মন্তব্য

পড়বার জন্য অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া।
ভালো থাকবেন।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৬৯২৮(১৭)    

যেগুলি দেখেছি সেগুলির কথা মনে পড়ে গেল আর যা যা দেখিনাই তা তা কল্পনা করে নিয়েছি।

এই গানের দুর্ভোগ বলার সময় আনোয়ার হুসেন এর অভিব্যাক্তি দেখে তাকেই আমি সম্ভাব্য এইডস ব্যাক্তি বলে ধরে নেই।

হাসতে হাসতে নাইক্কা
হাসতে হাসতে নাইক্কা হাসতে হাসতে নাইক্কা
আবুল খায়েরের গাছের বিজ্ঞাপনটা এখনো মনে গেঁথে আছে। আপনার বর্ননা পড়ে দেখতে মন চাচ্ছে।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৮৭৯৩(১৮)    
লেখকের মন্তব্য

ইনি অনেক খুঁজেও আবুল খায়ের অভিনীত গাছের নাটিকাটি পেলাম না।
তবে নিচে মেহরাবের কমেন্টের রিপ্লাইয়ে ঐ নাটিকার ডায়লগগুলো রেখে আসছি।
ধন্যবাদ।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৯২৫২(১৯)    

কষ্ট করে খোঁজার জন্য ধন্যবাদ ভাইয়া। অনেক আগেরতো; না পাওয়াই স্বাভাবিক। ডায়ালগগুলি দেখে দুধের সাধতো গুঁড়োদুধে মেটাতে পারব। তাতেই খুশি। ভালো থাকেন।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৬৯৩০(২০)    

দারুন! দারুন! দারুন!
সত্যি শিমুল অসাধারন কাজ করেছ ভাই!

বিষন্নতা নিয়েও একটি সচেতনতা মুলক বিজ্ঞাপন দেখাতো মনে আছে?
বিষন্নতা একটি রোগ? ওটাও জুড়ে দিতে পারো।

আমি প্রায় ৫ বছর ধরে টিভি দেখিনা। এখন কি টিভিতে এ ধরনের জন-সচেতনতা-মুলক কিছু প্রচার হয়? আনি দেশের সবাই সচেতন হয়ে গিয়েছে বলে আর এসবের দরকার হয়না?

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৭১৫৫(২১)    
লেখকের মন্তব্য

সুর'পু অনেক ভালো লাগলো আপনার মন্তব্য পেয়ে।
বিষণ্ণতা নিয়ে যে বিজ্ঞাপন ছিল সেটা ছিলো সিবা গেইটির একটা বিজ্ঞাপন। সেখানে একটা মেয়েকে ইজি চেয়ারে বসে থাকতে দেখা যেত। তারপরে মৃদু পায়চারি করতে। চারপাশে অন্ধকার। শেষে বলা হতো 'দিনের পর দিন যদি এইভাবে কাটতে থাকে তাহলে আপনি বিষণ্ণতায় ভুগছেন। অবহেলা না করে ডাক্তারের পরামর্শ নেন। বিষণ্ণতা একটি মানসিক রোগ'।

আমি টিভি দেখি না ১০ বছর হয়ে গেলো প্রায়।তবে জনসচেতনতা তৈরিতে টিভি মনে হয় এখন মাধ্যম হিসাবে খুব ভালো না। কারণ টিভির কনসিউমার গত একদশকে সিগনিফিকেন্ট পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে।
ভালো থাকবেন।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৭২৫৫(২২)    

ঠিক এইটাও বেশ সুন্দর ছিলো
এখন এইগুলো দেখতে পেলে বেশ হতো

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২২৪৮৩৬(২৩)    
লেখকের মন্তব্য

জলাপা, এইডসের গানটা সহ আরো কিছু লিংক পোস্টে এ্যাড করে দিলাম।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৭৭১০(২৪)    

বিষন্নতা নিয়েও একটি সচেতনতা মুলক বিজ্ঞাপন দেখাতো মনে আছে?
বিষন্নতা একটি রোগ?

আচ্ছা শিমুল ভাই, এইটার কোন ভিড্যু পাওয়া যায় নাই? কোনভাবে পাওয়া যাবে কী?

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৮১৫০(২৫)    
লেখকের মন্তব্য

নয়ন ভাই রিপ্লাই দিতে দেরি হলো। আমি খোঁজার অনেক চেষ্টা করেও আপাতত পাই নি। এগুলো পাওয়া গেলে তৎক্ষণাৎ যোগ করবো। আর আমার বন্ধু মেহরাব এগুলো রিপ্রডিউসিং এর উদ্যোগ নিয়েছে। সো অন্তত ঐ গুলো খুব সহজ ভাবে ই এইখান েদএয়া যাবে বলে আশা করি।
ভালো থাকবেন।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৮১৭৩(২৬)    

ওকে। অপেক্ষায় থাকবো।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৬৯৩৭(২৭)    

শিমুল ভাই অসাধারণ প্রকাশ।
মজুরি বিষয়ক আরেকটি শিক্ষামূলক নাটিকা ছিলো। মেয়েদের কম মজুরি দেয়া নিয়ে। কাঙালিনী সুফিয়ার গান ইউস হইছিলো। গান "পরানের বান্ধব রে, বুড়ি হইলাম তোর কারণে/ কত কষ্ট কইরা আমি , কামাই রোজগার করে আনি/ মাথার ঘাম পায়ে ফেলি/তবু দুঃখ গেলো না রে/বুড়ি হইলাম তোর কারণে।/ কোদালে কাটিয়া মাটি/ হাতুর দিয়া পাথর ভাঙি/মাথার ঘাম পায়ে ফেলি/ তবু তোর মন পাইলাম নারে / বুড়ি হইলাম তোর কারণে।"/i>

একদম নস্টালজিক হয়ে গেলাম।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৭১৫৩(২৮)    
লেখকের মন্তব্য

পড়বার জন্য অনেক ধন্যবাদ করিম।
শুভকামনা।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৬৯৯১(২৯)    

অসাধারণ পোষ্ট। গবেষনা বলা যেতে পারে। হা, সব কিছুই আমার কাছে কমন। আপনি আর আমি মনে হয় বয়সে কাছাকাছি হব। তবে আজকাল আর আমরা বিটিভি দেখি না! কি যা দেখায় এখন! চ্যানেল ঘুরিয়ে বিটিভি এসে গেলে আমি এখনো থামি, দেখি - কি দেখাচ্ছে? এখন সারাদিনে শুধু গো আজমকে নিয়ে একটা গান দেখায়! এতে গোকে আরো বেশী পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে! কি বুদ্দিরবাহার!
ধারাবাধা কিছু লোক বলেই যাচ্ছে! বুঝতে পারছে না যে, তাদের কথা কেহ শুনছে না! ইডিয়েট বাক্স!

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৭১৬১(৩০)    
লেখকের মন্তব্য

আপনি আর আমি মনে হয় বয়সে কাছাকাছি হব।

এইটা পড়ে অনেকক্ষণ হাসলাম। আমি বয়সে আপনার চেয়ে অনেক অনেক ছোট হবো। পোস্টে একটু খেয়াল করলেই তা বুঝতে পারবেন।

তবে নব্বই দশকের সব বিটিভি দর্শকদেরই কমন পরবে প্রায় পুরো। আসলে আরো অনেকই ছিলো। আমি সবগুলো বাদ দিয়ে যেগুলো সবাই চিনতে পারে এমন গুলোর উল্লেখ করেছি। আসলে আমার এই কাজ আমার বন্ধু মেহরাবের বিজ্ঞাপন বিষয়ক পোস্টের একসটেনশন হিসাবে দেখতে পারেন । ঐ পোস্ট টা না পড়ে থাকলে পড়ে দেখেন। আসলে আমরা নব্বই দশেকর বিভিন্ন এ্যাড এবং নাটিকাগুলো রিপ্রডিউস করবার জন্য মোটামুটি লিখিত স্ক্রিপ্টের বিকল্প হিসাবে ব্লগগুলোকে ব্যবহার করবার চেষ্টা করছি।

এখন মনে হয় বিটিভি গুণে মানে খুবই নেমে গেছে। আপনার কমেন্টে আরো ভালোভাবে বুঝতে পারলাম।

ভালো থাকবেন ভাইয়া।
ধন্যবাদ।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৬৯৯৮(৩১)    

আমিন শিমুল , আমি সাধারনত বড় লেখা পড়তে পারিনা না। ক্লান্তি লাগে। তাছাড়া ধৈর্যেরও খুব অভাব। কিন্তু আপনার এই লেখাটি আমার সকল মনোযোগ চুম্বকের মতো ধরে রাখলো। অসাধারন একটা পোস্ট দিলেন ভাই। পোস্ট টা আপনার না হলে 'বিটিভি বিষয় কোন সাধারন কচকচানি মূলক' পোস্ট ভেবে হয়তো এড়িয়ে যেতাম। কিন্তু পোস্টটি পড়ে এখন প্রচন্ড নস্টালজিক হয়ে পড়লাম। আপনি এতো বছর পরেও যে এসব জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞাপনের ভাষা হুবহু মনে রেখেছেন, সেজন্যে আপনার প্রখর স্মৃতিশক্তির প্রশংসা করছি। অনেক শুভ কামনা। :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৭১৬৬(৩২)    
লেখকের মন্তব্য

আমার প্রশংসা করবার জন্য ধন্যবাদ। যেহেতু এই পোস্ট আপনার ভালো লেগেছে সংকলিত পাতায় মেহরাব শাহরিয়ারের বিটিভির বিজ্ঞাপন নিয়ে পোস্ট টি পড়ে দেখবার আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখছি। ঐটা পড়লে আরো নস্টলজিক হয়ে যাবার কথা।
আমার নাম দেখে আলাদাভাবে গুরুত্ব দিলেন এতে সম্মানিত বোধ করলাম। তবে সাথে দায়িত্ব বোধও বেড়ে গেল নিজের কাছেই।
ভালো থাকবেন।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৭০১১(৩৩)    

আপনার বর্ণনার ঢঙ্গে সব ছবি চোখের সামনে যেন পুরোপুরি ভেসে উঠল। কিভাবে সব মনে রাখলেন ভেবে বিস্ময় জাগে!

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৭১৬৮(৩৪)    
লেখকের মন্তব্য

পড়বার জন্য ধন্যবাদ জানবেন। মনে রাখার মূলে আসলে রয়েছে আমার বন্ধুদের অবদান। ভার্সিটির পরথমভাগে কোন এক আড্ডায় আমি এই জাতীয় কিছু একটা অভিনয় করে দেখাই। তারপরে কালে ভদ্রে সময়ে অসময়ে বিভিন্ন অলস আড্ডায় এই বিষয়গুলো নিয়ে নাড়াচাড়া করতে করতেই হয়তো ডায়লগগুলো মাথায় গেঁথে গেছে।

ভালো থাকবেন।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৭০২১(৩৫)    

অবাক হয়ে গেলাম। সবকিছু আপনি ঠিকঠাকমতো রিকল করতে পেরেছেন।
দারুণ একটা স্মৃতি-ভ্রমণ হয়ে গেল।
ধন্যবাদ।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৭১৬৯(৩৬)    
লেখকের মন্তব্য

পড়বার জন্য অনেক ধন্যবাদ জানবেন প্রতীপ।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৭০৮৭(৩৭)    

ভিডিওগ্রাফিক মেমোরি! ভালো লাগছে / পুরাই একমত / জটিল

শোনো মানুষ- এ কালো বিড়াল দেখাত, প্রতীকী ব্যাপারটা বুঝতে না পেরে বিশেষত গ্রাম-মফস্বলে অনেকের ধারণা হয়েছিল কালো বিড়াল এই রোগের জীবাণু বহন করে...

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৭২৮২(৩৮)    
লেখকের মন্তব্য

কালো বেড়ালের ব্যাপারটা প্রতীকী ছিলো আর সেই সময়ে আমার পোষা একটা কালো বিড়াল ছিলো। আমি মাঝে মাঝে ওটাকে দেখে নিজের অজান্তেই ভয় পেয়ে যেতাম। বেড়ালকে এইডসের জীবানুবাহক মনে হয় অনেকেই ভাবতো।

নুশেরাপু আপনার কমেন্টে সম্মানিত বোধ করছি।
প্রসঙ্গ ক্রমে বলে রাখি এই লিখার ব্যাপারে আমার উৎসাহের কারণ মেহরাবের পোস্টে আপনার রোবোট ভাই জলাপাদের অংশ গ্রহণ। সেইখানে কমেন্টের সূত্র ধরে জলাপার সাথে বাকচিত, আর তারপরে মেহরাবের সাথে চ্যাটে কথা বলার সময় মাথায় বয়ে বেড়ানো এই জঞ্জাল আপাতত ব্লগে তোলা রাখলে লাভ ক্ষতি না হোক জিনিসগুলো থাকবে। আর এই এ্যাড আর সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান রিপ্রডিউসের উদ্যোগের সাথে মেহরাব জড়িত আছে। তাই ভাবলাম সেই কাজের স্ক্রিপ্ট হিসাবেও কাজ করবে এই ব্লগ। আমার জানা অনেক গুলো সংক্ষেপিত এবং উপেক্ষিত করে মন্তব্যের ঘরের জন্য তুলে রেখেছি।

ভালো থাকবেন । ধন্যবাদ।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৭১৯০(৩৯)    

সেই পিচ্চিকালের অনেক কিছু মনে পরে গেলো।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৭২৭৯(৪০)    
লেখকের মন্তব্য

পড়বার জন্য ধন্যবাদ জানবেন একুয়া।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৭২৮৮(৪১)    

ভাইরে আপনার স্মৃতিশক্তি দেখি পুরাই অন্যলেভেলের।এতোকিছু মনে রাখছেন কেমন?
পোস্টটা পড়ে ভালো লাগলো।নস্টালজিক হলাম।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৭৩২০(৪২)    
লেখকের মন্তব্য

পড়বার জন্য ধন্যবাদ।
নস্টালজিক করে দিতে পেরে বেশ ভালো লাগছে।
ধন্যবাদ।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৭৩১৫(৪৩)    

ভাই এই সব পোস্ট দেখে আসলেই টাশকি খেয়ে থাকি - জ ড্রপ যাকে বলে |
মানুষ কিভাবে এইসব মনে রাখে ?
==
অবশ্য মায়াও লাগে - যাদের স্মরণশক্তি বেশী দুঃখ ভোলার ক্ষমতাও কম ! উদাস উদাস

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৭৩১৯(৪৪)    
লেখকের মন্তব্য

সিরিয়াসলি কইতাসি, এই পোস্ট লেখার সময় আমার দুইবার চিন্তা করন লাগে নাই, কিন্তু ফেবুতে আপনের সাথে কথা কওয়ার সময় ভারতের বোলারগো লিস্ট করতে অনেকবার স্মৃতি ঘাটাইতে হইছে। তাইলে বুঝেন ভারত কী রকম মাছের মত কইরা বোলার পয়দা করে (মাছের ডিমের মতো লট আর কি)।
= =
মায়া লাইগা লাভ নাই। স্মরণ শক্তি ভালো মানে এই না দুঃখ ভুলতে টাইম লাগে। আসলে আমার কিন্তু কাজের জিনিস কিছুই মনে থাকে না। আজাইরা জিনিসপত্র বেশ মনে থাকে । :) :) :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৭৩৭৯(৪৫)    

কাল পোষ্টটা পড়ে গেছি। খুব ভালো হয়েছে, শিমুল। আর তোমার মেমোরীর কথা তো বলেই দিয়েছে।
তোমার মেমোরীর প্রশংসা সবাই করেছে। এবার আমি একটু দূর্নাম করি (একটু এক্সেপশনাল কমেন্টের লোভে :প :p :প :p :প :p :প :p ) ভুলে যেতে শেখ শিমুল, অনেক কিছু ভুলে যেতে শেখ। আখেরে কাজে দেবে।।।।। ;) ;) ;) ;) ;) ;) ;)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৭৬২২(৪৬)    
লেখকের মন্তব্য

ভুলে যেতে শেখ শিমুল, অনেক কিছু ভুলে যেতে শেখ। আখেরে কাজে দেবে।

কথা সইত্য। তবে যেগুলো ভুলে যাওয়ার সেগুলো ভুলে থাকারই চেষ্টা করি। D

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৭৪৩২(৪৭)    

আমি বাবা মায়ের শত আদরের মেয়ে
আমি বড় হই সকলের ভালবাসা নিয়ে
আমারও দু'চোখে অনেক স্বপ্ন থাকে
আমি পড়ালেখা শিখতে চাই

যদি চারদেয়ালের মাঝে কাটে সারাজীবন
তাহলে থাকবো শুধু বোঝা হয়ে
শিক্ষা আমাকে মুক্তি দেবে , মুক্তি দেবে

আমি তো কালকের খুশি আর আশা
আমারও তো স্বাধ আছে , আছে অভিলাষা

ভীষণ তন্ময় হয়ে শুনতাম , একই সাথে সদ্য মীনা দেখার ভাল লাগাটা থাকত , পরের পর্বের মীনা আবার কবে হবে সে কথা ভেবে অপ্রাপ্তির কষ্টও থাকত ।

কার্টুনটার বলতে গেলে টাইমটেবল ছিল না কখনোই , কখন যে হবে সেটা বুঝতে হত চারপাশে এই গানটির ভেসে আসা সুর শুনে।

৯৬ কি ৯৭ তে মীনা মোটামুটি সচেতনতা সৃষ্টিতে বিরাট ভূমিকা রেখেছিল । সচেতনতামূলক কার্টুনের ট্যাগ থেকে মুক্ত হয়ে মীনার আত্মপ্রকাশ মেইনস্ট্রিম ডাইমেনশন হিসেবে। সব বয়েসের মানুষ অপেক্ষা করত মীনা দেখার জন্য , নতুন পর্বগুলো বহু পরে পরে আসত বলে , নতুন পর্ব মিস হয়ে গেলে সে দুঃখ ভুলতে অনেকদিন লেগে যেত ।

আমার সবচেয়ে ভাল লাগত এই পর্বটা:

See video
 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৭৪৭০(৪৮)    

আমার এক বন্ধু আছে, সে ডিপার্টমেন্টে খেলাধুলায় ছিলো, আমাদের মত খারাপ ছেলেদের সাথে তাস ও খেলতো, যেইখানে শয়তানি আর ঘুরাঘুরি কোনোটা মিস কর্তো না, কোনো প্রোগ্রাম বা পিকনিক হৈলে আয়োজক তারেই হৈতে হৈতো, আর পড়ালেখায় ভালো হবার সাপেক্ষে শেষ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হবার মত রেজাল্ট করে শিক্ষক হৈলো। আমি তারে কৈতাম অমানুষ। মানুষের পক্ষে তো আর এমন হওয়া সম্ভব না।
==========
পুরা লেখা পড়তে পড়তে আমি নিজে নিজে খুঁজতে ছিলাম এই সচেতনাতামূলক যত কিছু মনে পড়ে, সবগুলাই পাইলাম, একটাও মিস্নাই (অন্তত আমি যতটুকু মনে কর্তে পারি)। এরপরে আবারো কৈলাম, মানুষের মাঝেই কিছু অমানুষ আছে, তারা এমন কিছু পারে।
==========
আমারে চেনা যায়? আমি করিমন ------ এইরকম ডোমেস্টিক এ্যবিউস, নারী নির্যাতন নিয়া একই সময়ে ৩ টা এ্যড ছিলো, সেইগুলা হঠাৎ হালকা কৈরা মাথায় আসতাছে।
==========
আপনের অসুখটার নাম : Hyperthymestic Syndrome D

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৭৬২১(৪৯)    
লেখকের মন্তব্য

বিলাইদা আপনের কমেন্ট টা পড়ে মজা পেলাম বেশ। প্রথম যে কাজটা করেছি সেটা হলো Hyperthymestic Syndrome লিখে গুগল করা। সেখানে কিছু চমকপ্রদ কাহিনী পেলাম। নাহ আমাকে ঠিক তাদের দলে ফেলা যায় না মনে হয়। তবে আমার পরিচিত এক ভাই আছেন , উনি মোটামুটি ৩০/৩৫ বছর আগের ঘটনা এমনভাবে বলে যান যেন তিনি দেখতে পাচ্ছেন।

সচেতনতা মূলক অনেক নাটিকাই মনে এসেছে। যেগুলো পরিচিত সেগুলোকে লেখআর চেষ্টা করেছি। কিছু জায়গায় সংক্সেপিত করেছি পাঠকের ধৈর্যচ্যুতির ভয়ে। আপনি যেটার কথা বলেছেন সেটা হালকা পাতলা মনে আছে কিন্তু থিমটা এসিড সন্ত্রাস নাকি ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স মনে করতে পারছিলাম না।

উপরে অনেকগুলোর মন্তব্যের জবাবে যা বলেছি সেটাই আবার বলবো। আমার এই ব্লগ মূলত মেহরাবের আরেকটা উদ্যোগকে সহায়তা করবার জন্য।

ভালো থাকবেন।
ধন্যবাদ।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৭৬৮০(৫০)    

প্রিয় বিষয়গুলো একদম চোখের সামনে নিয়ে এলে শিমুল। আর এত্ত মনে আছে কেমন করে!!!
খুব ভালোলাগল।
বর্তমানে গ্রামীণ ফোনের কয়েকটা বিজ্ঞাপন চোখে পানি আনার মতন, সচেতনতা মুলক তো বটেই। খুব সুন্দর তার মধ্যে বাচ্চাদের শহিদ মিনারে ফুল দেয়ার বিজ্ঞাপনটা।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৭৭০৬(৫১)    
লেখকের মন্তব্য

পোস্ট ভালো লেগেছে জেনে ভালো লাগলো।
অনেক দিন টেলিভিশন দেখা হয় না। প্রায় দশ বছর তো হবেই।

ভালো থাকবেন।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৮৭৮৭(৫২)    

আমারও দেখা হয়না তবে মাঝে মধ্যে অন্তুজালে দেখি
http://www.youtube.com/watch?feature=endscreen&NR=1&v=pAPXBwhqxYk

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৭৭১৫(৫৩)    

পুরাই নষ্টালজিক পোষ্ট :)

(সাতে সাত)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৭৮২৬(৫৪)    
লেখকের মন্তব্য

পড়বার জন্য ধন্যবাদ জানবেন মাসুম ভাই।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৮৭৩৭(৫৫)    

আবুল খায়ের অভিনীত গাছ বিষয়ক বিজ্ঞাপনটি সত্যিই অসাধারণ ছিল । পোস্টেও সেটার কথা এসেছে । আমি আরেকটু বিস্তারিত করার চেষ্টা করি।

একটা রিক্সা-ভ্যানের সামনে দাঁড়িয়ে আবুল খায়ের ,সাথে ছোট একটি ছেলে । ভ্যানের উপর সাজানো সারি সারি গাছের চারা, চারপাশে গোল হয়ে লোকজন দাঁড়িয়ে আছে । এরপর কথা বার্তায় বুঝা যায় , আবুল খায়ের গাছ থেকে ওষুধ বানিয়ে বিক্রি করেন । আবুল খায়ের বলতে শুরু করেন :

- এইখানে ছিল একটা অর্জুন গাছ , আর এইখানে ছিল শিশু গাছ

-- আমার বাপে লাগাইসিল
- আর আপনি কি লাগাইছেন ?
-- আমি কি লাগাইসি ?
- হ , ভবিষ্যতে আপনার পোলার দরকার হতে পারে

- আজ আমি আপনাদের একটা প্রশ্ন করি , জওয়াব দেন
- গাছ আমাদের কি দেয় ?
-- গাছ আমাদের ফুল দেয় , ফল দেয়
--- গাছ আমাদের ছায়া দেয়
---- লাকড়ি দেয় , চুলা জ্বালাই
----- কাঠ দেয় , ঘরবাড়ি বানাই.

- আসল কথাটা কেউ কইল না
- দমের কথা
- গাছ আমাদের অক্সিজেন দেয়

আজ থেকে আমি আপনাদের কাছে ওষুধ বিক্রি করুমনা।কবিরাজি বন্ধ। প্রশ্ন করতে পারেন, ক্যান? উত্তর হইল, গাছ শ্যাষ। লাকড়ি বানাইয়া চূলায় দিছেন, খাট-পালং বানাইয়া শুইয়া রইছেন। ট্যাকার দরকার পড়ছে কাইটা ফালাইছেন , যে পরিমান গাছ কাটছি তার এক ভাগও কি লাগাইছি? বাপ দাদার লাগানো গাছ কাটছি। নিজেদের সন্তানদের জন্য কী রাখছি। অক্সিজেন ফ্যাক্টরী ধীরে ধীরে শেষ হয়ে আসতেসে।

সব গাছ কাইটা ফালাইতাছে। আমি ওষুধ বানাব কী দিয়া?বুক ভইরা সবুজ দেখিনা। ভবিষ্যতে ক্যামনে দম লইবেন?'

(কিছুটা ভুল-ভ্রান্তি থাকতে পারে)

------------------------------------------------------------------

"কাটো-গাছ , খাও মাছ" -- এটাতেও আরেকটু যোগ করার চেষ্টা করি ।

বিয়ের গান বাজতে থাকে (?? হলুদ বাটো , মেন্দি বাটো ??)
চেয়ারে বসে সুজা খন্দকার মাছ ভাজা খাচ্ছে । তার বউ সম্ভবত একটু পর পর মাছ ভাজা নিয়ে আসে।

--আমার সুমির বিয়া, তিন হাজার লোক খাবে, চুলা জ্বলবে --- লাকড়ি? আছে?

কেউ একজন এসে জানায় -- "চেয়ারম্যান সাব, জয়নুদ্দিন মাষ্টার গাছ কাটতে বাধা দেয়"
---কীইঈই ............... গাছ কাটতে বাধা দেয়?

তারপর মাষ্টারকে (সম্ভবত জামালউদ্দিন আহমেদ) এগিয়ে আসতে দেখা যায়।

-তোমরা কি চাও?
---আমরা চাই, যদি একটা গাছ কাট, পাঁচটা গাছ লাগাবে!

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৮৭৯২(৫৬)    
লেখকের মন্তব্য

মেহরবা ধন্যবাদ কাটো গাছ খাও মাছ টা দেয়ার জন্য। আবুল খায়ের অভিনীত কবিরাজেরটা আগি বরং বলার চেষ্টা করি। ( আমার নিজের অনেকবার অভিনয় করা তো। সো পুরাটা দিয়ে দেয়া যাবে)

ভ্যানে গাছ সহ অনেক লোক দেখা যায়। তাদের মাঝে দাড়িয়ে আবুল খায়ের শুরু করেন
প্রকৃতির এই দান গাছ। যারা চিনতে পারে , তারা নিজেই নিজের চিকিৎসা করতে পারে। যারা চিনতে পারে না তাদের জন্য এই আমি। আমি কবিরাজ। গাছ দিয়া আমি অষুধ বানাই। এখন আমি প্রশ্ন করি আপনারা উত্তর দেন।
--গাছ আমাদের কি কামে লাগে?
-- গাছ আমাগো মেলা কামে লাগে (একজন বলে ভিড়ের মধ্য)
--যেমন?
--গাছ আমাদের নানারকম ফল দেয়।
-- আর ? (বেশ উচ্চস্বরে)
-- গাছ আমাদের ছায়া দেয় (আরেকজন বলে)
-- আর ?
-- গাছ থেকে আমরা লাকড়ী জবালাই।
--আর (বেশ হতাশ কণ্ঠে)
-- গাছের কাঠ থেক আমরা খাট পালং বানাই।
হেই লেইগা । গেই লেইগা আমরা বেবাক গাছ কাইটা ফালাইতাসি। (ভিড়ের মাঝে একজনের মুখে হাসি দেখা যায়)।
আসল কথাটা কেউ বললেন না। আসল কথাটা কেউ বললেন না। (বেশ জোর দিয়ে)। প্রতি মুহূর্তে ামরা দমের সাথে অক্সিজেন নেই। সেটা কে দেয়? (সবাই চুপ) । দেয় গাছ । একেকটা গাছ একেকটা অক্সিজেনের ফ্যাক্টরী। আর তার থেকে কবিরাজি ঔষধ আমি আপনাগো পৌছাইয়া দেই।

পরের দৃশ্য

(কবিরাজ ঘুরে বেড়াচ্ছেন জংলায়)
সব গাছ কাইটা ফালাইতাসে। আমি ঔষধ বানামু কি দিয়ে। ( একজন লোক তার বাচ্চাকে নিয়ে াসে)
-- কি গো খোঁজেন কবিরাজ?
-- এইখানে একটা অর্জুন গাছ আছিলো না?
-- আছিলো কাইটা ফালাইছে (বাচ্চাটা কয়)
-- এইখানে একটা শিশু গাছ আর ঐ মাথায় একটা হরতকী গাছ।
-- আছিলো , কাইটা ফালাইছি।
-- আপনের গাছ??
-- হ আমার গাছ। টাকার দরকার পড়ছে কাইটা ফালাইছি।
-- গাছটা লাগাইছিলো কে?
-- আমার বাবা।
-- আপনে কি লাগাইছেন??
-- আমি কী লাগাইছি?
-- হ ভবিষ্যতে আপনার পোলারও টাকার দরকার হইতে পারে।

তৃতীয় দৃশ্য
(বাজারে আবার সেই ভ্যান। তবে ভ্যান ভর্তি ঐষধের জায়গায় চারাগাছ।)
আমি আর আপনাগো কবিরাজ নাই। আপনারা চাইলেও আমি আর ঔষধ দিতে পারুম না। প্রশ্ন করতে পারেন কেন? উত্তর একটাই । সাপ্লাই শেষ। গাছ নাই তো আমার ঔষধও নাই। লাকড়ী বানায়া চুলায় দিছি,খাট পালং বানায়া শুয়া রইছি, টাকার দরকার পড়ছে গাছ কাটছি। যা কাটছি তা কি পূরণ করছি। বাপ দাদার লাগনো গাছ কাটছি। নিজেগো সন্তানের লাইগা কী রাখছি। অক্সিজেনের ফ্যাক্টরী ধীরে ধীরে শেষ হওয়া আসতেসে। চোখ ভইরা সবুজ দেখি না।
(পাশ থেকে একটা ছেলেকে টেনে নেন নিজের দিকে।)
আহ। আমরা একটা গাছ লাগাই আর মনে মনে কই সবুজ দুনিয়া দেখতে চাই!!! সবুজ দুনিয়া দেখতে চাই ।।

গাছ লাগানো হতে থাকে। পিছনে আবছা ভাবে আবুল খায়েরকে দেখানো হয়। আর তিনি বলেন

হে আমাদের সন্তানেরা আজকা তোমাদের জন্য একটা গাছ লাগায়া গেলাম, অক্সিজেনের ফ্যাক্টরী বানায়া গেলাম !!!!!!!

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৯২৫৯(৫৭)    

মারহাবা। মারহাবা। D

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৮৮০৩(৫৮)    

আমিন শিমুল ভাই, চালিয়ে যান ! অসাধারণ!!!!!

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৯৭৫৩(৫৯)    
লেখকের মন্তব্য

থ্যাংকস !!!

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৮৮০৪(৬০)    

আপনার লেখা পড়ে মনে হল সবগুলি জীবন্ত হয়ে চোখের সামনে ভাসছে।ইউনি লাইফে খুব কােছর কয়েকজন কে নিয়ে এই জিনিসগুলি মাঝে মাঝেই বলা হৈত আড্ডাতে। ধন্যবাদ ।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৯৭৫৪(৬১)    
লেখকের মন্তব্য

ধন্যবাদ।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২২৪০৬৫(৬২)    

অনেক ভুলে যাওয়া জিনিস মনে পড়ল। একটা ডায়লগ এখনও ব্যাপক ইউজ করি নিজেদের মাঝে। "এইডা আবার কুন বিচার!" আপনার স্মৃতিশক্তি দেখে টাশ্কিত। সপ্ততারকা সহ প্রিয়তে।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২২৪৮৩৪(৬৩)    
লেখকের মন্তব্য

আপনার মন্তব্যে অনেক সম্মানিত বোধ করলাম হামা ভাই।
আরো কিছু লিংক এ্যাড করা হলো পোস্টে।
ভালো থাকবেন।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২২৫১২৫(৬৪)    

মন্তব্যেও দেখছি নতুন স্ক্রিপ্ট যোগ হয়েছে ভালো লাগছে / পুরাই একমত / জটিল

সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান রিপ্রডিউসের উদ্যোগের সাথে মেহরাব জড়িত আছে।

এই তথ্যটা জানা ছিল না, দারুণ ভাল লাগল! মেহরাবকে তো বটেই, তার আগে শিমুলের স্মরণশক্তি আর আর স্ক্রিপ্টগুলো সংরক্ষণে তার ভূমিকাকে স্যালুট!

আজকাল টিভিতে কোন বিজ্ঞাপনে স্মৃতিকাতরতা অথবা দেশাত্মবোধে আপ্লুত হতে গিয়েও শেষমেষ ভেতরটা একটু তেতো হয়ে যায়... ওই স্ক্রিপ্ট বা গানের উদ্দেশ্য আলটিমেটলি কোন কর্পোরেট হাউজের প্রোমোশন। অথচ একসময় কী নির্ভেজাল বিনোদন+সচেতনতা বিতরণ করত পোস্টের এই অনুষ্ঠানগুলো!

ছয়টি মারাত্মক রোগের টিকা নিয়ে যে পাপেটশো দেখাত, তার একটা শিশুমাতা চরিত্রের সংলাপ মনে পড়ছে-- "আমি আমার বাচ্চারে টিকাকেন্দ্রে নিয়া যামু না। টিকা দিলেই অর জ্বর ওডে, তার উপর পত্থম টিকার জায়গাডা আবার পাকছে...!" অপধারণা দূর করার কী দারুণ উপায়!
কিছুদিন আগে একটা ওয়ার্কশপে গিয়েছিলাম (দেশের বাইরে), কেমন করে বাচ্চাদেরকে সেক্সুয়াল অ্যাবিউজ আর হ্যারাসমেন্টের ব্যাপারটা বোঝাতে হবে, তার উপর পাপেট শো দেখাল। সময়ের দাবি যেরকম, বাংলাদেশে এধরণের কিছু তৈরি করে টিভির মতো মিডিয়ায় দেখাতেই হবে। বিটিভির দর্শক কমে গেছে, বেসরকারি চ্যানেলের উপর আটটার সংবাদ ঠাট্টার সংবাদ এসব না চাপিয়ে এরকম সচেতনামূলক অনুষ্ঠানগুলোই দেখানো দরকার। ক্যাবল অপারেটরদের নিয়ন্ত্রণে এনে কার্টুন আর সিরিয়ালমার্কা চ্যানেলে এগুলোর নিয়মিত প্রচার বাধ্যতামূলক করা উচিত।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২২৫১৪০(৬৫)    
লেখকের মন্তব্য

আপনার মন্তব্যে বেশ অনুপ্রাণিত হলাম। ব্যাক্তগত জীবনে ব্যাপক অলস বলেই আসলে এইসব অনেক জিনিস মাথায় আসলেও লেখা হয় না কখনোই। মেহরাব তাগিদ না দিলে হয়তো লেখাই হতো না কোনদিন। তবে মেহরাবের মতো উইটি ওয়েতে রিপ্রেজেন্ট করতে পারি না বলেই হয়তো একধরণের জড়তা কাজ করে। তবে মেহরাবের আগের পোস্ট আর আমার এই পোস্টের উদ্দেশ্য যতটা না পাঠকের জন্য তার চেয়ে অনেক বেশি নিজেদের জন্য। হারিয়ে যাওয়া সময়কে মাথা থেকে ব্লগের পাতায় রাখা সংরক্ষণের জন্য। সেইজন্য যখন যা মনে আসে সেগুলোকে পোস্টে না হলেও মন্তব্যের ঘরে জায়গা দেবার চেষ্টা করেছি।

বর্তমানে কর্পোরেটিকরণ এতো মাত্রায় বিরক্ত বোধ হয় অনেক আবেগ ঢরা জিনিসের শেষেও কেন জানি ঘৃণার বক্রোক্তিই চলে আসে। অথচ এই শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান গুলোর মোটিভেশন ছিলো শুধুই জনসচেতনতা। মানে টিভিতে বুদ হয়ে থাকা মানুষগুলোর মাঝে চট করে ভালো কিছুর ইনপুট দেয়া।

লেজুড় বৃত্তির রাজনীতি আকাশ সংস্কৃতির প্রভাবে মানুষের বিটিভি বিমুখীতা আসলে এই জিনিসগুলোর মাস আপীল কমিয়ে দিচ্ছে। তারপরেও আপনার শেষ কথার সাথে একমত জানিয়ে গেলাম।

তবে পুঁজিবাদের নষ্টামির যুগে পিউর ওয়েলফেয়ার ভাবনা মনে মারা যাবে অচিরেই।

ধন্যবাদ আপনার কমেন্টের জন্য।

 

মন্তব্য করুন

এই তথ্যটি সর্বদাই গোপন রাখা হবে এবং কোন অবস্থাতেই তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
ছবি যাচাই
আপাতত: শুধু মানুষদের জন্যই আমাদের দুয়ার খোলা। পরে নাহয় রবোট, বায়োবট বা এন্ড্রয়েডদের কথা বিবেচনা করা যাবে।
7 + 1 =
এই গাণিতিক সমস্যাটি সমাধান করুন এবং সঠিক উত্তরটি উপরের ঘরে লিখুন। যেমনঃ ১+৩ এর জন্য লিখুন ৪।