শূন্য আরণ্যক-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

এই পোস্ট ক্রীতদাসদের মালিকদের তৈরী মাফিয়া রাষ্ট্র, একজন "ভালো" গডফাদার , আর উইকিলিক্স - ১ শিরোনামে লেখা হয়েছিলো। মূলত এই শিরোনামে লিখতে গিয়ে ওবামার জীবনিতে চলে যাওয়ার কারণে পোষ্টের শিরোনাম পরিবর্তন করে দিলাম
ওবামা:
গত কয়েকদিন যাবত ওবামার "ড্রিমস ফ্রম মাই ফাদার" পড়ছি। বই এর প্রথমটা দূর্দান্ত ছিলো - যেখানে সে বলছে কিভাবে তারা নানা-নানী হাওয়াই গিয়েছিলো - তার বাবার সাথে মার পরিচয়, সৎ বাবার সাথে ইন্দোনিশিয়াতে বক্সিং খেলা।
প্রথম পর্বে পুরোটাই আত্মপরিচয় অনুসন্ধান।
শিকাগো চ্যাপ্টারে গিয়েই ঝুলে গেলো বই -- আর সামনে এগুতে পারছি না।
যা হোক প্রথমটাতে আমার জন্য চিন্তা-ভাবনার প্রচুর খোরাক রেখে গেছে। বিশেষ রেসিয়াল কনফ্লিক্ট গুলো। এটা যদিও ২০১০ সাল - ওবামা আমেরিকার প্রেসিডেন্ট তারপরও রেসিজম ভালো ভাবে আছে - আন্ডার কারেন্ট হিসাবে - রেসিজমের পরবর্তী রুপ হবে
শিক্ষিত মানুষের নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করার রেসিজম - আমি তোমার চে বেশী বুদ্ধিধারী সুতরাং আমি আলাদা। এবার আমি তোমাদের হত্যা করবো।
যাক ওবামাকে নিয়ে আলাদা একটা পোস্ট দেয়া উচিত - সেটাই মনে হচ্ছে দিতে হচ্ছে।
হুমম কোথা থেকে শুরু করি -- ওবামার নাম শুনিনি জীবনে -- বুশকে স্টুপিড শুয়োরের মতো ঘৃণা করতাম। ২০০৮ সাল । আমেরিকাতে নির্বাচনের রমরমা। মনে মনে চাইছিলাম - হিলারী ক্লিনটন আসুক -- কারণটা কিছুটা পার্সোনাল ইন্টারেষ্টে।
ক্লিনটনের আমলে ইকনমির অবস্থা ভালো ছিলো। তার বউ ও তো ক্লিনটনের বুদ্ধি নিয়ে চলবে হয়তো।
তাহলে আমারিকাতে হেলথ কেয়ার পাশ হয়ে -- ইত্যাদি ইত্যাদি -- ওবামার নাম পেপারে দেখলাম -- নমিনেশনের রেসে নেমেছে।
ভাবলাম ইটা আবার ক্যাঠা! ?
একদিন কি একটা ঘাটতে ঘাটতে - ওবামার বক্তৃতা দেখলাম ইউটুবে। মুগ্ধ হয়ে গেলাম বলা যায় -- কিসের ক্লিনটন কিসের কি!
ওবামাকে সাপোর্ট করা শুরু করলাম জোরেশোরে। পারলে তার ক্যাম্পেইনে ডোনেশন দেই আর কি ।
লোকটার সব কিছুই ভালো লাগছে -- আইস কোল্ড টেম্পারমেন্ট, কমন সেন্স - কোন কিছু বলার ভঙি । ট্রাডিশনাল তর্জনী নাড়তে থাকা ষাড়ের মতো চেচানো নেতা না। বুদ্ধিমান লোক । সর্বোপরি কথা বার্তায় মনে হচ্ছিলো ভালো লোক -- যেটা খুব রেয়ার ব্যাপার। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট আবার ভালো মানুষ হয় ক্যামনে ??
ভাবলাম - এতো জীবনে জিততে পারবে না -- এতো ভালোমানুষী নিয়ে যাই হোক পৃথিবীর সবচে খচ্চর রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়া যায় না।
ওবামা প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরও বিশ্বাস হচ্ছিলো না -- ভাবলাম আমেরিকাকে মানুষ যতো খারাপ বলে আসলে ততোটা খারাপ না আমেরিকা। আমেরিকার পক্ষেই সম্ভব একজন আধাকালোকে প্রেসিডেন্ট করা। বাকী দুনিয়ার সবচে প্রগতীশীল দেশটার কাছে যেটা অলীক কল্পনা।
এরপর আমেরিকার রাজনীতি ফলো করা মোটামুটি ছেড়ে দিয়েছিলাম - কারণ তাদের টিভি ভীষণ বোরিং এবং স্টুপিড!
ড্রিমস অড মাই ফাদারের পরে অন্য এক ওবামা নজরে পড়লো। ইনি একজন বই এর লেখক। তাও ১৯৯৩ সনে - যখন সে কখনো ভাবেনি প্রেসিডেন্ট হবে। তার বাবা-মার মিলনটা খুব অদ্ভুত । আরও অদ্ভুত তার নানা-নানীর পক্ষে একজন কালোর কাছে মেয়ে বিয়ে দেয়া। ওবামা নানা-নানী চারটা স্টেট ঘোরার পর হাওয়াইতে সেটল হন। ওবামার বাবার সাথে পরিচয় হাওয়াই ইউনিভারসিটিতে -
সে ছিলো কেনিয়া থেকে বের হওয়া দারুন ব্রিলিয়ান্ট একজন স্টুডেন্ট। ওবামার মায়ের কালোদের ভালোবাসার ক্ষমতাই তাদেরকে কাছাকাছি নিয়ে আসে যদিও ওবামার নানা-নানী কালোদের অধিকার সম্পর্কে সোচ্চার হলেও কোন সময় চিন্তা করেননি তাদের মেয়ে কোন কালোকে বিয়ে করবে।
বাবা সম্পর্কে ওবামা ভালো ভালো কথা শুনে আসছে ছোটবেলা থেকেই , তার একটা হলো একবার এক বারে কিসের উৎসব হয়েছে - ওবামার নানাও আছেন - কিন্তু একজন রেসিষ্ট বলে উঠলো বারে কোন কালো থাকলে সে কোন ড্রিংক করবে না । ওবামার বাবা উঠে দাড়ালো - সেই লোকটাকে বুঝাতে শুরু করলো কালোদের সংগ্রামের ইতিহাস - - এবং শেষ পর্যন্ত সেই লোককে এতোই কনভিন্স করে ফেল্লো সেই লোক তার ব্যবহারের জন্য ক্ষমা চাইলো এবং তার সাথে ড্রিংক করে ধন্য হলো। ওবামা ভেবেছিলো এটা মনে তার নানা-নানীর বানানো কাহিনী -- কিন্তু পরে সে টের পেয়েছিলো সেটা আসলে বানানো ছিলো না!
তার বাবা খুব স্টাবর্ন ছিলো, গল্প শুনে ওবামা বাবাকে পছন্দই করতো -- ১০ বছর বয়সে তার বাবা যখন প্রথমবারের মতো তার সাথে দেখা করতে আসে তখন তার প্রতি কোন অনুভূতি ছিলো না। পরে ওবামার বাবা তার স্কুলে গিয়ে তার সহপাঠীদের সামনে একটা বক্তৃতা দেয় - সেখান থেকে সে সহপাঠীদের মাঝে হিট - আর ওবামার মনে জায়গা নিলো।
এর মাঝে তার মা দ্বিতীয় বিয়ে হয়েছে-- তারা নতুন বাবার সাথে ইন্দোনিশিয়ায় থাকতে গেলো। আমার মনে ছোট বেলায় তৃতীয় বিশ্বের একটা দেশে থাকার কারণে ওবামার পুরো দুনিয়া সম্পর্কে ভালো একটা ধারণা হয়েছে। তার সেই বাবা ফ্রাংক তাকে ঠিক আদর করতো না - তবে তাকে ছেলের মতো বিভিন্ন ব্যাপারে শিক্ষা দিতো - মানে সেখানে কোন আবেগ ছিলো - কিন্তু তাকে ঠিকই কিভাবে সারভাইভ করতে হবে সেই শিক্ষা দিতো।
ওবামার সৌভাগ্য সে ছোট বেলা থেকেই বেষ্ট এডুকেশন পেয়ে আসছে - ছোট বেলায় সেই প্রাইভেট স্কুলে যায় - যেটা হাওয়াই-এর বেষ্ট স্কুল ছিলো।
এরমধ্যের সময়টা বেশ গুরুত্বপূর্ন -- আমরা যারা টিন এজে পা দিতে যাই - কনফিউজড থাকি - নিজের সেক্সুয়ালিটি নিয়ে - ভিন্ন সেক্সের প্রতি আকর্ষন নিয়ে - ওবামার এসবের পাশাপাশি সে সাদা না কালো এই প্রশ্ন তার মন তোলপাড় করতো ।
এমনকি তার নানা-নানী যাদের সে জন্ম থেকে জানে - এবং তাকে সবকিছু দিয়ে ভালোবাসে - তারাও একটা বড় কালো মানুষ দেখলে ভয় পায় শুধু তাদের স্কিন কালারের জন্য।
ধীরে ধীরে তার ভিতরের চেতনা জাগে - সে আসলে কি -- সে একটা কালো ছেলে এটা বুঝতে ইয়ং এজের বিভ্রান্তির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে - মদ ছিলো -সাথে অন্য কোন নেশাও ছিলো সম্ভবত।
ওবামার চরিত্রের কিছু লেয়ার আছে - যেটা সে পাবলিক ফিগার হলেও কাউকে জানাতে চায় না - তার সেই বয়সে সেই বর্ণানা গুলো এভাবেই এড়িয়ে যেতে চায়।
এই সময়টা সে লস এন্জেলস থাকে - তারপর সে নিউ ইয়র্ক চলে আসে পড়াশোনার জন্য । চাকরীও করে একটা ভালো অফিসে।
কিন্তু চারিদিকে এতো সম্পদের নষ্টামী সে সহ্য করতে পারে না।
এই সময়টা সম্ভবত তার সোল সার্চিং এর সময়। তখনো তার বয়স মাত্র ২২। একজন প্রেসিডেন্ট কে রাতটা সিড়িঘরে বসে কাটাতে হয়েছে - এবং ভাড়া না পাওয়ার কারণে বন্ধু সস্তা এপার্টমেন্টে উঠতে হয়েছে - এসব শুনলে চমকই লাগে।
তার একজন পাকিস্থানী বন্ধু তাকে জায়গা দেয় - এই লোকটা একটা ইন্টারেষ্টিং কথা বলে -- যেমন নিউইর্য়কে হলো পা মাড়িয়ে এগিয়ে যাওয়ার যায়গা -- এখানে নাইস মানুষরা টিকতে পারবে না -- তবে ওবামার কিছু একটা করে দেখানো ব্যাপারটা সে মর্যাদা দেয় - এবং পর্যবেক্ষন করা শুরু করে - এই সিটি তাকেও ভ্রষ্ট করে ফেলতে পারে কিনা ।
ওবামার এই ব্যাপারটা খুব ভালো লাগে -- ডিসেন্সী মনে হয় তার মজ্জাগত -- তার বুড়ো মহিলার জন্য ছেড়ে দেয়া সিট যদি একজন তরুনও দখল করে তারপর সে তার আদর্শ থেকে সরে আসে না।
সে একটা কম্পানীতে রিসার্চ এসিটেন্ট হিসাবে কাজ করে - সেখানে তার এক ডোরম্যান তাকে বলে তার গলা এতো দারুন সে কেনো অর্গানাইজিং সময় নষ্ট করবে - তার সময় থাকতেই টিভি বা সেলস এ চলে যাওয়া উচিত ।
সে তখন ততো চিন্তা করেনি - কিন্তু তার বাবা-- তার ভাইবোনকে জানার জন্য তার মনে ভিতর আকুলতা তৈরী হয় যখন সে তার হাফ-সিষ্টার অওমার কথা শোনে । এরা জীবনে কোনদিন কাউকে দেখেনি কিন্তু তাদের মধ্যে একটা আত্মিক টান তৈরী হয়েছিলো।
অওমা তাকে তার বাবার কথা বলে -- তাদের সব ছিলো একটা উন্নয়নশীলদের দেশের প্রথম পিএইচডি করা লোকের যা যা থাকে সবই ছিলো। টাকাপয়সা -বাড়ী গাড়ী - ক্ষমতা। কেনিয়াতে সে বিয়ে করেছইলো একাধিক। তার বাবার বন্ধুরা ছিলো সব মন্ত্রী । পরে তার বাবা - ষ্টাবর্ন স্বভাবের কারণে সব নষ্ট হয়ে গেলে । সে মন্ত্রীদের বলতো - তোমাদের কাজ যদি আমারই করে দিতে হয় - তাহলে আমি কেন তোমাদের পদ পেতে পারি না।
এসব লোকদের যা পরিনতি হয় তাই হয়েছে - তাকে চাকরী ছাড়া করে দেয়া হলো -- পাসপোর্ট কেড়ে নেয়ে হলো যেনো দেশ ত্যাগ করতে না পারে। এই সময় তাদের বাড়ী ছাড়া হতে হয় -- তার বউ তাকে ছেড়ে চলে যায়। অওমা আর তার ভাই আত্মীয় বাড়ীতে বাড়ীতে আশ্রিতের মতো বড়ো হয়। মরার আগে অবশ্য তিনি ক্ষমতা প্রতিপত্তি সব ফিরে পেয়েছিলেন - কিন্তু ততো দিনে তার ফ্যামেলী তাকে ছেড়ে চলে গেছে।
ওবামার তার বাবার জন্য কাদে। বাবার স্বপ্ন তার চোখে ফুটে উঠে। কালোদের একসময় যতো অত্যাচার করা হয়েছে - সেগুলো কাটিয়ে তারাও মাথা তুলে দাড়াবে। এক ইরানিয়ানের সাথে তার একটা ইন্টারেষ্টিং বাক্যলাপ হয় -- যেখানে লোকটা প্রশ্ন করেছিলো - কেন কালোরা ফাইট ব্যাক করলো না - কেন এতো সহজে ক্রীতদাসত্ব মেনে নিলো। ওবামা বলেছিলো -- কেন শাহ এর মাস্তান বাহিনী যখন অপোনেন্টদের মেনে নিলো তখন কেন সব মানুষ প্রতিবাদ করেনি - তাছাড়া - যে পরিমাণ অত্যাচার জাহাজে করা হয়েছে - এরপর আর কোন দাসের পক্ষে দাড়াবার মনোবল থাকতো না। যদিও সে নিজেও কনভিন্সড না নিজের যুক্তিতে।
তার মার ব্যাপারে তার একটু ছোট স্মৃতি আছে --- একবার তার প্রিয় একটা মুভি দেখতে গিয়েছে - ব্লাক অর্ফিয়ুস -- ব্রাজিলের মুভি। অর্ধেক দেখার পরই ওবামার বোরিং লাগে - সে তার মায়ে চেহারায় দেখে শিশু মুগ্ধতা । এই মুগ্ধতা কারণে কালো মানুষরাছিলো - তার কাছে ছিল এক্সোটিক, সেনসু্য়াল , উষ্ণ আর আলাদা যেটা একটা মিডল ক্লাস ক্যানসাসের মেয়ে পক্ষে কল্পনা করাই নিষিদ্ধ ছিলো।
সে নিজেকে কালোদের এই বন্চনার প্রতি পূর্ন সচেতন - কারণ সারাজীবন কালো হিসাবে সে একজন আউটসাইডার হিসাবে থেকে এসেচে। তার আসেপাশের এ্যাংরি কালোরা বলতো - যেটা এখনো অনেকাংশে সত্য -
Until you want to actually start running things, and then they'll yank on your chain and let you know that you might be a well-trained well paid nigger , but you are just a nigger the same.
এই কথা কটিই এই বই এর সমুদ্র মন্হন করে পাওয়া আমার অমৃত । আমি এর আগে ভাবতাম (৩ বছর আগে) কানাডায় রেসিজম কম - মানুষ অনেক ফ্রেন্ডলী- ব্লা ব্লা ব্লা। এখন একটু ঘাড়ে ধাক্কা খেয়ে দেখতে শিখছে। যতো কিছুই করি না কেন -- আমরা আসলে আউটসাইডার -- আর দেশেও একি অবস্থা -উর্দিওলারা উর্দির- পয়সাওলারা পয়সার - ব্রেনওলারা ব্রেনের আর ক্ষমতাওলারা ক্ষমতার বড়াই করবেন -- আমি আর আপনি অলওয়েজ আউটসাইডার।
যাক একটা মিস্টি একটা ঘটনা দিয়ে শেষ করি -- ওবামা নিউইর্য়কে থাকার সময় সাদা একটা মেয়ের প্রেমে পড়েছিলো -- সে তাদের বাড়ীতে গিয়ে দেখে তাদের ৭ পুরুষের ইতিহাস - দেশের হর্তাকর্তাদের সাথে - সে নিজেকে আউটসাইডার ভাবে। চিন্তা করে দুই ভূবনের দুজন হলে তাকে শুধু মেয়েটার লাইফই লিড করে যেতে হবে মেয়েটার সাথে ঝগড়া করে -- কারণ মেয়েটা বলে কেন কালোরা সব সময় এ্যাংরি থাকে - ওবামা বলে এটা স্মৃতির ব্যাপার - কেন জিউ রা হলোকাষ্ট ভুলতে পারে না -- মেয়েটা বলে এটা ডিফারেন্ট - ওবামা বলে না --ঝগড়া লাগে আলাদা হয়ে যাবার জন্য -- মেয়েটা কাদতে কাদতে বলে তোমার জন্য যদি আমি যদি পারতাম তবে কালো হয়ে যেতাম - কিন্তু আমি শুধু আমিই থাকতে পারি।
------------------------------
আপাতত এটুকুই পড়েছি -- এরমধ্যে পুরোবইটাই পারলে তুলে দিতে ইচ্ছে করছে কারণ কিছু কিছু ব্যাপার আসলে ছোট পরিসরে বোঝানো যায় না -- আর ওবামার যে ডেপথ -- সেটা আমি পুরোপুরি ধারন করি না ।
যেমন ওবামার নিজেকে মায়ের দিকে পরিচয় দিতেই বেশী পছন্দ করতো - কিন্তু সাদা কালো দুই কমিউনিটিতেই তাকে সন্দেহের চোখে দেখা হতো।
মাল্টিরেসিয়ালরা নিজেদের কালো পরিচয়টা তুলতে চায় না সহজে - কার বাবা ইটালিয়ান ছিলো সেটাই গল্প করার বিষয়।
একটা কালো মেয়েকে দেখে সে ব্লু কনটাক্ট লেন্স - তার মনে প্রশ্ন উঠে কালোরা কি নিজেদের ঘৃণা করে?
অথবা সেই মেয়েটা ব্লু কন্টাক্ট লেন্সকে ঘৃণা না করে নিজেদের ভালোবাসতে পারবে?
অথবা লাইফ ম্যাগাজিনে কালো চামড়া সাদা করার যে ব্লিচিং ক্রিম এর বিজ্ঞাপনে কালো অসহায়ত্ব ফুটে উঠা।
ছোট বেলা থেকে তাকে ব্যারী বলেই ডাকা হতো -- মোটামুটি কলেজ পার হবার পর সে জোরপূর্বক বারাক নামে ফেরত গেছে।
এই প্রশ্ন গুলো ডিপ সোল সার্চিং এর ব্যাপার - বিশেষ ব্রিটিশ, পাকী , উর্দি আর পরিবারতন্ত্রের যুগ দেখার পরে।
আমার নিজেকে ব্রাউন থেকে ইদানিং কালো কালো লাগে !!
এবং ভাবছি নন-প্রাকটিসিং মুসলিম বলে যেই আড়ালটা নিতাম সেটা বদলে শুধু মুসলিমে চলে যাবো।
-----------------------------
http://www.time.com/time/photogallery/0,29307,1834628_1754174,00.html
Obama's distant cousin, Gabriel Duvall, was a member of the US House of Representatives, from the second district of Maryland. In 1811, he was appointed to the Supreme Court, where he sat until 1834. He was also a friend of Thomas Jefferson and the owner of 37 slaves.
হাসতেই আছি পড়ে
--
ওবামার ফ্যামেলি এ্যালবাম দেখেন - খুব ইন্টারেষ্টিং।
----------------------------

গত কয়েকমাস ধরে আবার ওবামার খবর নেয়া শুরু করছি। ধীরে ধীরে টের পাওয়া শুরু করেছি ভালো মানুষ হলেই ভালো প্রেসিডেন্ট হওয়া যায় না । বিশেষ করে নেতাদের প্রচুর মিথ্যা কথা বলতে হয়। ওবামা ব্যক্তিগত জীবনে একজন ভালো মানুষ, ভালো বক্তা - তবে ভালো নেতা হবার আলাদা কিছু কোয়ালিটি লাগে - যেমন সাহস করে কিছু ডিসিশন নেয়া। ওবামা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হলেও - পুরো মিলিটারী ফোর্স, ইন্টেলিজেন্স , ডিপ্লোমেট আর বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা সেই ইগোসেন্ট্রিক ম্যানিয়াকরাই রয়ে গেছে। আর একজন ভালোমানুষের পক্ষে হঠাৎ করে একটা মাফিয়া রাষ্ট্রের মুখ ঘুরিয়ে দেয়া সম্ভব না।
হয়তো আগামী পর্বে সমাপ্য।
মন্তব্য
লেখকের মন্তব্য
নাহ - লেখক হিসাবে সে হয়তো তেমন কিছুই না -- তার জীবনটা - তার দেখার ভংগি দিয়া পটাছিলো - কিন্তু প্রেসিডেন্ট হিসাবে তার কর্মকান্ড দেখে আমি হতাশ --
অবশ্য রাজনীতিবিদরা কথা দিয়ে কথা রাখবে না - এ আর নতুন কি ?
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ ।
শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ, আরণ্যক।
লেখকের মন্তব্য
আপনাকেও ধন্যবাদ ।
হুমম... জানলাম অনেক কিছু।
অওমা অংশটা পড়ে ঠিক বুঝলাম না জিরোদা। খুব তাড়াহুড়া করে লিখেছেন নাকি?
-------------------------------
ওবামা লোকটাকে আমার ভালো লাগে, তবে হাজার হলেও অ্যাট দি এন্ড অভ দ্য ডে, সে একজন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট কাজেই তাকে ভালো মনে করা মানে নিজেরই ঠকে যাওয়ার একটা পথ উন্মুক্ত করা--- এই কথা ভেবে তাকে আলাদা মনে করা বাদ দিয়েছি।
লেখকের মন্তব্য
হুমম লেখাটা ফরমায়েশী লেখার মতো হয়ে গেছে -- আসলে ঘটনা হলো বইটার টুকরো টুকরো অংশ তুলে ধরা দরকার ছিলো - এইযে ছোট ছোট ঘটনা লিখলাম তার একটার পুরো বর্ণনা লিখতে গেলে এমন দুটা পোস্ট একত্র করতে হবে ।
। আসলে থিমটা ভালো ছিলো -- ওবামার ওপেন গভর্মেন্ট -- এসান্জ আর উইকি লিক্সের উপর হামলা --
পুরো বইটা জোর করে বোতলে ভরা একটা চেষ্টার মতো হয়েছে এটা -- প্যাথেটিক
মাফিয়া রাষ্ট্র --- তবে লিখতে গিয়ে দেখলাম অনেক বড়ো পরিসরের লেখা দরকার -- সিরিজ করলাম - তাতেও কাজ হলো কিনা বোঝা যাবে পরের পর্বে।
----
অওমা ওবামার সৎ বোন (বাবার দিকের)। সে তার বাবার সাথে থেকেছিলো বেশীর ভাগ সময়টা -- কিভাবে ওবামার বাবার উথান পতন হলো সেটাই সে বর্ণনা করছে ওবামার কাছে।
২০০৮ সাল হলো এ্যামেরিকান প্রেসিডেন্ট হবার জন্য নিকৃষ্টতম সময়। আমি বিশ্বাস করি, ওবামার পদক্ষেপগুলো এ্যাট এ মিনিমাম মন্দের ভালো। ক্যাপিটালিজমের এটাই শেষ সুযোগ ক্যাপিটালিস্টদের হাত থেকে নিজেকে বাঁচানোর।
লেখকের মন্তব্য
এটা অবশ্য ঠিক কথা -- এই মাজাভাঙা ইকোনমি নিয়ে বেচারা আর কতদূর যেতে পারবে।
শেষ লাইনের সাথে সহমত -- পরের পর্বে এই নিয়ে কিছু লিখতে চেষ্টা করবো।
আমি আরো ভাবলাম উইকিলিকস নিয়ে আপনাকে ফলো করবো কি না, ভিতরে ঢুকে পুরাই হতাশ। কোথায় জুলিয়াস এসান্জ, কোথায় উইকিলিকস, আর কোথায় ওবামা। পাঠকদের কোন মানসিক প্রস্তুতি নিতে না দিয়েই আপনি ঢুকে গেলেন ওবামার জীবনে। পড়ার পর অতোটা হতাশ মনে হচ্ছে না অবশ্য। ওবামার বইটা পড়তে হবে মনে হচ্ছে। শিরোনামটা আগ্রহ তৈরি করার জন্য যথেষ্ট ছিলো। দেখা যাক সিরিজের বাকি অংশটা। আমরা কি আশাবাদী হতে পারি??
লেখকের মন্তব্য
মনে হয় না - সিরিজ লেখার সময়ই পাচ্ছি না -- শিরোনামটা বদলে দেয়া দরকার আসলে --
এটা ড্রিমস অফ মাই ফাদারের রিভিউ হয়েছে একপ্রকারে ।
শিরোনামের মেরিট নিয়ে পোস্ট লিখতে গিয়ে ওবামা এসে পড়লো -- দেখি কিছু দাড়া করাতে পারি কিনা।
হুমম.... ভালো লাগলো!
বাকিটুকুর আশায় থাকলাম। 
লেখকের মন্তব্য
ভালো না লাগলেও কিছু করার ছিলো না-- চিয়ার আপ করার জন্য ধইন্যা
আজকে তো এসাঞ্জকে গ্রেফতার করে নিয়ে গেলো!! হতবাক হইলাম। চামড়া সাদা হইলেও সেই মোড়লের কুৎসিত আচরণ ভালো হয় না!!
আর এতো আশাই বা করি ক্যামনে। যারা হেলিকপ্টারে বসে টুশ টুশ করে মানুষ মারে, তাদের কাছে ভব্যতা চাওয়ার চাইতে সুইসাইড খাওয়া সুবিধার কাজ!
লেখকের মন্তব্য
সবদেশে সবকালেই জোর যার মুল্লুক তার --
কালে কালে ক্যামোফ্লাজ দেয়ার জন্য নানান গালভরা শব্দ আমদানী করা হয় ---
ক্ষমতাধারীদের সাথে আঙুলবাজী করলে খবর আছে সবসময়ই ।
হুমম। আউটসাইডার। লেখা পড়ে ভালো লাগলো। ভালো থেকেন।
লেখকের মন্তব্য
হুমম । তুমিও ভালো থাকো ।
ওবামার সম্পর্কে তো অনেক কিছু জানলাম
পরের পর্বও পড়তে চাই।
লেখকের মন্তব্য
আপনার জন্য পোস্টটা স্বার্থক হয়েছে -- গুড গুড !
আমি আউটসাইডার হতে পারি, কিন্তু আমি শুধু আমিই থাকতে পারি।
লেখকের মন্তব্য
মুগ্ধতা নিয়ে রিভিউটি পড়লাম। অনেক ভালো লেগেছে। কৃতজ্ঞতা নেবেন। শুভ সকাল।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ শেখ আমিনুল ইসলাম । ভালো থাকুন ।
মন্তব্য করুন