লেখকের ক‌থা

সদর দরজা

অনুবাদ: লিওনার্ড ম্লোডিনো এবং স্টিফেন হকিঙের The Grand Design - ১

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
মূল বই: The Grand Design (মহিমান্বিত নকশা)
মূল লেখক: লিওনার্ড ম্লোডিনো এবং স্টিফেন হকিং
=============================

প্রথম অধ্যায়: অস্তিত্বরহস্য (The Mystery of Being)

================================

আমাদের প্রত্যেকেই খুব অল্প সময়ের জন্য বেঁচে থাকি, এবং এই স্বল্প সময়ের মাঝে এই সমগ্র মহাবিশ্বের অল্প অংশই আমাদের পক্ষে দেখা বা অনুসন্ধান করা সম্ভব হয়ে ওঠে। কিন্তু মানব প্রজাতি খুবই কৌতূহলী। আমরা বিস্মিত হই, আমরা উত্তর খুঁজি। এই কোমল-কঠোর পৃথিবীতে বেঁচে থেকে এবং উপরের সুবিশালতার দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে মানুষ বরাবরই নানা রকমের প্রশ্ন করে গেছে: আমরা যে পৃথিবীতে বেঁচে আছি সেটাকে কীভাবে বোঝা যাবে? এই মহাবিশ্বের মতিগতিই বা কেমন? বাস্তবতার প্রকৃতি কেমন? সবকিছু কোথায় থেকে এলো? মহাবিশ্ব সৃষ্টিতে কি কোনো সৃষ্টিকর্তার প্রয়োজন ছিলো? আমরা সকলেই এইসব প্রশ্নাবলি নিয়ে সারাক্ষণ চিন্তা করি না, তবে প্রায় প্রত্যেকই কখনো না কখনো এইসব নিয়ে মাথা ঘামাই।

গতানুগতিকভাবে এইসব প্রশ্ন দর্শনশাস্ত্রের পাঠ-এখতিয়ারে ছিলো, কিন্তু দর্শনশাস্ত্রের মৃত্যু হয়েছে। দর্শনশাস্ত্র আধুনিক বিজ্ঞান বিশেষ করে পদার্থবিজ্ঞানের নানাবিধ উৎকর্ষতার সাথে তাল মিলিয়ে নিজেকে হালনাগাদ করতে পারে নি। ক্রমে বিজ্ঞানিরাই আমাদের একমাত্র এবং নির্ভরযোগ্য আলোকবর্তিকা হয়ে উঠেছেন। এই বইটির উদ্দেশ্য হলো সাম্প্রতিক সময়ের আবিস্কার এবং তাত্ত্বিক অগ্রগতির আলোকে পূর্বোল্লেখিত প্রশ্নগুলোর উত্তরানুসন্ধান। এইসব বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি আমাদের মহাবিশ্ব ও সেখানে আমাদের অবস্থান সম্পর্কে এক নতুন ধারণার সম্মুখীন করেছে যেটা কিনা গতানুগতিক ধারণা থেকে অনেকাংশে ভিন্ন, এমনকি যদি দুয়েক দশক আগের অবস্থার সাথে মিলিয়ে দেখলে-ও ভিন্নতা চোখে পড়বে। যদিও এই নতুন ধারণার প্রথম খসড়াচিত্র প্রায় শতাব্দি খানেক পুরানো।

মহাবিশ্ব সম্পর্কিত গতানুগতিক ধারণা মতে বস্তুসমূহ একটি সুনির্ধারিত পথে পরিভ্রমণ করে এবং তাদের সুনির্দিষ্ট ইতিহাস আছে। কোনো নির্দিষ্ট সময়ক্ষণে আমরা তাদের অবস্থান পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে নির্ধারণ বা পরিমাপ করতে পারি। এই ধারণা দৈনন্দিন উদ্দেশ্যের জন্য কার্যকরী, কিন্তু ১৯২০ সালে দেখা গেলো যে এই চিরায়ত ধারণা ভৌত জগতের পারমাণবিক ও অতিপারমাণবিক স্তরের বিভিন্ন "অদ্ভুত" ঘটনা ব্যাখ্যা করার জন্য কার্যকরী নয়। ফলে সেই সময় একটি ভিন্ন নির্মাণকাঠামো (framework) পরিগ্রহণ করার দরকার হয়ে পড়ে- কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যা। দেখা গেলো যে অতিপারমাণবিক বিভিন্ন ঘটনার সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করার ক্ষেত্রে কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যা বেজায় রকমের নির্ভুল এবং যখন বৃহত্তর বস্তুসমূহের উপর প্রয়োগ করা হয় তখন চিরায়ত তত্ত্বের অনুমান বা ভবিষ্যদ্বাণীর সাথে পুরোপুরি মিলে যায়। মনে রাখা দরকার যে কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যা এবং চিরায়ত পদার্থবিদ্যা ভৌতবাস্তবতার সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি ধারণার উপর ভিত্তি করে ঘটে উঠেছে।

কোয়ান্টাম তত্ত্বকে নানাবিধভাবেই সূত্রবন্ধ করা যায়, তবে সবচে' সহজ বর্ণনা দিয়েছিলেন রিচার্ড (ডিক) ফাইনম্যান, যিনি কিনা ক্যালিফোর্নিয়া ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজির একজন বর্ণিল বিজ্ঞানি ছিলেন এবং মাঝে মাঝে কাছেরই একটা বস্ত্রমোচন ক্লাবে (strip joint) বাঙ্গো ড্রাম বাজাতেন। ফাইনম্যানের মতে, একটি সিস্টেমের কেবল মাত্র একটি সুনির্দিষ্ট ইতিহাসই নয় বরং সম্ভাব্য সব ইতিহাসই থাকতে পারে। আমাদের উত্তরানুসন্ধানের জন্য আমরা ফাইনম্যানের পদ্ধতিটি আরো বিশদভাবে ব্যাখ্যা করবো এবং এটি প্রয়োগ করে দেখবো যে মহাবিশ্বের কোনো একক ইতিহাস নেই, এমনকি কোনো স্বাধীন অস্তিত্বই নেই। অনেক পদার্থবিজ্ঞানির কাছে-ও ব্যাপারটা বৈপ্লবিক ধারণা বলে মনে হতে পারে! মনে হয় বটে, আধুনিক বিজ্ঞানের অনেক বিষয়ই আমাদের সহজাত ধারণা সাথে খাপ খায় না। কিন্তু আমাদের সহজাত ধারণাসমূহ প্রতিদিনের অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে ঘটে ওঠা, অত্যাধুনিক প্রযুত্তিলব্ধ পারমানবিক জগৎ বা আদি মহাবিশ্বের চিত্রের উপর ভিত্তি করে নয়।

আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের উদ্ভবের আগ পর্যন্ত অনেকে ভাবতো যে সব জ্ঞানই সরাসরি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে লাভ করা সম্ভব অর্থাৎ আমরা ইন্দ্রিয়াবলি দিয়ে একটা বস্তুকে যেমনটি অনুভব করি বস্তুটি তেমনই। আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের চমকপ্রদ সাফল্য- যেগুলো ফাইনম্যানের ধারণার মতো ধারণার উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত এবং আমাদের প্রাত্যহিক অভিজ্ঞতার সাথে সাংঘর্ষিক- দেখায় যে বাস্তবতা আসলে এইরকম নয়। বাস্তবতার গতানুগতিক চিত্র তাই আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সাথে খাপ খাওয়ার নয়। এই রকমের বিভ্রান্তি কাটানোর জন্য আমরা মডেল-নির্ভর বাস্তবতার (model-dependent realism) সাহায্য নিই। ব্যাপারটার মূল ধারণা হলো যে আমরা ইন্দ্রিয়তাড়িত হয়ে জগতের একটি কল্পিত মডেল মস্তিষ্কে বানিয়ে নিই। যখন এমন কোনো মডেল বিভিন্ন ঘটনাকে ঠিকভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে তখন আমরা এই মডেলকে এবং এর সব গাঠনিক ও ধারণাগত উপাদানকে বাস্তবতার বৈশিষ্ট্য বা পরমসত্য হিসাবে মেনে নিই। কিন্তু দেখা যায় যে এইসব ঘটনাবলি অন্য মডেল দিয়ে-ও ব্যাখ্যা করা যায়, যেখানে ভিন্ন ঘরনার মৌলিক উপাদান এবং ধারণা ব্যবহার করা হয়। ধরুন, এমন দুইটি ভিন্ন মডেল একটি ঘটনা সম্পর্কে নিখুঁত ভাবে ভবিষ্যদ্বাণী বা অনুমান করতে পারে তখন বলতে পারবেন না যে একটি মডেল অন্য মডেলের চেয়ে বেশি বা কম বাস্তব, বরং আমরা যেকোনো একটি গ্রহণযোগ্য মডেলকে দ্বিধাহীনভাবে ব্যবহার করতে পারি।

সেই প্লেটো থেকে শুরু করে নিউটনের উৎকৃষ্ট থিউরী হয়ে আধুনিক কোয়ান্টাম তত্ত্ব পর্যন্ত, আমরা বিজ্ঞানের ইতিহাসে একের পর এক উন্নততর তত্ত্ব অথবা মডেল-ধারণা আবিস্কার করেছি। স্বাভাবিকভাবেই মনে প্রশ্ন জাগে এই ধারা কি চলতেই থাকবে, নাকি একটি পরমতত্ত্বে গিয়ে থামবে- যে পরমতত্ত্বের সাহায্যে মহাবিশ্বের সকল বল ও পর্যবেক্ষণকে ব্যাখ্যা করা সম্ভব হবে, নাকি আমরা একের পর এক উন্নততর তত্ত্ব আবিষ্কার করে যেতেই থাকবো অর্থাৎ এমন কোনো পরমতত্ত্বই আবিস্কার করা সম্ভব হবে না যেটা উন্নয়ন-অসাধ্য হবে? এই প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর এখনো আমাদের হাতে নেই, বরং আমাদের কাছে এমন একটি তত্ত্ব আছে যেটি পরমতত্ত্বের অধিকতর কাছাকাছি; যার নাম এম-তত্ত্ব। এখনো পর্যন্ত এম-তত্ত্বই একমাত্র মডেল, যার এমন সব বৈশিষ্ট্য আছে যেগুলো একটি পরমতত্ত্বের থাকা উচিত এবং আমাদের পরবর্তী আলোচনা হবে অনেকাংশই এই এম-তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে।

সাধারণ বিচারে এম-তত্ত্বকে একক কোনো তত্ত্ব বলা যায় না। এটি বরং একটি তত্ত্বগুচ্ছ বা তত্ত্বের সমষ্টি, যেটার প্রতিটি সদস্য তত্ত্ব ভৌত ঘটনাসমুহের কোনো একটি নির্দিষ্ট অংশকে বর্ণনা করে। ধরেন গিয়ে অনেকটা মানচিত্রের মতো। অনেকে জানেন পুরো পৃথিবীর ভূতলকে একটি একক মানচিত্রে পুরোপুরি দেখানো সম্ভব নয়। সাধারণত মানচিত্র তৈরিতে যে মারকেটর অভিক্ষেপণ (Mercator projection) ব্যবহার করা হয় তাতে উত্তর এবং দক্ষিণ দিকে যতোই যাওয়া হয়, এলাকাসমুহ বড় থেকে আরো বড় দেখায় এবং উত্তর ও দক্ষিণ মেরুকে দেখানো যায় না।। তাই পুরো পৃথিবীর একটি নির্ভরযোগ্য মানচিত্র তৈরি করতে হলে কতগুলো ভিন্ন ভিন্ন মানচিত্র অংশ ব্যবহার করা হয়, যেখানে ক্ষুদ্রাংশগুলো পৃথিবীর একেকটি অংশকে নির্ভুল ভাবে প্রকাশ করে। ফলে মানচিত্রের অংশগুলো একে-অপরের উপর আপতিত হয় এবং যেখানে আপতিত হয় সেখানে উভয় চিত্রই একই এলাকা বর্ণনা করে। এম-তত্ত্ব অনেকটা এরকমই। এম-তত্ত্বের বিভিন্ন সদস্য তত্ত্ব দেখতে অনেক সময় একে অপর থেকে ভিন্ন মনে হলেও তারা মূলত একটি একক তত্ত্বের অন্তর্নিহিত বিভিন্ন অংশ। মূল তত্ত্বের এইসব বিভিন্ন রূপ যার একেকটি একেক সীমায় প্রযোজ্য, যেমন- যখন চলকের মান যেমন শক্তির পরিমাণ খুবই ছোট, তার জন্য রয়েছে একটি সদস্য তত্ত্ব, যেনো মারক্যাটর অভিক্ষেপণ থেকে পাওয়া পৃথিবীর মানচিত্রের বিভিন্ন অংশ, যে অংশে একাধিক মানচিত্র একে অপরের উপর আপতিত হলে-ও তারা একই অনুমান যোগায়। যেমন কোনো ভালো সমতল প্রতিলিপি বা মানচিত্র নেই যেটি কোনো আপতিত মানচিত্র ছাড়া পুরো ভূতল পুরোপুরি দেখাতে পারে তেমনি এমন কোনো একক তত্ত্ব নেই যেটি এককভাবে সকল পর্যবেক্ষণকে ব্যাখ্যা করতে পারে।

আমরা বর্ণনা করবো কীভাবে এম-তত্ত্ব সৃষ্টি বিষয়ক বিভিন্ন প্রশ্নসমূহের উত্তর সরবরাহ করতে পারে। এই তত্ত্ব মোতাবেক, আমাদের মহাবিশ্বই একমাত্র মহাবিশ্ব নয়। বরং এম-তত্ত্ব মতে, একদম শূন্য থেকে বহু সংখ্যক মহাবিশ্বের সূচনা হয়েছিলো। তাদের সৃষ্টিতে কোনো অতিপ্রাকৃতিক শক্তি বা ঈশ্বরের অংশগ্রহণের প্রয়োজন নেই। বরং ভৌত সূত্রসমূহ মেনেই এই বহুসংখ্যক মহাবিশ্বের সূচনা হয়েছে। বিজ্ঞান এইরকমই অনুমান করছে। প্রতিটি মহাবিশ্বেরই নানা ইতিহাস আছে এবং পরবর্তী কোনো নির্দিষ্ট সময়ে, যেমন সৃষ্টির সূচনা থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত, এরা সম্ভাব্য অনেক অবস্থাতেই থাকতে পারে। তবে এইসব অবস্থার বেশিরভাগই আমাদের পর্যবেক্ষিত মহাবিশ্ব থেকে সম্পুর্ণ আলাদা এবং কোনো প্রকার জীবনের জন্য প্রতিকূল হতে পারে। খুব কম মহাবিশ্বেই আমাদের মতো জীবনের অস্তিত্ব থাকা সম্ভব। তাই আমাদের অস্তিত্বই যেসব সম্ভাব্য মহাবিশ্বে আমাদের অস্তিত্ব সম্ভব সেগুলোকে নির্দিষ্ট করে দেয়। যদিও মহাজাগতিক স্কেলে আমরা অতীব ক্ষুদ্র এবং গুরুত্বহীন, তদাপি আমরা যেনো সৃষ্টির রাজার আসনে চড়ে বসেছি।

মহাবিশ্বকে গভীরভাবে বুঝতে হলে আমাদেরকে শুধু মহাবিশ্বে কীভাবে সবকিছু ঘটে সেটা জানলেই হবে না, জানতে হবে ‘কেনো’ ঘটে সেটা-ও।

কেনো কোনো কিছু না থাকার বদলে কিছু বিদ্যমান?
কেনো আমাদের অস্তিত্ব আছে?
কেনো ঠিক এই ভৌত সূত্রসমূহ আছে, কেনো অন্য কোনো ভৌত সূত্র নেই?

এগুলোই জীবন, মহাবিশ্ব এবং সবকিছুর পরমতম প্রশ্ন। আমরা এই বইয়ে এগুলোর উত্তর দেয়ার চেষ্টা করবো। ‘হিচহাইকারস গাইড টু গ্যালাক্সি’তে (The Hitchhiker's Guide to the Galaxy) দেয়া উত্তরের মতো আমাদের উত্তর শুধুমাত্র "৪২" হবে না।

===============
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি নাবিউল আফরোজ, জুবায়ের আলম, সোহাগ হোসেন এবং আরো অনেক- যারা বিভিন্ন সময় পরিভাষা, গাণিতিক ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার ব্যাপারে সহায়তা করেছেন। ব্লগারবৃন্দ ও পরিচিত অনেকজন যারা উৎসাহ দিয়ে অনুপ্রাণিত করেছেন তাদেরকেও শুভেচ্ছা জানাই।
অনেক তীক্ষ্মনজর ও খেয়াল রাখার পরেও কিছু মুদ্রণপ্রমাদ রয়ে গেছে, আন্তরিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করছি। পাঠক হিসেবে আপনি সাহায্য করতে পারেন অনুগ্রহ করে এইসব মুদ্রণপ্রমাদ ধরিয়ে দিয়ে।

7
আপনার মূল্যায়ন: আপনি মূল্যায়ন করেন নি। গড় রেটিং: 7 (২ জন মূল্যায়ন করেছেন)
শেয়ার করুন » Facebook Twitter Delicious Digg MySpace Google Orkut Blogger Google Buzz Technorati
অথবা এই সংক্ষিপ্ত লিংক শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৮৩৫১(১)    

এই পোষ্টার জন্য অপেক্ষা করছিলাম ।
এটা খুব ভালো একটা কাজ করেছেন । ভালো লাগছে / পুরাই একমত / জটিল

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৮৩৫৪(২)    
লেখকের মন্তব্য

এটা মোটামুটি ভালো ইংরেজি জানে, আর বিজ্ঞান সম্পর্কে ধারণা রাখে এমন যে কেউ অনুবাদ করতে পারবে, মূল বইটা অনেক সহজবোধ্য, হকিঙের কেরামতি আরকি। কোনো ভুল চোখে পড়লে কিম্বা পরামর্শ থাকলে বলতে পারেন। :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৮৩৫৬(৩)    

এগুলি কেমনে ট্রান্সলেট করে? আমি হইলে জীবনেও পারতাম না। ইভেন নামটাও পারার কথা না না। The Grand Design (মহিমান্বিত নকশা)। আমি ২ দিন ভাবলেও বাইর হইতো না গ্রেন্ড মানে মহিমান্বিত। গ্রেন্ড মানে তো গ্রেনননননন্ড :প :p
গুড গুড

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৮৩৫৮(৪)    
লেখকের মন্তব্য

থাক আর কাসুন্দি গাইতে হবে না, আপনি ওস্তাদ মানুষ এটা ইনিয়েবিনিয়ে বলার কী দরকার। ;) হাওয়া খাইতে থাকেন।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৮৩৬৮(৫)    

পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় ধইন্যাপাতা(ধন্যবাদ)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৮৩৮২(৬)    
লেখকের মন্তব্য

শীঘ্রই।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৮৩৮৩(৭)    

বস্ত্রোমোচন ক্লাব কেনো ?
বস্ত্রোমোচন সভা নয় কেনো !! কয় কি হালায়! / হাসতে হাসতে শ্যাষ হৈয়া গেলাম

ষ্ট্রিপ ক্লাব - প্রজেকশন ইত্যাদি শব্দ গুলো অনুবাদ না করায় ভালো।
বাংলাদেশে ষ্ট্রিপ ক্লাব নেই সুতরাং বস্ত্রোমচন সভা লিখলে সেটা পড়ে মানুষের টাশকি লাগার সম্ভবনা আছে -- আর উচ্চতর শিক্ষায় বিজ্ঞান এবং কিছু কিছু অন্য সাবজেক্ট ইংরাজিই মূল শিক্ষা মাধ্যম হবার কারন মানুষ ইংরেজি শব্দগুলোই ভালো চিনে ।
বাংলা শুনলে অজ্ঞান হবার দশা হয়।
===============
যেমন একবার ঢাকা ইউনিতে টয়লেট খুজতে গিয়ে লেখা দেখি -- প্রক্ষালন কক্ষ হাসতে হাসতে নাইক্কা আশে পাশে মানুষদের চেইন লাগাতে লাগাতে বের হতে দেখে বুঝেছিলাম এটা আসলে টয়লেট !!
এগুলোর ব্যাপারে সাবধান থাকা উচিত।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৮৩৯৪(৮)    

কমেন্টে ভুটাইলাম,,,, কয় কি হালায়! / হাসতে হাসতে শ্যাষ হৈয়া গেলাম কয় কি হালায়! / হাসতে হাসতে শ্যাষ হৈয়া গেলাম

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৮৩৯৫(৯)    
লেখকের মন্তব্য

হা হা। D এই বিষয়ে আগে একবার সামুতে আপনার সাথে আলাপ হয়েছিলো। ভাষার ব্যবহারটা অনেক বিশাল কিছু, বৈজ্ঞানিক-ও; আপনি বস্ত্রমোচন ক্লাব ব্যবহার করা শুরু করেন দেখবেন কয়েক বছর এটা দেদারসে চলছে। যেমন মোবাইল ফোনের বাঙলা নির্মলেন্দু করলো মুঠোফোন। ফোন শব্দটা প্রচলিত হয়ে বাঙলা ভাষার শব্দ হয়ে গেছে, এটার বাঙলা করতে যাওয়া নিরর্থক, সেইরকম ক্লাব শব্দটি। মূল শব্দটা জয়েন্ট (joint), ব্রিটিশরা বেশি ব্যবহার করে, আমেরিকান/কানাডিয়ান ইংরেজিতে ক্লাবটাই বেশি চলে। তাই জয়েন্টের বদলে আমি অনুবাদকের স্বাধীনতা নিয়ে ক্লাব ব্যবহার করেছি।

আপনার ধারণা সঠিক, বাংলাদেশে বস্ত্রমোচন ক্লাব নাই, তবে নৈশ-ক্লাব আছে; যেহেতু বস্ত্রমোচন ক্লাব নাই, আমি এই শব্দটা ব্যবহার করছি- লোকজন এইনামেই চিনুক বাঙলায়; মূল ব্যাপারটা এটাই।

আমি জানি উচ্চ মাধ্যমিক বা স্নাতোত্তরে অধিকাংশ বই ইংরেজিতে, এর কারণ আছে, আমরা বাঙলায় বই পৌঁছায়ে দিতে পারি নাই, আর বাঙলায় জ্ঞান চর্চা বিশেষ করে বিজ্ঞান চর্চা হয় বা কেমন? কিন্তু যেহেতু ইদানীং অনেক তরুণ এগিয়ে আসছে, আমি মনে করি দুয়েক দশকের মাঝে বেশ ভালো পারিভাষিক উৎকর্ষতা সৃষ্টি হবে বাঙলায়। আর প্রজেকশন বা এই ঘরানার অনেক শব্দের বাঙলা হচ্ছে, মাধ্যমিকের অনেক বইয়ে হচ্ছে, আমরা পড়ি নি বা বাঙলা পাঠ্য বই থেকে দূরে আছি বলে জানি না হয়তো বা। আমি চেষ্টা করেছি মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিকের বিজ্ঞান বইয়ে যে পরিভাষা ব্যবহার করা হয়েছে এবং ইদানীংকালের যারা বিজ্ঞান-সম্পর্কিত রচনার অনুবাদ করছেন সেটা ব্যবহার করতে। যেমন ধরেন, নিউক্লীয় বলের বাঙলা আমি নিউক্লীয় বলই রাখতে চেয়েছিলাম, মাধ্যমিকের একটা বইতে পেলাম কেন্দ্রকীয় বল, আমার কাছেও গ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে।

আমি কিন্তু মেলা শব্দের বাঙলা করি নাই, যেমন কোয়ান্টাম, ফোটন, হেন-তেন; ইচ্ছে করলে এইসব করতে পারি, কিন্তু সীমা নির্ধারণ করেছি মনে মনে।

প্রক্ষালন সংস্কৃত হয়ে এসেছে, তৎসম-অর্ধতৎসম হয়ে। আমি ব্যবহার করতাম না, আমি হলে গণ শৌচাগার ব্যবহার করতাম, মানুষজন এটাই ব্যবহার করে। মুখে অনেক শব্দ অভ্যস্ততার কারণে ইংরেজিতে বললেও বাঙলায় পড়তে আরামই লাগে।
=======================
যাহোক, এরকম কিছুতে চোখ আটকালে বলবেন, সংশোধনের সুযোগ তো আছেই। :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৮৪০৯(১০)    

হালকা করে পড়ে গেলাম
যদিও কঠিন জিনিস কম বুঝি
তবুও সবগুলো পড়ার ইচ্ছা থাকলো

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৮৪১১(১১)    
লেখকের মন্তব্য

কোনো কিছু খটোমটো লাগলে বললে আমরা তো আছি। :) ভয় নেই, পুরো বইটিতে কোনো সমীকরণ নেই, নেই অহেতুক বিজ্ঞান কপচানো।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৮৪৯৮(১২)    

ঘুম পায়রেএএএএ... কঠিন জিনিস লিখছেন ভাডি। পরেরটা কবে আসবে? অপেক্ষা------- :praying:

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৮৫৯৪(১৩)    
লেখকের মন্তব্য

আমি শুধু অনুবাদ করতাছি। পরের পর্ব শীঘ্রই দিমু, কিছু চিত্র আছে, সেগুলারে ঝালাই করে নিতে হবে।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৮৫০৮(১৪)    

গুড! ভাবছিলাম সচলেই বুঝি দিবেন। এমন ব্যাপারগুলো আমার মাথায় ঢুকে না। কিন্তু পড়ে এক ধরনের ভালো লাগায় আচ্ছন্ন হই।

(প্রকাশের ব্যাপারে রোহোন কুদ্দুসের সঙ্গে আলাপ হয় নাই? ফেসবুকে ভদ্রলোকের আগ্রহ দেখেছিলাম।)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৮৫৯৬(১৫)    
লেখকের মন্তব্য

এটা সূচনা পর্ব, পরে এই বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হবে, খুবই সহজবোধ্যভাবে। বিজ্ঞানের টুকিটাকি সম্পর্কে হালকা ধারণা থাকলে সরল মনে হবে।
রোহন কুদ্দুসের প্রকাশনা সম্ভবত কলকাতা-ভিত্তিক, আমি বাংলাদেশ-কেন্দ্রিক কোনো প্রকাশক চাচ্ছি। আপনার কোনো পরামর্শ থাকলে এখানে অথবা ডাক-বাক্সে জানাতে পারেন।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৮৫৩৫(১৬)    

অন্য কোন ব্লগে কি পুরোটা দিয়েছেন? এইটুকু পড়ে আশা মেটেনি। একটানা পড়তে ইচ্ছে জাগছে।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৮৫৯৭(১৭)    
লেখকের মন্তব্য

পুরো বইটা ১৮৫ পৃষ্টার, একখণ্ডে দেয়া অসম্ভব-প্রায়। ধীরেসুস্থে সবগুলো পর্ব দিবো।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৮৫৪৪(১৮)    

সত্য একটা কথা হৈলো, বিজ্ঞান কিংবা দর্শন বিষয়ক অনুবাদও পড়তে ব্যাপক ডর লাগে, এর চাইতে ইনজিরিটাই অনেক বোধগম্য হয়।
এইটা আমাদের দেশে, পাশের দেশেও অনুবাদের ব্যাপক দুর্বলতা, না?
(এইখানে অনুবাদ টা পৈড়া অনেক আরাম পাইলাম।)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৮৫৯৯(১৯)    
লেখকের মন্তব্য

সত্য একটা কথা হৈলো, বিজ্ঞান কিংবা দর্শন বিষয়ক অনুবাদও পড়তে ব্যাপক ডর লাগে, এর চাইতে ইনজিরিটাই অনেক বোধগম্য হয়।

এটার মেলা কারণ আছে:
১ আমাগোরে ছোটবেলায় থেকে ইংরেজিতে উচ্চ মাধ্যমিক জ্ঞানাহোরণের জন্য অভ্যস্ত করে তোলা হয়, ফলে আমরা ইংরেজিতেই স্বাচ্ছদ্যবোধ করি। কিন্তু যদি প্রচুর বাঙলা বই থাকতো এবং আমাদের অভ্যেস থাকতো তবে বাঙলাতেই রস আহরণ করা যেতো। দায়টা আমাদেরই।

২ পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি নিছক কিছু গল্পের বই, কবিতার বই ছাড়া কয়জন বাঙালিই বই কিনেন, নিয়মিত পড়েন? দেশের প্রকাশনা-ব্যবস্থার দুরাবস্থা দেখলেই সহজে বোঝা যায়।

৩ যেহেতু আমাদের দেশে গবেষণা, বিজ্ঞান-চর্চার ব্যাপক সুবিধা-সুযোগ নাই (আশার কথা, এটা ধীরে ধীরে বাড়ছে), সেহেতু আমরা ঘাটতিটা অনুবাদ করে পূরণ করতে পারি। তবে আমি দেখে অনেক অনুবাদকের পরিভাষা এবং মূল-বিষয়ে দক্ষতা থাকলে-ও একটা স্বাভাবিক গতি বা ফ্লো আনতে পারেন না। ফলে পাঠক বিরক্তিবোধ করে।

আরাম দিতে পেরে আমি-ও খুশি। :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৮৫৬৭(২০)    

চতুরে আসার পরে এটাই মনে হয় আমার পড়া আরেকটা চরম অনুবাদ।পরের পর্বের অপেক্ষায় থাকলাম

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৮৬০১(২১)    
লেখকের মন্তব্য

ধন্যবাদ। সাথে থাকলে ভালো লাগবে। :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৮৬৬২(২২)    

আসলে কোন বই পড়তে শুরু করলে তা শেষ না করতে পারলে ভাল লাগে না। তাই এখানে প্রথম পর্ব পড়েই খুজতে লেগে গেলাম। মুক্তমনায় পেলাম। তানভীরুল ইসলামের অনুবাদ। এখন পড়ছি। আপনারটা্ও পড়ব। বেশ ইন্টারেস্টিং লাগছে। ধন্যবাদ।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৮৬৬৫(২৩)    
লেখকের মন্তব্য

আপনাকে-ও ধন্যবাদ। :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৮৬৮৭(২৪)    

ভালো একটা কাজ করেছেন ।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৮৬৯৩(২৫)    
লেখকের মন্তব্য

পাঠ করার জন্য ধন্যবাদ।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৮০০৪১(২৬)    

চমৎকার অনুবাদ ।

নামটাও বেশ হয়েছে : মহিমান্বিত নকশা

----------------------------------------
আমার চারপাশ ডট কম

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৮০০৪২(২৭)    
লেখকের মন্তব্য

ধন্যু। :)

 

মন্তব্য করুন

এই তথ্যটি সর্বদাই গোপন রাখা হবে এবং কোন অবস্থাতেই তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
ছবি যাচাই
আপাতত: শুধু মানুষদের জন্যই আমাদের দুয়ার খোলা। পরে নাহয় রবোট, বায়োবট বা এন্ড্রয়েডদের কথা বিবেচনা করা যাবে।
2 + 1 =
এই গাণিতিক সমস্যাটি সমাধান করুন এবং সঠিক উত্তরটি উপরের ঘরে লিখুন। যেমনঃ ১+৩ এর জন্য লিখুন ৪।