আশরাফ মাহমুদ-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

আজকে কেউ একজন বাড়ি থেকে পালিয়ে যাবে।
পথক্লান্তি, রিপুভীতি প্রভৃতি শারীরিক স্থগিত রেখে; কয়েকটি সিএনজি কেবল তেজগাঁও বরাবর একগামী ছুটবে। উচ্চতাভীতি জিরাফেরই বেশি; স্যাডলবিহীন ঘোড়াগুলো কখনো তাই খালি থাকে না।
আমি ক্ষয় দিয়ে লিখেছি উষাকুঁদ পৃথিবী
কেউ এসে শুনিয়ে গিয়েছিলো প্লাবনের সাইরেন
কয়েকটি সূর্য হাঁটুমুড়ে বসতে গিয়ে বিগলিত
সে নতমুখে বসে থাকে, যূথঅন্ধকারে হাতের রেখা দেখে নিয়ে; কয়েকটি বিধ্বস্ত শহরে যুদ্ধশিশুর জন্মের সংবাদ কানে আসে। আমাদের খেলনাচুরি স্বভাব কখনোই ছিলো না। সে উঠে গিয়ে বেলে মাটিখড়ি দিয়ে গড়ে দেয় স্মৃতিদোলনায় নীলগিরিতে পাওয়া সন্তানের জন্মকথা।
সংসারী যারা বেশি তাদের দীর্ঘশ্বাসই
বারান্দায় বইয়ের পাতা ওড়ায়!
কস্তুরীরাতে অনেকেই ভুলে পথের ঘ্রাণ,
মানসিক হাসপাতালের বিছানার কাপড়;
তার আঁচল-ও উড়ে দক্ষিণের চুম্বকে। নিজের নাম ভুলে যাওয়া পাখিসব। সব রঙক্ষরণ দেখতে বালকেরা আসবে বারান্তর। আগামীকাল একটি কচুরীপানা ফুলে দেখা যাবে জলের বায়োস্কোপ। ডুবরীরা বস্তুত হারিয়ে ফেলে প্রবালে লিখে যাওয়া পৃথিবীসম্পর্কিত মীনমিথ।
সে শাড়ি কুড়িয়ে দরজায় চিমটি কাটে
আয়নাঘরে সাজাতে নেই আলো- শরীরের
গান তো সবাই শুনে- কবরের গ্রীল, নক্ষত্রজীবী
পিয়ানোসমূহ, যুদ্ধে হেরে গিয়ে আকাশ ভালোবাসা যুবকেরা।
দোয়াতমনস্ক সবাই ঠিকই মনে রাখে সমুদ্রের ভাও
শীতঘুমার্ত নগরবাসীর পিঠে জন্ম নেয় নদীদাসের জলতীর্থ।
২৬/৪/২০১০
মন্তব্য
আজকে কেউ একজন বাড়ি থেকে পালিয়ে যাবে। পথক্লান্তি, রিপুভীতি প্রভৃতি শারীরিক স্থগিত রেখে; কয়েকটি সিএনজি কেবল তেজগাঁও বরাবর একগামী ছুটবে। উচ্চতাভীতি জিরাফেরই বেশি; স্যাডলবিহীন ঘোড়াগুলো কখনো তাই খালি থাকে না।
সে নতমুখে বসে থাকে, যূথঅন্ধকারে হাতের রেখা দেখে নিয়ে; কয়েকটি বিধ্বস্ত শহরে যুদ্ধশিশুর জন্মের সংবাদ কানে আসে। আমাদের খেলনাচুরি স্বভাব কখনোই ছিলো না। সে উঠে গিয়ে বেলে মাটিখড়ি দিয়ে গড়ে দেয় স্মৃতিদোলনায় নীলগিরিতে পাওয়া সন্তানের জন্মকথা।
লেখকের মন্তব্য
লাইনগুলোতে মনে হয় আমি লিখেছিলাম, আপনি কিছু বলেন।
এখন সবচে ভালো লাগলো প্রথম অংশটা।
অন্য সময়ে অন্যগুলো হয়তো বেশি ভালো লাগবে, এগুলো তেমন ভালো লাগবে না। এটাই ভাবছি। তবে সরম শব্দ সরল বাক্য গঠন প্রথমটাতেই বেশি, সুতরাং ওটা হয়তো সবসময়েই বেশি ভালো লাগবে।
লেখকের মন্তব্য
আপনার কথা আমার কাছে জটিল মনে হচ্ছে।
ধরো আমি উষাকুঁদ মানে জানি না, তবু অনুমান করে নিতে পারি, অনুমান না করলে কল্পনা করে মজা নিতে পারি, কিন্তু যেটা আমার কোনো খাটুনি ছাড়াই কল্পনায় ঢুকে যায়, সেটাই টেকসই হবে ওখানে।
হুম
:ওয়াক:
লেখকের মন্তব্য
ও আচ্ছা, কল্পনায় তো বড়ো জিনিস, অন্তত শিল্পের ক্ষেত্রে; আপনার সেদিক থেকে ভালো দখল থাকলে তো চমৎকার। উষা মানে ভোর, কুঁদ একটা জঙ্গলীফুল- পথের ধারের পাওয়া যায়; দেখতে সাদা, তাই উষাকুঁদ।
কাজের বিনিময়ে খাদ্য, খাঁটুনির বিনিময়ে কবিতা।
লেখকের মন্তব্য
ইউ নো হাউ টু রিড
আরেকটু স হ জ সরাসরি কইলে কি হয়
কবিদের নিয়ে বড়ই সমস্যা একটা কথাও কি স হজ করে বলতে জানে না !!!
অট: আমার মনে হইছে প্রথম ৩ লাইন সব , বাকীটুকু না হইলেও চলে
লেখকের মন্তব্য
আইচ্ছা।
কবি দেখি ডিক্লারেশন দিয়া কবিতা শুরু করছে?
লেখকের মন্তব্য
বিড়াল কি বাড়ি পালায়?
ভাবনাগুলোকে কেমন জানি ছিন্ন ভিন্ন ক্ষত বিক্ষত মনে হচ্ছে। আমার বোঝার ভুলও হতে পারে
লেখকের মন্তব্য
আমরা ক্ষত বিক্ষত, ভাবনারা সেরকমই হতে পারে।
কবিতায় কখনো ভুল বোঝার সুযোগ নেই, যা বুঝবেন তাই সঠিক একজন পাঠক হিসেবে।
কবিতায় উপমা এবং ঘটনাগুলো অনেক বেশি জড়াজড়ি করে আছে। এজন্যে হয়তো কিছুটা ছাড়া ছাড়াও মনে হচ্ছে। একটা বাক্য থেকে পরের বাক্যের যোগসূত্রও ধরতে একটু থমকাতে হচ্ছে।
অনেকসময় শব্দের সৌন্দর্যই আমাদের বেশি টানে, সবগুলো কথা, সবগুলো পঙ্ক্তি মিলে কোন দৃশ্য বা ভাবনা আদল নিচ্ছে কি না, সেটা যাচাইয়ের চাইতে পড়ার আনন্দটুকু বা কমফোর্টটুকু বেশি মনোযোগ পায়। এই কবিতায় সেই মনোযোগটা সরে সরে যাচ্ছে কিছুটা। :।
লেখকের মন্তব্য
সমস্যা নেই। আমার কাছে কবিতার অনেকগুলো দর্শনের একটি হলো একটি গল্পগ্রন্থ কিংবা দৃশ্যগ্রন্থের মতো অসংখ্য গুচ্ছ গুচ্ছ ভাব-দৃশ্য-উপমা নিয়ে কবিতা হতে পারে; অনেকটা এইরকম- তোমাকে একটা ময়দানের সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়া হলো, ময়দানের পরেই অগণিত রাস্তা, তুমি শুধু একটা রাস্তা ধরে হাঁটতে শুরু করে একটি সুনির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছতে পারো; অন্যকেউ সময় ও সুযোগ পেলে একাধিক পথে যাবে।
এই ঘরনার কবিতা আমি প্রায় লিখি। এইখানে লক্ষণীয় যে সংসার, জগত-সচেতনা ও সংশ্লিষ্ট উপাদানগুলো ঘুরেফিরে এসেছে, একটা যোগসূত্র বরাবরই থেকে যায়।
ধন্যবাদ দিয়ে ছোট না করি!
দারুণ!!
উষাকুঁদ কথাটির মানে কী?
লেখকের মন্তব্য
রিপন ভাই, উষা মানে ভোর ভোর সময়টা সাদা সাদা লাগে; কুঁদ একটা জঙ্গলী ফুল- দেশে পথের ধারেই পাওয়া যায়, সাদাটে। ভোরটা সেই ফুলের মতো কিংবা ফুলটা ভোরের মতো সাদা!
শুরুর ফ্লোটা এনজয়েবল।
লেখকের মন্তব্য
সমাপ্তি সবসময় সুখকর হয় না বটে।
শুরুটা চমৎকার। শেষটা কেমন যেন মেলে না। ধন্যবাদ।
লেখকের মন্তব্য
গোত্তা খেয়েছে।
সুন্দর -- তবে মেদ বহুল লাগলো আমার কাছে -- আমি নিজে মেদনিয়া ঝামেলায় আছি -- সেটাও একটা কারণ হতে পারে --
আশরাফ, লেখা চলুক নিরন্তর-- [আমার এই পথ চলাতেই আনন্দ]
---------------
ইস -- সেই একজন যদি আমি হতে পারতাম ।
লেখকের মন্তব্য
হা হা হা।

পালিয়ে যান, আমি কখনোই বাড়ি থেকে পালাইনি, যারা পালায় তাদের অদ্ভুত লাগে, একটু ঈর্ষা-ও হয়।
হ্যাঁ, এই লেখাটা নিয়ে ভাবতে হবে।
ইস্ আমিও যদি পারতাম।।
লেখকের মন্তব্য
আচ্ছা, আপনার পুরো নাম কি কফিলউদ্দিন? এই নামে আমার খুব ভালো একটা বন্ধু ছিলো, পরে তার বাবা বদলি হয়ে যায়; যোগাযোগে ছেদ পড়ে।
কিছু মনে করবেন না।
জন্মের পর থেকেই কফিলউদ্দিন ডাকতে শুনছি। আমার কেউ আপন ছিলো।।।।ভাবি সারা বেলা।।।।
আমি তোমার ফ্যান বন্ধু হই।।।।?
লেখকের মন্তব্য
হেয়ালি রেখে বলেন তো। আপনি কি আমাকে চিনেন? মানে আমি যে কফিলের কথা বলছি সে কফিলউদ্দিন নাকি?
চিনি,সচলায়তনে আপনার awesome কিছু লিখা পরে ফ্যান হয়ে গেছি...কোন কফিলকে খুজঁছেন কেমনে বলবো...?
লেখকের মন্তব্য
ও আচ্ছা। অই যে কফিল নামে আমার খুব ভালো এক বন্ধু ছিলো, আপনার নাম একই দেখে কেনো জানি মনে হলো আপনি সে হতে পারেন। যাইহোক, শুভকামনা রইলো।
লেখকের মন্তব্য
মন্তব্য করুন