আশরাফ মাহমুদ-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

তোমাকে মিস করি আমি।
এই আমরা, তুমি ও আমি, অবিচ্ছেদ্য ছিলাম। আত্মার আত্মীয়, লোকে তাই বলতো।
কিন্তু ক্রমশ দূরত্ব বাড়তে শুরু করলো। প্রথমে আমাদের কথোপকথনে, সেইসব ক্ষণগুলোতে- যখন তুমি উপলব্ধি করতে এতক্ষণ আমি তোমাকে লক্ষ্য করেই কথা বলেছিলাম, এবং তুমি মরিয়া হয়ে মনে করার চেষ্টা করতে আমি আসলে কী বলেছি এতোক্ষণ।
অতঃপর শূন্যতা এলো তোমার চিন্তায়, মনে: তোমার ভবঘুরে দৃষ্টি, মনে হতো আমার ভেতরটা ভেদ করে তুমি অন্যত্র স্থির দৃষ্টি পেতে আছো। তুমি ভুলে যেতে শুরু করলে জন্মদিবসের কথা, বিয়েবার্ষিকীর তারিখ, অভিসারের সময়।
কিন্তু আমি সত্যিই আমাদের বিছানায় লেপ্টে থাকা দূরত্বকে ঘৃণা করতাম। ওহ, শুয়ে থাকা তোমার নিথর দেহ; প্রথম দিকে তাই থাকতো বটে, অথচ তোমার মন উড়ুউড়ু- যেনো চন্দ্রে নিতো ঠাঁই। আমি খুব নিঃসঙ্গ বোধ করতাম তখন।
অবশেষে শূন্যতা নেমে এলো আমাদের এই বাড়িতে। তুমি চলে যাওয়ার পর। তুমি বলেছিলে তোমার নিজস্ব সময়ের দরকার।
তোমার নতুন প্রেমিকার জন্য, তোমার নতুন আত্মার আত্মীয়। তার সাথে ভাগ করে নেবে আধার।
তুমি প্রস্তাব দিলে বিবাহবিচ্ছেদের। আমাদের বিয়ের মাঝে এক দূরত্ব সৃষ্টি করে।
এতো হওয়ার নয়।
তখনই আমি বুঝলাম যে তোমাকে মরে যেতে হবে। যদি আমি উপশম চাই...যদি আমি এখানে সেখানে ছড়িয়ে থাকা জীবনের সুতোকে জড়ো করে গাঁথতে চাই তবে আগে যেখানে তুমি ছিলে সেখানে এক শূন্যতা থাকা দরকার। তুমি থাকলে কোনোভাবেই আমার পক্ষে টিকে থাকা সম্ভব হবে না।
সপ্তাহ পর সপ্তাহ ধরে আমি তোমার খুনের পরিকল্পনা করতে লাগলাম। নিশ্চিদ্র হতে হবে, এবং আমার নিশ্চিত হওয়ার প্রয়োজন ছিলো যে আমি জড়িত তা যেনো কোনোভাবেই বোঝা না যায়। কী আর এমন সিদ্ধি টানা হবে যদি বাকি জীবন জেলখানার একটি অন্ধকার আবদ্ধ কুঠুরিতে ধুঁকতে হয়? শ্বাস টানার জায়গা-ও তো পাবো না।
বিষ, আমি সিদ্ধান্ত নিলাম... তোমার মধুমাখা শরীরে কোনো দাগ যে আমার সহ্য হবে না।
কিন্তু সবকিছু তো পরিকল্পনামাফিক হয় না, তাই না?
যেমন আমরা বাস্তবিকই জীবনসঙ্গী ছিলাম, তুমি-ও অনুভব করলে যে আমার জায়গায় একটি শূন্যতা দরকার।
তাই আজ রাত্তিরে, অথবা হয়তো আগামীকাল, অনুমান করছি তুমি পুলিগনি মনত্রাশে ওয়াইনের বিশেষ বোতলটি খুলবে, যেটি আমাকে ব্রিজ থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়ার দিন আমি তোমাকে দিয়েছিলাম। তুমি এবং তোমার নতুন জীবনসঙ্গী আমার প্রস্থান ও তোমার সদ্য পাওয়া বিস্তারণ উপভোগ করবে খুব।
তোমার মৃত্যু খুব বেদনাদায়ক হবে না, সখী; আমি গভীর নিষ্ঠার সাথে গবেষণা করে বের করেছি। তোমাকে আমি কখনোই কষ্ট দিতে চাই নি। তাছাড়া তুমি মনত্রাশের ভালো সমঝদার।
এখনকার মতো আমরা ভিন্ন ভিন্ন কোনো জায়গায়, ভিন্ন ভিন্ন স্থান দখল করে আছি। কিন্তু আমি যখন এই কবরের জমিটুকু কিনি, তখন তোমার জন্য-ও আমার পাশে জায়গা করে রেখেছি। জীবনসঙ্গী হিসেবে এটুকু তো আমি করতেই পারি।
সহসাই দেখা হবে, মধুমিতা।
=============
টিপি
মন্তব্য
অনেক ভাল লাগ্ল!
লেখকের মন্তব্য
ধন্যু, নির্ঝর।
সুন্দর অনুবাদ। তবে ভয় খাইছি!
লেখকের মন্তব্য
খাইছে, আপনি তো এখনো দুব্বল মনের মানুষ।
ভালোইত লাগছিলো। থামলেন যে??????????????
লেখকের মন্তব্য
এটি অনুবাদ।
ভাল অনুবাদ।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ, রাব্বি।
ভালো
লেখকের মন্তব্য
হুমম।
লেখকের মন্তব্য
হালুম!
ভালো লাগল
লেখকের মন্তব্য
অনুবাদ বলে মনেই হয় নি প্রথমে। পড়তে পড়তে শুধু মনে হয়েছে আগেও যেন কোথায় পড়েছি এ গল্প! তবু ভালো লেগেছে।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যু ধন্যু
অসাধারণ অনুবাদ।
লেখকের মন্তব্য
অনেক ধন্যবাদ।
যাউক ভালৈ। টিপিক্যাল ভুতের মত হার্ট না ছিড়া, বিষ খাওয়ায় মারবে। নিরীহ ভুত।
লেখকের মন্তব্য
হে হে।
তয় টিপি মাইরাও দেখলাম, ভয় পাইলাম্না।
কেবল-
-খানিকটা যান্ত্রিক মনে হইলো।
লেখকের মন্তব্য
হ্যাঁ, আমারো মনে হচ্ছিলো। একটু পরিবর্তন করলাম।
কেমনাছেন?
অনুবাদ ভালো পেলাম।
লেখকের মন্তব্য
শুকরিয়া
গল্প ভালো লেগেছে
বেশ রকম ভালো
অনুবাদের জন্য ঠিকঠাকমত গল্প পছন্দ করতে পারাটাও বড় গুন
লেখকের মন্তব্য
দেখছো আমি কতো গুণী, শুধু তুমি বুঝলে!
কবি বহুদিন পর আপনার লেখা পড়লাম। সত্যি অনেক ভালো লাগলো। যদিও আপনার কবিতা পড়ি না অনেকদিন।
কেমন আছেন গো ভাইডি?????
লেখকের মন্তব্য
আপনাকে চেনা চেনা লাগছে, যদিও ঠাহর করতে পারছি না ঠিক।
ফেরারি পাখি দিদি?
কবিতা কবিতা মনে হলো কেন? কেন?
------------------------
ভাল লাগছে!
লেখকের মন্তব্য
পাঠে ধন্যবাদ রইলো, পদ্ম।
আশরাফ ভাই কত্তদিন পর এলেন চতুরে!!
পোষ্টে সাত তারা
লেখকের মন্তব্য
ওই, কয়দিন আগে-ও তো পোস্টাইছি। তুমি বরং ইদানীং ফাঁকি দিচ্ছো।
ভাল লাগল।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ, সাহাদাত।
মন্তব্য করুন