লেখকের ক‌থা

সদর দরজা

বাবা

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
বাবার কোনো স্মৃতি নেই আমার। ছোট্ট বাচ্চাদের খেলনা রোবট কিংবা বহুমুখী ট্যাবলেট থাকে, আমার সেইসব-ও ছিলো না, আমি বড় হয়েছি কেবল সংখ্যার শূন্যতার ভেতরে, শ্রোডিঙ্গারের বেড়ালের অস্তিত্ব-অনস্তিত্বকে সঙ্গী করে! মা আমাকে খুব সূক্ষ্মভাবে পরিচালিত করে বড় করেছে, আমি এখন ভেবে ভেবে বের করতে পারি।

মাকে বাবা সম্পর্কে প্রশ্ন করলে উত্তর দিতো না, কেবল একপলক দৃষ্টে তাকিয়ে থাকতো, যেনো প্রশ্ন করে আমি অপরাধী, যেনো মা কোনো সিজোফ্রেনিক। অথচ অন্য কোনো বিষয়ে প্রশ্ন দাখিল করলে মা আমাকে উত্তর দিতে চেষ্টা করতো, একজন নৃ-বৈজ্ঞানিক হিসেবে যতোটুকু দিতে পারা যায়, না পারলে নিজের টেম্কো খরচ করে কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডারের থেকে আমার জন্য জেনে নিতো। আমি মাসের প্রথম সপ্তাহেই আমার বরাদ্দকৃত টেম্কো খরচ করে ফেলতাম। আপনি এই জেনে আমাকে ডানপিটে বলতে পারেন। তবে আমি চিরকাল বাঁ হাতে লিখেছি, মায়ের বাঁ কাঁধে চড়েছি, বাম...।

আমার অতিবেগুনি রশ্মিতে চোখব্যথা করলে আর বিরাট মাথাটাকে বহন করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যেতে চাইলে আমি নিজেকে নবম মাত্রায় কল্পনা করতাম। কল্পনা করতাম আমি হকিং রেডিয়েশন, আমাকে অঙ্ক কষে সবাই ধরবে, কিংবা আমি কৃষ্ণগহ্বর হয়ে সব আলো খেয়ে ফেলছি এবং নিজেকে আরো কালো করছি! আমি বাবা-মার সাথে হাইপার-ডাইভ খেলতে থাকতাম যেনো। এখানে এসে আমার চিন্তা বাবার দিকে ঘুরে যায়। এখন সামরিক কর্মকর্তা কেমন হয়? সে কি ত্রিকোণমিতি-ফাংশন অস্ত্র নিয়ে ঘুরে সারাদিন, মাঝে মাঝে কুক্কুরোড়া (কুকুর ও ঘোড়া জিনপ্রকৌশলে সৃষ্ট তীক্ষ্ম ঘ্রাণশক্তিসম্পন্ন অথচ দীর্ঘপথ দৌড়তে পারা প্রাণী) নিয়ে মধ্যরাতে বেরিয়ে পড়ে? বাবার কি মোচ ছিলো? আমি জুলপি আর মোচ আঁকতে পারতাম না, কেবল খুদে সাপের লেজ অথবা মাকড়সার হাতের মতন আঁকতাম, ম্যাডাম বকে দিতো আমি না কি বেশি কল্পবৈজ্ঞানিক চলচ্চিত্র দেখি। বাবা কি আমার জন্যই মাকে ছেড়ে গিয়েছিলো?
আন্তর্সৌরজগত জিনপ্রকৌশল কেন্দ্রে যোগ দেয়ার আগে আমি কিছু কাজ সেরে নিলাম। তাবৎ বীর্যালয়গুলোর প্রদক-তালিকা ঘেটে বাবাকে খুঁজে পেলাম, বাবা কোনো এক আশ্চর্য কারণে বীর্য ও নিজের মস্তিষ্ক দান করে গেছেন বিজ্ঞানের জন্য। তার মস্তিষ্কের একটি কপি-ও আমি হাত করে নিলাম কেন্দ্রীয় কম্পু হ্যাক করে, অল্পের জন্য তো ধরাই পড়ে গিয়েছিলিম!

প্রথম ছয় মাস আমি মনোযোগ দিয়ে সবার মন যুগিয়ে রাতদিন কাজ করে গেলাম, যেবার আমার চাকুরি পাকাপোক্ত হলো সেদিন থেকে নিজের ক্ষমতা ব্যবহার করে একটি বিশেষ প্রকল্প গড়ে তুললাম অনেক গোপনে। বাবাকে গড়বো। ডিএনএ সংগ্রহ করা হবে তার স্পার্ম আর দানকৃত দেহ থেকে। মনোদৈহিক আচরণের জন্য তার মস্তিষ্ক বিশ্লেষণ করে গড়ে তুলতে লাগলাম প্রায় অবিকল বাবাকেই, যারা অন্যতম মুদ্রাদোষ ছিলো বাচ্চাদের পানি খেয়ে মুখ মোছার মতো করে মুখে হাত বোলানো এবং গালে হাত দিয়ে বসে নখ কাটা। আমি প্রায় সফল।

আমি বাবাকে গড়ে তুলবো। এবং মারবো। এবং মেরে ফেলবো। এবং ধ্বংস করবো। আমি তাকে বুঝিয়ে দেবো পিতৃহীন শৈশবের হাহাকার এবং আমার মায়ের আদিমহাবিশ্বশূন্যতা...

7
আপনার মূল্যায়ন: আপনি মূল্যায়ন করেন নি। গড় রেটিং: 7 (২ জন মূল্যায়ন করেছেন)
শেয়ার করুন » Facebook Twitter Delicious Digg MySpace Google Orkut Blogger Google Buzz Technorati
অথবা এই সংক্ষিপ্ত লিংক শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৫৪০৮৬(১)    

এটা কি গল্প নাকি বাস্তবতা? বাস্তবতা গল্পের চেয়ে ও নিষ্ঠুর হয়! লেখা ভালো লাগছে। এ ধরণের বিষয়ে আসলে কারো কিছু বলার থাকে না।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৫৪০৮৮(২)    
লেখকের মন্তব্য

গল্পই।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৫৪০৯২(৩)    

উরিব্বাস! দূর্দান্ত লেখা! মগ্ন হয়ে পড়লাম।দারুণ চমকে শেষ করেছেন!
অনেক শুভ কামনা জানবেন!

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৫৪১৯৫(৪)    
লেখকের মন্তব্য

হা হা। শুভেচ্ছা।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৫৪০৯৭(৫)    

কবির হাতে গল্পের স্বাদ অন্যরকম।

ভালো লাগল

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৫৪১৯৬(৬)    
লেখকের মন্তব্য

এই আরকি। কেমন চলছে?

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৫৪১২১(৭)    

দূর্দান্ত!

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৫৪১৯৭(৮)    
লেখকের মন্তব্য

আরে কতোদিন পরে আপনাকে দেখতেছি! কেমনাছেন?

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৫৪১৩৮(৯)    

ভিন্ন স্বাদের গল্প! লেখককে অভিনন্দন!

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৫৪১৯৮(১০)    
লেখকের মন্তব্য

আপনাকে ধন্যবাদ।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৫৪১৫০(১১)    

ঘৃণা কিংবা ভালবাসা নয়, হিংস্রতা অনুভব করলাম।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৫৪১৯৯(১২)    
লেখকের মন্তব্য

হতে পারে।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৫৪১৫৬(১৩)    

শেষটায় টুইস্ট পেলাম, আই লাব টুইস্ট ইউ নো! :) দারুন লাগলো গল্পটা, ভালো থাকুন আশরাফ ভাই।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৫৪২০০(১৪)    
লেখকের মন্তব্য

হা হা। কেমনাছেন? :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৫৪১৬৫(১৫)    

অসাধারণ লেখা।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৫৪২০১(১৬)    
লেখকের মন্তব্য

অনেক ধন্যবাদ। :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৫৪১৮৩(১৭)    

সারছে |

আরো পর্ব হবে নাকি?

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৫৪২০৪(১৮)    
লেখকের মন্তব্য

না। এটি একটিই তিল-গপ্পো।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৫৪৩৬৭(১৯)    

কল্পকাহিনী! বাস্তবের মতই নিষ্ঠুরতা এর প্রতিটি অঙ্গে অঙ্গে। পিতৃহীন শৈশব থেকে বেড়ে উঠা একটা মানুষের অনুভূতির রেশ বোধহয় এমনই হয়! খুব ভালো লেগেছে। এমন হৃদয় কাঁপানো গল্প আরো চাই।

 

মন্তব্য করুন

এই তথ্যটি সর্বদাই গোপন রাখা হবে এবং কোন অবস্থাতেই তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
ছবি যাচাই
আপাতত: শুধু মানুষদের জন্যই আমাদের দুয়ার খোলা। পরে নাহয় রবোট, বায়োবট বা এন্ড্রয়েডদের কথা বিবেচনা করা যাবে।
5 + 9 =
এই গাণিতিক সমস্যাটি সমাধান করুন এবং সঠিক উত্তরটি উপরের ঘরে লিখুন। যেমনঃ ১+৩ এর জন্য লিখুন ৪।