ঈশান মাহমুদ-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

বিয়ের আগে আমার এক নানা আমাকে উপদেশ দিয়েছিলেন, নাতি বিলাইটা কিস্তু বাসর রাইতেই মাইরা ফেলবা, যদি না পার, তবে নিজেই বিলাই হইয়া যাইবা।’ আমি প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তাকাতেই তিনি ব্যাখ্যা করে বলেছিলেন, ‘বুঝলানা ? বাসর রাইতে বিলাই মারার অর্থ হইলো, প্রথম রাইতেই বউকে বশ কইরা ফালাইবা, যদি না পার তবে নিজেই তার বশ্যতা স্বীকার কইরা নিবা। ভুলেও তার সঙ্গে পারত পক্ষে ঝগড়ায় লিপ্ত হইবা না, তাইলে দেখবা, তুমি হইবা জগতের সবচে সুখী ব্যক্তি, আর যদি উল্টাটা কর, তবে তোমার সংসার হবে রণক্ষেত্র আর তোমার বধু হবে রণরঙ্গিনী। রণরঙ্গিনী বধুর একঘেয়ে রণ সঙ্গীত যে কতো ভয়াবহ তা তখন তুমি হাড়ে হাড়ে, রগে রগে টের পাইবা।’ নানার উপদেশ আমলে নিয়ে বার বছর বউয়ের সঙ্গে নির্বিবাদে কাটিয়ে দিলাম। কথায় আছে মনের মিল থাকলে স্বামী-স্ত্রী দুজনে নাকি এক বেঞ্চিতেও ঘুমাতে পারে। আর মিল না থাকলে এক ছাদের নীচে বসবাস করাও অসম্ভব হয়ে পড়ে। আমার স্ত্রীর সঙ্গে আমার দারুন মিল, আমার স্ত্রী আমাকে পেয়ে রীতিমতো অভিভূত, কারন আমি তার বশীভূত। আমার সংসারে তার কথাই শেষ কথা। বিনিময়ে প্রাপ্তিও কিন্তু কম নয়। না চাইতেই বউয়ের ষোল আনা ভালোবাসা পাচ্ছি, ডাইনিং টেবিলে পছন্দের মেনু গুলো পাচ্ছি। আমার একটু অসুস্থতায় তার মাত্রাতিরিক্ত উদ্বেগ আর সেবা পাচ্ছি। সুখী হওয়ার জন্য আর কি চাই !
তবে কিছু কিছু ব্যাপারে তার মাত্রাতিরিক্ত খবরদারি খুবই অসহ্য লাগে। যেমন, আমি চা খেলে নাকি প্রায়ই শব্দ হয়। যদিও আমি নিজে কখনো শব্দ পাইনা। সেদিন বিকেলে দুজনে বসে চা খাচ্ছি। খুবই রোমান্টিক পরিবেশ। এমন সময় সে বলে বসলো, খবরদার শিয়ালের মতো চু চু শব্দ করে চা খাবে না। বন্ধুরা, জীবনে কখনো কোন শিয়ালকে চা খেতে দেখছেন ? আমার বউ দেখেছে এবং সে শিয়ালটা নাকি আমি। আবার ধরুন তার কোন কথা শুনে আমি হাসছি, তখন সে বলে বসবে শিয়ালের মতো দাঁত কেলিয়ে হাসবা না। অর্থাৎ সে শিয়ালকে শুধু চা খেতে দেখেনি, হাসতেও দেখেছে। সেদিন বঙ্গবাজার থেকে খুব সস্তায় গ্রে কালারের একটা ব্লেজার কিনে আনলাম। সে দেখেই নাক সিঁটকাল, ‘শিয়ালু কালার আমার একদম না-পছন্দ’। ইদানিং আমার ফিগার নিয়েও সে অতিশয় চিন্তিত হয়ে পড়েছে। আমি নাকি ক্রমশ ‘আটার বস্তা’ হয়ে যাচ্ছি এবং হাঁটলে নাকি আমার আগে আমার ভুঁড়ি চলে। কয়দিন আগে সে আমাকে সাফ বলে দিয়েছে, ভুঁড়ি সাইজে না আনলে সে নাকি আমার সঙ্গে আর বাইরে যাবে না।
আমার বিরুদ্ধে তার আরেকটি অস্বস্তিকর অভিযোগ হলো, আমি নাকি নাসিকা গর্জন করি। যদিও এটা তার ‘সম্পূর্ন মনগড়া’ এবং ‘বানোয়াট’ অভিযোগ। প্রায় রাতেই পাঁজরে কনুইয়ের গুঁতা খেয়ে আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়, তার দিকে ঘুম ঘুম চোখে প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তাকালে সে বলে, ‘তুমি যেভাবে বাঁশী বাজাচ্ছ, একটু পরেইতো প্রতিবেশীরা সব বংশদণ্ড হাতে তোমাকে সাইজ করতে ছুটে আসবে’। নাক ডাকার ‘মিথ্যে’ অভিযোগ এনে সে আমার নাম দিয়েছে, ‘নিশিরাতের বংশীবাদক’। আমি অবশ্য এর জোরালো প্রতিবাদ করি। সে একদিন প্রমাণ স্বরূপ মোবাইলে ধারন কৃত একটি অডিও ক্লিপ শুনিয়ে দিয়ে বলে, কাল রাতে তুমি যখন বাঁশী বাজাচ্ছিলে, তখন রেকর্ড করেছি’। আমি অবশ্য ট্রেনের হুইসেল ছাড়া আর কিছুই শুনতে পাইনি।
চলবে…।

(এই লেখাটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক। কেউ যদি বাস্তবতার সঙ্গে সাদৃশ্য খোঁজার চেষ্টা করেন, তবে নিজ দায়িত্বে করবেন।)
লেখাটি চতুর্মাত্রিক এবং শব্দনীড়ে একযোগে প্রকাশিত।
মন্তব্য
শব্দনীড়ে কারে উতসর্গ কর্লেন?
লেখকের মন্তব্য
আরে নয়ন আপনিই প্রথম 'ইটা' রাখলেন ! শব্দনীড়ে নতুন ঢুকছি, এখনো কারো সঙ্গে পরিচয় ঘটে নাই । এই লেখাটির অনুপ্রেরণা আচার্যদা। তাই...।
ধুর! নয়ন ভায়া সব জায়গায় দেখি আগে চলে আসে। আমাকে উৎসর্গ করে লেখাতে আগে কমেন্ট করতে পারলাম না।
লেখকের মন্তব্য
আচার্যদা মন খারাপ কইরেন না, সবই বিধির বিধান।
আপনার কথামতো এইবার তাকে নিয়া একটু অন্যরকম লেখা লিখছি। লেখা পজিটিভ হইছেতো ! সে খুশী হপেতো !
আপনি সাহস দিলে তাকে দেখাবো।
স্ত্রীরা স্বামীদের যে দোষগুলা দেখেন স্বামীরা যদি অবলীলায় সে দোষগুলা স্বীকার করে নেন তখন স্ত্রীরা যারপর নাই খুশী হন। আর স্বামীরা যদি স্ত্রীদের সকল গুণে গুণান্বিতা বলে আখ্যায়িত করেন তাহলে সেখানে সুখের(!) ছড়াছড়ি না হয়ে পারেই না।

আর আপনার এই গল্পে ভিডিওতে যে ট্রেনের হুইসেল শুনেছেন ঐটুকুতেই কেল্লাফতে হয়ে যাওয়ার কথা। সুতরাং আমার মনে হয় নিশ্চিন্তে ভাবীকে লেখাটা দেখাতে পারেন। অবশ্য যদি বিপরীত কিছু হয়েই যায় এই আচার্য'কে নিয়ে যেন আবার টানাটানি না পড়ে। তাই একটু সাবধানে।
লেখকের মন্তব্য
ঠিক আছে আপনার উপর ভর্সা কইরা...। পরে কিছু হইলে বলবোঅনে, আচার্যদা মদত দিছে, আমার কুনু দুষ নাই।
এই রে! বুদ্ধি (নাকি কুবুদ্ধি) দিয়া এখন কোন ফাঁপড়ে পড়ি তিনিই জানেন।
আমাকে উৎসর্গ করে লেখাতে আগে কমেন্ট করতে পারলাম না। এই দুঃখ রাখসেন কই?
এই দুঃখ রাখার তো জায়গা খুঁইজা পাইতাছি না রে ভাই।

লেখকের মন্তব্য
কিছু দুঃখ আমারে ই-মেইল করতে পারেন, আমি দুঃখ দিয়ে কবিতা সাজাই....।
ভাই, দুঃখের এখন অনেক চাহিদা। আমাকে পাঠিয়ে দিন।
ভাই আমার কাছে অনেক দুঃখ। দুঃখের চাহিদা দেখে ঠিক করলাম নিলামে তুলব কিছু দুঃখ। এখন কে কত করে দিবেন বলেন দেখি।
লেখকের মন্তব্য
আগে দেখতে হপে, দুঃখ গুলো নতুন না পুরান। দুঃখ গুলো পাইলেন ক্যামনে ! দুঃখ গুলো তাজা হইয়া থাকলে আমরা না হয় বোর্ড বসাইয়া সিদ্ধান্ত নিবো কিভাবে দুঃখ গুলোকে সাইজ করা যায় ! আর পুরান দুঃখ হইলে ঐগুলা আপনার পোষা দুঃখ, আপনার ভিতরেই থাকুক।
আরে আজকে নয়ন ভায়া যে দুঃখটা দিলেন সেটা একেবারে তরতাজা। আগে ঐটাই নাহয় বিক্রি করে ফেলি।
ঈশান ভাইয়ের সাথে একমত। আগে সব বলেন দেখি। আমি বেশি দামে নিব।
লেখকের মন্তব্য
যাক আপনের দুঃখের 'ক্রেতা' পাওয়া গেল ।
ঈমা ভাইকে প্রথমেই ধন্যবাদ জানাই লেখাটি আমাকে উৎসর্গ করেছেন বলে। সম্মানিত বোধ করছি নিজে।

আর গল্পের কথা কী বলব? এক কথায় অসাধারণ। তবে কাল্পনিক বলে চালিয়ে দিতে চাইলেও সাধারণ বিবাহিত পুরুষরা কতটুকু কাল্পনিক বলে মেনে নেবেন সে বিষয়ে আমি যথেষ্ট সন্দিহান। (আমিও ছয় বছর যাবত বিবাহিত কিনা)
ঘরে ঘরে আপনার মত সোয়ামী জন্মাক
ইয়ে এইখানে জন্মাক কথাটা ঠিক হইলো না
আসলে ঠিক শব্দটাও পাইতেছিনা, কিন্তু কি বুঝাইতে চাই এইটা মনে হয় বোঝা যাচ্ছে?
লেখকের মন্তব্য
এইটা ঠিক বলছেন জলরঙ। ঘরে ঘরে আমার মতো 'সেক্রিফাইজিং মাইন্ডের' স্বামী থাকলে ঘরে ঘরে যে সুখের নহর বইবে, এটা নিশ্চিত।
শব্দটি বোধহয় হবে " ঘরে ঘরে আপনার মতো সোয়ামীর মুখোস ছড়িয়ে পড়ুক"।
তাইনা জল?
লেখকের মন্তব্য
ও জলরে জিজ্ঞেস করছেন ! তাই আমি কিছু বললাম না। শুধু জাতি জানতে চায় দাদা কেন 'কুম্ভকর্ণ' হইল !
দাদা ক্যানো কুম্ভকর্ণ? এর উত্তর আমার " জীবনের প্রথম চোর দর্শন" পোস্টে বর্ননা করেছি।
" সংসার সুখের হয় রমনীর গুনে
বুদ্ধিমান স্বামী যদি থাকে তার সনে"
ভাই ঈশান সংসারে সুখ, শান্তি বজায় রাখতে স্বামী/ স্ত্রী দুজনের ভূমিকাই সমান। আপনি যতই এ পোস্টের গায়ে কল্পনার মোড়ক পরাতে চান না কেনো, এটাই সত্যিরে ভাই।

আর বয়সের সাথে সাথে ঘ্যানঘ্যানানী এমনিতেই কমে যাবে। তোমাদের মতো বয়সে আমি একদিন একটি ম্যাগাজিনে পড়লাম যে, " যেসব স্ত্রীরা ন্যাগিং করেন স্বামীদের চোখে তারা চরম বিরক্তিকর!
ব্যাস! আমার ন্যাগিং করা চিরতরে বন্ধ!!!!!
লেখকের মন্তব্য
সুরঞ্জনাদি আপনার কমেন্টের জবাবে একটু সিরিয়াস না হয়ে পারলাম না। আমি বুদ্ধিমান কিনা জানিনা, কিন্তু আমার স্ত্রী যে বুদ্ধিমতী, এতে কোন সন্দেহ নেই। তার সঙ্গে আমার মনের মিল না থাকলে কিছুতেই একযুগ পার করা সম্ভব হতো না। সুখে দুঃখে সারাজীবন তার সঙ্গেই থাকতে চাই। তবে সে আমাকে , আমি তোকে নিয়ে অনেক মজা করি, কিছু মজা আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করলাম। দেটস অল । অনেক শুভ কামনা।
সুখী হতে হলে বুদ্ধিমান/বতী হতে হবে এমন কোন কথা নেই ঈশান। আর এইযে লেখাগুলো এগুলো মানুষ সুখী না হলে আসেনা। আমাদের তো একদিন ঠুকাঠুকি না হলেই দিনটা ক্যামন যেন পানসে মনে হয়। দাম্পত্য জীবনে ছোট-খাট ঠুকঠাক, এসব তো লবনের মতো যা না থাকলে জীবন আলুনি হয়ে যেতো।
সুখে থেকো সতত।
লেখকের মন্তব্য
খুব সুন্দর বলেছেন। মনে থাকবে আপনার কথা গুলো। ভালো থাকবেন আমার প্রত্যাশার চেয়েও বেশী।
চমৎকার!
---------------------------------------
আমি যে কারো বর্শীওয়ালা, আমারে ভুত বানানো খুব কডিন, আর আমি নিজেও কাউরে ভুত বানাইতে চাই না, আমার যে কি হপে!
লেখকের মন্তব্য
হা হা হা পদ্ম ভাই সে ক্ষেত্রে আপনাকে ভাবী বলে বসতে পারে, 'অদ্ভূত'।

অনেক ধন্যবাদ এবং শুভ কামনা।
সকাল সকাল দারুন এক্তা লেখা পরলাম। মজা লাগল অনেক। অনেক ভাল লিখেন ।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ সাকিবা। আপনার মজা লাগায় অনুপ্রাণিত হলাম। অনেক শুভ কামনা।
দারুণ ভ্রাতা। আপনার সুখে সকল বিবাহিতরা সুখী হোক। এই কামনাই।
লেখকের মন্তব্য
তোমাকে অনেক ধন্যবাদ ভ্রাত। শুভ কামনা রইল।
অনেক হাসলাম ঈমা ভাই,
তবে আপনার সব কথা বিশ্বাস করলাম না,
তার মুখ না না কীবোর্ডে তার হাত থেকে শুনতে না না পড়তে চাই। তবেই....
লেখকের মন্তব্য
সে কখনো অন্তত আমার কি বোর্ডে আঙুল রাখবেনা চৈতি'পা। উল্টো হুমকি দিয়েছে, আমার কম্পু 'ভাইঙ্গা ফেলবে'। কম্পুর নিরাপত্তার জন্য কি ব্যবস্থা নেয়া যায় বলুনতো ?
মধুরেনুর বাঁশি চলুক আজীবন
লেখকের মন্তব্য
আহারে...কি সুন্দর বিশেষণ 'মধুরেনুর বাঁশি'। আপনার উপমায় হৃদয় জুড়াইয়া গেল্ । শুধু আমার বধু এই মধুরেনুর সুর বুঝলো না। আমাদের ভাইজান (আপনার উনি) কত সৌভাগ্য বান !
মারহাবা, মারহাবা।
চলুক, চলুক!
নির্যাতিত স্বামীদের সাথেই আছি।
লেখকের মন্তব্য
আসেন মানিক ভাই কোলাকুলি করি। কিন্তু আমি 'নির্যাতিত' এইটা বল্ল কে !

আরে দূর এই সব তো ভালোবাসার নির্যাতন !
মাইরের ডরে সান্দাইয়া গ্যালেন মনে অয়!
লেখকের মন্তব্য
নিজেরে দিয়া অন্যরে বিচার কইরেন না দাদা।
বৌদি বুঝি আপনেরে....।

গুমর ফাঁস করে দিলেন ঈশান ভাই।

ইশ রে! কত্ত বুদ্ধি রে!
হুম, হুম; ভালুবাসার নির্যাতন মন্দ নহে ক্ষেত্রবিশেষে!
চলতেই থাকুক এই লেখাগুলো।চরম মজা পাচ্ছি শিয়াল পন্ডিত ভাইয়া


লেখকের মন্তব্য
অন্যের 'দুরাবস্থা' দেইখা হাসতে নাই কা.নৌ, তোমার কপালেও 'একটা শিয়াল পন্ডিত' নাজেল হইতে পারে।
শেয়াল্কে গলায় দড়ি বেঁধে ঘুরাবে ভাই। তাইতো হাসছে।
হাহাহা। বেশ লাগলো।
হাহহাহাহহাহাহাহহাহাহাহা
সকালে ইটা রেখেই পালাইসি!
---
এখন এসে লেখার মজা সবটুকু আস্বাদন করলাম!!
---
ঈমা ভাই, কাল একটা দুঃস্বপ্ন দেখলাম!!
ঈমা ভাই সম্ভবত জেগে নাই। আমাদের সাথেই দুঃস্বপ্নটা শেয়ার করেন।
লেখকের মন্তব্য
কি দুঃস্বপ্ন দেইখা ভয় পাইছেন ! কোন ব্যাপার না, সমাধান আছে, আগে বলেন দুঃস্বপ্নটা কি ?
চারজনকে নিয়ে দেখলাম।
চারজনের পোস্টে একযোগে প্রকাশ করবো।
অপেক্ষায় থাকলাম।
এতগুলা ইমো দিয়াও মনে অয় ঠিক বুঝাইতে পারলাম্না।
ভাই আরো চাই।
লেখকের মন্তব্য
জামি ভাই, আপনিতো 'মজা' পাইয়া হাসতেছেন। কিন্তু আমারতো মনে হয় এখন নিঃশ্বাসেরও বীমা করতে হপে।
ঠিক আছে। ঐটাও বীমা কইরা ফালান।
আপ্নার লেখাটা পইড়া এই গল্পটা মনে পর্সে। জানেন বোধহয়। তবুও বলি।
---
একবার এক লোক তার নববিবাহিত স্ত্রীকে নিয়ে ঘোড়ায় করে ফিরছিলেন নিজের বাড়ী(বিয়ের দিনই আর কি)। পথিমধ্যে ঘোড়া একবার হোঁচট খেল। লোকটা গম্ভীর গলায় বললো, একবার!
কিছুদূর যাওয়ার পর ঘোড়া দ্বিতীয়বারের মতো হোঁচট খেল। লোকটা গম্ভীর গলায় বললো, দুইবার!
তৃতীয়বারের মত ঘোড়া হোঁচট খেলে লোকটা নেমে গেল এবং নবপরিণীতাকেও নামতে বলল। বউ নেমে যাওয়ার পরপরই লোকটা ঘোড়ার কল্লা ফেলে দিলো! মানে, খতম!
---
যাই হোক ওই ঘটনার পর ওই লোকটার বউ কখনও উল্টাপাল্টা কিছু করলে বা বললেই হুংকার দিয়ে উঠতো, একবার!
---
বুঝলেন কিছু?
বাসর রাতে বিলাই মারার গল্পটাও ঠিক এইরকম।
বাসর রাতে বর বউয়ের সাথে কথা বলছে, ঠিক এইসময় একটা বিড়াল (বর আগেই বাসর ঘরে রেখেছিল) মিও করে ডেকে উঠল। বর বলল এই আওয়াজ করবি না। দ্বিতীয়বারও একই কথা বলল। তৃতীয়বার মিও বলার পরে একটা লাঠি দিয়ে জোরে আঘাত আর সাথে সাথে বিড়াল অক্কা পেল। বাকীটা তো আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে বিড়ালকে তাড়া করে মারতে বরটার অনেক কষ্ট করতে হয়েছিল।
লেখকের মন্তব্য
দাদা, আপনে কি বিড়াল মারতে পারছিলেন ?
নারে ভাই। চেষ্টাই করি নাই। মুরুব্বীরা নিষেধ করছিলো যে। বাসর রাতে নাকি মানা।
লেখকের মন্তব্য
মুরব্বীরা বোধহয় ঈর্ষা কইরা নিষেধ করছে।
হইতে পারে। কিন্তু আপনি কি করছিলেন। পারছিলেন নি মারতে?
লেখকের মন্তব্য
আমি লোডশেডিংয়ের মধ্যে কি করছি, মনে নাই ।

ভাই ঘরে টর্চলাইট বা চার্জলাইট ছিলোনা?
লেখকের মন্তব্য
এই সব খুঁজার টাইম ছিল না ।
হায় হায় ঈমা ভাই বলেন কি! অন্ধকারে কি মারতে কি মাইরা ফালাইছেন কেডা জানে!
লেখকের মন্তব্য
নাহ্ , কেউ মরে-টরে নাই, সকাল বেলা দেখি সবই ঠিক আছে ।
ধুর! আর বেশি গভীরে যাইয়া লাভ নাই। এখানেই শেষ।
লেখকের মন্তব্য
হা হা হা
লেখকের মন্তব্য
'বিলাই মারার গল্প' শুনছি, এইটা দেহি 'ঘোড়া মারার গল্প' !!!

অনেক ধন্যবাদ নয়ন ভ্রাত।
আরে, দন্যবাদ প্রাপ্য তো আপনার।
এমন লেখা লিখসেন বইলাইতো মনে পর্সে।
আগে পড়লাম বাসর রাতে বিড়াল মারা, আর এখন দেখি নয়ন ভাই আরো একধাপ এগিয়ে, বিয়ের পরেই ঘোড়া কাটা।
এক্কেবারে কল্লাকাটা!
পোস্ট আর কমেন্টু পড়তে পড়তে হাসি থামানো মুশকিল! তয় বিবাহিত জীবনের চেহারা দেইখা কিঞ্চিৎ ডর খাইসি! সরকার চাকরীর মেয়াদ দুই বছর বাড়ানোর সাথে সাথে আমরা (ব্যাচেলররাও) বিয়ের শিডিউল দুই বচ্ছর পিছায়া দিসি - এখন মনে হইতাসে, ভালই করসি!

ঈমা ভাইরে নববর্ষের অগ্রিম শুভেচ্ছা।
লেখকের মন্তব্য
বিয়ের শিডিউল দুই বচ্ছর পিছায়া দিয়া বোধ হয় ঠিক করেন নাই শব্দপুঞ্জ ভাই। সব কিছুতে দুই বছর পিছাইয়া গেলেন।

নতুন বছরের শুভেচ্ছা আপনাকেও। ভালো থাকবেন আমার প্রত্যাশার চেয়েও বেশী।
ব্যাপার্না! মুরুব্বীরা কইসেনঃ
আগে গেলে বাঘে খায়,
পিছে গেলে সোনা পায়!!!
আমার মনে হয় এখানে 'সোনা' না হয়ে অন্যকিছু হবে।
বাংলা ব্যাকরণে "সমার্থক শব্দ" বলে একটা চ্যাপ্টার আছে, জানেন তো
! থাক, আর ভিত্রে গেলাম না!
ভিত্রে না গেলে তো ভাগ্য গণনা করা যাইবে না। হাতের রেখাই যে মুইছা যাবে।
মজা পেলাম।
না না কারো সাথে সাদৃশ্য খোঁজার চেষ্টা করিনি
লেখকের মন্তব্য
পদম ভাই, (সম্বোধন ঠিক আছেতো ? সংশয়ে আছি) আপনার সন্দের কারন কি ?

নববর্ষের শুভেচ্ছা ।
নামের বানাম ভুল করছেন, 'দ' আর 'ম' ত এক লগে হবে!

---------------------
সন্দ করলাম, কারন, অনেকটা ঠাকুর ঘরে কেরে, আমি কলা খাই না টাইপ মনে হইলো! তাই আর কি!
লেখকের মন্তব্য
সাদৃশ্য খোঁজার চেষ্টা করেন নাই । ভালো হইছে। 'কাল্পনিক' বিষয় নিয়া মাথা ঘামানোর দরকারটা কি !

তয় মজা পাইছেন শুইনা প্রীত হইলাম ভাই প্রতীপ।আপনার জন্য নতুন বছরের শুভেচ্ছা এবং শুভ কামনা রইল।
আমার স্ত্রী আমাকে পেয়ে রীতিমতো অভিভূত, কারন আমি তার বশীভূত।
তোমার কথা শুনে ছাগলেও হাসবে। মিথ্যার ঝরনা।।।।।।।
হায় হায়! উদরাজী ভাই এইটা কি কইলেন! আমরা সবাই যে হাসতাছি।
লেখকের মন্তব্য
আচার্যদা, আপনি দাঁত বাধাঁইলেন কবে ?
লেখকের মন্তব্য
লেখকের মন্তব্য
পড়ার ফাঁকে ঈশান ভাই এর পোস্টের জবাব নাই। মন হাল্কা, মাথা ঠাণ্ডা । আর ফুরফুরে মেজাজ। দাদাআআআআআআআআআআ
অনেক ধন্যবাদ । সব রম্য পোস্টের জন্য।
লেখকের মন্তব্য
অনেক অনেক ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা সাকিবা আপু । আমার 'এলেবেলে' 'স্থুল' পোস্ট ভালো লাগে জেনে প্রীত হলাম।
মন্তব্য করুন