একুয়া রেজিয়া-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি


১
সকাল বেলা স্কুলে এসেই আনাফের মন খারাপ হয়ে গেলো যখন সে শুনলো সাকিব আর শ্রেয়া সৌলমেট হয়ে গেছে। শ্রেয়াকে আনাফ অনেক দিন থেকে খুব লাইক করে কিন্তু শ্রেয়া এত্ত মুডি যে ওর সাথে ঠিক মত কথাই বলে না। এরমাঝে সাকিব কিভাবে যে এত্ত ক্লোজ ফ্রেন্ডশিপ করে সৌলমেট হয়ে গেলো কিছু বুঝতে পারলো না আনাফ। মন খারাপ করে সে সেদিন টিফিনই খেলো না, মেন্টাল ম্যাথ বইটা ব্যাগে থাকার পরেও ক্লাসের সময় খুঁজে পেলোনা আর ছুটির আগ পর্যন্ত একটু পর পর শ্রেয়া আর সাকিবকে দেখতে থাকলো।
সেদিন বাসায় এসে আনাফের কিচ্ছু ভালো লাগছিলোনা। ডরেমনের কার্টুন, প্লে স্টেশনের খেলা, ফ্রিজে থাকা বিদেশি চকলেটের স্বাদ সবই তার কাছে কেমন বাজে বাজে লাগছিলো। তার মা অফিস থেকে এসে তাকে বারকয়েক জিজ্ঞেস করলেন তার কি হয়েছে কিন্তু সে কিছুই বলল না। রাতে সে কোন রকমে হোমওয়ার্ক শেষ করে, অল্প কিছু খাবার খেয়ে নিজের রুমে শুয়ে পড়লো। প্রতিদিন রাতেই সে এমন করে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়ে আর নানান কিছু ভাবতে থাকে... সেদিনও আনাফ ভাবছিল স্কুলে তার তেমন কোন বন্ধু নেই। কেন জানি সে কারো সাথে মিশতে পারেনা। সবাই কেমনে কেমনে জানি একে অন্যের ভালো বন্ধু হয়ে যায়, কিন্তু তাকে কেউই পছন্দ করে না। এইভাবে মটকা মেরে ঘুমিয়ে থাকতে থাকতে কত রাত হল আনাফ জানেনা। যখন তার চোখটা ঘুমে একটু লেগে এলো তখন সে শুনতে পেলো কেউ কলিং বেল বাজিয়েছে। নিশ্চয়ই আব্বু! আনাফ ঘুমের রেশ নিয়ে পাশ ফিরলো, ঠিক তখুনি তীক্ষ্ণ কন্ঠের কথায় তার ঘুমের সবটুকু রেশ কেটে গেলো...আম্মু তার আব্বুর সাথে কথা বলছে।
-আজও দেরি করে এসেছ?
- অফিসের পরে মিটিং ছিল, নতুন প্রজেক্টে হাত দিয়েছি সেই সব নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রাত হল। সময়ের খেয়াল ছিলনা।
-আমি ফোন করেছি কয়বার বলতো? কয়টায় আসবে ফোন করে বলতে পারতে না? তুমিও জব কর আর আমিও করি। কই আমি তো এমন করিনা... আসলেই কি মিটিং এ ছিলে নাকি কই ছিলে কে জানে!!!
-বাজে কথা বলবে না লাবন্য...আনাফ শুনতে পাবে। আমি কোন কাজ করেছিলাম, কি কাজে ছিলাম তা তুমি বুঝবে না...
-আনাফ ঘুমাচ্ছে। তোমার ছেলে প্রতিদিন রাতে খেতে বসার সময় তোমার কথা জিজ্ঞেস করে। সকালে ও উঠার আগে তুমি কাজে চলে যাও আর রাতে ওর ঘুমানোর পরে তুমি আসো। ছুটির দিনেও তোমাকে পাওয়া যায় না...ওর প্যারেন্টস মিটিং এ আমি একাই যাই। একজন বাবা কি এমন জঘন্য ইরেস্পন্সিবল হয় নাকি তার সন্তানের প্রতি! সংসারের প্রতি! ছিঃ...
-লাবন্য...এই বছরের মধ্যে ফ্ল্যাট কিনতে হবে, সামনে প্রমোশনের ব্যাপার আছে, আমার দম ফেলার সময় নেই। এরমাঝে যদি তুমি এসব উলটা পালটা কথা বল, ইম্যাচিউর বিহেভ কর তাহলে কিভাবে হবে? বাসায় এসে প্রতিদিন এসব সস্তা ইমোশন দেখতে ভালো লাগে না আমার...
-সস্তা ইমোশন??? লাবন্য কয়েক মুহূর্তের জন্যে যেন কথা খুঁজে পায়না। স্ত্রী-সন্তান কে সময় দিতে বলা সস্তা ইমোশন? তোমার জন্যে আমি রাত জেগে বসে থাকি সেটাও সস্তা ইমোশন? রিয়াদ, আমিও জব করি, তোমার মত আমিও যদি এমনি করে প্রতিদিন রাত সাড়ে এগারোটায়, বারটায় বাসায় আসতাম তখন কি করতে?
-ওহ! ফর গড সেক চুপ কর। তোমার জায়গায় হলে আমি তোমার সমস্যাটা বুঝতে চেষ্টা করতাম, ধৈর্য ধরতাম আর আনাফ কে বলতাম- বেটা, তোর মা আজকাল ব্যস্ত কিন্তু আমি আছি তোর পাশে। একটু সবুর কর কিছু দিনের মাঝে আমরা তিন জন মিলে অনেক আনন্দ করবো।
-হাহ! তাই নাকি!!! এইসব বলা সহজ কিন্তু সহ্য করা কঠিন। তোমার মত এত গুছিয়ে মিথ্যে কথা আমি বলতে পারবো না...আমি তো আবার সস্তা ইমোশনের মানুষ। আমাকে দিয়ে এসব হয়না... হিসহিসিয়ে বলে লাবন্য-
আনাফ বুঝতে পারে তার বাবাও রেগে গেছে, কিছুক্ষণ পর সে শুয়ে থেকেই বুঝতে পারলো বাবা তার বালিশ নিয়ে ড্রইং রুমে ঘুমাতে চলে গেছে। আর মা বেড রুমে রেগে গিয়ে একা একা কথা বলছে আর বাবাকে বকাঝকা করছে। একসময় সেই বকা থেমে গেলো আর তার মায়ের কেমন যেন একটা কান্নার শব্দ আসতে থাকলো। আনাফের এত্ত মন খারাপ হল যে বলার মত না। তার মনে হল আম্মুর কাছে গিয়ে কান্না মুছিয়ে দেয়, কিন্তু সে তেমন কিছুই করলো না, গুটিসুটি মেরে বিছানায় শুয়ে থাকলো...
২
-সাকিব, একটা কথা বলি তোকে?
-নোপ, আই এম বিজি নাও...
-ওহ! ওকে...
- আরে আমি ফান করলাম, বল...
-আচ্ছা তুইকি শ্রেয়াকে বড় হয়ে বিয়ে করবি! ঝট করে জিজ্ঞেস করে বসে আনাফ।
-সাকিব ফ্যাকফ্যাক করে হেসে বলে-মে বি। কেন?
- না মানে ওতো খুব ভালো একটা মেয়ে। যদি ওকে তুই বিয়ে করিস তাহলে কখনো ঝগড়া করিস না বা রাত করে বাড়ি আসিস না।
-সাকিব একটু অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে আনাফের দিকে। তারপর একটু গা ঘেঁসে বসে বলে- ইজ এনিথিং রং উইথ ইউ!!! এসব কেন বলতেসিস?
- একটা কথা বলি, তুই কাউকে বলিস না। একটু থেমে মাটির দিকে তাকিয়ে বলে আনাফ...- আমার আব্বু-আম্মুর মনে হয় ডিভোর্স হয়ে যাবে। আব্বু প্রতিদিন দেরি করে আসে আর ওরা ঝগড়া করে। ঝগড়ার শেষে আম্মু একা একা কাঁদে। তাই বললাম প্লিজ তুই শ্রেয়াকে কষ্ট দিস না।
-আমি শ্রেয়া কে কষ্ট দিবো না আর আয়রন ম্যানের প্রমিস আমি কাউকেই তোর আব্বু-আম্মুর ব্যাপারে বলবো না । সাকিব সিরিয়াস মুখ করে বলে।
আনাফ অল্প করে হাসে। সাকিব ছেলেটাকে এতদিন সে যতটা দুষ্ট ভেবেছিলো, আসলে সে ততটা দুষ্ট না।
কিন্তু এরপরের ক্লাস শেষ হবার আগেই পুরো ক্লাসের সবাই জেনে যায়, আনাফের আব্বু-আম্মু প্রতিদিন ঝগড়া করে, খুব জলদি তাদের ডিভোর্স হয়ে যাবে তখন নাকি আনাফের এই স্কুলে পড়ার সামর্থ থাকবে না। সাকিব তার প্রমিস রাখেনি। ক্লাসের সবাই আনাফ কে নিয়ে ফিসফিস করে কথা বলতে থাকে। ওর বাবা মার ডিভোর্স হয়ে গেলে ওকে কি অনাথ আশ্রমে দিয়ে দেওয়া হবে নাকি তাও অনেকে কল্পনা করে ফেলে। আনাফের দু চোখ দিয়ে পানি চলে আসে। সাবিকটা এত্ত মিথ্যুক কেন? কেন সে এসব সবাইকে বলতে গেলো। ও বেঞ্চে কাঠ হয়ে বসে মাটির দিকে তাকিয়ে থাকে, শ্রেয়া ওর দিকে কেমন জানি করুনা নিয়ে তাকিয়ে আছে, সাকিব ওর পাশে বসে ফ্যাকফ্যাক করে হাসছে। আনাফের মরে যেতে ইচ্ছে করছে। শ্রেয়ার সামনে সে কিছুতেই কাঁদবে না, তাহলে সবাই তাকে আরো ইন্সাল্ট করবে আর বোল্ড করবে। আনাফ দাঁতে দাঁত চেপে বসে থাকে। ওর মনের ভিতরটা পুড়ে ছারখার হতে থাকে।
-এই নে...ছবিটা দেখ।
আনাফ তাকিয়ে দেখে তাদের ক্লাসের সবচেয়ে কালো আর অহংকারী মেয়ে আনিশা তার পাশে এসে বসে একটা কাগজ এগিয়ে দিয়েছে। আনিশা অনেকদিন মালয়শিয়াতে ছিল, তারপর ওর বাবার বদলির কারণে ঢাকায় এসে তাদের স্কুলে ভর্তি হয়েছে। অনেক মুডি মেয়ে, কারোর সাথেই কথা বলে না আর অনেক অনেক পড়ালেখা করে আর গল্পের বই পড়ে। সেই মেয়ে তার পাশে এসে বসেছে তা দেখে আনাফ অন্য সময় হলে অনেক সারপ্রাইজড হত। কিন্তু এখন তার মন এতই খারাপ যে সে কোন আগ্রহই বোধ করলো না। তারপরেও ভদ্রতা সুলভভাবে সে তাকিয়ে দেখে কাগজে বিশাল বড় একটা পেস্ট্রি কেকের ছবি আঁকা।
এইবার সে একটু অবাক হয়েই বলে-কেকের পিক দেখে আমি কি করবো?
-আচ্ছা বলতো, এমন একটা কেক বক্সে না রেখে ওপেন করে রাখলে কি হবে?
-আনাফ ঢোক গিলে বলল। মাছি আর মশা বসবে। এই মেয়েটাকে সে অনেক ভয় পায়। সে কি এমন করলো যে তাকে এসব কথার উত্তর দিতে হচ্ছে তা সে ভেবে পেলোনা।
-ওয়েল, একজাক্টলি এইটাই হবে। সো তুই যে তোর আব্বু-আম্মুর কথাটা সাকিবকে বলেছিস তার মানে হল তুই তোর ফ্যামিলির পেস্ট্রি কেকটাকে ওপেন করেসিস। তাই ক্লাসের সবাই এখন মশা, মাছি হয়ে ভনভন করছে। বুঝেসিস? নেক্সটে এমন করে কেক ওপেন করবি না ইডিয়ট।
আনাফ হা করে তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষণ। সে কখনো কল্পনাও করেনি একটা কেকের ছবির এমন অর্থ থাকতে পারে। তার কান্না কান্না ভাব দূর হয়ে গেলো। সে চোখ বড় বড় করে বলল-আচ্ছা করবো না...
আনিশা যেমন হুট করে আনাফের পাশে বসেছিল ঠিক তেমনি হুট করেই সে নিজের ডেস্কে এমনভাবে চলে গেলো যেন কিছু হয়নি। আনাফ পেস্ট্রি কেকের ছবিটা যত্ন করে রেখে দিলো।
৩
সেইদিন দুপুরে বাসায় এসেই আনাফ পেস্ট্রি কেকের পিকটা তার রিডিং টেবিলের সামনে ওয়ালে গাম দিয়ে আটকে দিলো। লাঞ্চ করার পরে সে শুয়ে শুয়ে কেকের পিকটা দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে গেলো। ঘুমের মাঝে দেখলো শ্রেয়া বিশাল বড় একটা পেস্ট্রি কেকের জামা পরে একটা পার্টিতে যাচ্ছে। আনিশা একটা ডাইনোসরের মুখোস পরে ওকে ভয় দেখাচ্ছে। এমন সময় আব্বু কোথেকে এসে বলছে যে আম্মুকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না আর আনাফ পাগলের মত দৌড়ে দৌড়ে আম্মু কে খুঁজে বেড়াচ্ছে। আম্মু...আম্মু...আম্মু...আনাফ চিৎকার করতে চাইছে তাও তার গলা দিয়ে কোন স্বর বের হচ্ছে না...আনাফ ছটফট করছে, কাঁদছে কিন্তু তাও কথা বলতে পারছে না...
ঝট করে উঠে বসল আনাফ। গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। বুকের ভেতরটা ধক ধক করছে তার। রুম অন্ধকার অর্থাৎ সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছে। লাফ দিয়ে বিছানা থেকে নেমে পড়লো ও, তারপর এক ছুটে দেখতে গেলো আম্মু অফিস থেকে এসেছে কিনা! আম্মুর রুম খালি। রান্নাঘরে শুধু বুয়ার কাজের খুটখাট শব্দ হচ্ছে। আম্মু এখনো অফিস থেকে আসেনি। আনাফের ভিতরটা ভয়ে কুঁকড়ে যাচ্ছে। নানুমা বলেন- মানুষের অনেক স্বপ্নই নাকি সত্যি হয়ে যায়। আল্লাহ না করুক এই স্বপ্নটা সত্যি হয়ে যাবে না তো! আম্মু কেন বাসায় আসছে না? আনাফ কেমন যেন দিশেহারা হয়ে যায়। ড্রয়িং রুমের এক কোনার সোফায় সে গুটিসুটি মেরে বসে থাকে। তারপর এক সময় নিজের অজান্তেই সে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে থাকে।
লাবণ্য যখন অফিস করে বাসায় ফিরে ঘড়িতে সময় তখন প্রায় সাতটা। বাসায় এসে সে আবিস্কার করে তার রাজপুত্রটি আজ তাকে ছুটে এসে জড়িয়ে ধরেনি। সে কি নাস্তা নিয়ে এসেছে তা জানার জন্যে কেউ তার পাশে আঁকুপাঁকু করছে না। ছ্যাঁত করে উঠে ওর বুকের ভেতরটা...বেশ কিছুক্ষণ পর আনাফকে আবিস্কার করে ড্রয়িং রুমের কোনার এক সোফায় সে গুটিসুটি মেরে বসে আছে। লাবণ্য ছুটে যেয়ে আনাফকে ধরে দেখে তার ৯ বছরের বাচ্চাটার দু গালে শুকনো কান্নার দাগ। সাথে সাথে সে আনাফকে ঝাপটে ধরে প্রশ্ন করে তার কি হয়েছে? লাবণ্য মনে করে হয়ত স্কুলে কোন কিছু হয়েছে। বেশ অনেকক্ষণ পরে এটাসেটা নিয়ে কথা বলে লাবণ্য জানতে পারে আনাফের কান্না ও ভয়ের কারণ। নিজের সন্তানের জন্যে তার মনটা হু হু করে কেঁদে উঠে। সে আনাফকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রাখে আর বলে- বাবা, এই যে আমি। আমি কোথাও যাইনি। আজকে তোর জন্যে প্যাস্টেল কালার আনতে যেয়েই বাসায় ফিরতে দেরি হয়ে গেলো। আনাফ প্রায় ফিসফিস করে বলে- আম্মু তুমি আমাদের ছেড়ে কোথাও চলে যাবে নাতো!!! লাবন্যর চোখ ভিজে আসে...সে আনাফকে বুকে জড়িয়ে বলে- না রে বাবা, কোনদিনও যাব না। কোত্থাও যাব না।
লাবন্য তার ছেলেকে বুকে নিয়ে সেইখানেই বসে থাকে। এই ব্যস্ত জীবন, চাকরী, কাজ, সম্মানের কি মূল্য যদি একজন মা প্রয়োজনের সময় তার ছোট্ট সন্তানের পাশেই না থাকতে পারে? লাবন্যর চোখ দিয়ে টপটপ করে কান্না ঝরে পড়ে। অল্প শিক্ষিত থাকায় ও মূলত গৃহিণী থাকায় সারা জীবন সে তার মাকে আব্বার কাছে খোঁটা শুনতে দেখেছে। তার মায়ের জীবনের অবমাননা আর কষ্টই ছিলো লাবন্য শিক্ষা জীবনের অনুপ্রেরণা। সে এত পড়ালেখা করে গৃহিণী হতে চায়নি। মূলত বহু কাঠখড় পুড়িয়ে সে এখন অনেক ভালো পোষ্টে কাজ করছে। তবুও প্রতিনিয়ত তাকে তার কাজের ও যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে যেতে হয়। অফিসের ডেস্কে কোন ছেলে যদি নিজের ফ্যামিলি ফটো রাখে তো সবাই বলবে- আহা! ছেলেটা কত ভালো আর পরিবারভক্ত। আর মেয়েদের ডেস্কে এমন ফটো থাকলে শুনতে হবে-কর্পোরেট জীবনেও সংসার মেয়েমানুষের পিছু ছাড়ে না। এসব বিভেদ দেখতে দেখতে এখন লাবণ্য ক্লান্ত। তার উপর রিয়াদের সংসারের প্রতি খামখেয়ালিপনা আজকাল ওকে বড্ড পীড়া দেয়। আনাফটা একা একাই বড় হচ্ছে, যত কিছুই হোকনা কেন মা-বাবার অভাব কখনোই কেউ পুরণ করতে পারে না। যেই সময় ৯ বছরের একটা ছেলের কাছের বন্ধু হবে তার বাবা-মা সেই সময় কিনা বাবুগুলো ডরেমনের মত কার্টুনগুলোতে নিজের সঙ্গী খুঁজে পায়। কোন মানে হয় এই উন্নত জীবনের, এই সব পার্থিব ঠুনকো প্রাপ্তির!!! নাহ, কোনই মানে হয় না। লাবন্যর ক্ষুধা, তৃষ্ণা, ক্লান্তি সব যেন মরে যায়, আনাফকে জড়িয়ে ধরে সে ঠায় বসে থাকে। আনাফও ছোট্ট বাচ্চার মত লাবন্যর গা ঘেষে তাকে শক্ত করে ধরে রাখে। আম্মুকে সে কোথাও হারিয়ে যেতে দিবে না। কিছুতেই না...
৪
রাত ১১টা।
রিয়াদ বাসায় ঢুকেই বুঝতে পারে, বাসার পরিবেশ থমথমে। লাবন্য ঘর অন্ধকার করে বসে আছে। রিয়াদ একটু অবাকই হয়- কি ব্যাপার, রুম অন্ধকার করে বসে আছ কেন?
-রিয়াদ তোমার সাথে আমার খুব জরুরী কিছু কথা আছে।
-৩০ মিনিট টাইম দাও। আমি ফ্রেশ হয়ে ডিনার করি তারপর কথা বলবো।
- ফর ইউর কাইন্ড ইনফরমেশন, ৩০ মিনিট অপেক্ষা করার মত সময় আমার কাছে নেই। ঠান্ডা গলায় বলে লাবন্য।
মনে মনে প্রমাদ গুনে রিয়াদ। তারপর লাইট জ্বালিয়ে ধপ করে বসে পড়ে বিছানার উপর।–আচ্ছা বল কি বলবে...
অনেকক্ষণ অন্ধকারে থাকার কারনে উজ্জ্বল আলোতে চোখ কুঁচকায় লাবন্য আর চিৎকার করে উঠে-বাতি নেভাও। এন্ড ক্লোজ দ্য ডোর রাইট নাও...রিয়াদ বিস্মিত হয়ে দেখে লাবন্য দু চোখ লাল হয়ে আছে। বোঝাই যাচ্ছে অনেক কান্নাকাটি করেছে সে। রিয়াদ দ্রুত বাতি নিভিয়ে ঘরের দরজা লাগিয়ে দেয়। পাশের বাড়ি থেকে লালচে আলো জানালা দিয়ে অন্ধকার ঘরে ঢুকে পড়ছে। সেই আলোয় লাবন্য কে দেখতে কেমন যেন হিংস্র লাগছে।
রিয়াদ কিছু বলার চেষ্টা করার আগেই লাবন্য প্রচন্ড ক্রোধ নিয়ে বলে-– আজকে বাসায় এসে দেখি বাচ্চাটা দুঃস্বপ্ন দেখে ভয়ে একা একা কাঁদছে। ওর স্কুলের মিস সন্ধ্যায় আমাকে ফোন করে বলেছেন- আনাফ সারাক্ষণ ডিপ্রেসানে ভুগে, ক্লাসে ওর কোন বন্ধু নাই। আমাদের দুজনের ঝগড়া দেখে আনাফ নাকি ওর কোন ক্লাসমেটকে বলেছে আমাদের ডিভোর্স হয়ে যাবে। এমন বাবা মা হয়ে কি লাভ বলো? যদি নিজের সন্তানের পাশেই না থাকতে পারি! তুমি তো খুব ব্যস্ত মানুষ, আমাদের জন্যে, আমাদের সস্তা ইমোশন দেখার জন্যে তোমার কাছে তো সময় নেই, তাই আমি ঠিক করেছি এইভাবে আমি আনাফকে আর আমাদের সম্পর্কের দুর্যোগ দেখাব না। আমি বাচ্চাটাকে আর একা রাখবো না। আমি কাল থেকে আব্বার বাসায় উঠে যাব। আনাফ আব্বা আর মার কাছে থাকবে। তুমি তো মাসে মাসে টাকা দেওয়া ছাড়া অন্য কোন দায়িত্ব পালন করোনা। তাই তখনো তাই করো। আর যদি ইচ্ছে না থাকে জোর করবো না। মাঝে মাঝে শুধু আনাফ কে এসে দেখে যেও। ব্যস তাতেই হবে। তোমার এই বাসা, তোমার স্বাধীনতা কিছু আমি হরণ করবো না। এক নিঃশ্বাসে বলে যায় লাবণ্য।
রিয়াদ হড়বড় করে বলে উঠে.. তুমি এত সেন্টিমেন্টাল হচ্ছ কেন? আনাফের পাশে আমরা দুজনেই থাকবো। ও আমার কাছে গল্পের বই চেয়েছিলো। এই যে আমি আজ ওর জন্যে সেইটা এনেছি। আগামী মাস থেকে কাজের চাপটা কমে যাবে তখন তোমাদের সময় দিতে পারবো। ততদিন পর্যন্ত তুমি একটু ম্যানেজ কর প্লিজ।
-না! প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্ত তোমার সাথে ঝগড়া করে করে আমি ক্লান্ত। নিজেকে আমার অনেক নিচু শ্রেণীর একটা প্রাণী মনে হয়। যার জীবনে কাজ শুধু তোমার সাথে ঝগড়া করা। এই পরিবেশে আমি আমার আনাফকে বড় করতে চাই না। আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছি আমি তোমার সাথে থাকবো না। আর আজকে আনাফ যখন কাদঁছিল ওর কান্না দেখে, আমি তোমার অফিসে ফোন করেছিলাম। তুমি আজকে রাত ১১টা পর্যন্ত অফিসে ছিলে না রিয়াদ। তুমি ছিলে শরীফ সাহেবের বাসার পার্টিতে। তাই আমার তোমাকে আর কিচ্ছু বলার নাই...
-লাবন্য প্লিজ বুঝতে চেষ্টা কর, আমি পার্টিতে গিয়েছিলাম কারণ সেই পার্টিতে আজ অনেক জরুরী ক্লায়েন্ট এসেছিলেন। আর তুমি তো জানোই...
-ব্যস। আর কিছুই জানতে চাইনা... তুমি আর আমি একসাথে থাকব না। এটাই ফাইনাল। আমি কাল সত্যি সত্যি আনাফকে নিয়ে চলে যাব... যাও তুমি রোজকার মত তোমার বালিশ নাও আর ড্রয়িং রুমে গিয়ে নির্বিকারভাবে টিভি দেখো। কাল থেকে তোমাকে আর এভাবে ঘুমাতে হবে না। আর তোমার লোকভুলানো যে ট্রিক্স আছে সেইটা আমার সাথে খাটিয়ো না... বলেই লাবণ্য খাট থেকে আনাফের জন্যে রিয়াদের আনা গল্পের বইটা ছুঁড়ে মাটিতে ফেলে দিলো...
রিয়াদ স্তব্ধ হয়ে গেলো...তারপর কিছুই না বলে ঘরের দরজা খুলে কাঁধে অফিসের ব্যাগটা তুলে নিয়ে ছোট্ট একটা নিঃশ্বাস ফেলে বলল-আমাকে ছাড়াই যখন থাকতে চাও। তবে এখানেই থাক। আমি চলে যাচ্ছি। তবুও দয়া করে আমাদের সমস্যা বা দূরত্বগুলো তোমার পরিবার বা মানুষের কাছে এত নগ্নভাবে তুলে ধরো না...দিন শেষে কেউ থাকবে না লাবন্য...সবাই শুধু অন্যের কষ্টের তামাশা দেখে আর কিছুই না...
৫
দিন তিনেক পর।
টিফিন পিরিয়ডে আনিশা ধুম করে এসে আনাফের পাশে বসে একটা কাগজ ধরে বলল- আচ্ছা দেখতো এই কি? আনাফ ভয়ে ভয়ে তাকিয়ে দেখলো- লাল একটা উড়ন্ত বেলুনের ছবি। সে একটু ঢোক গিলে বলল- বেলুনের পিক।
-আচ্ছা এইবার বল কেউ যদি এই বেলুনটায় একটা পিন দিয়ে খোঁচা মারে দেন কি হবে?
-বেলুনটা চুপসে ম্যারাম্যারা হয়ে যাবে। একদম পুরান দুইটাকার নোটের মত। আনাফ ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বলে।
--ওয়েল, একজাক্টলি এইটাই হবে। এখন তুই বুঝতে পারছিস যে তোকে দেখতে একটা চুপসানো বেলুন বা দুই টাকার ম্যারাম্যারা নোটের মতই লাগছে। ডাম্বু, হোয়াটস রং উইথ ইউ? আনিশা চোখ পাকিয়ে বলে।
আনাফ অন্যদিকে তাকিয়ে বলে, আমি আর কারো কাছে আমার ফ্যামিলির পেস্ট্রি কেক ওপেন করবো না। সো ডোন্ট আস্ক মি।
-মাথা ভেঙ্গে ফেলবো তোর। আমার শেখানো কথা আমাকেই বলিস? ফ্যামিলির যে কোন প্রব আমাকে বলতে পারিস। আমি কাউকেই বলবো না। আমার ফ্যামিলিতেও অনেক বড় সড় গ্যাঞ্জাম আছে, সো আই নো দ্য সিচুয়েশান।
আনাফ বলবে না বলবে না ভেবেও গরগর করে আনিশাকে সব বলে ফেললো। তিন দিন আগে সকালে উঠে সে বুয়ার কাছ থেকে জেনেছে, আব্বু রাগ করে বাসা ছেড়ে চলে গেছে। গত তিন দিন থেকে আব্বু বাসায় আসেনা। সেদিন সকালে সে আব্বু-আম্মুর রুমের মাটিতে হ্যারি পটার সিরিজের বই পেয়েছে, যেই বইটা সে অনেক আগে আব্বুর কাছে চেয়েছিল, তারপর নিজেই ভুলে গিয়েছে। আব্বু এতদিন পরেও বইটা মনে করে কিনে এনেছে। তার আব্বুর জন্যে এখন খুব খারাপ লাগছে। কিছুই ভালো লাগছে না...
-তোর আম্মু তোর আব্বু কে ফোন করে নাই? আনিশা অবাক হয়ে প্রশ্ন করে।
-না করে নাই। করবেও না। তাদের দুইজনেরই অনেক রাগ। আব্বুকে আমি অনেক মিস করছি, তাই গত তিন দিন ধরে আমি সারাক্ষণ তার দেওয়া বইটা আমার সাথে রাখছি। দেখ আব্বু আমাকে বইয়ের মধ্যে কি লিখে দিয়েছে। আনাফ স্কুল ব্যাগ থেকে গল্পের বইটা বের করে। তাতে লেখা-
আদরের পাপাচি,
আপনার জন্যে এই পৃথিবীর সব সুখ বিন্দু বিন্দু করে জমাচ্ছি আমি। নিজেকে নিঃস্ব করে আপনার কাছে আমি সব উজাড় করে দিব...
আচ্ছা, আপনি কি জানেন আপনার আব্বাজান আপনাকে কতটা ভালোবাসে?
জ্বি, আমি আপনাকে এতই ভালবাসি যে পৃথিবীর কোন বাবাই তার সন্তানকে এত ভালবাসতে পারবে না।
কিন্তু মজার ব্যাপার কি জানেন? আপনার আম্মু আপনাকে আমার চেয়েও একটু বেশি ভালোবাসে...হা হা হা...ইতি
আব্বু...
আনিশা আনাফের দিকে তাকিয়ে দেখে আনাফের চোখ লেখাগুলোতে স্থির হয়ে আছে, চোখে কান্না জমে যাচ্ছে...আনিশা খপ করে আনাফের হাত ধরে বলে। খবরদার কাঁদবি না। মাথা ভেঙ্গে ফেলবো। চল, এর চেয়ে বরং একটা বুদ্ধি বের করি যাতে তোর আব্বু ফিরে আসে।
আনাফ ছলছল চোখে বলল- কি বুদ্ধি? আনিশা ওর দুই ঝুটি নাচিয়ে বলল- আইডিয়াটা হল, তুই তোর আব্বুকে স্কুলের ফোন থেকে ফোন করবি। তারপর তোর মনে যত কথা আছে বলে দিবি। দরকার হলে তার সামনে ভ্যা করে কেঁদে দিবি। দেখবি তার মন কিভাবে গলে যায়। ফারহানা ম্যামকে বললে সে নিশ্চয়ই আমাদের হেল্প করবেন আর তোকে ফোন করতে দিবেন। চল এখুনি চল।
আনাফ ভয়ে ভয়ে বলল- কিন্তু আব্বু কি ফিরে আসবে? আর আম্মু যদি জানে আমি আব্বুর মোবাইলে ফোন করেছি তাহলে সে অনেক রাগ করবে...
-আনিশা সাথে সাথেই হিংস্র চেহারা করে বলল- তুই কি ফোন করবি নাকি আমি সাকিবের মত সবার কাছে তোর এই ফ্যামিলি পেস্ট্রি কেকের ঢাকনা খুলে দিবো???
-আচ্ছা...আচ্ছা... ফোন করবো...আনাফ দিশেহারা হয়ে বলে উঠে।
-গুড। চ্যালেঞ্জ করছি তোর আব্বু আজকে রাতেই ফিরে আসবে। আর যদি এমন হয় তাহলে তুই আগামী এক সপ্তাহ আমার কথা মত চলবি। ডান!
আনাফ মাথা কাত করে বলে উঠে-ডান।
শেষ কথাঃ-
সেই চ্যালেঞ্জে আনিশা হেরে গিয়েছিল। কারন আনাফকে রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়নি। আনাফের ফোন পাওয়া মাত্রই রিয়াদ আনাফের স্কুলে চলে এসেছিল তারপর তাকে নিয়ে একগাদা খাবার কিনে চলে গিয়েছিল সোজা বাসায়...সেদিন বাসার ফিরে লাবন্যর চেহারা দেখার মত হয়েছিল। আনাফ জীবনে প্রথম তার আম্মুকে এত অদ্ভুত চেহারায় দেখেছিল। এই হাসছে আবার এই আব্বু আর আনাফকে ধরে কাঁদছে...
আনাফ আর আনিশার অনেক ভালো ফ্রেন্ডশিপ হয়ে গিয়েছে। আনাফও আজকাল আনিশার মত গল্পের বই পড়ে, আর্ট এটাক শো দেখে ঘরের অব্যবহৃত জিনিষ কাজে লাগিয়ে নানারকম জিনিস বানায়। স্কুলে অনেকেই আজকাল আনাফ আর আনিশার ফ্রেন্ডশিপকে হিংসা করে। কিন্তু তাতে কি? আনাফ জেনে গেছে সুপার গ্লুয়ের মত আটকে থাকা “আনিশা” নামের এই ফ্রেন্ডটা তাকে কখনই খারাপ থাকতে দিবে না। কখনোই না...
মন্তব্য
এখন ঘুমাইতে গেলাম কাল এসে পড়বো
আমার মনটা অবশ হয়ে গেলো একুয়া, এর'চে ভালো আর হয় না, তাই আর কিছু বলবো না পোস্ট প্রিয়তে নিলাম।
লেখকের মন্তব্য
অনেক ধন্যবাদ আপু আর তোমার পরীটার জন্যে অনেক অনেক আদর।
খুব ভালো লেগেছে!!

লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ আপু
গল্পটায় স্যাড ফিলিং পার্ফেক্টলি দিতে পেরেছেন। রিয়েল্যাস্টিক। পুরোপুরি। বাক্যগঠনে একটু ইউনিক হলে আরো ভালো লাগতো। গ্লুমিফাইড।
*সুল= সৌল
লেখকের মন্তব্য
সৌল বানানটা কাল রাতেই ঠিক করে নিয়েছি আপনার মন্তব্য পাওয়ার ঠিক পরেই। ঘুম পাচ্ছিলো তাই কার রাতে কারো মন্তব্যের উত্তর দেওয়া হয়নি। এরপর থেকে বাক্যগঠনে আরও সচেতন হব ইনশাল্লাহ।
আর আপ্নে আছেন কেমুন তা বলেন।

মন ভালো এখন!
একুউউউউউউউউউউউউউউউউউউউউউউউ
লেখকের মন্তব্য
বিগ বির ছোট ভাইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইই।
আজকে সন্ধ্যার আড্ডায় আমার হয়ে দুই কাপ চা বেশি খাইয়ো।
তোমার এইসব পরীক্ষা টরীক্ষা ফাঁকিবাজির ফন্দিফিকির আমরা সবি বুঝি।
এক কথায় যদি বলি তাহলে বলব অসাধারণ।
একটানে পড়ে গিয়েছি। চমৎকার বর্ণনা, কাহিনীর সাবলীল প্রকাশ। আসলেই চমৎকার লিখেছেন।
সেই চ্যালেঞ্জে আনিশা হেরে গিয়েছিল। তারপরেই কিন্তু আনিশাই জিতে গিয়েছিল।
অনেক অনেক শুভকামনা ও ভালোলাগা জানবেন।
লেখকের মন্তব্য
আরে আরে স্বপ্নবাজীইইইইইইই,
আছেন কেমন?
ঠিক বলেছেন "তারপরেই কিন্তু আনিশাই জিতে গিয়েছিল।"
এত্তগুলো ‘ই’ আমদানী করলেন কোথা থেকে!
লেখকের মন্তব্য
এত্তগুলো ইইইইইইইই আগের পোষ্টের কার্টিমো থেকে এসেছে।
আহ্ জীবন! প্রতি ক্ষণ টানাপোড়েন; জটিল সমীকরণ!
সুখের ভাবনাই খাচ্ছে কুরে সুখ!
দিন শেষে কেউ থাকবে না ...সবাই শুধু অন্যের কষ্টের তামাশা দেখে আর কিছুই না...
অনেক ঠেকে শেখা।
সিন্দুকে রাখলাম, আপু। বড় হয়ে আমার হবু মেয়ে পড়বে এটা এবং তার আম্মুকেও যাতে মুখস্ত করাতে পারে!
জ.ই মানিক, তারপরও জীবন গল্পের মতো নয়, যিনি গল্প লিখেন তিনি রক্তমাংসের মানুষ, আনাফদের জন্য তার পক্ষপাত ১০০%, আর একুয়া রেজিয়া সচেতন ভাবেই তার গল্পে কিছু একটা ম্যাসেজ দিতে চেয়েছেন।
আর যিনি জীবনকে নিয়ে রোলিং.... এ্যাকশন... কাট... ইত্যাদি করেন তিনি ১০০% নির্মোহ থাকেন তার কাজের প্রতি। রক্তমাংসের মানুষের পক্ষে যেটা অসম্ভব। শুভ কামনা রইলো আপনার হবু মেয়ে এবং তার আম্মুর প্রতি।
একমত, চৈতী আপু।
গল্প তো গল্পই; তবে কথা বলে জীবনের। একুয়া'পুর লেখনি'তে বাস্তবতার অন্তর্দ্বন্দ্ব ফুটে ওঠে চমত্কার।
হারিয়ে যাচ্ছে শৈশব শিশুদের খেলার মাঠের মতোই।
ধন্যবাদ।
লেখকের মন্তব্য
@চৈতীপু, আমার লেখার মূল কথাটুকু চমৎকার ভাবে গুছিয়ে লেখার জন্যে অনেক অনেক থ্যাঙ্কু।
লেখকের মন্তব্য
@মানিক ভাই,
আপনার হবু মেয়ে ও মেয়ের মায়ের জন্যে অনেক অনেক শুভকামনা।
হবু মেয়ের নাম কি ঠিক করা হয়েছে?
থেংকু, একুপু।
@ভ্রাতা স্বপ্ন>> নাম বিবেচনাধীন। হবু মেয়ের হবু আম্মু না আসাতক ক্যাম্নে ফাইনাল হয়!


দু'জনের জন্যই আগাম শুভ কামনা নিয়ে রাখলাম, এই আর কী!
হাহাহা!!
অদ্ভুত সুন্দর! ভালো লাগলো খুব।
সুন্দর গল্প।ভালো লেগেছে।শুভাশীষ রইলো।

লেখকের মন্তব্য
অনেক অনেক ধন্যবাদ।

অনেক অন্যরকম একটি গল্প ।
জীবন একটি ঘুড়ি ।
ঐ ঘুড়িতে স্বপ্ন থাকে তবে নাটাই টা না ছিড়ঁলে হয় ।
অভিনন্দন এবং ভালোবাসা ।
লেখকের মন্তব্য
আমার তো মনে হয় জীবন হল আকাশের মত আর আর অনুভুতিগুলো একেকটা ঘুড়ি।
যত্ন না নিলেই হারিয়ে যায় বা ছিঁড়ে যায়।
মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ।
ইন্টারেস্টিং থিম।
গল্প তো গল্পই। আমাফদের শৈশব ফিরে পাওয়া যত সহজে হয়ে গেলো বাস্তবের আনাফ রা হয়তো তারচেয়ে অনেক কষ্ট নিয়ে বড় হয়। বাবা -মা চাকরি , নিজেদের অন্তর্দ্বন্দ্ব বাচ্চাদের ঠেলে দেয় এক ধরণের মানসিক ইমব্যালেন্সের মাঝে। আমার এই কথাটা অনুমান নির্ভর নয়, কাছে পিঠের অনেককে দেখেই তা জানা। একদিকে সুখ কেনা অন্যদিকে শৈশব হরণ, আবার একদিকে স্বাধীনতা স্বনির্ভরতা অন্যদিকে ব্যাক্তিত্বের সংঘাত সব মিলিয়ে জীবনটা আসলে একটা বড় ইনইকুয়ালিটি। বিষয় নির্বাচন ভালো হয়েছে। গল্পের স্যাড টোন টা খুব উপভোগ করলাম। তবে আপনার লেখা পড়ে যেটা মনে হয় আপনি লেখার ক্ষেত্রে আবেগের বায়াসে নির্মোহ থাকতে পারেন না অনেক সময়। এটা খেয়াল করতে পারেন।
গল্প ভালো লেগেছে।
আমাদের আনাফেরা ফিরে পাক শৈশব এই কামনা সবসময়।
ধন্যবাদ।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ শিমুল ভাই,
বাস্তবেও কিন্তু এমন ঘটনা হয়। এমন পরিসমাপ্তি হয় কিন্তু সেইটা স্থায়ী হয়না। ব্যস্ত জীবন হয়ত মানুষের অনুভব করা উপলব্ধিটুকু অনেক অল্প দিনেই আবার ভুলিয়ে দেয়।
আমারো তাই ইচ্ছে।
শুভেচ্ছা।
বাস্তব হয় কিন্তু স্থায়ী হয় না, সত্যি। আরো কিছু হয়তো বলতাম। আসলে আমি বলেছি গল্পের ব্যাপারে নির্মোহ থাকার ব্যাপারে একটু খেয়াল করতে।যাহোক ব্যাপার না।
আনাফ নামটা দেখেই আমি খুব বেশি মুভড হয়েছি। আহনাফ আমার ছোট বোনের (কাজিন) ছেলের নাম। সেই আহনাফের গল্প লিখে ফেলবো কোন একদিন।
ভালো থাকুন।
লেখকের মন্তব্য
শিমুল ভাই,
আমার লেখা নিয়ে আপনার আর নাজমুল ভাইয়ের সমালোচনা পড়ার জন্যে আমি তীর্থের কাকের মত বসে থাকি।
যা যা বলতে চাইছেন বা মার্ক করেছে অবশ্যই আমাকে জানাবেন।
আহনাফের গল্প পড়ার অপেক্ষায় রইলাম।
শুভকামনা।
খুব দারুন লিখেছেন আপু। বাচ্চাদের নিয়ে এত সুন্দর করে লেখা আগে পড়া হয়নি। শেয়ার করছি।
লেখকের মন্তব্য
শেয়ার করার জন্যে অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া।
সুন্দর করে উপস্থাপনের ক্ষমতা সবার থাকে নাহ। লেখা গুলো জীবন্ত।

লেখকের মন্তব্য
আরে বাতাসি যে। ধন্যবাদ চমৎকার মন্তব্যের জন্যে।

সংসারের টানাপড়েনে বাচ্চাদের মনস্তাতিক বিষয় সুন্দর করে বলেছো রেজিয়া।
সময় যে প্রতি মুহুর্তে পেরিয়ে যায় এই হিসাবটা না করে মরিচীকার পিছে ধাওয়া ...!!!!!
শুভকামনা
লেখকের মন্তব্য
থ্যাঙ্কু আপা এত সুন্দর একটা মন্তব্যের জন্যে।
ভালো থাকুন সব সময়।
জানা গল্পটাই কি দারুণ করে লিখেছো একু!
সাততারা
লেখকের মন্তব্য
ভালোবাসা নিও আপুনি। আর তোমার ছোট্ট পরীটাকেও অনেক আদর।

দারুন লিখেছেন! শুভকামনা রইল।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ।
তবে মিঃ অদ্ভুতের কাছ থেকে কোন অদ্ভুত সুন্দর মন্তব্য আশা করছিলাম। 
ভালো থাকবেন।
অসাধারণ আপুনি।
প্রিয়তে রাখলাম।
লেখকের মন্তব্য
থ্যাঙ্কুউউউউউউউউউউ

খুব ভালো লিখেছো - কিন্তু বাস্তব আরো নোংরা হয় আপুনি -
তবে তুমি লিখো তোমার মতো ।
সবাইকে সবকিছু লিখতে বা দেখতে হয় না ।
লেখকের মন্তব্য
হ্যাঁ ভাইয়া, বাস্তব আসলেই নোংরা হয়। কিন্তু আমি ভাবি, তবুও যদি কোন ৯ বছরের আনাফ আমার এই লেখাটা পড়ে মন ভালো করে ফেলে তবে মন্দ কি।
দারুণ লিখেছ একু
লেখকের মন্তব্য
থ্যাঙ্কুউউউউউউউউ ত্রেয়া
আমার জন্যে শীতের পিঠা কই কই কই?
একু, তোমার লিঙ্ক দেখে পড়তে এসেছিলাম। পড়া শেষে লগইন না করে থাকতে পারলাম না।
অসাধারন লিখেছ। বর্তমানের নিত্য ঘটনাকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছ।
দাম্পত্য জীবনে সন্তান আসার পর মা, বাবা উভয়েরই উচিত একটু নমনীয়, একটু ছাড় দেয়ার চেষ্টা করা। নিজের ইগো নিয়ে আকরে থাকা উচিত নয়। সন্তানের জীবনে তার মা বাবা দুজনেরই সমান প্রয়োজন। কিন্তু আমরা তা ভুলে যাই। আর ভুলে যাই বলেই হাজারো আনাফ রক্তাক্ত হয়ে মানসিক ভাবে বিকলাংগ হয়ে পড়ে।
সমাজে সুস্থ, স্বাভাবিক শিশুর মানসিক বিকাশের জন্য পরিবারের ভূমিকা অপরিশিম।
অসংখ্য শুভ কামনা!!!!
লেখকের মন্তব্য
আপু তোমার মত এত সুন্দর করে কেউ যদি এই মানুষগুলো কে বুঝাতো।
কিন্তু সত্যি যদি সবাই এমন হতে পারতো তাহলে কত ভালোই না হত।
তোমরা শিশুদের কাছ থেকে তার শৈশব ছিনতাই করো না। শিশুকে তার নিজের মতো বড় হতে দাও। শুধু বন্ধু হয়ে পাশে থেকো, ছায়া হয়ে আগলে রেখো, যেন সে পথ ভুল না করে।
সুন্দর গল্প । গল্পে আচ্ছন্ন হলাম।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ ঈশান ভাই। চতুরে আপনাকে নিয়মিত হতে দেখে খুব ভালো লাগলো।
বরাবরের মতই মুগ্ধপাঠ!
-নয় বছরের একটি ছেলে বাবা-মায়ের বিষয়টি স্কুলের বন্ধুদের সাথে এভাবে শেয়ার করতে পারে/এমন করে ভাবে! ওরা কি এত তাড়াতাড়িই বড় হয়ে যায়? খুব ভাবনার বিষয়।
অবশ্যই পারে নীলফুল। আমার ৭/৮ বছরের নাতি-নাতনিগুলো যেভাবে কথা বলে, আমি তো আকাশ থেকে পড়ি। ঐ বয়সে আমরা তো পুরাই গাধা ছিলাম।
ওদের ওসব কথা নিয়ে একটি পোস্ট দিবো ভাবছি।
লেখকের মন্তব্য
নয় বছরের বাচ্চাকে কাছ থেকে দেখেই এই গল্পের সূচনা আপু।
আমি পুরা পাঠ শেষ করতে পারি নাই এখন, আবার এসে দেখে যাবার ইচ্ছা থাকল।
লেখকের মন্তব্য
ঠিক আছে ভাইয়া।
শুভকামনা।
আপনার লেখার এই সরলতার জন্য আপনার এত পাঠকপ্রিয়তা
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ আরিশ।
একুয়া রেজিয়া যেমন করে সবকিছুকে গলিয়ে ফেলে,আপনার লেখা পড়ে মনে হচ্ছে আমরাও সেভাবে দ্রবীভুত হয়ে যাচ্ছি। সুন্দর
লেখকের মন্তব্য
অনেক অনেক ধন্যবাদ ও শুভকামনা আপনাকে।
একু,
মন্ টাকে বাধ তে নেই।।।।।।।।।।
সময়টাকে গড়তে নেই।।।।।।।।।।।।।।।।
আনাফ বা লাবন্য রা আসলে প্রতিমুহুরতে ভালবাসা-র দারিপাল্ল্আ নিএ ঘুরে বেরা্য।
রিআদ রা অনেক বোকা!!!!!!!!!!!!!!!!
লেখকের মন্তব্য
দাড়িপাল্লাটা কিন্তু ভালোবাসার ভাগ্যিস ঘৃনার কোন দাড়িপাল্লা নেই।

দিনশেষে আনাফ বা লাবন্য কিন্তু ভালোবাসাই চায় আর তো কিছু নয়।
রিয়াদ-রা হয়ত জানেই না বোকারাই জীবনে সুখি হয়।
কয়টা মানুষই বা পারে বোকা হতে!
শুভকামনা।
একুয়া রেজিয়া, প্রথমেই কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি আমার দৃষ্টি এদিকে ফেরাবার জন্য। নানান ঝামেলায় ব্লগে মন বসাতে পারছি না। কেমন করে যেন এই সুন্দর গল্পটা চোখ এড়িয়ে গিয়েছিল। শিমুলের মন্তব্যের জবাবে তোমার কথা
শিমুল ভাই,
আমার লেখা নিয়ে আপনার আর নাজমুল ভাইয়ের সমালোচনা পড়ার জন্যে আমি তীর্থের কাকের মত বসে থাকি। পড়ে বড়ই আহ্লাদিত হলাম। জেনে কিছুটা আনন্দ পেলাম যে এই অভাজনের জন্যও কেউ তীর্থের কাকাএর মত বসে থাকে! যারা লিখতে পারে না, তারা সমালোচনা করতে পারেঃ কথাটা আমার বেলায় অন্ততঃ খাটে না। আমি লিখতেও পারি না, সমালোচনাও করতে পারি না। যেটুকু চেষ্টা করি তা শুধুমাত্র বানান ভুল ধরিয়ে দেবার মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকে। তাও আবার কখনও এমন হয় যে, শুদ্ধ বানানকে ভুল বানিয়ে দিই। নিজেই ভুল বানান লিখি অজস্র, যার প্রমাণ ইতিমধ্যে সবাই জেনে গেছে। তবু ঐ যে বেচ্চোকালের অভ্যাস, কী আর করা!
কিছু কিছু দেখিয়ে দিই, এগুলো ঠিক করলে বানান ভুলের পরিমাণ কিছু কমবে আশা করিঃ
তার মা অফিস থেকে এসে তাকে বারকয়েক জিজ্ঞেশ করলেন তার কি হয়েছে > জিজ্ঞেস
অল্প কিছু খাবার খেয়ে নিজের রুমে শুয়ে পরলো > পড়লো
সে এমন করে তাড়াতাড়ি শুয়ে পরে আর নানান কিছু ভাবতে থাকে. > শুয়ে পড়ে
প্রতিদিন রাতে খেতে বসার সময় তোমার কথা জিজ্ঞেশ করে > জিজ্ঞেস
ওর পেরেন্টস মিটিং এ আমি একাই যাই > প্যারেন্টস
লাবন্য কয়েক মুহুর্তের জন্যে যেন কথা খুঁজে পায়না > মুহূর্তের
হিসিহিসিয়ে বলে লাবন্য- > হিসহিসিয়ে
কিছুক্ষন পর সে শুয়ে থেকেই বুঝতে পারলো বাবা > কিছুক্ষণ
ঝট করে জিজ্ঞেশ করে বসে আনাফ > জিজ্ঞেস
সাকিব ফ্যাফ্যাক করে হেসে বলে > ফ্যাকফ্যাক
তারপর ওর বাবার বদলির কারনে ঢাকায় এসে তাদের স্কুলে > কারণে
বিশাল বড় একটা পেস্ট্রি কেকে ছবি আঁকা।> পেস্ট্রি কেকের
এমন একটা কেক কে বক্সে না রেখে ওপেন করে > কেক (কেককে লেখা দরকার কী?)
তুই তোর ফ্যামিলির পেস্ট্রি কেকটা কে ওপেন > কেকটাকে
আনাফ পেস্ট্রি কেকে ছবিটা যত্ন করে রেখে দিলো > পেস্ট্রি কেকের
লাফ দিয়ে বিছানা থেকে নেমে পরলো ও > পড়লো
লাবণ্য ছুটে যেয়ে আনাফ কে ধরে দেখে > আনাফকে
বেশ অনেকক্ষন পরে এটাসেটা নিয়ে কথা বলে লাবণ্য জানতে > অনেকক্ষণ
ও ভয়ের কারন > কারণ
সে আনাফ কে শক্ত জড়িয়ে ধরে রাখে আর বলে > সে আনাফকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রাখে আর বলে
লাবন্যর চোখ দিয়ে টপটপ করে কান্না ঝরে পরে > পড়ে
লাবণ্যর শিক্ষা জীবনের অনুপ্রেরনা > অনুপ্রেরণা
মুলত বহু কাঠখড় পুড়িয়ে সে এখন অনেক ভালো পোষ্টে কাজ করছে > মূলত
যোগ্যতার প্রমান দিয়ে যেতে হয় > প্রমাণ
কখনোই কেউ পুরন করতে পারেনা > পূরণ, পারে না।
লাবণ্যর ক্ষুধা, তৃষ্ণা, ক্লান্তি সব যেন মরে যায়,/আনাফও ছোট্ট বাচ্চার মত লাবণ্যর গা > লাবন্য নাকি লাবণ্য, কোনটা সঠিক?
তারপর লাইট জ্বালিয়ে ধপ করে বসে পরে বিছানার উপর > পড়ে
অনেক ক্ষন অন্ধকারে থাকার কারনে উজ্জ্বল আলোতে > অনেকক্ষণ
পাশের বাড়ির থেকে লালচে আলো জানালা দিয়ে অন্ধকার ঘরে ঢুকে পরছে > পাশের বাড়ি -- - পড়ছে
সেই আলোয় লাবণ্য কে দেখতে কেমন যেন হিংস্র লাগছে > লাবণ্যকে
আনাফ সারাক্ষন ডিপ্রেসানে ভুগে > সারাক্ষণ
এইভাবে আমি আনাফ কে আর আমাদের সম্পর্কের দুর্যোগ > আনাফকে
মাঝে মাঝে শুধু আনাফ কে এসে দেখে যেও > আনাফকে
রিয়াদ হড়বর করে বলে উঠে > হড়বড়
তখন তোমাদের কে সময় দিতে পারবো > তোমাদের/ তোমাদেরকে
প্রতিদিন, প্রতি মুহুর্ত তোমার সাথে ঝগড়া করে > মুহূর্ত
নিচু শ্রেনীর একটা প্রানী মনে হয়।> শ্রেণীর, প্রাণী
আমি আমার আনাফ কে বড় করতে চাই না > আনাফকে
তুমি আজকে ১১টা পর্যন্ত অফিসে কাজে অফিসে ছিলে না রিয়াদ > তুমি আজ ১১টা পর্যন্ত অফিসে ছিলে না রিয়াদ
আমি পার্টিতে গিয়েছিলাম কারন সেই পার্টিতে আজকে > কারণ, আজ
এইটাই ফাইনাল > এটাই
সত্যি সত্যি আনাফ কে নিয়ে চলে যাব > আনাফকে
তবে এইখানেই থাক > এখানেই
বেলুনটা চুপশে ম্যারাম্যারা হয়ে যাবে > চুপসে
তোকে দেখতে একটা চুপশানো বেলুন > চুপসানো
বলবে না ভেবেও হরবর করে আনিশা কে সব বলে ফেললো > হড়বড়, আনিশাকে
গত ৩ দিন > গত তিন দিন
গত ৩ দিন ধরে আমি সারাক্ষন তার দেওয়া বইটা > তিন, সারাক্ষণ
পৃথিবীর কোন বাবাই তার সন্তান কে এত > সন্তানকে
ফারহানা ম্যাম কে বললে সে নিশ্চয়ই আমাদের হেল্প করবেন > ম্যামকে বললে তিনি
কারন আনাফ কে রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়নি > কারণ আনাফকে
আব্বু আর আনাফ কে ধরে কাঁদছে > আনাফকে
জিনিশপত্র কাজে লাগিয়ে নানারকম জিনিস > জিনিশ না কি জিনিস নাকি জিনিষ
কোখনোই না > কখনোই না
গল্প পড়ে খুব ভালো লেগেছে, এটুকু ছাড়া আর কিছু বলার নেই ভাই।
দু'জনেই চাকরি করেছি, ছেলেমেয়েদের এই মানসিক অবস্থার সাথে তাই কিছুটা পরিচয় আছে আগে থেকেই। তবে আমাদের এমন সমস্যায় পড়তে হয় নি কখনো। চাকরিজীবি বাবা-মায়ের জন্য এই গল্পে দারুন মেসেজ দেওয়া হয়েছে, এটাই এ গল্পের সবচেয়ে মূল্যবান সামগ্রী। যাদের জন্য জীবনপাত করে চাকরি করা, তারাই যদি কষ্ট পেতে থাকে, তা'হলে আর সে চাকরি সে কষ্ট করে লাভ কী?
শুভেচ্ছা অনেক।
লেখকের মন্তব্য
ভাইয়া,
লেখায় অনেক ভুল। আর এত ব্যস্ততার মাঝেও আপনি পরিশ্রম করে খুঁজে খুঁজে ৫৪টা ভুল বানান বা বাক্য এত সুন্দর করে তুলে ধরেছেন দেখে আমি একদম স্তব্ধ হয়ে গিয়েছি। ভুলগুলো ঠিক করে নিলাম। আমি অভ্র ফন্টে লিখি। মাঝে মাঝেই অভ্রর সাজেষ্ট করা শব্দ পাশে দিয়ে দেওয়ায় জানা বানানটা নিয়েও কনফু খেয়ে যাই। আমাদের আসলেই বাংলা বানান আর ভাষা নিয়ে আরও সচেতন হয়া উচিৎ।
গল্পটি আপনার সিন্দুকে দেখে খুবই ভালো লাগছে।
কৃতজ্ঞতা।
বইমেলায় গেলে আরও কিছু সংশোধনের প্রয়োজন হবে একুয়া!
লেখকের মন্তব্য
ভাইয়া, বইমেলার জন্যে আমার যেই লেখাই সিলেক্ট হোক না কেন, নতুন কিছু এড করা বা বাদ দেওয়া বা যে কোন ব্যাপারে আপনার সাহায্য কামনা করছি।
উঁহু, কোন সাহায্যই করতে পারবো না ভাই!
তবে সহযোগিতার হাত বাড়ানোই আছে আমার। যে কোন কাজে, যে কোন সময়ে। আমি কোন দানবীর নই, আমি বন্ধু।
লেখকের মন্তব্য
উপসসস

ওকে ভাইয়া সহযোগিতা কামনা করছি।
নক নক! একুপু আছেন? অনেকদিন পর আপনার বাড়িতে এলাম, কিছু খাইতে দেন!
চতুর্মাত্রিক নাকি একুশে বইমেলায় একটা বই প্রকাশ করবে গল্প সংকলনের। আশা করছি এই গল্পটাও অবশ্যই থাকবে।
গল্পটাকে এক একজন এক এক দিক থেকে দেখেছেন। আমি দেখছি, যেটা আমাকে সবচেয়ে বেশী টানে, সেদিক থেকে। আনাফ - একটা ৯ বছরের ছেলের মনস্তত্ব ফুটিয়ে তুলেছেন মুন্সিয়ানার সাথে। তার ভাবনা, বন্ধুদের সাথে ইন্টারঅ্যাকশনের মাধ্যমে তার মানসিক পরিপক্কতার লেভেলটা, সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে, একদম নিখুঁতভাবে এসেছে। মনে হয়, আনাফে মনোযোগ বেশী কেন্দ্রীভূত ছিল, তাই হয়তো বাবা মায়ের চরিত্র চিত্রণে, কিছুটা, ঘাটতি চোখে পড়েছে। একজন কর্মজীবি নারী তাঁর নয় বছর বয়েসী বাচ্চার কান্নার কারণ শুনে স্বামী থেকে আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নেবেন - এটুক নিতে একটু কষ্ট হয়েছে। বাবা-মায়েরা সাধারণত আরও ম্যাচিওরড হয়ে থাকেন!
শেষ কথা হল, আপনি ঋদ্ধ গল্পকার, গল্পের আবেগী ছোঁয়া সবসময়ের মত মোহাবষ্ট করে রাখল অনেক্ষণ।
লেখকের মন্তব্য
আরে আরে এ যে দেখি ইমো সওদাগর,
একুশে বইমেলায় চতুরের বইতে এই গল্পটাকে এখনো কেউ সিলেক্ট করেনি ভাইয়া।
আর আমার মূল চরিত্রই ছিল "আনাফ" তাই ছোটগল্প হিসেবে তাকে কেন্দ্র করেই গল্প এগিয়ে চলেছে।
আর গল্পের প্রথম দিকেই উল্লেখ করা আছে যে আনাফের মা, লাবন্যর সাথে রিয়াদের দ্বন্দ বহুদিনের। আনাফের দুঃস্বপ্ন দেখা বা কান্না করা লাবন্যর সিদ্ধান্তে আসার পেছনের একটা দৃশ্যপট মাত্র।
আমার বাড়িতে আসার জন্যে পিঠা খান।
ইয়াম্মি!
পিঠা সেইরাম মজা হইসে! থ্যাঙ্কু! কিন্তু আপনে যে আমার বাড্ডেতে আসলেন না!
হ্যাঁ, শুরুতে বলেছেন ঠিকই, কিন্তু দৃশ্যপট হিসেবে, বা precipitating factor হিসেবে ঘটনাটা যথেষ্ট মনে হয় নি, বাস্তবতার নিরিখে, ফ্যাক্টর অনুপাতে সিদ্ধান্তটা বেমানান হয়ে গেছে। পরিস্থিতিটা আরও তাতিয়ে উঠলে পরে গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়ত।
যাক, সবচেয়ে বড় কথা, গল্পের মূল টোনটা এতই শক্তিশালী, এসব ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয় ধর্তব্যের মধ্যে না আনলেও চলবে।
লেখকের মন্তব্য
থ্যাঙ্কুউউউ।
আসলেই পরিস্থিতিটা হয়ত আরেকটু জমিয়ে তুলতে পারলে ভালো হত। আমারই ব্যর্থতা।
এরপর থেকে চেষ্টা থাকবে আরও যত্নশীল হবার।
পেস্ট্রি কেক সিক্রেট থাক , লাল টুকটুকে বেলুনটা গুল্টুস গাল্টুস থাক ! জীবনের সবকিছুই এই গল্পের শেষটার মতো হোক ।
একুয়ার গল্প পড়লে সবকিছুর পজেটিভ ভাবটা চলে আসে । এইটা দারূণ একটা দিক ।
শুভেচ্ছাসহ শুভকামনা ।
লেখকের মন্তব্য
চারপাশের নেগেটিভ সবকিছুর মাঝে থাকি, তাই হয়ত আমার লেখায় পজিটিভ ব্যাপারগুলো আপনা আপনিই চলে আসে।
ধন্যবাদ অঃআঃ ভাইয়া।
স্লামালিকুমাপা,
২৫ তারিখ পোস্ট দিলেন, এলাম পড়তে ৩০ তারিখ!
----
লেখাটা চোখের সামনে পড়েছিল বেশ ক'বার! বারবার এড়িয়েই গিয়েছিলাম(আপনার লেখা ভাল লাগে না এটা ভাববেন না), এখন পড়লাম আর ক'টা চুল পড়ে গেল!
কেনো?
আরো আগে পড়িনি বলে নিজেই নিজের চুল ছিড়লাম!
----
৭দিলাম!
লেখকের মন্তব্য
এত দিন পরে পড়তে এলেন নয়ন ভাই।
এইটা ঠিক হল!!!
আমি কিন্তু কনফেস করে নিলাম আগেই।
আমার সরল স্বীকারোক্তি!
লেখকের মন্তব্য
ইটস ওকে গেইটলক ভাই।
ভাল থাকুন অবিরত!!
অনেক ভালো লাগলো।
লেখকের মন্তব্য
কেক শেক হামা ভাইয়াআআআআআ,
আপনার কাছ পাওয়া কমপ্লিমেন্ট আমাকে প্রতি নিয়ত সাহস দেয়, লেখার অনুপ্রেরণা বাড়ায়।
থ্যাঙ্কুউউউউউউউ।
তোমার লেখা গল্প আমার বরাবরই খুব ভালো লাগে। এবারেও কোনও ব্যতিক্রম হলো না।
লেখকের মন্তব্য
লাভ ইউ ভেবেপুউউউউউ।
অসাধারণ। অসাধারণ। অসাধারণ।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ হালিম ভাই।
মানুষ বড়ই আজব প্রানী।
একু আপু গল্পটা ভাল লাগলো বেশ !
একুপু,গল্পটা এত্ত এত্ত সুন্দর হইসে যে আমার মতন গাধী তা এই জীবনে বুঝাতে পারবেনা।প্রিয়তে থাকছে অবশ্যই।
প্রিয় অম্লরাণী,
আনাফের মন ছুঁয়ে যাওয়া গল্প পড়ে না কেঁদে থাকতে পারলামই না - দু'চোখ ভিজে উঠলো জলে।
আমার মেয়ে লাবণ্য'র জন্মের পর খুব প্রমিসিং ক্যারিয়ার অপরচ্যুনিটি ঠিক ঐ কারণেই ফিরিয়ে দেই।
একইসাথে জীবনের প্রয়োজনে যে সব মা চাকরী করেন, তাঁদের কষ্টও খুব ভালভাবেই উপলব্ধি করি।
এত সহজ, সরল, অনবদ্য ভাষায় জীবনের বয়ান শুনে মুগ্ধ হলাম। মুগ্ধতার রেশ রাখতে ইচ্ছে করছে। আপাতত, আর কিছু পড়বো না। তোমার গল্পের আমেজ বুকে নিয়ে বেড়াই নাহয় কিছুক্ষণ।
তোমার জন্য অনেক ভালবাসা।।
ভালো লাগলো গল্পটা, একুয়া রেজিয়া।
শুভেচ্ছা জানাই।
আজকালকার বাচ্চাগুলো আনিশার মত এমন পাকনু হয় কেন জানো একু? জীবন যে শুধু জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে, পাকনু না হলে যে এই জটিল দুনিয়ায় তারা টিকতে পারবে না।
অদ্ভুত সুন্দর! ভালো লাগলো খুব।
অসম্ভব ভালো লেগেছে।

মন্তব্য করুন