কুলদা রায়-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

আমার তিন ভাগ্নি জিপিএ পাঁচ পেয়েছে। আমার খুব ভাল লাগছে। বহুদিন ধরে এরকম ভাল লাগা পাইনি।এই আনন্দে আমি রবীন্দ্রনাথের ডাকঘর নাটকটি শুনছি। শুনতে পাচ্ছি--রাজকবিরাজ এসে গেছেন। তিনি বন্ধ ঘরের জানালাগুলো খুলে দিচ্ছেন। বলছেন, বালক তারার আলোয় ঘুমোবে। সুধা ফুল আনতে গেছে। আমরা সুধাকে ভুলিনি।
আমার ভাগ্নি নিশা থাকে চট্টগামে। পুরো নাম মৌসুমী জাহান নিশা। তাঁর ভাবনার জগৎটি বহুবর্ণিল। তাঁর ভাবনা প্রকাশের সামর্থ্য যাদুকরী। খুব সহজ সরলভাবে যে কোনো বিষয় লিখে ফেলতে পারে। প্রাণে দাগে। না পড়ে উপায় নেই। পড়লেই মনে হবে--নতুনরা এসে যাচ্ছে যাচ্ছে। আমাদের এখন পথ ছেড়ে সরে দাঁড়ানো দরকার। অন্তর্জালে নিশার যত লেখা পড়ি--আর অবাক মানি। লেখাপড়ায় আমার এই ভাগ্নিটি সবাইকে ছাড়িয়ে চলে যাবে--দিন দিন আমার এ বিশ্বাস বাড়ছে। আমার ভাগ্নি পণ্ডিত হবে না। সেরা মানুষ হবে।
নিশা এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ পাঁচ পেয়েছে। ওর মা খুশী। বাবা খুশী। আমি আনন্দিত।
অন্তু আমার আরেক ভাগ্নি । ওর মা গান গায় বলে ওর নাম অন্তরা। ওর মেজ বোনটির নাম সঞ্চারী। আর ছোটোটির নাম তুতুন। অন্তরার নাম স্কুলের নাম শ্যামশ্রী--আমি জানতাম না। অন্তু যখন ছোটো ছিল--তখন আমার আঙুল কামড়ে দিত। আর তা না না না তা না না না করে সুর ধরত। অন্তু অসাধারণ গান করে। এক সময় নাচও করত। আমি যে কলেজে পড়েছি এখন থেকে ৩০ বছর আগে, সে কলেজেই অন্তু পড়েছে। পরীক্ষার মধ্যে জলবসন্তে ভুগেছে। কদিন ঘুমোতে পারেনি। পড়তে পারেনি। আমার বুড়ো মা তার শিয়রে নিমপাতা নিয়ে বসে থেকেছে। কেঁদে কেঁদে মাকে বলেছে, অ মা, আমি কি করব? অ মা, আমি কি করব?
অন্তু জিপিএ পাঁচ পেয়েছে। রেজাল্ট পেয়েই মামাতো ভাই কৌশিককে নিয়ে ঢাকা থেকে বাড়ি হয়েছে। ফোন করে বলেছে, মা--তুতুনের জন্মদিন কর। আমি আসছি।
অন্তুর মা খুব খুশি। অন্তুর বাবা আরও খুশী। তাঁর বড় মেয়েটি তাঁর ইচ্ছে পূরণ করতে নেমেছে। আমি আনন্দিত। এ পৃথিবীতে সত্যি সত্যি ইচ্ছে পূরণ করা খুব কঠিন কাজ। অন্তুর কাছে জলবৎ তলরং।
আমার আরেক ভাগ্নির নাম নিপা। বাড়ি মাগুরা। নিপা এসএসসিতেও জিপিএ পাঁচ পেয়েছিল। নিপার পড়ার খুব ইচ্ছে। কিন্তু ওর বাবার মেয়েকে পড়ানোর ঘোর অনিচ্ছা। রাত হলেই তিনি আলো নিভিয়ে দেন। তখন নিপা টর্চ লাইট জালিয়ে বাবার অগোচরে পড়েছে। তখন ক্লাশ সিক্স। এক সময় বাবা শ্যামলকুমার সরকার তাদেরকে ছেড়ে চলে গেছেন। আরেকটি বিয়ে করেছেন। তখন নিপা ক্লাশ টেন।
নিপার মা লাকি সরকার তাকে ও ছোট ভাই নয়নকে নিয়ে পুরোপুরি অসহায় হয়ে পড়েন। তারা মামা বাড়ি শহরের লিচুতলায় আশ্রয় নেয়। কিছুদিন পর মা একটি এনজিওতে সামান্য বেতনে চাকরি নিয়েছেন। নামমাত্র ভাড়া দিয়ে একটি ছোট্ট ঘরে শুরু করেছেন নতুন সংগ্রাম। খেয়ে না খেয়েকে নিপাকে লেখাপড়ার সুযোগটি করে দিচ্ছেন।
নিপার বাবা নিপার লেখাপড়া বন্ধ করতে পারেননি। নিপা বাবার মুখটি বন্ধ করে দিয়েছে। মার ম্লান মুখে হাসি এনেছে। নিপা মাগুরা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে জিপিএ পাঁচ পেয়েছে।
নিপা আইন শাস্ত্র পড়তে চায়। বিচারক হবে। এত আনন্দের মধ্যেও ওর মা কিছুটা দিশেহারা। নিপার উচ্চতর লেখাপড়ার খরচ যোগাবেন কিভাবে তিনি? কঠিন প্রশ্ন? এ কঠিন প্রশ্নটিও কঠিন থাকবে না হে, জল হয়ে যাবে নিশ্চয়ই।
আমার ঠাকুরদা বেঁচে থাকলে এই আনন্দের দিনে সবাইকে সন্দেশ কিনে খাওয়াতেন। আমি তো সন্দশ কিনতে পারছি না এই দূর দেশে। সবাইকে তাই খবর-সন্দেশ দিচ্ছি।
আমার ভাগ্নে-ভাগ্নিরা পৃথিবীতে এসেছে কঠিন কঠিন সব বিষয়কে জলের মত সোজা করার জন্য। কোনো ভাবনা নেই। আমার ভাগ্নে-ভাগ্নিদের নিয়ে আনন্দিত আমি। আমি তাঁদের মেজমামা।

মন্তব্য
ওদের উচ্চ শিক্ষার ইচ্ছা পূরণ হোক
এবং কঠিন পৃথিবীতে আগামী দিনগুলো হোক সুন্দর ও সহজ।
শুভকামনা রইল।
মামা ,ভাগনি দের কি মামি ভাগগো হয়েছে? না হোলে শুনুন
আসুক ঝড়,আসুক তুফান,ঝোরুক চোখের পানি
চল সোবে গিয়ে, মামি তুলে আনি।
মামা আপনি ভালো থাকবেন।
**মডারেটর কর্তৃক সম্পাদিত মন্তব্য**
রিপোর্টের ভিত্তিতে ব্লগার আব্দুর রবকে সতর্ক করা হচ্ছে। পরবর্তীতে একাউন্ট মডারেটেড হতে পারে।
-চতুর্মাত্রিক
ফালতু কথা বলার আর জায়গা পান নাই নাকি?
নামে "রব" আর মানুষিকতা এই!!!
01711800429 - এই নাম্বারে যোগাযোগ করতে পারেন, মেয়ের আব্বা ধরতে পারে, সমস্যা নাই, আপনার ঠিকানাটা আর মনের বাসনাটা জানাইয়া দিয়েন উনারেই, কাজ হবে নিশ্চিত
এই ফলাফল করো জন্য আনন্দের আবার কারো জন্য বেদনার। নওগাঁ জেলার ধামইরহাট উপজেলার মালাহার গ্রামের এ্যড: মোফাজ্জল হোসেনরে একমাত্র পুত্র রেজাল্টের দিন রাজশাহী স্টেশনে ট্রেনের নীচে ঝাপ দিয়ে আত্মহত্যা করে। তার রেজাল্ট খারাপ বলে। আজ সকাল ১০ টায় তাদের পারিবারিক গোরস্থান মালাহার গ্রামে দাফণ সম্পন্ন হয়।
রব, এই ধরনের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের মানে কী?!আপনার মন্তব্য রিপোর্ট করা হইল
বুঝলাম না চতুরে ইদানিং কুরুচিপূর্ণ ব্লগারের সংখ্যা বাড়তেছে!!!
কমেন্ট রিপোর্টেড।
আপনার তিনটি ভাগ্নিদের জন্যেই অনেক অনেক শুভকামনা।
মন থেকে সত্যি করেই বলি---নিপার জন্যে অনেক অনেক দোয়া রইল। ওর ছবিটা দেখে এক নিমিষেই কেন যেন ওকে অনেক বেশি বোধসম্পন্ন মনে হল। যে নৌকা স্রোতের প্রতিকূলেও তার গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যায়, জয় নিশ্চিত তার জন্য অপেক্ষা করছে।
অনেক অনেক শুভেচ্ছা আর দোয়া ওদের জন্য
আপনাকে অভিনন্দন ভাই, ভাল থাকবেন 
খুব ভাল খবর! সবার পড়াশোনার অদম্য ইচ্ছা পূরণ হোক। সবাই আলোকিত মানুষ হয়ে উঠুক। এই কামনাই করি!
দুঃখিত আগে এখানে এসে বাজে কমেন্ট দেখে আসল কমেন্ট না করে চলে গেছিলাম।
শুভকামনা আপনার ভাগ্নিদের জন্য।
শুভ কামনা রইলো ওদের জন্যে।
শুভকামনা ওদের জন্য।
নিশা মনে হয় সচলে লিখে? আমি লেখা পড়েছি, মনে হচ্ছে। আমাদের সাথে লিঙ্ক শেয়ার করুন না থেকে থাকলে
"ভালো খবর শুনতেই মনটা আনম্দে ভরে ওঠে"
শুভ কামনা রইল
আজকেই আমাদের গ্রাম সম্পর্কীয় এক ভাগ্নের কথা শুনলাম.... নিজের চেষ্টায় জিপিএ ফাইভ পেয়েছিলো, এরপরে নটরডেম এ ভর্তির চান্স পেয়েও ছেলেটা ভর্তি হতে পারেনি টাকার অভাবে। শুনে মনে হচ্ছিলো আর কটা দিন আগে কেন শুনলাম না।
মন্তব্য করুন