কুলদা রায়-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

লক্ষ্মীপুরের বর্তমান মেয়র আবু তাহেরের ছেলে এএইচএম বিপ্লব খুনের দায়ে উচ্চ আদালত থেকে ফাঁসির দণ্ড পেয়েছিল। তাঁর ফাঁসির দিনক্ষণের জন্য অপেক্ষা ছিল। তার আগেই রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান তার এই ফাঁসির আদেশ মওকুফ করে দিয়েছেন। তাঁর খুন মাফ হয়ে গেছে। আশা করা যাচ্ছে অচিরেই ছাড়া পেয়ে বিপ্লব আরও খুন করার সুযোগ পাবে।
এর আগে নাটোরের গামা হত্যাকারীদেরও আওয়ামী লীগ সরকার ফাঁসি মওকুফ করে দিয়েছিল। এটা নিয়ে বিএনপির মওদুদ আহমদ খুব গোস্বা করেছেন। তিনি বলেছেন আওয়ামী লিগ সরকারের এটা ঠিক হয়নি। মজার কাণ্ড হল, এই মওদুদ বিএনপিরই এক খুনী ঝিন্টুর ফাঁসির দণ্ড মাফ করিয়ে দিয়েছিলেন বিএনপির আমলে। পত্রিকায় পড়েছিলাম, এইজন্য তিনি কানাডায় গিয়ে ঝিন্টুর কাছ থেকে টাকা পয়সাও নিয়েছিলেন। মওদুদের পক্ষে সবই সম্ভব। এই আপাদমস্তক ভণ্ড লোকটির অন্তত কিছুদিনের জন্য হলেও ফাঁসির দণ্ড দেওয়া গেলে মন্দ হত না।
বিএনপির অপরাধের উদাহরণ দিয়ে আওয়ামী লীগের অপরাধকে জায়েজ করার চেষ্টা হচ্ছে। সেটা সুরঞ্জিতবাবুরা করছেন। এটাও সুরঞ্জিতবাবুদের পক্ষেই সম্ভব। তারা একই গোয়ালেরই গরু।
আওয়ামী লীগসহ বিবেকবান মানুষ বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়েছে। এবারে ক্ষমতায় এসে প্রথমেই বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের বিচারটি সম্পন্ন করা হয়। এবং হত্যাকারীদের ফাঁসিতে ঝোলানো হয়। জাতি একটি কলঙ্ক থেকে মুক্ত হয়েছে। বাকি খুনীদেরও দেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলছে। তাদের আনা গেলে নিশ্চয়ই ফাঁসিতে ঝোলানো হবে। নিশ্চয়ই তাদের ফাঁসির দণ্ড মওকুফ করবেন না রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান। এবং প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান তাঁর নিহত স্ত্রীর হত্যাকারীদেরও কি মওকুফ করে দেবেন?
কিন্তু লক্ষ্মীপুরের এ্যাডভোকেট নূরুল ইসলামকে যারা খুন করে টুকরো টুকরো করেছিল, তাঁর সন্তানদের এতিম করেছিল--আদালত তাদের ফাঁসির দণ্ডও দিয়েছিল---সেই খুনীদের কেন দণ্ড মওকুফ করা হল? হাসিনার বাবাকেই কি কেবল মারা হয়েছিল এই বাংলাদেশে? নূরুল ইসলামের ছেলেমেয়েদের বাবাকে কি মারা হয়নি? তারা কি মানুষ নয়? বাংলাদেশের নাগরিক নয়?
আমরা কি তাহলে একটি বর্বর কালে এসে পড়েছি?
ছিঃ।
মন্তব্য
সব দেখেশুনে মনে হয়, দেশটা শুধু লীগ-দল-শিবিরের। এরা সবাই একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। পাঁচ বছর পরপর কাগজে-কলমে সরকার পরিবর্তন হয়, কিন্তু দেশের পরিবর্তন বা মানুষের জীবনে পরিবর্তন হয়না।
ভালো বলেছেন।
রাজনীতিবিদদের নোংরা খেলায় অভয়ারন্য হয়ে যাচ্ছে সন্ত্রাসীদের জন্য আর সাধারণ মানুষ হয়ে যাচ্ছে জিম্মি।
আমি আর কী বলবো?
কারণ,,,,,,,,,,,,,,,
জানা থাকলেও বলা যাবে না, কারণ তা আপনিও জানেন।
মন্তব্য করুন