লেখকের ক‌থা

সদর দরজা

অচিন বৃক্ষ:ফিরনি গাছ

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

প্রাপ্ত তথ্য হতে জানা যায় যে, আমাদের এই গ্রহে ৫০০,০০০ -৬০০,০০০ প্রজাতির উদ্ভিদ আছে। বিভিন্ন প্রজাতির এই সব উদ্ভিদ পৃথিবীর ইকো-সিস্টেমের ভারসাম্য রক্ষা করে। মানুষের নানাবিধ প্রয়োজন মেটাতে আর অজ্ঞতা ও অবহেলার কারণে বিপুল সংখ্যক উদ্ভিদ প্রজাতির বিলুপ্তি ঘটেছে। তা’ছাড়া বহু প্রজাতি বিলুপ্তির হুমকিতে রয়েছে। আমাদের দেশ আয়তনে ক্ষুদ্র হলেও এখানে উদ্ভিদ সম্পদ মোটেই নগণ্য নয় এবং নিঃসন্দেহে বৈচিত্র্যময় উদ্ভিদের সমাহার রয়েছে আমাদের এই ছোট্ট দেশটিতে। বাংলাদেশে প্রায় ৬,০০০ প্রজাতির উদ্ভিদ সনাক্ত করা হয়েছে। এর শতকরা ২০ ভাগ বিভিন্ন রোগ নিরাময়ে গুরুত্বপূর্ণ (Medicinal plant)।

নির্বিচারে বনজ সম্পদ ধ্বংস করার প্রবণতা আর আমাদের অজ্ঞতার ফলে উদ্ভিদ জগত ক্রমেই সঙ্কুচিত হয়ে আসছে। আমরা নিজেরা আমাদের অগোচরে ডেকে আনছি আমাদের বিপদ। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া দুর্বিসহ ভবিষ্যতের রাহুগ্রাস থেকে মুক্তি পাবার কোন আশা নেই। সচেতন হতে হবে নিজেকে, সচেতন করতে হবে সকলকে।

আসুন আমাদের দেশের একটি গাছের সাথে পরিচিত হই। সারাদেশে এই গাছ আছে মাত্রই একটা, অবশ্য সে একই স্থানে ছোট আকৃতির একই গাছ আরো একটা বড় হচ্ছে ধীরে ধীরে। বেশ কিছুদিন যাবত প্রাতঃভ্রমণের জন্য যাই বাংলাদেশ লেদার টেকনোলজি কলেজের মাঠে। সেখানে এই দুর্লভ অচেনা বৃক্ষটি দেখে পরিচয় জানবার আগ্রহ জন্মে। কলেজের দারোয়ানের (কেয়ারটেকার) কাছে জিজ্ঞাসা করে জানা যায় যে এই গাছের নাম ‘ফিরনি গাছ’। নামকরণের হেতু এর ফলের ফিরনির মত স্বাদ বলে তার কাছে জানতে পারি। কৌতূহল মেটাতে আজ সকালে ক্যামেরাসহ যেয়ে কতকগুলো ছবি তুলে আনি। মনের ইচ্ছা কোন উদ্ভিদবিজ্ঞানী বা বৃক্ষ বিশারদকে দেখিয়ে এর পরিচয় উদ্ধার করা।

সারাদিন বাইরে কাটিয়ে সন্ধ্যায় বাসায় এসে রেডিয়ান্ট ফার্মাসিউটিক্যালসের ২০১২ সালের ডেস্ক ক্যালেন্ডারে আমার সকালে তোলা ছবির মত ছবি দেখে চমক লাগে। হুবহু আমার তোলা ছবি। গাছের পরিচয়ও পাওয়া গেল। জানা গেল, সারা দেশে এই গাছের অস্তিত্ব আছে শুধুই হাজারীবাগের লেদার টেকনোলজি কলেজেই। অত্যন্ত প্রাচীন মূল্যবান ঔষধি গুণসম্পন্ন এই গাছটির নাম ‘লেদার ট্যানিং গাছ’ (Leather tanning tree)। এর বৈজ্ঞানিক নাম Mimusops laurifolia. ধারণা করা হয় যে, প্রাচীন মিশরে এই গাছের বাকলের রস মমি করবার জন্য ব্যবহার করা হতো। এর বিভিন্ন অংশ জ্বরের ঔষধ, ধারক, রেচক ও উদ্দীপক হিসেবে কার্যকর (Its various parts are used as a febrifuge, astringent, purgative and stimulant.)। Mimusops উদ্ভিজ্জ নির্যাস চামড়া ট্যানিংয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়। এই গাছের ফল পেট/বুকের জ্বালাপোড়ায় উপকারী বলে জানা যায়।

কয়েকদিন আগেও এই গাছে ফুল দেখেছি, ঘন কুয়াশা থাকায় তখন ছবি তোলা সম্ভব হয় নি। আজ সে গাছে অনেক চেষ্টা করেও কোন ফুলের সন্ধান পেলাম না। তবে সে দুঃখ ঘুচিয়েছে গুগল। এখানে গুগল থেকে নেওয়া ফুলের ছবি দেওয়া হলো।

ফুল খুঁজতে যেয়ে অবশ্য ফলের দেখা মিলেছে, নাগালের বাইরে থাকায় দূর থেকে ছবি নিতে হয়েছে। এত এত ফুল ধরলেও ফলের সংখ্যা নেহায়েত কম। আর এটাই হয়তো এই গাছের সংখ্যা বৃদ্ধি না হওয়ার অন্যতম কারণ।

কৃতজ্ঞতা: তথ্যের জন্য: Mr. Akhtaruzzaman Chowdhury, Threatened Plants Researcher and Conserver.
ফুলের ছবির জন্য: Google

6.755
আপনার মূল্যায়ন: আপনি মূল্যায়ন করেন নি। গড় রেটিং: 6.8 (৪ জন মূল্যায়ন করেছেন)
শেয়ার করুন » Facebook Twitter Delicious Digg MySpace Google Orkut Blogger Google Buzz Technorati
অথবা এই সংক্ষিপ্ত লিংক শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২২৫১৯২(১)    

খুব ভালো লাগলো পোস্টটি।
আমরা তো ধ্বংসের দারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি। নির্বিচারে বন, পাহাড়, নদী-নালা উজাড় করেছি। প্রকৃতি কি আমাদের ছেড়ে দেবে? প্রকৃতি বিকৃতি সহ্য করেনা। তাই প্রতিশোধ নেয়া শুরু হয়ে গিয়েছে।

শেষের ছবির পাতা দেখে গ্যান্ডিফ্লোরা গাছের কথা মনে পড়ে গেলো।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২২৫৯৮২(২)    
লেখকের মন্তব্য

পড়ার জন্য ধন্যবাদ সুরঞ্জনা।
সব হারিয়ে একেবারে রিক্ত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের বোধের উন্মেষ হবে না!

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২২৫১৯৩(৩)    

খুব ভাল পোস্ট হয়েছে। এরকম কত উদ্ভিদই তো বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এত লাখ লাখ উদ্ভিদের মধ্যে আমরা আর কয়টার কথা জানি।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২২৫৯৮৩(৪)    
লেখকের মন্তব্য

বাঁচতে হলে জানতে হবে। শুধু তাই নয়, ওদেরকে বাঁচাতেও হবে।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২২৫২৬৭(৫)    

একটাই মাত্র আছে
বিশেষ যত্নবান হওয়া উচিত ছোটটার ব্যাপারে

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২২৫৯৮৪(৬)    
লেখকের মন্তব্য

শুধুমাত্রই লেদার টেকনোলজী কলেজে আছে এই একটি গাছ, দেশের আর কোথাও নেই।
ধন্যবাদ জলরঙ।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২২৫২৭৬(৭)    

প্রিয়তে নিলাম।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২২৫৯৮৬(৮)    
লেখকের মন্তব্য

ধন্যবাদ পানকৌড়ি।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২২৫২৭৭(৯)    

বাহ্ চমৎকার পোস্ট।
পাতা দেখে ম্যাগনোলিয়ার মতো লাগছে। এমন বিরল গাছ, কলম করে সংখ্যা বাড়ানো যায় না?

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২২৫৯৮৮(১০)    
লেখকের মন্তব্য

বকুল ফুলের মত, আকারে তার চেয়েও ছোট, অসংখ্য ফুল হয়। কিন্তু ফলের সংখ্যা খুবই কম। নিচে কাচা ফল পড়ে থাকতে দেখে ধারণা হয় যে, পুষ্ট হওয়ার আগেই অনেক ফল ঝরে যায়। পাকা ফল যা নিচে পড়ে, সেগুলো থেকে চারা জন্মাবার মত পরিবেশ নেই। পাখিরা একেবারে খায় যেগুলো, সেগুলোই ভরসা, দূরে কোথাও চারা গজাবে হয়তো। তবে যে সব পাখি, বাদুর এখানে বসবাস করে, তারা আর কোন দিকে যায় বলেও তো মনে হয় না।
কলম করার উদ্যোগ কেউ কেউ নিয়েছে বলে শুনেছি। ফলাফল এখনও শূন্য।
শুভেচ্ছা।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২২৫৫৬৬(১১)    

আপনাকে নিয়ে একবার মিরপুরের শাহালী মাজারে যেতে হবে। সেখানে একটা গাছ আছে, তার নাম নাকি কেহ জানে না। আপনি বলতে পারবেন।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২২৫৯৮৯(১২)    
লেখকের মন্তব্য

আমিও পারবো না নাম বলতে। তবে ছব তুলে এনে পোস্ট দিতে পারবো। বৃক্ষ বিশেষজ্ঞদের সাথে যোগাযোগ করতে পারবো।
কবে যাবেন? দিন স্থির করেন!

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২২৫৮৩৭(১৩)    

জানার পরিধি আরেকটু বিস্তৃত হলো প্রিয় হুদা ভাইয়ের কারণে!

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২২৫৯৯০(১৪)    
লেখকের মন্তব্য

শুভেচ্ছা নয়ন।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২২৫৯৭২(১৫)    

গাছটি দেখার আগ্রহ রইলো।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২২৫৯৯১(১৬)    
লেখকের মন্তব্য

সময় করে একদিন চলে এসো। দেশের একমাত্র বৃক্ষ। সকলেরই দেখবার আগ্রহ জন্মাবার কথা।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২২৬২৮১(১৭)    

দেশের একমাত্র বৃক্ষটাকে দেখে ইতিহাসের অংশ হওয়া যাবে!

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২২৬৩৫৫(১৮)    
লেখকের মন্তব্য

সারাদেশে একটা, শুধুই একটা। এটা প্রত্যেকের দেখার সখ হওয়া স্বাভাবিক। চলে এসো একদিন।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২২৬৮৪২(১৯)    

ওকে!
সময় করে একদিন গিয়ে দেখে আসবো।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২২৬৩৭০(২০)    

ভালো লাগলো। হুদা ভাই।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২২৬৩৮০(২১)    
লেখকের মন্তব্য

ধন্যবাদ, ধূমায়িত রোদ্দুর।

 

মন্তব্য করুন

এই তথ্যটি সর্বদাই গোপন রাখা হবে এবং কোন অবস্থাতেই তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
ছবি যাচাই
আপাতত: শুধু মানুষদের জন্যই আমাদের দুয়ার খোলা। পরে নাহয় রবোট, বায়োবট বা এন্ড্রয়েডদের কথা বিবেচনা করা যাবে।
5 + 13 =
এই গাণিতিক সমস্যাটি সমাধান করুন এবং সঠিক উত্তরটি উপরের ঘরে লিখুন। যেমনঃ ১+৩ এর জন্য লিখুন ৪।