নাজমুল হুদা-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

রাতে খেতে বসে রহস্য উন্মোচিত হলো। মলা মাছের তরকারি পাতে পড়তেই বুঝতে পারলাম দুপুরে যা খেয়েছি সেটা কী মাছের মাথা!
পাতে নিয়ে এই মলা মাছের (এটাকে কখনও মায়া মাছ বা চেলা মাছও বলতে শুনি বাজারে গেলে) কোন মাথা নেই দেখেই না বুঝলাম!
দুপুরে কন্যা আমার খাবার জন্য ডাক দিতেই ডাইনিং টেবিলের দিকে এগিয়ে গেলাম, প্লেটে ধবধবে সাদা কাটারিভোগ চালের ভাত, আর তার উপরে কুৎসিত রঙের এক দলা কালো ভর্তা জাতীয় কিছু একটা। কালিজিরা ভর্তার মত কালো নয়, অদ্ভুৎ কালচে রঙের এ বস্তুটি দেখে তা খাবার অযোগ্য মনে না হবার কোন কারণই থাকতে পারে না। তবু মেয়ে যখন পাতে তুলে দিয়েছে একটু চেখে না দেখে তো আর ফেলে দিতে পারি না!
মেয়ে তো সব গুছিয়ে দিয়ে ঢুকেছে গোসল করতে। গৃহকর্মী-কাম-নাতির আয়া, প্রায় তিরিশ বছর আমাদের সংস্পর্শে থেকে যার ভাষা ও চাল-চলনে কোন পরিবর্তন আসেনি, যে এখনও পর্যন্ত ঘড়িতে সময় দেখতে শেখেনি, সেই রিজিয়ার কাছে জানতে চাইলাম জিনিষটা কি! সে টপাস করে বলে দিল, কদুর চুচা আর মাছের মাথা ভর্তা। আমি আর কিছু না বলে চুপচাপ অল্প কিছু ভাতের সাথে একটুখানি মাখিয়ে মুখে দিলাম। আরে, দারুন তো! একটু একটু করে খেতে খেতে মনে হলো, বেশ তো, এই বস্তু দিয়েই তো দুপুরের খাওয়া শেষ করা যায়!
কদুর চুচার রহস্য বুঝলাম, লাউ রান্না পাতে নিয়ে। অব্যবহারে সব কিছুতে মরচে ধরে যায়। অনেক দিন পরে কদু শব্দটি শুনেও তেমনই হঠাৎ করে কেমন যেন থমকে গিয়েছিলাম! আর চুচা তো সেই কোন অতীত কালে শুনেছিলাম, বা বলতামও হয়তো। তবে লাউয়ের খোসাকে কখনও কদুর চুচা বলেছি কিনা মনে করতে পারলাম না কিছুতেই। বাঁশের চুচা খুব পরিচিত, কিন্তু লাউয়ের চুচা? না, মনে পড়ছে না কিছুতেই!
তো, এই লাউয়ের খোসা আর মলা মাছের মাথা একত্রে ভর্তা করে এমন সুস্বাদু খাবার তৈরি হতে পারে তা বুঝবো কেমন করে? দুটো বস্তুই তো ফেলে দেবার মত। অথচ সেই বাতিল বস্তু দিয়েই কী অসম্ভব স্বাদের খাবার তৈরি হতে পারে তা না খেলে সত্যিই বুঝা দুস্কর!
রেসিপি? আমি জানবো কেমন করে? আমি তো খাদক, স্রেফ খাদক!! রান্না মানেই আমার কাছে কান্না!!! রেসিপির জন্য আছেন সুরঞ্জনা, আছেন সাহাদাত উদরাজী! আমি মেন্যু বলে দিলাম, তাদের কেউ যদি এগিয়ে আসেন, তা'হলে এই খাদ্য জুটবে আপনাদের কপালে; না হ'লে আমার আর কীইবা করার আছে?
শুভেচ্ছা সকলকে। শুভ রাত্রি।
মন্তব্য
ক্ষুধা লাগিয়ে....শুভ রাত্রি বললে হবে না হবেনা।
লেখকের মন্তব্য
জনিকা,
ঐ তো আসছে সাহাদাত উদরাজী, ঐ যে আসছে সুরঞ্জনা
তাদের হাতে যাদু আছে, আছে কলকাঠি, আছে ব্যাঞ্জনা
আমি তো ভাই খাদক নির্ভেজাল
তালে হয়তো ঠিক তবুও মাতাল
রান্না করতে কান্না আসে তবু খাইতে পারি ভইর্যা রসনা!!
চমৎকার অনুকাব্য।

রান্না মানেই আমার কাছে কান্না!!!
আসেন, হাত মিলাই।
লেখকের মন্তব্য
উদরাজী কিন্তু চেতে যাবে!!!
তাও তো কথা ঠিক!
হাত মেলানোতে গোপনীয়তা বজায় রাখতে হবে দেখছি!
কদুর চুচা হোক আর লাউয়ের, আপনাকে যে নিয়মিত পাচ্ছি, এটা অনেক আনন্দের ব্যাপার!
তবে আপনার স্হলে আমি হলে প্রথম এবং এককথাই হতো, খাবো না!
লেখকের মন্তব্য
কিন্তু আমি যে ভালো ছেলে, যা পাই তাই খাই। খাওয়া নিয়ে কোন তাল-বাহানা করি না। ভালো লাগলে হাসি মুখে খাই, ভালো না লাগলে খাই মুখ গোমড়া করে। মুখ গোমড়া করতে হয় না আমাকে, মুখ প্রাকৃতিক ভাবেই গোমড়া হয়ে আসে। তা দেখে যার যেমন বুঝবার বুঝে নেয়।
বুঝতে পারছি, তুমি খুব জেদী! একমাত্র, নাকি সবার ছোট??
সবার ছোট!
লেখকের মন্তব্য
হুম্ম!! আমার ধারণা তা'হলে মিছে নয়!!!
জ্বি ভাইয়া,
ধারণা পুরোপুরি ঠিক!
জেদী ছিলাম, তবে আম্মার সাথেই বেশি দেখানো হতো।
ভাইয়া
একটা পরামর্শ দেন।
বাঁচালশ্রেষ্ঠের লিস্ট দেখসেন? আমি কি থামবো এবার? অনেক বেশি না?
লেখকের মন্তব্য
ক্ষুদে ব্লগে তোমাকে অভিনন্দন জানিয়েছি এ জন্য।
আজকের অবস্থা তো আরও ভয়াবহঃ
নয়ন ( ৩৪০)
সাহাদাত উদরাজী ( ২৫৮)
অদ্ভুত আচার্য ( ১৯৪)
নাজমুল হুদা ( ১৮৩)
ঝিনুক ( ১৪০)
অঙ্ক ( ১৩৯)
বাপী হাসান ( ১১৫)
আমার ধারণা চতুর্মাত্রিকে এটাই রেকর্ড এ পর্যন্ত! অভিনন্দন নয়ন।
না ভাই, থামবে কেন? চতুরের ঝিঁমানো ভাব কেটে গেছে। অদ্ভুত আচার্য, ঝিনুক, অঙ্ক নতুন এসেছে তালিকায়। তুমি থামলে ওরা নিরুৎসাহিত হবে না? তা'ছাড়া, থামাথামির বালাই নেই, পোস্ট পড়বে, মন্তব্য করবে-কখনও কাজের, কখনও শুধুই মজার। থামলে তো থেমেই গেলে, কাজও হলো না, মজাও হলো না।
শুভ কামনা।
অভিনন্দনবার্তাটা আগে দেখা হয় নি।
মাত্রই দেখলাম।
অসংখ্য ধন্যবাদ সুন্দর সব কথামালার জন্যে।
আরে! এতো দেখি আমার উন্দালের রান্না-বান্না। খেয়ে বুঝলেন তো, ফেলা-ছরার জিনিস সযতনে পাতে দিলে কেমন উপাদেয় হয়?
মলা মাছের মাথা, আর কচি কদুর চুচা/খোসা সামান্য পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, এক কোয়া রসুন ( না দিলেও চলে) সহযোগে অল্প তেলে ভেজে লবন দিয়ে পাটায় বেটে নিতে হবে। ইচ্ছে হলে ধনেপাতাও দিতে পারেন।
একটু আগে কদুর শাক কুটে-বেছে রাখলাম। দেখি কাল নতুন কিছু করতে পারি কিনা!
লেখকের মন্তব্য
আহ! বাঁচলাম!! আপনার দেখা পেয়ে স্বস্তি পেলাম। এই ভর্তার প্রস্তুত পদ্ধতি না পাওয়া পর্যন্ত নিজেই আতঙ্কে ছিলাম।
পটলের খোসা, মিষ্ট কুমড়ার খোসা , কাঁচাকলার খোসাও খাদ্য হিসেবে মন্দ নয়। তাই না?
মাহী ফ্লোরা এখানে অপেক্ষা করছে সজনে ফুল খাবার জন্য। তাকে একটু হেল্প করবেন?
লাউয়ের খোসা আমার বেশ পছন্দের। তবে জীবনে বার দুই জুটেছে কপালে
লেখকের মন্তব্য
পছন্দের জিনিষ কম খেতে হয়! আমার নয়, এটা মহাজন বাণী!!
অনেক আগে লাউয়ের খোসা ভাজি খেয়েছিলাম। স্বাদটা কেমন এখন আর মনে নেই শুধু খেয়েছি এটাই মনে আছে!
লেখকের মন্তব্য
কেমন করে প্রস্তুত করতে হয়, তা তো সুরঞ্জনা জানিয়েছে। এবারে খেয়ে স্বাদ মনে করার চেষ্টা করুন রে ভাই।
ভাললাগা জানিয়ে গেলাম।
লেখকের মন্তব্য
শুভেচ্ছা মোজাফফর।
কদুর চুচা আর মাছের মাথা ভর্তা কোন দিন খাইনি, তবে কদুর চুচা দিয়ে ভাজি অনেক সুস্বাদু হয় সাথে আলু চিকন করে দিতে হয়
লেখকের মন্তব্য
হেই কবি, খবর ভালো তো সব?
সব অখাদ্যই রান্নার গুণে সুখাদ্য হয়ে ওঠে! না কি রাঁধুনির গুণে?
এই তো চলে যাচ্ছে এক রকম ! আপনি কেমন আছেন?
আই থিংক রাঁধুনির গুণে
আপনের কইন্যারে ভুটাপ! বুকের পাটা আছে! বাঘের বাচ্চা! ভাস্তির ফোন নম্বর দেন, আপনের পাতে বরবটি আর মূলার বন্যা বওয়ায় দেওনের ব্যবস্থা নিতেসি!
- শুভ প্রত্যাবর্তন, হুদা ভাই!
লেখকের মন্তব্য
বাঘ এমনিতেই যথেষ্ট পেরেশানিতে আছে। সাঁকো নাড়িয়ে বাঘের বাচ্চাকে আরো চেতাবেন? মাফ চাইরে ভাই, মাফ চাই!!!!!!!!
শুভেচ্ছা।
হুদা ভাই কেমন আছেন?? ঈদের পর প্রথম পোষ্ট??
লেখকের মন্তব্য
হ্যা ভাই, ঈদের পরে প্রথম।
ভালো আছো তো ভাই।
এহ, চরম লোভ লাগিয়ে দেয়া একটা পোস্ট!
আমার মা পটলের খোসা বেটে একটা ভর্তা বানাতেন, দারুণ লাগতো খেতে।
লেখকের মন্তব্য
চতুর্মাত্রিকের সব কিছুই আসলে দারুন লোভনীয়! ঠিক হলো না বোধহয়, এখানে শুধুই লোভীদের ভিড়! আর খাওয়া-দাওয়া নিয়ে যে ভাবে সবাই এগিয়ে আসছে, তাতে লোভী না হয়ে উপায়ই বা কী? না কি আর কিছু??
লাউয়ের খোসা ভাজি খুব পছন্দের খাবার। মলা মাছের মাথা দিয়ে লাউয়ের চুচা ভর্তা বানানোর চেষ্ট এবার করতে হবে দেখছি। এর পুষ্টিমান নিঃসন্দেহে অনেক বেশি। ভাল থাকবেন হুদা ভাই।
লেখকের মন্তব্য
হাবিজাবি খেতে দেখি সবাই মোটামুটি পছন্দই করে! তবু কেন যে লোকজন ছুটে চলে দামী খাবারের দিকে? মাছ খাবো, মাংস খাবো, পোলাও খাবো, কোরমা খাবো, দুনিয়ার যেখানে যত দূর্মূল্য খাবার আছে সব খাবো একটা ভাব নিয়ে সকলের মধ্যেই যেন এক অলিখিত প্রতিযোগিতা লেগেই আছে! সস্তা খাবারের পুষ্টিমান আর স্বাদ যত ভালোই হোক সবাই কেন যেন নাক কুঁচকে তাকাতেই অভ্যস্ত! অথচ বেশির ভাগেরই প্রিয় খাবার দেখা যাচ্ছে এই সব হাবিজাবি!!!!
শুভেচ্ছা অপাং।
অপা আপু বললেন, মলা মাছের মাথা দিয়ে লাউয়ের চুচা ভর্তা বানানোর চেষ্ট এবার করতে হবে দেখছি
তাইলে অপা আপুর বাসায় আমার দাওয়াত!
চেষ্টার 'আ'কার নাই দেখি!


বুঝছি, ওটা সুরঞ্জনা আপা নিয়া গেছে লাঠি বানানোর জন্য!
আসো, শর্ত একটাইঃ পাতারে সঙ্গে চাই!
আচ্ছা, তাহলে পাতা আসলেই যাবো।
লেখকের মন্তব্য
জুলিয়ান ভাই!
আরে ভালো রেসিপি পেয়ে গেলাম। তবে এই দেশে লাউয়ের চুচা আর মলার মাথা দুইটাই দুষ্প্রাপ্য বলে আপাতত রাঁধতে পারতেসি না। তবে দেশে গেলে শিউর ট্রাই করবো।
লাউয়ের চুচা অবশ্য আমি এমনিতে খুব ভালো পাই।
লেখকের মন্তব্য
কবে আসছো? খেয়ে জানাবে কিন্তু কেমন লাগলো!
কবে আসবো জানি না, তবে অপেক্ষা নয় মাসের বেশি না।
অবশ্যই জানাবো খেয়ে।
লেখকের মন্তব্য
বেঁচে থাকলে দেখা হবে আশা করি। [যদিও আশপাশে যারা আছে তাদের সাথেই দেখা হয়নি এখনও? (কয়েকজন ছাড়া!)]
নাজমুল ভাই, লাউয়ের খোসা আমি খাই, কিন্তু মাছের মাথা? কখনই সম্ভব নয়। আপনাকে দেখে ভালো লাগছে। আমি ইদানীং কিছুটা অনিয়মিত হয়ে গেছি। চাপে চাপে পিষ্ট, আর কি!
খুব ভালো থাকুন।
লেখকের মন্তব্য
কিসের এত চাপ? হাসপাতালে রোগির চাপ, আর বাসায়? তোমার বাসা তো চাপহীন বলেই জানতাম!
বাসায় না, বাসায় না। হাসপাতালে আর ব্যবসায় চাপ।
ভর্তার কথা যখন উঠলো তখন বলতেই হবে যে জগতের সেরা ভর্তা হলো টাকি মাছের ভর্তা ।
লেখকের মন্তব্য
সেরা ভর্তা খেতে হলে কোন পন্থা অবলম্বন করা ফলপ্রসু হবে, জানাবেন কী?
বন্ধু শাহাদাত উদরাজীর রেসিপি:
কিছু টাকি মাছ নিন। লবন দিয়ে ভাল করে ধুয়ে নিন।
পছন্দ মত কয়েকটা টাকি মাছের মাথা কেটে হালকা তেলে কড়াইয়ে ভেজে নরম করে নিন।
টাকি মাছ গুলো প্লেটে উঠিয়ে কয়েকটা লাল মরিচ ভেজে নিন এবং পেঁয়াজ কুচি ও সামান্য লবন নিন।
টাকি মাছের কাঁটা গুলো বেছে নিন। খুব সহজেই হাত দিয়ে আপনি মাছের কাঁটা বেছে নিতে পারেন।
এবার মরিচ, মাছ, পেঁয়াজ লবন আলাদা আলাদা করে মেখে শেষ এক করে মেখে ফেলুন। যদি বাসায় সরিষার তৈল থাকে সামান্য দিতে পারেন না থাকলে নাই। লবন না হলে আর একটু দিতে পারেন।
ব্যস হয়ে গেল টাকি মাছের ভর্তা। অসাধারণ। আশাকরি আপনার কাজে লাগবে।
হা হা হা।।।
ধন্যবাদ বন্ধু আমাকে মনে রাখার জন্য।
নাজমুল ভাইয়ের সাথে কথায় পেরে উঠবে না। তিনি একাই ১০০! হা হা হা।।।
লেখকের মন্তব্য
আমাকে এমন করে পচান কেন রে ভাই! আমি তো নিতান্তই নিরীহ প্রাণী!
লাউয়ের খোসা আর মলা মাছের মাথা একত্রে ভর্তা করে এমন সুস্বাদু খাবার তৈরি হতে পারে। আসলে হুদা ভাই, আমার এখন ধারনা যে কোন কিছুই খাবার হতে পারে! হা হা হা।।।
আমরা অভাবে না স্বভাবে বদল হয়ে যাচ্ছি, বুঝতে পারছি না! আবার আবিস্কারও হতে পারে, যে হারে জন সংখ্যা বাড়ছে! এত মানুষের খাবার যোগাড় করার ব্যাপারটা ভেবে দেখেছেন?
আমার ওয়াইফকে কখনো লাঊয়ের খোসা নিতে দেখি নাই। তিনি ফেলে দিতেন। গত মাসে খেলাম, লাঊ খোসা ভাজি! প্রান ভরে গেল। স্বাদ কারে কয়!
লেখকের মন্তব্য
ঐ যে কবি বলেছেন,
"জীবনের ধন কিছুই যাবে না ফেলা
ধুলায় তাদের যত হোক অবহেলা!"
আমরা শুধু মেন্যু, চিত্রাবলী, রেসিপিই দেখে যাব; পেটে আর কিছু পড়বে না
লেখকের মন্তব্য
রান্নাঘরে, না ভুল হলো, কিচেনে ঢুকে স্বহস্তে চিত্র আর রেসিপি দেখে মেন্যু প্রস্তুতে উৎসাহ দেবার জন্যই তো এত কসরত চলছে। এর পরে পেটে অনেক কিছু পড়বে, অন্যদেরকে খাইয়ে আনন্দও পাওয়া যাবে উপরি হিসেবে।
মন্তব্য করুন