নাজমুল হুদা-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

মাঝে মাঝে কী যেন হয়! কোন একটা কথা বা কবিতার কোন লাইন অথবা গানের কোন সুর মাথার মাঝে ঘুরপাক খেতে থাকে। খেতেই থাকে ঘুরপাক, যা কিছু করি না কেন, যত ব্যাস্ততাই থাকুক না কেন, কিছুতেই সেটা মাথা থেকে সরে না। না, শত চেষ্টা করেও সরানো যায় না। অবশেষে আবার কখন যেন নিজ থেকেই সে লাইন বা সুর কোথায় হারিয়ে যায়, মাথাটাকে অনেক ঘামিয়েও তাকে আর উদ্ধার করা যায় না। মনে পড়েই না আর! দু'তিন দিন যাবত মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে, সেই কোন ছোটবেলায় পড়াঃ
দেখিয়া হিংসায়
পিপীলিকা বিধাতার
কাছে পাখা চায়।
বিধাতা দিলেন পাখা
দেখ তার ফল,
আগুনে পুড়িয়া মরে
পিপীলিকা দল।।
বিধাতা অত্যন্ত শক্তিধর সত্ত্বা। পিপীলিকা 'চাহিবা মাত্র' তাকে পাখা দেবার ক্ষমতা তাঁর আছে। তিনি অতি দয়ালু - পিপীলিকার ইচ্ছা তিনি নিমেষেই পূরণ করে দিতে পারেন। তিনি পরম করুণাময়, কারো দুঃখ-কষ্ট তিনি সইতে পারেন না। তাঁর আরো অনেক গুণ আছে, গুণের বর্ণনা করে শেষ করা যায় না।
মানুষের কল্পনা শক্তি অসীম। সেই অসীমত্বকেও ছাড়িয়ে গেছে বিধাতার গুণাবলী ও শক্তির বিশালতা। তাঁর সৃষ্টির সেরা মানুষ - মানুষ সৃষ্টির জন্যই তিনি বিশ্বব্রম্মাণ্ড সৃষ্টি করেছিলেন। এই মানুষের প্রতিই তাঁর ভালোবাসা সবচেয়ে বেশি। আর তাই মানুষের কষ্টে তিনি সব চাইতে বেশি কষ্ট পেয়ে থাকেন। তিনি যা করেন, সবই মানুষের মঙ্গলের জন্যই করেন।
পৃথিবীতে প্রতিদিন অসংখ্য ঘটনা ঘটে চলেছে প্রতি নিয়ত। প্রতিদিন বিধাতা তাঁর প্রিয় মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি করে চলেছেন। এমনই একটা ঘটনা ঘটেছিল এখন থেকে প্রায় তিন বছর আগে। একটা মানুষের জন্ম হয়েছিল সেদিন। সে মানুষটি নিজের জান বাঁচাবার জন্য বাতাস থেকে প্রয়োজনীয় অম্লজান টেনে নিতে পারে নি, চিকিৎসকেরা কৃত্রিম ভাবে তাকে বাঁচিয়ে রেখেছিল। সে মানুষটি এই তিন বছর বয়সে এখনও পর্যন্ত বসতে বা দাঁড়াতে শেখে নি, শেখে নি হামাগুড়ি দিতে, শিখতে পারে নি হাটতে। মানুষটি একটি কথাও আজ পর্যন্ত বলতে পারে নি। এই পৃথিবীর আলো আর আঁধারের মাঝে যে কোন পার্থক্য আছে তা জানা হয় নি তার। এই সুন্দর বসুন্ধরা তার কাছে শুধুই শব্দময়।
অসীম শক্তির আঁধার বিধাতা তার ক্ষমতা দিয়ে এই মানুষটিকে কেন এমন অসম্পূর্ণ করে সৃষ্টি করলেন, কেন তার জীবনকে স্বাভাবিক করলেন না! যদি বা করলেনই এমন, দিবা-নিশি তার কষ্ট দেখে তাঁর মনে কী একটুও কষ্টের ছাপ পড়ছে না? তবে কেন তাকে তার প্রাপ্য দিয়ে কষ্ট দূর করতে কার্পণ্য করছেন? তা করবার ক্ষমতা যদি নাই থাকে, তবে তিনি কেমন সর্বশক্তিমান? যদি তাঁর কষ্ট নাই লাগে, তবে তিনি কেমন ভালোবাসেন, কিসের সে ভালোবাসা? কষ্ট দেখতেও কী তাঁর আনন্দ? সত্যিই যদি এতেই তিনি আনন্দ পান, তবে তাঁর নিজের কাছে নিয়ে যেয়ে এই আনন্দ তিনি আরও ভালো ভাবে উপভোগ করতে পারেন, তাই বা করছেন না কেন? কী এমন মঙ্গল তিনি লুকিয়ে রেখেছেন তার এই নিষ্ঠুরতার মাঝে?
"আমি যাহা জানি, তোমরা তাহা জানো না" এ কথা বলে সান্ত্বনা দেওয়া যায়, নড়বড়ে খুঁটির গোড়া শক্ত করে আটকানো যায় না। বিধাতার শক্তি আর ক্ষমতা দিয়ে ঐ শিশুটিকে একজন স্বাভাবিক মানুষে পরিণত করা না গেলেও এই পোস্টদাতাকে শায়েস্তা করা যায়। তাঁর অসংখ্য প্রিয় বান্দা তাঁর নৈকট্য লাভের আশায় মুহূর্তমধ্যে এই ব্লগারের মস্তক ছেদন করতে পারেন, কিন্তু ঐ অসহায় শিশুটির জন্য সেই বান্দাগণসহ স্বয়ং বিধাতার ক্ষমতা নিয়ে সংশয় তাতে কমবে না এক বিন্দুও।
[এই পোস্ট কারো ব্যক্তিগত বিশ্বাসকে আহত করবার জন্য লেখা হয় নি। যদি কারো বিশ্বাসে সামান্যতম আঘাত লাগে সে জন্য আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী। আমার একান্ত ব্যক্তিগত অনুভূতি থেকে বের হয়ে আসা এই পোস্ট বন্ধুদে্র সহানুভূতি পাবার জন্যও নয়, কারণ কোন আহারে, উহুরেতে সে মানুষটির কিছুই যায়-আসে না; সে একটা জীবন্ত জড় পদার্থ]
মন্তব্য
কিছু সময় স্তব্ধ সময়;
শব্দ হারায় নির্বাকতায়....
*******
লেখকের মন্তব্য
চলে যা, চলে যা, বলে কাঁদি আমি যত
বেড়ে যায়, বেড়ে যায় আয়ু তার তত!
কিছু কিছু সময় একেবারে অসহায় করে দেয় মানুষকে। দগ্ধ করে অসহনীয় যন্ত্রণায়; অথচ করার কিছুই থাকে না হাতে, লাঘবে তা!
মানিক ভায়ের সাথে সহমত পোষণ করে গেলাম।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ, করিম।
অসহায় ভাষা গুমরে কেঁদে ফেরে!!!!
লেখকের মন্তব্য
আশা নেই তবু কান্না রাখে মোরে ঘিরে!
হুদা ভাই, কী অসহায় আমরা!
আমার সান্ত্বনা জানানোর ভাষা নেই।
লেখকের মন্তব্য
"সাগরে পেতেছি শয্যা শিশিরে কী ভয়!"
কিছু নেই যার, তার কিসের পরাজয়?
দেখে গেলাম।
লেখকের মন্তব্য
দেখা ছাড়া অবশ্য কিছু করারও নেই!
আমি সত্য বলি! দুনিয়াতে আমরা আসলেই অসহায়। শুধু কয়েকদিনের বেঁচে থাকা মাত্র!
কারণ কোন আহারে, উহুরেতে সে মানুষটির কিছুই যায়-আসে না; সে একটা জীবিন্ত জড় পদার্থ।
কি নির্মম সত্য কথা !
লেখকের মন্তব্য
এই নির্মম সত্য কথাটির চেয়েও তার জীবন নির্মম, ঈশান!
মনটা খারাপ লাগছে খুব
লেখকের মন্তব্য
মন খারাপ ওরে দেবার জন্য দুঃখিত, কাগজের নৌকা!
আপনি কেন দুঃখিত হবেন ভাইয়া?আপনিতো শুধু লিখেছেন!
কেন এমন হয় জানতে ইচ্ছা করে।কিন্তু উত্তরটা জানে এমন কাউকে পাইনি
লেখকের মন্তব্য
আমারও জানতে ইচ্ছে করে, তাইতো ভেবেছিলাম এখানে কেউ হয়তো কোন কিছু জানাতে পারবে। কিন্তু হতাশ হয়েছি এখানেও। আমার হতাশার কপাল তো তাই!
বিষণ্ণতা
লেখকের মন্তব্য
দুঃখিত।
মাঝে মাঝে নানা কারণে এমন সব প্রশ্ন আমার মনেও জাগে
লেখকের মন্তব্য
কিন্তু এ সব প্রশ্নের কী কোনই জবাব নেই? কেউ জানে না?? কেউ দেবে না??
আপনি ধারে কাছে থাকলে আপনাকে একটা 'যাদু কা ঝাপ্পি' দিতাম! কারণ এরচে' বেশি ক্ষমতা আমাকে দেয়া হয়নি,,,,,,,,,
লেখকের মন্তব্য
আহা! কেন যে আমি তোমার ধারে কাছে নেই??
যদিও আপনার জায়গায় দাড়ানোর ক্ষমতা আমার নাই বা কষ্টটা কতটুকু উপলব্ধি করার ক্ষমতা নাই ।
কিন্তু মনে হলো আমরা যে কষ্ট গুলো পাই সেটা আমাদের নিজস্ব । ঐ মানুষটা ভালো বোধ করছে বা খারাপ বোধ করছে সেটা কিন্তু আমি জানছি না । কিন্তু আমরা সমাজে গ্রহনযোগ্যতার অভাবে কষ্ট পাচ্ছি। পৃথিবীতে এমন শিশু জন্ম নিলে এটাই স্বাভাবিক হতো।
তাই এইসব কষ্ট গুলো ছুড়ে ফেলে দিন ।
সৃষ্টিকর্তা বা মানুষ কেউ আপনাকে কষ্ট দেবার ক্ষমতা রাখে না এই ভাবে নিজেকে প্রস্তুত করুন ।
সৃষ্টিকর্তা আছে কী নাই আমি জানি না তবে - এটা জানি সে আমাদের কোন কাজে আসার মতো না । অথবা তার বিশাল ক্ষমতাই তার
অনেক ক্ষমতাকে নিস্ক্রিয় করে ।
সহ মত জানিয়ে গেলাম
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ, খেয়ালীমন।
লেখকের মন্তব্য
আরণ্যক,
তার এ দুনিয়াকে দেখার আকুলতা বুঝা যায়। তার শ্বাসকষ্ট বুঝা যায়, খাবার গিলবার সময় তা আটকে গেলে চোখ-মুখসহ সমস্ত শরীর যখন কুঁকড়ে আসে আর মসীবর্ণ ধারণ করে তখন সে যে কষ্ট পায় তা বুঝা যায়। তার ভালোবোধ বা খারাপ বোধ জানতে পারা যায় বৈকী?
সব শিশুই যদি এমনই জন্ম নিত, সব মানুষই যদি এমনই হতো, তা'হলে তো কিছুই বলার থাকতো না। যেমন গরুরা গরু আর পাখিরা পাখি।
এই কথাটা নিয়ে বিশাল তর্ক হতে পারে তাই কিছু বলার নেই আমার। তবে চোখের সামনে প্রতিনিয়ত এই সব দেখতে দেখতে বিশ্বাসের ভিত আমার টলটলায়মান!
[আস্তিকতা বা নাস্তিকতা, দুটোই আমার কাছে এখন ফ্যাশন বলে মনে হয়। আস্তিকেরা ধর্মের কোন অনুশাসন না মেনেও আস্তিক, আর নাস্তিকেরা সে সব অনুশাসন অস্বীকার করে নাস্তিক! আমার দুঃখ এই যে, আমি কোনটাই হতে পারলাম না। আমার না আছে অস্বীকার করার মত সাহস, না আছে বিশ্বাস করার মত মনোবল!!!]
কি বলব বুঝতাছি না, তবে মাঝেমাঝে আমিও এরকম ভাবি
লেখকের মন্তব্য
কবি, ভেবে কোন লাভ কী হয়?
ভাবনার কাছে শুধুই পরাজয়!!
আমি কিছু বলবো না নাজমুল ভাই। শুধু এইটুকু বলতে পারি-- আল্লাহ যা কিছু করে ভালোর জন্যই করে।
আল্লাহ তাকে ভালো রাখুক,
আল্লাহ আপনাকে এবং আপনাদেরকে সুস্থ রাখুক।
লেখকের মন্তব্য
আহা!! এই বাক্যটির উপরে যদি আস্থা রাখতে পারতাম!!!
যদি কেউ আমাকে জানাতে পারতো, কী কল্যাণ ঐ শিশুটির এই অবস্থা থেকে পাওয়া যাবে????
সে ক্ষমতা কী তাঁর আছে?? শুধু মন্দ করবার মাঝেই তো দেখি তাঁর ক্ষমতা সীমাবদ্ধ!!!
উফ, কেন যে এমন করে লিখলেন নাজমুল ভাই!
লেখকের মন্তব্য
বিধাতাও তোমার মতই কৌতুক প্রিয়! মাঝে এমন কৌতুক করে তিনিও মজা পেতে চান হয়তো!! কিন্তু এ কৌতুক যে কত নির্মম তা বুঝবার ক্ষমতা যদি তাঁর থাকতো!!!
ইচ্ছে করছে চুপচাপ কিছুক্ষণ আমার প্রিয় অন্ধকার কোণে বসে অশ্রু ঝরাই।
লেখকের মন্তব্য
আলো বা অন্ধকারের কোন কান্নাই ওই শিশুটির কোন কল্যাণ করতে পারে না। এই তিন বছরে অশ্রুর বন্যায় কোন কষ্টই লাঘব হয় নি তার। তার চোখে একফোটা পানিও ঝরে নি। আমার চোখে ছানি পড়েছে - ওর চোখের তারায় আলো ঢোকে নি!
প্রিয় নাজমুল ভাই,
ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও ('সত্ত্বেও' বানান ঠিক আছে? না কি ভুল?) আমি গত কয়েকদিন প্রিয়জনদের বেশ ক'টি পোস্ট পড়তে পারিনি, এবং মন্তব্যও করতে পারিনি। অপরাধ নেবেন না।
আপনি এই পোস্ট পড়ে আমার মন্তব্য জানতে চেয়েছেন বিশেষভাবে।
আপনার এই পোস্টের মন্তব্য আমি আপনাকে প্রাইভেটলি দিতে চাইছি, যদি আপনার তরফ থেকে কোন সমস্যা না থাকে।
বাবুর জন্য হৃদয় নিংড়ানো ভালবাসা।
লেখকের মন্তব্য
না ভাই, আমার কোন সমস্যা নেই। এখানে দিলেও সমস্যা নেই, প্রাইভেটলি দিলেও সমস্যা নেই। আপনার যেমন খুশি।
কি বলি! নাঃ, নীরবই থাকি বরং। পানসে সহানুভূতিও আর জানালাম না! এইটুক বলি, ব্যথা খানিকটা আমরাও ভাগ ক'রে নিলাম!
লেখকের মন্তব্য
আপনি এমন করে বলেন যে চোখ ভিজে যায়! কৃতজ্ঞতা।
মন্তব্য করুন