লেখকের ক‌থা

সদর দরজা

জ্ঞানসমাধি, সন্তাপ আর রোদের ক্যানভাসে

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি


কোনো কোনো মানুষ হুট করে বেরিয়ে পড়ে বাড়ি থেকে
জ্ঞানসমাধির খোঁজে-- যে জ্ঞান মানুষকে মানুষ করে রাখে
আর মানুষ হতে বলে আরো আরো অবিকৃত সেই জ্ঞান
খুঁজে পেলে মানুষের কী করা উচিৎ শুধু এটুকু জিজ্ঞেস করবে
বলে খুঁজে বেড়ায় জ্ঞানসমাধি-- অনেকে আর ফিরেও আসেনা
অথচ তাদের ছেলে/মেয়েরা দাঁড়িয়ে থাকে দরজায়-- বাবা/মা
ফিরে এলে নিজেরা বের হবে বলে.....


তোমাকে আমি, সন্তাপ, হারিয়ে ফেলেছিলাম, ঐ মাঠে, ঘাস আর মাটির মধ্যবর্তি রেখায় যে ছায়া ছায়া দীর্ঘশ্বাস, আমি তোমাকে ফেলে এসেছিলাম সেখানে, তারপর আমার চারিদিকে ক্ষুদ্রতর হলো ছায়া, অদৃশ্যও হলো একসময়, আর আমি কাঁদলাম হারিয়ে ফেলার আরামে, তোমাকে সন্তাপ, আমি কাছে রাখতে পারতাম আরো আরো দিন, তোমাকে ভাবতে পারতাম আলো, বন্ধুর চেয়ে বড়ো যে পিতা, আমি তোমাকে রাখতে পারতাম তার আয়তনে আরো কিছুদিন, কিন্তু তুমি ছিলে শীতল, আমাকে ক্রমশ শীতলদেশের তলদেশে নিয়ে যেতে চেয়েছিলে তুমি, যেখানে সন্ধ্যা হয় প্রতিশ্রুত রাত্রির রহস্য ছাড়া, আমাকে তুমি দেখাতে চেয়েছিলে তার অন্ধজাদুঘর, আমি যেতে পারি নি সন্তাপ, তোমাকে সত্য বলি আজ, কোনোদিন যেতেও পারবো না সেখানে, কেননা সে-জাদুঘরে আমার অন্ধ বাবার চোখ জ্বলে আছে আজো, সবচেয়ে সংবেদনশীল যে-হাড়, মায়াময় আমার মায়ের, জেগে আছে পাশাপাশি, ধরো আমাকে চিনে ফেললো ওরা আর কাছে ডেকে বললো: এখানেই থেকে যা খোকা, বাইরে প্রকট আলো, বাইরে ধোঁয়া আর আশার বর্ণলেপন, আমরাই তোর অনেকটা আপন, তুই থেকে যা এখানে, এখন

আমি কী করতাম তখন

তোমার মনে আছে সন্তাপ, হারাবো বলেই, আমরা-- আমি আর তুমি বেরিয়েছিলাম একদিন, ভোরে, তখনো আধাঁর কাটেনি ভালো, চারিদিকে বিকট আলো ফেলে ছুটে আসে নি মফস্বল মটর-জানোয়ার, তবু আকাশ ছিল আর ছিল অসম্ভব কালো কাকেদের উড়ালরেখা--যাদের জন্ম হয়েছিল পূরাণের বিকৃত কামনায় অথচ আজো তারা মানুষের ভুলে যাওয়া পাপের মতো ফিরে আসে ঘুমেরও অগোচরে, এসবই মাথায় রেখে আমরা বেরিয়েছিলাম, পথে, হারাবো বলে, তখন সন্তাপ, নদীর কিনারে এসে তুমি ভয় পেয়েছিলে, কেননা আমি হাটতে চেয়েছিলাম আরো, তুমি জানতে না সাঁতার, আমি অভয় দিয়েছিলাম, সাঁতারের কী প্রয়োজন, আমরা তো ভাসবো না, আমরা হাটবো, পানি যদি সইতে না পারে ভর, হাটবো তলদেশ দিয়ে, তুমি ভয় পেলে সন্তাপ, আমাকে একা ফেলে চলে এলে সমষ্টি-সন্যাসে, আমাদের আর হারিয়ে যাওয়া হলো না, আমাকে দাঁড়িয়ে থাকতে হলো একদা জলমগ্ন আমাদের বোনের স্মৃতির ভেতর, ভেসে ওঠা তার লাল কামিজের ভেতর আমি ঢুকে যেতে দেখলাম আগ্রাসী রোদের উত্তেজনা

সন্তাপ, তুমি তো জানো, গলিত রোদের ক্যানভাসে আমাদের বোন হাসে প্রত্যহ, ভাইদের নিরুদ্দেশ ভ্রমণ আর তার স্খলন দেখে, অশ্রুসীমানায়

(উৎসর্গ: কথাশিল্পী নুশেরা তাজরীন-কে, এইটুকু, শ্রদ্ধাসহ)

7
আপনার মূল্যায়ন: আপনি মূল্যায়ন করেন নি। গড় রেটিং: 7 (৩ জন মূল্যায়ন করেছেন)
শেয়ার করুন » Facebook Twitter Delicious Digg MySpace Google Orkut Blogger Google Buzz Technorati
অথবা এই সংক্ষিপ্ত লিংক শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩২৫৩৩(১)    

হাততালি

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩২৫৫৪(২)    

প্রথম অংশটুকু অতি সুন্দর।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩২৫৫৬(৩)    

ভূপিন্দর সিংয়ের গাওয়া একটা গজল আছে, গুলজারের লেখা। আবৃত্তি জোড়া তাতে, খুব সম্ভব গুলজারেরই কণ্ঠে। বুকচাপা দীর্ঘশ্বাসে ক্লান্তস্বরের গভীর জিজ্ঞাসা: ইয়াদ হ্যায় পঞ্চম...?

সেই একই স্বরে, একই সুরে শোনা গেলো যেন

তোমার মনে আছে সন্তাপ...

================================

উৎসর্গপত্র দেখে | শরমিত ইয়াহুউউউ!!!

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩২৫৬৯(৪)    

ইদানিং কবিতা আর অনুগল্পের মধ্য কোন পার্থক্য দেখি না!!!!

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩২৬৬৪(৫)    

লেখাটা আমার জন্য বেশি কঠিন হয়েছে। :(

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩৪৮১০(৬)    

পড়তে অনেক ভাল লাগলো।

ভালো লাগছে / পুরাই একমত / জটিল

 

মন্তব্য করুন

এই তথ্যটি সর্বদাই গোপন রাখা হবে এবং কোন অবস্থাতেই তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
ছবি যাচাই
আপাতত: শুধু মানুষদের জন্যই আমাদের দুয়ার খোলা। পরে নাহয় রবোট, বায়োবট বা এন্ড্রয়েডদের কথা বিবেচনা করা যাবে।
15 + 0 =
এই গাণিতিক সমস্যাটি সমাধান করুন এবং সঠিক উত্তরটি উপরের ঘরে লিখুন। যেমনঃ ১+৩ এর জন্য লিখুন ৪।