লেখকের ক‌থা

সদর দরজা

অনন্ত মাষ্টারের গ্রামে

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

তাপু, ওয়াহেদ, মনির, মামুন-- বয়সের গাছপাথর না-মানা চার তরুণ। কেউই সে অর্থে সার্বক্ষণিক পেশাজীবী নন; পড়ে, পড়িয়ে এবং মনের মোষ তাড়িয়ে আনন্দ পান। পাণ্ডুয়া নামের একটি সংগঠনকে দাঁড় করানোর স্বপ্ন দেখেন, যেখানে থাকবে বুটিক, প্রকাশনা আর কৃষি খামার। খামার গড়বেন বলে এক বছরের জন্য লিজ নেয়া হয় পাহাড়ের কোলে এক টুকরো জমি।

সেখানে যেতে হলে চট্টগ্রাম শহরের অক্সিজেন এলাকা থেকে খাগড়াছড়ি রুটের বাস ধরতে হয়। মানিকছড়ি উপজেলার গাড়িটানা বাজারে নেমে মোটরবাইকে ৪ কিলোমিটার গেলে জুগ্যাছোলা বাজার। বাজারের আগেই, ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুর থানায় হালদা নদীর পাড় ঘেঁষে পাণ্ডুয়ার খামার। সেখানে আছে কিছু গবাদি পশু; কৃষিজমিতে শাকসবজির আবাদ। প্রথম বছরে অনভিজ্ঞতাহেতু লোকসান গুণতে হয়েছে তাদের; এখন গরু বিক্রি করে শুধু ছাগল রাখা হয়েছে।

জুগ্যাখোলা বাজার আর গরুর হাটের ছবি দেখা যাক। উল্লেখ্য, সেখানে পাহাড়ি-বাঙালি জনসংখ্যার অনুপাত আনুমানিক ৩০:৭০।

.

.

.

.

=============================================
=============================================

এবার চলুন যাই অন্য এক জায়গায়, এমন একটি গ্রামে, যার অবস্থান পার্বত্য চট্টগ্রামে না হলেও অধিবাসীরা সবাই পাহাড়ের মানুষ; মারমা সম্প্রদায়ের লোকজন। চার দিকেই পাহাড় দিয়ে ঘেরা গ্রামটির আশপাশে চারপাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে বাঙালির বসবাস নেই। পাহাড় থেকে নেমে আসা ছড়ার স্রোতপ্রবাহ গ্রামটিকে তিনভাগে ভাগ করে রেখেছে।

গ্রামবাসীদের অধিকাংশই দিনমজুর। কৃষিখামার, শূকর পালন, চোলাই মদ তৈরি এবং কাঠ কাটা তাদের প্রধান পেশা। মূলত চোলাই মদ তৈরির উপকরণ জোগাতেই মোটা চালের আবাদ হয়। দোচুয়ানির উৎপাদন প্রক্রিয়ায় উপজাত হিসেবে থেকে যাওয়া পচা ভাত শূকরের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

.

.

.

.

.

.
বলা বাহুল্য, পেশা নির্বিশেষে এ গ্রামের মানুষেরা নিতান্তই দরিদ্র; অতি সাধারণ জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত। পাহাড়ের কোথাও কোথাও বাঙালি মহাজনের অর্থায়নে সেগুনগাছ আর বাঁশ কাটা হয়। অস্থায়ী টংঘর তৈরি করে সেগুলো জমা করা হয়। পাহাড় থেকে মাঝেমধ্যে নেমে আসে 'মউ'(মামু) অর্থাৎ বুনো হাতি। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, এই হাতির পাল কখনোই পাহাড়িদের বসতবাড়ি বা জানমালের কোনো ক্ষয়ক্ষতি করেনি। গত ১০ বছরে হাতির পায়ের নীচে পিষ্ট হয়েছে এমন ৮ জনের নাম জানা যায়, যারা সবাই বাঙালি!

এই গ্রামের মারমা কমিউনিটিতে রয়েছে ৭০টি পরিবার। যাদের ১০০০ সদস্যের হেডম্যান হলেন অনন্ত মাষ্টার। পঞ্চাশোর্ধ্ব মানুষটি স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং সচেতন এই মানুষটি পাহাড়ের বৃক্ষশূন্যতায় কষ্ট পান; কমিউনিটির লোকজনের অশিক্ষা আর মাতলামি তাঁকে বেদনাহত করে।

গ্রামবাসীকে সঙ্গে নিয়ে অনন্ত মাষ্টার গ্রামের দক্ষিণ-পশ্চিমে পাহাড়ের মাঝে মাটি ফেলে বাঁধ তৈরি করে দুটি হ্রদ তৈরি করেছেন প্রায় দশ বছর ধরে। বাঁধের কাঠামোতে গাছের গুঁড়ি আর ইটও দেয়া হয়েছে, তবু হাতির পায়ের চাপে কখনো কখনো হ্রদের বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই দুটি হ্রদ প্রায় সিঁড়ির ধাপের মতো, যাদের মধ্যে উচ্চতার পার্থক্য ২৫ ফুট। ওপরের হ্রদটির দৈর্ঘ্য প্রায় দেড় কিলোমিটার, নীচেরটির আকার বড় দীঘির মতো। গ্রামের লোকজন নির্ধারিত সময়ে দল বেঁধে স্নান করে হ্রদে। দুটো হ্রদেই মাছের চাষ হয়; এই বাবদ কমিউনিটির বার্ষিক আয় লক্ষাধিক টাকা। প্রতি বছর হ্রদ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ত্রিশ-পঁয়ত্রিশ হাজার টাকা প্রয়োজন হয়; যার ব্যয়ভার বহন করেন অনন্ত মাষ্টার।

.

.

.

.

অনন্ত মাষ্টারের দুটি সন্তান; একজন প্রবাসী, আরেকজন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে। তাঁর স্বপ্ন কমিউনিটির ছেলেমেয়েদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করা। এই লক্ষ্যে নিজের স্কুলের বাইরে বাড়িতে, এমনকি ২০-২৫টি শিশুকে উপজেলা সদরে রেখে পড়ান। এবং কাজটি করেন সম্পূর্ণ নিজের খরচে।

অনন্ত মাষ্টারের গ্রামে যাতায়াত আছে পাণ্ডুয়ার চারজনের; প্রথমেই যাদের কথা বলেছি। নিজস্ব ভাষায় কথা বলতে পারলেও লেখার অভ্যাস না থাকায় মারমা-অধ্যুষিত গ্রামটি থেকে মাতৃভাষার হরফগুলো প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছিলো; সেই বর্ণমালা রক্ষায় অনন্ত মাষ্টারকে সহযোগিতা করছেন তারা। এদের সঙ্গে যোগ দেন শাহরিয়ার, সানজিদা প্রমুখ।

গত শীতে নিজেদের সীমিত সাধ্যে এবং শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় সেই গ্রামে তারা মোটা চাদরের মতো কিছু শীতবস্ত্র বিতরণ করেন। আগের দিন চট্টগ্রাম শহরের নন্দন কানন এলাকায় কম্বল দিতে গিয়ে প্রায় তাড়া খেয়ে পালানোর অভিজ্ঞতায় ভীত পাণ্ডুয়া-পাণ্ডবরা পাহাড়ি গ্রামবাসীর সুশৃঙ্খল সারিবদ্ধতায় বিস্মিত হন। নতুন পরিকল্পনা সাজিয়ে একুশে ফেব্রুয়ারির বিশেষ দিনটি তারা বরাদ্দ করেন অনন্ত মাষ্টারের গ্রামের জন্য।

সেদিন ভোরে অনন্ত মাষ্টারের গ্রামে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে এসেই পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা বসে যায় ছবি আঁকতে। ষষ্ঠ-সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীরা রচনা লিখতে বসে "আমাদের গ্রাম" নিয়ে, অষ্টম-দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা লেখে "আমার স্বপ্ন" যেখানে দেখা যায় তাদের বেশিরভাগই শিক্ষক হতে চায়। সেদিনই আবার অনন্ত মাষ্টারের স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। পাণ্ডুয়ার সদস্যরা মাঠ সাজান, ছবি আর রচনার মান যাচাই করেন, বিজয়ীদের পুরস্কার দেন। পুরস্কার তুলে দেন উপজেলা সদরের হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক।

.

.

.

.

.

.

.

.

.

.

অনন্ত মাষ্টারের স্ত্রীর কথা না বললেই নয়। স্বামীর সবরকম কাজে ছায়াসঙ্গী হয়ে সহযোগিতা দিয়ে চলেছেন এই মমতাময়ী নারী। তাঁদের নীরব কর্মযজ্ঞ দেখে সম্পূর্ণ নতুন জীবন নিয়ে শহরে ফিরে এসেছে এমন একজন, জীবনের ওপর বীতশ্রদ্ধ হয়ে মানুষের শুভ ক্ষমতায় যে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছিলো। অনন্ত মাষ্টার এখন তার ফিরে পাওয়া আত্মবিশ্বাসের উৎস।

অনন্ত মাষ্টারের গ্রামে যাবার পথটি মোটেই সুগম নয়। সে গ্রামের নাম অথবা অবস্থান পাণ্ডুয়ার অনুরোধে এই পোস্টে অপ্রকাশিত রাখা হলো। অনন্ত মাষ্টার চান না শৌখিন পর্যটকের পদভারে কেঁপে উঠুক তাঁর নিস্তরঙ্গ শ্যামল গ্রাম; শহুরে আগন্তুকের পরিত্যক্ত পলিথিন-বর্জ্যের অভিশাপ থেকে মুক্ত রাখতে চান তাঁর একটুকরো সবুজ স্বর্গকে।

ছবির জন্য কৃতজ্ঞতা-- তাপুদা এবং ওয়াহেদ।

7
আপনার মূল্যায়ন: আপনি মূল্যায়ন করেন নি। গড় রেটিং: (১৪ জন মূল্যায়ন করেছেন)
শেয়ার করুন » Facebook Twitter Delicious Digg MySpace Google Orkut Blogger Google Buzz Technorati
অথবা এই সংক্ষিপ্ত লিংক শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৮৯৮৬৫(১)    

এত্ত গুলা ভালো মানুষের ছোটো-বড়-মাঝারী ভালো কাজের খবর পড়ে, আর অসাধারন একটা জায়গার ছবি-গল্ল দেইখা মনটা খুশি খুশি হয়ে গেলো!
আমার ঐ জায়গায় যাইতে মন্চাইতাছে।
হাতির পায়ে শুধু বাঙ্গালী মারা যায় কেন?
মাত্রই আপনার নতুন প্রো পিক দেইখা আগের পোষ্টে গিয়া বৈলা আসলাম---

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৮৯৮৭১(২)    

অসাধারণ লাগল। ভালো মানুষও পৃথিবীতে আছে এটুকু জানলেও শান্তি পাই। যেখানেই থাকুক, আছে তো।

(কলাপাতায় মোড়ানো ওগুলো কী?)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৮৯৮৭৪(৩)    

ভালো লাগলো জেনে।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৮৯৮৭৫(৪)    

দারুন জায়গা। যাইতে মঞ্চাইতেছে । এক সময় আমিও ভাবতাম , অনন্ত স্যারের মত কোন পাহাড়ী গ্রামে গিয়ে শিক্ষকতা করবো , আর গ্রামের লোকজন নিয়ে নিরিবিলি জীবন কাটিয়ে দিব।

শহুরে জীবনে হাঁপিয়ে উঠি ।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৮৯৯০৪(৫)    

মানবিকতার অবনমন যখন চারপাশে দেখি,তখন এ ধরনের মানুষ আশা জাগায়।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৮৯৯০৫(৬)    
লেখকের মন্তব্য

শাওন- শুধু বাঙালি অথবা তাদের ঘরই আক্রান্ত হয়েছে গত দশ বছরে। অদ্ভুত ব্যাপার। হাতিগুলো বোধহয় বুঝতে পারে কারা বন উজাড় করছে, তাই হয়তো এই সুনির্বাচিত প্রতিশোধ!

দারুচিনি লবঙ্গ- সত্যিই, এমন নির্লোভ কর্মী মানুষের দেখা পেলে ভালো লাগে খুব। পাতায় মোড়ানো সাদা বস্তুটি লবণ, অন্যটি শুটকির একটা প্রিপারেশন, নাপ্পি নামে সুপরিচিত।

বহ্নিশিখা- অশেষ ধন্যবাদ, ব্লগে স্বাগতম।

সাঈদভাই- যেতে চাইলে, পাণ্ডুয়ার ওদের সঙ্গে কখনো কাজ করতে চাইলে আমাকে বলবেন, যোগাযোগ করিয়ে দেবো।

আরিশ- একমত। অনেক ধন্যবাদ পড়ার জন্য।

==========================

নেট খুব স্লো, আলাদাভাবে জবাব দিতে না পারায় দুঃখিত :(

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৮৯৯১১(৭)    

অসাধারন চিত্র আর অনন্ত মাষ্টার। উনার মত মানুষ এখনো পৃথিবীতে আছে বলেই হয়তো প্রকৃতি পুরোপুরি ধংস হয়ে যায়নি। ছবিগুলো দেখে আমার তো সব ছেড়েছুড়ে ওখানে চলে যেতে ইচ্ছে করছে।
এতো সুন্দর পোস্টের জন্য অনেক ধন্যবাদ নুশেরা।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৯০৪৪২(৮)    
লেখকের মন্তব্য

সব ছেড়েছুড়ে ওখানে চলে যাবার ইচ্ছের কথাটা পোস্ট দেখে আরো কয়েকজন জানিয়েছে। আমাদের চারপাশের পৃথিবীটা সত্যিই বুঝি দুঃসহ হয়ে উঠছে।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৮৯৯১৫(৯)    

জায়গাটা এতো দূরে ক্যান??? কান্নাকাটি হল্লাহাটি কাছে থাকলে শুধুমাত্র জিলাপীগুলা খাওয়ার জন্য হইলেও যাওয়ার চিন্তা ভাবনা করতাম

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৯০৪৫০(১০)    
লেখকের মন্তব্য

ওরে পেটুকগোপাল!! কয় কি হালায়! / হাসতে হাসতে শ্যাষ হৈয়া গেলাম

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৮৯৯২৫(১১)    

লেখাটি এক টানে পড়লাম। দীর্ঘদিন পর ছবিতে ঘন সবুজ দেখলাম। পোস্টে পাঁচ তারা দিয়েছি।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৯০৫১৩(১২)    
লেখকের মন্তব্য

আহা, নিশ্চয়্ই বরফে ঢাকা কোথাও থাকেন, অথবা মরুভূমিতে। "কোথাও সবুজের বিরাম নাই"-- রবীন্দ্রনাথের ছিন্নপত্রে বোধহয় আছে। ঠিক সেরকম জায়গা।

পাঁচ না, দিয়েছেন কিন্তু সাত তারা :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৮৯৯৩৩(১৩)    

ছবি দেখে, বর্ণনা শুনে মন ভরে গেল। সাথে চাগিয়ে উঠলো জিলিপি খাবার দীর্ঘদিনের বাসনাটি। দেশে গেলে এবার পাহাড়ে যাবই!

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৯০৫৩৫(১৪)    
লেখকের মন্তব্য

অজিদেশে জিলাপি পাওয়া যায় :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৮৯৯৪২(১৫)    

স্বার্থান্বেষী মানুষের মাঝে এমন নির্লোভ আর পরোপকারী মানুষ পাওয়া অনেক দুঃসাধ্য।উনার জন্য শ্রদ্ধায় মাথা নামালাম।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৯০৫৪৪(১৬)    
লেখকের মন্তব্য

ধন্যবাদ ফ্রয়েডের অবচেতনা

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৮৯৯৪৭(১৭)    

চমৎকার, যা নিজের পক্ষে কখনো করা সম্ভব হবে না তা সবসময়ই চমৎকার লাগে ... এতো খারাপ সংবাদ, ইউনুস, উৎপল শুভ্র, সাকা চৌধুরী, আশরাফুল, খুন জখমের ভীড়ে এসব সংবাদই বাঁচিয়ে রাখছে আমাদের।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৯০৫৮৫(১৮)    
লেখকের মন্তব্য

বড় ভালো লাগলো মন্তব্যটি। ভালো থেকো আবির। লেখালেখিতে ফেরো শিগগির।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৮৯৯৬১(১৯)    

এই চর্তুভূজ মানবসকলের ক্রিয়াকর্ম যেন বেগবান হয়,আমরা যেন ক্রমেই বুঝতে শিখি আমাদের স্বার্থ দিনকেদিনকে কমে কমে,মানুষের-প্রকৃতির পাশে দাঁড়াবার ইচ্ছা জারি রাখছি।
আজই চতুর্মত্রিকে প্রবেশ করলাম,লেখার জন্য ধন্যবাদ রইল;আজ ও আগামিতে..

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৯০৫৮৬(২০)    
লেখকের মন্তব্য

চমৎকার বলেছেন চাঁদবেনে।
চতুর্মাত্রিকে স্বাগতম। এখানে আপনার নতুন লেখা পড়ার অপেক্ষায় আছি।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৮৯৯৭০(২১)    

বাঙ্গাল এতই খারাপ! বুনো হাতিরাও যাগোরে চিনে! হাতপা ছড়িয়ে কান্না

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৯০৫৮৭(২২)    
লেখকের মন্তব্য

হাতিগো ঘরবাড়ি (বনজঙ্গল) নষ্ট করলে প্রতিশোধ তো নিবোই :(

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৮৯৯৯১(২৩)    

মনটাই ভালো হয়ে গেলো পোস্টটা পড়ে পিলাচ

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৯০৫৮৯(২৪)    
লেখকের মন্তব্য

আমিও সিদ্ধান্ত নিসি মন খারাপ লাগলে এই পোস্টটা খুলে দেখবো :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৯০০০০(২৫)    

মন ভালো হয়ে যায় এরাম ভালো মানুষদের কথা জেনে। অনন্ত মাষ্টারের প্রতি শ্রদ্ধা আর জিলাপীর প্রতি লুল, এবং বাঙ্গাল নিধনকারী হাতিদের প্রতি তিবরো ধিক্কার(হাতির আইকিউ লেবেল এরাম উচ্চ জানা ছিলো না!) এরাম একটা পোষ্ট দেবার জন্ন নুশেরা আপুর প্রতি কৃতজ্ঞতা।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৯০৫৯০(২৬)    
লেখকের মন্তব্য

হস্তীমূর্খ কথাটা রিভাইজ করার সময় আসছে ;)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৯০০১১(২৭)    

খুব আপন আর চেনা লাগলো পরিবেশ ! খুব ! অনেকের মতো নুশেরাবুও জানেন না, আমার গ্রামের বাড়ি ফটিকছড়ি ভুজপুর এর হালদা নদীর পাড়ের কোন এক গ্রামে ! আমার শৈশবের স্মৃতিতে হালদা নদী জোরালোভাবেই আছে, বেড়ে ওঠা যদিও শহরে ।

পান্ডুয়ার পান্ডবদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পেলে আনন্দিত হবো । দেশে গেলে অবশ্যই ওনাদের দলে নাম লেখাবো , যদি না তাঁদের আপত্তি থাকে ।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৯০৫৯৬(২৮)    
লেখকের মন্তব্য

হালদা নদীর নাম শোনেনি এমন মানুষ চট্টগ্রামে বিরল। দেশের বৃহত্তম অথবা একমাত্র প্রাকৃতিক হ্যাচারি বোধহয় হালদা নদী, তাই না?

দেশে আসার আগে বলবে, ওনাদের ফোন নাম্বার জানিয়ে দেবো। ভূজপুর আর জুগ্যাছোলা বাজারে বেড়াতে যাচ্ছি ইনশাল্লাহ্ অতি শীঘ্রই :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৯১১৫৮(২৯)    

দেশের বৃহত্তম অথবা একমাত্র প্রাকৃতিক হ্যাচারি বোধহয় হালদা নদী, তাই না?

হুম ! মিঠাপানির মাছের একমাত্র প্রাকৃতিক প্রজননক্ষেত্র !

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৯০০৪৭(৩০)    

অনন্ত মাস্টারকে সালাম। মারমা ভাষায় লেখাপড়ার বিষয়টা আরেকটু জানতে পারতাম যদি। খুব সুন্দর পোস্ট!

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৯০৫৯৫(৩১)    
লেখকের মন্তব্য

এক্ষেত্রে পাণ্ডুয়া যা করছে তা হলো উপকরণ-সহায়তা। বয়োকনিষ্ঠ কয়েকজন মারমা শিক্ষককে অনন্ত মাষ্টার নিজের জ্ঞান থেকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। এরা শেখাচ্ছে ছোটদের। এভাবে পরম্পরা ধরে রাখার চেষ্টা।

তবে অনন্ত মাষ্টার খুবই যুক্তিবাদী এবং আধুনিক মনের মানুষ। বাংলা-ইংরেজি শেখার গুরুত্ব বোঝেন এবং সেজন্য মারমা বাচ্চাদের জন্য একটা লাইব্রেরি গড়ার চেষ্টা করছেন। যে কেউ পাণ্ডুয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করে বই দিতে পারেন। আমাদের মধ্যে কতোজন আছে পুরনো বই সেরদরে বিক্রি করে দেয় :(

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৯০০৬৪(৩২)    

মন ভালো করা পোস্ট।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৯০০৬৬(৩৩)    

অনন্ত মাস্টারকে টুপিখোলা সালাম। মনটা কেমন ভাল হয়ে গেলো।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৯০১০০(৩৪)    

ঝাপসা ঝাপসা লেখা পড়লাম। (মানে লেখাটা ঝাপসা না, পড়াটাই ঝাপসা)
সেজন্য কমেন্ট করলাম না। জিলাপির ছবি দেখে মন উদাস হৈল-সেজন্য রেটিং করলাম না।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৯০১৬১(৩৫)    

অনন্ত মাষ্টার চান না শৌখিন পর্যটকের পদভারে কেঁপে উঠুক তাঁর নিস্তরঙ্গ শ্যামল গ্রাম; শহুরে আগন্তুকের পরিত্যক্ত পলিথিন-বর্জ্যের অভিশাপ থেকে মুক্ত রাখতে চান তাঁর একটুকরো সবুজ স্বর্গকে।

অনন্ত মাষ্টারের বাধা সত্তেও যাইবার মন চাইতেছে (যদিও যাবার সুযোগ নেই)
নুশেরা এত কিছু খারাপের মাঝেও একটা ভালো খবর পড়ে মনটা ভালো হয়ে গেলো

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৯০২১৫(৩৬)    

জিলাপীর জন্য মনটা উদাস হলো

অনন্ত মাস্টারের প্রতি স্যালুট।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৯০২৫৫(৩৭)    

এদের কথা শুনলেও (পড়লেও) পূণ্য লাভ হয়। সবাই যদি এমন হতে পারতাম। অপরের সুখে সুখী হবার মন ক'জনের থাকে!

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৯০২৭৫(৩৮)    

পৃথিবীতে এমন কিছু মানুষ আছে বলেই পৃথিবী এত সুন্দর
ছবিগুলো সুন্দর
জিলাপী দেখে লোভ লাগছে

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৯০২৮৩(৩৯)    

অনন্ত মাষ্টারের প্রতি শ্রদ্ধা। মন ভালো করে দেয়ার মতো পোষ্ট। খুব ভালো লাগলো। আর নাপ্পি খুবি বাজে জিনিস!বিশ্রী আর উৎকট গন্ধ। (ইয়াক)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৯০২৯৩(৪০)    

অসাধারণ মানুষের অসামান্য গল্প!
এঁদেরকে অবনত শ্রদ্ধা।
আপু, আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ, এই স্বর্গের গল্পটা এই আমার মতো বিচ্যুত বিমুখ মানুষকেও জানানোর ব্যবস্থাটির জন্য।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৯০৩০৪(৪১)    

বলার অপেক্ষা রাখে না এই পোষ্টটা আমার গত এক বছর পড়া পোষ্টগুলোর মধ্যে অন্যতম। ছবিগুলো দেখেই মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম, যাবো। অনন্ত মাষ্টারকে একটা স্যালুট দিয়ে বলবো, আমি যা করার জন্য আমরণ চেষ্টা করলেও পারবো না, তিনি তা দিব্যি করে ফেলেছেন। জায়গাটা যেমন অসাধারণ, লেখাও। অনন্ত মাষ্টারের মতো সাদা মনের মানুষদের কোন তুলনা হয় না।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৯০৩৪২(৪২)    

ভাল লাগছে

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৯০৩৪৪(৪৩)    

পুরো পোস্ট তো ভালো লাগলোই - সবচে ভালো লাগলো শেষের প্যারা ।
মানুষটি শুধু প্রকৃতিপ্রেমিক, হৃদয়বান নন - সাথে সাথে বাস্তব বুদ্ধি সম্পন্ন ।

চমৎকার পোস্ট নুশেরা আপু ভালো লাগছে / পুরাই একমত / জটিল

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৯০৪৫১(৪৪)    

অনন্ত মাষ্টার আর পাণ্ডুয়ার সদস্যদের সালাম

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৯০৪৮২(৪৫)    

আমার মনে হয়, আমি আসলেই প্রাচীন মানুষ! নইলে আমার শহর ভালো লাগে না কেন? কেন আমার চলে যেতে ইচ্ছে করে এইরকম কোন গ্রামে!

অসাধারণ স্বপ্ন জাগানিয়া পোস্টটির জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ। প্রিয় পোস্ট রাখতেই হবে এটা। মাঝে মাঝেই চোখ বুলিয়ে নিতে।।।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৯০৬৮১(৪৬)    

মনটাই ভাল হয়ে গেল।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৯০৮০৯(৪৭)    

অনেক ভাল লাগল। কেমন আছেন?

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৯০৯৬০(৪৮)    

এমন মানুষের কথা জানতে পেরেও নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে হচ্ছে। ওনার স্বপ্নগুলো পূরণ হোক, কামনা করি।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৯১০২০(৪৯)    

এটাই। এগুলোই।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৯১২৯৬(৫০)    
লেখকের মন্তব্য

কেউ, হালিম, রোবোট, হামিদা, রাসেল, হুদাভাই, জলরঙ, চতুষ্কোণ, ইচ্ছামানব, আরণ্যক, কবি, মুকুল, তারার হাসি, কিংশুক, ভেবে ভেবে বলি, আকাশ অম্বর

অতি ধীরগতির নেটের কারণে আলাদাভাবে মন্তব্যের উত্তর দিতে না পারায় দুঃখিত। সবাইকে অশেষ ধন্যবাদ। অনন্ত মাষ্টার তাঁর গ্রামে শিশুকিশোরদের জন্য লাইব্রেরি করতে চান, কেউ নতুন/পুরনো বাংলা/ইংরেজি বই পাঠাতে চাইলে আমাকে জানানোর অনুরোধ রইলো।

আন্তরিক শুভেচ্ছা সবার জন্য।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৯২৭৬৮(৫১)    

আমিও ঠিক ঐ রকম অসাধারন সম্ভাবনা ময় ১ জায়গায় ছিলাম ; তবে ওখানকার মানুষেরা অনন্ত মাষ্টারের মতো কারো নেতৃত্বে কমিউনিটিভুক্ত নয় ।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৯২৮৪৮(৫২)    
লেখকের মন্তব্য

লিখুন না সেই জায়গা আর তার মানুষদের নিয়ে!

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৯২৯২৯(৫৩)    

নুশেরা,
লেখাটা এক অদ্ভূত রকমের বিষন্নতা মাখানো---
আমাদেরই হাতের কাছে আরশী নগর, কিন্তু পায়ে হেঁটে পৌছানো যাবে না সেখানে কোনদিনও--প্রতিটি দিন বেঁচে থেকে প্রতি দিন বেঁচে থাকার মূল্য চুকাই---

ভাল থাকিস, সকল সময়ে সকলকে নিয়ে---

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৯২৯৩২(৫৪)    

নুশেরা,
লেখাটা এক অদ্ভূত রকমের বিষন্নতা মাখানো---
আমাদেরই হাতের কাছে আরশী নগর, কিন্তু পায়ে হেঁটে পৌছানো যাবে না সেখানে কোনদিনও--প্রতিটি দিন বেঁচে থেকে প্রতি দিন বেঁচে থাকার মূল্য চুকাই---

ভাল থাকিস, সকল সময়ে সকলকে নিয়ে---

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৯৩৬৭২(৫৫)    

অনন্তবাবুকে আমার প্রনাম জানাই।
মানুষের জন্য কাজ করতে চাইলে করা যায়।
আবার কাজের বদলে ঢক্কানিনাদ ও করা যায়।
অলস কালাতিপাত ও করা চলে।
আপনি কি করবেন সে পছন্দ আপনার।
ওঁর দীর্ঘ সুস্থ জীবন প্রার্থনা করি।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৯৪১২২(৫৬)    
লেখকের মন্তব্য

দারুণ বলেছেন ইন্দ্রনীলদা!
আপনার মন্তব্য পেয়ে খুব ভালো লাগছে।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৯৩৮৭৩(৫৭)    

Facebook'a share dilam.
Valo, valo, valo lekha.

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১০২৭৪৯(৫৮)    
লেখকের মন্তব্য

বুকে আয় বাভুল

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১০২৫৯২(৫৯)    

একটা স্বপ্ন মাঝে মাঝে ধাক্কা দেয়। ১টা খামার করবো, চারপাশে সবুজ। গোলাভরা ধান, পুকুরভরা মাছ, আর বাড়িভরা মানুষ। ১টা ছোট স্কুল, অনেকগুলো কচি মুখ, সুর করে পড়ার আওয়াজ। কিন্তু লোভের ফাঁদে পড়ে এই জীবনে আর মনে হয় হলো না, সবাই অনন্ত মাস্টার হতে পারে না।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১০২৭৪৫(৬০)    
লেখকের মন্তব্য

লোভ তো আছেই, আরো আছে সাহসের অভাব। খুব সহজ কাজগুলোকেই বোধহয় সবচেয়ে বেশি দুঃসাধ্য আর দুঃসাহসিক বলে ভাবি আমরা।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১০৪৮৭২(৬১)    

মন ভরে যাওয়ার মতো পোস্ট!
জায়গাটাও সুন্দর!

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১১৫৫৯৬(৬২)    

অনেক পরে চোখে পড়ল লেখাটি! খুব শীঘ্রই নয় তবে পান্ডুয়া-র সাথে যোগাযোগ করার দরকার হতে পারে। তখন আপনার সহায়তা নেয়া যাবে?

আর শেষের ছবিটি অসাধারণ! প্রকৃতির সাথে মিশে যেতে চাওয়া মানুষের অনন্ত যাত্রার কথা মনে হয়!

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১১৫৭৫৯(৬৩)    
লেখকের মন্তব্য

পাণ্ডুয়াপাণ্ডবদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলে জানাবেন।
নিরন্তর শুভেচ্ছা।