নুশেরা-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

১.
আমি কম্পুকানা ধরণের মানুষ। বাসার নেট-সংযোগের ধীরগতির সঙ্গে যোগ হয়েছে মাথার সেকেলে প্রসেসর, তাই চ্যাট করা হয় না পারতপক্ষে। ফেইসবুক থেকে দুবছরের মতো বিচ্ছিন্ন, এমন অবস্থায় তানবীরা-রশীদা এদের প্ররোচনায় আবার একটা অ্যাকাউন্ট খুলতে হলো। মূলত নামচেনা ব্লগার, এবং তাদের সূত্রে পাওয়া 'বন্ধু'রা আছেন এখানে।
একদিন সেই ফেইসবুকে কীভাবে যেন অনলাইন হয়ে গেলাম। হঠাৎ দেখি, অনেকগুলো প্রোপিক ভেসে উঠেছে। প্রথমে রাসেল আশরাফ, আপু সালাম। কেমন আছেন, অপনার খবর কী ইত্যাদি। আশেপাশে আরো কয়েকজন।
খুব প্রিয় লিখিয়ে এবং অন্যের মুখে ঝাল খেয়েই দারুণ মানুষ হিসেবে জানি যাকে, সেই আনিস মাহমুদ:
- আরে কাকে দেখছি!
- না মানে এই প্রথম চ্যাটে
- কস কী মমিন!
কী যেন নাম:
- hello, ki khobor?
- ভালো, ধন্যবাদ, আপনার ব্লগ নিকটা যেন কী
- sorry, can't read your bangla
সাঈদভাই:
- খেলা না দেখে এইখানে কেন আপু?
- হে হে এই আরকি
কে যেন:
- আন্টি নাকি? কিরামাছেন?
- এইতো আছি
হিল্লোল:
- আপু আমি চিটাগাং কলেজে আপনার পরের ব্যাচ
- খুব ভাল লাগল জেনে
- আপু আমি মুক্তাঙ্গনে লিখি...
- আসলে অতো ভারী কিছু আমার মাথায় নেয় না
আরেক জন:
- hi there!
- হাই! আপনার ব্লগনিকটা যেন কী
- blog? sorry... btw, am i talking to this little girl?
- জ্বি না, ও আমার সন্তান
- oh, ok, ta-da
... ... ... ...
... ... ... ...
- কিরে আপু কী করো এইখানে তুমি?
- কেম্নে ঢুকছি জানি না, এলা কেম্নে বাইর হমু রাস্তা দেখা তাড়াতাড়ি বান্দর
- হাহাহা ডানদিকে যাও, গেছো? একটা ক্লিক মারো, দেখবা ওইখানে লেখা উঠছে...
অফলাইনে গিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলি। সাঁঝু ওরফে অমিতের কল্যাণে বাঁচা গেছে।
২.
একেবারেই তরুণপ্রজন্মের একজন যে আমার চেয়েও কম্পুকানা হতে পারে, কাল প্রমাণ পেলাম।
সৈকত দে, প্রজন্ম নির্বিশেষে আমার দেখা সেরা পড়ুয়া। পড়ুয়া মানে আউট-বইয়ের পাঠক। তার অ্যাকাডেমিক শিক্ষাজীবন দফায় দফায় হোঁচট খেয়েছে শুধু আউটবই পড়ার চাপে সময় মেলেনি বলে। কিছুদিন চাকরি করে দেখলো পড়ার সময় কমে যাচ্ছে, চাকরিকেও বিদায় জানিয়েছে। নতুন বই সাধ্যমতো কেনে; পাশাপাশি পথে পথে ঘুরে পুরনো বই সংগ্রহ করে।
সৈকতদের বাড়িতে বইয়ের চাপে মানুষের তিষ্ঠানো দায়। এতো শেল্ফ জোগানো সম্ভব না; মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত স্তূপ করা বই কখনো কখনো ধ্বসে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটায়; সৈকতের বাবা ইতোমধ্যে পুত্রের পুস্তকপ্রপাতের ঘায়ে ঘাড়ে ভালোরকম চোটও পেয়েছেন। তবু সৈকতের পড়ার বিরাম নেই। পড়ার ফাঁকে মাঝেমধ্যে সময় পেলে অল্পস্বল্প লেখালেখি করে। মূলত নিজের ছোটকাগজ নাব্যিকসহ কিছু লিটলম্যাগ আর পত্রপত্রিকাতেই লেখে সে। কালি ও কলমের মতো একটু 'ওঁচা' পত্রিকাতেও বছর তিনচারেক আগে তার গল্প দেখেছিলাম বলে মনে পড়ে।
মাঝেমধ্যে টুকটাক গল্প লেখার অপচেষ্টা করি; সৈকতকে পড়তে দিই খামতি ধরার আশায়। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় সংলাপের প্রয়োজনেও সৈকত ভরসা। সেই সৈকতকে একদিন ব্লগ দেখাই। এই মাধ্যমটির সঙ্গে তার পরিচয় ছিলো না; মন্তব্যের মিথষ্ক্রিয়া দেখে সে মুগ্ধ এবং বিস্মিত। ছাগু, রেসিডেন্ট, কেপিটেস্ট, লুলসহ বিভিন্ন ব্লগীয় টার্মের ব্যাখ্যা জেনে আমোদিত। এবার সদস্য হতে রাজি।
চতুরে রেজিস্ট্রেশন করিয়ে দিলাম সৈকতকে। কিছুক্ষণের মধ্যে তার নাম দেখাতে লাগলো নতুন ব্লগার হিসেবে। প্রথম পোস্টে কী লিখবে সেটাও মোটামুটি ঠিক। কিন্তু লগিন করবে কী করে? তার মেইল ঠিকানাটি খোলার পর থেকে আজতক ব্যবহার করেনি, এখন সেই মেইল খুলতে পারছে না সে (আমাকে ইউজারনেইম আর পাসোয়ার্ড জানিয়ে দিয়েছে :D; আমিও পারিনি)। ফেইসবুকে সৈকতকে কে বা কাহারা একটা অ্যাকাউন্ট খুলে দিয়েছিলো, সেখানে নাকি কয়েকবার ঢুঁ দিয়েছে সে। এখন জানতে চাইছে ওই পথে চতুরে ঢোকা যাবে কিনা!
মন্তব্য
info@choturmatrik.com এ মেইল করলে মনে হয় মডুরা ম্যানুয়ালী পাস ক্রিয়েট করে দিতে পারবেন । তবে তার পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে স্বয়ংক্রিয় ভাবে রিট্রিভ করার কোন উপায় নাই ।
মডুদের মেইল দিতে হবে আবার পাস ভুলে গেলে।
-------
তার যদি ভিন্ন কোন মেইল এ্যাড্রেস থাকে সেটা মডুদের দিলে মনে হয় - মডুরা সেট করে দিতে পারবে। তাহলে আর এতো যন্ত্রনা থাকবে না ।
====
সৈকত দে পোস্ট পড়ার জন্য আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছি ।
লেখকের মন্তব্য
লেখা পেতে হলে আমাকেই তার পাসওয়ার্ড জোগাড় করে দিতে হবে দেখা যাচ্ছে
হুমম, এইরকম একজন মানুষের প্রথম ব্লগ লেখাটা কেমন হবে, ভাবতে মজা আর আগ্রহ লাগতাছে। আর নুশেরা আপু যার প্রশংসা করে, তার প্রতি আগ্রহ তো এমনেই একটু বেশি হয়!!

মুহাহা, তাকে প্রত্যাশার চাপের ভয় দেখাই দিলাম!!
আমার বড় বোনও ফেসবুকের চ্যাটিং অপশন নিয়া মাঝে মাঝে বিপদে পড়ে আর আমার ঝাড়ি খায়!
লেখকের মন্তব্য
আমি যেন প্রশংসা-ট্রশংসা তেমন করিইনা
পাসওয়ার্ড উদ্ধার হওয়ার এবং ওনার লেখা পাওয়ার অপেক্ষায়...
ইতি-
ভেবু।
লেখকের মন্তব্য
পরসমাচার এই যে তোমার অপেক্ষার সংবাদ পত্রপাঠ পৌঁছে দিলাম
বাংলাদেশ দলের দুরবস্থার মধ্যেও তোমার মন্তব্যটা পড়ে হাসছি
সৈকত দা'র লেখা পড়ার জন্য আগ্রহ বোধ করছি।আপনি চিটাগাং কলেজে পড়েছেন শুনে ভালো লাগল।
লেখকের মন্তব্য
চট্টগ্রাম কলেজের লোকজনকে চিনতে এখানে চোখ বুলাতে পারেন
আশা রাখি সৈকত দা অন্তর্জালেও নিয়মিতভাবে পা দিবেন তাহলে হয়ত নতুন স্রোতটা আরো বেগবান হবে ।
@নুশেরা, ঐ দিনের আড্ডার রিভিউ কি ব্লগে এসেছে নাকি?
লেখকের মন্তব্য
সৈকতের যা অবস্থা, তার সক্রিয় ব্লগার হয়ে ওঠার খুব সম্ভাবনা দেখছি না
আড্ডাপ্রসঙ্গে-- না, সৈকতকে বললাম গুছিয়ে লিখতে।
সৈকতকে আগাম শুভেচ্ছা স্বাগতম

তাড়াতাড়ি পাস উদ্ধার হোক
লেখকের মন্তব্য
লগিন করতে না পারলেও চতুর খুলে এই লেখা দেখতে পেয়েছে সৈকত।
ব্যাপক উন্নতির লক্ষণ
খাস চলিত ভাষায় ব্লগর ব্লগর পড়ে আনন্দিত হলাম।
থ্যাঙ্কু।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ রুহানি। ব্লগের ভাষা বলেও একটা কিছু দাঁড়িয়ে গেছে, মজা পাই দেখে
আমার অবস্থাও এমন! খালি হাসতেই আছি!
লেখকের মন্তব্য
গরু হারালে আর গো-হারা হারলে এমনই হয়
হা হা হা হা হা।

লেখকের মন্তব্য
যতো হাসি ততো কান্না বলে গেছে রাজেশ খান্না
আপু,খেলা দেখে মন খারাপ।
আপনি হয়ত আমাকে চিটাগাং কলেজের ছাত্র ভেবেছে।আমি তা নয়।আমার বাড়ি চিটাগাং।সেজন্য বলেছিলাম ভালো লাগার কথা।পোস্ট পড়ে আসলাম।ভালো লাগল
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ আরিশ, চট্টগ্রামের প্রতি আমার দুর্বলতা সীমাহীন
সৈকতের জন্যে শুভকামনা।
লেখকের মন্তব্য
হুঁ, শুভকামনায় ফল হয়েছে, এখন চতুর দেখতে পারছে অফলাইনে
অনেক দিন ত্থেকে চতুরে ঢুকতে পারছিলাম না। বার বার বলছিলো ইউজার নেইম বা পাসওয়ার্ড ভুল। আপনি কি পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন? এখানে ক্লিক করুন। করলাম ক্লিক। আমার ইমেইল আইডি চাইলো। দিলাম। সাথে সাথে মেইলে লিঙ্ক এলো। ওটাতে ক্লিক করে চতুরে ঢূকলাম। নতুন পাসওয়ার্ড ঠিক করলাম।
আমার মনে হয় ঐ রকম করে দেখতে পারেন।
অটঃ অনেক অনেক দিন পর প্রিয় নুশেরাকে দেখে খুব ভালো লাগলো।
আপনার মেয়েটি কেমন আছে? বেশ বড় হয়ে গিয়েছে নিশ্চয়?
ভালো থাকবেন।
লেখকের মন্তব্য
কম্পুকানা তো নিজের মেইলটাই খুলতে পারছে না
শেষে তার হয়ে আমিই পাসওয়ার্ড সংগ্রহ করেছি!
======================================
অনেক ধন্যবাদ সুরঞ্জনা, চারপাশে এতো উপকরণ ভালো না থাকার, তারপরও মা-মেয়েতে বেশ আছি। ভালো থাকা হোক, লেখালেখিতে দেখা হোক, শুভেচ্ছা সব সময়।
আমরা অপেক্ষায় রইলাম ব্লগে তার লেখা পড়বার জন্য।
লেখকের মন্তব্য
আমিও অপেক্ষায় আছি, আশা করি আজই তাকে দিয়ে টাইপ করাতে পারবো
ক্রিকইনফোতে ফেইসবুকের আইডি/পাসওয়ার্ড দিয়ে কমেন্ট করা যায়। চতুরেও কাজটা করা যায়। কম্পুকানাতো ভালো বুদধি দিসে। ডেভুরা ভেবে দেখতে পারেন।
আমি বিরাট কম্পুকানা-এখনো লিংক দেয়া/ছবি এ্যাডানো/কমেন্টে ইমো এগুলা নিয়ে সমস্যায় থাকি।
আমি নিজেকে বলি "টেকনোলজিক্যালি চ্যালেন্জড পার্সন"
লেখকের মন্তব্য
আপনে ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারে পড়ে আছেন আর আমি গুগল ক্রোম পর্যন্ত আসছি, এই ব্যাপারটা বিস্ময়কর
সৈকতের কাছে ব্লগিং ব্যাপারটা নতুন অত্যাচার হইয়া দেখা দিতে পারে।
লেখকের মন্তব্য
হুমম, হৈতারে জুলিদা
হা হা হা! সম্প্রতি আমার বাবা মা ফেসবুকে একাউন্ট খুলতে চেয়েছেন। আমি বললাম তোমরা তো অফলাইনেই অনেক সামাজিক আছো। সবার সাথে দেখাসাক্ষাত করো, দাওয়াতে যাও, বিয়েশাদিতে গিফটসহ দেখা করো। ফেসবুক একটা ভ্রান্ত ধারমা, এখানে তোমাদের বন্ধুবান্ধব কেউ নাই, এসে ভালো লাগবে না।
আসল কারণ ছিলো বাবা-মা ফেসবুকে এলে অনেক গোমর ফাঁস হয়ে যাবে!
সৈকতের সমস্যার সবচেয়ে সহজ সমাধান হলো জিমেইলে একটা একাউন্ট খুলে দেন নতুন করে। মেইল একাউন্ট না থাকলে চতুরে তো ঢুকতে পারবে না। নতুন একাউন্ট থেকে ডেভুদের ইনফো'তে মেইল দিলে চতুরের একাউন্টে নতুন মেইল আইডি সেট করে দিবে তারা। তাহলেই আর লগইন সমস্যা থাকবে না!
সৈকতের লেখা পড়ার আগ্রহ হচ্ছে। 'কালি ও কলম'এ যার লেখা ছাপা হয়, সে তো পুরোই অন্য লেভেলের লেখক!
লেখকের মন্তব্য
সৈকত কেমন লেখে সে সম্পর্কে আমার ধারণা সীমিত। তবে সে যে কী দারুণ পাঠক, তার সঙ্গে আলাপ করলেই বোঝা যায়। সবচেয়ে ভালো লাগে তার শেয়ারিংয়ের ধরণ। নিজের ভালো-লাগা বই সে সবাইকে বিলি করে বেড়ায়, ধরে ধরে পড়ায়। কতো বই যে এভাবে হারিয়েছে!
আপনার অনলাইন হবার সেই বিরলল মুহুর্তের সাক্ষী হতে না পরে আফসুসিত বোধ কর্ছি। আর সৈকতের জন্যে রৈলো আগাম
লেখকের মন্তব্য
আমার অবস্থাটা চিন্তা করো, খালি আল্লা-আল্লা করতেছিলাম এমন কেউ আসুক যারে জিগাইতে পারি এই আলামত থিকা কেম্নে বাইর হমু। সাঁঝু আসায় শেষে রক্ষা!
একটা দূরবীন যেন, দেখে ফেললাম কাছ থেকেই। নিজের সম্পর্কে এতো সরাসরি, মায়াহীন অথচ প্রয়োজনীয় লেখা আমি আর দেখিনি।
লেখকের মন্তব্য
ভেরী গুড! তুমারে রক্ষা করছি, এই আনন্দে একদিন খাওয়া দাওয়া হয়ে যাক ।:D:D
এপ্রিলে চিটাগং আইতাসি। তখন । ওক্কে?
লেখকের মন্তব্য
ভার্চুয়াল রক্ষাকরণের লাইগা ভার্চুয়ালিই খা; খানাপিনা পুস্ট পাবি ইজি রেসিপির ব্লগে
ওহ!
নতুন একটা তারুন্য চমকানো প্রো পিক আপু! মনে হয় একটা গল্প পাবো!
লেখকের মন্তব্য
এই সেদিনকার ছবি, সুন্দরবন গেলাম যখন। দোবাঁকির দ্বীপে গিয়ে অপনা আর আমি একে অন্যকে হারিয়ে ঠিক ঐসময়টাতে খুঁজে পাই। তুখোড় ফটুরে শাওনের (সচলায়তনের উজানগাঁ) ক্যামেরা দৃশ্যটা পিক করে ফেলে।
Shoikoter kotha pore besh valo laglo, amar che'-o ...achhe janiya shukhito hoilam. Apni valo achhen, Apa?
Pic-ta daaaruuunnn.
লেখকের মন্তব্য
ভালাছি রশীদা খালাম্মা
মন্তব্য-বক্সের উপরে কিছু বাটন আছে যার প্রথমটাই কিবোর্ড নির্বাচনের। ঐখানে তোমার পরাণপাখি বিজয়ও আছে, সেটা সিলেক্ট করে লিখলেও কি বাংলা আসে না?
লোকটা একেবারে আমার মত।

লেখকের মন্তব্য
নাকি আপনিই ছিলেন?
আমি যে ছিলাম না সেটা নিশ্চিত।