লেখকের ক‌থা

সদর দরজা

গল্প নিয়ে কিছু হাবিজাবি

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

পাঠক হিসেবে এই অধমের আওতা সীমিত। কবিতা বোঝার অক্ষমতা অসীম। গল্প পড়তে ভালো লাগে, সেখানেও দুর্বোধ্যতার দেয়ালে কপাল ঠুকে ফিরে আসতে হয়েছে বহুবার। ব্যক্তি-সমাজ-পারিপার্শ্বের মনস্তত্ত্ব থেকে শুরু করে দর্শনচিন্তা, বাস্তবতার আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক বয়ানের খাপখোলা ধার থেকে শুরু করে 'পরা' কিংবা 'জাদু'র কুহক-- সবকিছুই কমবেশি জটিল আমার জন্য। এই সীমাবদ্ধতার কারণেই হয়তো, গল্পের মধ্যে এখনো মূলত 'গল্প' খুঁজে বেড়ানোর সেকেলেপনা ধরে রেখেছি। গল্পটা কী, তার চেয়ে গল্পটা কীভাবে লেখা হলো, সেটিই জরুরি-- প্রবন্ধে-আলোচনা-সমালোচনায় বিজ্ঞজনদের এমন কথা লিখতে (বলতে) দেখেছি (শুনেছি)। কেউ কেউ আবার এমনও বলেন, সাহিত্যে গল্প-উপন্যাস-প্রবন্ধ-কবিতা ভেদাভেদ করা চলবে না; লেখক কী লিখেছেন সেটা বোঝার পাশাপাশি কী প্রকরণের লেখা লিখেছেন, সেটিও নাকি পাঠককে নিজ দায়িত্বে বুঝে নিতে হবে। নেহাত ভাগ্যগুণে অক্ষরজ্ঞানটুকু আছে, প্রকৃতির অপার কৃপায় দৃষ্টিশক্তিও বর্তমান, তাই চোখে পড়ে বলে এমনসব কথাবার্তা মাঝেমধ্যে পড়ি। পড়ি, আর নিজের অতল সীমাবদ্ধতায় দিশেহারা হাবুডুবুর অনিবার্য স্বাদ নিতে থাকি।

এটুকু পড়ে যদি মনে করেন কিছু 'কমন পড়েছে' তাহলেই কেবল বাদবাকি বকবকানিতে আপনার প্রবেশাধিকার আছে :)

গল্প-- বড় বা ছোট, অণু বা পরমাণু, কিংবা ব্লগারোদ্ভাবিত নতুন কোন ফর্মের-- লেখারও কি কোনো গল্প থাকে? লেখক বা গল্পকারের কল্পনাশক্তির স্বাধীন সার্বভৌম চর্চার বাইরে বাস্তবিক ঘটে যাওয়া কোন ঘটনা, লেখকের নিজের জীবন থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা? কিংবা কোনো সূত্রে জানা-শোনা এক বা একাধিক গল্প?

আমার খুব পছন্দের একজন গল্পকার মোস্তাফিজ রিপন। মানুষ হিসেবেও তাঁর অসাধারণত্বের বিষয়ে আমি নিঃসন্দেহ। এই স্বঘোষিত কথাবাজের জীবনের কোথাও কি আছে সেই জবুথবু মফস্বল, শিলু-সুলতানা-সাদিয়া-সুনন্দা-নাইমুল? ( প্রতিদ্বন্দ্বী অথবা সিসিফাসের গল্প )

অনীকের সেই গল্পটা, কিছুতেই খুঁজে পাচ্ছি না, তার অক্ষরবন্দী 'ডিপ্লোমার বউ' আসলে ঠিক কোথায় আছে? কিংবা ভাঁজবিহীন সময়ের গল্পে র সেই কিশোর-কিশোরী?

শাওনের গল্পের 'ক্রিয়েটিভ' হাফিজা , 'সংস্কারবিহীন' জনি -- এরা এলো কোত্থেকে?

জানি, প্রশ্নগুলো অবান্তর। অসঙ্গত; হয়তো অপ্রয়োজনীয়ও। তবু এরা বসত করে মনে-মাথায়, মাঝেমধ্যে চাষবাষও শুরু করে :) । বিজ্ঞজনেরাও বোধহয় সবসময় মুক্ত থাকতে পারেন না এমনধারা কৌতূহল থেকে। তাইতো গবেষণা চলে বনলতা সেনের আড়ালের চরিত্র কিংবা কনসেপ্ট নিয়ে; সাক্ষাতকার দিতে বসে শংকর এখনো মুখোমুখি হন চৌরঙ্গীর হোটেল শাজাহান আর স্যাটা বোস সম্পর্কিত প্রশ্নের।

==============================

বহুত বকবক করলাম। প্রথম পোস্ট হিসেবে মাথা ধরিয়ে দেবার জন্য যথেষ্ট। সবাইকে শুভেচ্ছা।

এবার একটা গল্প। কেউ কেউ হয়তো পড়েছেন; দৈনিক সমকালের কালের খেয়ায় ছাপা হয়েছিলো।

==============================

নমিতা শীলের অসমাপ্ত গল্প

এই গল্পটা নমিতা শীলের। অথবা বলা যায়, তাকে নিয়েই এ গল্প। চকোরিয়ার কোন এক সন্তোষ শীলের বউ নমিতা শীল; দুবছর পর দ্বিতীয়বারের মতো ফৌজদারহাট বক্ষব্যাধি হাসপাতালে ভর্তি হতে এসেছে। বক্ষব্যাধি হাসপাতাল বুঝলেন তো? আগে যার নাম ছিলো যক্ষা হাসপাতাল। কাছেপিঠের লোকজন এখনও কাউকে ঠিকানা বোঝাতে গিয়ে বলে, টিবি হাসপাতাল পার হয়ে একটু গিয়ে বাঁয়ে, পিছনে ইটভাটার চিমনি দেখা যায়। অবাক হলেন? টিবি রোগীদের ভীষণ শ্বাসকষ্ট থাকে, সেখানেই কিনা জলজ্যান্ত বায়ুদূষক! না মানে ইটভাটাফাটা আজকাল পরিবেশ আইন মেনে চলে, আশিফুটি চিমনির উচ্চতা বাড়িয়ে একশোবিশ করা হয়েছে, অতোখানি ওপর থেকে কালো ধোঁয়ার মাশরুমটা কি আর সহজে ঝরে পড়বে? আর পড়লেই বা কী! আসল কথা হলো, মনে রাখতে হবে, আমরা বলছি নমিতা শীলের গল্প। পথের আশেপাশে ডানেবামে তাকানো যাবে ঠিকই, তবে গলিঘুপচিতে পা দিয়ে রাস্তা হারিয়ে ফেলা চলবে না।

তো সেই নমিতা শীল এই হাসপাতালে ছিলো আড়াই মাস। সে দুবছর আগের কথা। তখনকার ডাক্তার-নার্স দুএকজন ছাড়া প্রায় সবাই এখনও এখানেই আছেন, পিওন-আয়ারা তো কমবেশি স্থানীয় লোকজনই। ভর্তি হয়ে একটানা অনেকদিন থাকে বলে এ হাসপাতালের রোগীরা সহজে তাদের স্মৃতি থেকে হারিয়ে যায় না। তবু ডাক্তার-নার্স অথবা আয়াদের কেউই নমিতাকে দেখে চিনতে পারলো না। পুরনো রোগীর রেকর্ড আপডেট করতে গিয়ে অন-ডিউটি নার্স আরিফা খাতুনের মনে পড়লো চকোরিয়ার নমিতা শীলকে; তার চোখেমুখে সবিস্ময় আক্ষেপ।

আগের বার ডিসচার্জের সময় রোগীর জন্য বরাদ্দ হয়েছিলো নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার আর বিশ্রামের পরামর্শ। উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সের ডটস সেন্টার থেকে ছয়মাসের অ্যান্টিটিবি ড্রাগস জোগাড় করে নিয়ে পুরো কোর্সের ওষুধ খেতে হবে, এমন কথাও লিখে দিয়েছিলেন এখানকার আরএমও। সেসব অনুশাসনের প্রতিপালনে নমিতা শীল অথবা তার পরিবারের সদিচ্ছা অথবা সাধ্য কতোটুকু ছিলো, বলা মুশকিল। বছর চব্বিশের গেঁয়ো বধূর দিনযাপনের নৈমিত্তিক তুচ্ছতার খোঁজ আমরা জানবো কেমন করে! দ্বিতীয় দফায় ফিরে না এলে তার কথা মনে পড়ারই কোন কারণ ছিলো না।

দুটো বছর কেমন কেটেছে নমিতা শীলের, কে জানে! এর মধ্যে কতো রোগী কতোরকম নাম-ঠিকানা নিয়ে বক্ষব্যাধি হাসপাতালের ছ’টা ওয়ার্ডে থেকে গেছে, আবার চলেও গেছে। দফায় দফায় ঠিকাদারের ধোপা হাসপাতালের পুকুরপাড়ে ময়লা চাদর-পর্দার স্তূপ জমা করেছে, সোডায় কেচে নীলে ডুবিয়ে দোতলার বিশাল ছাদে নাইলনদড়ির প্যাঁচের ফাঁকে ফাঁকে গুঁজে শুকাতে দিয়েছে। মাঝে একবার পলেস্তারা মেরামতের কাজ হয়েছে হাসপাতালের ভেতরে, হয়েছে চুনকামও। বাইরের হলুদরঙা দেয়ালে নোনাশ্যাওলা ধরে গেছে অল্প দিনেই, সমুদ্র ধারেকাছে বলেই হয়তো বা। ওয়েদারপ্রুফ কোটিং জরুরি ছিলো, তবে বোঝেনই তো, সরকারী বরাদ্দে এতোসবের অনুমোদন থাকে না।

এই দুবছরে হাসপাতালে বাথরুমের বদনা-বালতি-মগ, ঝাড়ু-ব্রাশ-মপ কেনাকাটা হয়েছে ওপেন টেন্ডারের বিজ্ঞপ্তি দিয়ে। পাবলিক প্রোকিউরমেন্ট রুলস বেশ বদলে গেছে, তিনের কম কোটেশন পড়লে আবার নোটিস দেয়ার সেই পুরনো হ্যাপা এখন আর নেই, তাই বুঝতেই পারছেন, আপোসরফায় একপার্টিই দর দিয়েছে। দুবছরে রোগীর খাবারের ঠিকাদার বদলায়নি, শুধু বনরুটির বদলে পাউরুটি এসেছে। ওদিকে ডিম শক্ত আর কলা আকারে ছোট হয়ে গেছে বলে অ্যাটেনডেন্টরা মাঝেমধ্যেই অভিযোগ জানিয়ে যাচ্ছে। কী বললেন, খাবার তিনবেলাই ফ্রি কিনা? কতো বরাদ্দ থাকে মাথাপিছু? দিলেন তো যন্ত্রণায় ফেলে! আরে, গল্প কি শুধু আপনার জন্য? মানছি, স্বাস্থ্যখাতে বাজেটের অংকটা আপনি সযত্নে মনে রেখেছেন; কয়েক সেকেন্ড ভেবেই বলে দিতে পারেন দেশের চিকিৎসক-জনতার অনুপাত। কিন্তু এ গল্প তো আপনি একা পড়ছেন না। এমন পাঠকও আছেন, থাকেন, সাময়িকীর শেষ পাতায় উপন্যাসের রিভিউ পড়েন অখণ্ড মনোযোগে; “জীবনের সহজপাঠে চমক থাকে না, তবে যা থাকে তার নাম মায়া, মমতা, ভালোবাসা...” এটুকু পড়েই এমন আপ্লুত হন যে, পরবর্তী সুযোগেই ঢাকার আজিজ কিংবা চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লায় সেলিনা হোসেন অথবা 'ভূমি ও কুসুমে'র খোঁজ করেন!

সুঁড়িপথে হারিয়ে গেলে চলবে না; ফিরে আসি গল্পের মাঝরাস্তায়। বলছিলাম নমিতা শীলের গল্প। মাঝের দুবছর তার কেমন কেটেছিলো সে কথা জানা গেলো না, জানাটা জরুরিও না। আমরা বরং দেখি তার এখনকার অবস্থা। হাড়-জিরজিরে শরীর কোন রকমে প্রাণটা ধরে আছে। মুখটা সে-রকমই হাসিমাখা, একটু করুণ আর অনেকটা অপ্রস্তুত সেই হাসি, যেমনটা ছিলো দুবছর আগেও। তবে গেলোবারের তুলনায় কী ভীষণ ক্লান্ত সে! বসে থাকার একবিন্দু শক্তি নেই, ভর্তি হয়ে মহিলা ওয়ার্ডে গিয়েই বেডে শুয়ে পড়লো। পায়ের কাছে জানালা, জানালার গ্রিলের খোপখাপে মেলানো জিগ-স পাজল; সেখানে অফিস ঘরের ছাদ, পানির ট্যাংকি আর ধানক্ষেতের দৃশ্য। গতবার অন্য সারিতে বেড পেয়েছিলো সে, যেখানে জানালা ছিলো মাথার কাছে, আধশোয়া হয়ে পশ্চিমের রাঙা আকাশ দেখতো সন্ধ্যাবেলায়। তবে সে কথা নমিতা শীলের মনে পড়ে কিনা বোঝা যায় না। থেকে-থেকে তার বিষণ্ণ চোখজোড়া কোটরের গভীর থেকে ঠেলে বেরুতে চায়, সে চোখের চারপাশ কালিমাখা।

বেশ বদলে গেছে নমিতা শীল এই দুবছরে। মুখ হা করে থাকে সারাক্ষণ; শুধুমাত্র নাসাপথে যথেষ্ট অক্সিজেন টেনে নিতে অক্ষম তার টিবিক্ষয়া ফুসফুসজোড়া। উন্মুক্তাধর শ্বসনক্রিয়ার ফল হিসেবে দাঁতগুলোর মাঝে মাঝে ফাঁক বেড়েছে, ওপরের মাড়িটা উঁচু দেখায়। চোয়ালের হনু আর কণ্ঠার হাড় বেরিয়ে গেছে, গলার পেশী প্রতি নিঃশ্বাসে-প্রশ্বাসে কঠিন ব্যায়ামের অনুশীলনরত। সিঁদুরে ভরাট বৃত্তটি কপালে থেবড়ে আছে, ত্বকে অকাল-বলিরেখার নির্মম আগ্রাসন। ছাব্বিশ বছর বয়সী নমিতাকে দেখার পর নারিশিং ক্রিমের বিজ্ঞাপনে চল্লিশের চিন্তিত মডেল নিশ্চিতভাবেই আপনাদের বিরক্তির কারণ হবে।

সোডাগন্ধী ওয়াড়ে পোরা চুপসানো বালিশে মাথা রেখে নেতিয়ে আছে নমিতা। করোটির অস্থিকাঠামোটি স্পষ্ট দৃশ্যমান; তাতে সেঁটে থাকা চামড়ায় অপুষ্ট একগোছা চুল, শীর্ণ ঘাড়ের নীচে সরু বেণীতে এলোমেলো জড়িয়ে। বোঝাই যায় বহুদিন তেল-চিরুনি পড়েনি সেখানে। হাতের শাঁখাজোড়া অনায়াসে কনুইতে এসে ঠেকেছে; রেডিও-আলনার চোখা কোণাটুকু পার করতে পারলে সোজা বাজুতে উঠে আসবে।

নমিতা শীল পাশ ফিরে শুয়ে আছে তার বেডে। বিছানার বদলে বেড পড়তে অস্বস্তি হচ্ছে? আসলে বেড শব্দটার সঙ্গে একটা হাসপাতাল-হাসপাতাল গন্ধ জড়ানো থাকে, প্রতিশব্দ হিসেবে বিছানা বরং অনেক বেশি ঘরোয়া। শয্যাশায়ী নমিতার পিঠের ওপর থেকে আঁচলটা সরে গেলে দেখবেন, মেরুদণ্ডের সবগুলো কশেরুকা একটার পর একটা গোনা যায়। নমিতা কাশছে। দুকাঁধের নীচে স্ক্যাপুলাজোড়া প্রতি কাশিতে শীর্ষবিন্দু উঁচিয়ে তাদের ত্রিভূজাকৃতি স্পষ্ট করছে।শরীরের মতো কাশিরও জোর কমে গেছে নমিতার। শব্দটা ঠিক নিস্তেজ হয়ে আসা খড়-কাটা মেশিনের মতো। এটা অবশ্য আমাদের কথা না; সত্যজিৎ রায়ের লেখায় আছে, হেঁপোরোগীর কাশির বর্ণনায় কামুবাবুর বিখ্যাত উপমা। না শুনে থাকলে আন্দাজ করে নিন, খরখরে ভোঁতা ব্লেডে খড়খড়ে শুকনো খড়বিচালি কাটার একটানা আওয়াজ কেমন হতে পারে।

কাগজপত্রে একশো শয্যার হাসপাতাল হলেও এখানে বেড আছে ছিয়ানব্বইটি। সম্পন্ন ঘর থেকে কোন রোগী এমন হাসপাতালে আর আসে না, ফলত চারটি কেবিন এখন মালপত্র আর জঞ্জালে ঠাসা। এখানকার রোগীদের বেশিরভাগই কলকারখানার শ্রমিক; তারা কেবিনের খোঁজ করে না, হয়তো জানেও না।নবাগত ডাক্তার অথবা ঔষধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভের কাছে আরএমও গল্প করেন, জ্যোতি বসুর আপন ভাস্তি, যিনি চট্টগ্রামে থাকেন, ছেলেকে এখানে নিয়ে এসে ওয়ার্ডেই ছিলেন। কৌতূহল হচ্ছে? হলেই বা কী, আমরা নিরুপায়। নমিতা শীলের গল্পের গাছটি বেড়ে উঠছে কোনওমতে; এ সময় খুচরো গালগল্পের আগাছা উপড়ে ফেলাই মঙ্গলজনক।

তা হাসপাতালে আর কতোদিন পড়ে থাকবে নমিতা? আসলে এখানে দুমাসের বেশি কাউকে রাখা হয় না। অবস্থা খুব খারাপ হলে এই মেয়াদ আরও একমাস বাড়তে পারে। দুবছর আগে প্রথম দফায় নমিতাকে রাখা হয়েছিলো আড়াই মাস। এবার দুমাস হয়ে এলো প্রায়। প্রথম মাসের সামান্য উন্নতি দ্বিতীয় মাসে উল্টোরথে চড়ে বসেছে। এখন তার ঢলঢলে ব্লাউজটা দেখে মনে হয় যেন প্রিম্যাচিউর নবজাতকের গায়ে একবছরের বাচ্চার জামা পরানো। অথচ ওটা নমিতারই, তার মাপেই কোনদিন বানানো হয়েছিলো পেকুয়া বাজারের ইউছুফ খলিফার দি নিউ দর্জিঘরে। দশহাতি জংলিছাপা শাড়িটা দেখুন, ওকে সাধ্যমতো পেঁচিয়েও কী লম্বা, মাটিতে লুটোপুটি খাচ্ছে। শাড়ির দৈর্ঘ্য কিন্তু ঠিক দশহাতই, প্রতিগজে নটবর প্রিন্টসের ছাপমারা ইন্ডিয়ান কাপড়; দেশি শাড়ি আজকাল এগারো হাতের কম হয়ই না। লাজলজ্জা-পর্দাপুশিদার চিন্তা এই দেশের মেয়েদের বেশি কিনা, সে ভাবনা আমরা আপাতত বাদ দিই। নমিতা শীলের সঙ্গে কে আছে, তার খবর নিই চলুন।

এই দুমাসের প্রথম কিছুদিন বোন বা ভাগ্নি কেউ একজন ছিলো, তারপর থেকে আর কোন অ্যাটেনডেন্ট নেই নমিতার। এখন তার প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট, কামারশালার হাপরের মতো বুক ওঠানামা করে। হাপর জিনিসটা যারা দেখেননি তাদের জন্য বিকল্প উপমা হতে পারে ডবল হারমোনিয়ামের বেলো। আসরে যখন বাজে, দর্শকের দিকে ফেরানো পিঠে দেখবেন গোটা দশবারো ফুটো। তার ভেতর আগুপিছু করে যে পর্দাটা, সেটা ধরুন গিয়ে ওই ফুসফুসের ডায়াফ্রাম। আর বেলোতে দেখবেন কয়েকভাঁজের চামড়া, বাদকের বাঁহাতের চাপে খিঁচছে-ফুঁসছে। নমিতার প্রাণ যেন বেরিয়ে যায়। টয়লেটে যাতায়াতটুকুও কী ভীষণ কষ্টের! পড়ে গিয়ে হাতও ভেঙে ফেললো একদিন। ভাঙা বাঁহাতটা বুকের ওপর ঝোলে, আঁচল খসে পড়ে বার বার। জয়নুলের আঁকা দুর্ভিক্ষচিত্রের চিমসানোবুক-শিশুমাতার কপি আমাদের নমিতা, যার বয়স ছাব্বিশ এবং একমাত্র সন্তানের বয়স আট।

মাথার কাছে ভাঙাচোরা কাঠের রংচটা ড্রয়ার; সকালের ডিমপাউরুটি সেখানেই পড়ে থাকে। সেদ্ধ ডিমটার খোসা ছাড়ানোর শক্তি নেই আঙুলে। কালশিটে-পড়া রুগ্ন চাঁপাকলা জমতে জমতে ছোটোখাটো পাহাড়। কফের বোলে ফেলে দেয়া ভাত-তরকারি ভাসে। মাঝেমধ্যে টিনের গ্লাসে একটু চা, তাতে একআধ টুকরো রুটি ভিজিয়ে খাওয়ার প্রাণান্ত চেষ্টা। মাছি ঘুরে বেড়ায় নমিতার বাসি খাবারে। এখন অক্সিজেন সিলিন্ডার ওর বেডেই থাকে। নাকে নল, হাতের শিরায় স্যালাইন ড্রপের সঞ্চালন।

নমিতা শীলের খোঁজ নিতে আসে না কেউ। আগের দফায় সন্তোষ শীল আসতো দুসপ্তাহে একবার। নার্সকে বলতো, ব্যবসাপাতির ঝামেলায় সময় পায় না। নমিতা অবশ্য বলেছিলো তার স্বামী পেকুয়া বাজারে সাহা অটো মিলসের মেশিনম্যান। হলুদ-মরিচ-গম-ডাল মেপে মেশিনে ফেলে গুঁড়ো করে, শার্টে লেগে থাকে মশলার ঝাঁজগন্ধ। এবার কোন খোঁজ নেই সন্তোষের। নমিতা অস্থির। ফিসফিসে স্বরে আজ বলে, আঁর জামাইরে খবর দ’। কাল বলে, বাজার’র সামনদি ভাইয়ুর’র সেলুন, আঁরে খুব বালা ফায়, খবর ফাইলে ইবা আইবো। আরেকদিন বলে, বদ্দা আছে ইতারে খবর দ’। তার বিশ্বাস, ভাসুর অথবা ভাই এলে নিশ্চয়ই টাকা-পয়সা নিয়ে আসবে, তখন ভালো ভিটামিন কিনে নেবে সে।

মাঝে একদিন ওয়ার্ডবয়ের মোবাইলে খবর আসে, বাবা মারা গেছে বলে অশৌচ পালন করছে সন্তোষ, তাই আসা হচ্ছে না। আরেকবার জানা যায়, পাগলা কুকুর কামড়ে দিয়েছে স্বামীকে। অবশেষে আড়াই মাস পার করে সন্তোষ শীল এলো। কামানো মাথাজুড়ে ফুরফুরে কদমফুলের মতো চুল অশৌচের সাক্ষ্য দিচ্ছে। বাঁ পায়ে কুকুরের কামড়ের দাগ, নাভির চারধারে চৌদ্দটা সুঁই মারার গল্পও শোনা গেলো। স্ত্রীর ওপর মহা বিরক্ত, কিছুটা বোধহয় দুঃখিতও। আরএমও আর হসপিটাল সুপার তাকে বোঝালেন, গতবারের অনিয়মের কারণে নমিতার প্রায়-অচল ফুসফুসদুটোকে এবার আরেক ধাপ উন্নত ওষুধ দিয়েও সচল করা যাচ্ছে না। বরং জীবনের শঙ্কাটাই বেশি। এখন বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে কিছুদিন ভালোমন্দ খাইয়ে সেবাযত্ন করলে, পাশাপাশি টিবির ওষুধ খাওয়ালে, হয়তো অলৌকিক কিছু ঘটতেও পারে। নইলে লাশ বহনের খরচ অনেক বেশি পড়ে যাবে। টিবিরোগী শুনলে লাশ নিতে চায় না আধভাঙা টেম্পোও।

সন্তোষ শীল মনোযোগী ছাত্রের মতো শুনলো। তারপর সিদ্ধান্ত দিলো নমিতার ঠিকানা বদলের। কক্সবাজারের চকোরিয়ার পরিবর্তে নতুন ঠিকানা হবে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যেন বারদোনা গ্রামের ব্রজেন্দ্র শীলের বাড়িতে ওকে পাঠিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করেন। সেটি নমিতার পিত্রালয়। সন্তোষ শীলের যুক্তি, ব’র বাইত মাইয়া ইবা বালা থায়িবো। শ্বশুর বাড়িতে অনেক ঝামেলা, কে দেখাশোনা করবে!

কিছুদিন পর নমিতা শীলের বেডে অন্য রোগী ভর্তি হয়ে এলো। গার্মেন্টকর্মী শেফালি বেগম। ঝুটকাপড়ের আঁশ ঢুকে ঢুকে ফুসফুস ক্ষয়ে গেছে। তার কারখানা ইপিজেডের বাইরে শহরতলীর ঘুপচি গলিতে, সেখানে মাস্কফাস্কের বালাই নেই। ও হ্যাঁ, নমিতার কী হলো জানতে চাইছেন? সে চলে গেছে। কোথায় গেছে, কার সঙ্গে গেছে, জীবিত না মৃত অবস্থায়-- সে গল্পের কিছুই আমাদের জানা নেই! আচ্ছা, আপনারা কেউ বলতে পারেন শেষ পর্যন্ত কী হয়েছিলো ওর? একটু চেষ্টা করেই দেখুন, অনুমানশক্তির উপসংহারে একটা কোন পরিণতি কিংবা গন্তব্য দিন না নমিতাকে! হ্যাঁ শুরু করুন, আপনিই।

-- মে বি আফটার হার ডেথ, ওর সৎকারের জন্য ভেটারেন নার্স পারুলবালা দাস কনট্যাক্ট করলেন মহামায়া সেবাসংঘ আশ্রমে; সেখানকার ট্রাস্টিদের কেউ হয়তো তার পূর্বপরিচিত!
-- ধরুন কেউ আসেনি নমিতাকে নিতে, হাসপাতালের আরএমও কিংবা সুপারিন্টেন্ডেন্ট একদিন আঞ্জুমানে মফিদুলে ফোন করলেন; জনৈকা নাসিমা সুলতানার পরিত্যক্ত লাশ দাফনে তাদের সহায়তা প্রয়োজন।
-- আচ্ছা, এমনও তো হতে পারে, সাতকানিয়া থেকে আসা তেজেন্দ্র শীল, বোনকে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন চট্টগ্রাম-ঢাকা হাইওয়ের পূবপাশে; পরদিন পত্রিকায় মফস্বলের পাতায় খবর বেরুলো: দ্রুতগামী বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে অপেক্ষমান যাত্রী নিহত। প্রত্যক্ষদর্শী চা-দোকানির সন্দেহ, সঙ্গী পুরুষটিই ধাক্কা দিয়ে...

কী ভয়ঙ্কর, একটা ইতিবাচক সম্ভাবনার কথা কেউ ভাবতে পারছেন না! এই যে একজন পাওয়া গেলো, যিনি বলছেন, নারী দিবসে একটা সেমিনার হবে, টপিক থাকবে নারীর ঠিকানা কোথায়; কিংবা আলোচনাটা হবে হিন্দু আইনে মেয়েদের সম্পত্তির অধিকার নিয়ে। এখানেও তর্ক বেঁধে গেছে; সমান অধিকার বনাম ন্যায্য অধিকার বাদ যাবে কেন! আরেকজন, যার কাছে তথ্য-পরিসংখ্যানের ডাঁই, ভাবতে বসেছেন, ল্যান্ড অফিসগুলোর রেকর্ড অফ রাইটসের হিসেবে দেশের কতো শতাংশ পরিবারে নারী সদস্যের সংখ্যা স্রেফ শূন্য। এতোক্ষণ নীরব ছিলেন, তেমন কেউ হঠাৎ নড়েচড়ে বসলেন। চকোরিয়া-সাতকানিয়ার কন্সটিটিউয়েন্সিগুলো তো সব চারদলীয় জোটের ঘাঁটি, সেখানে মাইনরিটির লোকজন...

বেচারি নমিতা শীল, তার গল্পটা আর শেষই হলো না!

7
আপনার মূল্যায়ন: আপনি মূল্যায়ন করেন নি। গড় রেটিং: (১৭ জন মূল্যায়ন করেছেন)
শেয়ার করুন » Facebook Twitter Delicious Digg MySpace Google Orkut Blogger Google Buzz Technorati
অথবা এই সংক্ষিপ্ত লিংক শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৩৪৩৭(১)    

স্বাগতম বোন নুশেরা। আগে আপনাকে স্বাগতম জানাই। পরে ব্লগ পড়ব।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৩৪৫৫(২)    

হাহা, আপু, গল্পের পিছনের গল্প খোঁজ কৈরাই আপনে যেই গল্পটা দিলেন, আমি এইটা প্রথম পড়ার পরই একই রকম ভাবছিলাম, এইটার পেছনের টুকু কি বা কোথায়?
একই রকম ভাবনা আমারো আসে মাঝে মাঝে, যদিও সব গল্পে না বা সব লেখায় না।
এইকারনে লেখকদের র আইডিয়া দেখতে বা জানতে আমার খুব মন্চায়।
আমাদের অনীক একবার এই সুযোগ টা দিছিলো আমারে, আগে একটা গল্প বলছিলো, পরে সেইটার কবিতা লিখছে আর আমি পড়ছিলাম।
ঐ ব্যাপারটা আরো অদ্ভুত লাগছিলো।

গল্পটার ব্যাপারে একটা বড় কথা হৈলো আপু, পড়লেই মনে হয়, আপনি প্রচুর সময় নিয়া লেখাটা সাজাইছেন, এমন একটা যত্নের লেখা, একটু সতর্ক----
দারুন লাগছে, সেডা বলা লাগবেনা আর আমার পক্ষ থেইকা।
আমি এমনিতেই পক্ষপাতদুষ্ট কারো কারো ব্যাপারে--- Party

আইজকা চতুরের ঘরে ঘরে ঈদ!
নুশেরা আপুরে স্বাগতম। ডিসকো বান্দর ডিসকো বান্দর Party Party

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৩৪৭০(৩)    

নমিতা শীলদের গল্পগুলো এমনই হয় হয়ত
আর বাকীটুকু আমরা হয়তবা জানতেও চাই না
দারুণ একটা লেখা দিয়ে চতুরের শুরুটা আপনার
অবশ্য সব সময়ই অনেক অনেক ভালো লেখা পাবো সেটাও জানি
চতুরে স্বাগতম নুশেরা
:)
আর বিলাই এর মত আমিও বলি
আজকে চতুরের ঘরে ঘরে ঈদ
:) :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৩৪৭২(৪)    

ভাল লাগল লেখা আর ভাবনাগুলো।
অনেক শুভকামনা আপু। বসে আছি একা গিটার হাতে... \\wm/ (স্বাগতম)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৩৪৮৫(৫)    

নুশেরাপুউউউউউ.....কেমন আছেন? অপনা কেমন আছে? বাসার সবাই কেমন?

আপনাকে দেখে ভালো লাগলো.....

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৩৪৯২(৬)    
লেখকের মন্তব্য

উদরাজী- :)
শাওন- আমি কিন্তু তোমার কাছ থেকে ক্রিটিকাল কিছু আশা করছিলাম বলেই এই গল্পটা পেস্ট করলাম।
মম- আপনি-আজ্ঞে ভালো না :)
একুয়া রেজিয়া- অনেক ধন্যবাদ। আমিও কিন্তু কেকভক্ত :)
মেঘু- কতোদিন পর! সব্বাই ভালো আছে। তুমি তো ফার্স্ট হতে পারলা না হাহাহা। ভালো আছো তো?

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৩৪৯৫(৭)    

অনেক গোছানো একটা গল্প আপু। বিষয়বস্তু তো বিষয় ই, আমার শুধু আকর্ষন ছিলো লেখনী নিয়া। অনেক যত্নের কথা বললাম এই কারনেই, আপনি লেখাটার ভেতর থেইকা, আপনার প্রচলিত লেখার ছাপ গুলা যত্ন কৈরা সরাইছেন।
এইটা কেমনে যে কেউ কেউ করে, বুঝিই না। আছি আপনার পিছন পিছন, কিছু তো শিখবৈ।
কিন্তু প্রথম পোষ্টে মূল আগ্রহটাই ছিলো, স্বাগতম জানানো নিয়া।
আপনার নাম দেখলাম বামে নতুন ব্লগারে, তারপর তো পোষ্টের অপেক্ষায়!!!

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৩৪৯৮(৮)    

এই লেখাটা আগে পড়তে পড়তে অর্ধেক গিয়ে কি একটা কাজে আটকে গিয়েছিলাম! আজকে ছুটির দিন। আয়েশ করে পড়লাম।

আপনার গল্পের নারীগুলো, এতো জীবন্ত হয়ে ওঠে। এটা খুব অন্যরকমের একটা ব্যাপার। আমি এরকম নারী চরিত্র, এতোটা জ্বলজ্বলে নারী খুব কম দেখেছি। এই কারণেই, এই গল্পটা, খুব সাধারণ কাঠামোর ওপর দাঁড়ায়েও খুব অসামান্য হয়ে উঠতেছে আমার কাছে!

খালি একটা জায়গা -

"উন্মুক্তাধর শ্বসনক্রিয়ার ফল হিসেবে দাঁতগুলোর মাঝে মাঝে ফাঁক বেড়েছে"

"উন্মুক্তাধর শ্বসনক্রিয়ার" - এটা কেমন খটোমটো। শুনে বুঝতে পারি নাই শুরুতে, যে কিসের কথা বলছেন। পরে আরেকবার পড়ে বুঝতে পারছি। এইটা আরো সহজ করে বলতে পারেন কিন্তু! :)

আহ, কত্তোদিন পরে এ'রকম মজা লাগতেছে। আসলেই আইজকা ঈদ! Party

===
দ্র- গল্পের আগের বিষয়টা খুব ইন্টারেস্টিং। আমার নিজেরও এরকম অনেক গল্প পড়ে জানতে ইচ্ছা করে, এই গল্পের মানুষগুলো কে, কেমন? কী তাদের প্রকৃত কাহিনী?
গল্পের চাইতেও বেশি হয় কবিতার চরিত্রদের নিয়ে। সেখানে তো দ্বিমাত্রিক ভ্রান্তি। এক-এ কবিতার মাঝে রহস্য, আরেক-এ কবির সামনে দাঁড়ানো চরিত্রের বাস্তবতা নিয়ে কৌতূহল।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৩৫১৫(৯)    

সে কি আজ
ব্লগে এসে
দুটো অবাক
দুটো ভাল লাগা
ছন্ন লিখেছে কী দারুণ লেখা
আর
নুশেরা আপুকে যাচ্ছে দেখা!
____
শুভকামনা। ভাল থাকবেন!! :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৩৫৩৮(১০)    

গল্পে নুশেরা আপুর ছাপ স্পষ্ট । মনে হলো আপনার মুখ থেকেই শুনছি গল্পটা।
গল্প লিখতে গিয়ে আমার কেবল একটা কথা মনে পড়ে বারবার- একটা ভালো গল্পকে তুচ্ছ বর্ণনা দিয়ে নষ্ট করা উচিত না। সেটা ফলো করার চেষ্টা করি ।
পাঠককেও কল্পনা করার স্পেস দিতে হয়। হয় না সব সময় -- মনে হয় এটা না লিখলে তো কিছুই হলো না। তাই এখন একদম টিনিটাইনি গল্প লেখার চেষ্টা করি - যেন ইচ্ছা করলেই কিছু ভরতে না পারি। :)
অবশ্য এটা বল্লাম আমার লেখার ক্ষেত্রে।

==========
গল্পটা পড়তে গিয়ে আপনার পোস্টের কথাই মনে এলো - শীতের দিনে ছোট একটা বাচ্চাকে নিয়ে মা নৌকা চালাচ্ছে -- না হলে হয়তো খাবার জুটবে না ।
এর ধরনের ছবিগুলো দেখলে আসলে মনে হয় যাই বলি ভন্ডামি করছি। তাদের ষ্টাগ্রল আমার মস্তক অবনত করতে পারে বড়োজোর । মুখ খুলে আর কিছু বলার উচিত না।

==============
শেষের উপসংহার গুলোতে থমকে যেতে হয় এসে -- পাঠকরা কেন নমিতা শীলের সুস্থ হয়ে উঠা - বা তার স্বামীর মন বদলানো চিন্তা করতে পারেন না -- সেটা গবেষনার বিষয় হওয়া উচিত।

হিন্দু আইনে মেয়ে সম্পদের অধিকার দেখে মনে এলো মেয়েরা কেবল ঠকেই যায় - স্বামী, সন্তান , ভাই , পিতা কাছের সম্পর্কগুলো থেকেই।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৩৫৫২(১১)    

স্বাগতম। সুন্দর শুরু। অনেকদিন পরে ব্লগে ঢুকে একটা সুন্দর লেখা পড়লাম।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৩৫৫৬(১২)    
লেখকের মন্তব্য

শাওন- একই ধরণের কথা সাইফুলও (আকবর খান) বলেছিলো (আরণ্যক অন্য কথা বললেন)। সে অবশ্য আপুর চিরাচরিত টাইপটা মিস করেছে। তোমাদের মতামতের ওপর যথেষ্ট আস্থা আছে। তারপরও, কমিউকেটিভ ফরম্যাট ছাড়া নিজের ধাঁচ/টাইপ থেকে বেরোতে পেরেছি বলে কিন্তু আমার নিজের মনে হয়নি। গল্পটা আসলে অনেকটাই বাস্তবঘটনা থেকে চোথা মারা, কাজেই সামান্য কিছু হোমওয়ার্ক বাদ দিলে ব্লগে যা করি, সেই একটানে টাইপ করে গেছি :)

অনীক (তোমাকে ছন্ন লিখে ফেলি, তারপর শুধরাই)- ঠিক এই জায়গাটাতে আমারও অস্বস্তি ছিলো। বাক্যটা গড়গড়িয়ে বলার জন্য এই শব্দদুটোর (উন্মুক্তাধর শ্বসনক্রিয়ার) বিকল্প হিসেবে একটা 'বিশেষ্য'র সন্ধানে হাতড়েছি, পাইনি :( (সাজেস্ট করো)

আকাশ অম্বর- বাহ, দারুণ ছন্দময় মন্তব্য। কুশলে থাকুন।

আরণ্যক- যে কারোর লেখাতেই ইমেজের প্রতি আমার দুর্বলতা অসীম :S
ঈশ্বরী পাটনী প্রসঙ্গে। স্নেহ প্রেম দয়া ভকতি কোমল করে প্রাণ -- বিশ্বাস করি মনেপ্রাণে। সাধ্যের সীমাবদ্ধতা থাকবেই, তা বলে অনুভূতির প্রকাশে কেন কুণ্ঠিত হবো!

বাবুল হোসেইন- ধন্যবাদ, শুভেচ্ছা।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৩৫৬৫(১৩)    

মুখ হা করে থাকে সারাক্ষণ; শুধুমাত্র নাসাপথে যথেষ্ট অক্সিজেন টেনে নিতে অক্ষম তার টিবিক্ষয়া ফুসফুসজোড়া। উন্মুক্তাধর শ্বসনক্রিয়ার ফল হিসেবে দাঁতগুলোর মাঝে মাঝে ফাঁক বেড়েছে, ওপরের মাড়িটা উঁচু দেখায়।

আপা, এইখানে সব শব্দই মোটামুটি প্রচলিত। যে শব্দগুলো একটু অপ্রচলিত, 'নাসাপথ' আর 'উন্মুক্তাধর শ্বসনক্রিয়া'। ওই দুই লাইনকে এভাবে লিখতে পারেন -

"...শুধুমাত্র নাক দিয়ে যথেষ্ট অক্সিজেন টেনে নিতে অক্ষম তার টিবিক্ষয়া ফুসফুসজোড়া। মুখ হা করে শ্বাস নেয়ার ফল হিসেবে দাঁতগুলোর মাঝে মাঝে ফাঁক বেড়েছে, ওপরের মাড়িটা উঁচু দেখায়।..."

চোয়ালের হনু আর কণ্ঠার হাড় বেরিয়ে গেছে, গলার পেশী প্রতি নিঃশ্বাসে-প্রশ্বাসে কঠিন ব্যায়ামের অনুশীলনরত।

আমি জানতাম 'হনু' মানেই চোয়ালের হাড়। অভিধানেও দেখলাম হনু বলতে সেটাই বুঝাচ্ছে। এই শব্দটাও ঠিক করে নিতে পারেন। :)

[পুরা টিচার টিচার মনে হইতেছে নিজেরে। ক্ষমার্হ। :) ]

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৩৫৬৮(১৪)    

প্রথম বকবক টুকু পড়লাম এইসব বকবকেই আমার আজকাল আগ্রহ মেলা।

আমিও ভাবি এটা কিভাবে এলো সেটা কিভাবে এলো - এবং জানি লোকেও ভাবে - এবং কত ভয়ংকর ভাবে যে ভাবে সেরকম একটা আলোচনা টিভিতে দেখেছি।

আমি লিখতে গিয়ে ঐ ভয়টা পাই খুব বেশি। যে লোকে কি সব অনুমান করতে থাকবে। এই সচেতনতার কারনে গোলমাল আরো বেশি ছাড়া কম হয় না। কিন্তু এটা ভেবেও পারি না। লিখতে গেলেই টেবিলে একটা সমালোচককে কে যেন বসিয়ে রাখি - সে প্রতিটা শব্দ নিয়ে যন্ত্রণা করে - তার যন্ত্রণায় কিছুই লিখতেপারি না। সে বলে তুমি এটা লিখছো তার মানে তুমি সেটা দেখেছো। এই উৎপাতের হাত থেকে বাঁচার উপায় কি?

গল্প এখনো পড়ি নাই। বকবক নিয়ে আরো অনেক বকবক করার বাসনা থাকলো জানি না কতটা পারবো :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৩৫৭১(১৫)    

পড়ে গেলাম।
পরে সময় নিয়ে মন্তব্য করবো। আপাতত বলে যাই ভালো লেগেছে।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৩৫৭৯(১৬)    
লেখকের মন্তব্য

অনীক- খুব ভাল লাগছে তোমার 'টিচারি', সবসময়েই যেন এটা বজায় থাকে। বিকল্প বাক্যের জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ। চোয়ালের হনুটা কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে লেখা (অনেকটা চোখের দৃষ্টি, মেরুদণ্ডের কশেরুকা এইটাইপ; লাকী আখন্দের একটা গানে আছে- কেন চোখদুটি আঁখিজলে উঠেছে ভরে ;) ) ; শুধু হনু কেমন 'মু্ই কী হনু রে'র হনুর মতো লাগছিলো। এই এক সমস্যা আমার আছে, একবার কোন অস্বস্তি হলে সেটা মাথায় ঘুরতেই থাকে :(

সাকাধূ- আহারে অমন একটা আলোচনা মিস করে গেছি। টিভি দেখাই হয়না যে। তোমার কথাগুলোও চমৎকার। টিভির আলোচনা আর নিজের বাকি ভাবনা নিয়ে একটা পোস্ট দিও প্লিজ!

আমিন শিমুল- ধন্যবাদ।

[নেট স্লো বলে একবারে একাধিক মন্তব্যের জবাব দিতে হয় :( ]

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৩৫৮৪(১৭)    

এত্তবড় বড় ব্লগ পাক্না আগে পড়ছে কুনিদিন? আইজকা ক্যাম্নে পড়বো? :-b
তয় যদি পইড়া শুনান, তাইলে আছি আহা

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৩৫৮৬(১৮)    
লেখকের মন্তব্য

তা তো জানিই, একখান অক্ষরও না পইড়া ডাইনোসর সাইজের ইবুক দু্ইন্যাতে আর কে কবে বানাইছে পাক্নাটম ছাড়া! :প :p

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৩৬০৪(১৯)    

গোপুন কথা ফাস কইরা দেওয়া ভালু না নানী :প :p

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৩৬১১(২০)    

হ পল্লাম। গপ্প নিয়ে কোন কথা উঠলেই বুড়া মিয়ার একটা লাইন মনে পড়ে "অন্তরে অতৃপ্তি রবে শেষ হয়ে মনে হবে হয়েও হৈলনা শেষ।" ছোট গল্প মানেই আমার কাছে "নাহি ঘটনার ঘনঘটা।"
বিভূ্তিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের এরকম কিছু গল্প আছে। নিতান্ত তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়ের দারুণ সব গল্প আছে। আজকালকার কবিতা-গল্প কিছুই বুঝিনা। জরুরী ভিত্তিতে প্রাইভেট টিউটর আবশ্যক। এএলইউ (আজিজ লিটারেচার ইউনিভার্সিটি) গ্র্যাজুয়েটদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে।
আমার পড়া নুশেরা তাজরীনের সেরা গল্প অবশ্য এইসিমেট্রিক। গল্পের বই কবে আসবে?
বকরবকর শেষ। :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৩৬২৮(২১)    
লেখকের মন্তব্য

অন্তরে অতৃপ্তি রবে শেষ হয়ে মনে হবে হয়েও হৈলনা শেষ

হেহেহেহে মনে হোক বা না হোক গল্পের শেষলাইনটা মিলায় দিলাম বুড়ামিয়ার ফর্মুলাতে ;)

প্রাইভেট টিউটর পাইলে জিগায়েন ব্যাচে ভ্যাকেন্সি আছে কিনা। আমারও ভর্তি হওন ফরজ নানাজি। সাট্টিফিকেট পাইলে হেরপর বইয়ের স্বপন দেখুমনে। তবে আশার কথা আছে নানাজি, জনৈক এএলইউ পোস্টডক আমার গল্পের ভিতরেও কেম্নে জানি কীসব উৎকেন্দ্রিকতা, ক্ষমতা-কাঠামোর দ্বান্দ্বিকতা, আরো কিতা-কিতা আবিষ্কার করছেন ;) :প :p

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৩৬৩১(২২)    

কে সেই লুক? বড়ই সিরিকাস লুক মালুম হচ্ছে ভাবতাছি :-b

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৩৬৩৭(২৩)    
লেখকের মন্তব্য

আজিজিয়া সাহিত্যিয়া মাদ্রাসার ফাজিলে তালেবেলেমের নামখানি জরুরি নহে, বরং তাহার মূল্যবান তাফছিরে আস্থা রাখুন জনাব :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৩৬৪৭(২৪)    

শুভেচ্ছা নুশেরা
গল্পটা পড়ছি - ভাল লাগছে
অট: আপনার কি কোন বই বের হচ্ছে এবার?

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৩৬৫৮(২৫)    

খুব বেশী ভালো লাগল আপনার গল্প, গল্প লেখার স্টাইল আর গল্পের মধ্যে দিয়ে কঠিন সত্যের প্রকাশ।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৩৬৯৫(২৬)    

এইখানে আইসা পড়ছেন, আপা?
স্বাগতম।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৩৭৩৪(২৭)    

ভালো

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৩৭৬৭(২৮)    
লেখকের মন্তব্য

স্বদেশ- শুভেচ্ছা আপনাকেও। অট- না

দারুচিনি লবঙ্গ- ধন্যবাদ, শুভেচ্ছা। অট- আপনার নিকটি বেশ। পিক কি তেজপাতার? (ঠাট্টা ক্ষমা হোক)

তায়েফ- :)

হিমেল- ধন্যবাদ

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৩৭৬৮(২৯)    

কে কেমনে কি ভেবে লেখে সেটা আমার মাথায়ও আসতো ভাবতাছি

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৩৭৬৯(৩০)    
লেখকের মন্তব্য

এক ফোটোগ্রাফারের লেখা পড়েছি/দেখেছি (পশ্চিমবঙ্গের; নাম বোধহয় মোনা চৌধুরী), কয়েক দশকের উল্লেখযোগ্য লেখকদের ছবি নিয়ে; কে কী ভঙ্গিতে কোথায় বসে কীভাবে লেখালেখি করেন/করতেন সেরকম ছবির অথেন্টিক কালেকশান আর প্রাসঙ্গিক গল্প নিয়ে। ইন্টারেস্টিং

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৯০০৬(৩১)    

হাহাহা, মজা পাইছি, কমেন্টের থেইকা কি আসলো তাতে!

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৩৭৭২(৩২)    

আপনার গল্পের স্টাইলটা দারুন লাগলো - মনে হল আপনে নিজে গল্পটা মুখে বলে যাচ্ছেন - প্রিয়তে এডিত হল - প্রথম দিকের গল্পগুলো পরে পড়তে হবে

আপনাকে ২য়বারের মত (স্বাগতম)

১ম বার ভ্রাতা আরণ্যকের পোস্টে জানিয়েছিলাম :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৩৯১৮(৩৩)    
লেখকের মন্তব্য

২য় বার ধইন্যাপাতা(ধন্যবাদ)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৩৯১৫(৩৪)    

নুশেরা আপনাকে এখানে দেখে খুব ভালো লাগল।
লেখা নিয়ে না পড়ে তো মন্তব্য করা যাবে না, কারো কারো লেখা মনোযোগ দাবী করেই।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৩৯২৪(৩৫)    
লেখকের মন্তব্য

কোন্ মেঘ? লোচন?

মন্তব্যটি পড়ে খুব খুশি হয়েছি :)
শুভেচ্ছা

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৩৯২৫(৩৬)    

না আমি লোচন না। এবিতে দু চারটা পোস্টে আপনি মন্তব্য করেছিলেন। ওখানে আমার যাতায়াত খুব কম। মনে পড়ে কি।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৩৯৩০(৩৭)    
লেখকের মন্তব্য

ওহো বুঝেছি। গ্রাফিক ডিজাইন করেন, ভালো ভালো ব্যানার করেন সেই মেঘ :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৩৯৭৫(৩৮)    

আমি ইট্টু কষ্টের কথা কইতে আইলাম! এ পর্যন্ত নুশেরার গুণকীর্তন কইরা গেলু সবতে; লেখিকা নুশিপুর ত্রুটির কথা কইতে সাহস পাইলু না কেউ। (নুশিপু মাইন্ড খাইলে আর কইতাম না! :( )

আম্মু পিচ্চিকালে গল্প কইতেন, গ্রামের বাদশা কাকু কিচ্ছা কইতেন, এখন অন্যান্যগো লেখা গল্প পড়ি। গল্প পড়াকালীন আমরা বুঝিতে পারি যে, একখানা গল্প পড়িতেছি। কিন্তু গল্পের পাত্র-পাত্রীর সুখ-দুখের ভার্চুয়াল সঙ্গী হইয়া হাসি-কান্দি। টিভিতে যখন সংবাদ দেখি বা দৈনিক-সাপ্তাহিক পত্রিকার পাতায় প্রতিবেদন পড়ি তখনো আমরা নানাভাবে আমাগের অনুভূতি প্রকাশ করি।

টিভিতে একজন রিপর্টার যখন ঘটনাস্থল থাইক্যা সরাসরি তথ্য পাঠায় তখনও তানি ঘটনা বর্ণনার সঙ্গে নিজের কিছু কিছু কথা জুড়িয়া দেন। এই গল্পে নুশিপু নিজেরে রিপোর্টারের ভূমিকা/চরিত্র থাইক্যা বিযুক্ত রাখিতে পারেন নাই।

সে ভাবনা আমরা আপাতত বাদ দিই। নমিতা শীলের সঙ্গে কে আছে, তার খবর নিই চলুন।

তারপরই ক্যামেরার মুখ ঘুরে যায় অবাঞ্ছিত দৃশ্যের দিকে। লেখিকা নমিতা শীলের গল্প বলতে গিয়ে অযথাই ক্যামেরার ফোকাস থেকে তাকে বারবার সরিয়ে দিলেন। বাংলাদেশের টিভি সংবাদের সময় গুরুত্বপূর্ণ খবরের বেলা যেমন প্রাধান্য পায় মন্ত্রীদের চর্বিযুক্ত চকচকে গাল এবং গল্পে যখন পড়ি-

কিছুদিন পর নমিতা শীলের বেডে অন্য রোগী ভর্তি হয়ে এলো।

মূলত এখানেই গল্পের যবনিকাপাত ঘটার কথা থাকলেও লেখিকা কেন লেখাটিকে আরো টেনে নিয়ে গেলেন পাঠক হিসেবে তা আমার বোধের বাইরে।

এখানে নমিতা শীলের মুখ থেকে অনাবশ্যক বর্ণনা শুনলে হয়তো এমন অভিযোগ করা দুরূহ হতো সন্দেহ নেই।
তবুও বলবো, নুশেরার গল্প যেমনি হোক, বুঝে-শুনে যদি এমন গল্প লিখে থাকেন- তাহলে বলার কিছু নেই। আমার দৃষ্টিতে এটি নিছক নমিতা শীলের সংবাদ প্রতিবেদনের বেশি কিছু হয়েছে বলে মনে হয় না।

(যেহেতু জাতীয় দৈনিকের সাময়িকী, সেহেতু কঠিন আলুচনা।) D

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৪১২৭(৩৯)    
লেখকের মন্তব্য

'কঠিন আলুচনা'র জন্য অশেষ ধন্যবাদ।

এক যে ছিল নমিতা শীল। তার হলো টিবি। সে গেলো টিবি হাসপাতালে। তারপর হলো কী--- ওক্কে, রিপোর্টারের গল্প বাদ দিয়ে বাদশা কাকু অথবা আম্মুর গল্প লেখার চেষ্টা চলবে ভ্রাত :)

পুনশ্চ- জাতীয় দৈনিকের সাময়িকীতে ছাপা হওয়া সব লেখাই দারুণ মানসম্পন্ন হয়ে থাকে, এমন নয়। তবু বলতেই হয়, ভাগ্যিস গল্পটা ওরা ছেপেছিলো! নইলে শুধু 'পোস্ট' লিখে আপনার মন্তব্য পাওয়া সম্ভব ছিলো না বোধহয়।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৪২৮৮(৪০)    

এত সহজে পাখা গুটাইয়া ফেললে ক্যামতে হয়? তাইলে বলা যায়, আঁর প্রফাইল পিক মাশাল্লা জব্বর অইয়ে! D
লেখক যেই ভাবনার জমিতে থাইক্যা লেখাটা লেখেন- সেইটার ভিত্তি এতটা দুর্বল হওয়া ঠিক না। আমি ফু দিলাম আর আপ্নে কাইত হইয়া গেলেন! ভবিষ্যতে অন্য কেউ ধাক্কাও দিতে পারে।, তার জন্য আপ্নের প্রস্তুতি থাকা জরুরি।
আমার তো প্রত্যাশা আছিলো, এইসব ল্যাংড়া-লুলা যুক্তি খুব দৃঢ়তার সহিত উড়াইয়া দিতে পারবেন। অথচ উক্কে! উক্কে বইলা কাঁথা মুড়ি দিয়া হুইয়া পড়লেন! হিঃহিঃহিঃ  হাহাহা

জীবন দেখার জন্য আপ্নের এক জোড়া খুব ভালো চোখ আছে। নিম্নস্তরের জীবনের প্রতি অনেকটা মমতাও হয়তো আছে। এইগুলা কেন ভুইল্যা যাবেন? লেখাতেও তো তা অস্পষ্ট না! তাইলে আপ্নের দুর্বলতা কি মনে? আর এইটা আপনার বুঝতে হইবো যে, সুবিধাবাদী সমালুছনাকারী একটা ভালু লেখারেও পচাইতে পারে আবার একটা পচা লেখাতেও কথার রঙে ভং ধরাইতে পারে। কাজেই মন খারাপ না! (ল্যাখছারটা ভালু হইছে না?)

ঈমানে কই, এই কথাগুলা আমার মনের, কোনো ভুংভাং না! D

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৪৩০২(৪১)    
লেখকের মন্তব্য

জ্ঞানী লোকজনের সাথে বিতর্কের আগ্রহ নাই ভ্রাত। ম্যালা কষ্ট করলেন, থ্যাঙ্কু এগেইন।

একটা অনুরোধ, রাখা না রাখা আপনার বিবেচনা-- কমেন্টের আলাপচারিতায় ল্যাংড়া-লুলা, হু্ইয়া পড়লেন-- এই কথাগুলি অ্যাভয়েড কইরেন প্লিজ।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৪৩১৩(৪২)    

আল্লাহাফেজ!

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৪৩১৪(৪৩)    

পাখা ঝাপটানি - ল্যাংড়া লুলা এইসব দেখতে ভালো পাই না --
নাকটা লম্বা হওয়ায় গলানির জন্য দুঃখিত । ভ্যাম্পায়ার

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৪৭৯১(৪৪)    

আরণ্যকের কমেন্টে একমত। সমালোচনা আর ঝগড়া এক জিনিষ না। চতুরের পরিবেশের সাথে এই জাতীয় কমেন্ট মানায় না।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৪৪৬৫(৪৫)    

আমিতো আতো তত্ব কথা জানি না। পড়ে শুধু বুঝতে পারি ভালো লেগেছে না খারাপ লেগেছে। পড়েছিলামতো আগেই।

এতো যত্ন করে কেউ কিভাবে লিখে, সেটা তোমার থেকে শেখার আছে।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৪৬১০(৪৬)    
লেখকের মন্তব্য

তত্ত্বকথার খ্যাতা পুড়ো। তোমার গল্প লেখার পিছনের গল্প নিয়ে কিছু বলো বন্ধু। প্রথম পোস্ট নাহয় সেটা নিয়েই দাও :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৪৬৪৬(৪৭)    

নুশেরাবুবুউউউউউউউউউ বুকে আয় বাভুল

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৪৯২৬(৪৮)    
লেখকের মন্তব্য

আরে কাব্য্ও্ও্ও্ও্ও!!!!!

খুব ভাল লাগলো বান্দরটাকে দেখে, ফুলটাও সুন্দর :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৪৭০০(৪৯)    

বোন তানবীরা, এটা মনে হচ্ছে আপনার প্রথম কমেন্ট। জলদি আপনিও একটা পোষ্ট দিয়ে দিন।

আমি আগেই স্বাগতম জানিয়ে গেলাম।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৪৭০১(৫০)    

বোন তানবীরা, এটা মনে হচ্ছে আপনার প্রথম কমেন্ট। জলদি আপনিও একটা পোষ্ট দিয়ে দিন।

আমি আগেই স্বাগতম জানিয়ে গেলাম।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৪৯৩৫(৫১)    

লেখাটা চমৎকার লাগলো আপা। লেখায় নিয়মিত হবার অনুরোধ জানিয়ে গেলাম। খুব খুব! :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৫০৬২(৫২)    

স্লামালেকুম।
গল্প নিয়ে কি বলবো বুঝতেছি না!!! :(

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৫২২৪(৫৩)    
লেখকের মন্তব্য

উদরাজী- চতুরে কি স্বাগতমের সোল এজেন্সি আপনিই নিছেন? :প :p

ভেবু- :) :) :)

মুক্ত- অলাইকুম... :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৫৩৯৫(৫৪)    

আপু, নয়া পোষ্ট?

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৮১৬২(৫৫)    

নুশেরা কেমন আছো? তোমাকে এখানে পেয়ে ভালো লাগছে

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৮৩৩৯(৫৬)    

নক, নক, বিশাল স্বাগতম। D

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৯০০৮(৫৭)    

নক, নক, পরের গল্প চাই আপু।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৭৯৫৩৯(৫৮)    
লেখকের মন্তব্য

হামিদা, আশরাফ-- থ্যাঙ্কু :)

বিলাই- ঐ গেলি!!! (খাইছি তোরে) :প :p

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৮৭১২৩(৫৯)    

নুশেরাপু,
অসাধারণ একটা লেখা পড়লাম।আসলে লেখা বলা ঠিক হবে না, একটা অস্তগামী অথচ জীবন্ত পরিণতি এঁকেছেন আপ্নি।অনেক খানি ভাবিয়ে তুলল আমাকে এ লেখনী।এতোদিন গিরিবালা,সুরবালা,সাবিত্রি,সৌদামিনিদের দুঃখ কষ্ট আনন্দ বেদনা পড়েছি আর অবাক হয়েছি তবে আজ নমিতার মাঝে অসাধারণ এক প্রতিনিধিত্ব দেখলাম। সময়কে কেমন করে নমিতারা পেরিয়ে গেছে নিঃশব্দে তা প্রত্যক্ষ করলাম। অনন্য আপনার লেখার হাত।আমি অন্য একটা ব্লগে আপনার লেখা পড়েছি তবে খুব বেশি মনোসংযোগ ছিলনা সেখানে আর আজ পড়ে মনটা ভারী হয়ে গেল নমিতার জীবন দেখে। শত সহস্র এমন নমিতাদের পাশে থাকবার মতো মানুষ দরকার।
ধন্যবাদ আপনাকে।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৮৭১৬৮(৬০)    
লেখকের মন্তব্য

ধন্যবাদ মারজুক, সংবেদনশীল পাঠকহৃদয়ের প্রতি শুভেচ্ছা রইলো।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৯২৬৬৪(৬১)    

যেনো চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি।ভালো লাগলো।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৯২৭০২(৬২)    
লেখকের মন্তব্য

পাঠ ও মন্তব্যের জন্য অশেষ ধন্যবাদ পঞ্চম-মাত্রা। শুভেচ্ছা রইলো।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৯২৭০৬(৬৩)    

আরে নুশেরা যে! চতুরে স্বা-গু-ত-ম।

(আপনি কেন নিয়মিত গল্প লিখেন না?)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৯২৭০৯(৬৪)    
লেখকের মন্তব্য

আরে রিপনভাই যে!!
আমার ব্লগে স্বা-গ-ত-ম D

(আপনি নিয়মিত ব্লগে আসেন না, সেইজন্য গল্প লিখি না! :)
কতোদিন আপনার নতুন গল্প পড়ি না, ভেবেছিলাম এবার বই পাবো, তাও হলো না :( )

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৯২৭১১(৬৫)    

মিস করেছিলাম। এখন পড়লাম।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#৯২৭৩৮(৬৬)    
লেখকের মন্তব্য

অনেক ধন্যবাদ হালিম ভাই।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১১৭২০৫(৬৭)    

এইটা তো আরো দুর্দান্ত! মনে পড়ে বেশ কিছুদিন আগে, তখনো দেশে ছিলাম , একদিন সবাকের সাথে কথা হচ্ছিল। গল্প নিয়ে তার বলা একটা কথা আমার খুব ভালো লেগেছিলো।সবাক বলতেছিলেন, "গল্প লিখা বা বলার চাইতে গল্প হতে হবে এইরকম যে গল্পকার পাঠকের সাথে গল্প করছেন; এই যেমন আমি আপনার সাথে গল্প করছি এইরকম"। আপনার গল্পটায় সেইটা পেলাম এবং তাই বোধহয় এতোটা ভালো লাগলো। আর আপনার ডিটেইলিং! কোনোরকম অতিকাব্যিকতা/নাটকীয়তা না করে স্রেফ নির্লিপ্ত বর্ণনাকারী গল্পকারদেরই আমার ভালো লাগে। নমিতা শীল, হাসপাতাল এবং অন্যান্য যেইসব বিষয়াদি এই গল্পে এসেছে তার প্রতিটির ডিটেইলিং চমকপ্রদ ও জীবন্ত হয়ে উঠেছে! রিফালজেন্ট ওয়ার্ক।

"নইলে লাশ বহনের খরচ অনেক বেশি পড়ে যাবে। টিবিরোগী শুনলে লাশ নিতে চায় না আধভাঙা টেম্পোও।" এই একটা ক্ষুদ্র লাইন দিয়েও এইখানে অসহায়ত্বের টেক্সচার খুব নিখুতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে । এই লাইনটা স্পেশালি রিমার্কেবল।

সবমিলিয়ে আপনার গদ্যের অনুরাগী হয়ে উঠলাম দুটি গল্পেই। সামনের লিখাগুলোর প্রতি আগ্রহের পারদ উপরে চড়ছে ক্রমশ ।

-----------------

আপনার কি কোনো ছোটোগল্পের বই আছে। আমি সমসাময়িকে একটু অজ্ঞ। সব খোঁজখবর রাখা হয়ে ওঠেনা। থাকলে জানাবেন।
-------------
শুভেচ্ছা।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১১৭৫১০(৬৮)    
লেখকের মন্তব্য

পড়ার জন্য অশেষ ধন্যবাদ অমিত! মন্তব্যে অনুপ্রাণিত বোধ করছি।
তবে প্রত্যাশা রাখবেন না যেন :)

এই সম্বল নিয়ে বই! না ভাই, আমার একটিই বই, নামেই স্পষ্ট তার বিষয়-- শিশুর অটিজম: তথ্য ও ব্যবহারিক সহায়তা।

শুভেচ্ছা আপনার জন্য, আপনার লেখালেখির জন্যও।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১১৭২০৮(৬৯)    

চতুরে আপনাকে স্বাগতম !

হাত পা এবং কলম কী বোর্ড খুলে লিখুন !

:হাহাহা: হিঃহিঃহিঃ  হাহাহা হিঃহিঃহিঃ  হাহাহা

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১১৭৫১৩(৭০)    
লেখকের মন্তব্য

হিঃহিঃহিঃ  হাহাহা হিঃহিঃহিঃ  হাহাহা হিঃহিঃহিঃ  হাহাহা

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১২৬৬০৮(৭১)    

আপু, ছোট থাকতে রাগ উঠলে জিনিষ ভাঙতাম, মন খারাপ হলে হাত কাটতাম।আমার হাতে অনেক কাটা ছেড়ার দাগ। আজ দু'টোই। নিজেকে ব্যস্ত রাখতে চাচ্ছিলাম। তাই, আপনার, হামা ভাই, আরণ্যক দার পুরোনো পোস্টগুলোতে ঢুঁ মারলাম। পড়ছি। খুব ভালো লাগছে এখন।

আপনার এই গল্প পোস্ট আমি আগেই পড়েছিলাম। আজকে লিঙ্ক এর সব গল্প, নমিতা শীলের গল্প সব পড়লাম।
আমি শুধু একটা কথাই বলব, অসাধারণ। আমিও হয়ত একদিন এমন লিখতে পারব।

আপনার বই কী, তাম্রলিপি থেকে বের হয়েছিল, প্রকাশক রনি ভাই?

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১২৬৬১৯(৭২)    
লেখকের মন্তব্য

হ্যাঁ, তাম্রলিপির রনিভাই আমার প্রকাশক। জাফর স্যারের (মুহম্মদ জাফর ইকবাল) মাধ্যমে যোগাযোগ হয়েছিলো।

তুমি এখনই অনেক ভালো লেখো ভাই।
আর এখন থেকে যেন পাঠেই মেজাজ ঠাণ্ডা হয় :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১২৬৬৩৭(৭৩)    

রনি ভাই প্রকাশক হিসেবে ভালো। ইয়াং। আমি যতদূর চিনি। উনি কিশোর লেখা নিয়ে বই বের করেন। এটা ভালো। জাফর স্যার গত দুই বছর ধরেই ওনাকেই বই দিচ্ছে। আমি বইটা জোগাড় করব। গতকাল-ই বাসা থেকে আসলাম। এরপর গেলে অবশ্যই নিয়ে নিব। আমাদের কলেজে এই প্রথমবারের মতো সাহিত্য লাইব্রেরী দেওয়া হয়েছে। আমি বই কেনার দায়িত্বে ছিলাম। আগে জানলে আপনার বইটা অবশ্যই কালেকশোনে রাখতাম। সেদিন বাসনা মুহুরী ম্যাডাম আমাদের অটিসমের উপর ক্লাস নিয়েছেন। ম্যাডামকে আমার খুব পছন্দ।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১২৬৬৯৯(৭৪)    
লেখকের মন্তব্য

ভাগ্যিস কেনোনি, ওটা সাহিত্য নয় আদপেই! চট্টগ্রামে মেহদীবাগের বিশদ বাঙলা আর চেরাগি পাহাড় মোড়ের বাতিঘরে আছে বইটি। অন্যত্রও থাকতে পারে। স্থানীয় দৈনিক আজাদী-তেও ধারাবাহিকভাবে কয়েকমাস ধরে প্রকাশিত হয়েছে।

রনিভাইর মধ্যে চমৎকার পেশাদারী মনোভাব আছে। একদম আদর্শ প্রকাশক। তরুণ প্রজন্মের প্রকাশকদের গল্পকাহিনী যা শুনি, তার চেয়ে অনেক আলাদা।

তোমাদের বাসনা ম্যাডাম কিন্তু আমার দিদি। দিদির অর্ণব আমারও সন্তান। আমার অপনা যেমন দিদির :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১২৬৮৯২(৭৫)    

সাহিত্য নয় জানি। লাইব্রেরীতে আমি সব ধরনের বই দিতে পেরেছি, খালি উপরমহল থেকে নিষেধ থাকার কারণে কোনো হুমায়ূন আজাদ, প্রবীর ঘোষ এদের বই দিতে পারি নাই।

ভালো থাকুন আপু

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১২৭৭৮২(৭৬)    

হুমায়ূন আজাদ, প্রবীর ঘোষ নিষিদ্ধ কেন? তাদের অপরাধ কি??

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১২৭৮৯৬(৭৭)    

ব্যাপারটা জানা থাকলে আমার ও ভালো লাগত। কিন্তু, কোনো স্পষ্ট উত্তর পাইনি

 

মন্তব্য করুন

এই তথ্যটি সর্বদাই গোপন রাখা হবে এবং কোন অবস্থাতেই তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
ছবি যাচাই
আপাতত: শুধু মানুষদের জন্যই আমাদের দুয়ার খোলা। পরে নাহয় রবোট, বায়োবট বা এন্ড্রয়েডদের কথা বিবেচনা করা যাবে।
7 + 1 =
এই গাণিতিক সমস্যাটি সমাধান করুন এবং সঠিক উত্তরটি উপরের ঘরে লিখুন। যেমনঃ ১+৩ এর জন্য লিখুন ৪।