নুশেরা-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

।।১।।
আমরা গান শুনতে ভালোবাসি, ভালোবাসি গল্প শুনতেও। শিশুবয়সে “এক যে ছিলো”র ভূমিকা দিয়ে গল্প শোনার শুরু; অভিভাবকদের সচেতন খবরদারিতে “বড়দের গল্প”রা তখন অস্পৃশ্য। অন্যদিকে গানের বেলায় চাঁদফুলপাখি-খোকাখুকু নিয়ে ছড়াগানের পাশাপাশি আমি-তুমি-তুমি-আমির পারমুটেশন কম্বিনেশন শুনতে কিন্তু মানা নেই কোনও! এমনি করে ছোটবেলা থেকেই গান, গল্প-- দুই শ্রুতির সঙ্গেই আমাদের পরিচয়। দু’টোরই আকর্ষণ অমোঘ, অনুপেক্ষণীয়। তাই গানে যদি কোনও গল্প থাকে, খুব সহজেই তা মনোযোগ কাড়ে, অনায়াসে মনে গেঁথে যায়। সুরের ভাঁজে লিরিকের ছন্দে চেনাজানা জীবনের চেনা-চেনা চরিত্র। কখনও তার নাম অজানা; কখনও আবার নামাশ্রয়ী হয়েই তার আত্মপ্রকাশ। গান-গল্পের এই নামধারী অথবা নামহীন চরিত্রদের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটিয়ে আসা যাক।
সীমিত পরিসরে ঠিক কী ধরণের গান দিয়ে শুরু করা যায়, সেটা ভাবনার বিষয়। রবিঠাকুরের গীতি-নৃত্য-নাট্যের গানে শ্যামা, চণ্ডালিকা, চিত্রাঙ্গদা, সাগরিকা, অর্জুন, অতনুরা স্বাভাবিকভাবে নিজ নামেই উপস্থিত। নজরুলের গানে নার্গিস শুধু ফুলের নামই নয়, বুলবুলি নয় নিছক মধুকণ্ঠী পাখি; সেও আমরা জেনে যাই। মোঘল ইতিহাসের নূরজাহান, রোমান্সের জগতের শিরি-ফরহাদ ও লাইলী-মজনুর মতো চরিত্র নজরুলগীতির নিজস্ব সম্পদের মতোই। যতীন্দ্রমোহন বাগচীর কাজলা দিদি থেকে জীবনানন্দের বনলতা সেন, সুরঞ্জনা; তাদের পাশাপাশি সুনীলের বরুণাও উপস্থিত আধুনিক বাংলা গানে। শ্যাম-রাই, রাধা-কৃষ্ণ, বনমালী-কালিয়া-বাঁশিওয়ালা, কুটিলা ননদী-শাশুড়ি, ললিতা-বিশাখারা হাজির কীর্তনভজনটপ্পা থেকে শুরু করে একালের ফোক গানেও। সাধারণ সম্বোধনে সখী, বন্ধুয়া, বন্ধে, নাইয়া, মাঝির নাম না নিয়েও গল্প বলা হয় কতো গানে। প্রেমবিরহের পাশাপাশি কখনও বা প্রাত্যহিক দুঃখকষ্টের বয়ানও উঠে আসে, সেথায় আমার ভাইজান থাকে, আমার কথা কইয়ো তাকে। গীতিকার নিজেই লিরিকের উপসংহার নিয়ে স্বনামে উপস্থিত অনেক গানে; রাগসঙ্গীতের নির্গল্প লক্ষণগীত কিংবা খেয়ালের বাইরে এর উদাহরণ মেলে মরমী অথবা লোকগানের সর্বশেষ অন্তরাতেও: হাসন রাজা, লালন সাঁই, রাধারমণ, উকিল মুনশি, দূরবীণ শাহ্ পেরিয়ে হাল আমলের শাহ আলম সরকার, কাঙ্গালিনী সুফিয়া পর্যন্ত!
ছোটবেলায় শোনা দু-একটা গান মনে করা যাক। “দাদখানি চাল মসুরের ডাল”সহ ছ’পদের সদাই আনতে গিয়ে ভুল করে মায়ের বকুনি খাওয়া শিশুটির নাম জানা হয় না; কিন্তু তার জপ ভুলিয়ে দেয়া ঘুড়ির মালিক ঘোষেদের ননী ঠিকই নিজ নামে হাজির সেই গানে। অনেক অনেক পরের মামণিয়ার কাছে যাওয়া যাক। ছোট্ট মেয়েটির জন্য জারিসারি ভাটিয়ালি গাওয়া হবে, হাততালিও পড়বে। “বিড়ালের ছানা গারে গান গা না” বললেও নাচের প্রশ্নে নিজের অপারগতা জানিয়ে দিচ্ছেন গায়ক। বিশ্বাস করা কষ্টকর; কারণ তাঁর নাম ফেরদৌস ওয়াহিদ! যাই হোক, একই সুরে, সেই একই চরিত্র মামণিয়ার জন্য আরেকটা গান, এবারের গায়ক সুরকার-লাকী আখন্দ নিজেই, এই মামণিয়া নিশ্চয়ই কৈশোরোত্তীর্ণও। কারণ,
ও মায়াবিনী চোখে, চেয়ে থেকে থেকে, বেলা তো আর কাটে না
মনে মনে ভালবাসি, মুখে তো বোঝাতে পারি না।
নামহারাদের নিয়ে কিছু গানের খোঁজে আবার একটু পিছিয়ে যাই। সুকান্তের রানার সলিলের সুরবন্দী হয়েছে হেমন্তের অমর কণ্ঠে। তার নামটা কবিতার মতো গানেও খোঁজে না কেউ। একইভাবে গাঁয়ের বধূর পরিচয় কেবলই “কোন এক”। যেতে যেতে কিছু কথা বলব তোমার কানে কানে-- এই বন্ধুটিকে “ও আমার ভালোবাসা” বলা হলেও তার নামটি অজানাই রয়ে যায়; যদিও দুটো অন্তরায় নদী, পাখি -- সবারই একটা না একটা নাম জুটে যায়, রঞ্জনা অথবা অঞ্জনা।
এনেছি আমার শত জনমের প্রেম আঁখিজলে গাঁথা মালা / ওগো সুদূরিকা আজও কি হবে না শেষ তোমাকে চাওয়ার পালা-- অনুপ ঘোষাল সুদূরিকার নামটি আর জানান না। শ্যামল মিত্র “নাম রেখেছি বনলতা যখন দেখেছি হয়তোবা সেই ক্ষণে তোমায় ভালোবেসেছি”-তে প্রেয়সীর একটা নাম দিয়ে দিলেও আরেক গল্পে শোনান, এক যে আছে কন্যা তার শ্যামলা শ্যামলা বরণ দেখতে সে নয় মন্দ আহা পুতুল পুতুল গড়ন। সে মেয়ে শান্ত নয়, ফোঁস করে ওঠে-- এমন সব জীবন্ত বর্ণনার পরও কন্যার নাম অজানাই রয়ে যায়। একইভাবে ফাঁকি দেয় কিশোর কুমারের “তারে আমি চোখে দেখিনি তার অনেক গল্প শুনেছি / গল্প শুনে তারে আমি অল্প অল্প ভালোবেসেছি”, অথবা সুবীর নন্দীর “একটা ছিল সোনার কন্যা মেঘবরণ কেশ / ভাটি অঞ্চলে ছিল সেই কন্যার দেশ”। একেবারেই নাগরিক পটভূমিতে বাংলা ব্যান্ড সোলসের গানে কলেজের করিডোরে দেখা মোনালিসা হাসির মালিক অথবা ফরেস্ট হিলে এক দুপুরে সব চোখ ফাঁকি দিয়ে বুকে ভালোবাসা নিয়ে আসার কথা ছিল যার, তাদের নামও রয়ে গেছে আড়ালে। একইভাবে সুন্দরীতমা বিশেষণের আশ্রয়ে কাউকে লুকিয়ে তারুণ্যের দুঃসাহসে শামসুর রাহমানে সুর বসিয়ে জেমস চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন, তুমি নীলিমার দিকে তাকিয়ে বলতে পারো, এই আকাশ আমার! যদিও পরক্ষণেই আবার সুতীব্র আবেগে বলে ফেলেন, আমি তারায় তারায় রটিয়ে দেবো তুমি আমার!
পুরুষকণ্ঠের গান হয়ে যাচ্ছে সব! গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের ওগো মোর গীতিময়-এর নামটি গীতিময় নিশ্চয়ই নয়; “আমি প্রিয়া তুমি প্রিয়”র পাত্রপাত্রীর নাম যেমন নয় প্রিয়-প্রিয়া। এর চাইতে অনেক বেশী প্রকাশিত, অনেক সরাসরি, খোলামেলা কথায় শুনি আরতি মুখোপাধ্যায়ের
তখন তোমার একুশ বছর বোধহয়, আমি তখন অষ্টাদশীর ছোঁয়ায়
লজ্জা জড়ানো ছন্দে কেঁপেছি, ধরা পড়েছিলো ভয়।
কিংবা শ্রাবন্তী মজুমদারের
আমার তখন সাত তার বয়স হবে এগারো
সে যখন বললো প্রথম লুকোচুরি খেলতে পারো।
অথবা লতা মঙ্গেশকরের
ভালো করে তুমি চেয়ে দেখো, দেখোতো চিনতে পারো কিনা
আমার দু'চোখে চোখ রেখে দেখো, বাজে কি বাজে না মনোবীণা;
কিংবা চিত্রা সিংয়ের আমাকে দেখছো কেমন।
শেষ দু'টো গানে শহীদ মিনারের মাথায় নাগরিক চাঁদ দেখতে দেখতে জীবনানন্দ শোনা, এমনকি হীরের আংটি বিনিময়ের প্রসঙ্গও চলে এসেছে, তবু প্রিয়তমের নামখানি আসেনি! হা বাঙালী নারী!
।।২।।
নামহীন-নামহীনাদের বিদায় দেয়া যাক। এবার নামীদামীদের পালা! নিখিলেশ, মইদুল, ডিসুজা, রমা রায়, অমল, সুজাতা-- এতো নামের ভীড়কে আর কে ঠাঁই দেবে, কফি হাউজ ছাড়া! প্রথম পর্ব সবার জানা। সেই আড্ডাটা তখনই অতীতস্মৃতি; তারপরও কয়েকবছর আগে আবার দ্বিতীয় সংস্করণও বেরিয়েছে কালজয়ী গানটির: স্বপ্নের মতো ছিলো দিনগুলি কফি হাউজের, আজ আর নেই। বার্ধক্যক্লান্ত কণ্ঠে মান্না দে জানিয়ে চলেন, অমলের কবিতা এখন সবাই পড়ে, সে-ই শুধু জানেনি; সুজাতা-কন্যার বিয়ে তেরোতলা বাড়ীতে হলেও পার্ক স্ট্রিটের রাতের জীবন জুটেছে ডিসুজার মেয়ের; ঢাকাবাসী মইদুলের সংসার দুর্বোধ্য কারণে টেকেনি। গল্প- বলা গান মান্না দে আরও গেয়েছেন, আদ্যন্ত গল্পে ঠাসা গানটিতে নাম বলেননি ছোটবোনের: সে আমার ছোট বোন, বড় আদরের ছোটবোন।
রাহুল দেব বর্মণের রুবি রায়কে ভোলা যায় কি? কক্ষণো না।
মনে পড়ে রুবি রায় কবিতায় তোমাকে একদিন কত করে ডেকেছি
আজ হায় রুবি রায় ডেকে বলো আমাকে তোমাকে কোথায় যেন দেখেছি
রোদ জ্বলা দুপুরে সুর তুলে নুপূরে বাস থেকে তুমি যবে নামতে
একটি কিশোর ছেলে একা কেন দাঁড়িয়ে সে কথা কি কোনদিন ভাবতে!
কিশোর কুমারের ওগো নিরুপমা করিয়ো ক্ষমা-র মেয়েটির নাম কি নিরুপমাই ছিল? “তোমাকে আমার ঘরণী করিতে, আমার মনের দোসর করিতে, পারিলাম না”র মতো কঠিনতম কথাটিও যাকে সহজ সুরে অনায়াসে বলে দেয়া যায়! সত্তরের দশকের শেষে তারুণ্যের উচ্ছ্বাস আর রকবাজের বখাটেপনা নিয়ে আসা বাপী লাহিড়ী। “মুখ তার ঘুম ঘুম গোলাপী গাল/ চোখে ঝিকিমিকি হাসির জাল / মন তার চোরাবালি ডুবে যাবো, বাঁচবো না”-র মেয়েটির নামধাম জানান না দিলেও আরেক গানে বৌদির কাছে প্রিয়ার সবকিছু কবুল করে ফেলছেন তিনি।
বৌদি গো বৌদি গো,
দাদা তোমার কথায় ওঠে বসে যেন না যায় দাদার কানে।
পাড়ার রীনার সাথে প্রেম করেছি
বাঁচাও বৌদি বলে পায়ে ধরেছি!
কলকাতার ব্যান্ড “মহীনের ঘোড়াগুলি”। গল্প-বলিয়ে হিসেবে নাম আছে ষাটের দশক থেকে সুরভূমে বিরাজমান গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গীত-সৈনিকদের। তাদের গানে পাওয়া যায় ময়মনসিংহ গীতিকার চরিত্র থেকে শুরু করে “আমার প্রিয়া ক্যাফে”, অথবা সীমান্তের ওপারে পাচার হয়ে যাওয়া বিস্মৃতনামা হতভাগীর খোঁজ।
রাবেয়া কি রুখসানা, ঠিক তো মনে পড়ে না
অস্থির এ ভাবনা শুধু করে আনাগোনা
ফেলে আসা দিন তার মিছে মনে হয়
নামে কিবা আসে যায়
সোহাগে আদরে জানি রেখেছিল কেউ এর নাম
আব্বা না আপা নাকি কারও মনে পড়ে তা কি
তোমরা তা জানো নাকি
সময় দিয়েছে ফাঁকি...
গণসঙ্গীতের প্রাজ্ঞজনের ঋদ্ধ কণ্ঠে নাম-না-জানা পাহাড়ী মেয়ে, শ্রমিক মজুর, দোলা-র বেহারার গল্পে ধনুকের টানটান ছিলার মতো সুর। কোনো নাম নেই এইসব চরিত্রের; নামে কিছু হেরফের হবার কথাও নয়। “আমি এক যাযাবর” বলেছে মার্ক টোয়েনের সমাধিতে বসে গোর্কির কথা বলা আর তাসখন্দের মিনারে বসে গালিবের শের শোনার গল্প। কিংবা “সবার হৃদয়ে রবীন্দ্রনাথ চেতনাতে নজরুল”।
গল্প, গল্পকার আর চরিত্র-- সবার নাম ধারণ করে আছে এমন গান একটিই:
শরৎবাবু খোলা চিঠি দিলাম তোমার কাছে
তোমার গফুর মহেশ এখন কোথায় কেমন আছে
হারিয়ে গেছে কোথায় কখন তোমার আমিনা
তুমি জানো না...
শরৎবাবু এচিঠি পাবে কিনা জানি না।
।।৩।।
ভূপেন হাজারিকার পর নব্বই দশকের জীবনমুখী ধারার গান না এসে পারে না। প্রথমেই সুমন চট্টোপাধ্যায় বা কবীর সুমন; যদিও নিজের গানকে “আধুনিক বাংলা গান” হিসেবেই প্রকাশ করেছেন তিনি। তোমাকে চাই-এর “তুমি” আসলে প্রেমিকা না সমাজতন্ত্র না নিছক সিগারেট- সে নিয়ে বিতর্ক চলেছে অনেক। “সাবধান হও পারমিতা”র পারমিতা আবার আলাদা কোন ব্যক্তিই নন। “আমি চাই বিজেপি নেতার সালমা খাতুন পুত্রবধূ”র মতো কিছু নামের পাশাপাশি বাস্তবগল্পের চরিত্রও স্বনামে এসেছেন নিয়মিতভাবে। “এখানে সুমন ওখানে সাবিনা/ গান ছাড়া আর কিছুই ভাবি না”-- সাবিনা ইয়াসমীনের সঙ্গে বিবাহপূর্ব প্রেমপর্বের সময়কার গান। সেটা খানিক হাল্কাচালেরই। আবার “আমাকে ভাবায় সুকুমার রায়” শ্রোতাকেও ভাবায় বৈকি। যেমনি ভাবায় “ভরসা থাকুক” গানে অর্চনাদের পাশে আয়েশাদের থাকার আশাবাদ। খবরের কাগজের সূত্রোল্লেখসহ গীত কিছু গানের চরিত্রদের আবেদন কখনোই ফুরোয় না। যেমন, ভোটের সকালে ক্রিকেট খেলতে গিয়ে বোমার আঘাতের শিকার হওয়া শিশুদের নিয়ে গান “হাউজ দ্যাট”। ভাগ্যজোরে বেঁচে যাওয়া দেড়বছরের অমিতকে গানের দোহাই দিয়ে বোমার ভোট এড়িয়ে যেতে বলছেন সুমন। তারও আগে সুতীক্ষ্ণ ক্ষোভে প্রশ্নের তীর বিঁধিয়ে দিয়েছেন, ছোট্ট রাজুর চোখদু'টো গ্যাছে, হাউজ দ্যাট! কিছুই বলার বাকী রাখেনি আরেকটি গানের প্রথম তিনটি শব্দ, “ঝুলুন দীপালী মাহাতো”। পুলিস বিভাগে চাকরির আশায় পঁচিশ কিলোমিটার হাঁটার শর্তপূরণ শেষে মৃত্যুবরণকারী যুবক সঞ্জীব পুরোহিতের সেই অনিঃশেষ যাত্রার অসামান্য স্মারক আরেকটি গান: সঞ্জীব পুরোহিত হাঁটছেন, চাকরি পাবেন সেই ভরসায়...।
সুমনের গানে সুরের দিকপাল সলিল চৌধুরী এসেছেন স্বনামে, তোমাকে চাই গানে:
সলিল চৌধুরীর ফেলে আসা সুরে
সেই কবেকার অনুরোধের আসরে।
আবার নামের আড়ালে ঈঙ্গিতেও এসেছেন সলিল তাঁর মৃত্যুর পরে:
চলে যেতে যেতে একবার থেমে যেতে
দেখে নিতে যদি একবার বড় ভাল হতো...
যখন সময়টা এমন যে বাংলার “গান নিয়ে গেল বম্বেতে বর্গীতে”।
“তোমাকে চাই”তে আরও একজন গায়ক এসেছেন; ভুলে যাওয়া হিমাংশু দত্তের গানের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন সুমন। উস্তাদজিকে নিয়ে তো পুরো একটা গানই আছে:
সূর্যোদয়ের রাগে গান ধরে ভীমসেন যোশী
কোমল রেখাবটাকে ভাবলেন দারুণ রূপসী।
আছে বিসমিল্লাহ খাঁকে নিয়ে পাগলা সানাই। “সহশিল্পীরা এসো” গানে নিজের পুরো বাদকদলের সবাইকে হাজির করেছেন এই গীতিকবি-গায়ক। অ্যারেঞ্জার অমিত, মাদলের বাবুয়া, অক্টোপ্যাডের সিদ্ধার্থদের চিনে নেয় শ্রোতা। আবার গানের কসম কেটে স্বরলিপি-লেখা-কাবিননামায় সই দেয়ার কথা বলছেন কোন এক দিলশাদকে: গানের কসম দিলশাদ দিলশাদ।
“আজ জানলার কাছে ডেকে গেছে এক পাখির মতো সকাল”-- অসাধারণ অথচ স্বল্পশ্রুত এই গানে ধ্রুবর গিটারের প্রসঙ্গ আছে; কনসার্টের আলাপচারিতায় এর ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি জানান, একসময়, যখন গিটার বাজাতে পারতেন না, এই বন্ধুর সহযোগিতা পেয়েছিলেন সুমন।
কবি-সাহিত্যিক-শিল্পীরাও আছেন সুমনের গানে। “গালিবের কবিতার কলি অস্ফুটে যতবার বলি”র কথা বলা যায়। আবার বিভূতিভূষণের জন্য পুরো একটা গান বরাদ্দ করেছেন কিন্তু বুঝতে দেননি সহজে:
বুনোফুলে ঘুরে ঘুরে প্রজাপতি ক্লান্ত যখন
শুঁয়োপোকা থামে যেই চেনা চেনা গাছের গুঁড়িতে
তখন বিকেল দেয় সন্ধ্যের আল ধরে হাঁটা
গোধূলি আঙুল রাখে আলগোছে পথের ধূলোতে ... ...
এভাবে পরিবেশটা পুরোপুরি তৈরি করে একেবারে শেষ লাইনে এসে "এই পথে হাঁটতেন বিভূতিভূষণ" গেয়ে দাঁড়ি টেনেছেন।
রবিবুড়োও কখনো কখনো আসেন, অনুভূতিতে অকস্মাৎ টোকা দিয়ে যান। রবীন্দ্রনাথ একলা থাকেন অশ্রু নদীর সুদূর পারে (“একলা হতে চাইছে আকাশ” গানে); অথবা রবীন্দ্রনাথ বৃথাই ভেজেন বৃথাই ভেজান (“এসো করো স্নান নবধারা জলে বলবে কে আর” গানে)।
কলকাতার সংস্কৃতিচর্চার বয়ান এসেছে “আমাদের জন্য” শিরোনামের গানে। এখানে অনেক অনেক নাম। রবীন্দ্রসাহিত্যের চরিত্র থেকে শুরু করে আধুনিক কবি আর কবিতা সবাই এসেছে স্যাটায়ারধর্মী বর্ণনায়:
সুনীল গাঙ্গুলির দিস্তে দিস্তে লেখা
কতো কবি মরে গেলো চুপি চুপি একা একা।
সত্যজিতের ছবি- শক্তির পদ্য- গনেশ পাইন হয়ে সুমন চাটুজ্যে স্বয়ং-- সবার সহাবস্থানের একটাই কারণ,
আমাকে পড়লে মনে খুঁজো এইখানে/ এখানে খুঁজছি আমি জীবনের মানে!
সমসাময়িক কণ্ঠশিল্পী অঞ্জন দত্তের নাম এসেছে “চলো অঞ্জন ছুটিতে দার্জিলিংয়ে” গানে। সুমনের গানে আরো এসেছে ছোট মেয়ে পাপড়ি দে আর সুহৃদের নাম, “তোমার কথার রং কি লাল” গানে বব ডিলান,অনুষ্টুপ, রবীন্দ্রনাথের নাম। শিশুর ওপর চাপানো উতোরের বর্ণনা এসেছে “সকাল বেলার রোদ্দুর যেই মাটিতে পা ফেলছে” গানটিতে, যখন “নিয়ম করে শিখতে হবে রবীন্দ্র নজরুল”। তবলা বাদক জাকিরের নাম এসেছে “তুই হেসে উঠলেই সূর্য লজ্জা পায়” গানে।
ঢাকা-সংযোগ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সুমনের গানে আমাদের দেশের খুব চেনাজানা কিছু চরিত্র যোগ হয়েছেন, সুফিয়া কামাল থেকে আজম খান; আখতারুজ্জামান ইলিয়াস থেকে আসাদুজ্জামান নূর, রোখসানা আফরিন, এমনকি বঙ্গবন্ধুও। বাংলাভাষা, বাহান্ন আর একুশের গানে এসেছেন সালাম-বরকত। এভাবে রাজনীতি বা বিপ্লব সংশ্লিষ্ট চরিত্ররাও সুমনের গানে এসেছেন; “আমাদের জন্য” গানে আছেন লেনিন থেকে বিনয়-বাদল-দীনেশ।
রাজনীতির চরিত্রদের নিয়ে গানের প্রসঙ্গে বলে রাখা উচিত, দেশপ্রেম আর বিপ্লবের গল্প নিয়ে নিশ্চিতভাবে সবচেয়ে মর্ম নিংড়ানো গানটি আমরা শুনি লতা মঙ্গেশকরের কণ্ঠে, ক্ষুদিরামের বয়ানে:
একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি
আমি হাসি হাসি পরবো ফাঁসি দেখবে ভারতবাসী।
রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে নিয়ে গানের প্রসঙ্গে বলা যেতে পারে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে রচিত-গীত গানের কথা, শোনো একটি মুজিবরের থেকে লক্ষ মুজিবরের কণ্ঠস্বরের ধ্বণি প্রতিধ্বণি আকাশে বাতাসে ওঠে রণি। অথবা পঁচাত্তরের গান, যদি রাত পোহালে শোনা যেতো বঙ্গবন্ধু মরে নাই। একই চরিত্রের কথা প্রচ্ছন্নভাবেও এসেছে কবিতায় সুরারোপিত গানে; এই লাশ আমরা রাখবো কোথায়, তেমন যোগ্য সমাধি কই। এর পর জিয়া, জিয়াতনয় তো বটেই, “পল্লীবন্ধু” এরশাদ এবং দুই নেত্রীকে নিয়েও গান রচিত ও গীত হয়েছে এই দেশে; যদিও সেগুলোতে আর যাই হোক, সঙ্গীতচর্চার উদ্দেশ্য ছিলো না, বলাই বাহুল্য। তবে উল্লেখযোগ্য এবং উজ্জ্বল ব্যতিক্রম হয়ে আছে কিছু গান; জেমসের “বাংলাদেশ” তার অন্যতম। এই গানের গল্পটি এর চেয়ে সুন্দর আর কী হতো পারতো, চরিত্ররা মহত্তর আর কী হতে পারতেন!
তুমি বিস্তৃত লগ্নমাধুরীর জলে ভেজা কবিতায়
আছ সোহরাওয়ার্দি শেরে বাংলা ভাসানীর শেষ ইচ্ছায়
তুমি বঙ্গবন্ধুর রক্তে আগুন জ্বলা জ্বালাময়ী সে ভাষণ
তুমি ধানের শীষে মিশে থাকা শহীদ জিয়ার স্বপন
তুমি ছেলেহারা মা জাহানারা ইমামের একাত্তরের দিনগুলি
তুমি জসীমউদ্দীনের নকশী কাঁথার মাঠ মুঠো মুঠো সোনার ধূলি
তুমি তিরিশ কিংবা তার অধিক লাখো শহীদের প্রাণ
তুমি শহীদ মিনারে প্রভাতফেরির ভাইহারা একুশের গান
তুমি কবি নজরুলের বিদ্রোহী কবিতা উন্নত মম শির
তুমি রক্তের কালিতে লেখা নাম সাত শ্রেষ্ঠ বীর
তুমি সুরের পাখি আব্বাসের দরদ ভরা সেই গান
তুমি আবদুল আলীমের সর্বনাশা পদ্মা নদীর টান
তুমি সুফিয়া কামালের কাব্যভাষায় নারীর অধিকার
তুমি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শাণিত ছুরির ধার
তুমি জয়নুল আবেদীন এস এম সুলতানের রঙতুলির আঁচড়
শহীদুল্লাহ কায়সার মুনীর চৌধুরীর প্রথম দেখা সেই ভোর...
।।৪।।
নব্বইয়ের দশকে সুমন চট্টোপাধ্যায়ের ধারায় আধুনিক বাংলা গানের জগতে নতুন একঝাঁক শিল্পীর আগমন ঘটে; যাঁরা একইসঙ্গে গীতিকবি, সুরকার, গায়ক ও বাদক। কাছাকাছি সময়ে আত্মপ্রকাশ করেন নচিকেতা চক্রবর্তী এবং অঞ্জন দত্ত; পরবর্তীতে আসা (কলকাতার) শিল্পীদের মধ্যে শিলাজিত, পিলু, মৌসুমী ভৌমিক, লোপামুদ্রা মিত্র প্রমুখের নাম উল্লেখযোগ্য। “জীবনমুখী” হিসেবে পরিচিতি পাওয়া এসব গানের কথায় সমসাময়িক বাস্তবতার গল্পরা উঠে আসতে থাকে বৈচিত্র্যময় সুরবিন্যাসে। স্যাটায়ার, ক্ষোভ, দ্রোহ, হতাশা, ব্যর্থতা, প্রেম, স্মৃতিকাতরতা-- সবকিছুর প্রকাশেই নামধারী চরিত্রদের রাজত্ব শুরু হয়।
নচিকেতার প্রথম অ্যালবাম “এই বেশ ভালো আছি”তে কলকাতার তিনশ বছর পূর্তি নিয়ে একটি গান আছে, যাতে শহরের জ্ঞানীগুণীবিদগ্ধজন হিসেবে সত্যজিৎ-মৃণাল-ঋত্বিক-সুকান্তের নাম এসেছে। এর বাইরে একমাত্র নামবাহী চরিত্র হিসেবে আছে নীলাঞ্জনা; অ্যালবামের সবেধন নীলমণি রোম্যান্টিক গানটিতে। “লাল ফিতে সাদা মোজা স্কুল ইউনিফর্ম”-এর মেয়েটির জন্য রকবাজ যুবকের আকুলতা:
হাজার কবিতা বেকার সবই তা
তার কথা কেউ জানে না
সে প্রথম প্রেম আমার নীলাঞ্জনা...
শ্রোতামহলে নচিকেতা বিপুলভাবে সমাদৃত হন; জনপ্রিয়তা পায় নীলাঞ্জনাও। Rap-এর ছটফটানি থেকে বের হয়ে অপেক্ষাকৃত পরিণত নচিকেতা দ্বিতীয় অ্যালবামে নীলাঞ্জনাকেও আরেকটু পরিণতি দিয়ে ফেলেন। এখানে সে “সুখের অসুখের মহামারী”তে আক্রান্ত; দু'চোখ মাস্কারায় এঁকে ক্লান্তি লুকোতে হয় তাকে।
হয়তো কারুর বুকে মাথা রেখে
দীর্ঘশ্বাস হাসি দিয়ে ঢেকে
নিরাপত্তার উষ্ণতা দিয়ে ঢাকবে যন্ত্রণা
নীলাঞ্জনা ...
তৃতীয় অ্যালবামে নীলাঞ্জনাপ্রেমীদের চরম আঘাত দিয়ে বসেন নচিকেতা; আক্ষরিক অর্থেই মেরে ফেলা হয় চরিত্রটিকে।
দুলছে হাওয়ায়, না না না ফুল নয়
দখিনা বাতাসে এ নাগপাশে, সময় নয়
খোলা বারান্দায়, এ নির্জনতায়
সিলিংয়ের বন্ধনে, মাটির ব্যবধানে
দুলছে স্খলিতবসনা
নীলাঞ্জনা...
লাশকাটা ঘরে তার বুক চিরে কোন কিশোরের গানের ভাষায় দেয়া “প্রথাগত মিথ্যে কপট সংসারের স্বপ্ন”ও মেলে। উল্লেখ করার মতো একটা ব্যাপার ঘটে এই গানে, নীলাঞ্জনার মৃত্যু অথবা আত্মহত্যার প্রতিক্রিয়া হিসেবে নচিকেতা স্বনামে আবির্ভূত হন লিরিকে:
কেয়ার অফ ফুটপাথ
নচিকেতা দুটি হাত
শূন্যে ছুঁড়বে ফাঁকা আস্ফালনে।
নিজের অমর সৃষ্টিকে ছাপিয়ে যাবার মতো নতুন চরিত্র সৃষ্টির আশায় স্যার আর্থার কোন্যান ডয়েল একবার শার্লক হোমসকে মেরে ফেলেছিলেন এক বইতে। পাঠকদের দাবীর মুখে আবার তাকে জীবিত হিসেবে উপস্থাপন করতে বাধ্য হন ডয়েল। তবে পিছনের তারিখ দিয়ে বিষয়টি যুক্তিযুক্ত করতে হয়েছে তাঁকে। নীলাঞ্জনার পুনরুজ্জীবনে বাজার-চাহিদার বাইরে নচিকেতার আর কী ভাবনা ক্রিয়াশীল ছিল, বোঝা কঠিন। তবে চতুর্থ পর্বে এসে আকস্মিকভাবে সাধারণ রক্তমাংসের নারী থেকে বৃহত্তর কোন কনসেপ্টে উত্তীর্ণ হওয়া নীলাঞ্জনা জনপ্রিয়তা অক্ষুণ্ণ রাখা দূরে থাক, মনঃক্ষুণ্ণই করেছে শ্রোতাদের। লিরিকের দুর্বলতার সঙ্গে যোগ হয় বিরক্তিকর কোরাস।
ফিরে এসো ফিরে / ঘুমঘোর ছিঁড়ে/তুমি শুধু তোমার নও / হাজার চোখের স্বপ্ন তুমি / হাজার প্রেমের স্বদেশভূমি /নাহ, তুমি কল্পনা। ওঠো ওঠো, জাগো জাগো নীলাঞ্জনা / লাশকাটা ঘর তোমার আশ্রয় নয় / একক মরণ তোমার পরিণতি নয় /সবহারা মানুষের স্বপ্নহারা ফানুসের তুমি তো সান্ত্বনা...
রাজশ্রী নামের একটি চরিত্রকে নিয়ে নচিকেতা গান শুরু করেন নীলাঞ্জনার মৃত্যুর পরপরই, তবে তাকে নারীচরিত্র না ভেবে অর্থ-সম্পদের রূপক হিসেবে দেখলেই স্বস্তি মেলে। শতাব্দী চরিত্রটি অবশ্য গল্পপ্রিয় শ্রোতার ধরাছোঁয়ার নাগালেই থাকে।
যদি কখনো ফিরে আসো দেখবে তেমনই আমি
আছি দাঁড়িয়ে সেই গান গেয়ে যা দিয়েছো আমায় তুমি
সেই গান গাই সস্তা সিগারেট খাই ধূলো ছুঁয়ে যায় এই শরীর
তোমার লাল মারুতি দুর্বার গতি
ফুটপাথে স্থবির আমি...
এই গানের গল্পে কথকের ভূতপূর্ব প্রেমিকা এখন রংমাখা সিনেমার নায়িকা; যার জন্য “সস্তা জামার নীচে আজও হৃদয় কাঁপে”, তীব্র আবেগে উচ্চারিত হয়, “শতাব্দী, আই লাভ ইউ, আই মিস ইউ!”
এরপর আসে অসম সামাজিক অবস্থানের প্রেমবিচ্ছেদের গল্পের নায়িকা পৌলোমী।
যেদিন তুমি ভালবেসেছিলে নিঃস্বার্থ
যেদিন তোমার বাবা আমায় বলেছিল অপদার্থ
দিনগুলো পড়ে মনে
একেলা নির্জনে
মনে হয় এইতো পাশে রয়েছো তুমি
ও পৌলোমী!
কলেজ ক্যান্টিনে প্রথম দেখা, ঝড়বাদলের দিনে প্রথম চুমু, পালিয়ে বিয়ে, বেহালায় এক কামরার সংসার, কারখানার লকআউটের পর বাবার সংসারে ফিরে গিয়ে বিচ্ছেদ চেয়ে পৌলমীর আদালত পর্যন্ত যাওয়া-- এক গানে পৌলোমীময় জীবনের পুরো বয়ান সারা!
অসম প্রেমের গল্প নিয়ে আরেকটি গান 'পেসমেকার'। কথকের একঘেঁয়ে কেরানী-জীবনের মধ্যবয়সে শিশুপুত্র, ঘরের বউ আর টিভির মাধুরীর বাইরে আরেকজন এসে যায়। “সে ছিলো তখন ঊনিশ, আমি তখন ছত্তিরিশ”-এর পাত্রপাত্রীর নাম দেননি নচিকেতা । শুধু জানিয়েছেন, অ্যাডভেঞ্চারিস্ট থেকে রিয়্যালিস্টে রূপান্তরিত গৃহকর্তার বুকে এক সময় পেসমেকার বসে; চিকিৎসক প্রেমিকার হাতেই ।
নচিকেতার গানে নারী চরিত্র এসেছে কম অথচ জনপ্রিয়তা পেয়েছে অনেক বেশি। এর বাইরে “ও ডাক্তার” গানে কমিশন-খাওয়া চিকিৎসকের স্ত্রীর গয়নায় রক্ত আর সন্তানের চোখে ঘৃণার গল্প আছে। “আদিত্য সেন” গানে শোনা গেল কলোনীর ঘরে বাস করা আদর্শ রাজনীতিবিদের পরিণতি শেষ পর্যন্ত ভিক্ষাবৃত্তিই। বয়োজ্যেষ্ঠ সঙ্গীতশিল্পীদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেছেন “পুরনো দিনের গান আজো ভরে মনপ্রাণ” গানে; সেখানে সলিল-হেমন্ত থেকে ঝিনুকের সন্ধানে থাকা নির্মলা মিশ্র অথবা প্রতিভার তুলনায় যথাযোগ্য সম্মান না পাওয়া অখিলবন্ধু ঘোষের কথাও আছে। সম্মুখ-আসরে তাঁদের গানের অংশবিশেষ সংযোজিত হয় নিখুঁত পরিবেশনায়। “উল্টো রাজার দেশে”তে চলে আসে গান গেয়ে ধনী হওয়া রামশ্যামের পাশাপাশি কুমার ফানুর নাম (তখন গায়ক কুমার শানু ভারতের বিনোদনজগতে সর্বোচ্চ আয়করদাতা হিসেবে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন)।
রাজনীতিবিদ-মন্ত্রী-আমলা নচিকেতার গানে ছন্দোবদ্ধ গালিগালাজে জর্জরিত; ফাঁকিবাজের দিনলিপি হিসেবে “সরকারী কর্মচারী” গানটি প্রবাদতুল্য। এই গানে সেই সময় টাডা আইনে কারাবরণ করা অভিনেতা সঞ্জয়ের (দত্ত) প্রসঙ্গ নির্মল হাস্যরসের যোগান দেয়:
আমি অফিসেতে বসে বসে আনন্দলোক পড়ি
টাডা থেকে ছাড়া পেল সঞ্জয়...
আর টেবিলেতে আমার ফাইল এসে জমে জমে
দূর থেকে মনে হয় হিমালয়।
বয়োবৃদ্ধ চরিত্রও ঘুরেফিরে আসে তার গানে; প্রথম অ্যালবামে “আমার বয়স হলো আশি” গানটি মনে করা যাক। কেউ বলে বুড়ো ভাম কেউ বলে পাজি/ কেউ বলে এইবার ব্যাটা মরলেই বাঁচি।
“বৃদ্ধাশ্রম” গানটি এই ধারায় সম্ভবত সবচেয়ে জনপ্রিয় সংযোজন।
ছেলে আমার মস্ত মানুষ মস্ত অফিসার
মস্ত ফ্ল্যাটে যায় না দেখা এপার ওপার
নানান রকম জিনিস আর আসবাব দামী দামী
সবচেয়ে কমদামী ছিলাম একটামাত্র আমি
ছেলের আবার আমার প্রতি অগাধ সম্ভ্রম
আমার ঠিকানা তাই বৃদ্ধাশ্রম।
তবে অভাবের দেশ ছেড়ে নতুন ঊর্বর ভূখণ্ডের সন্ধানে কম্পাস-ধ্রুবতারা সম্বল করে জাহাজ ভাসিয়ে বেরিয়ে পড়া “বুড়ো সলোমন” চরিত্র হিসেবে ততোটা দাগ কাটেন না; টার্কিশ ধাঁচের যন্ত্রানুষঙ্গের জন্যেই গানটি যতোটুকু মনে থাকে।
নচিকেতা-সৃজিত পুরুষ চরিত্রগুলোর মধ্যে অনির্বাণ টিকে গেছে। অনির্বাণকে নিয়ে করা প্রথম গানের শুরুতে নচিকেতা জনপ্রিয় এক গায়কচরিত্রের কথক হিসেবেই আবির্ভূত। দূরে কোথাও অনুষ্ঠানে যাবার পথে নির্জন পথপ্রান্তরে হঠাৎ বহুবছর পর বিবেকের ভূমিকায় দেখা দিয়ে বিপ্লবী কলেজমেট অনির্বাণ মনে করিয়ে দেয়, “আমাদের তো এখানেই থাকার কথা ছিলো, বন্ধু”! অনুশোচনাদগ্ধ গায়ক তখন সান্ত্বনা খোঁজেন--
দেখে যা, যা অনির্বাণ, কী সুখে রয়েছে প্রাণ
কী সুখে রয়েছি আমি, কী সুখে বেচেছি গান
অনির্বাণকে নিয়ে দ্বিতীয় গানের বক্তব্যে আছে ভুল-শোধরানো সমর্পণের ঈঙ্গিত:
সেই ফেলে আসা মেঠোপথের বাঁকে দু’পায়ে ধূলো
আজও দাঁড়িয়ে সে ভাবছে কী হলো
তবে কি মিছে ছিলো সে দিনগুলো
সেই শেকল ভাঙার গান!
শোন তবে আজ
খুলে ফেলেছি মণিমুক্তোর সাজ
সাতটা সাগর বুকে তুলছে আওয়াজ
নেমেছি পথে দু'চোখেতে সন্ধান
আমি আসছি অনির্বাণ!
সম্প্রতি অনির্বাণ-সিরিজে অভাবিতভাবে নতুন এক চরিত্র যোগ করেছেন নচিকেতা। গানের আগে দীর্ঘ কথকতায় পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন বান্ধবী শতরূপাকে; যার সঙ্গে অনির্বাণের বিয়ে হবে বলেই সবাই জানতো। সে বিয়ে হয়নি; বহুবছর পর অন্ধ্রপ্রদেশের গ্রাম থেকে স্কুল-শিক্ষয়িত্রী শতরূপার কাছে চিঠি আসে অনির্বাণের; যাতে সুর বসান নচিকেতা:
তোকে নিয়ে ঘর বাঁধবার স্বপ্ন আমার অন্তহীন, রাত্রিদিন
তবু বাধ সাধে আরেক আশা
ফুটপাথে যাদের বাসা
আমি তাদের জন্য একটা ঘর বানাই
তারপরে তোর সিঁথিতে তারার সিঁদুর রাঙিয়ে দিতে করবো ঋণ...
নচিকেতার বেশ কিছু গানে “তুমি” সম্বোধনে এসেছে নামহীন চরিত্র।
এই, তুমি কি আমায় ভালবাসো?
যদি না বাসো তবে পরোয়া করি না
আমি সূর্যের থেকে ভালবাসা নিয়ে রাঙাবো হৃদয় তার রং দিয়ে
পোশাকি প্রেমের প্রয়োজন বোধ করি না।
আরেকটি গানে “তুমি” চাইলেই বাঘের গলায় মালা পরানো হবে, মন্ত্রীকে গালি দেয়া হবে, ছ'ইঞ্চি স্কেলে হিমালয়টাকে মাপানো হবে, এমনকি ফিদা হুসেনকে দিয়ে “তোমার” ছবিও আঁকানো হবে-- এতো কিছুর পরও বিস্মিত জিজ্ঞাস্যে সেই চিরন্তন অমীমাংসিত প্রশ্ন রেখেছেন নচিকেতা: তুমি কে?
।।৫।।
প্রথম অ্যালবামের প্রথম গানেই অঞ্জন দত্ত জানিয়ে দেন, গল্পের ঝাঁপি নিয়ে এসেছেন তিনি। রিপন স্ট্রিটবাসী শর্টহ্যান্ড টাইপিস্ট মেরীঅ্যানের সঙ্গে বাল্যপ্রেমের স্মৃতিচারণের সূত্রে নিজের বনেদী ব্যবসায়ী পিতা আর মারীর ইঞ্জিন-ড্রাইভার বাবার দ্বন্দ্বের সুরেলা উপস্থাপন। ইংল্যান্ডে পাড়ি জমানো মামা-কাকা এমনকি সে সময়ের উন্মাদনা এলভিসও উপস্থিত এই গানে।
কালো সাহেবের মেয়ে স্কুল পালিয়ে ধরতে তোমার দুটো হাত
কত মার খেয়েছি মুখ বুজে সয়েছি অন্যায় কতো অপবাদ
বয়স তখন ছিল পনেরো তাই ছিলো স্বপ্ন দেখার ব্যারাম
মাথার ভেতর ছিলো এলভিস প্রিসলি খাতার ভেতর তোমার নাম...
পশ্চিমা আঙ্গিকের সুরে পুরনো কলকাতার নেটিভ খ্রিস্টান পাড়ার বিচিত্র পেশাজীবি বাসিন্দাদের জীবন অঞ্জন তুলে এনেছেন সহজাত দক্ষতায়। বিভিন্ন অ্যালবামে থেকে থেকে এসেছে বৃদ্ধ স্যাক্সোফোন বাদক স্যামসন, ভূতুড়ে পোড়োবাড়ীর বাসিন্দা বেহালাশিল্পী জেরেমি, দার্জিলিঙের পাহাড়ে বোর্ডিং স্কুলের মিউজিক টিচার মিস্টার হল।
অঞ্জনের কিছু গানে খানিকটা ছড়াগানের আদলে কথা-সুরের সমন্বয় ঘটে; সেগুলোতে বাস্তবের অথবা সাহিত্যের চরিত্ররা ভীড় জমিয়ে আসে। “তুমি না থাকলে” গানটিতে রবীন্দ্রনাথ, রোমিও-র পাশাপাশি গিটার ফেলে গুয়াতেমালায় নামতা শেখাতে যাবার আশঙ্কাক্রান্ত সুমন (সুমন চট্টোপাধ্যায় বা কবীর সুমন)-এর কথাও আছে। সুমনের কাছে সঙ্গীতের ঋণস্বীকারে কখনোই কুণ্ঠিত নন অঞ্জন; “পুরোনো গিটার” গানে জন লেনন আর বব ডিলানের পাশাপাশি গিটারের প্রতি কৃতজ্ঞতার উপসংহারে “এলোমেলো কতোসব অন্য লোকের গান” হয়ে সুমনের কাছে এনে দেয়ার কথা বলেছেন তিনি।
“টিভি দেখো না” গানটি নাগরিক জীবনে যান্ত্রিক হতে চলা শিশুর প্রতি আকাশ দেখার আহ্বান। সেখানে আছে সত্যজিতের ফেলুদা, কমিক চরিত্র টিনটিন, সুমন বা অঞ্জন তো বটেই। “ডাক্তার বলছে ক্যালসিয়ামটা কম” গানটিতে আবার এসেছে সেই প্রসঙ্গ, “অঞ্জন বলছে টিভি দেখো না”।
শিশু-কিশোর চরিত্রদের দৈনন্দিন তুচ্ছতার গল্প নিয়ে অঞ্জনের বেশ কিছু গান আছে। “বসে আছি ইস্টিশানেতে”, “বয়স আমার বারো তাই রোজ দুটো টাকা পাই”, “খাতার ভেতর চ্যাপ্টা গোলাপ ফুল” ইত্যাদি গানে চরিত্ররা স্বনামে আসেনি। “রাজু রাণী রাম্বো” গানের তিনজন পথশিশু আসলে “হার না মানা প্রেমিকের তিনজোড়া চোখ”। সাবিনা নামের বন্ধুটির জন্য আর্চিজ গ্যালারি ঘেঁটে ফেললেও টেলিফোন তুলে সাহস খুঁজে না পাওয়া কিশোরের ভয় গানের ভাষায় স্পষ্ট হয়: বাড়ছেনা বয়স পনেরোতে এসে গেছে আটকে।
“ইতি তোমার আদরের রমা” গানটি আসলে আসন্ন বিয়ের আয়োজন থেকে পালিয়ে যেতে চাওয়া মেয়েটির চিঠি; মাকে লেখা। “রাজা রায়” গানে এসেছে সিনেমার নায়ক হবার দুর্মর স্বপ্নসাধ নিয়ে ছবিপাড়ায় ঘুরে বেড়ানো হতদরিদ্র তরুণের বেদনা। “সাবধান মিসেস মুখার্জি”তে বেড়ে ওঠা কন্যাসন্তানের মনের খোঁজ রাখার সাবধানবাণী দিচ্ছেন অঞ্জন; মিসেস সেন, মিসেস দত্ত, মিসেস রে প্রমুখের নামে পুরো নারীজাতিই তার লক্ষ্য। “দাশবাবুর কেবিন” গানে চায়ের দোকানে সপ্তাহের বিভিন্ন দিনে আসা চরিত্রদের খোঁজ মেলে: সোমবারে আসে স্বর্ণালী আর সুমন্ত, মঙ্গলে মিতা আর মন্টু। শেষে এসে যথারীতি বিষাদের ছোঁয়া, হাঁড়িমুখ করে নীলা থাকে বসে আজকাল চাকরিটা পাইনি এখনও।
রঞ্জনা চরিত্রটি সামাজিক বাস্তবতার সুরাশ্রয়ী দলিল। “রঞ্জনা আমি আর আসবো না” গানে দাদাদের গ্যাং-এর ভয় সত্ত্বেও এখনো স্কুল-না-পেরুনো, চশমা-খসলে-মুশকিলে-পড়া কিশোর গায়ক জানতে বা বুঝতে চায় না রঞ্জনা "হিন্দু কি জাপানি", কারণ
ধর্ম আমার আমি নিজে বেছে নিইনি পদবীতে ছিলো না যে হাত
মসজিদে যেতে হয় তাই জোর করে যাই বছরে দু'একবার।
“মালা” গানটিও ব্যাপক সাড়া পেয়েছিলো। পশ্চিমের একটি বিখ্যাত গানের থিম আর সুরের স্বীকৃতিহীন অ্যাডাপ্টেশনের জন্য তিরস্কার শুধু নয়, মৌলালি এলাকার মালা চরিত্রটির আড়ালে কে, সেটা নিয়েও গবেষণা করে ফেলেছে শ্রোতারা। একদা বস্তিবাসী মালার বর্তমান জীবনে সানন্দার পাতা থেকে ছিঁড়ে আনা সংসারে অপরাধজগতের তারকা যেমন আছে তেমনি আছেন ক্রিকেটতারকা ইমরান খান। কারণটাও স্পষ্ট করেছেন অঞ্জন; জংলা পাড়ের ঢাকেশ্বরী শাড়িতে, পিসিচন্দ্রের ঝুমকোয় মালা কথা-বলায় মধুবালা, হাঁটাচলায় সোফিয়া লরেন, অভিমানে অপর্ণা সেন!
জানি টাকাকড়ি আর মারুতি গাড়ির প্রয়োজন আছে তবু হাল ছেড়ে দিয়ো না, ববি রায়ের সাথে চলে যেয়ো না এ অসময়ে। প্রিয়তমা সহকর্মীর উদ্দেশ্যে ক্ষুদ্র কর্মজীবি কর্তৃক নিবেদিত এই গানটিতে ক্রমশঃ নাগালের বাইরে চলে যাওয়া প্রিয়ার নামটি গোপনই রাখেন অঞ্জন। বিপরীতে ভাগ্যাণ্বেষণে কলকাতায় আসা কালিম্পঙের পাহাড়ী যুবক অনায়াসে জানিয়ে দেয় ফেলে আসা প্রেমিকার নাম:
তুমি যাকে বলো সোনা
আমি তাকে বলি কাঞ্চণ।
এতোজনকে ছাপিয়ে অঞ্জন দত্তের প্রায় সমার্থক নাম হয়ে উঠেছে সেই পুরনো চরিত্র: বেলা বোস। স্টার্টিংয়েই এগারোশ’ আর তিনমাস পরে কনফার্মেশনের চাকরি পেয়ে পাবলিক টেলিফোন বুথ থেকে বান্ধবীকে ফোন করেছে স্বপ্নবাজ যুবক। লিরিকের উদ্ধৃতির বাইরে আর কিছু বলার রাখেননি অঞ্জন--
এটা কি টু ফোরফোর ওয়ান ওয়ান থ্রি নাইন
বেলা বোস তুমি পারছো কি শুনতে
দশ-বারোবার রং নাম্বার পেরিয়ে তোমায় পেয়েছি
দেবো না কিছুতেই আর হারাতে...
যদিও বেলা চুপ করেই থাকে, নিজের সঙ্গে শ্রোতাকেও আশা আর অনিশ্চয়তার দোদুল্যমানতায় দুলিয়ে তাকে শুধু কাঁদতে শোনে যুবক। লিরিকের দূরভাষ-নম্বরটি বিশেষ ইঙ্গিতবাহী; কারণ সেসময় ওটার মালিকানা ছিলো আকাশবাণী বেতার কেন্দ্রের। এই তথ্যটি শ্রোতার জন্য আবার বিভ্রান্তির যোগান দেয়; বেলা বোস কি তবে হারিয়ে ফেলা কেউ, যাকে ওই নম্বরে ফোন করে খুঁজতে চাইছেন অঞ্জন?
।।৬।।
কথা ও সুরে কিছুটা নচিকেতা-ঘেঁষা শিলাজিত কিন্তু অঞ্জন বা নচিকেতার মতো জনপ্রিয় নন; যদিও পাহাড়ের পটভূমিতে সাঁওতালী সুর ব্যবহার করে বেশ কিছু স্বতন্ত্র ধারার গানও গেয়েছেন তিনি। কিছু গানে আবার চেনাজানা নাগরিক জীবনের গল্প বলেছেন; নামধারী চরিত্ররাও আছে তাতে। পলিটিক্যাল সায়েন্সে অনার্স নিয়ে বিল ক্লিনটন, অথবা ফিলোসফি পড়ে হোমার, কিংবা ইংরেজি পড়ে শেক্সপীয়রের চেয়ে বড় ইংরেজ হবার সম্ভাবনা না থাকায় কলেজে উপস্থিতির কারণ হিসেবে সুদেষ্ণাকেই দেখাচ্ছেন শিলাজিত।
আমি সুদেষ্ণাতেই অনার্স
ওটাই আমার মেইন কোর্স
ওটাই আমার বেঁচে থাকার আল্টিমেট সোর্স।
শেলি-কিটস-চসার-মার্কস-লেনিন-- সবাই এসেছেন এই গানে সুদেষ্ণার কাছে পরাজিত হতে। তার পরপরই পাঠ্যবিষয় হিসেবে সুদেষ্ণার যৌক্তিকতা বোঝাতে গল্পের বাকী চরিত্ররাও হাজির।
ইকনমিক্সে অনার্স নিয়ে বুবুন বেচুবাবু
ফিলসফির মহুয়াদি টাইপ করেই কাবু
এরম আছে আমার কাছে হাজার উদাহরণ
তার চেয়ে দাদা অনেক সরল আমার সমীকরণ।
“বেতাল” গানটিতে এইসব বন্ধুদের পাশাপাশি সুমন-নচির কথাও আছে, “চলো মামা পালিয়ে”তে নাগরিক জীবনের অপ্রাপ্তি-হতাশা এসেছে। শিশুচরিত্রের কণ্ঠ জুড়ে তার মুখ থেকেও পাহাড়ের সাঁওতাল-পল্লীতে পলায়নেচ্ছু মনের ভাবনাকে ফুটিয়ে তুলেছেন শিলাজিত। লিরিকের ঘন সন্নিবিষ্ট বুননে ছেলেধরা, নেতা থেকে সাঁওতাল বউ আর বুড়ো আংলাও আসেন এই গানে। “চূর্ণি তুমি সবার তবু আমার তুমি নও” গানের শিরোনাম চরিত্রের নামেই।
ঝিমটি তুই বৃষ্টি হতে পারতিস
এই মেঘলা দুপুরে কতো কাছাকাছি থাকতাম
ঝিমটি তুই বৃষ্টি হতে পারতিস
ঝরে পড়তিস টিপ টুপটাপ গায়ে মাখতাম
বৃষ্টিপ্রিয় কমবয়সী শ্রোতার অন্যতম পছন্দের গান এটি। পাহাড়ী সুরের ছোঁয়াও আছে; শিলাজিতের অনেক গানেই যার উপস্থিতি মেলে। এক্স ইক্যুয়ালসটু প্রেম ধরে নিয়ে জীবনের জটিলকুটিল ফ্যাক্টরকে সমীকরণে ফেলার অনুপ্রেরণাদায়িনী ঝিমটি চরিত্রটি শ্রোতৃপ্রিয়তা পায়; আবারও ফিরে আসে শিলাজিতের গানে।
কলকাতার ব্যান্ড “চন্দ্রবিন্দু”র গানে নিজস্বতা প্রবল। সিরিয়াস মেয়েটিকে অথবা ক্লাস টু-র বিচ্ছুর বাবামাকে “গান ভালবেসে গান” বললেও তাদের নাম বলা হয় না; তবে এই গানে স্বনামে চলে আসেন “ভূগোলের ফাঁকে উঁকি মারা” শাহরুখ খান! গার্গী-শ্রেয়সীর চেনামুখের কথা এলেও অপ্রকাশিত রয়ে যায় “বন্ধু তোমায় এ গান শোনাবো বিকেল বেলা”র বন্ধুর নাম। “কন্ডাকটর”, “রিকশাওয়ালা”, “আনন্দ সেন বই পড়তেন, আনন্দ সেন প্রোটিন খেতেন”, “ব্রহ্মা জানেন গোপন কম্মোটি”, এমন সব গানে প্রথম কলিতেই চরিত্র উপস্থিত স্বনামে। “কন্ডাক্টর” গানে আছে শান, মমতাশংকর, স্পিলবার্গ থেকে জুরাসিক পার্কের ডাইনোসর পর্যন্ত।
রূপঙ্করের ভীষণ রোম্যান্টিক গান “চলে এসো আজ এ রাতে”র প্রিয়তমা গায়কের গিটারেও বাজে। তবে সম্বোধনের ধরণ থেকে স্পষ্ট হয় না তার নাম প্রিয়তমাই কিনা। আরেকটি গানে অবশ্য চরিত্র স্বনামেই উপস্থিত: রূপাঞ্জনা তোমার মুখে কান্নার গান শুনবো না।
পাগলী তোর জন্য দিগন্তে পাখির উড়ান
পাগলী তোরজন্য জয় গোস্বামী শব্দ কুড়ান
পাগলী তোর জন্য সুর খোঁজেন আলাউদ্দিন খান
পাগলী তোর জন্য গান গাইছেন পল রফসন
সাদ্দাম, রবীন্দ্রনাথ, তালিবান, ফিদা হুসেন, গডার-- এরাও এসেছেন প্রতীক চৌধুরীর “পাগলী তোর জন্য” গানে।
লোপামুদ্রা মিত্রর গানে নামবিহীন বা নামবাহী চরিত্ররা কমবেশী রূপক হিসেবেই এসেছে। যেমন “হাল্লার রাজা” গানে এসেছে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ। তবে সুরারোপিত কবিতায় যে চরিত্রটিকে লোপামুদ্রা অক্ষয় করে রেখেছেন সে হলো বেণীমাধব। জয় গোস্বামীর মালতীবালা বালিকা বিদ্যালয় কবিতা অনুসরণ করে অনন্য কণ্ঠে লোপামুদ্রা গেয়ে চলেন:
বেণীমাধব বেণীমাধব তোমার বাড়ী যাবো
বেণীমাধব তুমি কি আর আমার কথা ভাবো?
মালতীস্কুলের ডেস্কে বসে অংক করা কিশোরী মেয়েটি সময়ের তোড়ে ভেসে এখন পাড়ার সেলাই-দিদিমণি। তবু ফেলে আসা দিনের ভাবনায় দুর্মর স্বপ্নসাধে এখনো উঁকি দেয় সুলেখাদের বাড়ীতে আলাপ হওয়া শহর থেকে বেড়াতে আসা বেণীমাধব। যার সঙ্গে প্রেমিকাকে দেখে মনে হয় “আলোর নীচে অপূর্ব সেই আলো”; অশ্রুধারা গোপন করা ক্ষুদ্র দোকানকর্মী পিতার কন্যার কণ্ঠে উচ্চারিত হয়, “ওদের ভালো হোক...”।
নারীকণ্ঠে গীত গানে নামবাহী চরিত্রের ঘাটতি থাকার বিষয়টি আগেই বলেছি। সত্তর দশকে আশা ভোঁসলের চটুল গান “ইনা-মিনা-ডিকা” অবশ্যই ব্যতিক্রম। যদিও এ গানের চরিত্ররা পুরুষ নন, নারীই। অরুন্ধতী হোম চৌধুরীর “চন্দ্রদূতী রাত্রি এসে বলে কোথায় চন্দ্রাবতী”তেও ঐতিহাসিক একটি নারী-চরিত্রের দেখা মেলে। ফরিদা পারভীনের বহুশ্রুত গানটিতেও আছে মল্লিকা নামের নারীচরিত্র:
তোমরা ভুলেই গেছো মল্লিকাদির নাম
সে এখন ঘোমটা পরা কাজল বধূ দূরের কোন গাঁয়
যেদিন গেছে সেদিন কি আর ফিরিয়ে আনা যায়!
বেণীমাধব ছাড়া নারীকণ্ঠের গানে পুরুষচরিত্র কি তবে নিজনামে কখনো আসেনি? এসেছে। এই বাংলাদেশেরই একটি গানের কথা বলা যায়। সত্তরের শেষ অথবা আশির গোড়ার দিকের গান, মিতালী মুখার্জির কণ্ঠে:
ভুলে গেছে শান্ত
ভুলিনি আমি তো
ফিরে এসে
দ্যাখেনি সে
এই আমি সেই আমি রয়ে গেছি তারই তো।
নীল খামে চিঠি লিখে নীলা নামে ডাকার গল্পও আছে এই গানে!
এরকম বিরল ব্যতিক্রমের বাইরে নারীকণ্ঠে পুরুষচরিত্র গীত হয়েছে শ্যাম-কালা-কৃষ্ণ-বন্ধু-বন্ধে-মাঝি-নাইয়ার মতো সাধারণীকৃত সম্বোধনে।
।।৭।।
উপমহাদেশের চলচ্চিত্রে গানের ভূমিকা নতুন করে বলার কিছু নেই। তাই বাংলা চলচ্চিত্রের গানে চরিত্রের নাম আসাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়; বিশেষতঃ যেখানে প্রধান চরিত্র বা চরিত্রদ্বয়ের নামেই ছবির নাম রাখা হয়। পঞ্চাশ বা ষাটের দশকে নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের গল্প নিয়ে তৈরী সিনেমায় মান্না দের গাওয়া গান গল্পটিকে চিনিয়ে দেয়:
পটলডাঙার আমরা কজন বিখ্যাত চার মূর্তিমান
ক্যাবলা হাবুল টেনিদা আর
লিকলিকে এই প্যালারাম।
সত্তর দশকের কলকাতার একটি গান; যেখানে তৎকালীন নাগরিক আধুনিকতায় টেলিফোনের আলাপে পাত্রপাত্রীর কথা এসেছে এভাবে: একপক্ষের হয়ে ভূপিন্দর সিং বলছেন “নাম বলো না”, ওপার থেকে শ্রাবন্তী মজুমদারের জবাব মিলছে “যার নাম তার মুখে ভাল লাগে না”! কাছাকাছি সময়ের গান “দ্যাখোনা চেয়ে ও মিষ্টি মেয়ে”তে মেয়েটির নাম অনুমানের চেষ্টা করছে ছেলেটি: মিতালী, গীতালি? সঞ্চারীতেই উত্তর আসে: না না, আমি মা কালী!
“মাদার” চলচ্চিত্রের গানটি মনে পড়ে,
আমার নাম অ্যান্টনি কাজের কিছু শিখিনি
লার্নিং কিংবা সিংগিং অর ডান্সিং
আমি আজকের দুনিয়াতে গুড ফর নাথিং।
সমান্তরালে শোনা যাক বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের গান। সত্তর দশকের চটুল গানে খুরশীদ আলম অপরিহার্য।
চুমকি চলেছে একা পথে
সঙ্গী হতে দোষ কি তাতে
হার মেনেছে দিনের আলো
রাগলে তোমায় লাগে আরও ভালো অথবা,
সুমন-রাজন মোহন বন্ধু আমরা তিনজন
ভালবাসার জিঞ্জির-বাঁধা আমাদের জীবন; কিংবা
আমার নাম সুমন
এমন একটা মন
আজো মেলেনি
ভালবাসেনি
তাই আমি একলা এখন
ইত্যাদির রিমেকেও চুমকি, সুমনরা সমান জনপ্রিয়। সুজন-সখী, নয়ন-মণি নামগুলো ছবি ও গান-- উভয়ের চরিত্র হিসেবেই বেঁচে আছে।
আশির দশকের ঢাকাই চলচ্চিত্র “পুনর্মিলন”-এ নতুন উন্মাদনা নিয়ে সঙ্গীতজগতে আগত কুমার বিশ্বজিত অতিথি চরিত্রে নায়ক-নায়িকার মুড তৈরীর প্লটে গান শোনান,
চন্দনাগো রাগ কোরো না
অভিমান করে বলো আর কী হবে?
সময় চলে যায় মন শুধু বলে যায়
তৃষ্ণার জল নিয়ে এসো না তবে।
“তিন কন্যা” নামের ছবিতে অভিনয় করা তিন বোন সুচন্দা-ববিতা-চম্পার নাম এসেছে তার গানে। গায়ক কুমার শানু তখনও বাংলাদেশে নবাগত গায়ক।
স্টিভি ওয়ান্ডারের বিশ্ববিখ্যাত গান “আই লাভ ইউ মোর দ্যান আই ক্যান সে” এর হুবহু সুরের গানটিতে এসেছে রুবি নামের এক চরিত্র:
ও হো ও রুবি
ভালোবাসি খুবই...!
“বেদের মেয়ে জোসনা আমায় কথা দিয়েছে”, “আমি আশিক তুমি প্রিয়া”, “প্রেম-প্রীতি দুজনে”, “হৃদয়ের কথা” ইত্যাদি গানে পাত্রপাত্রীর নাম এসেছে; এসেছে সিনেমার নামও। একইভাবে নব্বইয়ের দশকে আইয়ুব বাচ্চু-কনকচাঁপা জুটির জনপ্রিয় গান “সাগরিকা বেঁচে আছে তোমার ভালবাসায়” এবং তারও কিছু পরে মমতাজের গাওয়া “খায়রুন লো তোর লম্বা মাথার কেশ” গানদুটোতেই স্পষ্ট সংশ্লিষ্ট ছবির নাম।
ফোক আঙ্গিকের গানের বহুশ্রুত চরিত্র জরিনা। গানটি রথীন্দ্রনাথ রায়ের কণ্ঠে:
আমি কি তোর আপন ছিলাম না রে জরিনা
ছোট্টবেলায় গাছতলাতে পুতুল খেলার ছলনাতে
আম কুড়াইতে যাইতাম দুইজনা।
জরিনা চরিত্রের কাছ থেকে আসে এর জবাব; যেখানে জানা যায়, আপনজনটির নাম চানমিয়া।
চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানে শেফালী ঘোষ আর তাঁর সঙ্গীতজুটি শ্যামসুন্দর বৈষ্ণবের গানগুলো মূলত চরিত্রনির্ভর। পাঞ্জাবীওয়ালা, সাম্পানওয়ালা, পানওয়ালা, রিকশাওয়ালা, এমনকি হাতে নুন নিয়ে বরই খাওয়া নাতিন পর্যন্ত। উত্তরবঙ্গের গানে গাড়িয়ালভাই, ভাটি অঞ্চলে মাঝি বা নাইয়া-- আঞ্চলিক গানের পরিচিত চরিত্র।
।।৮।।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আজম খানের হাত ধরে সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশের সঙ্গীতজগতে পপের প্রবেশ ঘটে। গানের কথায় ঢুকে পড়ে নামধারী চরিত্ররা। “চুপ চুপ চুপ অনামিকা চুপ কথা বোলো না/ তুমি আমি এখানে কেউ জানে না” অথবা “ওরে সালেকা ও রে মালেকা ওরে ফুলবানু পারলি না বাঁচাতে” কিংবা “আলাল ও দুলাল” গানের চরিত্রগুলো আজম খানের মতোই জনপ্রিয়তা পেয়ে যায়।
স্বল্পায়ু সঙ্গীতজীবনে গিটারিস্ট-কণ্ঠশিল্পী শেখ ইশতিয়াক এক গানেই নীলনয়না মেয়েটিকে সুপরিচিতি দিয়ে ফেলেছেন, “নীলাঞ্জনা ঐ নীল নীল চোখে চেয়ে দেখো না”। গুণী সুরকার লাকী আখন্দের গানে নামবাহী নারীচরিত্র এসেছে কয়েকটি। “নীলা, কেন চোখ দুটো আঁখিজলে উঠেছে ভরে”, “সুমনা মনের মেয়েটির নামটিও সুমনা”, “মামণিয়া--- ও মায়াবিনী চোখে চেয়ে থেকে থেকে বেলা যে আর কাটে না” এমন কিছু উদাহরণ।
“ময়না, এখনও কি আমার জন্য রাত্রি জাগে না”-- আইয়ুব বাচ্চুর সঙ্গীতজীবনের প্রথম দিককার গান; তখন তিনি সোলসের বাদক। পরবর্তীতে এলআরবি ব্যান্ডের কর্ণধার হিসেবে প্রচুর জনপ্রিয় গানের মালিকানা রয়েছে তার। মাধবী, ঊর্মিলা চৌধুরীর মতো নামধারী চরিত্ররা এসেছে তার গানের গল্পে।
দেয়াল ঘড়িতে এগারটা বেজে কুড়ি
জানালার পাশে রাত জাগে একা উর্মিলা চৌধুরী।
আইয়ুব বাচ্চুর সুরে কুমার বিশ্বজিতের গাওয়া একটি গানে আছে সনামী চরিত্র, আছে গল্পও:
শ্রীলা, তোমারই লেখা একান্নটি চিঠি ফিরিয়ে দিলাম
তোমারই হাতে
তারায় ভরা রূপাঞ্জলি রাতে।
বিশ্বজিতেরই একটি গানে ঘরের দেয়ালে ছবি হয়ে সুচিত্রা সেনের থাকার কথা আছে। আরেকটি গানে প্রিয়াকে প্রশ্ন ছুঁড়ে মিলিয়ে নিচ্ছেন চেনাজানা সব নাম; তবু শেষ পর্যন্ত প্রশ্নের উত্তর মেলেনি:
কী নাম বলো না তোমার
মৌসুমী নাকি মিলি
নাকি তুমি পারমিতা
শবনম শিউলি?
আরেকটি গানে ঐতিহাসিক চরিত্রের নাম এসেছে একেবারেই অন্য কারণে: তোমার সাথে দেখা না হলে মীরজাফরের বংশটাকে এত কাছে থেকে দেখা হতো না।
আশির দশকে ফিডব্যাক ব্যান্ডের মূল গায়ক মাকসুদের কণ্ঠে “মৌসুমী কারে ভালোবাসো তুমি” গানটি ব্যাপকভাবে শ্রোতাপ্রিয় হয়। পরবর্তীতে এর সিক্যুয়েল তৈরি করে ফিডব্যাক; আমাদের দেশে কোন গানের পরবর্তী পর্ব তৈরীর চর্চাটি সম্ভবত মৌসুমীকে দিয়েই শুরু হয়। প্রথম পর্বে মৌসুমীর প্রতি গায়কের প্রেমকে দ্বিপাক্ষিক বলে মনে হয় না; দ্বিতীয় পর্বে এসে মৌসুমী হয়ে যায় আরও দূরের কেউ।
কার বুকের আলিঙ্গনে লুকিয়ে তুমি ভাবছো কি আমার কথা
তার চোখে চোখ রেখে তোমার মনে পড়ছে কি আমার কথা
না কোন বিরহের গান গেয়ে তুমি দিচ্ছো সান্ত্বনা মনে
লক্ষ স্মৃতিকে আঁকড়ে ধরে তুমি করছো অনুতাপ
ও মৌসুমী, বলো কার তুমি? নাকি ভুল হয়ে গেলো আমার!
“আজ তোমার চিঠি যদি না পেলাম” গানটিতে হাস্যরস জুড়ে দিতে পরের লাইনেই এসেছে, “নাকি ভেবে নেবো ডাকপিয়নের অসুখ হয়েছে”।
সিক্যুয়েল প্রসঙ্গে আরেকটি গানের উল্লেখ করা যেতে পারে। “ও সখিনা গেছস কিনা ভুইলা আমারে”-- গণসঙ্গীতশিল্পী ফকির আলমগীর এই গানটির একাধিক পর্ব গেয়েছেন। প্রথম পর্বে “আমি এখন রিকশা চালাই ঢাকা শহরে”। দ্বিতীয় পর্বে “রিকশা এখন চালাই নারে ঢাকা শহরে”। দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব (ভাসানী, ম্যান্ডেলা প্রমুখ), মানবসেবী ব্যক্তিত্ব (মাদার তেরেসা) এসেছেন তার গানে। মে দিবসের প্রেক্ষাপটে “নাম তার ছিলো জন হেনরি” আরেকটি উল্লেখযোগ্য গান।
অকালপ্রয়াত সঞ্জীব চৌধুরী সাম্প্রতিক সময়ের বাংলা গানে অন্যতম সেরা গীতিকবির স্বীকৃতি পেতে পারেন অনায়াসে। তার ব্যান্ড দলছুটের গানে দিনাজপুরের সেই নির্যাতিত কিশোরীর জন্য আর্তনাদ ফুটে ওঠে: আহ্ ইয়াসমীন, আহ্! মাহমুদুজ্জামান বাবুর “রাজা যায় রাজা আসে” গানটির প্রেক্ষাপটও কাছাকাছি। পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুবরণের পর সৎকারের জটিলতা তৈরির জন্য মেয়েটির ধর্মপরিচয় নিয়ে উদ্দেশ্যমূলক টানাহেঁচড়া চলে। বাবু যথার্থই গেয়েছেন:
তবু একদিন খবর আসে, নিরাপদ হেফাজতে
একজন সীমা চৌধুরী, নিরাপদে মারা যায়।
সঞ্জীবের “স্বপ্নবাজী” গানটিতে আছে কর্নেল তাহেরের কথা, তাজুল ইসলাম এবং আরো ৩০০ টি লাশের কথা।
“আকাশনীলা তুমি বলো কীভাবে আমার শূন্য মনে আলো ছড়াবে”-- খালিদের গাওয়া গানে আকাশনীলা চরিত্রটি সেভাবে জনপ্রিয় হয়নি, যতোটা হয়েছে তার নামহীনা “সরলতার প্রতিমা”। দুটোর একটাতেও অবশ্য সে অর্থে গল্প নেই। বাংলাদেশে “জীবনমুখী” ধারার গায়ক প্রীতমের গানেও নামধারী চরিত্র আছে; এমনকি একটি গানে নিজ কণ্ঠে নচিকেতার গায়কীর ছাপ প্রসঙ্গে তিনি গেয়ে ওঠেন, আমি গাইলে নচির মতো লাগে...।
সাম্প্রতিক সময়ে স্বরচিত কথা-সুরে গান করছেন সায়ান; তার গানে রবি-নজরুল, খালেদা-হাসিনারা চরিত্র হিসেবে এসেছেন।
তদানীন্তন ব্যান্ড আর্ক (এখন স্বাধীনতা) এর বিখ্যাত গান, হাসানের গাওয়া “এতো কষ্ট কেন ভালবাসায়”তে উজ্জ্বল নিয়ন আলো আর সানাইয়ের সুরে একটু একটু করে প্রিয়ার দূরে সরে যাবার গল্প আছে তবে চরিত্রের নাম নেই। আরেকটি গানে অবশ্য উপস্থিত সুইটি নামের কেউ। বাপ্পা মজুমদারের গানে অহনা (অহনা জানে গহনার দাম বাজারে), অধরা (অধরা আসে নীরব দুটি পায়ে) নামবাহী চরিত্র। জেমসের গানে পোশাকশিল্পের শ্রমিকের সাধারণ নাম সেলাই-দিদিমণি খুব সম্ভবত জয় গোস্বামীর সেই কবিতা থেকেই নেয়া। সনামী চরিত্র আছে “ও বিজলী চলে যেও না”, “নাগর আলী”, “মীরাবাঈ”, “মান্নান মিয়ার তিতাস মলম”, “হুমায়রার নিঃশ্বাস চুরি হয়ে গেছে” ইত্যাদি গানেও। হায়দার হোসেনের "ফাইস্যা গেছি মাইনকা চিপায়" গানটি পুরনো ঢাকার আদি বাসিন্দার বয়ানে হাস্যরসাত্মক পারিবারিক বয়ান। দশ কেলাসের উপরে পড়া পুত্র, মাধুরী-ঐশ্বরিয়া-কাজলকে অফ যেতে বলা কন্যা আর মুখরা স্ত্রীর নাম অবশ্য অপ্রকাশিতই রয়ে গেছে।
নতুন প্রজন্মের শিল্পী মাহাদীর গাওয়া গান “তুমি বরুণা হলে আমি হবো সুনীল”-এ এসেছে বিখ্যাত কবির বিখ্যাত চরিত্রের নাম। রাশেদের গান “ঐ আকাশের তারায় তারায়” আছে হারিয়ে যাওয়া মাকে খোঁজার চিরকরুণ গল্প। এই প্রসঙ্গে অনেকটা পিছিয়ে গিয়ে বলতেই হয় হেমন্ত মুখার্জি আর শ্রাবন্তী মজুমদারের দ্বৈতকণ্ঠের বিখ্যাত গান “আয় খুকু আয়”এর কথা। যার উত্তর দিতেই যেন মা-মেয়েকে নিয়েও গান চলে আসে,
তুমি আমার মা আমি তোমার মেয়ে
বলোনা মা কী পেয়েছো আমায় কোলে পেয়ে।
মেয়ের ভূমিকায় এখানেও শ্রাবন্তী; সঙ্গে সন্ধ্যা মুখার্জি।
তবে সন্তানের ভূমিকায় লিরিকের আকুতি সবকিছুকে ছাপিয়ে যায় মা আর বাবাকে নিয়ে গায়ক জেমসের দু'টো গানে। “বাবা কতোদিন কতোরাত দেখি না তোমায়”-এর আর্তনাদ শ্রোতাকে কাঁপিয়ে দেয়। মাকে নিয়ে গানটি স্পর্শ করে গভীরতম অনুভবকে:
রাতের তারা আমায় কি তুই বলতে পারিস? কোথায় আছে কেমন আছে মা
ভোরের তারা রাতের তারা মাকে জানিয়ে দিস, অনেক কেঁদেছি আর কাঁদতে পারি না...
।।৯।।
গান-গল্প এবং তার চরিত্রদের জনপ্রিয়তার একটি অন্যতম কারণ হলো, চিরচেনা বাস্তব জীবনের নানান ঘটনা, আবেগময় স্মৃতি অথবা অঘটিত কল্পনার উপাদান-অনুষঙ্গকে শ্রোতা এখানে খুঁজে পায়; সুরের মায়াবিস্তারী আশ্রয়ে নিজস্ব অনুভব-অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলিয়ে নিতে পারে।
সাহিত্যের জনপ্রিয় চরিত্ররা যেভাবে পাঠকমনে দাগ কাটে, শ্রোতার মনে গানগল্পের চরিত্ররা সেভাবেই আসন করে নেয়। যুগের পর যুগ ধরে এসব গান টিকে থাকে। নিত্য-নতুন হাজারো গানের ভিড়ে এই ধারার লিরিক কখনও পুরনো হয় না। তাই বাংলাসহ বিভিন্ন ভাষার গানে সনামী অথবা নামহীন চরিত্র নিয়ে গান-গল্পের ভাণ্ডার উত্তরোত্তর সমৃদ্ধ হয়ে চলেছে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন চরিত্র যোগ হচ্ছে, পাশাপাশি পুরনোরাও আবার ফিরে ফিরে আসছে।
===========================================================
এই শিরোনামে বছর দুয়েক আগে সামুতে চার পর্বের পোস্ট ছিলো। হাসান মাহবুব, কাঁকন, একলব্যের পুনর্জন্মসহ তখনকার সক্রিয় ব্লগারদের বিপুল অবদান স্বীকার না করলে অকৃতজ্ঞ হয়ে যাবো। এখানে নতুন কিছু যোগ হয়েছে। বিশালাকৃতি পোস্টের অনুমোদন দেয়ার জন্য চতুর্মাত্রিক কর্তৃপক্ষকে অশেষ ধন্যবাদ।
লেখাটি (হয়তো সম্পাদিত রূপে) কালি ও কলমের মে ২০১১ সংখ্যায় ছাপা হয়েছে বলে সম্পাদক জানালেন। দেখা হলো না 
মন্তব্য
অসাধারণ...আরো একবার ধীরে সুস্থে সময় নিয়ে পড়ার আগ্রহ নিয়ে প্রিয় লেখার সিন্দুকে তুলে রাখলাম... আশা রাখলাম কোন একটা অলস দুপুর কে এই পোষ্টটা আরো একবার আনন্দময়-স্মুতিময়-নষ্টালজিক করে তুলবে....
লেখকের মন্তব্য
অশেষ ধন্যবাদ মামুন
ফাকিবাজি বাদ দিয়ে নতুন লেখা দেন।

লেখকের মন্তব্য
শান্তি নাই
এত বড় লেখা কবে পড়ব, কেমন করে পড়ব!
লেখকের মন্তব্য
প্রিয় লালুদা,
পোস্ট পড়া-না-পড়া ব্যাপার না, কষ্ট করে এসে একটা কমেন্ট করে গেছেন, তাতেই বান্দা বহুত খুশি!
চতুরে একটা একাউন্ট খুলে আপনার পুরনো কবিতাগুলোই একটু পোস্ট করতেন যদি! আপনি জানেন না, কতো পোস্টের মন্তব্যে আপনার কবিতা থেকে কোট করি!
পুরাটা পড়ি নাই, তা ও পড়ছি অনেকটাই।
না, জানাই ত ভালো ছিল। এখন জানার পর ত হাত পা কাপতেছে! আর কি লিখতে পারব অমন? ভয় লাগব ত যদি আরার কোট হইয়া যাই!
গণিত ধাঁধা!?!
৯ এর সাথে ২ যোগ করলে কত হয়? এইটা আবার আমারে জিগায় ক্যান, কি আশ্চর্য্য!
ক্যান পারেন না। ১১ হয়।
(অতিথি না হয়ে রেজিঃ করে ফেলেন। তাইলে আর অংক করতে বলবেনা)
ইয়া রাহমানুর রাহীম! এই পোস্ট লেখার ধৈর্য্য কেমনে কোন মানুষের থাকে? তবে আজকে টের পাইলাম আমার নিজেরও ব্যাপক ধৈর্য্য ... কারণ আমি মাত্রই পুরাটা পড়ে শেষ করলাম। ব্যাপক পোস্ট! সুমন-অঞ্জনের অংশটার সাথে কতো যে নস্টালজিক স্মৃতির'ও রিভাইজ হয়ে গেলো।
লেখকের মন্তব্য
এইরকম পাঠক পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার!
পয়লা কথা, লেখাটা পুরান, এইভাবে আমাদের পুরানো পাঠকদের ফাঁকি দেয়ার জন্য তীব্র প্রতিবাদ জানাইলাম।
দ্বিতীয় কথা, লেখা পয়লাবার যেমন লাগসিলো এইবারো সেরম লাগলো, একই সাথে ভালো লাগায়িত এবং বিস্মিত, মানুষ এত কিছু মনে রাখে ক্যামনে?
তৃতীয় কথা, এসএসসি এইচএসসি আর বিসিএস এ বাংলা রচনা লেখার সময় আপনে কয়টা এক্সট্রা পেইজ নিতেন?
লেখকের মন্তব্য
পয়লা কথা, শান্তি দিলেন না
দ্বিতীয় কথা, আপনার মতো পাঠক পাওয়া পরম ভাগ্যের ব্যাপার।
তৃতীয় কথা, মনে নাই। এইচএসসিতে বাংলার দুই পেপারেই নাকি বোর্ডে সর্বোচ্চ নম্বর আমার ছিলো, এইটা জানতে পারি যখন শিবির-পরিচালিত কোচিং সেন্টার থেকে বাংলা পড়ানোর জন্য একটা অনুরোধপত্র পাই!!
নমঃ নমঃ নমো - নুশেরাবু মম

চির বানামপ্রিয়, রেকর্ডধারী চির চতুর
ব্লগে নিরবধি কতো সেলেব্রেটি ,
পায় নাই কেহ বাংলায় লেটার
আরণ্যক ভাইসাবের কমেন্ট পড়ে হা হা চে থে প গে!
নুশেরাপুকে বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার নবাব ঘোষণা করা হোক!
(আমি বাংলা ২য় পত্রে খুবই খারাপ করেছিলাম! দুঃখে পরান যায়!)
লেখকের মন্তব্য
আম্রার যুগে ১০০ নম্বরেরই বড় প্রশ্ন থাকতো, নো এমসিকিউ বিজনেস, তাই লেটার জুটে নাই


দুই পেপারে ৬৮ আর ৭২ ছিলো। সেকেন্ড পেপারে ট্র্যাজেডি হিসেবে সিরাজদ্দৌলার সার্থকতা লিখতে বলছিলো, কী ভূতে পাইছিলো, আমি লিখছিলাম এইটা ব্যর্থ কেন। বিশপাতার মতো ঐটাই লিখছি। মার্কস না দিয়া যাইবো কই
Ami banglay duita milay century korsilam. 109
লেখকের মন্তব্য
আমার সবচেয়ে খারাপ অবস্থা গেছে কেমিস্ট্রিতে। এই সাবজেক্ট কেমনে লুকে পড়ে এইটা চিরকালই একটা মিস্ট্রি
হে হে আমিও বুঝি না কেমনে লোকজন পড়ে ঐসব।

লেখকের মন্তব্য
হ বুঝছি, ওস্তাদ কেমিস্ট আসছে
ছুটির দিনে পড়া লাগবে এই পোস্ট। আপনে এত শক্তি কই পান? এর গোপন রহস্য কি??
========================================
গানগুলোর লিঙ্কগুলো দিলে হতো না।তাহলে একটা পুরাপুরি মার মার কাট কাট হয়ে যেতো।
লেখকের মন্তব্য
এনার্জির রহস্য ছুটির দিনে জানবা, ফুটনোটে আছে। বেশিরভাগ লিঙ্ক ছিলো সামুর পোস্টে। কোনোটা লাগলে বলবা।
বাংলাতে এসএসিতে ১০০ মার্কের টিকচিহ্ণ থাকার পরেও ১২৬ পাইসিলাম, এইচএসসিতে ১১৯, পুরা কলেজেই আমার চেয়ে কম পাইসিলো ২-৩ জন, হেহেহে। রচনা কোনদিনই ৬-৭ পৃষ্ঠার বেশি লেখতে পারি নাই, এইজন্য শিবির-লীগ-বিম্পি কেউই কোনদিন বাংলা পড়াইতে ডাকলো না।
লেখকের মন্তব্য
আপনের পোস্ট পড়লে কেউ বিশ্বাস করবো না এইসব
বাংলার বেলায় একটু ইয়ে আছে। হাতের লেখা তেলাপোকার হাঁটাচলা হইলে যতো ভালই গিয়ান থাকুক না কেন, কপালে আন্ডা ছাড়া কিছু জুটবে না।
ফাদা'র বাংলাঁতলামো তে কলেজের টিচারদেরও টিকে থাকা দায় হয়ে পড়েছিল , আমরা কোন মনে সইতাম । মেজাজ খারাপ করে তাই কম দিসে । ২/৩ জন না , মিনিমাম ৫০০/৬০০ জন এর চাইতে কম পাইসে ।
ফা,দা এখন এসে জানান দিবে যে আমি বাংলায় ফাটাইসিলাম । তাই পরের কমেন্টটাও এখনি করে যাই , আমার টোটাল ১৩২ , লেটার থেকে ২৮ কম
এই লেখা অবশ্যই পুরাটা আবার পড়বো , মন্তব্য দেবো ।
লেখকের মন্তব্য
আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম! কালি ও কলম আজকেই কিনুম। গত দুই বছরে নতুন কী কী গান বাইর হৈসে চরিত্র সম্বলিত, খোঁজ-দ্যা সার্চ লাগাইতেসি। পোস্ট আরো বড় করা দরকার!
লেখকের মন্তব্য
মাফ চাই, এইটা লিখতে লিখতে ত্যক্ত হয়া গেসি। পরের পার্ট তুমি লিখবা। আগুনের গোলামোলা যা আছে সব সুদ্ধা
এই ফাঁকিবাজি মানি না মানপো না (আমিও জনগণের লগে দাবি তুললাম)!
তবে এইটা একটা এপিক পোস্ট আছিলো। আক্ষরিক অর্থেই মহাকাব্যিক। ব্যাপ্তি আর গভীরতায় কতো মানুষের শৈশব কৈশোর ছুঁয়ে গেছে মনে হয় আপনিও জানেন না।
পুরো পোস্টটা একসাথে এভাবে রাখলেন বলে থেংকু আপা।
লেখকের মন্তব্য
পুলাপান... শান্তি দিলো না রে
পুরো পোস্ট একসঙ্গে রাখার কৃতিত্ব মডুমামার, ২০০০০ ক্যারেকটারের বেশি লেখা যায় না এক পোস্টে; মডুমামা অনুমোদন না করলে সম্ভব ছিলো না!
একটা তথ্যগত ভুল আছে আপা।
মেরি এ্যান গানটা অঞ্জনের প্রথম এ্যালবামের না। এটা দ্বিতীয় এ্যালবামের (পুরোনো গিটার)। প্রথম এ্যালবামের প্রথম গানটি ছিলো রঞ্জনা (শুনতে কি চাও নাম ছিলো এ্যালবামটার)। রঞ্জনাও অবশ্য বিখ্যাত একটা চরিত্র। তবে আমার মেরি এ্যানকেই বেশি ভালো/মায়া লাগে! অঞ্জনের গানে যে কত চরিত্র! রুবিনা রুপারেল শুনেছেন? ইঁচড়ে পাকা এক স্কুলবালক তার চেয়ে এক ক্লাস উপরের মেয়েকে ভালোবাসে, আর পরীক্ষায় ফেল করে
লেখকের মন্তব্য
গুড পয়েন্ট। আসলে ওই লাইনটার পর একটা প্যারাব্রেক হওয়ার দরকার ছিলো। রঞ্জনা ঐখানে দিয়েও সরাইছি, কারণ আমার মনে হইছে অঞ্জন সবচেয়ে বেশি কাভার করছেন পুরনো কলকাতার নেটিভ ক্রিশ্চান কমিউনিটিকে।
গল্প বা চরিত্র নাই, এমন গান খুব কম অঞ্জনের। খেয়াল করে দেখো, আরো অনেকের কথাই পোস্টে নাই!
১। সুমন, রাজন, মোহন - এটা মনে হয় অরিজিন্যাল ভার্শনে ছিলোনা। সিনেমায় চরিত্র ৩টা কে কে ছিলো? আলমগীর/সোহেলরানা/ওয়াসিম?
২। আই লাভ ইউ মোর দ্যান আই ক্যান সে- এটা লিও স্যায়ারের গান।
৩। ফারহানের ৩ নম্বর প্রশ্নটা রীতিমত জনগুরুত্বপূর্ণ।
৪। বাংলা ব্লগে এরচেয়ে বড় কোন পোস্ট আছে কি?
৫। পুরাটা কি টাইপিং না কিছু কপিপেস্টও (নিজেরই পুরনো পোস্ট থেকে) আছে? ১মটা হলে প্যারাসিটামলের ইমো মিস করছি।
৬। যারা সামুর ব্লগার তারা এনজয় করবে এই পোস্ট। আমি আমার প্রিয় গান সিরিজের আইডিয়া এই পোস্ট থেকে পেয়েছি।
৭। ৭ দিলাম রেটিংএ।
লেখকের মন্তব্য
১. ছিলো নানাজি। আপনে বিস্মরণ হৈসেন।



২. ওরে তাই নাকি, দেখসেন কারবার, হেরাও হরদম রিমেক করে!!
৩. ফারহানের কমেন্টের লেজ বাড়তেছে
৪. খিক খিক
৫. কালি ও কলমে দেয়ার জন্য বিজয়ে টাইপ করসি পুরাটা
৬.
৭. শুকরিয়া জনাব
more than i can say- original artist bobby vee. stevie wonderer kono reference dekhina.
http://en.wikipedia.org/wiki/More_Than_I_Can_Say
লেখকের মন্তব্য
কন কী, এতোজনে এইটা গাইসে! আমি তো ছুডুকাল থিকা ওয়ান্ডার সাবেরটাই শুইনা (দেইখাও) আসছি
ধাপে ধাপে কমেন্ট করি - বাংলাব্লগের ইতিহাসে এটাই মনে জায়ান্ট সাইজের পোস্ট -



প্রথম কথা হৈলো - এতো পদের এতো গায়কের নাম মনে করসেন কিভাবে - থিসিস করসেন নিশ্চই -
না হয় কোন বই থেকে চোথা মেরে (রান্নার বই এর মতো -)
================================================
মস্করা বাদ -
দাদখানি চাল প্রিয় গান ছিলো ছোটবেলায় - --
আমি অন্তর্জালে গান খোজার মাষ্টার - এই গানটা পিছনে একটা দিন নষ্ট করসি মনে হয় টোটাল - পাই নাই কোথাও - হারাধনের দশটি ছেলেও খুজে পাওয়া যায় না -
অন্তরা চৌধুরীর গাওয়া ছিলো গান গুলো
=================================================
অন্জনের রন্জনাও কপি পেষ্ট -- পুরাই কপি পেষ্ট
লেখকের মন্তব্য
হ, পুরাই তো চোথা
সাধু সাধু
লেখকের মন্তব্য
ধন্য ধন্য
এই পোষ্টকে বাংলা গানের সংক্ষিপ্ত এনসাইক্লোপিডিয়া বলা যায় কি?
পুরোটা নিয়ে আলোচনার সাহস নেই। কেবল সুমনের অংশ পড়ে সুমনের কথা মনে পড়লো। তাই বলি।
সুমন চট্টোপাধ্যায় নিয়ে আমার দুঃখ হয়। এই একটা প্রতিভা রাজনীতি আর পরশ্রীকাতরতার ক্যাচালে একপাশে পড়ে গেল। তাকে ঠিকমতো মূল্যায়নই করলো না পশ্চিমবঙ্গ। বরং অবিচার করেছে চরমভাবে।
সুমনের গান শুনতাম খুব একটা সময়। নব্বই দশকের পুরোটা জুড়ে। তারপর থেকে অনেকদিন শোনা হয় না। সেদিন দেশ টিভিতে হঠাৎ চোখে পড়লো সুমনকে। একটা লাইভ অনুষ্ঠানে। আগে কখনো কোন লাইভ অনুষ্ঠানে দেখিনি ওনাকে। কি চেহারা কি হয়ে গেছে দেখে খারাপ লাগলো। কিন্তু, কন্ঠ শুনে রীতিমত তব্দা খেয়ে গেলাম। গানের ফাঁকে ফাঁকে যখন কথা বলছিল, আমি অবাক হয়ে শুনছিলাম, আমি জীবনে গান নিয়ে যত অনুষ্ঠান দেখেছি এত প্রাণবন্ত আর একটাও পাইনি। সুমন যে কথায় এত পারদর্শী, তার খালি গলার কথাগুলোও যে এত সুরেলা, আমার মতো টিভি বিদ্বেষী মানুষকেও দেড় ঘন্টা আটকে রাখলো টিভির সামনে। তার গলায় যে কোন গানই মানিয়ে যায় অদ্ভুত সুন্দর করে, কি রবীন্দ্র সংগীত, কি নজরুল, কী আইরিশ ফোক, আমি এত মুগ্ধ আর কখনো হইনি কোন গানের অনুষ্ঠান দেখে। সেদিন থেকে আবারো সুমনের ভক্ত খাতায় নাম লেখালাম।
"ও গানঅলা আরেকটা গান গাও"
লেখকের মন্তব্য
এই পোষ্টকে বাংলা গানের সংক্ষিপ্ত এনসাইক্লোপিডিয়া বলা যায় কি?
আদপেই না! শুধু যেসব বাংলা গানে "গল্প" আছে, সে গল্পের চরিত্র আছে, সেগুলোকে সাধ্যমতো মনে করার চেষ্টা।
সুমনের কথায় অক্ষরে অক্ষরে একমত। নচিকেতার কনসার্ট দেখেছি, শতভাগ পেশাদার হলেও শতভাগ এন্টারটেইনার।
গান এবং গল্প সম্পর্কে কি বিপুল পরিমাণ কন্সেপ্ট থাকলে এমন একটা পোস্ট লেখা যায় তাই ভাবছি।
লেখকের মন্তব্য
যা ভাবছো তা তা না/ ভেবে কূল পাবে না... ওয় হোয়...
এত লিখছো কেমনে

আমি আধাটা পড়লাম
এখন কতগুলো গান নতুন করে শুনতে ইচ্ছা হলো
লেখকের মন্তব্য
৫০% পাসমার্ক, খারাপ না
আমি পুরাই মুগ্ধ।
লেখকের মন্তব্য
প্রায় চল্লিশ মিনিট ধরে খুটিনাটি সব মন দিয়ে পড়লাম সাথে মন্তব্যেও বিস্তারিত।
আপাতত এই গানটা শুনছি -
তখন তোমার একুশ বছর বোধহয়, আমি তখন অষ্টাদশীর ছোঁয়ায়
লজ্জা জড়ানো ছন্দে কেঁপেছি, ধরা পড়েছিলো ভয়।
কিংবা শ্রাবন্তী মজুমদারের
আমার তখন সাত তার বয়স হবে এগারো
সে যখন বললো প্রথম লুকোচুরি খেলতে পারো।
------------
গানের জন্য আবেগ ভালবাসা কিছুর কমতি নেই আমার কাছেও কিন্তু এত সুন্দর গুছিয়ে লিখতে হলে আরো তিনজন্ম লাগবে।
লেখকের মন্তব্য
আরতির গানটা প্রায় তিন দশক পরও কী আধুনিক, না?
লিখতে বসলেই পারবে, তোমার লেখা যেন আমরা পড়িনি আরকি!
আপনি পারেনও দিদিমণি---দিলেন তো দিনে দুপুরে একেবারে নস্টালজিক করে!
লেখকের মন্তব্য
নস্টালজিয়াজাত একটি সুলিখিত পোস্ট পেতে পারি নিশ্চয়ই
প্রায় সারাদিন লাগিয়ে এত্ত বড় একটা জটিল্স্ অ্যান্ড মধুরস্ লেখা পড়ে আমার মাথা ঘুরাচ্ছে..................................

এই কমেন্টে মাইনাসের কারণ কি?
লেখকের মন্তব্য
আমিও বুঝলাম না! হয়তো তায়েফের মাথা ঘুরানিরেই মাইনাস দেয়া হৈসে
আমারও মনে হচ্ছে, মাথা ঘুরানিতেই মাইনাস দেওয়া হয়েছে।
অবিশেষণসম্ভব, গানগুলো, আপনার লেখা আর স্মৃতিশক্তি ....
লেখকের মন্তব্য
গানগুলোই
এত্তো বড় একখান লেখা আপনে একলগে দিছেন, আর আমিও বইসা বইসা ল্যাপটপের ব্যাটারীর চার্জ ফুরায়া এডা পইড়া শেষ কর্লাম...আপ্নে পারেনও আর আমি পারিও...
অক্ষন আর কিছু বলনের নাই....মাথার ভিতরে অন্জন, সুমন, বাচ্চু, জেমস থিকা শুরু কইরা মান্না দে আর ভুপেন নানা একলগে গান গাওয়া শুরু কর্ছে.....

লেখকের মন্তব্য
"মাথার ভিতরে অন্জন, সুমন, বাচ্চু, জেমস থিকা শুরু কইরা মান্না দে আর ভুপেন নানা একলগে গান গাওয়া শুরু কর্ছে....."
জটিলস্য কোরাস!!!
আজ সকালের ঘটনা। ফেবুতে লিঙ্ক দেখে মোবাইল দিয়ে ঢুকলাম। তখন আমাদের ইএন্টি লেকচার চলছে। খুব বোরিং লেকচার। পুরো ক্লাস টাইমে ধীরে ধীরে পড়ে শেষ করলাম। ক্লাসের শেষ পর্যায়ে স্যার আমাকে দাঁড় করালেন। জিজ্ঞেস করলেন,এই ডিজিজের ট্রিটমেণ্ট কী দিবা? লেখাটা পড়ে গানগুলোর কথা ভাবছিলাম। মুখ দিয়ে নিজের অজান্তেই বের হয়ে এলো, স্যার গান শুনতে বলব!
আসলেই এনসাইকোপ্লিডিয়া। আমাদের জন্য আরো কয়েকটা পর্ব যোগ করেন
লেখকের মন্তব্য
তারপর, স্যারের প্রতিক্রিয়া কী ছিলো???
পরবর্তী পর্ব হামা লিখবে।
দারুণ পোস্ট! আচ্ছা, সিনেমা নিয়ে এমন একটা পোস্ট দিতে পারনা?
লেখকের মন্তব্য
শাবানা-অনজুঘোষ-রোজিনার সিনেমা হৈলে অবশ্যই আমি আছি। বাদবাকীগুলির জন্য তুই থাকতে আর কে পোস্ট দিবে?!!
এই পোস্টে মোট কমেন্ট কত হবে সেটা নিয়ে একটা জরিপ চালাবো নাকি ভাবছি।
লেখকের মন্তব্য
ক্যান, কাজকাম নাই? তাইলে এইসব আকাম বাদ্দিয়া একটা পোস্ট দেন
কালি ও কলমের মে ২০১১ সংখ্যায় ছাপা হয়েছে বলে সম্পাদক জানালেন।
পরীক্ষা হলের এমন নাজুক সময়ে ২০ পাতা মানে ৪০পৃষ্ঠা বাড়তি লিখতে পারেন আর এখন মাত্র ৩পাতার একটা গল্প লেখতে আইলসামী করেন!
পরের পোস্টে আনকোরা গল্প চাই! জোর দাবি জানাই!
লেখকের মন্তব্য
হ জুলিদা, মেইল দিয়া ঠিকানা চাইছে, সৌজন্য কপি দিবো। মরার বৈদ্যাশ!!!
গল্প লিখতাম পারি না, তয় গল্প করতে দিলে আছি
সাত সকালে ফেসবুক খুলেই পেলাম লিঙ্ক, এলাম এখানে। ঘন্টা খানেক সময় কেটে গেল, আয়ু কমে গেল এক ঘন্টা পড়ে শেষ করতে। এই এক ঘন্টায় কত বছর যে পেরিয়ে এলাম তা নির্ণয়ের সাধ্য আমার নাই, সাধও নাই অবশ্য! এত ধৈর্য একটা মানুষ কীভাবে অর্জন করতে পারে তা ভেবে আমি অধৈর্য পয়ে পড়ছি। আর এমনই গুছিয়ে লেখা যে, তা পড়তে আমার মত ধৈর্যহীন ব্যক্তিরও কোন ধৈর্যচ্যুতি ঘটলো না!
এত কথা যার মনে থাকে তেমন মানুষকে নিয়ে ঠাট্টা করতাম আমরা, "যার এত বুদ্ধি সে ঘুমায় কেমনে?" এখন তো মনে হচ্ছে, ঘুমকে ত্যাজ্য করতে না-পারলে স্মরণশক্তির অধিকারী হওয়া যায় না। খাওয়া-দাওয়া বাদ না দিলে এত সময়ই বা পাওয়া যায় কেমনে?
আমি আগে পড়িনি, তাই আমাকে চরমভাবে আবেশিত করেছ এই পোষ্ট; আমার ধারনা যতবার পড়বো ততবারই এমন করে মুগ্ধ হব। পোস্টে উল্লেখিত অনেকগুলো গান আমার কখনও শোনা হয়নি (বিশেষ করে নতুনদের), তবুও সে সব গান যেন কত পরিচিত!
লেখককে কেমন করে কী কথা বললে যথার্থ সম্মান দেখনো হয়, তা বুঝতে পারছি না। তাই আবারও বলছি যে, আমার খুবই ভাল লেগেছে। এমন লেখা আরও চাই।
লেখকের মন্তব্য
ওরে হুদাভাই, খানাপিনাঘুম হারাম করে না, সামুতে উল্লিখিত সহব্লগারদের কাছ থেকে যথেষ্ট পরিমাণে উস্কানি ও সহায়তা পেয়ে এটা লেখা হয়েছিলো! আপনার মতো পাঠক পাওয়া ভাগ্যের কথা
সুমনের একটি গানে একটি লাইন বোধ হয় ছিল: 'অখিলবন্ধু ঘোষের গলা'। এই ক্ল্র্যাসিক শিল্পীর নামটি কি বাদ পড়ে গেল নাকি আমার চোখ এড়িয়ে গেছে? আর ঐযে-" বেহুলা কখনো বিধবা হয় না/ এটাই বাংলার রীতি...। ব্লগে উল্লেখ থাকলে, সরি!! ভালো লেখা! বলা যায় নুশেরীয় ক্লাস!!
লেখকের মন্তব্য
সুমনের গানে অখিলবন্ধু ঘোষের উল্লেখ মনে পড়ছে না। নচিকেতার গানে আছে, সেটাতে ত্রিশজনের মতো শিল্পীর নাম নিয়ে গান করেন তিনি কনসার্টে! সংক্ষেপে সেরে দিয়েছিলাম, আমার ব্লগে আপনার প্রথম মন্তব্যের সম্মানে অখিলবন্ধুঘোষের নামটি উল্লেখ করে দিলাম
বেহুলার কথাটি ঠিক ধরেছেন; সুমনের গানেরও বেশ কিছু চরিত্র বাদ পড়ে গেছে অথবা ছেঁটে ফেলতে হয়েছে; আসলে তাঁর গানে এতো এতো চরিত্র... সেক্ষেত্রে লিরিকে বিমূর্ততা না/কম থাকা এবং গল্প থাকার বিষয়টা একটু শকুনদৃষ্টিতে দেখেছি
========================================================
অশেষ ধন্যবাদ নিমো পাঠক, আপনার চমৎকার মন্তব্যের জন্য (শুধু নুশেরীয় ক্লাসটা কী জিনিস বুঝিনি)। চতুরে স্বাগতম; আপনার লেখা পড়ার আশায় রইলাম।
okhilbondhu ghosher reference ami sumoner ganei peyechhi. gan konta ta mone nai.
সুমনের গানে 'অখিল বন্ধু ঘোষের গলা' লাইনটা আছে কিন্তু আমিও এখন মনে করতে পারছি না ঠিক কোন গানে!
গতকাল কালি ও কলম এর পাতা উল্টাতে গিয়ে আবার লেখাটা চোখে পড়লো! গল্প তো আপনি লিখতেই পারেন কিন্তু আপনার হাত দিয়ে অসম্ভব ভালো সমালোচনামূলক লেখা হতে পারে। বাংলা সাহিত্যে খুবই দুর্বল এই জায়গায় কিন্তু নতুনদের অনেক কিছু করার সুযোগ আছে। ভেবে দেখতে পারেন, সিরিয়াসলি! বাংলা সাহিত্যের তাতে উপকারই হবে।
নুশেরার যে-কোনো ব্লগ যে মান বজায় রাখে সেটাই নুশেরীয় ক্লাস। আমার প্রথম লেখাটা ব্লগে লিখে ফেলেছি। টেকনিক্যালি দুর্বল বলে লিঙ্ক দিতে পারলাম না। আগ্রহ তৈরি হলেএকটু কষ্ট করে খুঁজে পড়তে হবে, যদি সময় থাকে।
আবারও জিজ্ঞেস করি, আপনার মাথায় হার্ডডিস্ক কয় টেরাবাইট?
চামে একটা লিঙ্ক দিয়ে যাই, অঞ্জনের সব গান পাবেন এইখানে
লেখকের মন্তব্য
এটা কি সেই শক্তপোক্ত নড়বড়ে?!!

এবার নতুন লেখা চাই (সময়ের অনটন থাকলে পুরনোটাই আবার ঝালাই হোক), তাড়াতাড়ি!!
হ্যাঁ, সেই নড়বড়ে নড়বড়েই!
আপনে বাংলায় হায়েস্ট পাইছিলেন? নমঃ নমঃ !!
আমি এসএসসি/এইচএসসি দুইটাতেই বাংলায় বিরাট বাঁশ খাইছি। বাংলারে সাবজেক্ট হিসাবে দুই চোখে দেখতে পারতাম না
দুই ভাগে এই পোষ্টটা পড়লাম! পোষ্টের প্রথম দিনের পর আজকে! পুরা রিসার্স কৈরা লিখা দেখা যায়! অসাধারনতম পোষ্ট!!
====
এরই মাঝে মনে পড়লো অপর্ণা সেনের মত যার অভিমান, মধুবালার মত ছিল যার কথা বলা, সোফিয়া লরেনের মত ছিল যার হাটা চলা সেই মালার আজ বার্থডে !! আজ ১২ই মে!!
কিংবা
'এই ১২ই মে তুমি চলে গিয়ে ছিলে
জীবন থেকে আমার'
লেখকের মন্তব্য
১২ই মে!!! আহা, কীভাবে এইসব তারিখ আমাদের মাথায় ঢুকে গেছে, তাই না?
অশেষ ধন্যবাদ, ফাহাদ! আপনি একজন চমৎকার লেখক, পাশাপাশি অসাধারণ শ্রোতা ও পাঠক।
২০ হাজার শব্দের পোষ্ট পড়ে মাথা ঘুরাই লিখলেও তো ঝামেলা,,,(পাঁচ-ছয় খান মাইনাস খাইতে হবে)
পোষ্ট খুব ভালো লাগছে, প্রিয়তে নিলাম!
লেখকের মন্তব্য
২০ হাজারে কুলায়নি দেখে মডারেটর ৪০ হাজার করে দিয়েছেন আপার লিমিট
অশেষ ধন্যবাদ তন্ময়।
অামি অার কি বলব?

চমৎকার!
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ মেকানিক্স।
আপনার পোস্টেও দেখে এলাম, আ অক্ষরটা ভেঙে যাচ্ছে। খেয়াল করবেন তো!
সামুতে আগে পড়েছি। আগামীকাল আবার পড়ার নিয়ত করলাম।
একটা কপি-পেস্ট মন্তব্য ''আবারও জিজ্ঞেস করি, আপনার মাথায় হার্ডডিস্ক কয় টেরাবাইট?''!!!
লেখকের মন্তব্য
হার্ডডিস্ক ক্রাশ করছে
অতিথি এখনো? এখানে অ্যাকাউন্ট খোলেন তাড়াতাড়ি
অনন্যসাধারণ একটা পোস্ট!
প্রিয় তে রাখলাম।
আর বিশদ আলোচনার ইচ্ছে রইলো পরবর্তী কমেন্টে!
অভিনন্দন, নুশেরা!
লেখকের মন্তব্য
অশেষ ধন্যবাদ, নস্টালজিক!
আপনার আলোচনার অপেক্ষায় রইলাম, আগাম কৃতজ্ঞতা।
প্রিয়তে রাখার মত একটা লেখা। রেখেই দিলাম।
লেখকের মন্তব্য
কী আনন্দ
অসামান্য!
লেখকের মন্তব্য
অভিশংসকের কাছ থেকে অসামান্য মন্তব্য!
৩ আর ৪ পর্ব পড়লাম - সুমন অনেক শুনেছেন আপনি। সুমনের খুব জনপ্রিয় কিছু সিলেক্টেড গান ছাড়া সব শোনা হয়নি-
সুমনের রবীন্দ্রসংগীতও বেশ।
সুমন আর নচিকেতার একটা লাইভ কনসার্টের ক্যাসেট ছিলো - দুজনের গান দুজনে গেয়েছিলো -
খুব খুব শুনতাম ক্যাসেটটা।
সুমনের গানওয়ালা, হঠাৎ রাস্তায়, ইচ্ছে হলো একধরনের গঙ্গা ফড়িং, বাশুরিয়া, তোমাকে চাই
সবচে ভালো লাগে।
নচিকেতা অনেক শুনেছি। নচিকেতার নকল প্রবনতা উল্লেখযোগ্য - কে যায় গানটা একটা নকল।
===================
নীলান্জনার প্রেমে শুধু রকবাজ যুবক না - আমিও পড়েছিলাম -
নীলান্জনাকে চাইলে দেখা যেতো - "যখন খোলাচুলে তাকাতো সে অবহেলে "
ইচ্ছে করলেই এই দৃশ্য কল্পনা করা যেতো।
এটা খুব প্রিয় গান ।
নচিকেতার "একদিন ঝড় থেমে যাবে পৃথিবী আবার শান্ত হবে।"
এই গানটা অসামান্য লাগে আমার। ভবিষৎ এর পৃথিবীর প্রতি জীবনমুখী গানের এই শ্রদ্ধান্জলী কখনোই ভোলার না।
http://www.esnips.com/doc/0a72e36d-df22-4e34-a7b9-6cd4783023b4/ekdin-jhor-theme-jabe
নচিকেতার "পুরোনো দিনের গান" ও খুব ভালো লাগে।
=========================================
অন্জনের বেলা বোস তো ক্লাসিক -- চাকরী পাওয়ার সংবাদ শুনলে প্রথমেই এই গানটার কথা মনে পড়ে।
তবে আমার সবচে ভালো লাগে ম্যারি এ্যান । একদম কলিজার কাছে গান মনে হয়।
এছাড়া ছোট একটা ছেলের গল্প ক্যালসিয়াম গানটা বেশ লাগে।
লেখকের মন্তব্য
সুমন-নচির গানের সঙ্গে গিটার বাজিয়ে প্র্যাকটিস করে আমার ঘরওয়ালা, তাই অনেক শোনা হয়েছে
আপনি সুমনের ইংরেজি গানগুলো শুনেছেন? টিপিক্যাল সুমনীয় সুরের জন্য একটু কেমন-কেমন লাগে, তবে লিরিকে কবিত্বটা ঠিকঠাক ধরা যায়। উইশ ইউ'য়ার হিয়ার তো বেশ ভালো লাগে আমার।
=========================
নচিকেতার যে কতো গান অন্য ভাষার গানের সুরে বসানো! ভারতীয় বিভিন্ন ভাষার গান তো আছেই (যাইওনা যাইওনা কন্যার মূল সুরটা রাজস্থানী বা পাঞ্জাবী)। অনির্বাণ গানটাতে পর্যন্ত ইংরেজি একটা গানের সুর। এক বোকা বুড়োর গল্প শোনো-তে রবীন্দ্রসঙ্গীত "রোদনভরা এ বসন্ত"-এর ছাপ (অবশ্য সেটাও কোনো ইউরোপিয়ান সুরের প্রভাবে করা কিনা কে জানে!)।
আমার বিশেষ পছন্দ নচিকেতার রাগাশ্রয়ী গানগুলো। "বিভাবরী জাগো মোছো ঘুমঘোর", "এই আগুনে হাত রাখো", "শ্রাবণ ঘনায় দূর গগনে"--- এইগুলো। মেলবোর্নে নচির কনসার্টে সামনে বসেছিলাম, কনসার্টে তো তিনি একদম প্রোগ্রাম করা কথাবার্তা-রসিকতা-গান করেন। বিভাবরীর অনুরোধ করলাম পরে একটু অবাক হলেন, প্রস্তুতি ছিলো না বলে অনুরোধ রাখতে না পারায় কয়েকবার সামনে এসে ইশারায় দুঃখ প্রকাশ করলেন
================================
অঞ্জনের মেরিঅ্যান প্রিয় আপনার! আমারও!!

এত বড় পোস্ট, প্রথমে ভেবেছিলাম পড়বোনা।
পড়া যখন শুরুই করে দিলাম, না পড়েও থাকলাম না।
এ্যাজ আ রেজাল্ট, পোস্টটা আমার সিন্দুকে!
--------------------
ভাল থাকুন অবিরত!!
লেখকের মন্তব্য
নয়নকে বিশাল একটা ধন্যবাদ। একদম অবিরত
সাইজ দেইখা ডরাইছি!
লেখকের মন্তব্য
প্রথমেই প্রশ্ন, এই লেখাটা একটানে পড়তে পাঠকের কতোক্ষণ সময় লাগতে পারে, বলেনতো আপু !
গান গল্পের সবক'টি চরিত্রই বোধহয় উঠে এসেছে । গানপাগলা মানুষের অবশ্যপাঠ্য এই পোস্ট ।
অ সা ধা র ণ এর মতো আর কোন অসাধারণ শব্দ পাচ্ছি না ।
লেখকের মন্তব্য
তোমার কতোক্ষণ লাগলো?
ধন্যবাদ শিপন। নতুন উপন্যাসের ২য় কিস্তি কবে আসবে?
অখিল বন্ধু ঘোষের গলা- লাইনটা যে ঠিক কোন গানে আছে তা এখন আর মনে করতে পারছি না!
নুশেরার যে-কোনো ব্লগে যে-মান টা বজায় থাকে তাই-ই নুশেরীয় ক্লাস!
গতকাল 'কালি ও কলম' এর পাতা উল্টাতে গিয়ে লেখাটা আবার চোখে পড়লো। গল্পতো আপনি লিখতেই পারেন। তবে আপনার হাতে সমালোচনামূলক লেখা খুবই ভালো হয়। বাংলাসাহিত্যের দুর্বল এই জায়গায় কাজ করার প্রচুর সুযোগ রয়েছে। ভেবে দেখতে পারেন, সিরিয়াসলি! তাতে বাংলা সাহিত্যেরই উপকার হয়।
এই ব্লগে প্রথম লেখাটি লিখে ফেলেছি। টেকনো-কানা বলে লিঙ্ক দিতে পারলাম না। সময় ও আগ্রহ থাকলে একটু কষ্ট করে খুঁজে পড়তে পারেন! ভালো না লাগলে, 'বিফলে মূল্য ফেরত' এই নিশ্চয়তা নেই!!
লেখকের মন্তব্য
মনে পড়লেই জানিয়ে দেবেন প্লিজ, আমি গান শোনার অবসর পাচ্ছি না
নুশেরীয় ক্লাসের ব্যাখ্যা জেনে মজা পেলাম। নিয়মিত সবার লেখা অনুসরণ করলে বুঝবেন, ব্লগের তুখোড় লেখকদের ধারেপাশে যায় না আমার পোস্ট।
সমালোচনা-সাহিত্য চর্চার জন্য যথেষ্ট পড়াশোনা থাকা চাই, সেখানে ব্যাপক ঘাটতি
আপনার প্রথম লেখাটি দেখিনি, তবে চতুরে কমবেশি সবার লেখাই আগ্রহ নিয়ে পড়ি, কাজেই অতি অবশ্যই পড়ে নেবো।
পড়া-শোনার ঘাটতি বলতে কী সাম্প্রতিক তত্ত্বীয় বই-পত্রের কথা বলছেন? সেগুলো পড়তে কতক্ষণ! কিন্তু যে-পড়া-শোনা একজন পাঠককে সমালোচকে উত্তীর্ণ করতে পারে তা যে আপনার করা আছে সে-সব আপনি আর গোপন রাখতে পারেন নি!! আপনার বিভিন্ন লেখায় তা স্পষ্ট হয়ে গেছে; হতে পারে আপনি জানাতে চান নি কিন্তু লেখাগুলো পড়ে তা জানা হয়ে যায়। সাহিত্যের জন্য রসকষহীন সমালোচক (আরেকটু খুলে বললে শব্দের/ভাবের কৌষ্ঠকাঠিন্যে ভোগা) এর চেয়ে সৃজনশীল সমালোচকের মূল্য অনেক বেশি। সাথে সেন্স অভ্ হিউমার-টা (আপনার মতো) থাকলে সোনায় সোহাগা!!
সুমনের একটি আস্ত গান আছে কবি অরুণ মিত্র কে নিয়ে। সেখানে একটি লাইন ছিল এরকম: "আবেগের কোনো অভিধান নেই, তাই বেরসিক পাঠক জব্দ!" "পাঠকের" জায়গায় "সমালোচক" বসিয়ে দিলে আসল কথাটা বলা হয়ে যায়! হা! হা! ভালো থাকবেন!
লেখকের মন্তব্য
আহা, কতোই না ভালো লাগে ভালো-ভালো কথা শুনতে! হোক না অতিমূল্যায়ন, তবুও
অনেক অনেক ভালো থাকুন আপনিও!
এত অসাধারণ একটা লেখা পড়ার পর নিজের মাথা থেকে কিছু বের হচ্ছেনা, তাই নাজমুল হুদা ভাইয়ের মন্তব্যের কিছু অংশ তুলে দিলা এবং প্রিয়তে নিলাম।
লেখকের মন্তব্য
অশেষ ধন্যবাদ নিয়াজভাই
এই জন্যেই আমার চতুরে আসতে ভাল লাগে, পড়ার মত জিনিস পাই বলে।
লেখকের মন্তব্য
আপনার নিরামিষ গল্প চতুরে আমার পড়া অন্যতম উপভোগ্য লেখা। পরের পর্বের অপেক্ষায় আছি কিন্তু!
আপাততঃ সিন্দুকে রাখলাম। কারণ মাইকেল সাইকেল নিয়া একের পর এক পুষ্ট পড়বার ইরাদায় আছে। এত্তো বড় পুষ্ট দেন কুন দিলে গো! হালকার উপ্রে ঝাপসা এট্টু এট্টু দেখলাম। বেঁচে থাকলে পড়ে জানামুনি।
লেখকের মন্তব্য
মাইকেলের সাইকেলের দুনু চাক্কা পাংচার হৌক
অ-সা-ধা-র-ন লেখা!
একেবারে বাংলা আধুনিক গানের একটা anthology হয়ে গেছে এই লেখাটা! বিশাল পটভূমি, বিস্তৃত ক্যানভাসে আঁকা ছবিটা তার বিশালত্ব দিয়ে ভয় দেখায় না-- কারণ স্বাদু ভাষার তুলির আঁচড়!
এমন লেখা কেবল নুশেরাই লিখতে পারে!!!
শুভেচ্ছা নিরন্তর
লেখকের মন্তব্য
আপনাকে ধন্যবাদ
এই দাদাই, লেখালেখি-গানবাজনা কি লাটে তুলছিস? নাকি ড-বিসর্গদের লিখতে-গাইতে মানা?
অসাধারন একটা পোষ্ট । প্রিয়তে ।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ নেমেসিস
১) প্রথম তথ্যবিভ্রাট: বেলা বোস গানের বিখ্যাত ফোন নংটি কলকাতার দৈনিক বিশ্বামিত্র পত্রিকার। সম্পাদকের একটি ছোটখাটো ক্ষোভময় সাক্ষাৎকার মনে আছে এখনো। পত্রিকাটি সম্ভবত হিন্দি। অঞ্জন কাজটি ভালো করেন নি মোটেও।
২) সুমনের দ্বিতীয় এলবামের একটা বিখ্যাত গান, "তিনি বৃদ্ধ হলেন"-এ অনেক গায়কের নামেই স্মৃতিচারণ আছে, যাঁদের গান শুনে তিনি বড় হয়েছেন ছোট থেকে। ওখানেই পাবেন অখিলবন্ধু ঘোষের লাইনটি। গানটা আপনার লেখায় আসেই নি। নচিকেতার গানেও (পুরনো দিনের গান, আজও ভরে মনপ্রাণ) আছে অখিলবন্ধু ঘোষকে নিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি। তবে, ওই গানটা আমি ত্রিরত্নের 'ক্ষ্যাপা' এলবামে প্রথম শুনি। কে কার থেকে মেরে দিয়েছেন কে জানে! ত্রিরত্নের একজন পার্থ, অন্যজন বোধহয় ফুয়াদ বাবু, বাকিজনের কথা খেয়াল নেই।
৩) প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের একটা গান আছে তসলিমাকে নিয়ে। তাঁকে নিয়ে আর কেউ গান বেঁধেছেন কি-না জানা নেই। সাহসও লাগে বটে! তেমনি লাগে ছত্রধর মাহাতোকে নিয়ে সুমনের গান বাঁধতেও।
৪) আপনি যদি মাথা থেকে পুরো লেখাটা লিখে থাকেন, তাহলে আপনার ফ্যান ক্লাবে আজই নাম লেখাই, বলুন?
৫) কোন দেশে আছেন এখন? চাকরিসূত্রে, না চিকিৎসার্থে?
বাকি কথা পরে হবে।
লেখকের মন্তব্য
১) তাই নাকি! নব্বইয়ের দশকে কলকাতারই একটি পত্রিকায় (আজকাল অথবা আনন্দবাজার হবে, যদ্দূর মনে পড়ে। নাকি সানন্দায়??
) গান নিয়ে একটি লেখায় এই তথ্যটি পেয়েছিলাম। ইন গুড ফেইথ সত্য বলে মেনে নিয়েছিলাম, যাচাই করার সুযোগ ছিলো না 

২)
৩) একমত। তসলিমার লেখা গানও আছে কিন্তু। সামিনা চৌধুরির গাওয়া- শৃঙ্খল ভেঙে ফেলো দলিত দংশিত নারী।
৪) মাথা থেকেই লেখা, সেখানে উস্কানিদাতা ও সাহায্যকারী হিসেবে যারা ছিলো তাদের নাম পোস্টে আছে। অধমের নামযুক্ত পাঙ্খাকেলাবটেলাব পাত্তা দেবেন না, ওটা অতিশয় দুষ্টবুদ্ধিসম্পন্ন পাজি ছেলেপুলের অপকর্ম!
৫) এটা অস্ট্রেলিয়ায় থাকাকালীন লেখা। এখন অন্য কোথাও। কপালদোষে, ঠ্যাকায় পড়ে।
বাকি কথার অপেক্ষায়।
====================================
হিল্লোল কি চট্টগ্রাম কলেজর ৯৩ ব্যাচের হিল্লোল?
যেই হোন, বিশাল ধন্যবাদ!!!
আইজ্ঞা হ দিদিভাই। আমি ২৪৪১১৩৯ নিয়ে মোটামুটি নিঃসংশয়। কিন্তু, কলকাতার কেউ এমুহূর্তে নেই, তাই নিশ্চিত করার কোন উপায় নেই। আর ওদের নম্বরগুলোও বোধয় পালটে গেছে এখন।
যাক, কী এসে যায়!
অফিসে ইউটুপ নিষিদ্দ!!!
ওই গুরুফে কতা হপে :ডি
লেখকের মন্তব্য
এই ভিডিওটার লিঙ্ক পেলাম, দেখবেন তো একটু। কলকাতার ছেলেদের ব্যান্ড, টুফোরফোরকে আকাশবাণীর ফোন নাম্বার বলছে
অসাধারণ। নুশেরা'পু অসামান্য লিখেছেন। প্রিয়তে।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ হালিমভাই
একটা চরিত্রের কথা বাদ গেছে -
আসসালামুয়ালাইকুম বেয়াইন সাব
ওয়ালাইকুমসালাম বেয়াই সাব
এই গানের বেয়াই বেয়াইন দের কথা পুষ্টে না উল্লেখ করায় আমি এর তীব্র পরতিবাদ ঝানাচ্ছি।
লেখকের মন্তব্য
সত্যই তো, বিরাট অপরাধ হয়া গেছে! এক্ষণ থিকা সাঈদভাইরে বেয়াইসাব সম্বোধন কৈরা এই অন্যায়ের প্রাচিত্তির কর্তে হপে :cool:
বেয়াইসাব কিরামাছেন? নয়া পুস্টউস্ট নাই ক্যান?
পুরান পুষ্ট ভাত পায়না নয়া পুষ্টের আমদানি দিয়া কি হপে ?
লেখকের মন্তব্য
দিয়াই দ্যাখেন্না, ভাত তো ভাত এক্কেরে পোলাউ-বিরিয়ানি বাইড়া দেয়া হপে। বেয়াইসাব বৈলা কথা
[চতুরে ইউনিক হিট কাউন্টারের কারণে পঠিত-সংখ্যা একটু কম দেখায়]
আগে একবার পড়েছিলাম , ঝাপসা মনে ছিল , সেবার বিস্মিত হয়েছিলাম কিনা জানিনা , এবার পুরোমাত্রায় বিস্মিত হলাম । আমার গান মনে থাকে না , বড়জোড় এক লাইন , দ্বিতীয় লাইনে গিয়ে ভজঘট হবেই , কেউ যখন মনে করিয়ে দেয় তখন প্রথম লাইনে অচেনা লাগে , দ্বিতীয় লাইনে সংশয় , তৃতীয় লাইনে বিস্ময় । ঠিক সেরকম কিছুই হল । যাদের গানশোনাকাল আর এই পোস্টের গানগুলোর যৌবনকাল ওভারল্যাপিং , তাদের মুগ্ধ না হয়ে উপায় নেই
লেখকের মন্তব্য
নাইস পোস্ট -
আরো কিছু জনপ্রিয় গান চরিত্র আছে যেমন
প্রমিথিউস ব্যান্ডের একটা গান আছে - লাল মিয়া যায় বিয়া করতে যায়
জেমসের অনন্যা নামে একটা গান আছে - জেমসের আরেকটা গান আছে কবিতারে নিয়া। জেমসের একটা গান আকাশিরে নিয়া - সুস্মিতা নিয়াও জেমসের গান আছে
আজম খানের পাপড়িরে নিয়া একটা গান আছে
সুচনা নামে একটা গান আছে ডিজিটাল ওয়ান ব্যান্ডের
নোভার একটা আছে দ্যোতিরে নিয়ে এবং একটা গান আছে দুখুরে নিয়া
রুকসানা নামে নামে একটা গান আছে শিল্পির নাম সাহেদ
মাইলসের একটা গান আছে নিলা রে নিয়া
নন্দিনিরে নিয়াও কার একটা গান শুনছিলাম
লেখকের মন্তব্য
আপনি কবি না গীতিকার?
কবি,গীতিকার কোনটাই না - আমি হলাম গানপাগল
নোভা'র আরো ২টা বিখ্যাত গান আছে - একটা হল রাজাকারের তালিকা চাই আর আরেকটা হল - নুর হুসেন
১। ফিরে এসো অনুরাধা ভেংগে দিয়ে সব বাধা- রাহুল দেব বর্মনের গান (খুবই নিম্নশ্রেণীর গান অবশ্য)
২। ও রানা আমার রানা,
তুই যে খাঁটি সোনা,
দে আমায় পরিয়ে দে তোর ভালোবাসার গয়না,
ও সুমি আমার সুমি তোকে আপন জানি,
তুই যে আমার প্রেমনগরের মনের রাণী- বাংলা ছবির গান। (খুরশীদ আলম/রুণা লায়লা মনে হয়) ৮০র দশক? আমি এক দম্পতিকেও চিনি রানা-সুমি। আমার ফেইসবুকেও আছেন তারা।
৩। ওরে সাম্পানের নাইয়া, তুই আমারে করলি দিওয়ানা - শেফালি ঘোষ
লেখকের মন্তব্য
হাহাহাহা আপনি পারেনও! আশা করি হামা নোট রাখছে
ইয়াল্লাহ!!! নুশেরার ধর্য্যের এক ছিটেফোটা তুমি যদি আমায় দিতে !!!!
অসাধারন!!!!
লেখকের মন্তব্য
সুরঞ্জনা নিয়ে কতো গান, নুশেরা নিয়ে কোনো গান নেই
আহারে, কী দুঃখ! ভাইসাবরে বলবো নুশেরাকে নিয়ে একটা গান বানতে!!
এই পোস্ট নিয়ে আর কি বলব?!
অফিসে বসে পড়লাম সে দিন। অফিস থেকে মন্তব্য/ব্লগিং করা ডিস্কারেজ করা হয় বলে মন্তব্য করা হয় নি।
লেখকের মন্তব্য
পুলাপান দেখি সব বড় হয়ে গেছে। আগে বলতো পরীক্ষার পড়ার ফাঁকে পড়েছি, এখন বলে অফিসে বসে পড়লাম
নুশেরা আপু, 'অখিল বন্ধু ঘোষের গলা'- এই কলিটা সুমনের যে গানটায় আছে-- (হিল্লোল স্যার এই গানটার কথা বলেছেন কিনা বুঝছিনা)
''বয়েস আমার মুখের রেখায় শেখায় আজব ত্রিকোনমিতি
কমতে থাকা চুলের ফাঁকে মাঝ বয়েসের সংস্কৃতি. ...
...... ... ...
একলা লাগার সময় মানে নিজের সঙ্গে কথা বলা
তারই সঙ্গে কোথায় যেন অখিল বন্ধু ঘোষের গলা ... ''
লেখকের মন্তব্য
পড়ার জন্য, মন্তব্যের জন্য, অশেষ ধন্যবাদ প্রিয়ম।
হ্যাঁ, এই গানটাই! নিমো পাঠকও বলেছেন, আবার শুনে নিশ্চিত হয়েছি।
আচ্ছা, হিল্লোল কি আপনার শিক্ষক? স্যার সম্বোধনের কারণটা জানতে চাইছি আরকি
হুম, হিল্লোল স্যার আমার শিক্ষক।