নুশেরা-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

এই ধরায় (বসুন্ধরায়) আমি আছি 'ধরা'র উপর। সেই কুটিকাল থেকে। কয়েকটা কাহিনী বলি; এগুলো হলো হুজুর-বিষয়ক-ধরা। চতুররা মনপ্রাণ খুলে নিজস্ব ধরাকাহন বলে যাবেন কিন্তু।
এক.
খুব ছোটবেলায় হুজুরের কাছে আরবী পড়তাম। আমাদের বাসা একতলা, বারান্দার চারপাশটা গ্রিলের, বাইরে বাগান। সেই বারান্দায় মাদুর পেতে আমরা দুইবোন পড়ি। তো সেই হুজুর আমাকে দুইচোক্ষে দেখতে পারতেন না। তার অবশ্য কারণ আছে। বৃদ্ধ মানুষ; যখন-তখন ঘুমে ঢুলে পড়েন। ওইরকম অবস্থায় উনার টুপিটা একদিন মাথা থেকে খসে পড়লো। আমি কী মনে করে টুপিটাকে নিয়ে বাইরে বাগানে গোলাপ গাছের আগায় তুলে দিয়ে আসলাম। বিভীষণ বোন সেই দৃশ্য হুজুরের কাছে রিপোর্ট করে দিলো। হুজুরের হাতে বিদ্যাপাতা গাছের চিকন একটা ডাল থাকতো... সেই করুণ কাহিনী আর না বলি... 
আরেকদিন হুজুর ঘুমিয়ে পড়েছেন, এমন অবস্থায় পড়া থেকে উঠে গিয়ে একটা বালিশ এনে দিলাম যাতে একটু আরামে ঘুমাতে পারেন। উনি ধরে নিলেন উনাকে অপমান করার জন্য কাজটা করা হয়েছে। তাই আমার উপর অযথা কড়াকড়ি শুরু করলেন। ঘুমিয়ে পড়লে কিছুক্ষণ পর জেগে উঠে এমন ভাব করতে লাগলেন যেন কিছুই হয়নি, তারপর আমার পড়ার অগ্রগতি দেখে আবার দুই পাতা পিছন থেকে পড়ার আদেশ। ভালো বিপদে পড়া গেলো। আরবী পড়তে বিরক্ত লাগতো, ঐ পাঁচছয় বছর বয়সে আল্লাপাকের সন্তুষ্টির চেয়ে নিজের খুশি অনেক বেশি মূল্যবান, তাই হুজুর ঢুলতে থাকলেই আমি দু'তিন পাতা উল্টে এগিয়ে যেতে থাকতাম, হুজুর তো জেগে উঠে আবার পিছিয়েই দেবেন। এইরকম করতে করতে পাটিগণিতের তেলমাখা বাঁশের বানরের মতো একসময় আমি পিছানোর চেয়ে এগোতে লাগলাম বেশি। হুজুরও খুশি আমার অগ্রগতিতে। একদিন হঠাৎ এক জায়গায় একটা চিহ্ন দেখে আমি থমকে গেছি। এটা তো আগে দেখি নাই। এখানে কী করতে হবে? হুজুর দেখে বললেন, এইটা দেখা যায় তিন নাম্বার সেজদা। তার মানে আগের দুইটা তুমি পড়ো নাই। সেজদা শুরু হয় নবম পারা থেকে। আমাকে ঘাড় ধরে আবার প্রথম পাতায় সুরা ফাতিহায় ব্যাক করানো হলো...
দুই.
আমার বাবা একবার সরকারি কী কাজে কিছুদিন ইরানে ছিলেন। আসার সময় গালিচা-জাফরান এইসব হাবিজাবি নিয়ে আসেন। সেইসব থেকে আমার মা দু'টা জায়নামাজ স্পেশালি আলাদা করে তুলে রাখেন, দুই (হবু) বেয়াইকে প্রথম ওই দুইটাতে নামাজ পড়তে দেবেন, এমন পরিকল্পনা ছিলো তার। আমি আবার ওই দুইটা থেকে বেছে বেছে যেটা বেশি সুন্দর সেটা আপুর শ্বশুরকে না দিয়ে আমার শ্বশুরকে দিতে হবে, মায়ের সাথে এমন কথা ফাইনাল করে ওগুলোকে যত্ন করে ওয়ার্ডরোবে তুলে রাখলাম 
সেই সময় বাসায় মিলাদ পড়ানো, সদকা দেয়া এইসব বিষয়ে আমার মায়ের কিঞ্চিত আগ্রহ ছিলো। আমি রিকশা থেকে পড়ে যেতাম (এই ঘটনা প্রতি দুইবছরে কমপক্ষে একবার ঘটতো), প্রতিবার একটা মুরগি সদকা দেয়া হতো। একেকটা পরীক্ষার আগে-পরে পাড়ার দুই মসজিদের দুই ইমাম সাঙ্গপাঙ্গসহ এসে রকেটবেগে খতম না কী একটা পড়ে যেতেন। আমার আপত্তির প্রশ্নই আসে না; খানাপিনা ভালো জিনিস। একবার এইরকম এক মিলাদের পর হুজুররা খেয়েদেয়ে নামাজ পড়ে চলে গেছেন, বসার ঘরে গিয়ে দেখি দুইটা জায়নামাজ দলামোচা করে রাখা। কী সর্বনাশ, আমার হিটলার বাপ কোন্ ফাঁকে ঐ দুইটা স্পেশাল জায়নামাজ বের করে দুই হুজুরকে দিয়ে আসছেন!

তিন.
ভার্সিটিতে আসা-যাওয়ার সময় ("পড়ার সময়" বললাম না; মিথ্যা বলা মহাপাপ) আমাদের গ্রুপে আটটা মেয়ে আর একটা ছেলে ছিলো। সেই ছেলে আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন। ভার্সিটির কোনও ছেলে আমাদেরকে কোনোদিন প্রোপোজ করবে না, সে নিশ্চিত। এমনকি মেয়েদের কমনরুম বা ফ্যাকাল্টির লেডিজ টয়লেটের সামনে যেসব পাত্রীদেখা লোকজন দেখা যায় তারাও নাকি ভুলেও আমাদের অষ্টকন্যার কারো কথা চিন্তা করবে না। কারণ ক্যাম্পাসে আমরা সারাদিন খালি খাই আর খাই। পুরিসিঙ্গাড়া, চীনাবাদাম, আচার, কাবলি-ডাবলি, আমড়া, চালতা, অরবড়ই-- কোন অখাদ্যেই আমাদের অরুচি নাই। এছাড়া তিনটাকা দামের বিকট সবুজ কালারের ললি খেয়ে জিভদাঁত সবুজ করে রাখি, অক্লান্ত হাহাহিহির কারণে সেই দাঁত আবার সারাক্ষণ বের হয়েই থাকে। দুইফিতার স্যান্ডেলে চটাস চটাস শব্দ তুলে হাঁটি; হাঁটতে হাঁটতে হাতের পলিথিনব্যাগে ছিলকা-ছিবড়া জমিয়ে ছয় গিরার আখ খাই। শাটলট্রেনে চড়ে বাসায় ফেরার পথে চটের ব্যাগে ভরে কচুশাক আর লতি নিয়ে আসি (আমাদের চবি ক্যাম্পাস গ্রামের মধ্যে ছিলো)।
একেকটা বছর পার হয়, পরের বছর ইউনিভার্সিটি অনির্দিষ্টকাল বন্ধ থাকে, এইভাবে একদিন আমরা থার্ড ইয়ারে উঠে যাই, কিন্তু বন্ধু বিকাশের কথাই সত্যি হয; ক্লাসের সব মেয়ের প্রেম বা বিয়ে কিছু একটা ঠিক হয়ে যায়, আমাদের আটজন ছাড়া। তার টিটকারির চোটে অতিষ্ঠ হয়ে আমরা আটজন গোপনে পরামর্শ করে ঠিক করলাম, নিজেরা-নিজেরাই ভুয়া প্রেমপত্র লিখে ঐ ব্যাটাকে দেখাবো। শত হোক প্রেস্টিজ বলে তো কিছু একটা আছে। এই পরিকল্পনার কয়েক দিনের মধ্যেই আমাদের ডিপার্টমেন্টের সেমিনার-লাইব্রেরিতে আমার নামে একটা প্যাকেট আসে। প্যাকেটের র্যাপিং পেপারে বোঁটাছাড়া পানপাতার নকশা, সাইজ দেখে মনে হয় জুয়েলারী বক্স। বিকাশের চোখ খুলে বের হয়ে আসার অবস্থা। নিশ্চিন্ত মনে ওর হাতে দিলাম। নে প্যাকেট খুলে দ্যাখ, আমাকে কেউ পছন্দ করে কি না। 
প্যাকেট খুলে যা বের হলো তা আগে জানলে ঐ বস্তু অন্য কারো হাতেই দিতাম না। গোলাপী রঙের লেটার প্যাডের পাতা একটার নীচের মার্জিনে আরেকটা আঠা দিয়ে জুড়ে ৩৫ ফুট লম্বা এক চিঠি বানিয়ে সেটা রোল করে গুটিয়ে রাখা হয়েছে। তাতে সহি তমিজ-তরিকা আদব-লেহাজ সহকারে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের জনৈক আশেক হুজুরের কথাবার্তা। কী?
পড়া মুখস্ত না হইলে পড়িও, এই দোয়া- রাব্বি জিদনী ইলমান...
মাথা ব্যথা করিলে পড়িও, শিরের বেদনা উপশমের দোয়া...
তোমার মুরুব্বিরা বিপদে পড়িলে পড়িও...
যানবাহনে উঠিবার কালে পড়িবে...
অচিনা জায়গায় বালা-মুসিবতে পতিত হইলে পাঠ করিও...
পেটের পীড়া হইলে পড়িতে থাকিবে...

এই ৩৫ফুটি পত্র আর তার দোয়া-খায়েরের কথা বিদ্যুদ্বেগে সারা ক্লাসে ছড়িয়ে পড়লো। আন্তঃবর্ষ ক্রিকেট খেলায় আমাদের ইয়ার খুবই খারাপ খেলছিলো... কুফা কাটাতে ক্লাসের ছেলেপেলেরা ঐ হুজুরের কাছে পানিপড়া নিতে গেলো... আমার মানইজ্জতের ফালুদা বিষয়ে আর বিস্তারিত না বললেও চলে... 
মন্তব্য
ইস্কুলে আরবী পড়ান হত। আমি তো কিছুই পারতাম না। এখন ভাবি তখন যদি আরবী শিখে ফেলতাম, এখন তাইলে ৫টা ভাষা হইত। একবার আরবীতে ১ পাইলাম, হুজুর সারা ক্লাসের সামনে খাতা তুলে দেখাইলেন
।
হুজুরের একটা বিজনেস ছিল, কি কি সব আরবী বই-পত্র চার্ট বেচতেন স্কুলে, আমাদের কিনতে হত (আমার গরীব মা'র যে কি কষ্ট হত সেই টাকা দিতে)। তো একবার একটা চার্টে ছিল আরবীতে বদনা হইল ইবরিকুল। আমার ছোট ভাই অভীক আমারে জ্বালাই খাইছিল ঐটা বলে বলে। এখনো বলে। গতবার দেশে এসে যখন বাসায় আসল, বাথরুমে গিয়ে আবার বের হয়ে আম্মাকে জিজ্ঞেস করে- আম্মা নানার আমলের পিতলের ইবরিকুলটা কই?
লেখকের মন্তব্য
ইবরিকুল

আমাদের বিসিএস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন একাডেমিতে আরবী শেখাতো। একটাই শুধু মনে আছে, কাজিব, এর মানে হলো মিথ্যুক
আমার এক মামা, হাফিজে কুরআন, মজা করে মশা তাড়াবার একটা দুয়া তৈরী করেছিলেনঃ
হে হে হে
পইড়া মজা পাইলাম!
তবে তোর ধরা খাওয়া আমার সব ধরা খাওয়ার ধারে কাছেও যায় না।
আমার ধরা খাওয়ার কাহিনী জন-সমক্ষে বলা গুরুর বারণ তাই কিছু কইলাম না-- হে হে হে ---
লেখকের মন্তব্য
এই গুরুটা কে রে দাদা? সেই লোক/মহিলা কি তোরে লেখালেখি-গানাগানি করতেও বারণ করসে?
আহারে বেয়াই সাহেব একটা সুন্দর জায়নামাজ পাইতে পাইতেও হারাইলো
ইয়ে তোমার উপর হুজুরেরা বড়ই প্রীত দেখা যায়
লেখকের মন্তব্য
হুঁ, প্রীত তো হবেই, হুজুর শব্দের অর্থ জ্ঞানী

আরে আপু কত কথা মনে করাইদিলা, আমাকে খুব ভোর বেলায় আরবী পড়ার জন্য মোক্তবে পাঠাইতো আমি সেখানে বসে বসে ঘুমাইতাম আর প্রতি দিন বাড়ীতে নালিশ আসত একদিন হুজুর গুমানোর দায়ে এক পায়ে দাড়াই থাকতে বলছিল আর আমি এক দৌড়ে বাড়ী চলে গেছি এর পর থেকে আর মোক্তবে ঘুমাইতে হয় নাই
লেখকের মন্তব্য
তারপর? মোক্তবে ঘুমের সাথে আরবী পড়াও বন্ধ হয়ে গেলো??
এ ধরায় আগমনই আমার সব চেয়ে বড় ধরা খাওয়া!
'ধরা' খাদ্য হিসেবে অত্যন্ত উপকারী হলেও তা কেউ খেতে চায় না। ধরা খেয়ে সবাই বিব্রত হয়, পরবর্তীকালে এই ভোজন কাহিনী রম্যের রেসিপি হয়।
এই কাহিনীর সাথে মিল রেখে ধরার যত ধরাকাহিনী মনে পড়লেও নিজের খাওয়া ধরা এখনও রয়ে গেল অধরা, পরে ধরতে পারলে ছাড়বার আশা আছে।
লেখকের মন্তব্য
চতুর্থজন হিসেবে হুদাভাইয়ের মন্তব্যে একমত পোষণ করলাম। এ ধরায় আগমনই সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ধরা।
ধরা নিয়ে তো বেশ ভালই ধরাধরি চলছে দেখি! আপনার অধরাকে ধরার বাসনায় ধরাশায়ী হবার ধরা-কাহিনী ব্লগবাসী ধরিতে অতীব উৎসুক! ধরে নিচ্ছি, ধরাকাহিনী শোনার ধৈর্য্য ধরে আমরা নিজেরাই ধরা খাব না!!!

হে হে হে । অন্নেক (অনেক বেশি বুঝানোর জন্য) মজা পাইলাম। তিনটাই লাইকাইলাম।
লেখকের মন্তব্য
তিনটা 'ন' সংযুক্তির যুক্তাক্ষর দরকার ছিলো
হা হা হা। আপনি এত মজা করে লিখেন, ভরদুপুরে অফিসের মধ্যে বিকট শব্দে হেসে উঠলাম। ধরা খাওয়ার কাহিনি আমারও প্রচুর আছে, একদিন বলবোনে সময় করে।
লেখকের মন্তব্য
পরে বলবোনে/লিখবোনে-র বকেয়া হিসাব করলে মামুনভাইর মতো দেনাদার আর কেউ নাই
স্কুলের আরবী ক্লাসে শিখেছিলামঃ 'কাইফা হালুকা' মানে 'আপনি কেমন আছেন?' লিবিয়াতে প্রথম দিন হাসপাতালের ডিরেক্টরকে জিজ্ঞেস করলামঃ কাইফা হালুকা? উনি আমার দিকে এমন ভাবে তাকালেন আমি বোধহয় ভিন গ্রহের মানুষ। শেষে ইংরেজীতেই বললামঃ How r u? এবার উনি হাসিমুখে উত্তর দিলেন, 'আলহামদুলিল্লাহ'।
এরপর আরো কয়েকজনের সাথে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তির পর এক বয়স্ক সুদানিজ ডাক্তার আমাকে বললেন, লিবিয়াতে শুদ্ধ আরবী চলে না। আপনি কেমন আছেন এর আরবী হবে-'শীন হাল্ক' বা 'কেইফ হাল্ক'।
চমতকার লাগলো নুশেরাপু, ভালো থাকুন।
লেখকের মন্তব্য
কেইফ হাল্ক!! কেইফ বললেই তো ক্যাটরিনা কেইফের কথা মনে আসে
মানে - ক্যাটরিনা কেইফ হাল্ক কে দেখে লজ্জা পায় -

নাকি মোঃ কাইফ - হাল্কের মতো পিটায়
লেখকের মন্তব্য
আমাদের ছোটবেলায় একটা টিভি সিরিজ ছিলো ইনক্রেডিবল হাল্ক। ঐ হাল্ক আর ক্যাটরিনার জুটি চিন্তা করেন
ধরা জিনিসটা খাইতে লাইক করি না কখনোই -
ওস্তাদীজির চায়ে মধ্যে পিপড়া মিশায় দিসিলাম - আমি আর আমর বোন কাজটা প্রায়ই করতাম -
আরেকবার আমার এক গৃহশিক্ষকের চেয়ার নিচে পটকা রেখে দিসিলাম - অবশ্য সেই পটকা ফোটে নাই -
উল্টা শিক্ষকের কাছে ধরা খেয়ে গেসিলাম - আফসুস
----------------------
তয় একটা কথা - আপনারে ভার্সিটির লম্বা লাইফে মাত্র একটা হজুর প্রোপোজ করসে এটা মানতে কষ্ট হৈলো --
ভার্সিটিতে যে কোন মেয়েই দেখতাম ৩-৪ টা প্রেম করে ফেলে - আর
কয়জন যে কলিজায় চাক্কু খায় সেটা তো অগুনতি -
স্বাভাবিক যে কোন মেয়ের ডজন খানেক প্রেম পত্র পাওয়ার কথা - সেকেন্ড ইয়ারের মধ্যেই ।
তয় আপনে ছুটু কাল থেকে ছ্যাচাপু ছিলেন কিনা জানি না । সেই ভয়েই কি পাবলিক এপ্রোচ করতে সাহস পায় নাই ?

লেখকের মন্তব্য
আহা, মাষ্টারের কাছে ধরা... সেই কাহিনী বলে শেষ করা যাবে না। মাষ্টার মানে অবশ্য গানের মাষ্টার, পড়াশোনার মাষ্টার ছিলো না। সেই গানের মাষ্টার সপ্তাহে একদিন বাসায় এসে আমাদের দুইবোনকে শিখাতেন, পৃথিবীর বিরক্তিকর চীজগুলার তালিকা করা হলে উনি অনায়াসে টপটেনে ঢুকতে পারবেন। আমি কী জাতের ছাত্রী ছিলাম আন্দাজ করা সহজ। একদিন কারেন্ট চলে গেছে, ভেতরে গিয়ে মোমদানীতে বড় একটা মোম জ্বালায় নিয়ে আসছি। বাম হাতে মোম নিয়ে স্যারের পিছন দিক দিয়ে এসে ডান হাতে উনার মাথার উপর একটা ঘুষি বাগানোর ভঙ্গি করলাম (যেন উল্টাপাশে বসা আপু দেখতে পায়)। সেইটা করার সাথে সাথে স্যার ঘুরে বসে হার্মোনিয়ামের উপরের ঢাকনাটা তুলে নিয়ে আমার হাতে এক বাড়ি। ঘটনা হইলো আমার ঘুষির অ্যাকশনটা মোমের আলোয় সামনের দেয়ালে বিশাল ছায়াছবি হয়ে দেখা গেছিলো...
==========================
হুজুর বৈলা সে কি মানুষ না? তার প্রেমের কি কুনু দাম নাই??

আহারে, কী আফসুসের কথাডাই না মনে করাইলেন, হুজুর-মাস্তান-কুপি ছাড়া একটা স্বাভাবিক মাইনষে আওয়াজ দিলো না... ক্যাম্পাসে আখের ডান্ডা হাতে নিয়া হাঁইটা হাঁইটা খাওনের খাসলতডা ক্যান যে করছিলাম
ক্যাম্পাসে আখের ডান্ডা হাতে নিয়া হাঁইটা হাঁইটা খাওনের খাসলতডা ক্যান যে করছিলাম ! আহারে!!!
ধরা খাওয়ায় কে সেরা?
নুশেরা! নুশেরা!!
খুব ছোট বেলায় একবার আমিও ধরা খেয়েছিলাম। সুর করে পড়তে কেমন লজ্জা লজ্জা লাগতো। আর খুব একটা পারতামও না। তো একবার বুদ্ধি করলাম, যেখানে যেখানে আটকে যাবে সেখানে সেখানে হালকা কাশি দিয়ে সামলে নেব (বাংলাদেশের দুএকজন ক্রিকেট অধিনায়ক কিন্তু আমাকে পরে নকল করেছিলেন ইংরেজিতে সাক্ষাৎকার দেবার সময়)। হুজুর বুঝবেন কাশির জন্য ঠিকঠাক মতো হচ্ছে না। কিন্তু হুজুর ঠিকই বুঝেছিলেন আর আমাকে আবার প্রথম থেকে মুখস্থ করার শাস্তি দিয়েছিলেন!
লেখকের মন্তব্য
হুজুর-প্রসঙ্গ থেকে ক্রিকেটারে চলে যাওয়াটা বড় উপভোগ্য।
আর ছড়াটা তো খুবই পছন্দ হলো
ক্লাস ফোরে পড়ার সময় সহপাঠী অহিদ ছড়া বানিয়েছিলো- নুশেরা/ দুষ্টের সেরা। ব্লগের অন্যতম সেরা গল্পকার কথাবাজ রিপনভাই বলেন- নুশেরা/ আত্মীয় তার বুশেরা।
অহিদের সঙ্গে শেষ দেখা হয়েছিলো অন্তত বছর কুড়ি আগে।
রিপনভাই ব্লগ থেকে প্রায় অদৃশ্য হয়ে গেছেন।
আপনি হারিয়ে যাবেন না, প্লিজ!
নতুন লেখার আশায় আছি; দিচ্ছেন না
ধরা কাহিনী খুবই মুখরোচক হয়েছে।
নাজমুল ভাইএর সুন্দর মন্তব্যের জন্য ভুটাইলাম।
আচ্ছা, তোমার শ্বশুর কি ঐ জায়নামাজটি পেয়েছিলেন?
আমার হুজুরও আমারে দুই চোক্ষে দেখতে দেখতে পারতেন না। ফজরের নামাজ পড়ে উনি এসে ভাইয়ার ভালো নাম ধরে ডাকাডাকি শুরু করতেন। তারপর আমাদের দুইজনকে বাসার সামনের পুকুর ঘাটে নিয়ে ওজু করাতেন। কনকনে মাঘ মাসে পুকুরের পানি থেকে ধোঁইয়া উঠতো।

আম্মাকে বিচার দিলে শুনতাম, " হুজুর যে জায়গায় মারেন ঐ জায়গা বেহেস্তে যাবে"। চিন্তা করে কুল পেতাম না, আমার সারা শরীর রেখে শুধু দুই হাত আর পিঠ কি করে বেহেস্তে যাবে? 
পড়ানোর সময় উনি শুধু ভাইয়ার দিকেই বেশী খেয়াল করতেন। আধ ঘন্টা পরেই বলতেন, "কামরুল নাস্তা লইয়াও" আমি ফস করে বলে উঠতাম, "মেছাব ওউ তো আইলা, এক গন্টাও অইছেনা" বিনিময়ে উনার সিলেটি উচ্চারনে আমায় নান বিশেষনে ভুষিত করতেন। "ভুত, ইবলিশ খন্নাছ, ফেরত (প্রেত) কুবাইকুর(কোথাকার)' আর পড়া সহি হয়নি সেই অজুহাতে উনার হাতের লিকলিকে বাঁশের কঞ্চি যখন তখন আমার কচি শরীরে আছড়ে পড়তো।
আরে ভাই সুরঞ্জনা
হুজুর দিল যে গঞ্জণা
পড়ে আমি তার বর্ণনা
হা্সতেই আছি একটানা।
অঃটঃমন ভালো তো এখন? নুশেরার পোস্ট পড়লে তো মন ভালো হবার কথা!
ঠিক বলেছেন নাজমুল ভাই। নুশেরাবুর পোস্ট পড়ে মন একটু হালকা লাগছে বটে কিন্তু ঐ যে আমার হুজুরের উপর প্রচন্ড রাগ হচ্ছে।
এখন কি করা? 
পুরোনো রাগ পুষে রাখতে নেই। হুজুরের দয়া পাবেন, ভুলে যান রাগ।
লেখকের মন্তব্য
আপারে, তোমার কমেন্টটা আরেকটু বাড়িয়ে আরো কিছু সংলাপ দিয়ে পোস্ট লিখে ফেলো প্লিজ! হাসতে হাসতে চোখে পানি এসে গেছে!!
আমার মামাত বোন ছিল তুমুল টাইপের ভাল ছাত্রী (!) - হুজুরকে নাস্তা দেয়া হলে তার পাঠ পদ্ধতি একটু বদলে যেতঃ
এরপরই তার "আআআ" গুলো হয়ে যেত "এঁএঁএঁ" !!!
হায় হায়, নুশেরাপু'র পোস্টে আমি সবসময় লেট লতিফ! href=http://yoursmiles.org/b-sad.php?page=>
সকালেই তো ব্লগ খুললাম, তখন তো চোখে পড়লনা - এখন নাজমুল ভাইয়ের তারাঠোকা মন্তব্য ধরে ধরে ধরা কাহিনীতে আসা।
- যাকেই পাব, তাকেই রামগাট্টা দেব, এই পণ করে ব্যাগ কাঁধে অনেক কষ্টে দেয়ালে উঠে পড়ি। দেখি নীচে একজন বেশ ভাব নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তাড়াহুড়ো করে ব্যাগটা খুলে তার দিকে "এই ধর!" বলেই ছুঁড়ে দিয়ে দেয়াল বেয়ে নামতে শুরু করি। নেমে পেছনে ঘুরে ব্যাগটা নেয়ার জন্য হাত বাড়াতেই দেখি, 
যাক, এখন আমার একটা ধরা কাহিনী শোনাইঃ
স্কুলে আমাদের ইউনিফর্ম ছিল নেভি-ব্লু প্যান্ট আর সাদা শার্ট। একদিন স্কুল পালানোর সময়, আমরা সদলবলে দেয়াল টপকাচ্ছিলাম - ঠিক করা ছিল, দেয়ালের এপাশে একজন দাঁড়াবে, অন্যপাশে একজন। এরা ব্যাগ পার করাতে সাহায্য করবে। শেষেরজনের ব্যাগ তার আগেরজন পার করিয়ে দেবে। আমিই ছিলাম শেষেরজন। কিন্তু আমার ব্যাগের কোন ব্যবস্থা না করেই বন্ধুরা সব হাওয়া! খুব মেজাজ খারাপ
আমার ব্যাগ হাতে আমাদের শীর্ণদেহী, ছোটখাট আকারের, ঐদিন নীল প্যান্ট আর সাদা শার্ট পড়ে আসা কেমিষ্ট্রির "জয়সুরিয়া" স্যার!!!
[ছাত্র বেধড়ক পেটাতেন বলে উনার নাম হয়েছিল "জয়সুরিয়া" স্যার!]
লেখকের মন্তব্য
আমি ৫/৬ বছর মাদ্রাসার হাজতে কাটিয়েছি। এইসব কাহিনী আমার ভান্ডারেও ভুরিভুরি। বলতে গেলেই মান সম্মানের ফালুদা...
না থাক বলার প্রয়োজন নাই। মান সম্মান ফালুদা বানাতে কে চায় ?
লেখকের মন্তব্য
না, না, এসব বললে চলবে না। অতি সত্বর ফালুদা পরিবেশন করা হোক!
হুজুরদের সাথে তোমার সম্পর্ক তো মারাত্মক দেখি।
লেখকের মন্তব্য
হুঁ-হুঁ, মনে রেখো, হুজুর=জ্ঞানী
প্রথমবারের মতো এই দ্বিতীয়বারেও হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খেলাম।
চবিতে আমাদের তিনজনের ছোট একটা দল ছিল। এমন অনেক দিন গেছে ক্লাসের কও করি নাই কিন্তু আসার আগে শাহজালাল হলের ডাইনিং ঘুরে আসতাম। প্রায়ই এমন হতো। শাহজালালের ডাইনিংএর লাবড়াটা আমাদের এত প্রিয় ছিল সপ্তাহে অন্ততঃ তিনবার ওখানেই লাঞ্চ হয়ে যেত। হলের বন্ধুরা বলতো, ব্যাটা জীবনে কখনো হলে থাকিস নাই তো তাই এসব অখাদ্য তোদের মজা লাগে।

ওরা মহা বিরক্ত ছিল ৬ টাকা দামের আমাদের অতিপ্রিয় লাবড়াটার উপর।
একদিন ওদের নিয়ে বাইরের কুমিল্লা না ঢাকা হোটেলে খেতে গেছি। খাওয়া শেষে আমাদের সবার জিব কুকুরের মতো বাইরে বেরিয়ে ছিল স্টেশান না পৌছা পর্যন্ত। ওখানে নাকি কুমিল্লার অরিজিনাল মরিচ দিয়ে রান্না হতো।

জীবনে আর ওই হোটেলে ঢুকি নাই।
লেখকের মন্তব্য
আপনার ক্যাম্পাস-সম্পর্কিত মন্তব্য এতো জীবন্ত লাগে, নীড়দা! চাকসু ক্যাফেটারিয়ার তেহারির কথা মনে নেই? ইশ, কী দিনগুলো!! কিন্তু এইসব বলে হুজুরীয় স্মৃতিচারণ এড়ালেন নাকি?
এত ভালা ভালা হুজুরের নেক নজরে পড়েছেন, আপনার তো অনেক


ভালা আরবি জানা উচিত।
আমাদেরকে আরবি শিখান, হুজুর হতে মঞ্চায়!
লেখকের মন্তব্য
কাইফা হালুকা, ইবরিকুল, কাজিব-- আরো লাগবে?
অনেক চেষ্টা করেও হুজুর নিয়ে কোনো স্মৃতি মনে করতে পারলাম না। যাই হোক, ধরা খাওয়ার স্মৃতি বলি একটা।


তখন ক্লাস ত্রীতে পড়ি। আমরা আগ্রাবাদ হোস্টেল কলোনীতে থাকি। হাতে খড়ি স্কুলে পড়তাম। তো, সিলভার বেলস এর এক টিচারের কাছে পড়তাম। ঐখানে জীবনের প্রথম প্রেমে পড়ি। একটা প্রেমের ছড়া লিকসিলাম, মেয়েটার জন্য।
যাই হোক, ঐ ছড়া মেয়েরে দিলাম, খুব মুখ গম্ভীর করে।
মেয়েটি পরদিন তারচেয়েও মুখ গম্ভীর করে বলল, আমি শাহরুখকে ভালোবাসি।
কথাটা কলোনীর সবাই জাইনা গেল। এরপর আর কি।।।।
হাহাপগে। ক্লাস থ্রীতে আরিশের লেখা প্রেমপত্র, আর সেই একই ক্লাসের প্রেমিকার শাহরুখকে ভালোবাসা!!!

হায়, হায়, এখন করি কী, হাসতে হাসতে তো ডাক্তার ডাকবার দরকার হয়ে পড়লো।
:হাহাহা:
ডাক্তার হাজির!!!
ভালমানুষ বেচারী, সে একসাথে কয়জনকে ভালবাসবে...
লেখকের মন্তব্য
প্রাইমারি স্কুলে পড়ার সময় একবার টেলিফোনে ক্রস-কানেকশানে দুই বান্ধবীর (নির্ঘাত আমার চেয়ে বড় ছিলো বয়সে) আলাপ শুনেছিলাম: আমি তো অমিতাভ ছাড়া কাউকে বিয়েই করবো না
ইশ, অরিশ ভাই, বইলা দিতেন, "আমি শাহরুখের তালত ভাই"!!!
হাহাহা! অনেক মজা পেলাম পড়ে।
লেখকের মন্তব্য
আপনার আনন্দময় প্রতিক্রিয়া খুব ভালো লাগলো
হাহাহা।
হুজুর সংক্রান্ত ধরা খাওয়ার কাহিনী বোধহয় ঘটেনি।
ভিন্ন এক প্রসঙ্গে খেয়েছিলাম ধরা।
সেটা নিয়ে পোস্টও দিয়েছিলাম।
''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''
লেখকের মন্তব্য
মনে করে দেখেন, আরো কিছু বাকি রয়ে গেছে কি না, নতুন করে পোস্টান
মনে পড়লেই পোস্টামুনে
শেষের ধরাটা বেশ করুণ!
একটা সময় রসগোল্লা আমার খুব পছন্দের ছিলো। বাজারে গেলে ৪ আনা পয়সা মেরে দিয়ে আগেই একটা রসগোল্লা খেয়ে নিতাম। তো প্রথম পাকাপাকি ভাবে গ্রামে থাকার জন্য যেবার গেলাম, তখন এক মেলায় দেখি বেশ বড়সড় রসগোল্লা। ১৯৭৯র দিকে আমি ক্লাস সেভেনের ছাত্র হলে কি হবে, আমার জিভের পানি আর থামে না। চারটা রসোগোল্লা ১টাকা। আহা কী দারুন ব্যাপার! চটপট প্লেট তুলে অভ্যাস বশে একটা গোল্লার পুরোটা মুখে পুরে দিতেই টের পাই আটার গন্ধ। মিষ্টির ছিটেফোঁটাও না। হায় হায়! পুরা ১টাকা ধরা!
লেখকের মন্তব্য
করুণ বলে আবার অট্টহাসিও দিলেন
হৃদয় আর টাকাপয়সার ধরা এক্কেবারে সেইরম
এত চমৎকারভাবে লিখেছেন আপি......কিছু বলার সাহস পাচ্ছি না.....অসহায়ভাবে হাসলাম.......
লেখকের মন্তব্য
অসহায় কেন, আছে নাকি নিজস্ব ধরাকাহন কিছু, হুজুর না হোক যে কোনো বিষয়ে?
আমার জীবনের পুরোটাই ধরা আর ধরা।
সব ধরা কাহিনী লিখলে আজ সারারাত লিখতেই হবে।
তবে হুজুরের প্রিয়/ অপ্রিয় কোন পাত্রী ছিলাম না। বরং মনে হত আমাকে একটু ভয় পেতেন।
ছেলেবেলায় লুকিয়ে দুধ পাউডার খেতাম কিন্তু কোন না কোন ভাবে ধরা পড়েই যেতাম। মুখে, জামায়, হাতে কোথাও না কোথাও চিহ্ন থাকত।
তবে হুজুর বিষয়ক কাহিনী কিছু লেখা যায়। আমার জীবনের প্রথম হুজুর আমার মা, যেখানে ছিলাম সেখানে হুজুর হয়তো সহজে পাওয়া যেত না। আলিফের উপর জবর দিলে আলিফ জবর আ, বা এর উপর .................. আন্না, বান্না করে পাতার পর পাতা পড়ে সব শেষ করে ফেললাম। এরপর এক কিতাব ( হুজুরের ভাষায়) পড়তে দিলেন। সেটা ছিল উর্দুতে, রা'য়ে নাযাত। পড়তে আমার মজাই লাগছিল... কিন্তু মা গড়বড় করে দিলেন, বললেন এই বস্তু পড়তে হবে না। ইস, মা যদি আরেকটু আগে জানতেন আমি উর্দুতে আরো দুইটা বর্ণমালার উপর বই শেষ করেছি বেঁচে যেতাম কয়েক মাস আগেই।
আমাদের সেই হুজুর ২২ বছর আমাদের বাসাতেই জীবন কাটিয়ে দিয়েছেন, গতবছর মারাও যান আমাদের কাছে থাকতেই। হাসপাতালে যাওয়ার সময় মাকে কিছু কথা বলেছিলেন... হয়তো জানতেন, উনি আর ফিরবেন না।
লেখকের মন্তব্য
আহা, কী কথা মনে করালে! দুধ পাউডার তো আছেই, সঙ্গে যোগ হলো কন্ডেন্সড মিল্ক। নাকে লেগে থাকলে মনে হতো সর্দি
তোমাদের পরিবারের মতো বড়/বর্ধিষ্ণু বাড়িতে এমন হুজুর থাকতেন। আমার এক বন্ধুকে তুমি চিনতে পারো, চন্দনপুরার বেচু মিয়ার গলির সেই বিখ্যাত রাজনৈতির পরিবারের মেয়ে, ওদের বাড়ির মধ্যে মসজিদ-এতিমখানা সব ছিলো, সেখানেও এমন দীর্ঘমেয়াদী হুজুররা থাকতেন। অবশ্য একবার ইমাম-মুয়াজ্জিন না কারা যেন নিজেদের মধ্যে খুনোখুনিও করেছিলো!
ধনধান্য ধরায় ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা, তাহার মাঝে আছে যে এক সকল ধরার সেরা - বিয়ে করে খাওয়া ধরা (আমার এখনই গল্পটা বলতে ইচ্ছে করতেছে...)।
লেখকের মন্তব্য
পোস্ট দিয়ে বলেন, তাত্তাড়ি!
ছে কি দাদাঁ, কমেন্টেঁ দেখি আরো দছ টি গপ্প।
হুজুরময় পোস্ট, এই পোস্ট আরো কয়েকবার পড়লে বেহেস্তে যাওয়া যাইবো নি
লেখকের মন্তব্য
খালি পড়লে হবে না, লিখতেও হবে। ও আচ্ছা, আপনার পোস্ট থেকেই তো হুজুর-সপ্তাহ শুরু হয়েছে! তারপর আমি, হুদাভাই, সুরঞ্জনা... দেখেন আরও কিছু আসতে পারে
নুশেরাপা দৌড়ে পালানোর পর আরবী শেখা কয়েকদিন বন্ধ ছিল তার কয়েকদিন পর অবশ্য আবার বিকাল বেলায় আরবী পড়তে হত সেটা ছিল আর বড় ধরা বিকালে খেলা-দুলার সময় আরবী পড়া
মনে হইলেই কান্দন আহে
লেখকের মন্তব্য
হুবহু এইরকম ধরা আমাদের পাড়ার ছেলেমেয়েরা খাইতো পাড়ার বাঁধা গানের মাষ্টারের হাতে। সপ্তাহে একেকদিন একেক বাসায় উনি ডিউটি দিতেন। সেই বাসার পুলাপানের সেইদিনের বিকালটা পুরা মাটি।
এক
আহারে বেচারি পিচ্ছি নুশেরা ( এই নুশেরা কিন্তু আপনি না - আপনি হলে আপা বা বুবু জাতিয় কিছু নামের পিছে লাগানো থাকত - কারন হুজুর বলিয়াছেন বড়দের নাম ধরে ডাকতে নেই - আমি আবার হুজুরদের কথা খুব মানিয়া চলি)
দুই
এটা কি কইলেন আপনার বাবা হিটলার ছিলেন !! আমি তো জানতাম ঐ ব্যাটা জার্মান দেশের রাজা আছিলো
তিন
কাবলি -ডাবলি কি জিনিস? খাইতে স্বাদ কেমন?
দোয়া দুরুদ ভালু জিনিস
লেখকের মন্তব্য
এক
সমবেদনা জন্য
দুই
এক হিটলার লোকান্তরে
লাখো হিটলার ঘরে ঘরে
তিন
কাবলি=কাবুলি বুট (বালিতে টালা ছোলা)
ডাবলি=ডাবল (দ্বিগুণ) আকারের আফগানী বুট
আরবী পড়া কি শেষ পর্যন্ত সমাপ্ত হয়েছিল ?
হা হা হা হা ।
হুজুর বিষয়ক জটিলতা এখন আর নেই আশাকরি
শুভকামনা সবসময়ের জন্য।
লেখকের মন্তব্য
সমাপ্তি মানে একেবারে সফল পরিসমাপ্তি! সূরা ইয়াসিন, সূরা আর-রহমান ইত্যাদি মুখস্তসহ
শুভকামনা আপনাকেও। নতুন লেখা চাই।
আমার হুজুর আমার লগে না পাইরা ভাগছে

তয় আফনের হুজুররে পিলাচ পিলাচ
লেখকের মন্তব্য
হুজুর নিজেই ধরা
কেন জানি, আমার জীবনের সব ধরাই নারি বিষয়ক
নারি! নাকি নারী?
যদি নারী বিষয়ক ধরা হয়, তবে এখানে পরিবেশন করা হোক। এ ধরায় প্রায় সকলেই কোন না কোন সময়ে ধরা খেয়েছে। আর তাইতো ধরা কাহিনীতে কারোরই অরুচি আছে বলে মনে হয় না।
যে ধরায় বিব্রত হয়েছি তখন, এখন সে ধরা হাস্যরসে ভরা!!
লেখকের মন্তব্য
সিরিজ না হলেও অন্তত পোস্ট আসুক
হুজুর বিষয়ক স্পেশাল কোন ধরা নাই। তবে ক্লাস নাইনে উঠে বিরাট খুশী হৈসিলাম, আরবী/ড্রইং/পিটি এগুলা নাই দেখে।
লেখকের মন্তব্য
আমরা বা আমাদের পরের ব্যাচ বোধহয় এই আরামের শেষ ব্যাচ। এরপর থিকা পুলাপানরে ধার্মিক বানানোর প্রকল্প নিসিলো সরকার।
আমিও যে কত ধরা খাইসি..........ইসসসস...........কত্ত কিছু যে মনে করিয়ে দিলেন আপা..........
লেখকের মন্তব্য
তো পোস্ট হয়ে যাক সব কাহিনী নিয়ে
আপনিতো দারুন মজা করে লিখেন আপু।
লেখকের মন্তব্য
মজা পেয়েছেন জেনে আনন্দিত
হাসতে হাসতে পেটে খিল (রচয়িতা বন্দে আলী মিয়া ছিলেন কি?) বইটির গল্পের চাইতেও বেশী রসময় লেগেছে।
লেখকের মন্তব্য
এ বইটা পড়িনি মনে হচ্ছে

বাপকে এভাবে পাবলিকলি হিটলার বলতে কষ্ট লাগে না?
লেখকের মন্তব্য
কষ্ট লাগবে ক্যান, উনার অগোচরে বলতে পারতেছি, এইজন্য ব্যাপক আনন্দ লাগে
লেখকের মন্তব্য
কুক খামুনা, রুহু কব্জা না রুহু আফজা আছে?
লিংক দেওয়ার সাথে সাথেই লেখাটি পড়ে ফেলেছিলাম; ভুলতে পারিনি 'বিভীষণ বোন', বেশ মজা পেয়েছিলাম, তাই বারেবারে ফিরে আসি ওইটুকু পড়তেই...
লেখকের মন্তব্য
কৌশিকদা, আপনার মন্তব্য তবে এটাই! খুব ভালো লাগছে এখানে ঘুরে গেলেন জেনে।
হ্যাঁ, ঘরভেদী বিভীষণ ভাই-বোন যে কেউই হতে পারে, তাই না? ওই সময়টাতে আমার বোনকে তেমনই মনে হচ্ছিলো
অনেক ধন্যবাদ। আচ্ছা, আপনি এখানে রেজিস্ট্রেশন করে ফেলুন না, খুব সহজ চতুর্মাত্রিকের সদস্য হওয়া। তা হলে নিয়মিত দেখা-কথা হতো আমাদের সঙ্গে।
আমিও ধরা খেলাম তাহলে!
আমাকেও পড়াতে এসে হুজুর ঘুমিয়ে পড়তেন!!! আর আমি আরামসে পেজ আগায়ে আগায়ে সামনের দিকে চলে যাইতাম। একদিন মহা বিরক্ত হয়ে আমি হুজুরকে বললাম, "হুজুর, আপনি ঘুমান কেন?"
হুজুর উত্তর দিলেন, "আল্লাহ পাকের কালাম শুনলে মনে শান্তি আসে। তখন ফেরেশতারা ঘুম ঘুম আবহাওয়া তৈরী করে দেন। তুমি কোন দিন মসজিদে গেলে দেখবে, ওখানে সবাই ঘুমায়ে থাকে।"
আমি গিয়ে আমার মাতাজানকে এই গুরুত্বপূর্ন তথ্য সাথে সাথে ঘোষনা দিলাম। আম্মু তো হাসতে হাসতে শেষ।
অনেক অনেক ভালো লাগলো আপু। ভীষন মজা পেলুম!
লেখকের মন্তব্য
আরে এ তো একদম বিজ্ঞানমনস্ক যুক্তিবাদী হুজুর দেখছি
আমার ব্লগে স্বাগতম ত্রিনিত্রি!
হুজুর সংক্রান্ত লেখা কি এখান থেকেই শুরু হয়েছিল!
লেখকের মন্তব্য
আমার আগে আছেন দখিনো হাওয়া। উনিই শুভ সূচনা করেছেন হুজুর সপ্তাহের
হা হা হা কতো কাহিনি মনে পইড়া গেলো! কইতে গেলে অনেক সময় লাগবে।
লেখকের মন্তব্য
একটা পোস্ট লিখেই জানান দাও
লেখাটা পড়েছিলাম আগেই, কমেন্টাতে আসলাম এখন যেহেতু চতুরে খেরোখাতা সদ্যই খোলা হয়েছে। হুজুররা নমস্য। ছোটকাল থেকেই বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জাতের হুজুরদেরকে (আরবিশিক্ষক হুজুর, মসজিদের হুজুর, পীর-ফকির, তাবলীগার) আমি ফেস করে আসছি, এবং অন্য একটা ব্লগে এগুলো নিয়ে আমার বেশ কিছু লেখাও রয়েছে। আপনার প্রথম দিককার অভিজ্ঞতার সাথে বেশ কিছু কমন পড়ে গেল।
ভার্সিটি লাইফ শেষ হয়নি, তাই হুজুরদেরকে নিয়মিত বিরতিতে আজো ফেস করে চলতে হয়। এই ধারা আর কতদিন চলতে থাকে আল্লামাবূদ জানেন।
লেখকের মন্তব্য
চতুরে এবং আমার ব্লগে স্বাগতম, ধৈবত! আপনার নিক এবং প্রোপিক দুটোই অতি চমৎকার! আশা করছি হুজুরবিষয়ক লেখা পাই বা না পাই, সঙ্গীতবিষয়ক লেখা নিশ্চয়ই পাবো
হা হা! সঙ্গীত বিষয়ক আমার বিন্দুমাত্র নলেজ বলতে কোন জ্ঞানই নাই। রাস্তার পাশে মরিচ দিয়ে ডিম খেতে গিয়ে ঠোঙ্গার মধ্যে এ শব্দ পেয়েছিলাম, মনে ধরেছিল বলে, ভাবের ঠ্যালায় নিক হিসেবে চালিয়ে দিয়েছি। পরে যখন অর্থোদ্ধার করলাম, ভাবলাম, প্রো-পিক যখন দিচ্ছি তো নিকের আনুষাঙ্গিক কিছু একটা দিয়েই দেই....
লেখকের মন্তব্য
হুজুর বিষয়ক আমার কিছু লেখা এখানে একাদিক্রমে পাওয়া যাবে। এখানে কিছুটা অষ্টাদশোর্ধ্ব ব্যাপার্স্যাপার আছে বলে আপুর কাছে আগে ভাগে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
-আচ্ছা, অন্য কোন ব্লগে নিজের প্রকাশিত লেখা কি চতুর্মাত্রিকে পুনঃপ্রকাশ করা যাবে? নীতিমালা পড়ে ব্যাপারটা পরিষ্কার হলো না।
লেখকের মন্তব্য
এখানেই দিয়ে দিন না সিরিজটা! অন্য ব্লগে পূর্বপ্রকাশিত লেখায় কোনো সমস্যা নেই। চতুর্মাত্রিক এই অ্যালার্জি থেকে মুক্ত
মন্তব্য করুন