নুশেরা-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

Luxness is about indulging in beautification and flaunting femininity without being apologetic about it. It is about being a woman, feeling wonderful about it and grooming that womanhood to maximize beauty and playfulness.
It looks for women who believe in the magic in them and is ready to come forward in media for at least three months of grueling contest that finds the spark in them and grooms it to the highest level of excellence.
-- LCSS (Lux Channel i Super Star)
আয়েশা খানম বড় ধরণের দোটানায় পড়েছেন। দোটানার কারণ-- ছোট মেয়ে মুক্তাকে নিয়ে তার ছেলেমেয়েরা দুই দলে ভাগ হয়ে গিয়েছে। দু’পক্ষের কথাতেই যুক্তি আছে; কারো কথাই তিনি ফেলে দিতে পারছেন না।
গোলমালটা বাঁধিয়েছে মুক্তা নিজেই। আড়াইমাস আগে বাবামা ভাইবোন কাউকে কিছু না জানিয়ে ‘ফেয়ারি-চ্যানেলএক্স তারকার সন্ধানে’ প্রতিযোগিতায় নাম লিখিয়ে নিজের ছবি পাঠিয়ে দিয়েছে। প্রাথমিকভাবে সে অথবা তার ছবি সারা দেশ থেকে নির্বাচিত বারশজনের মধ্যে জায়গা পেয়েছে। তারপর বিভাগীয় পর্যায়ে প্রথম ধাপের অডিশনে ডাক এসেছে। কোন এক শুক্রবার সকালে ব্যাচে ইকনমিক্স পড়ার নাম করে সেখানে গিয়ে সে টিকেও গেছে। এখন দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা হবে সন্ধ্যার পর, সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে আনুষ্ঠানিকতা চলবে, তাছাড়া ভালমতো সাজগোজ করার ব্যাপার আছে, এইবেলা আম্মার কাছ থেকে অনুমতি না চেয়ে উপায় থাকেনি তার।
মায়ের চোখে ছেলেমেয়েদের বয়স সহজে বাড়ে না, তার ওপর চার ভাইবোনের সবার ছোট বলে মুক্তার আদরটা বরাবরই একটু বেশি। নিজের সন্তানের প্রশংসা করতে নেই, তবু আয়েশা খানম স্বীকার করেন, ছোট মেয়ে লম্বা হয়েছে বাবার মতো, পাশাপাশি পেয়েছে নানীর গায়ের রং আর মায়ের চুলের গোছ। তার রূপসী মেয়েকে টিভিওয়ালারা যে পছন্দ করেছে, সেজন্য তিনি ভেতরে-ভেতরে বেশ খুশি। তবে বড় ছেলের অপ্রসন্ন দৃষ্টির সামনে মুখ ফুটে এই আনন্দটুকু প্রকাশ করতে পারছেন না।
মুক্তারা ময়মনসিংহ শহরের কালিবাড়ি এলাকার বাসিন্দা। তিন বেডরুমের ভাড়া বাসায় মা, বড়ভাই-ভাবী আর ভাইয়ের দুই বাচ্চা নিয়ে তাদের সাদামাটা সংসার। মুক্তার কাজটিকে বড় ভাই রফিক দেখছে কাণ্ডজ্ঞানহীন দুঃসাহস হিসেবে, যাতে সে যথেষ্ট বিরক্ত। তার বক্তব্য, টিভিসিনেমা আর বিজ্ঞাপনের লোকজন সুবিধার না, এমন জায়গায় যাওয়া ভদ্র পরিবারের মেয়েদের মানায় না। এমন নয় যে সুন্দরী প্রতিযোগিতা, মিডিয়া, কিংবা হাল আমলের নারীসংশ্লিষ্ট অঘটন সম্পর্কে রফিকের অগাধ জ্ঞান; গাঙ্গিনা মার্কেটে নিজের জুতোর দোকান রফিক সুজ-এ বসে খদ্দেরের পায়ের মাপ আর দরদামের মধ্যেই তার কাজকর্ম সীমাবদ্ধ। এর বাইরে খবরের কাগজ অথবা টিভি চ্যানেলে রাজনীতি আর সড়ক দুর্ঘটনা ছাড়া কোনো বিষয়ে সে আগ্রহ পায় না। তবু হাওয়া-বাতাসে ভেসে বেড়ানো কেচ্ছা-কেলেঙ্কারির কথা তার কানেও কিছুটা আসে বৈকি।
বড় ছেলের অজান্তে পুত্রবধূর মোবাইল থেকে বড় মেয়ে আর ছোট ছেলের কাছে ফোন করেন আয়েশা খানম। বড় মেয়ে ঢাকায় থাকে, সব শুনে সে দারুণ উত্তেজিত। তার মতে, টিভির বিজ্ঞাপনে দেখা মডেল আর অভিনেত্রীদের চেয়ে তার বোন কোনো অংশেই কম না। নিজের সময়ে এমন একটা সুযোগ পেলে জীবনটা যে আমূল বদলে ফেলতে পারত, তা নিয়ে খানিকটা আক্ষেপও প্রকাশ পায় তার কথায়। এমনকি কিছুক্ষণের মধ্যে ফিরতি ফোনকলে জানিয়ে দেয়, তার স্বামীও শ্যালিকাকে প্রতিযোগিতার টপটেনে দেখতে অত্যন্ত আগ্রহী।
রাজেন্দ্রপুরে পার্টিকেল ফ্যাক্টরির কাজে ব্যস্ত ছোট ছেলে অবশ্য মায়ের কথায় আপত্তি অথবা উৎসাহ কোনোটাই দেখায়নি। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সময়কার সহপাঠী এক মেয়েকে বিয়ে করতে চেয়ে এখনো বড়ভাইয়ের অনুমোদন পায়নি; সিদ্ধান্তটা ঝুলে আছে অনেকদিন ধরে। মুক্তার বয়স যে ঊনিশ পেরিয়েছে, মাকে সেই কথাটি মনে করিয়ে দিয়ে সে তার দায়িত্ব শেষ করেছে।
সবশেষে স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন আয়েশা। মোশাররফ হোসেন ঠিক বুঝে উঠতে পারেন না কী বলবেন। অবশ্য সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগার স্বভাব তার বরাবরের, যে কারণে কৃষি ব্যাংকে একেবারে লক্কড়ঝক্কড় ব্রাঞ্চেও ডেপুটি ম্যানেজারের ওপরে উঠতে পারেননি। শেষমেষ বাসায় ফিরে বিস্তারিত আলাপ করবেন বলে স্ত্রীকে আশ্বাস দেন। কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর থেকে মাসে দুবার সপ্তাহান্তে ময়মনসিংহের ট্রেন ধরেন তিনি; মাস তিনেক পর এলপিআরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত এই আপডাউন চলবে।
রাজধানী শহর বাদে ঢাকা বিভাগের বাদবাকী জেলাগুলোকে নিয়ে আলাদা বিভাগ করা হয়েছে; সেখানকার প্রতিযোগিতার জন্য ভেন্যু নির্ধারিত হয়েছে ময়মনসিংহ শহরে। অভিজাত নিরালা হোটেলের হলরুমে বিকেল পাঁচটার মধ্যে প্রতিযোগীদের উপস্থিত হতে হবে। মুক্তার যাওয়া নিশ্চিত হলো বিকেল সাড়ে তিনটায়, বোন-দুলাভাই ঢাকা থেকে সকালের বাস ধরে ময়মনসিংহে এসে হাজির হওয়ার পর।
রাত সাড়ে এগারটায় বাসার সামনের গলিতে সিএনজি থেকে নেমে বোনকে আরেকবার জড়িয়ে ধরে মুক্তা। তার বিশ্বাস, আপার জামরঙা কাতান শাড়িটা খুব পয়মন্ত; আজ এটা পরেছে বলেই ঢাকার টিকেট পাওয়া পাঁচজনের একজন হতে পেরেছে সে।
দুই
লাঞ্চের পর মুক্তা ডায়রি নিয়ে বসেছে। কোঅর্ডিনেটর স্যারের উপদেশ অনুযায়ী ক্যাম্পে আসার পর থেকে যা কিছু শিখেছে-- সেসবের খুঁটিনাটি লিখতে হবে। প্রথমেই সে লেখে ভোরে ঘুম থেকে ওঠার পর রুটিনবাঁধা ইয়োগা আর অ্যারোবিক্স ক্লাসের কথা। পঁচিশজনের বেশিরভাগই আগে কখনো ব্যায়াম করেনি। অনভ্যস্ত হাতপায়ের পেশিতে টান পেয়ে পেইনকিলার ট্যাবলেট খাচ্ছে কয়েকজন। ক্যালরিমাপা খাবারের পর প্যারাসিটামল-ক্লোফেনাক গিলে পেটব্যথা করছে কারো কারো। সেখানে না হলেও মুক্তার সমস্যা হয়েছে অন্য জায়গায়। খাওয়ার টেবিলে ছুরি-কাঁটা-ন্যাপকিনে অভ্যস্ত হতে প্রাণপণ চেষ্টা করছে সে। তবু দেখা যাচ্ছে ব্রেকফাস্টের সময় ব্রেড-নাইফের বদলে সে অন্য ছুরি তুলছে, লাঞ্চ বা ডিনারে বেয়াড়া ধাতব শব্দ হচ্ছে তার প্লেটে, ফর্ক উঠে আসছে ডান হাতে। প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে পড়া পাঁচটি মেয়ে নিজেদের ‘হাই-ফাইভ’ বলে পরিচয় দেয়; কুমিল্লা থেকে আসা মিমির স্প্যাগেটি খাওয়ার কসরত দেখার পর থেকে তারা ওকে মিস স্প্যাগেটি নামে ডাকছে।
হাই-ফাইভের একটি মেয়ে মুক্তার রুমমেট; সে অবশ্য সহজভাবেই বাথরুমের জাকুজি ফাংশনিং আর এসির রিমোট কন্ট্রোলের বাটনগুলোর কাজ বুঝিয়ে দিয়েছে তাকে। বরং ‘জি-সেভেন’ নামের ইংলিশ মিডিয়াম পড়ুয়া মেয়েদের গ্রুপটিকে দেখলে অস্বস্তি হয় মুক্তার। হাই-ফাইভ আর জি-সেভেনের সবাই নিজস্ব ল্যাপটপ নিয়ে এসেছে, টুইটারে ডায়রি লিখছে, ফেইসবুকে ফ্যানপেইজ খুলে ছবি আপলোড করছে। ভাগ্যিস তার মতো খাতাকলম-নির্ভর আরো কয়েকজন আছে। মুক্তার কলেজের বান্ধবী রিনির ভাই সাইবার ক্যাফে খুলেছে আনন্দমোহন কলেজের কাছে, সেখানে গিয়ে একবার ওরা তিন বান্ধবী ফেইসবুকে নাম লিখিয়ে এসেছিলো, তবে দুতিনবারের বেশি খোলা হয়নি সেটা। মুক্তা একবার ভেবেছে রিনি বা শায়লাকে বলে একটা ফ্যানপেইজ করে নেবে। তবে যেরকম আজেবাজে মন্তব্য আসে সামিয়া, মাইশা আর লাবণীর পেইজে, সেরকম কিছু সহ্য করতে পারবে না ভেবে শেষে আর সাহস পায়নি। ওরা অবশ্য বলে, এগুলো নেহাত ফান-- ‘আরে ইয়ার, ইটস অল ইন দ্য গেইম!’ এসএমএস কাউন্ট শুরু হলে এমন সব পাবলিসিটি নাকি কাজে দেবে। মুক্তার ভরসার জায়গা একটা আছে বটে। তার শহর, এমনকি বৃহত্তর ময়মনসিংহ থেকে একাই উঠেছে সে প্রথম পঁচিশে, কাজেই সেখান থেকে প্রচুর এসএমএস পাবে বলে তার ধারণা।
মডেলিং নিয়ে একদিনের ওয়ার্কশপটা খুব ভাল লেগেছে মুক্তার। সারিনা নামের মডেল মেয়েটি মুক্তাকে বার বার জিজ্ঞেস করছিলো চুলের যত্ন নিতে সে কী করে। কে বলবে এই সারিনা সাতটা বিজ্ঞাপন আর এগারটা টিভি-নাটক করে ফেলেছে! অথচ আক্ষেপ করছিল তার বয়স এখনো আঠার দূরে থাক, সতেরও হয়নি বলে এই প্রতিযোগিতায় নাম দিতে পারেনি। সাহস করে মুক্তা বলে ফেলেছে, সারিনার করা ফ্রিজের নতুন বিজ্ঞাপনটা তার খুব পছন্দ হয়েছে। ‘তাহলে দোয়া করবেন আমার যেন ওইরকম একটা জামাই আর সংসার হয়'-- ঠাট্টা করেছে সারিনা। বাল্যবিবাহ-বিরোধী প্রচারণার জন্য নতুন একটা কাজ করেছে সে; সামাজিক দায়িত্ব নিয়ে সবাইকে ভাবার পরামর্শ দিয়ে বেশ হাততালি পেল আয়োজকদের কাছ থেকে।
‘সেলিব্রেটিং ওমেনহুড’ বিষয়ে একটা লেকচার ছিল প্রথম দিনেই। সব কথা সে ঠিকমতো বোঝেনি, খাতায় টুকে নিতে পারেনি তেমন কিছুই। পার্টিসিপেটরি সেশন ছিল, তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল ‘ইনডালজিং ইন বিউটিফিকেশন উইদাউট বিয়িং অ্যাপোলজেটিক’ বলতে কী বোঝায়। কিছু বলা দূরে থাক, মুখ খুলে একটা প্রশ্নও করতে পারেনি মুক্তা। ইংরেজির দুর্বলতা কাটাতে র্যাপিড স্পোকেন ইংলিশের বই খুলে পড়ছে অবসর পেলেই, তাতে খুচরো কিছু ট্রান্সলেশন মুখস্ত করা ছাড়া কাজের কাজ কিছু হচ্ছে না।
তবে সৌন্দর্য বিষয়ে এই ক’দিনে অনেক কিছু শিখেছে সে। এতজন সুন্দরী মেয়ে এখানে, যাদের সবাইকে নিখুঁত বলে মনে হয়, আসলে সবারই কিছু না কিছু ঘাটতি আছে! সেসব আবিষ্কার করে পরামর্শ দিতে আসছে বিশেষজ্ঞদের একটা দল। একটু চাপা রঙের মেয়েটাকে ফর্সা দেখানোর জন্য কায়দাকানুন বাতলে দিল তারা। সেটা না হয় বোঝা গেল, কিন্তু ফটফটে ফর্সা, কটা চোখের মেয়েটাকে, যাকে দেখতে একদম বিদেশি-বিদেশি বলে মনে হতো মুক্তার, তাকে এরা দিল ট্যান স্প্রে করার পরামর্শ। ওরিজিনালের চেয়ে দুই শেড ডার্ক গমরঙা ত্বকে তাকে নাকি ভাল দেখাবে! মিলিয়ার ফাঁপানো কোঁকড়া চুলে রিবন্ডিং ট্রিটমেন্ট দিয়ে একদম সোজা বানিয়ে ফেলল। অথচ নেতানো দেখায়, এই অজুহাতে মাধুরীর অমন সুন্দর ঝরঝরে সোজা চুলে কার্লার বেঁধে ঢেউ খেলিয়ে দিল। মুক্তার চুলের গোছা বেশি বলে তাকে কাঁধ থেকে ধাপে ধাপে লেয়ারকাট দেয়া হয়েছে। হাতপা ত্বকচুলচোখের যত্নের কিছু ব্যাপার টিভিতে দেখলেও এমন বিশাল আয়োজন আর সাজসরঞ্জাম এখানে আসার আগে কখনো সে কল্পনাই করতে পারেনি।
সাভারের এই বাগানবাড়িতে তাদের ক্যাম্পের মেয়াদ পনের দিন। সেখানে সারাদিন ধরে চলে প্রথম চল্লিশ থেকে উঠে আসা পঁচিশজনের গ্রুমিং সেশন। অভিনয়ের পাশাপাশি হাল্কা নাচের অনুশীলন; বিকেলে আউটডোর গেমস, রাতে র্যাম্পের ক্যাটওয়াক আর ইন্টেলেক্ট টেস্টের মহড়া। এরপর সাতদিন ঈদের ছুটি কাটিয়ে সেকেন্ড রাউন্ডের প্রতিযোগিতা। বিচারকদের দেয়া নম্বর আর দর্শকদের এসএমএস মিলে বারজন উঠবে কোয়ার্টার ফাইনালে। মডেলিং কন্ট্র্যাক্ট পাবে সেমিফাইনালিস্টরা, অর্থাৎ প্রথম পাঁচজন। ক্রাউন জিতলে তো কথাই নেই। আনকোরা নতুন গাড়ি, বিদেশে অভিনয় শেখার বৃত্তি, বিজ্ঞাপন আর নাটক-সিনেমায় কতরকম কাজের চুক্তি।
তিন
ঈদের দিনটা খুব খারাপ কাটছে মুক্তার। আব্বা আর ছোটভাইয়া এসেছে আগের দিন; দুপুরের মধ্যে বড়আপাও দুই বাচ্চাসহ এসে হাজির। ঘরের মধ্যে ঠাসাঠাসি অবস্থা। এতটুকু প্রাইভেসি নেই কোথাও। চুলে একটা প্রোটিনপ্যাক মাখবে বলে নিয়ে এসেছিল, এখন গোসল করার পানিও নেই। বড় ঝামেলা হয়েছে কোরবানির মাংস সামলানো নিয়ে। এবার গরুর তিন ভাগা নেয়া হয়েছে, অথচ সকাল থেকে আম্মার ডানহাতে পুরনো বাতের ব্যথা চেপে বসেছে। ভাবীর সঙ্গে রান্নাঘরে মাংস কাটা-বাছা করতে বসে কান্না পাচ্ছে তার। মাত্র চারদিন আগে ম্যানিকিউর করানো আঙুলগুলোর চেহারা এখন যাচ্ছেতাই। পায়ার বড় হাড় কাটতে গিয়ে ধামার কোপে একটা নখের বাড়তি অংশ উধাও হয়ে গেছে। গোলাপি নেইলপলিশ পরা বাঁ হাতটাকে দেখাচ্ছে বাসি ফুলের মতো, যার একটা পাপড়ি খুবলে নেয়া হয়েছে।
বিকেল সাড়ে তিনটায় তাদের গ্রুমিং ক্যাম্পের ব্যক্তিত্ব ও সাহস যাচাইয়ের পর্বটা দেখাবে, অথচ টিভিতে কার্টুন চ্যানেল খুলে বসে আছে ভাইয়া আর আপার ছেলেমেয়েরা। আপা নিজের বাচ্চাদের খাওয়াদাওয়া নিয়ে মহাব্যস্ত। গলার ভেতর দলাপাকানো কান্নার ঢোক গিলতে থাকে মুক্তা। সবাই তাকে উপেক্ষা করছে। প্রথম প্রথম অনেক উৎসাহ দেখালেও আপা কেমন যেন নিস্পৃহ হয়ে গেছে। ‘সেভিং নেচার’ থিম নিয়ে একটা ইভেন্ট হয়েছে গত সপ্তাহে, সেদিনের জন্য আপা তাকে কিনে দিয়েছিল সূর্য আঁকা ফতুয়া আর জিন্স। সঙ্গে চাঁদনিচক থেকে কিনে আনা ইমিটেশনের গহনা। একেবারে গাঁইয়ামির চূড়ান্ত! অথচ অন্য প্রতিযোগীরা পরেছে মাটি, কাঠ, ফলের বিচি, এমনকি কচুরিপানার তৈরি অ্যাকসেসরিজ। বোঝাই যাচ্ছিল সবচেয়ে বেশি স্কোর করবে সাগরের ঢেউয়ের মতো নীল শিফনের লংড্রেস আর সাদা ঝিনুকের গয়না পরা লাবণী। অথবা ব্যাংকক থেকে শপিং সেরে আসা সুমাইয়া-- ওর সারি-সারি পানপাতা বসানো স্কার্ট আর অর্কিডের গয়নাটা কাপড় দিয়ে বানানো বলে মনেই হচ্ছিল না!
বিজ্ঞাপনের স্রোত পার করে অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। মুক্তাদের বসার ঘরে আটজোড়া চোখ টিভিপর্দায় সেঁটে। বাগানবাড়ির লনে প্রত্যেকের জন্য পাশাপাশি রাখা দুটো বেতের ঝুড়ি; একটাতে জ্যান্ত সাপ, আরেকটাতে একটুকরো কাগজ। চোখ বাঁধা অবস্থায় আন্দাজ করে ঠিকঠাক ঝুড়ির ঢাকনা খুলে সেই কাগজটা তুলতে হবে। মেয়েরা সবাই ভয়ে আধমরা; হাত কাঁপাকাঁপি, আতঙ্কিত চিৎকার। মুক্তার পালা পাঁচ নম্বরে। বুদ্ধিমতীর মতো সে ঝাঁকিয়ে পরখ করে নিল দুটো ঝুড়ি, হাসিমুখে বের করে আনল ‘আমি পেরেছি’ লেখা কার্ড। সাহস-যাচাই পরীক্ষায় সবচেয়ে ভাল স্কোর হয়েছে তার। পরে জানানো হলো, কোনো ঝুড়িতেই সাপ ছিল না!
ঈদের পর ক্যাম্পে ফিরে ‘গ্লোরিয়াস সিক্সটিজ’ ইভেন্টে ভালভাবেই উতরে গেল মুক্তা। ছোট আঁচল, ভারি খোঁপা, বিশাল টিপ আর টানা কাজলে তাকে চমৎকার দেখাচ্ছিল। একটু সঙ্কোচ হয়েছিল স্লিভলেস ব্লাউজ নিয়ে, তবে অনেক বেশি সরু স্ট্র্যাপ আর নীচু ব্যাকলাইনের ব্লাউজে অন্যদের দেখে তার জড়তা কেটে যায়।
ঝামেলা হলো পরদিন ইভনিং গাউন পরতে গিয়ে। এই ইভেন্টের পোশাক আয়োজকরা সরবরাহ করেছে; তৈরি হয়েছে দেশসেরা ডিজাইনারদের হাতে। মুক্তার জন্য বরাদ্দ হয়েছে ফ্রিল ঝোলানো লাল গাউন, যার ডানপাশটা স্ট্র্যাপবিহীন। এমন ডিজাইনের জামা পরার জন্য যে-বিশেষ ধরণের অন্তর্বাস প্রয়োজন, সেটা মুক্তার নেই। অফশোল্ডার, পুশআপ, হল্টার, ব্যাকলেস, ইনভিজিবল-- ব্রা যে এত রকমের হতে পারে, এই প্রথম জানল সে। অসহায়ের মতো কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করল এগুলোর দাম কেমন, কোথায় পাওয়া যায়। আগে জানলে আপাকে বলতো নিয়ে আসতে; এখন সেই সময়টাও তার হাতে নেই। ক্যাটওয়াকে পা-হড়কানো ঠেকাতে কেউ কেউ যখন ডায়ানা ফেরারি অথবা নোভোর হাইহিল জুতোয় প্যাডেড কুশনস্ট্রিপ সাঁটছে, মুক্তা ততক্ষণে একটা কাঁচি জোগাড় করে এনেছে। কালো চিকেনের ব্রেসিয়ারের ডানপাশের স্ট্র্যাপটা কাটতে হবে তাকে। হেয়ার ড্রেসারকে বলেছিল চুলটা সে একপাশে ছেড়ে রাখতে চায়; কিন্তু আসল কারণটা বুঝতে না পেরে মহিলা তার চুলে উঁচু করে ফ্রেঞ্চনট বেঁধে দিয়েছেন।
‘তুমি যে ড্রেসটা পরেছ সেটা কেমন লেগেছে তোমার?’-- প্রত্যেককে একই প্রশ্ন দিয়ে শুরু করছেন নামকরা ফ্যাশন ডিজাইনার সালমান শহীদ। আগের প্রতিযোগী মিমি ‘ট্রিমেনডাস’ বলতেই বেশ একচোট হাসাহাসি হয়ে গেছে তিন বিচারকের মধ্যে। অভিনেত্রী সুকন্যা মুস্তাফা শুধরে দিয়ে বলেছেন: পোশাকের বর্ণনা দিতে ট্রিমেনডাসের বদলে শব্দটা হওয়া উচিত ছিল ‘টেরিফিক’। মুক্তা ঠিক করেছে উত্তর দেয়ার সময় ইংরেজি শব্দের ব্যবহার এড়িয়ে যাবে। টিভি ক্যামেরায় ধারণ করা হচ্ছে এই পর্ব; কোনো ঝুঁকি নেয়া চলবে না।
‘শেষবার কোন্ পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলে তুমি?' দ্বিতীয় প্রশ্ন এল সুখ্যাত সাহিত্যিক সৈয়দ কামরুল হকের কাছ থেকে। মুক্তার উত্তর শুনেই চোখ মটকে হাসলেন বিচারক; ‘মেট্রিক’ অথবা ‘ইন্টার’ নামের কোনো পরীক্ষা বাংলাদেশে চালু আছে বলে তাঁর জানা নেই।
সুকন্যা মুস্তাফার মতে মুক্তা দেখতে বেশ ভাল হলেও পড়াশোনার ঘাটতিটা প্রমিন্যান্ট। মেয়েদের ফিজিকে কার্ভ প্রেজেন্টেশনের গুরুত্ব নিয়ে কিছু কথা বললেন সালমান শহীদ। উপদেশ দিলেন দাঁড়ানোর সময় পশ্চার বিষয়ে যত্নবান হতে। সৈয়দ কামরুল হকের কথা আর ভালমতো শুনতে পেল না মুক্তা। তার কান ঝাঁ-ঝাঁ করছে।
চার
কবি বিমলেন্দু গুণের শীত-শীত লাগছে। শীতকযন্ত্রের বাড়াবাড়িতে তাঁর সাইনাসের প্রদাহ ঘটে। তাই সার্বক্ষণিক সঙ্গী চটের ঝোলাতে সাধারণত একপ্রস্থ কাশ্মিরি অথবা মণিপুরি শাল তিনি সারাবছরই বহন করেন। তাঁর কবিবন্ধু মহাকাশ সাহা যেমন সঙ্গে রাখেন কার্ডিগ্যান। ঝোলাটা ময়লা হয়ে গেছে বলে বদলে দিতে বলেছিলেন; কন্যা মৃন্ময়ীর ভুলে নতুন ঝোলায় শালের অনুপস্থিতি তাঁকে বিপদে ফেলেছে।
অঘ্রাণের মাঝামাঝিতে ভারি চমৎকার আবহাওয়া। এদের আয়োজনটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে না হয়ে উন্মুক্ত কোন উদ্যানে হলে বেশ হতো। দিনকয়েক আগেই পত্রিকায় দেখেছেন নাগলিঙ্গমের ফুল এসেছে কোথায় যেন, কানাকুয়া বাচ্চা ফুটিয়েছে-- সেরকম কোনো গাছের ছায়ায় বসে একালের রম্ভামেনকাদের উদ্দেশ্যে কিছু বলা যেত। অথচ এখানে এরা তৈরি করেছে এক রুদ্ধদ্বার সাইবেরিয়া। শীতে কুঁকড়ে যেতে যেতে একটুখানি ওমসঞ্চিতির আশায় বিমলেন্দু গুণ দু’হাত বুকের কাছে আড়াআড়ি ভাঁজে চেপে ধরলেন। মঞ্চে উঠেছেন স্মৃতি আরা রাফিয়া চৌধুরি। হাতে ধরা ছোট কাগজ; লিখিত বক্তব্য পাঠ করবেন এই সফল পেশাজীবী।
‘সুন্দর সে, আরো সুন্দর হোক/ যুগ যুগ ধরে নীরব কবির/ তাকে দেখে চোখ জুড়াক/ সুন্দর সে, নয় কারো একার/ সুন্দর তুমি, আমি সবার। মনে রাখতে হবে গায়ের রং বা ত্বকের লাবণ্যই সুন্দরের মাপকাঠি নয়, ব্যক্তিত্বই হচ্ছে সৌন্দর্যের প্রধান বিচার্য বিষয়। যে সুন্দর সে চলনে, বলনে, সর্বোপরি মননেও সুন্দর। সেই সুন্দরের সন্ধানই যেন আমরা সবাই করি। আমরা জেনেছি সারা দেশ থেকে প্রতিভাময়ী মেয়েদের খুঁজে আনার প্রয়াস নিয়েছেন এই প্রতিযোগিতার আয়োজক কর্তৃপক্ষ। এমনকি প্রত্যন্ত অঞ্চলও বাদ যায়নি তাদের কর্মপরিধি থেকে। সেজন্য তাদের সাধুবাদ জানাই।’
একটু দম নিয়ে স্মৃতি আরা রাফিয়া চৌধুরি আবার শুরু করেন। ‘আমরা বিশ্বাস করি, নারীর শক্তি প্রকাশ্য পেশিবাহুল্যে নয়। নারীর ক্ষমতা তার প্রচ্ছন্ন সৃষ্টিশীলতায়, মায়ায়, মমতায়, প্রেরণায়, সৃজনকর্মে। আজকের ব্যস্ত পৃথিবীতে আমাদের জীবন তীব্র গতিতে ধাবমান, বহুমুখী জটিলতায় ভারাক্রান্ত। দু’দণ্ড বিশ্রাম নিতে দেশের সাধারণ মানুষ টিভিপর্দার শরণাপন্ন হচ্ছে। আর সেখানেই বিনোদন জগতের শক্তি। সমাজের কাছে কোন বার্তা পৌঁছে দিতে হলে একজন বিশেষজ্ঞের চেয়ে একজন মিডিয়া-তারকা অনেক বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন। তাই আমার বিশ্বাস, 'ফেয়ারি-চ্যানেলএক্স তারকার সন্ধানে' শীর্ষক এই প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে যারা উঠে আসবেন, নিজেদের মর্যাদাপূর্ণ ক্যারিয়ার গঠনের পাশাপাশি দেশের কল্যাণেও তারা ভূমিকা রাখবেন। একজন নারী হিসেবে তাদের কাছে আমার প্রত্যাশা, নারীর প্রতি সহিংসতার এই ক্রান্তিকালে তারা নারীকে সাহস ও প্রেরণা যুগিয়ে চলবেন।’
পাঁচ
এতদিনের চেনা ময়মনসিংহ শহরটাকে অচেনা লাগছে মুক্তার। অচেনা আর অসহ্য। যেমন অসহ্য লাগছে যখন-তখন তাকে দেখতে আসা প্রতিবেশি মহিলা আর মেয়েগুলোকে। বাসার সামনের গলিটা দেখলেই মনে পড়ছে ওখানে দাঁড়িয়ে দুলাভাইয়ের ইয়ার্কি-- ‘তোমার ব্র্যান্ড নিউ গাড়িখান ঢুকানোর জন্য তো বাসা চেঞ্জাইতে হবে শালিজান।’ ‘তারকার সন্ধানে’ প্রতিযোগিতা বেশ জমে উঠেছে এবার; সপ্তাহে দু’দিন রাত সাড়ে আটটায় আশেপাশের সবগুলো বাসার টিভি থেকে ভেসে আসা টাইটেল মিউজিক শুনে কান্না পায় মুক্তার। কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই এভাবে বাদ পড়ে যাবে-- এমন করুণ ও অপমানজনক সম্ভাবনার কথা সে ভাবতেই পারেনি। নিজের পাশাপাশি আম্মা আর আপার ওপরও রাগ হয় তার। ওরা যদি প্রথম থেকেই বাধা দিত, এই দুঃসহ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তাকে যেতে হতো না।
কলেজে মেয়েদের কমনরুমের সামনে তার জন্য এসএমএস চেয়ে পোস্টার লাগিয়েছিল বান্ধবীরা; সেটার চারপাশ খুবলে গেলেও নীচে কে যেন লিখে রেখেছে সৈয়দ কামরুল হকের মন্তব্যের উদ্ধৃতি: ‘তোমার সাজগোজ পরিমিত, তবে উপস্থিতিতে যৌবনের আবেদনটা ঠিক পেলাম না।’ তিনদিন পর দেখা গেল, ‘যৌবনের’ শব্দটা কেটে দিয়ে ‘যৌন’ লিখে গেছে কেউ। পরদিন থেকে মুক্তা কলেজে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।
শুক্রবার সকালে রিনির সঙ্গে ইকনমিক্সের শাজাহান স্যারের বাসায় ব্যাচে পড়তে যায় মুক্তা। আজ সেই পথে একটা মোটরসাইকেল পিছু নিয়েছিল তাদের। তিন যুবকের সম্মিলিত উল্লাসধ্বনি ছুটে এসেছে-- ‘শাহনাজ হারবাল/ রাঙাইলো কার গাল?’ কিছুক্ষণের মধ্যেই অনুপ্রাস-সৃজনে নিজস্ব প্রতিভার প্রমাণে সচেষ্ট হয়েছে একজন-- ‘শাহনাজ হারবাল/ রাঙাইলো কার বাল?’
ছয়
সুরমারঙা তসর পরিহিতা স্মৃতি আরা রাফিয়া চৌধুরি তাঁর সুগ্রন্থিত বক্তব্য শেষ করেছেন। করতালির দামামা বেজে উঠেছে সুরম্য সম্মেলনকক্ষজুড়ে। অলসতা অথবা শীতকাতরতাহেতু বিমলেন্দু গুণ হাততালি দেন না। তাঁর মনে পড়ে করতালির বদলে কবিগুরু কর্তৃক প্রচলিত সাধুবাদ জ্ঞাপনের শান্তিনিকেতনী কেতার কথা। একাত্তরে কলকাতার পাশাপাশি শান্তিনিকেতনেও কিছুদিন থেকে এসেছিলেন, তখন দেখেছেন গান শেষ হলে সামনের সারির শ্রোতারা মাথা দুলিয়ে বলে ওঠেন-- ‘সাধু, সাধু!’
এই অনুষ্ঠানে আসার জন্য প্রসাধনী আর টিভি কোম্পানির কর্তাব্যক্তিরা চিঠির পাশাপাশি তাঁকে ফোনেও আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। তবে কিছু বলতে বলেছিল কি-না, সেটা তিনি ভুলে গেছেন। ডাক এলে অবশ্য মন্দ হয় না। আসার পথে মুঠোফোনে জমিয়ে ফেলেছেন কয়েকটি স্তবক; সেখান থেকেই পাঠ করে দেবেন। গেলবছর বিজয় দিবসের পরদিন টিভিপর্দায় দেখা মুক্তিযোদ্ধার সাক্ষাৎকারটি মাথায় আসছে ঘুরেফিরে, ক’টি চরণ মকশো করে নেন মনে মনে:
আমার কন্যাটি স্বপ্ন দ্যাখে
নামীদামী হবে সে
রূপ ও রূপোয় দ্যুতিময়।
পুত্র আমার তর্ক তোলে
বীরপ্রতীক পুরস্কার মাত্র তো দশ হাজার
দশ লক্ষ মেলে সেরা কণ্ঠে;
তাই সে গায়ক হতে চায়।
...
বিমলেন্দু গুণের কাব্যচিন্তায় ছেদ পড়ে। সুসজ্জিত মঞ্চে অনুষ্ঠানের সঞ্চালক মেয়েটির পুনরাবির্ভাব ঘটেছে। সাপের খোলস ছাপের চকচকে শাড়িটি অজগরের মতো পাকে-পাকে পেঁচিয়ে পরার কায়দাটি কোথাকার হতে পারে, আন্দাজ করার চেষ্টা করেন বিমলেন্দু। সরু খুরের জুতোপরা পা জড়িয়ে-জড়িয়ে মাঝমঞ্চের দিকে হেঁটে চলেছে নির্মোকাবৃতা ঝলমলে তরুণী, তাকে অনুসরণ করছে আলোকিত বৃত্ত।
‘থ্যাঙ্ক ইউ সো মাচ, ম্যাম! আপনার মেসেজ আমাদের কনটেসট্যান্টদের অনেক অনেক ইন্সপায়ার করবে, তারা ইন্সপায়ার্ড হবে, চেষ্টা করবে ফর দ্য বেটারমেন্ট অফ আওয়ার সোসাইটি। অনারেবল গেস্টস অ্যান্ড ডিয়ার ভিউয়ার্স! এখন আমরা নিচ্ছি একটা শাইনিসিল্ক ব্রেক, তবে তার আগে আপনাদের জানিয়ে দিচ্ছি হুজ নেক্সট! ভিউয়ার্স, ক্যান ইউ গেস, কে আসছেন আমাদের মাঝে? গ্যালজ ইউ'ল বি এক্সাইটেড টু নো, আমাদের খুব খুব খুব খুব ফেভারিট পোয়েট, আ ভেরি স্টাইলিশ বাট হিপহপ জেন্টেলম্যান অ্যাজ ওয়েল, গাইজ প্লিজ ডোন্ট বি জেলাস, প্লিইজ কিপ ওয়েটিং ফর মিস্টার বিমঅঅঅলেন্দু গুউউউউণ!’
লেজাররশ্মির মুহূর্মুহু কারুকাজে, তড়িচ্চকিত আলোকসম্পাতে, করতালিসমুদ্রে নিমজ্জমান বিমলেন্দু গুণের হঠাৎ মনে হলো, ঊনচল্লিশ বছর আগে শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রসঙ্গীতের একটি বিরলপ্রায় বাজে পরিবেশনার প্রতিক্রিয়ায় নিজের ঐতিহাসিক কাণ্ডটির পুনরাবৃত্তি ঘটানোর এটিই উপযুক্ত সময়। তাঁর ইচ্ছে হচ্ছে চিৎকার করে বলেন, ‘চোর, চোর!’
মন্তব্য
খুব ভালো লাগল।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ আহাদিল
আমার ব্লগে স্বাগতম
এত ছোট লেখা??
একটু ছোটই
আপু একদম ফাটায় ফেলছেন। কতজনের মুখে যে থুথু দিলেন। সাধু সাধূ।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ লিংকন
আমার ব্লগে স্বাগতম
আমার মনে হচ্ছে আপনি নিজেও একজন প্রতিযোগী অথবা ফ্যাশন ডিজাইনার। যতো তথ্য দিছেন।
আমি একটু হেসে নেই।
ভালো লেখক হবার বিরাট বিপদ।
লেখকের মন্তব্য
ধরণী, দ্বিধা হও...
মজা পাইলাম পড়ে! 'সাধু সাধু!'
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ মেকানিক্স
১। আমি মানুষটা পুরান আমলের। সেজন্য সুন্দরী প্রতিযোগীতা জাতীয় জিনিষ টিভিতে কখনো দেখিনা। নিউজেও গুরুত্ব দেইনা।
২। শেষের ঘটনাটার ব্যাকগ্রাউন্ডটা কি?
৩। ২০০৯এর শেষ দিকে সামুতে রাগ ইমনের একটা মেগা সিরিজ ছিলো লাক্স যন্ত্রণা নিয়ে। সুন্দর। সময় করে পড়ে নিও।
৪। বেশীর ভাগ ছ্যাঁচারই টার্গেট ধরতে পারসি।
৫। বাংলাদেশে ইডানিং বলিউডি এবং হিজাবি দুইটাই বাড়ছে। আমার কাছে কোনটাই ভালো লক্ষণ মনে হয়না।
লেখকের মন্তব্য
১। আমিও সেকেলে, জীবনে একটাও বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতা অথবা হিন্দি সিরিয়াল দেখি নাই। গতবছর দেশে এক ডানাকাটা প্রজাপতির দুরবস্থা দেখে গল্প লেখার বাসনায় কিছু হোমওয়ার্ক করলাম।
এইখানে কোনো ছ্যাঁচা নাই। ১০০% অথেন্টিক তথ্যের পরিবেশনা। বিচারকগণের সংলাপ প্রায় হুবহু এরকম ছিলো।
২। শেষের ঘটনাটার ব্যাকগ্রাউন্ড পোস্টেই আছে তো! শান্তিনিকেতনে গান শেষ হলে তালি দেয় না, বলে "সাধু সাধু"। কবি নির্মলেন্দু গুণ একবার কোনো গান খারাপ লাগায় "চোর চোর" বলে উঠেছিলেন
৩। ওক্কে বস!
৪।
৫। একবিংশ শতাব্দীর গোড়া থেকেই এটা শুরু হয়েছে। একদম ভালো লাগে না।
পুরো গল্পটাতে অংসখ্য ছোট ছোট শ্লেষ আছে - সেইসব ধরে ধরে নাই বলি - আমার কাছে ষ্ট্রাইক করলো - ইভটিজিং হওয়ার ব্যাপারটা , বিচারকরা যেভাবে কথা বলছিলেন , আর শেষের প্যারা হিপহপ ভদ্রলোককে করা ব্যঙ্গটা !
একদম পিচ পারফেক্ট হয়েছে এক্সিকিউশন - আর সন্চালক মেয়েটির মুখের কথা গুলো জেনো নিজের কানে শুনতে পেলেম ।
আবারো বলতে হয় - নমঃ নমঃ নমো - নুশেরাবু মম ।
)
(এইবার সত্যি সত্যি
লেখকের মন্তব্য
শ্লেষগুলা ধরতে পেরেছেন, এটাই বড় প্রাপ্তি!
গল্প হিসেবে এই আউটপুট আমার ঠিক পছন্দ হয়নি; কিছুটা বেদনা আর অনেকটা ক্ষোভ প্রকাশের জন্য লেখা...
মনোযোগী পাঠের জন্য অনেক
-----------------------------------------------
কবিতাটা নিয়ে কিছু বললেন না?
নুশেরা'পা, আমি এর আগে আপনার "মনে পড়ে" সিরিজটা থেকে এক দুইটা লিখা পড়েছিলাম মনে হয় এর বেশি আর কিছু পড়া হয়ে ওঠে নাই। আজকে এই গল্পটা পড়লাম। আপনার ডিটেইলিং এর ক্ষমতাকে শুধু অসামান্য বললেও কম বলা হয়- আরো কিছু বলতে ইচ্ছা করতেছে। তথ্যবহুল একটা লিখায় যেইভাবে আপনি আমারে বোটলড্ করে রাখতে পারছেন সেটা থেকে আমি এই গল্পের চার্মটা আন্দাজ করতেছি! গ্রেইট!
দুটা খটকা- "রফিক সুজে" এইটা পড়তে ভাল লাগে না। ' "রফিক সুজ"- এ ' - এইরকম হলে দেখতে ভালো লাগে।
দ্বিতীয়, ' অথবা ব্যাংকক থেকে শপিং সেরে আসা সুমাইয়া। ' - এইখানে দাড়ি'র বদলে বিস্ময়সূচক চিহ্ন থাকলে আমি ব্যাপারটায় মজা পেতাম একটু বেশি।
--------
আমি রিমার্কগুলোয় "আমি" সর্বনামটাই শুধু ব্যবহার করেছি। এটা ইঙ্গিত করে যে সবি আসলে আমার ব্যক্তিগত মতামত। এইটা একটু বলে দিলাম।
-----------------------
ফাইনাল কথা হইলঃ আপনার ডিটেইলিং এর ক্ষমতা অদ্ভূত! আরো গল্প যদি লিখেন সামনে সেইগুলা পড়ার জন্য আমি আগ্রহ জমিয়ে রাখতেছি এখন থেকেই।
শুভেচ্ছা।
লেখকের মন্তব্য
অনেক ধন্যবাদ অমিত। খুব ভালো লেগেছে মন্তব্যটি। আপনার মনোযোগী ও যত্নশীল পাঠ সত্যিই প্রশংসনীয়।
ঠিক বলেছেন, রফিক সুজ-এ হবে। যতিচিহ্ন নিয়ে একটু বেকায়দায় পড়েছি, কারণ গল্পটা বিজয়ে টাইপ করা ছিলো, কনভার্ট করতে গিয়ে ড্যাশগুলো তো গেছেই, অন্যত্রও কিছু গোলমাল হয়েছে। আচ্ছা, কবিতাটা চলে তো? কবিদের কেউ যদি এটাকে একটু ঘষেমেজে দিতেন...
ডিটেইলিং প্রসঙ্গে-- আপনিসহ আরো কয়েকজন যতো সহজে অল্প কথায় একটা মুড অথবা সময় অথবা গল্পকে ধরে রাখতে পারেন, তেমনটা যদি আমাকে দিয়েও হতো!
চতুরে আমার প্রথম পোস্টে একটি গল্প ছিলো, নমিতা শীলের অসমাপ্ত গল্প (http://tinyurl.com/4zzwpal), সময় করে পড়লে খুশি হবো।
ব্যাখ্যাইতে পারবো না
এক কথায় চমৎকার
লেখকের মন্তব্য
(এইটা আমার নিজের জন্য)
খাইতে খাইতে একবার পড়লাম। পড়তে পড়তেও খাইলাম। ভালা লাগে নাই বলার তো প্রশ্নই ওঠে না। তবে একটা কথা কি বুজি, প্রথম দুই পর্বে সংলাপ থাকলে আর মনে হইতো না কী যেন নাই নাই!
আপ্নের জন্য

লেখকের মন্তব্য
বিশাল ধইন্যা নেন জুলিদা! এই ঘাটতিটা আসলেই রয়ে গেছে!
অন্যরকম একটা গল্প। বর্ণনার খুঁটিনাটি ভালো লাগলো। সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী মেয়েদের আমার বেশ সপ্রতিভ মনে হয়। আমার নিজের এতটা আত্মবিশ্বাস নেই যে একঘর লোকের সামনে নিজেকে মেলে ধরব। আমি বেঁটেখাটো মোটা লোক। প্রোফাইলে ছবি দিতেই ভয় পাই!
যাকগে লেখাটার সমাপ্তিটা ভালোই কিন্তু প্রত্যাশা বেশি ছিল। বিশেষ করে মাঝের ইভটিজিং এর ঘটনার সাবলীল বর্ণনার পর।
শিফন, কুশনস্ট্রিপ, আরো কিছু শব্দের ব্যবহার আমার কাছে বেশ প্রাসঙ্গিক মনে হয়েছে। আমার নিজের ঝাপসা ধারণা এগুলো সম্পর্কে। ইংরেজি শব্দের ব্যবহারটা পুরো লেখাকে বাস্তবসম্মত ও সমৃদ্ধ করেছে ।
লেখকের মন্তব্য
অবয়বের মনোযোগী পাঠে ধন্য বোধ করছি।
আপনার লেখা পাচ্ছি না কেন!
রাগ ইমনের লেখাটি আমিও পড়েছি; তবে সেটি ভিন্ন ধাঁচের। এই লেখা নিয়ে কোন মন্তব্য করবনা - এত অসাধারণ লেখার উপযুক্ত মন্তব্য করার ভাষা আমার জানা নেই। আপনার জন্য রইল সপ্তর্ষিমন্ডল।
লেখকের মন্তব্য
শব্দপুঞ্জের কাছ থেকে পাওয়া সহৃদয় মন্তব্যটি আমার জন্য অমূল্য...
আমার মনে হলো মুক্তাতেই ফোকাস থাকা দরকার ছিল।
লেখকের মন্তব্য
ও তো কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই ছিটকে গেলো...
অসাধারণ লাগলো!
তারকা খ্যাতির মোহে আসা মেয়েরা যে পরবর্তীতে এই ধরনের বিড়ম্বনার শিকার হয় আমরা অনেক সময় ভেবে দেখি না। মুক্তা-র মনের গ্লানি বা বেদনা যথার্থভাবে ফুটে উঠেছে বলে আমার বিশ্বাস। নারীকে পণ্য করার মধ্যে আমাদের তথাকথিত বুদ্ধিজীবীদের যে বিশ্রী রকম অবদান আছে তার ব্যাঙ্গাত্বক উপস্থাপন গল্পকারের মনস্বিতার উদাহরণ। চরিত্রগুলোর ভাবনা ও তাদের টানাপোড়নের যে বিশ্লেষণ গল্পকার ফুটিয়ে তুলেছেন তা বাস্তবসম্মত এবং সেটাই গল্পকার হিসেবে নুশেরা তাজরীনের কৃতিত্ব। এটা ভালো একজন গল্পকারের অপরিহার্য গুণও বটে। আপনার একটা অনুসন্ধানী ও তীব্র সংবেদনশীল মন আছে বলে এত হৃদয়গ্রাহী করে সবকিছুকে তুলে ধরতে পারেন। আমি বরাবরই আপনার লেখার একনিষ্ট পাঠক। এই রকম একটা সুন্দর গল্প উপহার দেয়ার জন্য আমার আন্তরিক অভিবাদন গ্রহণ করুন।
লেখকের মন্তব্য
আমার ব্লগে স্বাগতম, বাণীব্রত।
আপনার সহৃদয় মন্তব্যটি অনুপ্রেরণাদায়ী; মাথা পেতে নিলাম।
ভালো থাকুন সব সময়।
আমাদের 'খেলারাম খেলে যা'খ্যাত হক সাহেব যৌবনকে কিভাবে দেখতে চান সেইটা তেনার কাছ থেকে জানতে পারলে ভালো হতো ! ধরুন, তসলিমা নাসরিনের পিঠে 'মমতার হাত' বুলালে সেটা কি যৌবনের প্রকাশ হয় !
বাংলার ভিতরে বেশী কইরা ইংরেজী শব্দ কইতে পারলে বেশী 'চাল্লু' (স্মার্ট অর্থে !) হওয়া যায়, আমগো কিছু উপস্থাপিকারে দেখলে তা মালুম হয় ।
নিয়মিত এইরকম অসাধারণ গল্প যে পড়তে চাই বুজি , জানায়া গেলাম ।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ শিপন, তোমার উপন্যাস থমকে আছে কেন!
খুবই ভাল লাগল। কেন সেটা বলি। আমি ৪ বছর একটা সিনেমা পত্রিকায় আর আড়াই বছর একটি বিজ্ঞাপনী এজেন্সিতে কাজ করেছি। খুব কাছ থেকে এই সব প্রতিযোগিতা দেখার সুযোগ হয়েছে। যারা পাশ এই পরীক্ষায় তাদের আর যারা ফেল করে- দুই ধরণের মেয়েদেরই দেখার সুযোগ হয়েছে।
লেখকের মন্তব্য
পিটান দেয়া দরকার। এতোসব অভিজ্ঞতা নিয়ে চুপচাপ বসে থেকে আমাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে!! লিখিস না ক্যান?!!
হিন্দি একটা সিনেমা দেখেছিলাম মুক্তার মত এরকম একটা মেয়ে মা বাবাকে না জানিয়ে সুন্দিরী প্রতিযোগিতায় যায় - সে মেয়েটি অবশ্য প্রতিযোগিতাটি জিতে যায়
চমৎকার লিখেছেন - ভালো লাগলো - বিশেষ করে চুলচেরা বিশ্লষণগুলা
লেখকের মন্তব্য
সিনেমার নায়ক সব সময় ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হয়, নায়িকা ক্রাউন জেতে
বাস্তবের দিল্লী অনেক দূর...
সিনেমার নায়ক সব সময় ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হয়, নায়িকা ক্রাউন জেতে
আর বাস্তবে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্টরাই নায়ক হয়, ক্রাউন জেতারাই নায়িকা হয়।
(ছোট বচনের মত করে বলার চেষ্টা করলাম)
লেখকের মন্তব্য
বাস্তবের ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্টরা নায়ক হয় নাকি??? আমার স্বচোক্ষে দেখা স্বকর্ণে শোনা অভিজ্ঞতায় হয় পাবলিক ইউনিভার্সিটির দরিদ্র শিক্ষক; যার চাকরিতে ঢোকার পর পিএফ-এর এগেইনস্টে পয়লা লোনটা নিতে হয় একটা সিলিং ফ্যান কেনার জন্য (সম্প্রতি পে-স্কেলের উন্নতিতে অবস্থা কিছুটা বদলে থাকতে পারে)।
গোগ্রাশে গিললাম লেখাটা।
নিঁখুত লাগল।
লেখকের মন্তব্য
ভালো লাগলো ছাড়া আর কিছু বলবার মত ক্ষমতা বা যোগ্যতা আমার নাই।
টিভি দেখাই হয়না, সুন্দরী প্রতিযোগিতা তো দূর অস্ত! তবে তার পিছনে যে এত ঝঞ্ঝাট থাকে তা জেনে বিস্মিত, তার চেয়েও বেশি বিস্মিত নুশেরার এ বিষয়ে জ্ঞান দেখে।
আমার কাছে এ ধরনের বিষয়গুলো মেয়েদের নিয়ে ব্যাবসা করার মত মনে হয়!
লেখকের মন্তব্য
ব্যবসা তো বটেই, দুঃখ লাগে এর পণ্যতালিকায় নাম লেখাতে আগ্রহীদের অভাব নেই
ডুবে গেছিলাম আপু গল্পটার মাঝে। মনে হচ্ছিল আরেকটু পড়ি। কেন শেষ হয়ে গেল! কি সুন্দর করে যে লিখেছেন।
শেষবার যখন লাক্স-চ্যানেল আই প্রতিযোগিতাটা হল, আমি তার চূড়ান্ত পর্বটাই দেখেছিলাম কেবল। সবকিছু মিলে এত ভয়াবহ, এত টেরিফিক কিছু আমি আমার জীবনে কমই দেখেছি। ফালতুমির একটা সীমা থাকা উচিত।
লেখকের মন্তব্য
অশেষ ধন্যবাদ পড়া আর মন্তব্যের জন্য। প্রিয় অতিথি, আপনি চতুরে অ্যাকাউন্ট খুলে লিখুন না!
মোল্লাদের ভয়ে বাংলাদেশ সুন্দরী প্রতিযোগিতায় প্রকাশ্য নামতে পারেনা। তাই মিস ফটোজেনিক প্রতিযোগিতা নানান সুত্র ঘুরে এখন সুপারস্টার অনুসন্ধান প্রতিযোগিতায় রূপ নিয়েছে। তারকা খোঁজার নাম দিয়ে মূলত মিস বাংলাদেশ প্রতিযোগিতাই চলছে গত কবছর ধরে। যদিও প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া টপটেন সুন্দরীদের চেয়েও বসুন্ধরা সিটির ফুডকোর্টে আড্ডা দেয়া তরুণীগন অনেক বেশী সুন্দর এবং স্মার্ট।
আমি নিজে সুন্দরের পুজারী হলেও এই প্রতিযোগীতাগুলোকে মেনে নিতে পারি না উপস্থাপনার কারনে। কারণ প্রতিযোগিতার কিছু কিছু অংশে মেয়েগুলোকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয় তাকে স্রেফ পণ্য মনে হয়। নারীর অনুপম সৌন্দর্যের চেয়েও সেক্স আ্যাপীলই প্রধান। বিশেষত পোষাক আশাকে অপ্রয়োজনীয় সংক্ষিপ্ততা। সুপারস্টার শুধু নারীরাই হবে কেন এটাও একটা প্রশ্ন। আমাদের কি নায়কের দরকার নাই?
এসব প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্যটা ঠিক পরিষ্কার না হলেও পশ্চিমের ফ্যাশনের সাথে পাল্লা দেবার একটা অসুস্থ প্রবণতা আছে যার জন্য বাংলাদেশের সমাজ এখনো তৈরী নয়। তবে হিন্দি চ্যানেল ভক্ত দর্শকের চোখ অনেক কিছু সয়ে যায় বলে এই প্রতিযোগিতাগুলো দৃষ্টিকটু ঠেকে না অনেকের কাছেই।
আপনার বর্ননাভঙ্গীর দক্ষতা টিভির ওই দৃশ্যগুলো চোখের সামনেই হাজির করেছে। এই পোষ্টেও সেই ছায়াছন্দ পোষ্টের মতোই জীবন্ত দেখলাম।
আচ্ছা, আরজে, ডিজে, আরো কি কি জে আছে, এদের যে বাংলিশ উচ্চারণ তা কি কোন ট্রেনিং স্কুল থেকে শেখে, নাকি এরা মঞ্চে উঠলে তাদের মুখটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে রোবোটিং বাংলিশ ভাষায় রূপান্তরিত হয়?
লেখকের মন্তব্য
প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া টপটেন সুন্দরীদের চেয়েও বসুন্ধরা সিটির ফুডকোর্টে আড্ডা দেয়া তরুণীগন অনেক বেশী সুন্দর এবং স্মার্ট।
দাঁড়ান, ভাবীকে বলছি
সুপারস্টার শুধু নারীরাই হবে কেন এটাও একটা প্রশ্ন। আমাদের কি নায়কের দরকার নাই?
হক কথা!! ইয়ে মানে নীড়দার কি সেরকম কোনো খায়েশ ছিলো?
এসব প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্যটা ঠিক পরিষ্কার না হলেও পশ্চিমের ফ্যাশনের সাথে পাল্লা দেবার একটা অসুস্থ প্রবণতা আছে যার জন্য বাংলাদেশের সমাজ এখনো তৈরী নয়।
উদ্দেশ্য তো বাণিজ্য, আর কী!
তবে হিন্দি চ্যানেল ভক্ত দর্শকের চোখ অনেক কিছু সয়ে যায় বলে এই প্রতিযোগিতাগুলো দৃষ্টিকটু ঠেকে না অনেকের কাছেই।
এই "সয়ে যাওয়া" ব্যাপারটা যে কী ভয়াবহ! একেবারে পারিবারিক পর্যায়ে অবক্ষয়িত মূল্যবোধ গ্রহণযোগ্যতা পেয়ে গেছে। আগে স্কুলের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় যেমন খুশি তেমন সাজো বলে একটা ইভেন্ট হতো, এখন তার জায়গা নিয়েছে ফ্যাশন শো...
১- ভাবীরে কইতে হবে না, ভাবী জানে

২- খায়েশের প্রশ্ন না, জিগাইছি নায়কের দরকার আছে কিনা? থাকলে নারীরা আওয়াজ তুললে পারে
৩- বাণিজ্যটা বুঝলাম, কিন্তু কোন পন্যের বাণিজ্য সেটাই বুঝতেছি না। বিজ্ঞাপন নায়িকা খোজার জন্য এরকম প্রতিযোগিতার প্রয়োজন নাকি অন্য কিছু?
৪- স্কুলের যেমন খুশী সাজোতে প্রতিযোগীর একটা স্বাধীনতা ছিল। কিন্তু এখানে একটা পর্যায়ে এসে প্রতিযোগীর নিজের কোন সাজ রুচির পছন্দ আছে বলে মনে হয় না। শেষ পর্বের ঘটনা যা বললেন তাতে ওই বাচ্চা মেয়েগুলোর জন্য রীতিমত অবমাননাকর। কিন্তু ওই জায়গায় এসে কেউ কি নিজের পছন্দের কথা বলতে পারবে? সম্ভবত না।
লেখকের মন্তব্য
২. আজমের দেয়া সার্টিফিকেটটা সাথে থাকলে ইনশাল্লাহ্ আওয়াজ আসবেই
৩. এ ধরণের প্রতিযোগিতায় পার্টনারের সংখ্যা গুণে শেষ করা মুশকিল।
। সবশেষে নির্বাচিত সুন্দরী যে সিনেমার নায়িকা হবেন (যেমন দারুচিনি দ্বীপ) তার একটা আগাম বিজ্ঞাপন তো হয়েই গেলো।
অমুক কোম্পানীর তমুক পণ্য: লিভারের লাক্স, ফেয়ারঅ্যান্ডলাভলি; প্রক্টরএনগ্যাম্বলের প্যান্টেইন (ইউ গট দ্য লুক) ইত্যাদি।
ভিজুয়াল ইলেকট্রনিক মিডিয়া পার্টনার হিসেবে টিভি চ্যানেল।
নাম রেজিস্ট্রেশন আর ভোটিংএর জন্য মোবাইলফোন কোম্পানি।
রেডিও পার্টনার (এলসিএসএস-এ ছিলো রেডিও ফূর্তি)।
ওয়েবসাইট ডেভেলপিং প্রতিষ্ঠান (এলসিএসএস-এ উইন্ডমিল ইনফোটেক)
প্রিন্ট-মিডিয়া পার্টনার হিসেবে পত্রিকা (আলু না কোন্ পেপার যেন ছিলো এলসিএসএস-এর পার্টনার)। আজকাল বিনোদনের বদলে অর্থনৈতিক প্রতিবেদকের রিপোর্টে এই প্রতিযোগিতার খবর আসে, বিশ্বাস না হলে এলসিএসএসের সাইট দেখতে পারেন।
সাপ্তাহিক-পাক্ষিক বিনোদন পত্রিকাগুলোর ভূমিকা বলাই বাহুল্য (আনন্দ বিচিত্রা, আনন্দ ভুবন, বিনোদন বিচিত্রা, প্রিয়জন ইত্যাদি ইত্যাদি)
অনুষ্ঠান পরিকল্পনা ও আয়োজনে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি।
পোশাক সরবরাহ- অমুক তমুক প্রতিষ্ঠান (ভিআইপি ডিজাইনারের নামই প্রতিষ্ঠান)।
অনুষ্ঠানস্থল- পাঁচতারা হোটেল, ক্যাম্পিংস্থলের স্পন্সর প্রাইভেট ট্যুরিজম/রিসোর্ট ইত্যাদি।
ফিটনেস পার্টনার- অমুকতমুক জিম।
হেয়ার পার্টনার- অমুকতমুক নাপতানি।
বিউটি পার্টনার- অমুকতমুক পার্লার।
এই পার্টনারদের কার্যক্রম অনেকটা ওলিগোপলিস্টিক মার্কেটের কার্টেলের মতো। কালেক্টিভলি সবাই সবার বিজ্ঞাপন প্রচার করে। ইভেন্টের বিজ্ঞাপনে, পোস্টারে দেখেন, ছবির নীচে সবাই উপস্থিত লোগোসহ। আপনি যেন নজর দিয়ে দেখেন সেইজন্য আকর্ষণীয় পোশাক ও ভঙ্গিমায় প্রতিযোগীদের ছবি সেখানে জ্বলজ্বল করছে। আন্ডারগ্রাউন্ড ট্রেড নিয়ে কথা না বলি, সেটা তো প্রকাশ্য না, দুষ্টলোকের বদনামও হতে পারে
৪. কিছু অভিভাবকের অবস্থা দেখে তাদের বাচ্চাদের জন্য দুঃখ ও আতঙ্ক বোধ করি...
এই বর্ণনা পড়ে মুরাদ ইচ্ছামানুষের স্টিকারসর্বস্ব কুকুরটার কথা মনে পড়ে গেল।
লেখকের মন্তব্য
দেখিনি মনে হচ্ছে পোস্টটা
কবে যে আপনার মত লিখতে পারবো আপা!
লেখকের মন্তব্য
এইটা একটা কথা বললা ভেবু! তুমি তো খুবই ভালো লেখো, তার পরও স্ট্যান্ডার্ড ফিক্স করবা অনেক উপরে।
আরণ্যক বলেছেন,
D )
আবারো বলতে হয় - নমঃ নমঃ নমো - নুশেরাবু মম । গুরু-মানি-ওস্তাদ
(এইবার সত্যি সত্যি
অমিত বলেছেন,
২১ মে ২০১১, ৩:৪০ পূর্বাহ্ন তারিখে অমিত চক্রবর্তী বলেছেন
<b>নুশেরা'পা, আমি এর আগে আপনার "মনে পড়ে" সিরিজটা থেকে এক দুইটা লিখা পড়েছিলাম মনে হয় এর বেশি আর কিছু পড়া হয়ে ওঠে নাই। আজকে এই গল্পটা পড়লাম। আপনার ডিটেইলিং এর ক্ষমতাকে শুধু অসামান্য বললেও কম বলা হয়- আরো কিছু বলতে ইচ্ছা করতেছে। তথ্যবহুল একটা লিখায় যেইভাবে আপনি আমারে বোটলড্ করে রাখতে পারছেন সেটা থেকে আমি এই গল্পের চার্মটা আন্দাজ করতেছি! গ্রেইট!
আমি ওঁদের সাথে একদম একমত। হ্যাট অফ হে দেবী।
লেখকের মন্তব্য
বন্ধুর প্রতি এই মেয়েটা বরাবরই একটু বেশি দরদী

এই প্রতিযোগীতাটা আমার খুবই অপছন্দের। এটাকে আমি যে পরিমাণ ঘৃণা করি আপনিও তেমন করেন দেখে ভালো লাগলো। তবে সবচেয়ে ভালো লেগেছে ভিতরের ব্যাপারগুলো এত ডিটেইল করে লেখা। মাংসের ব্যবসা বন্ধ হোক।
লেখকের মন্তব্য
মাংসের ব্যবসা বন্ধ হবার লক্ষণ দেখছি না হামা, ক্লায়েন্ট আর পণ্য দুইই বাড়ছে। বিপরীতে কেউ বাংলা হবে আফগানের দিকে ঝুঁকছে।
লেখকের মন্তব্য
এই মহিলা আজকাল বেজায় ইমোবাজ হইসে!
নুশেরা'পু আপনি কেমন করে লিখেন ? চোখের সামনে দেখি। অসাধারণ।
লেখকের মন্তব্য
আপনার দেখার ক্ষমতা আছে বলেই দেখেন, হালিমভাই!
আপনার লেখা মানেই অসাধারন কিছু।
লেখকের মন্তব্য
নাহ্, তা কীভাবে হয়!
ভালো থাকুন সকাল।
গল্পের মধ্যে হকুর উপস্থিতি গল্পকে অন্য রকমের মাত্রা দিয়েছে। হকু অসাধারণ লেখে তবে যৌন হয়রানিতে হকুদের অবদান আছে আমার যা মনে হয়েছে তার লেখা পড়ে আর তসলিমার ক পড়ে। নুশেরাপু এ লেখাটা পড়ে খুব ভালো লাগল। মাঝে মাঝে স্রোতধারা বাঁক নিয়েছে নিজের মতো করে, এটাই হলো লেখার নিজেস্বতা। ধন্যবাদ।
লেখকের মন্তব্য
পড়ার জন্য, মন্তব্যের জন্য, অনেক ধন্যবাদ মারজুক।
আপনি ময়মনসিংহ শহরে কবে ছিলেন! কালি বাড়ী, গাঙ্গিনার পাড় সহ নানা বর্ননায় মনে হচ্ছে আপনি ময়মনসিংহের চিরচিনা!
গুনকে শেষ করে দিলেন! আরো বড় হতে পারত! (কত শখ আমার!)
লেখকের মন্তব্য
আমি আধাগেঁয়ো মফস্বলের মানুষ, তাই ঢাকা না চিনলেও বিশাল বাংলার বিবর্ণ মফস্বল চিনি-জানি কিছুটা
হ, আরো বড় করি আর সবাই অর্ধেক পড়ার আগেই ক্ষান্ত দিক আরকি! ম্যালা কেটে-ছেঁটে এইটুকুতে আঁটাইছি। গুণকে শেষ করলাম কই!!
এক কথায় বলি , এরকম শব্দ দিয়ে দৃশ্যায়ন করা মুখের কথা না ।
আপনি অ সা ধা র ণ ভাবে সেই কাজটিই করেছেন ।
গল্পের প্লট আর থিম ও শ্রদ্ধা পাওয়ার যোগ্য । মুগ্ধতা জানুন ।
লেখকের মন্তব্য
চতুরে আপনি আমার খুব প্রিয় একজন লেখক (জানি না অন্য কোথাও অন্য নামে আপনার লেখা পড়েছি কি না)। আপনার কাছ থেকে পাওয়া এমন একটি উৎসাহদায়ক মন্তব্য অনেক মূল্য বহন করে। অশেষ ধন্যবাদ অন্ধ আগন্তুক।
আপনার লেখা নিয়ে কিছু বলার যোগ্যতা আমার এখনো হয়নি, তাই কিছু বলার অপচেষ্টাও করবো না।
এই ধরনের সুন্দরী প্রতিযোগিতাগুলো মাঝে মাঝে আমার সরাসরি দেখার সুযোগ হয়, ইনফ্যাক্ট মিডিয়া জগতের কিছু কিছু মানুষের সাথে ব্যক্তিগত পরিচয় থাকায় এই সুযোগটা পাই। সত্যি বলছি, আমার কখনো ভালো লাগে, আবার কখনো খারাপ লাগে। নির্ভর করে কখন কোন দৃষ্টি ভঙ্গি দিয়ে দেখছি। আমাদের বিচারকদেরও কথা বলার সময় ভাবা উচিৎ তাঁর কোন কথার কি প্রতিক্রিয়া হতে পারে। আসলে তারাও অন্যদের হাতের পুতুল হিসেবে-ই কাজ করে।
আপনার কবিতাটি খুবই ভালো লেগেছে। অল্প কথায় একটা চরম সত্য কথা বলেছেন। ্কবিতাটি আরো বড় করুন, পড়ার অপেক্ষায় আছি।
অফটপিকঃ গত দুইদিন ধরে অনেকের লেখাই পড়ছি, কিন্তু ্নিজে কিছু লিখতে পারছিনা, কি করা যায় বলুন তো?
লেখকের মন্তব্য
যোগ্যতা-অযোগ্যতার কী আছে ভাই, সবাই এখানে সহব্লগার, যা মনে হবে লেখা পড়ে বলে ফেলবেন।
শোবিজের লোকজনের কাজকর্ম তো ইন্টারেস্টিং হবার কথা। সেইসব অভিজ্ঞতার শেয়ার দিন না আমাদের!
কবিতাটা খেয়াল করার জন্য বিশেষ ধন্যবাদ নিন! বড় মর্মযাতনা থেকে লিখেছিলাম ওটা।
অফটপিক- আপনার কলেজ-জীবনের সিরিজের ফাঁকফোকরে অন্য টপিকেও লিখুন, সিরিজটার জন্য একটা বাধ্যবাধকতার চিন্তা থেকেই হয়তো অন্য কোনো লেখায় মন দিতে পারছেন না
আপনার লেখার হাত/শক্তি/দক্ষতা নিয়ে তো আর নতুন করে বলার কিছু নেই।
তাই গল্পটি নিয়ে বলি। আমার মনে হয়েছে অতিরিক্ত 'উদ্দেশ্যমূলক' প্রবণতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গল্পটি! স্কীমটা আগে ঠিক করে নিয়েছিলেন এবং খুবই কঠোর হাতে গল্পটিকে তার বাইরে যেতে দেননি। তাই অসম্ভব ভালো একটি গল্পের সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন আপনি; বলা যায় সোনার মাছি খুন করেছেন। তাড়াহুড়োও করেছেন বোধ হয়।
আপনার ব্লগার সত্তা যেন লেখক সত্তার উপর কোনো চাপ তৈরি না করে।
সত্যিই দু:খিত এত ভালো একটি লেখা পড়ার পর এসব বলার জন্য। কিন্তু আমি তো শুধু 'ভালো লেখা' নয় 'গল্প'-ও তো পড়তে বসেছিলাম। আপনার কাছে প্রত্যাশা অসীম!!
চমতকার বলেছেন।
ঠিক এই কথাটি আমিও বলতে চেয়েছিলাম, কিন্তু কেনো যেনো বলতে পারি নি!
ব্লগে এসে অনেক কিছুই শিখছি, শিখছি আর শিখছি............
লেখকের মন্তব্য
নিমো পাঠকের মন্তব্যে ভোট দিলাম। প্রথমেই ধন্যবাদ, সময় করে পড়ার জন্য। গতকালই আরণ্যকের মন্তব্যের উত্তরে লিখেছিলাম, গল্প হিসেবে এই আউটপুটটা আমার পছন্দ হয়নি। এটা আসলে একটা ব্লগ-ই, "গল্প" ট্যাগটা এই অর্থে যে এটা ফিকশন, ফ্যাক্ট নয়!
তাড়াহুড়ো করেছি বলা যাবে না বোধহয়; একেবারে মাস তিনেক সময় নিয়ে লেখা এটা, বরং বিশাল আকার দেখে প্রায় অর্ধেক ছেঁটেছি। সোনার মাছি খুনের দায় মাথা পেতে নিলাম
। কিন্তু একটা কথা বলুন তো, লেখকরা কি আগে থেকে কাঠামো বা পরিণতি নিয়ে ভাবেন না, গল্পের ঘোড়াকে তরতরিয়ে যেমন খুশি যেতে দেন, আর গল্প এগিয়ে চলে?
আমি ব্লগার; লেখক হবার কোনো ইচ্ছে বা দুরাশা নেই। কম্পিউটার বা নেট ব্যবহারে অপারগ আপনজনদের জন্য কালেভদ্রে ছাপার হরফে কিছু প্রকাশের চেষ্টা বা উদ্যোগ চলে-- এই যা। অসীম দূরে থাক, ছিটেফোঁটা প্রত্যাশাও সমীচীন না!
লেখক কাঠামো ঠিক করে রাখেন তবে লেখার অন্তর্লীন সৃজন-স্বাধীনতা/ দাবী মেনে নেয়ার জন্য লেখককেও প্রস্তুত থাকতে হয় বৈকি!
কবি গুণের প্লেসমেনটা মনে হয়েছে তাড়াহুড়োয় হয়েছে। তাড়াহুড়ো শুধু সময় দিয়ে মাপা যাবে না।
আপনি তো ব্লগার শুধু নন বরং পাঠকপ্রিয়তম ব্লগারদের একজন। সেই পাঠকদের আমিও একজন! শুধু ছাপার অক্ষরে কিছু প্রকাশিত হলেই তাকে লেখক বলে নাকি? ছাপার অক্ষরে যা ছাপা যায় তাতো ব্লগেও লেখা যায়, তাই না!
আপনার লেখার শক্তি আছে, প্রস্তুতি আছে, আছে মননশীলতা আর সমুচিৎ সংক্ষোভও! আপনার কাছে প্রত্যাশা না-করা তো একটি মারাত্মক অপচয়কে সমর্থন করা! তাই করতে বলছেন?
সোনার মাছি খুন করেছেন; প্রথমবার সবাই ক্ষমা পায়! এরপর হলে তিনমাসের ফাঁসি
ততদিন ভালো থাকুন!
লেখকের মন্তব্য
এই সহজ কথাটাও বুঝিনি! নিজের গাড়লত্ব বিষয়ক অনুমানটা আরেকটু পোক্ত হলো
আপনার নতুন লেখার অপেক্ষায় আছি, নিমো!
লিখতে ভাল লাগে না আপু। এই তো ভাল, পড়ছি।
লেখকের মন্তব্য
না, একদম ভালো না! লেখা চাই।
এত নিখুত ছবি, মনে হচ্ছে সুন্দরী প্রতিযোগিতায় যা মঞ্চস্থ হয়েছে তারই খসড়া পান্ডুলিপি।
লেখকের মন্তব্য
থ্যাঙ্কু তারামণি!
অ-সা-ধা-র-ন!
নুশেরা আপা, যেভাবে এই কালচার টার আদ্যপান্ত তুলে আনলেন তাতে হ্যাটস অফ!!
প্রতিটা অংশের সাফিসিয়েন্ট ইনফরমেশন সহ ফ্লুয়েন্ট বর্ননা! ডিটেইলিং টা এই লেখাটার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট!! চরিত্রগুলোর মনসতত্ত্ব বিশ্লেশন, আবেগ, স্যাটায়ার, কি নাই গল্পটাতে!
লেখকের মন্তব্য
অনেক ধন্যবাদ ফাহাদ। আপনার মতো করে ইমেজ নিয়ে শব্দের খেলা শিখতে চাই
তাঁর ইচ্ছে হচ্ছে চিৎকার করে বলেন, ‘চোর, চোর!
অনেক রিয়্যাল ইলিমেন্টনের কারনে স্যাটায়ার টা একটু সরল মনে হলো। কল্পিত কিছু আরোপ করে হয়ত আরো কঠিন করা যেতো। যেটা পড়ার পরে অনভুতিটা আরো উৎকট হতে পারতো। পেছনের কথা যখন এসেছেই, আরো কিছু আসতে পারতো। আমার জানামতে দুটি সুন্দরী প্রতিযোগীতার প্রতিযোগীদের থেকে বিভিন্ন অন্যায় সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করেছিল আয়োজকদের কেউ কেউ। কোন কোন প্রতিযোগী সেই ফাঁদে পা দিয়েছে লোভে। প্যাথেটিক।
সর্বশেষ: কবিতাডা গুন গুন লাগে নাই---

-------------------------------
পড়তে ভাল লেগেছে।
লেখকের মন্তব্য
এই প্রতিযোগিতার ভালোমন্দের বিচারটা একদম পাঠকের হাতে ছেড়ে দিতে চেয়েছি, সচেতনভাবেই। তাই নরম্যাটিভ না, অ্যাসার্টিভ টোনে থাকার একটা চেষ্টা আগাগোড়া বজায় থেকেছে। দেখুন, প্রতিযোগী, বিচারক, ফাইনালের অতিথি-- কাউকে নিয়ে কটাক্ষমূলক কিছু নেই লেখায়। এমনকি কবি-চরিত্রটিও ভেতরে-ভেতরে যাই ভাবুন না কেন, অনুষ্ঠানটি যে উপভোগ করছেন না, তা কিন্তু নয়!
গুনগুনানি মনে হচ্ছে না, হবার কথাও না
মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ পদ্ম!
নুশেরাপু, গোগ্রাসে গিললাম সেটা তো বলাই বাহুল্য!
দেশে আসার পর থেকে এই ধরনের প্রতিটা ব্যাপার নিয়ে মন এত তেতো হয়ে আছে, এতটাই! আর কি যে হেল্প লেস লাগে একদম কাছাকাছি এমন উদাহরণ গুলি দেখেও কিচ্ছু না বলতে পারায়!
আবার অনেক ক্ষেত্রে নিজের এই তেতো মনোভাবের কারণে বিব্রত কর অবস্থাতেও কম পরিনি,, ভাবি আমি একাই মনে হয় প্রাগৈতিহাসিক যুগেই রয়ে গেলাম কিনা!
গল্পের প্রতিটা শ্লেষ যেন একদম আমার মনের কথাটাই।
লেখকের মন্তব্য
পরবর্তী প্রজন্মেও "প্রাগৈতিহাসিক" মনটা কেউ ধরে রেখেছে-- জেনে ভালো লাগে
সাধু! সাধু!
লেখকের মন্তব্য
ওরে চেরাগআলি

আপু, সত্যি ভালো লাগল। প্রত্যেকটা দৃশ্য কিংবা ঘটনা অনেক জীবন্ত, আপনার ডিটেইলিংস এর গুণে। লেখাটা আরো বড় হতে পারত। তবে তা হয়ত ব্লগের জন্য অনুপোযোগী হয়ে যেত। আবার বলি, চমৎকার।
অফটপিকঃআপ্নি ময়মন এ ছিলেন? আমি জিলা স্কুলের ছাত্র, এসএসসি পর্যন্ত পড়েছি। ইয়ে মানে, আমার প্রথম প্রেমিকার বাসা ছিল কালীবাড়ী।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ আরিশ।
ময়মনসিংহে যাওয়া হয়েছে বেশ কয়েকবার। সেভাবে থাকা হয়নি। কালিবাড়ীর নন্দিনীর কথা জাতি জান্তে চায়
অবশ্যই দেখবো ভাইয়া, অনেক লেখা আসছে তো ব্লগে, পড়ে কুলিয়ে ওঠা মুশকিল!
নন্দিনীর কাহিনি বড় জটিল।
নন্দিনীর ছায়া অবলম্বনে লেখা আমার অনেক পুরোনো একটা lekha/a>
লেখকের মন্তব্য
বুঝছি, সুখে থাকো ও আমার নন্দিনী হয়ে কারো ঘরণী
হে হে। বেশ ভালো তীর্যক গল্প।
নামগুলো সরাসরি দিলে আরো ভালো হতো, যদিও এমনিতেই বোঝা যায়, তবুও সরাসরি কোনো কিছু উচ্চারণ করাতে পারাকে আমি গল্পকারের সাহসিকতা হিসেবে দেখি। হয় ছক্কা না হয় বক্কা।
নির্মলেন্দু এই ধরণের কবিতা লিখেন না, তার কবিতা খানিক ছড়া ধরণের। একটু লিরিক্যাল, অন্ত্যমিলের।
চ্যানেল আইতে আরেকটি অসুস্থ অনুষ্ঠান আছে, "খুদে গানরাজ" সম্ভবত। ছোট্ট ছোট্ট বাচ্চাগুলো কী সব অশ্লীল গান (তাদের বয়েস অনুপাতে, আমি আর যাইহোক কোনো শিশুর মুখে খায়রুন সুন্দরীর চিকন কোমরের গান শুনতে চাই না) করে; তারপর সেখানকার বিচারক বাজারি হুমায়ুন- কোনো সাহিত্য-অনুষ্ঠানে তাকে মানায়, গানের বিচারক হিসেবে নয়।
লেখকের মন্তব্য
নুবু বিরাট ভিতু, সরাসরি নাম নিতে পারে না
হুঁ, শালুক চিনেছে গোপাল ঠাকুর, কবি চিনেছে কবি
ঠিক বলেছো, অসুস্থ অনুষ্ঠান। খায়রুন সুন্দরী তো তবু চলে, তোমাকে চাই আমি আজ রাতে-- মার্কা গানও নাকি ওখানে গাওয়ানো হয়।
কাকও গায়ক পাখি, হু আ-ও গানের বিচারক!
দুর্দান্ত লাগল গল্পটা।
সেইরকম দেখার চোখ থাকলে পরেই এইরকম লেখা যায়---!!
শুভেচ্ছা নিরন্তর
লেখকের মন্তব্য
আমার দাদা এটা পড়েছে সেই খুশিতেই সারা
নুশেরার পোস্ট মানেই ভালো একটা পোস্ট,
নুশেরার পোস্ট মানেই অনেক ভালো ভালো কমেন্ট,
নুশেরার পোস্ট মানেই অনেক কিছু জানতে পারা,
নুশেরার পোস্ট মানেই অনেক কিছু শিখতে পারা,
নুশেরার পোস্ট মানেই অনেকটা সময় ধরে নিজের দুঃখ কষ্ট ভুলে থাকতে পারা।
লেখকের মন্তব্য
হুদাভাইর মন্তব্য মানেই মায়া-মমতা-রসবোধের উপচে পড়া
গল্পের পাশাপাশি আমার কাছে কবিতাটাও খুব ভালো লাগলো। মাঝের একটা লাইনেই বিশাল একটা চপেটাঘাত।
গল্পে ডিটেইলসের কারুকাজের প্রশংসা করতেই হয়। প্লট, থীম সবই দুর্দান্ত। ক্ষোভ, ধিক্কার সব ছাড়িয়ে কিছু একটা করবার একটা প্রত্যয়ও ধরা পরে। লেখক বা ব্লগার নুশেরাবুর কাছ থেকে অটিজমের পাশাপাশি আরও কিছু সামাজিক আন্দোলনের উন্মেষ আমরা আশা করতেই পারি।
আপনার জয় হোক।
লেখকের মন্তব্য
আমি জানতাম, ওই লাইনটা আপনার চোখে পড়বেই!
এইভাবে কইলে মনে হয় দৌড়ায়া পলাই...
মামুনভাই আপনার একটা অসাধারণ লেখা ছিলো প্রবাসে মৃত বাংলাদেশির লাশ দেশে পাঠানো নিয়ে। ওটা চতুরে দেন না, প্লিজ!
একনিঃশ্বাসে পড়ে গেলাম।
লেখকের মন্তব্য
ওরে, কাকে দেখছি! ব্লগের রাস্তা মনে আছে তোমার! তাহলে নতুন লেখা চাই শিগগির!!
ইদানিং বড় কিছু পড়ার ধৈর্য্য পাই না।প্রথমে দেখে মনে করেছিলাম এইটারেও বাকীর খাতায় রেখে দেই।কিন্তু পড়তে গিয়ে মনে হলো এতো তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেলো!!
নুশেরাপুর পোস্ট মানেই ভালো একটা পোস্ট,
নুশেরাপুর পোস্ট মানেই অনেক ভালো ভালো কমেন্ট,
নুশেরাপুর পোস্ট মানেই অনেক কিছু জানতে পারা,
নুশেরাপুর পোস্ট মানেই অনেক কিছু শিখতে পারা,
নুশেরাপুর পোস্ট মানেই অনেকটা সময় ধরে নিজের দুঃখ কষ্ট ভুলে থাকতে পারা।
নুশেরাপুর মন্তব্যের উত্তর মানেই মায়া-মমতা-রসবোধের উপচে পড়া
কপিরাইট আইন লঙ্ঘনে আমোদিত হইলাম! শুভ কামনা রাসেল আশরাফ।
কেমনে কপিরাইট আইন লংঘন হলো হুদা ভাই?? একটু ভালো করে দেখেন আপনার আর আমার কমেন্ট।অনেকটা বাটা আর রাটার মতো।

'পু'তে কীই বা যায় আসে?
পু তে ম্যালা কিছু আসে যায় হুদা ভাই!!!

লেখকের মন্তব্য
পড়ার জন্য বিশাল
কুপি-পেস্ট প্যারোডি খারাপ হয় নাই রাসেল
ভালো কিছু লিখতে পারি না তাই একটু কপি পেস্ট করি তাইবলে জিব্লা দেখাইলেন!!!

আর মাত্র এক দরকার! তা'হলেই সেঞ্চুরী!!
লেখকের মন্তব্য
হুদাভাই, খেলা (পোস্ট দেয়া) বাদ দিয়ে স্কোরার হয়ে বসে থাকলে চলবে না
খেলতে ভালো লাগে না। খেলতে যে পারেনা, সেই তো স্কোরার হয়!!
খেলা দেখেই বেশি মজা পাচ্ছি! সবাই হাততালি দেয়, আনন্দে লাফালাফি করে, ইচ্ছামত সমর্থন জানানো যায়, এ সব দেখেও আনন্দ!! রেফারি, আম্পায়ার, জাজ এদেরকেও মাঝে মাঝে দেখি আর - - -!!! খেলাটা যতক্ষণ নিছক খেলা থাকে ততক্ষণ আমোদের সীমা পরিসীমা থাকে না, কিন্তু খেলার আইন লঙ্ঘিত হলে তা মর্মবেদনার কারণ হয়! তবুও খেলা দেখতেই বেশি পছন্দ আমার!
খু্ব মনযোগ দিয়ে পড়লাম। অনেকদিন পর ছোটগল্প। সাবলিলতার কারণেই হয়ত বেশ ভাল লেগে গেল।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ হিমালয়। চতুরে বেশ কয়েকজন অসাধারণ ছোটগল্প-লিখিয়ে আছেন। আমার বলে দিতে হবে না, আপনি নিজেই চিনে নিতে পারবেন তাদের। আপনার লেখা গল্প পড়ার অপেক্ষায় রইলাম।
খুব সাবলীল একটা গল্প পড়লাম। ভাল লেগেছে গল্পের কোথাও জাজমেন্টাল হন'নি বলে। কোথাও কাওকে কটাক্ষ করা ডিগ্রেড করা হয় নাই, একই রকম নিস্পৃহ ভাবে পুরো গল্পটা বলে গেছেন। একটা সত্যিকারের নিখুঁত ডকুমেন্টারীর যাবতীয় গুন গুলো আছে এখানে।
বোল্ড অক্ষরে লেখা কবিতাটি আপনার লেখা নাকি? ... বীরপ্রতীক পুরস্কার মাত্র তো দশ হাজার খুবই স্ট্রাইকিং একটা লাইন... পড়ার সময় মাথায় হাতুড়ির বাড়ির মত লাগে...
অন্ততঃ আমারে তো মারছে...
লেখকের মন্তব্য
অশেষ ধন্যবাদ মুনশিয়ানা! আপনার জাজমেন্টে মুগ্ধ হলাম।
বোল্ড অক্ষরে লেখা লাইনগুলো কবিতা হয়ে থাকলে তার কৃতিত্ব আমার মায়ের। ভাবটা বোঝা যায় এমন একটা কিছু কোনোমতে লিখে তাকে দিয়েছিলাম কেটেছেঁটে দিতে। কাব্যবোধ এক বস্তু এই অধমের নাই
আপনাকে মায়ের লেখা একটা কবিতা পড়াতে চাই, চতুর্মাত্রিকে এই পোস্টে আছে- http://tinyurl.com/4n3ozzq
সুন্দর। কিছু কথা বলার ছিলো। অনেকেই অনেক কিছু বলেছেন। আমি আর কিছু বলতে তাই চাই না। পরবর্তী বক্তাকে সুযোগ দিয়ে আমি এখানেই নেমে গেলাম।
পু: মেয়েটার ইভ-টিজিংয়ের কষ্টগুলো হৃদয়ে লেগেছে, যদি ও-নামে আমার কিছু থেকে থাকে।
লেখকের মন্তব্য
কী সৌভাগ্য, পড়ুয়া হিল্লোল এই পোস্টে! কথা যা-যা বলার ছিলো প্লিজ বলে যান!
আরেকটা কথা ভাইডি, চতুরে সদস্য হওয়া খুব ইজিপিজি, অথচ অতিথি হয়ে মন্তব্য পোস্ট করার হ্যাপা ম্যালা।
প্রিয়তে নিয়ে রাখলাম, সময় করে পড়ব বলে............।
লেখকের মন্তব্য
অনেক ধন্যবাদ ওয়াসিফ! আপনার সিরিজটা অসাধারণ হচ্ছে; তার কাজ শেষ করেই পড়বেন না হয়
নুশেরাপু এটা-গল্প বল আর সামাজিক ক্ষয়ের চিত্র যাই বল একটানে পড়লাম,,,,, অবশেষে তোমাকে থেংকু দেওয়ার আকুল ইচ্ছার কাছে হেরে গিয়ে নতুন পার্সওয়ার্ড নিয়ে আইডিটা আবার একটিভ করলাম,,,,,,,,,,
লেখকের মন্তব্য
থ্যাঙ্কু ভাইয়া, এখন ঝটপট লেখালেখি শুরু করো! (তোমাকে ঝাড়ি দিতে দিতে অভ্যাস খারাপ হয়ে গেছে
)
এইটা একটা কাজ করলেন, এইভাবে সুন্দরী-মেধাবী বাণিজ্যরে বাঁশ নিয়া দৌড়ানি দিলেন? আপনে মানুষটা খুবই খ্রাপ।
এখন কোথাও অলরাউন্ডার বানায়, কোথাও মেধাবী বানায়, কোথাও তারকা বানায়, কিন্তু কোন জায়গায় মানুষ বানায় না। ইট'স অল বিজনেস, বুঝতে হবে।
লেখকের মন্তব্য
কোন জায়গায় মানুষ বানায় না-- কথাটা ব্যাপক লাইকিট সহকারে ভুটাইলাম।
মানুষ তো বানানো যায় না। মানুষ হতে হয়।
একটা লিখা লিখছি পোষ্ট করব ভাবতেছি,,,,,,,,,,,,,,এখানকার লেখাজোকা দেখে মনে হয় এখানে নিয়মিত হয়ে যাব।।। এত জটিল জটিল পোষ্ট মিস করছি,,,,, তবে এখনো সাইটের অনেক টুলস এর ব্যবহারই মাথার উপ্রে দিয়া যাইতেছে এগুলো জানতে পারলে আগ্রহটা আরো বেশী হত
লেখকের মন্তব্য
প্রথম পাতায় বাঁয়ে নীচের দিকে চতুর সমাচারে একটু ঢুঁ দিয়ে নিবা
সাধু...............সাধু...............
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ তায়েফ!
হাহাহা, কচুরিপানার এক্সেসরিজ?
এসবকি সত্যিই আছে বলছেন, নাকি আমাদেরকে বোকা পেয়ে হাইকোর্ট দেখাচ্ছেন!
কবি বিমলেন্দু ভাগ তো বিয়ে করেনাই জানতাম, তার মাইয়াও আছে নাকি?! তবে কুবি-সাহিত্যিকদের মধ্যে এই লোকটারে আমার সৎ মনে হইছে, ইনি কি এরশাদকে কবিতা লিখে দিতেন? এরশাদকে কে কে কবিতা লিখে দিতেন সেটা কি জানেন?
লেখকের মন্তব্য
হিলারি আর চেলসি ক্লিনটন বাংলাদেশে আসার পর বিবি রাসেল তাদের জন্য কচুরিপানার বালামালাদুল বানায় দিসিলেন
কবি নির্মলেন্দ গুণের কন্যার নাম মৃত্তিকা গুণ
এরশাদকাগুরে সামনাসামনি দেখছি, কথাবার্তা শুনছি। উনার বাংলা শব্দচয়ন এবং উচ্চারণ দুটোই বেশ ভালো; এক্সটেমপোর স্পিচ দেয়ার ক্ষমতা প্রশংসনীয়। কবিতাগুলো লেজেহুমোর নিজের লেখাও হতে পারে (আমি একটাই পড়ছি: কনক প্রদীপ জ্বালো)
এরশাদের কবিতা লিখে দেয়ার ব্যাপারে সৈয়দ আলী আহসান, আলাউদদিন আল আজাদ এ দুজনের কথা বেশী শুনেছি। ইমরান নুর (মোফাজ্জল করিম), ফজল শাহাবুদদিন, আল মাহমুদ এদের কথাও শুনেছি, তবে কম। সত্যি-মিথ্যা কে জানে।
লেখকের মন্তব্য
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ খানকে বাদ দিছেন

দৈনিক বাংলা-সূত্রে শামসুর রাহমানও নাকি সন্দেহের ঊর্ধ্বে ছিলেন না! তবে তাঁর কবিতার পাশে বা উপরে এরশাদের কবিতা ছাপা হতো, এটা নিয়মিত দৃশ্য ছিলো
বাদ গেলো কিডা? শামসুর রাহমানের চান্স কম। মধ্য আশি থেকেই ওনার সাথে সরকারের সম্পর্ক খারাপ। বরং জিয়াউর রহমানের সাথে শামসুর রাহমানের ভালো সম্পর্কের কথা শুনেছি। (বিএনপি ভক্তদের হৃদপিন্ডদেরকে সুস্থ থাকার আহবান করছি)
এই টাইপ এর প্রতিযোগিতা খুব অসহ্য লাগে কেনো জানি আমার কাছে!
আপনার লেখার ডিটেইলিং অসাধারণ, শ্লেষগুলোও!
অভিনন্দন।।
লেখকের মন্তব্য
অশেষ ধন্যবাদ নস্টালজিক! বিষয়টা নিয়ে গান হতে পারে না?
এত্তোবর লীখা? কভে পরুম?
লেখকের মন্তব্য
টাইম মেশিনে চৈড়া প্রিয় পোস্টে নেয়ার তারিখে ব্যাক করেন, হের্পর পড়েন
ইন্টারেস্টিং একটা গান হতে পারে!
লেখকের মন্তব্য
"কালিবাড়ীর নন্দিনীর কথা জাতি জান্তে চায়"
হুমায়ূনের একটা পুরনো ছোটগল্প আছে; নাম ভুলে গেছি। মেলা আগে পড়েছিলাম, ২২/২৩ বছর আগে মনে হয়। কাকতালীয়ভাবে, সেই গল্পের নায়িকার নাম নন্দিনী ও গল্পের পটভূমি ময়মনসিংহ শহর।
এইমাত্র নাম মনে পড়লো। "নন্দিনী"; "নিশিকাব্য" নামের একটা গল্প-সংকলন থেকে এটা পড়েছিলাম। হুমায়ূন বাজারি লেখক হননি তখনও।
লেখকের মন্তব্য
আরে, কাকে দেখছি!!!
প্লিজ রেজিস্ট্রেশন করে নিন, লেখা তো চাই-ই, আপনারও মন্তব্য পোস্ট করার ঝামেলা কমবে
মন্তব্য করুন