নুশেরা-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পা ও পাদুকা
১.
গীতগোবিন্দের কবি জয়দেব বলে গেছেন, দেহি পদপল্লবমুদারম। কবিগুরু আজও গাইয়ে চলেছেন, চরণ ধরিতে দিয়ো গো আমারে, নিয়ো না, নিয়ো না সরায়ে।
জীবনানন্দ চিনিয়েছেন 'তোমার নগ্ন নির্জন হাত'; পৃথিবীর কোনো পথে কিশোরের 'পায়ের-দলা' মুথাঘাসের ছবি এঁকেছেন স্বভাবসিদ্ধ সুনিপুণ স্নিগ্ধতায়। কিন্তু হাজার বছর ধরে পথ হেঁটে চলা ক্লান্ত প্রাণের কথা জানালেও পায়ের প্রসঙ্গটি সেখানে উহ্যই রেখেছেন কবি।
সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়ের লেখায় পাওয়া যায় ১৯৭২ সালে জুলাই-আগস্টের ঘোর বর্ষায় জলমগ্ন কলকাতার রূপাঞ্জলি সিনেমা হলের কথা। শো চলাকালীন হঠাৎ হঠাৎ পর্দাজুড়ে স্লাইড ভেসে উঠতো:
সাবধান! বান আসিতেছে!!
পা তুলিয়া বসুন।
পালাগানের মানহীন পরিবেশনায় "ঠ্যাঙে তালি" দেয়ার আহ্বান অথবা পা দিয়ে কান মলে দেয়ার ধমক গ্রাম বাংলায় চালু আছে। শহুরে 'ঝাড়ি'তে চলে ঠ্যাং ভেঙে হাতে ধরিয়ে দেয়ার হুমকি।
যে চীনে একদা লোহার জুতো পরিয়ে মেয়েদের পায়ের আকার ছোট রাখা হতো, সে দেশেরই এক তরুণী বিশ্বজোড়া পরিচিতি পেয়ে গেছেন পায়ের পাতার বিশালতার কারণে। তার পায়ের বুড়ো আঙুলের আকার শিশুর পায়ের পাতার সমান। পাশের আঙুলটি প্রস্থে ততোটা না হলেও এর দৈর্ঘ্য ৯ সেন্টিমিটার!
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বলতেন, 'আমার নেই-পা-টাও চুলকোয়।' এই অসামান্য লেখকের মস্তিষ্কের স্মৃতিতে চিকিৎসকের হাতে কেটে ফেলা পা-টি তখনও সজীব বর্তমান!
পায়ের সঙ্গে প্রায় অবিচ্ছেদ্যভাবেই চলে আসে জুতোর কথা। গরু মেরে জুতা দান থেকে শুরু করে পিন ফোটানো জুতোর প্রবাদবাক্যে পাদুকার প্রভাব ব্যাপক। রবিঠাকুরের বুদ্ধিদীপ্ত রসময় কবিতা জুতা আবিষ্কারের সমাপ্তিটুকু আমাদের কার মনের কথা নয়! বিদ্যাসাগর উপাধি ঈশ্বরচন্দ্রের চটিজোড়াতেও জুড়ে গেছে।
ইরানের নন্দিত চলচ্চিত্রকার মাজিদ মাজিদির মর্মস্পর্শী করুণ সৃষ্টি 'চিলড্রেন অফ হেভেন'। একজোড়া জুতো ভাগাভাগি করে চলা ভাইবোনের দু'জোড়া পায়ের গল্পের অসাধারণ চিত্রায়ণ। প্রাণপণে দৌড়াতে থাকা শিশুর পায়ে যেন ভর করে মহাজীবনের অনন্ত যাত্রা।
শেখ সাদীর গল্পে (নাকি কবিতায়?) কথকের জুতোর অভাবজনিত দুঃখ ঘুচে যায় মসজিদে পা-বিহীন খঞ্জকে দেখে। গল্পটির মন্দির-সংস্করণ মেলে সনাতন ধর্মের নীতিগল্পে। কে জানে, শীতপ্রধান অঞ্চল না হলে হয়তো একই গল্পের চার্চ-সংস্করণ তৈরি হতে পারতো ইউরোপে।
ফিলিপাইনের সাবেক ফার্স্টলেডি লৌহ প্রজাপতি ইমেলদা মার্কোসের পদযুগল খ্যাতি অথবা কুখ্যাতি অর্জন করেছিলো পাদুকাপ্রীতির কারণে। কয়েক হাজার জোড়া জুতোর সংগ্রহ অবশ্য বিশ্বের নামীদামী মুভি ও মডেল তারকাদের জন্য খুব বিরল কিছু না।
রবীন্দ্রনাথের পিতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরকে মহর্ষি বলে ডাকা হতো; পূর্বপুরুষের অভ্যস্ত বিলাস-ব্যসনে তাঁর আগ্রহ ছিলো না। তবু উচ্চবর্গীয় জাত্যাভিমান বলে কথা; সেরকম কোনো সামাজিক উপলক্ষে তাঁর সাধারণ বেশবাসের সঙ্গে জাত চেনাতে যোগ হতো শুধু একজোড়া মাণিক্যখচিত নাগরা। অপরাপর অভ্যাগতদের জন্য এটা এক ধরণের ইঙ্গিত: তোমরা যাকে মাথায় তুলেছো, আমি রেখেছি পায়ে।
বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজদ্দৌলার পাদুকাযুগল ইতিহাস পেরিয়ে যাত্রা-সিনেমার জন্যও চরম নাটকীয় মুহূর্তের যোগান দিয়েছে। সাধারণ নাগরিকের ছদ্মবেশে পলায়নপর নবাব বিপক্ষের সেনাদলের হাতে ধরা পড়েছিলেন শুধু নবাবী জুতোজোড়া বদলাতে ভুল করায়।
কবি সুবোধ সরকার পুজোর বাজার বিষয়ে সাক্ষাৎকারে বলেছেন জুতো কেনা নিয়ে এক করুণ গল্প। দরিদ্র স্কুলশিক্ষক পিতা ষোল টাকার একজোড়া জুতো কিনে দিতে পারেন নি; বাবার সেই গ্লানিমাখা মুখ কবি ভুলতে পারেন না। এখন নিজের ছেলেকে ষোলশ টাকা দামের জুতো কিনে দেন অনায়াসে, আর মনে মনে ভাবেন, মহাকাল একদিন এভাবেই আমাদের সবাইকে জুতোপেটা করে যায়...
২.
আমাদের পাড়ার বাইরে রাস্তার ঠিক ওপারে একটা মসজিদ। মসজিদের পিছনে পাহাড়ের ঢালে কিছু ঝুপড়িঘর; সামনে মুদি দোকান। ঝুপড়ির ভাড়া তোলে এই দোকানি। ঝুপড়িবাসী শ্রমজীবী মানুষ তার দোকানেই বাকিতে নিত্যপণ্য কেনে, বেতন পেলে শোধ করে।
মেয়েটি এদেরই একজন। বাইশ-তেইশ বছর বয়সী গার্মেন্টকর্মী। তিন মাস ধরে বেতন না পাওয়ায় দেনার অংক তিন হাজার ছাড়িয়েছে। দোকানদারের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে কোথা থেকে একটা বোরকা জোগাড় করে এনেছে। তাতে নিজেকে মুড়ে সকালে কাজে বেরোয়, সন্ধ্যায় ফেরে। ঝুপড়িতেও থাকে লুকিয়ে, এক বৃদ্ধার আশ্রয়ে। দিন দশেক এভাবে যাবার পর একদিন সন্ধ্যাবেলা। মাগরিবের আজান পড়বে, ঠিক তখনই ওঁত পেতে থাকা দোকানদার ঝাঁপিয়ে পড়ে জাপটে ধরে রাস্তায় শুইয়ে ফেলে মেয়েটিকে। সমবেত লোকজনের সামনে বোরকার ঝাঁপ তুলে নিজের আবিষ্কার-দক্ষতার প্রমাণ দেখিয়ে আত্মপ্রসাদের হাসি হাসে।
- পুরুষ মানুষটা এইভাবে তোমার গায়ে হাত দিলো, মুসল্লিরা কিছু বললো না? মুয়াজ্জিন বা ইমাম সাহেব?
- আয় অ। কইছে, জুতার বাড়ি না দিলে সিধা অইতো ন।
তার পরের দৃশ্য আমার দেখা। বর্ণনা নিষ্প্রয়োজন।
- আচ্ছা বলো তো, চিনলো কীভাবে তোমাকে?
- মরার জুতা গো আফা, গার্মেন্সের করণীর জুতা হেই একজোড়া।
মেয়েটির পায়ের দিকে তাকাই। টায়ারের চটি এদেশে এখনও পরে মানুষ! নাকের পাশে ক্ষত হওয়া চামড়ায় হাত বুলায় মেয়ে। একটা নাকফুল ছিলো; জুতোপেটার মধ্যে কারো স্যান্ডেলের তলায় গেঁথে উঠে যাবার সময় নির্মমতার চিহ্নটুকু রেখে গেছে।
৩.
তিনি আমাদের পারিবারিক বন্ধু। হাসিখুশি আমুদে মানুষটিকে ছোটবেলা থেকে দেখেছি, নিয়মিত আসতেন, জমিয়ে গল্প করতেন বাবা-মার সঙ্গে। পেশাগত জীবনে ছিলেন ব্যস্ত চিকিৎসক, অন্তত দু'টি মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষও ছিলেন। ছাত্রছাত্রীদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজনে তাঁর ব্যস্ততা দেখার মতো ছিলো।
এই চমৎকার মানুষটির শারীরিক গঠনে কিছুটা অসঙ্গতি ছিলো। জন্মগত অথবা রোগজনিত অথবা দুর্ঘটনাঘটিত-- ঠিক মনে নেই-- কোন্ কারণে যেন তাঁর একটি পা অন্যটি থেকে বেশ খানিকটা খাটো হয়ে যায়। বিশেষভাবে তৈরী জুতো পরেও হাঁটা ছিলো কষ্টকর; একটু হেলে, একটু ঝুঁকে বেশ ব্যালান্স করে হাঁটতে হতো।
তখন আমি ক্লাস ওয়ান বা টুতে পড়ি, একদিন এক পায়ে নিজের পাতলা স্যান্ডেল আর অন্য পায়ের মায়ের একটু উঁচু হিলের একটা জুতো পরে হেঁটে হেঁটে তাঁর নকল দেখিয়েছিলাম। কন্যার নিষ্ঠুর রসিকতায় খুব দুঃখ পেয়ে মা তিরস্কার করেছিলেন। আমার শিশুমস্তিষ্ক নিজের অন্যায়টুকু সেদিন বুঝতে পারেনি।
বড় হবার পর অনেকবার ভেবেছি ওই চাচার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিই, কিন্তু ভাবনা পর্যন্তই, শেষ পর্যন্ত সাহসে কুলায়নি। অথচ উনি মোটেই রাশভারি গোছের কেউ ছিলেন না, বাসায় এলে বাবামার সঙ্গে গল্প সেরে আমার ভার্সিটি থেকে ফেরার অপেক্ষায় বসে থাকতেন, আমার বন্ধুবান্ধবদের মজার মজার কীর্তিকলাপ শুনবেন বলে। একসময় বদলি অথবা অবসরজনিত কারণে ঢাকায় চলে গেলে যোগাযোগ ক্ষীণ হয়ে আসে। তবু এখনো তাঁর কথা মনে পড়লেই ভাবি, ফোন করে ক্ষমা চেয়ে নেবো।
সেদিন টিভিতে একটা অনুষ্ঠান দেখতে বসে অভাবিতভাবে তাঁকে মনে পড়লো আবার। অনুষ্ঠানটি দেখাচ্ছিলো হিন্দি ভাষার কোনো চ্যানেলে; ফিল্মফেয়ার নামের একটি পত্রিকা পূর্ববর্তী বছরের বলিউড ইন্ডাস্ট্রির লোকজনকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দিচ্ছে। পুরস্কার ঘোষণা ও বিতরণের ফাঁকে বিভিন্ন ধরণের বিনোদনমূলক আইটেম সংযোজিত হয়েছে, নাচ-গানের পাশাপাশি আছে উপস্থাপকদ্বয়ের অভিনীত নাট্যাংশ। মুভি দেখা না হলেও সংলাপ আর গেটআপ দেখে অনুমান করে নিয়েছি, একজন সেজেছেন 'দাবাং'য়ের সালমান খান, অন্যজন এসেছেন 'মাই নেইম ইজ খান'-এর শাহরুখ খান হয়ে।
বলিউড তারকাদের অবস্থান নিয়ে একটি ব্যাঙ্গাত্মক নাটিকা; তাতে সুপারহিট মুভির নামচরিত্রের অঙ্গভঙ্গি আসতেই পারে। দর্শকাসনে বসে থাকা তারকারা প্রাণ খুলে হেসেছেন, শাহরুখের অনুকরণকারী রণবীর কাপুরের সংলাপের প্রতিক্রিয়ায় সুঅভিনেত্রী কাজলের হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়ার দৃশ্যটি আর যাই হোক অভিনয় নয়। অথচ এই দৃশ্য দেখে আমি হাসতে পারি না, বুকের ভেতর কোথায় যেন ধোয়া কাপড় নিংড়ানোর মতো মোচড় দিয়ে ব্যথার মতো একটা কিছু দলা পাকিয়ে ওঠে, চোখ জ্বালা করতে থাকে। অস্বাভাবিক চাহনিতে, বাক্যশেষের পুনরাবৃত্ত শব্দে একজন অটিজম আক্রান্তের, বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে সীমাবদ্ধ মানুষের, ম্যানারিজম কেমন করে কৌতুকের বিষয় হিসেবে নির্বাচিত হতে পারে, শত চেষ্টাতেও মন অথবা মস্তিষ্ক-- কাউকেই বোঝাতে পারলাম না। জুতোর পেরেকটা আসলে তাকেই বেঁধে, যে তাতে পা গলিয়েছে।
এতোদিন পর সিদ্ধান্ত নিলাম, সেই চাচার কাছে ক্ষমা চেয়ে তাঁকে আর কষ্ট দেবো না। নিজের প্রকৃতিনির্ধারিত অক্ষমতা নিয়ে কেউ কৌতুক করেছে, এই মর্মবিদারক তথ্যটি না হয় তাঁর অজানাই থাকুক। সুবোধ সরকারকেও মনে পড়লো আরেকবার। হা মহাকাল, এভাবেই জুতিয়ে যাও!
মন্তব্য
খুব বিশেষ কিছু বলার নেই।প্রতিটি ঘটনা জীবন্ত হয়ে ভেসে উঠছে।আপনার এই সিরিজের লেখাগুলো পড়লে মন খারাপ হয়ে যায়
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ আরিশ, পরেরটাতে রম্য লেখার চেষ্টা করে দেখবো
পড়া শুরু করেই বুঝতে পারছিলাম শেষে এসে এমন কিছু পাব যা মনের ভিতর একটা ধাক্কা দিবে। মহাকাল এভাবে জুতো মেরেই যায়।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ দারুচিনি লবঙ্গ।
টুনি-টুনটুনি ভালো আছে তো?
টুনির মন খারাপ তাই টুনটুনিকে বকা-ঝকা করে সামান্য কারণেই, এই নিয়ে আবার টোনা রাগ করে। এইভাবেই হাসি-কান্নায় জীবন চলে যাচ্ছে।
লেখকের মন্তব্য
হাসিকান্নার মধুর গল্পরা এখানেও কিছু আসুক
কোণ মন্তব্যই এখানে মানানসই হবেনা আমার।
অসাধারন!!!! প্রিয়তে।
লেখকের মন্তব্য
সম্মানিত, কৃতজ্ঞ...
ভালো থেকো সুরঞ্জনা
বেশী ভাগ মানুষেরই বেশীর ভাগ সুক্ষ অনুভুতির অধিকারী না ।
========
আরেকটা ব্যাপার হলো অনেকেই হাসি তামাশা করতে করতে লিমিট ক্রস করে ফেলেন ।
অনেকের কথা কি বলবো - আমার নিজেরই এমন প্রায়ই হয় - এতো চেক করে চলার পরো ।
লেখকের মন্তব্য
ফানি ভিডিওতে শারীরিক আঘাত পাওয়ার ঘটনার ছড়াছড়ি, অন্যের বিপর্যস্ত অবস্থায় আমরা কেন যে এতো আনন্দ পাই!
নুশেরা'পা, তোমার লেখাটা পড়তে পড়তে ভাবছিলাম, জুতা নিয়ে কয়েকটা মজার কথা লিখব। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর পারলাম না। খুব মন খারাপ লাগছে।
খালাত বোন সোমা আপার কাছে আসত একটা আপু যার নাম মনে নেই।ওনাকে নিয়ে আমি আর ছোটভাইখুব হাসতাম কারণ উনি ছিলেন টাক। একদিন উনি আম্মুর কাছে কতগুলো কাগজ রেখে গেলেন সই করবার জন্য। সেদিন যথারীতি আমরা হাসাহাসি করছি। হাসাহাসি করতে করতেই আমরা আপুর কাগজগুলো দেখছিলাম। দেখলাম- আপু সারাজীবন সেকেন্ড হননি কোন পরীক্ষায়। দুইজনে চুপ মেরে গেলাম। সেই শিক্ষা কোনদিন ভুলব না।
লেখকের মন্তব্য
তুমি অবশ্যই লিখবে। মানসম্পন্ন রম্যের বড়ই আকাল এখন।
মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন।
লেখকের মন্তব্য
হুমম
এই তারপর শিরোনামের পোস্টগুলোয় খুব বুঝেশুনে ঢুকতে হয় আমার। কারণ দেখা যায় সবগুলো লেখাই মন প্রচণ্ড বিষণ্ণ করে দেয়। আবার মনের কোণে এক পাষণ্ড থাকেন, তিনি সেই বিষণ্ণতা উপভোগও করেন; টের পাই।
আমি খুব ছোট থাকতে (ক্লাস টু বা থ্রি) একবার একজন হাত বাঁকা পঙ্গুকে 'লুলা' বলেছিলাম। বলার ভঙ্গি হয়তো নির্দোষ কৌতূহলের ছিলো। এভাবে বলতে হয় না বা বলা ঠিক না এটা তখনও কেউ আমাকে শেখায় নি, বা শেখালেও আমার মনে নাই। তারপর বেশ একচোট ধমক-ধামক। কেঁদেকেটে শিখেছি যে এভাবে কাউকে বলতে নেই। আরেকটু বড়ো হয়ে এক বন্ধু পেয়েছি, পা বাঁকা ছিলো, টেনে টেনে হাঁটতো। সেই থেকে ...
বন্ধুটার সাথে ক্লাস ফোরের পর আর দেখা হয় নি। মাঝে মাঝে তার কথা ভাবি, হঠাৎ করে কোথাও একদিন দেখা হয়ে যাবে ভেবে আশায় থাকি। হয়তো একদিন, কোনো একদিন...
এটা শুধু লেখকেরই ঘটেছে এমন না। অধিকাংশ হাত বা পা হারানো মানুষের মগজে হৃত-অঙ্গের স্মৃতি রয়ে যায়। সেগুলো নিয়ে অনেক রকমের প্রতিক্রিয়াও তাদের হয়। ইলিয়াসের প্রতিক্রিয়া তবু নির্দোষ চুলকানো ছিল, অনেকের তীব্র ব্যথা হয় অথচ হাতটা বা পা'টাই নেই!!
লেখকের মন্তব্য
আমাদের শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার মধ্যে যুক্তিসিদ্ধ অথচ অদ্ভুত কিছু ব্যাপার থাকে,
অঙ্গপ্রত্যঙ্গের স্মৃতি যেমন, ফরেন-বডি ফিলিং আরেকটা বিষয়...
ইলিয়াসের সাহিত্যকর্মের কিছু দিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে বিশ্লেষণ করেছিলেন জিল্লুর রহমান, অনেক আগের একটা কাজ, সম্ভবত লিরিক নামের অসাধারণ একটি ছোটকাগজে, পড়া না থাকলে অথবা পড়তে চাইলে জানিয়ো, ফটোকপি পাঠিয়ে দেবো
না পড়া নাই। পাঠায় দেন। পড়ার আগ্রহ হচ্ছে!
কিছু বলতে গেলে অনেক ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ চলে আসবে। ব্লগে যা আমি বলিনা। থাক! শুভবোধ না, অন্তত কমনসেন্সটা জাগ্রত হোক সবার।
লেখকের মন্তব্য
সেটাই।
@নুশেরাপু,
খুব মন ভালো হয়ে যাওয়া পোস্ট পেয়ে যাই আপনার ব্লগে আসলেই, এতো সুন্দর করে লেখেন কি ভাবে? সামনে মলাট বন্দি লেখা চাই, '১২ এর বই মেলায়। দেশে গিয়ে নিজ হাতে বই কিনব।
খুব জীবন্ত লাগে সব কিছু, আমি কিন্তু ছায়াছন্দের একটা লেখা পড়েই ব্লগের সদস্য হবার ইচ্ছা পোষন করেছিলাম।সব কিছুই মনে হয় সামনে দিয়ে ঘটে যাচ্ছে। এই ব্লগে অনেক লেখাই প্রানবন্ত, আর এর সামনে সারিতেই আপনার লেখা একেবারে সামনের দিকে।সচেতনতা মূলক কিছু লেখা আশা করছি, ইতিমধ্যে মানবিক সূক্ষ আবেগ আবেদন পেয়েছি, আরো একটু বিস্তৃত চাই। অসাধারণ লেখার ক্ষমতা আছে আপনার তাই চাহিদার পরিধিও বেশি আমাদের।
ধন্যবাদ
লেখকের মন্তব্য
কাউকে দিতে হলে নিজেরও তো কিছু জ্ঞান থাকা চাই, সেটার অভাব প্রকট, তবু লিখি আপনারা পড়বেন এই ভরসায়
রাজশাহী নিয়ে সেই স্মৃতিভারাতুর লেখাটি এখানে দিন না! সেরকম লেখা আপনি সবচেয়ে ভালো লেখেন। তাছাড়া স্মৃতিকাতরতা বিষয়টাই তো খুব আপন।
লেখাটা এভাবে শেষ হবে ভাবি নি। এই পোষ্টে আর কিছু না বলি। ভালো থেকেন আপা।
লেখকের মন্তব্য
তুমিও ভালো থেকো ভাই
কানাকে কানা, খোঁড়াকে খোঁড়া বলিও না - এটা অনেক পুরনো কথা, ছোটবেলায় সবাই পড়েছি। তাও আমরা মানিনা।
পশ্চিমে আজকাল অনেকে হ্যান্ডিক্যাপডও বলেন না, বলেন পিপল উইথ স্পেশাল নিড।
সফল/জনপ্রিয় হবার আগে মানুষ হওয়াটা জরুরী।
লেখকের মন্তব্য
আপনি আসলেই দিন কে দিন হুদাই লেখক থেকে অন্যরকম লেখক হয়ে উঠছেন।
এরপরে আর কোন কথা চলে না।
লেখকের মন্তব্য
সুপারম্যানের কাজ বাদ্দিয়া ব্লগে কী!
আপুনি তোমার লেখাগুলো এত অদ্ভুত টাইপের শক্তিশালী আর প্রানবন্ত হয়!আমি অবাক হয়ে যাই।
লেখকের মন্তব্য
--পড়তে গিয়ে আমারও তেমন বোধ হলো আপা। মন খারাপ করে দেয়া হলেও আপনার এই সিরিজটা অবশ্যপাঠ্য, যেমনটা মহাকালের জুতাপেটা--- আমিও খেয়ে চলেছি নিরন্তর।
লেখকের মন্তব্য
সহমর্মিতা একটি বিরল গুণ, অবশ্য মামুনভাই মানুষটাই ইউনিক
নিছক মজা যে মানুষকে কি পরিমান কষ্ট দিতে পারে সে বিষয়ে কিছু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা আছে। আর মানুষজন কেন জানি অন্যের দুর্বলতা নিয়ে কথা বলতেই বেশী আনন্দ পায়।
জুতোর পেরেকটা আসলে তাকেই বেঁধে, যে তাতে পা গলিয়েছে।
লেখকের মন্তব্য
সেই ঢিল ছোঁড়া ছেলের দল আর ব্যাঙের গল্প, তাই না?
জুতোর পেরেকটা আসলে তাকেই বেঁধে- যার বেদনাবোধ আছে। মানবাধিকার বোধের আওতায় না আসা কত বিষয়ই তো কেউ কেউ উপলব্ধি করেন সময়ের আগে।
সারভাইভেল অব দ্য ফিটেস্ট এই কনসেপ্ট থেকে আমরা কিছুতেই বেরোতে পারি না।
আমার কীর্তিমান রুমমেটটি যখন তার লেখাপড়ায়র অমনোযোগ অপছন্দ নিয়ে ছেলেবেলার বিড়ম্বনা শুনিয়ে হাসে আমি কেমন পারি না। মনে হয় এইটাও শিশুমনের উপর বড় একটা অন্যায়ের চিত্র। যে মেয়ে সারাজীবন ফার্স্টবেঞ্চার সে কেমন একাত্ম হয়ে যায় ক্লাশের অংক না পারা কচিমুখটার সাথে। ভাল লাগে না মেয়েদের পুরুষালি, ছেলেদের মেয়েলি স্বভাব নিয়ে তামাশা করা। ট্রান্সজেন্ডার মানুষদের ব্যাপারে আমাদের সমাজ কত নিষ্ঠুর বল।
যেকোন সমাজে যে বিষয়কে স্বাভাবিক বলে চেনানো হয়েছে তার বাইরে মানুষ পড়লেই কপালে দুর্যোগ
লেখাটা অপূর্ব হয়েছে জান। এই সিরিজের কথা তো আমার জানা ছিল না , আস্তে আস্তে সবকটা পড়ে নেব।
লেখকের মন্তব্য
================================
সিরিজ আসলে সে অর্থে কিছু না, শুধু ক'টা হাবিজাবি লিখলাম তার একটা শুমার রাখার চেষ্টা
অনেক বড়রাও কিন্তু ছোটদের দিয়ে অনেক রকম অভিনয় করিয়ে মজা পায়
নিজেই দেখেছি, এক বাচ্চাকে পরিচিত পঙ্গু এক মহিলার অনুকরণ করতে বলা হচ্ছিলো
আর সেটা নিয়ে সবাই মজাও পাচ্ছিলো অনেক
পৃথিবীতে কত রকম মানুষই না আছে!
লেখকের মন্তব্য
বুঝতে পারি না, এইসব অভিভাবকের সমস্যাটা আসলে কোথায়! কিছু শিক্ষিত বাবামাকেও দেখি পিকনিক বা পার্টিতে বাচ্চাদের (বিশেষ করে মেয়েদের) আইটেম গানের নর্তকীর পোশাক পরিয়ে হিন্দি গানের সঙ্গে নাচতে বলছে, ত্যক্ত লাগে...
জুতোর পেরেকটা আসলে তাকেই বেঁধে, যে তাতে পা গলিয়েছে।
আসাধারন।।।।।।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ উদরাজীভাই
এত্তবড় একটা কমেন্ট লিখলাম, মন খারাপের ইমো খুঁজতে গিয়ে গায়েব হয়ে গেল
১- নবাব সিরাজদৌলার ধরা পড়ার পেছনেও ছিল নাকি সেই শাহীজুতো। ছদ্মবেশ নিয়েও লুকোতে পারেননি শাহী নাগরা।
২, ৩ - সংক্ষেপে বলতে গেলে 'আবিষ্কারে'র নিষ্ঠুরতা, নিষ্ঠুর রসিকতা। মানুষের পক্ষেই এটা সম্ভব। অথচ নির্মমতার চিত্র বোঝাতে আমরা খামাকা জন্তু জানোয়ার টেনে আনি।
লেখকের মন্তব্য
হক কথা, জন্তুজানোয়ারের ওপর আমরা বাচিক দিক থেকেও নির্মম।
=================================
আপনার লেখা কই, শিগগির পোস্ট দেন, স্বাগত জানাতে চাই
মহাকাল, এভাবেই জুতিয়ে যায় ...

লেখকের মন্তব্য
মহাকালের গালে গালে জুতা মারো তালে তালে
লেখকের মন্তব্য
এটা একটা "খেয়ে আসছেন না গিয়ে খাবেন" মন্তব্য
লেখকের মন্তব্য
আপনি এতো সংবেদনশীল লেখা এতো সুন্দর করে লেখেন কি করে? লেখাটা পড়ে নিজের অনেক অভিজ্ঞতার কথা মনে পড়লো। আর আত্মপ্রসাদ না হলেও খানিকটা স্বস্তি অনুভব করেছি একটা ব্যাপার ভেবে। আমি মানুষ হিসেবে তেমন উচ্চমার্গীয় নই, তবে একটা স্বান্তনা এই যে না শিশুকালে, না এখন... আমি মানুষের দুর্বলতাকে কখনো আনন্দের/রম্যের উপাদান বানাই নি, ভুল করেও না।
লেখকের মন্তব্য
আপনাকে ঈর্ষা করছি
আপনার শব্দে লেখারা প্রাণবন্ত আর সুখপাঠ্য হয়ে উঠে সবসময় ।
তবে, বিষয়ভিত্তিক ফিচারগুলো আপনার হাতে হয়ে উঠে দুর্দান্ত !
লেখকের মন্তব্য
অনেক ধন্যবাদ শিপন। নতুন গল্প পাচ্ছি কবে?
আমার এক বান্ধবী ছিলো, ছোটবেলায় পোলিও হবার কারণে তার একটা পা আরেকটা পায়ের চেয়ে ছোট রয়ে গিয়েছিলো অনেকখানি। হাঁটলে খুব চোখে পড়তো। আমরা কখনও এসব নিয়ে কিছু বলতাম না, ভাবতাম হয়তো সে নিজে থেকে কখনও কিছু শেয়ার করবে। কিন্তু ও নিজেও কখনোই কিছু বলতো না, সবসময়ই হাসিখুশি থাকতো। কোনও কষ্ট লুকিয়ে রাখতো কিনা, কে জানে... ...
---------
ডার্ক জোক জিনিসটা একেবারেই ভালো লাগে না। এসব ব্যাপার নিয়ে কেউ কৌতুক করার চেষ্টা করছে দেখলে একরকম করুণাই হয়। মানুষের বোধোদয় হোক!
লেখকের মন্তব্য
আমার এক সহকর্মী ছিলেন যার একটা চোখ অস্বাভাবিক গঠনের আর দেখতে ঘোলাটে। উনার সঙ্গে কাজের সূত্রে বেশ ভালো বোঝাপড়া ছিলো। একদিন আরেক সহকর্মী এসে খুব জরুরি পরামর্শ দিচ্ছেন এমন ভঙ্গিতে বললেন, ঐ 'কানা' থেকে সাবধান থাকতে, কারণ অস্বাভাবিক শারীরিক গঠনের মানুষ খুব 'প্যাঁচাইল্যা-ভ্যাজাইল্যা' হয়। ইচ্ছা হচ্ছিলো বলি, সেটাই যদি হয় তাহলে আপনার অস্বাভাবিকতাটা কোথায়?
==================
মানুষের বোধোদয় হোক!
সবাই তো সব বলে ফেলেছে, আমি আর কী বলি!
লেখকের মন্তব্য
তোমাকে ব্লগে দেখা যাচ্ছে, লিখছো বাংলা বর্ণমালায়, আর কী চাই!
আশ্চর্য রকমের খুশি হলাম আপনার মায়ের মানসিকতায়, কোনটা ঠিক আর কোনটা বেঠিক এই মাত্রাজ্ঞান বাচ্চাকে শেখানোর মত মা-বাবা বিরল। ছোটবেলা থেকে একটু নিরীহ বলে নিয়মিত "বুলিইং"(এটার বাংলা জানি না) এর পাল্লায় পড়তাম বলে কখনো কারো ব্যক্তিগত সমস্যা নিয়ে বদরসিকতা করার চিন্তা আসেনি, আমি তো জানি কেমন লাগে! এই নিয়ে একটা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা লিখেছিলেন ডঃ জাফর ইকবাল, একটা কনফারেন্সে গেছেন, তার এক বন্ধু বললো "জন" (বা এমন কিছু) নামের কাউকে খুঁজে ১টা জিনিস দিয়ে আসতে। জনের নানা রকম বর্ণনা শুনেও তিনি বের করতে পারলেন না সেটা কে। পরে বন্ধু যখন নিজেই জনকে বের করে জিনিসটা দিল, দেখলেন জনের মাঝে একটু শারীরিক অসঙ্গতি আছে, যেটা বললেি হাজার লোকের মাঝেও তাকে আলাদা করা যেত, কিন্তু তার বন্ধু একবারও সেটি বলেনি। লেখাটা ভাল ১টা শিক্ষা দিয়েছিল আমাকে, বাকি জীবন মনে থাকবে।
কারো কাছে ক্ষমা চাইতে হলে দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চেয়ে নেয়াই উচিত, সেটাই উপযুক্ত শাস্তি অপরাধের, মনে পুষে রাখলে বাকি জীবন জ্বলতে হয় যে আপা!
লেখকের মন্তব্য
জাফর ইকবাল স্যারের অভিজ্ঞতাটা আসলেই অনেক বড় একটা শিক্ষা। প্রকৃতির কিছু নিজস্ব শোধবোধের ব্যাপার আছে বোধহয়, আরেকটু বড় হয়ে আমি নিজেও ঠিক বুলিইং না হলেও কাছাকাছি অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছি। ক্ষমা চাওয়াটা দারুণ গুণ, সবাই পারে না; আবার ক্ষমা করাও কঠিন।
সামুতে একবার তুচ্ছ ঝগড়াবিবাদের এক পর্যায়ে একজনকে দেখেছি আরেকজনকে (যার প্রোপিকে একটা বাচ্চার ছবি) বলতে-- আপনার পিক আপনার মতোই, বাচ্চাটাকে প্রতিবন্ধী-প্রতিবন্ধী লাগে। কী নিষ্ঠুর একটা কথা, কী অবলীলায় বলে ফেললো!
প্রথম চাকরী জীবন। আমি যোগদানের কিছুদিন পরে একজন যোগ দিলেন, তাঁর পায়ে সমস্যা। হাঁটবার সময় সাম্নের দিকে ঝুঁকে হাঁটুতে হাত দিয়ে হাঁটেন। শিক্ষক হিসেবে খুবই ভালো। এক রাত্রে তিনি বললেন যে আর চাকরী করবেননা, এই জীবনও রাখবেন না। আমরা কোন সময় ভুল করে তাঁর মনে আঘাত দিয়ে ফেলেছি কিনা তা নিয়ে চিন্তিত হলাম। অনেক সাধ্য-সাধনার পর তিনি জানালেন যে, ছাত্রদের কথায় তিনি কষ্ট পেয়েছেন। ছাত্ররা এ-কথা ও-কথা শেষে তাকে জিজ্ঞাসা করেছে,"স্যার, আপনি বিয়ে করেছেন?" এই প্রশ্ন স্পষ্টতই তাঁর শারীরিক অস্বাভাবিকতার প্রতি ইঙ্গিতপূর্ণ মনে হওয়ায় তিনি খুব কষ্ট পেয়েছিলেন। ক'দিন পরেই তিনি চাকরী ছেড়ে চলে গেলেন। তাঁর আর কোন খোঁজ পাইনি কোনদিন, নামটাও এখন ভুলে গেছি।
লেখকের মন্তব্য
ঘটনাটি পড়ে কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে বসে ছিলাম। মানুষের গহনতম কষ্টরা বোধহয় নিভৃতিতেই নিষ্কৃতি খোঁজে...
এখনও এত কষ্ট লাগে! এমন একজন ভালো মানুষের জন্য কিছুই করতে পারিনি, নিজের অক্ষমতাকে কিছুতেই ভুলতে পারিনা।
এখানে বৃষ্টি নেই
তবুও ঘাসগুলো ভেজা, সিক্ত পাতারা
ফুল আর কুঁড়ি বেয়ে টুপটাপ ঝরে জলকণা------
মন বেয়ে উঠে আসা জমাট বেদনাকে রুখি কি করে! একটু না হয় কাঁদলামই আজ!
জুতার সেই বিখ্যাত ইংরেজী প্রবাদ বাক্যের আমার বঙ্গানুবাদ শুনবে? হেসো না কিন্তু!
"জুতা
কোথায় যে দেয় গুঁতা
জানেন শুধু তিনি
পড়েছেন যিনি।"
আমারও একটা জুতা আছে!!!
লেখকের মন্তব্য
====================================
আচ্ছা ঠিক আছে, হাসবো না। তবে তোমার বন্ধু এসে যখন 'পড়েছেন' বনাম 'পরেছেন' বিষয়ে লেকচার দেবেন, তখন কী করবো তা এখনই বলতে পারছি না
এই ভুল বানানেই ওটা লিখিত হয়েছে!! জুতা যে পুস্তক নয় সেটি বোঝার ক্ষমতা যখন হয়েছে তখন যা হবার তা হয়েই গেছে, আমার বন্ধু আমাকে সারাক্ষণই খোঁচায়, তাতে আমার বয়েই গেছে! কিছু জিনিস ইচ্ছাকৃতভাবে ইগনোর করা ভাল। অন্যদের জ্ঞানের প্রমাণ পাওয়া যায় তাতে!
তাই এখন আর বানান নিয়ে সময় নষ্ট করি না। বর্ণমালায় কোন্ বর্ণের পর কোনটি তা-ই ভুলে যাই মাঝে মধ্যে!!
অফ-টপিক: আমার কর্মজীবনে দু্ইজন 'শাহ'যুক্ত মেম্বার পেয়েছিলাম। বানানের ব্যাপারে এদের শুচিবায়ুগ্রস্ততা কিংবদন্তীতুল্য। জেলা-উপজেলার নাম শুদ্ধ বানানে লেখার জন্য গেজেটের কপি নিয়ে ঘুরতে হত। টাইপিস্ট বদমাশটা শুদ্ধ বানানও ভুল করতো। ওগুলো শুদ্ধ করতে আমার জান কোরবান হয়ে যেত। মাঝে-মধ্যে ইচ্ছে করেই কোণা-ঘুপচিতে কিছু অশুদ্ধ বানান থাকতো। মাঝখানের তিনটি স্তর পেরিয়ে গেলেও ওনাদের নজর এড়াতো না। গুষ্ঠী ধরে গালাগালি শুরু হতো তখন। এখন নথির দ্রুত নিষ্পত্তিই মুখ্য বিষয়!
লেখকের মন্তব্য
এই শাহদের শাহী কাজকারবার নিয়ে পোস্ট দিও
মন্তব্য করুন