লেখকের ক‌থা

সদর দরজা

তারপর... (৬)

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

১.

মানুষের অমানবিক নৃশংসতা বরাবরই বহুল আলোচিত বিষয়; সংবাদপত্র-টিভিচ্যানেল-ইন্টারনেটের কল্যাণে এড়িয়ে যাবার উপায় নেই এর খুঁটিনাটি বিবরণ; প্রাসঙ্গিক-অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে বস্তুনিষ্ঠ থেকে শুরু করে কদর্য তর্কবিতর্ক।

বাংলাদেশের মতো ঘনবসতির অপরাধপ্রবণ দেশে চারপাশের জনারণ্যে অপরাধীর সাক্ষাত পাওয়া খুব বিরল ঘটনা হয়তো না। অনেক বছর আগে চট্টগ্রামে আমাদের বাসায় এক দম্পতি বেড়াতে এসেছিল; বাবার বন্ধুর ভাগ্নি আর তার স্বামী। প্রচলিত সামাজিক প্রথায় একবেলা দাওয়াত খেয়ে চলে গিয়েছিল তারা; দিন দুয়েকের মধ্যেই এক পৃথিবী বিস্ময়ের যোগান এলো: ওই লোকটি খুন করেছে তার স্ত্রীকে! সেই হত্যাকাণ্ডের কথা মনে থাকতে পারে ব্লগারদের কারো কারো; চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় ফিরছিলো তরুণ দম্পতি, পথে স্বামীটি হত্যা করে স্ত্রীকে। ধনাঢ্য ব্যবসায়ী, সুপরিচিত চিকিৎসক মায়ের একমাত্র সন্তান, সর্বোপরি পরনারীতে প্রমাণিত আসক্তির কারণে দেশের জনগণ সোচ্চার ছিলো হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে। নিহত তরুণীর শহীদ সাংবাদিকের সন্তান পরিচয়টিও গুরুত্ব পেয়েছিলো সাংবাদিকদের কাছে। যাই হোক, সেটিই ছিলো আমার জীবনে প্রথম একজন (হবু)খুনীকে দেখার অভিজ্ঞতা।

চাকরিজীবনে প্রথম একজন খুনীর দেখা পাই জনৈক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে তার দায়িত্ব পালনকালে। "কাজ শেষে বাড়ি ফিরে বউর কাছে খাবার চেয়েছিলাম, দেরি হওয়াতে মেজাজ উঠে গেলো, মারলাম লাথি, বুঝি নি বউটা মরে যাবে"-- এমন সারাংশসম্বলিত হত্যাকাণ্ড খুব বিরল নয় আমাদের গ্রামীণ জনপদে। এই লোকটি আরেক ধাপ এগিয়ে হাতের ছিপ থেকে শক্তপোক্ত বড়শিটি ছুঁড়ে দিয়ে গেঁথেছে মৃতপ্রায় স্ত্রীর বুকে, তারপর নাইলনের সুতো ধরে টান দিয়ে যে অবস্থা করেছে তার বর্ণনা দেয়ার মতো স্নায়ুর জোর আমার নেই।

সেই লোক নিজে থেকেই যায় থানায়, পুলিশকে জানায় নিজের হাতে স্ত্রীকে হত্যা করার কথা। তাকে যখন সদরে আনা হয়, ততক্ষণে তার চলাচলের শক্তি প্রায় শূন্য। একজন মানুষের মেরুদণ্ড কেঁচোর মতো লতিয়ে নুয়ে পড়লে কেমন হতে পারে, লোকটি তার জলজ্যান্ত প্রদর্শনী যেন। দলাপাকানো একতাল মাংসের মতো মাটিতে মিশে আছে, কোমরে বাঁধা দড়িতে টান পড়লে ছেঁচড়ে ছেঁচড়ে আসছে। কোথাও আটকে গেলে বুটপরা পা দিয়ে ঠেলে এগিয়ে দিচ্ছে কোর্টপুলিশের হাবিলদার। অনুশোচনাদগ্ধ মানুষটি অনবরত নিজের মৃত্যু কামনা করছে; মেঝেতে মাথা ঠুকতে ঠুকতে হাউমাউ কান্নায় জানিয়ে দিচ্ছে অবিলম্বে সর্বোচ্চ শাস্তি গ্রহণ করে নিতে সে প্রস্তুত। তার জবানবন্দী অথবা চাহিদায় কিছু এসে যায় না; আইননির্ধারিত বিচার-প্রক্রিয়ার নির্ধারিত কাঠামো রয়েছে; আছে বাধ্যবাধকতার আনুষ্ঠানিকতা। সে-অনুযায়ী শাস্তির জন্য যথাযথ সময়ের অপেক্ষা করতেই হবে। তবু ভালো লেগেছিলো তার স্বীকারোক্তি দেখে।

অভিজ্ঞ সিনিয়র সহকর্মী সেদিন আমার স্বস্তিতে হেসেছিলেন। নিশ্চয়তা দিয়ে বলেছিলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে এই অনুশোচনাগ্রস্ত ব্যক্তিটির 'বীরপুরুষে' পরিণত হবার দৃশ্য তিনি আমাকে দেখাবেন। পুরো সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হয় নি, পাঁচ দিনের মাথায় ডাক পড়লো। আমলী আদালতের থিকথিকে ভিড়ের মধ্যে কাঠগড়ায় দাঁড়ানো সেই লোকটি। মেরুদণ্ড সোজা করে সরাসরি দৃষ্টি মেলে দাঁড়িয়ে আছে। তার পক্ষে দাঁড়িয়েছেন বিজ্ঞ আইনজীবী; জমিজমা নিয়ে বিবাদ থাকায় শত্রুপক্ষ তার মক্কেলের স্ত্রীকে খুন করে কীভাবে তাকে হুমকির মুখে ফাঁসিয়ে দিয়েছে, কালো কোট পরিহিত পেশাজীবী সেই গল্প ফাঁদছেন যাত্রাপালার সংলাপের ঢঙে। থেকে-থেকে দৃষ্টি বিনিময় করছেন আসামীর সঙ্গে, তাৎক্ষণিক রিফ্লেক্স থেকে মাথা নেড়ে সম্মতি জানাচ্ছে পাঁচদিন আগের অনুশোচনাদগ্ধ হত্যাকারী। ইতোপূর্বে নিজেরই দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীটি যে সর্বৈব মিথ্যা, কেবল পুলিশের ভয়ে কবুল করা, সে বিষয়ে এখন তার কোনো সন্দেহ নেই। একজন মানুষের পোশাক নাকি তার কর্ম-- কোনটা বেশি কালো, সেদিন ভেবে পাই নি।

২.

আমাদের দেশে ফৌজদারি অপরাধের (ক্রিমিনাল অফেন্স) বিচার প্রক্রিয়ার বিধিবিধান মূলত যার হাতে রচিত, তিনি ব্রিটিশ-ভারত আমলের লর্ড মেকলে। ১৮৬০ সালে পেনাল কোড বা দণ্ডবিধির প্রণয়নের সময়ে আমাদের দেশের সমাজব্যবস্থার ব্যাপারটি যে তার মাথায় ছিলো, সেটা বোঝাতে তিন ধরণের অপরাধকে দণ্ডবিধির আওতায় না আনার বিষয়টি তিনি অন্যত্র উল্লেখ করেছেন। তার একটি হলো স্ত্রী কর্তৃক এক স্বামী বর্তমান অবস্থায় অন্যত্র বিবাহ বা একাধিক স্বামী গ্রহণ। মেকলের বক্তব্য এক্ষেত্রে এরকম: এ ধরণের ঘটনায় এখানকার সমাজ স্ত্রীলোকটিকে যে সাজা দেবে, তার পর আইনের শাস্তির আর কোনো প্রয়োজন পড়বে না।

মেকলে প্রণীত দণ্ডবিধিতে 'জেনারেল এক্সসেপশনে'র উল্লেখ ও ব্যাখ্যা ছিলো, এখনও আছে চতুর্থ অধ্যায়ে। ষোড়শ অধ্যায়ে আছে 'গ্রিভাস হার্ট অন প্রোভোকেশনে'র ক্ষেত্রে সাজা লাঘবের বিধান। আইনজীবীরা সেই ব্যাখ্যা সবচেয়ে ভালো জানেন; এই জ্ঞান দ্রুত সঞ্চালিত হয় তাদের মক্কেলের মস্তিষ্কে। তাই একজন সাঈদ যখন রাষ্ট্রীয় সহায়তায় (অপরাধীকে ধরার ক্ষেত্রে উদাসীনতা তাকে সহায়তারই নামান্তর) পূর্বপ্রস্তুতির পর্যাপ্ত সময়সহ সংবাদ সম্মেলনের সুযোগ পায়, তখন সে আইনে বর্ণিত 'ইনটক্সিকেশনে'র সুযোগ নেয়ার উদ্দেশ্যে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে স্ত্রী তাকে হত্যা করতে চেয়েছিল-- এমন গল্প তৈরি করে। স্ত্রীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের প্রসঙ্গ কিংবা গল্প টেনে আনে 'প্রোভোকেশন'-এর নমুনা হিসেবে। সাংবাদিকের কাছে তার আইনজীবী বলেন, রুমানা মনজুরকে নির্যাতনের ঘটনাটি 'খুন-খারাবি নয়'; 'পশ্চিমা স্টাইলে জীবনযাপন'কারী স্ত্রীর 'পরকীয়া প্রেমে'র কারণে আসামী 'অসুস্থ' হয়ে পড়েছেন।

নারীর প্রতি সহিংসতার ক্ষেত্রে আরেক ধরণের অপচেষ্টা দেখা যায়; তার 'চরিত্র'-বিষয়ক অপবাদ দিয়ে অপরাধীর অপরাধকে লঘু করে দেখানোর প্রয়াস পায় আসামীপক্ষ। দিনাজপুরের কিশোরী ইয়াসমীনের ধর্ষক পুলিশ সদস্যরা প্রমাণের চেষ্টা করেছিলো ইয়াসমীন একজন 'পতিতা'। প্রশ্ন আসতে পারে, পতিতা হলেও কি তার ওপর যৌন নির্যাতন চালানো আইনসিদ্ধ হয়ে যায়? না, তা হয় না। তবু এই অপচর্চাটি বহাল আছে। কেন? আমরা মোটামুটি সবাই জানি যে, বিচার প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য গ্রহণের একটি পর্যায় রয়েছে। সেখানে বিবাদীপক্ষ অথবা কোর্টের অনুমতি সাপেক্ষে বাদীপক্ষ কোনো সাক্ষীকে "বৈরী" হিসেবে ঘোষণা করতে পারেন। এমনটি ঘটে সাধারণত ভয়ভীতি অথবা প্রলোভনের প্রভাবে সাক্ষ্য প্রদানের ক্ষেত্রে; যখন সংশ্লিষ্ট পক্ষ প্রমাণ উপস্থাপন করেন যে মামলার পূর্ববর্তী রেকর্ডের সঙ্গে ঐ সাক্ষীর প্রদত্ত সাক্ষ্য কোনোভাবে সাংঘর্ষিক হচ্ছে। এই বিষয়টি আলোচিত হয়েছে সাক্ষ্য আইনের ১৫৫ ধারায় । ধারাটি পড়ে দেখুন; পুরোটা না পড়লেও শেষের অংশটি (4) লক্ষ্য করুন; জবাব পেয়ে যাবেন। এমন নয় যে আদালত এই যুক্তি গ্রহণ করবেনই, এটি "may-presume", তবু এর অপব্যবহার চলছেই।

৩.

সাম্প্রতিক সময়ের বহুল আলোচিত রুমানা-সাঈদ ঘটনার খুব একনিষ্ঠ অনুসরণকারী নই; তবু একটি প্রকাশিত খবর এবং একটি টিভি সংবাদের ক্লিপ চোখে পড়লো। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদের একটি অংশ এরকম

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বাহাউদ্দিন ফারুকী জানান, রুমানা মনজুরের ফেইসবুক ও ই-মেইল অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড জানতেন আসামি। ওই অ্যাকাউন্টগুলো পরীক্ষা করার জন্য আসামিকে হেফাজতে নেওয়া প্রয়োজন।

এই বক্তব্যটি বিস্ময়কর। উদ্ভট, অবিশ্বাস্য, এবং আইনবিরোধীও বটে। কেন; সে বিশ্লেষণে আসি।

পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি বই আছে আইন বিষয়ে। সাক্ষ্য আইনের বার্ডেন অভ প্রুফ অধ্যায়টি না পড়লেও সাধারণ যুক্তিবুদ্ধিতেই আমরা বুঝে নিতে পারি যে, একটি মামলায় অভিযোগ করে যে পক্ষ, অভিযোগ প্রমাণের দায় তার ওপরেই বর্তায়। বাদীপক্ষ তার অভিযোগের পক্ষে সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করবে। রুমানার পিতা যেহেতু থানায় মামলা করেছেন, তিনি মামলার অভিযোগকারী; বাদী হলো রাষ্ট্রপক্ষ। রাষ্ট্রের পক্ষে পুলিশ আঘাতের সপক্ষে ডাক্তারি সার্টিফিকেটসহ সাক্ষ্যপ্রমাণ ইত্যাদি আদালতে উপস্থাপনের দায়িত্ব পালন করবে।

মামলা হয়েছে হত্যাপ্রচেষ্টার; দণ্ডবিধির ৩০৭ ধারার অভিযোগে। এখনও আমলী আদালতে (কগনিজেন্স কোর্টে) প্রাথমিক তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে। তদন্ত শেষে তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগপত্র দাখিল করলে, এবং তাতে অভিযোগকারী 'নারাজি' না দিলে আমলী-আদালত মামলাটিকে 'বিচারের জন্য প্রস্তুত' হিসেবে গণ্য করে বিচার-আদালতে পাঠাবেন। লক্ষ্য করুন, আমলী-আদালতের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ায় আসামীর পক্ষ থেকে 'নারাজি' দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই (পুলিশি তদন্তে যদি অভিযোগটি মিথ্যা প্রমাণিত হয় সেটি ভিন্ন কথা)।

বিচার-আদালতে মামলার কার্যক্রম শুরু হলে অভিযোগের শুনানি শেষে চার্জ গঠন করা হয়; তখন আসামীকে লিখিত অভিযোগ পড়ে শোনানো হয়। তিনি আনীত অভিযোগ স্বীকার করেন কি না, না করলে সেক্ষেত্রে তার কোনো বক্তব্য আছে কিনা জানতে চাওয়া হয়, থাকলে সেটা লিপিবদ্ধ করা হয়। সাফাই-সাক্ষ্য দেবেন কি না তাও জানতে চাওয়া হয়। আলোচ্য মামলাটি এখনো আমলী-আদালতে আছে; বিচার-আদালতের ওই প্রক্রিয়া আসতে অনেক অনেক পথ বাকী। সেই পর্যায়ে যাবার পর সাঈদ নিজে অথবা তার আইনজীবী মনোয়ার ইসলাম যদি বলেন, "আমার মক্কেল স্ত্রীর চক্ষুদ্বয় ও নাসিকা দংশনপূর্বক উপড়াইয়া ফেলিয়াছেন কারণ রুমানার ফেইসবুক ও মেইল তাহাকে উক্ত কর্মে প্ররোচিত করিয়াছে", এবং বিজ্ঞ বিচারক যদি মনে করেন যে আসামীর এই বক্তব্য সাফাই সাক্ষ্য হিসেবে আদৌ বিবেচনাযোগ্য, কেবল তখনই তিনি কথিত মেইল অথবা ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট পরীক্ষার জন্য আদেশ দিতে পারেন। আমাদের দেশে বিচারকের ইন্টারনেট সম্পর্কিত জ্ঞান নিয়ে যারা খুব স্বস্তিকর ধারণা পোষণ করেন না, তাদের জন্য বলা প্রয়োজন সাক্ষ্য আইন অনুযায়ী তৃতীয় পক্ষ অথবা বিশেষজ্ঞ মতামত গ্রহণের ক্ষমতা ও সুযোগও বিচারকের রয়েছে।

এখন আসল প্রশ্ন হলো, মামলার বাদী তথা রাষ্ট্রপক্ষের অংশ হয়ে ভিকটিমের পক্ষে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই যেখানে পুলিশের করণীয়, সেখানে সেই ভিকটিমেরই নিন্দামন্দ পরীক্ষার নামে আসামীর পক্ষে সাফাই-সাক্ষ্য জোগাড়ে পুলিশের আগ্রহের কারণটা কী? থানায় মামলা হবার পর ১০ দিনেও যেখানে তারা আসামীকে গ্রেফতার করে না, উচ্চ আদালতের রুল জারির পর তিন ঘণ্টার মধ্যে তাকে ধরে ফেলে, এবং তার আত্মপক্ষ সমর্থনের আয়োজনও সম্পন্ন করে দেয়; তখনই অবশ্য এ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়।

মামলাটির বাদীপক্ষে রাষ্ট্র/পুলিশ ছাড়া আরেকটি পক্ষ আছে। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন ওকালতনামা দাখিল করে বাদীপক্ষভুক্ত হয়েছে। সংগঠনটির পক্ষে শুনানিতে অংশ নেয়া অ্যাডভোকেট মাহমুদা আক্তার ও অ্যাডভোকেট শাম্মী আক্তার শাম্মী রিমান্ডের যৌক্তিকতা বিষয়ে পুলিশের এই কুযুক্তি কীভাবে গ্রহণ করলেন, জানি না। ভিকটিমের অগোচরে আসামীকে দিয়ে ভিকটিমের ইমেইল আর ফেইসবুক অ্যাকাউন্টের প্রাইভেসি লংঘনের এই অযৌক্তিক ও হীন তৎপরতা বিষয়ে আমলী আদালতের বিজ্ঞ বিচারক কোনো মন্তব্য করেন নি। অধিকন্তু, রুমানা মনজুরের ফেইসবুক ও ই-মেইল অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করতে হাসান সাঈদকে আরো এক দিন রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। আদেশনামায় যাঁর স্বাক্ষর, তিনি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম শাহরিয়ার মাহমুদ আদনান।

বিচারক ও বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে কথাবার্তা আর বাড়ালে আদালত অবমাননার দায়ে পড়তে পারি। চাচা আপন জান বাঁচা।

৪.

দুটি চোখের আলো নিভে গেছে চিরতরে; দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাবেন না আর কখনো-- এই ভয়াবহ দুঃসংবাদ জেনে দেশে ফিরেছেন রুমানা মনজুর। হুইলচেয়ারে বসা মানুষটির চোখ-কান-নাকে ঘা। বিমানবন্দরে অপেক্ষমান সাংবাদিক শব্দগ্রাহক-যন্ত্রদণ্ডটি বাড়িয়ে ধরে তাকে প্রশ্ন করেছেন: আপনি কি স্বামীর বিচার চান? প্রশ্ন বটে একখানা!

বছর তিনেক আগে তারেক জিয়া বাথরুমে আছাড় খাওয়ার পর 'বিক্ষুব্ধ জনতা' কিংবা পুলিশের সহিংসতায় এক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছিলেন। তার বাড়িতে গিয়ে শোকাতুরা জননীর মুখের সামনে মাইক এগিয়ে দিয়ে প্রশ্ন ছুঁড়েছিলেন আরেকজন, "আপনার ছেলে যে মারা গেলো তাতে আপনার প্রতিক্রিয়া কী?" ছ-বছর বয়সী রেইপ-ভিকটিম শিশুকন্যাকে হাসপাতালে নেয়ার আগে থানাচত্বরেই চারপাশ থেকে ছেঁকে ধরে জিজ্ঞেস করা হয়েছে, "ঐ লোক কী করছিলো? ... তখন তুমি কী করলা? ... তুমি এখন কী চাও? ..."

এদের জ্ঞান দাও, প্রভু। নইলে আমাদের দাও সাময়িক বধিরতা। আমিন।

7
আপনার মূল্যায়ন: আপনি মূল্যায়ন করেন নি। গড় রেটিং: 7 (১৫ জন মূল্যায়ন করেছেন)
শেয়ার করুন » Facebook Twitter Delicious Digg MySpace Google Orkut Blogger Google Buzz Technorati
অথবা এই সংক্ষিপ্ত লিংক শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩৪৩৯০(১)    

আর ফেইসবুক/ইমেইলের পাস্ওয়ার্ড চেক করা তো ২ মিনিটের ব্যাপার। এক্ষেত্রে ১ দিন সময় চাইবার মানে কি? এই কাজ কি আদলতের সামনে করা যেত না? আর আসামীর সংবাদ সম্মেলনে নৈকিত বা নিরাপত্তাজনিত বাধা থাকতে পারে, কিন্তু আইনগত বাধাঁ আছে কি?

সাংবাদিকদের প্রশ্নের ব্যাপারটা আপাত:দৃষ্টিতে আসলেই হাস্যষ্পদ এবং অনর্থক মনে হয় এটা সত্যি, কিন্তু এর বিকল্প প্রশ্ন কি হতে পারতে? মানে আপনি ঐ সাংবাদিকের জাগায় হলে রুমানাকে প্রথমেই কোন প্রশ্নটি করতেন?

আমাদের একটা কথা মনে রাখা উচিত, সাংবাদিকের কাজ জনসেবা না। সেটার জন্য সমাজসেবক এবং নেতারা (!) রয়েছেন। তারা পেটে ভাতে মানুষ। আর এখন এই সাম্রাজ্যবাদের সময় সাংবাদিকতার চে ব্যবসাটাই বড়। তারা সেই খবরটাই ছাপে যেটা পাবলিক খাবে। এই ব্যাপারে হুমায়ূন আহমেদের একটা ছোট গল্প মনে পড়ে গেল। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের এই মনোভাবের কথাই বলেছেন। বহু বছর আগে তার সাক্ষাৎকার নিতে আসা একজন সাংবাদিক তাকে যে প্রশ্ন করেছে, হু. আ সেটার সাথেই একমত হয়েছে। শেষে সাংবাদিক না পেরে সরাসরি আক্রমন করলো- আপনি তো একেবারেই অখাদ্য লিখেন! পাবলিক আপনার ছাইপাশ পড়তে চায় না।" হু. আ মাথা নেড়ে সম্মতি জানালেন - জ্বি, ঠিক বলেছেন। আমি একেবারেই ছাইপাশ লিখি এবং আমি জানি যে পাবলিক আমার লেখা পড়ে না।' শেষে রণে ভংগ দিয়ে যাবার সময় সাংবাদিককে জিজ্ঞেস করা হলো- "এটা কবে ছাপানো হবে?" সে উত্তর দিলো - "এই সাক্ষাৎকার পাবলিক খাবে না। সুতরাং এটা ছাপা হবে না।"

এটাই হচ্ছে আসল কথা।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩৪৬১৬(২)    
লেখকের মন্তব্য

এই মন্তব্যটা লাফিয়ে উঠলো কেমন করে! |

আসামী সাফাই সাক্ষ্য (অজুহাতের পক্ষে প্রমাণ) কখন উপস্থাপনের সুযোগ পাবে সে বিষয়ে পোস্টে বলেছি। সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে নীচে কোথাও রোবোটনানাকে বলেছিলাম, দেখে নিতে পারো।
আর ঐ রিপোর্টারের জায়গায় হলে আমি অবশ্যই প্রথমেই ভিকটিমের শারীরিক অবস্থা জানতে চাইতাম।
সেলেব্রিটি লেখক হুমায়ূনের সাক্ষাতকার আর এরকম আঘাতের ভিকটিমের সাক্ষাতকারে বিশাল ফারাক।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩১৫০৮(৩)    

আজকে মন খারাপ দিবস

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩১৬৬৭(৪)    
লেখকের মন্তব্য

:(

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩১৫০৯(৫)    

মুনীর রীমাই তো প্রথম প্যারার ঘটনাটা ?
অনেক আলোড়ন হয়েছিলো ঐ ঘটনাটা নিয়ে সারা দেশে।
আমার বাবা রীমার লাশ দেখেছিলো বিশ্বরোডে। তখনো মাঝামাঝি ঢাকা-নাঃগন্জ সংযোগ সড়ক তৈরী হয়নি।
মুনীর পালিয়েছিলো সায়েদাবাদের একটা হোটেলে।
ছোটবেলায় পেপারে এই ধরনের খুনের বর্ণনা প্রথম পড়া। বৈবাহিক সম্পর্কের জটিলতা থেকে খুনাখুনি হতে পারে সেটাও প্রথম জানা।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩১৬৬৮(৬)    
লেখকের মন্তব্য

বাকী অংশ নিয়ে আপনার মন্তব্য আশা করছিলাম

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩১৭৬৬(৭)    

বাকী অংশ নিয়ে কোন মন্তব্য নাই।
দেশের আইনে শক্ত সাজা হওয়া উচিত। ঐ লোকের চরিত্র, প্রেম-ভালোবাসা, পরকীয়ার অভিযোগ, অসহায়ত্ব, আরো যা যা হাবিজাবি বলছে - সেসব কখনো এই রকম নৃশস কাজ ঘটানোর অন্য কোন অজুহাত হতে পারে না।
এই কেসের বিচারে প্রোভোকেশন বা পরকীয়া কখনো গ্রাহ্যের মধ্যে আসা উচিত।
এতো রাগের মাথায় মারা একটা চড় না যে বিচারে অন্য কোন কিছু গ্রাহ্যের মধ্যে আনতে হবে।
একটা মানুষের জীবন নষ্ট করে দেয়া হয়েছে এখানে - সেই বিচার আগে হবে তারপর
তার ঘ্যানাঘানানি কারো শোনার ইচ্ছে থাকলে শুনতে পারে।
আসলে এখানে বিচারের দরকার নাই - এটা ক্লিয়ার কেস যে স্বামীটিই এই কান্ড ঘটিয়েছে।দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত।
==================================
তবে আমি স্ত্রীটির একটি আচরনে ভুল পাই। একজন শিক্ষিত স্বাবলম্বী মানুষ হিসাবে
তার অনেক আগেই উচিত ছিলো এই ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া।
সাধারনত ডমেষ্টিক ভায়োলেন্সে যা হয় - তা হলো একবার কেউ গায়ে হাত তুললে -
বা অকথ্য ভাষায় গালাগালি করলে এটা একদম ১০০% নিশ্চিত এই কাজ
আবার ঘটবে(নারী পুরুষ নির্বিশেষে)।
ভালোবাসা, বাচ্চা, সামাজিক নর্মের কারণে অনেকেই চরম সিদ্ধান্ত নিতে পারে না, আলাদা হয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা তখনই নেয়া উচিত ছিলো।
মুখ বুঝে অত্যাচার সহ্য করে কারোই ঘর করে যাওয়া উচিত না।
=======================================
ডিভোর্স বা সেপারেশন নিয়ে আমাদের সমাজে একটা ভীতি কাজ করে।
কিন্তু যে কোন পক্ষ থেকেই এ্যাবিউজ যখন শুরু হয় - তখন মাটি কামড়ে না পড়ে থেকে
সবার ঠান্ডা মাথায় ব্যবস্থা নেয়া উচিত।
ম্যারেজ কাউন্সিলিং আছে, মানসিক রোগের ডাক্তার আছে, সন্দেহবাতিকের জন্য
আত্মীয় স্বজন বন্ধু-বান্ধব আছেন।
অনেকেই নিজের পারিবারিক ব্যাপার মানুষকে বলতে ভয় পায়, সংকোচ করে, লজ্জা পায়।
রোগ যখন চরম আকার ধারন করে তখনই এইভাবে তার প্রকাশ ঘটে।
রোগ বাড়ার আগেই কাউন্সিলিং, মানুষের সাহায্য , ট্রিটমেন্ট -এইসব দেখে কাজ না হলে সেপারেশন বা ডিভোর্সের রাস্তায় চলে যাওয়া উচিত।
============================================
আর পরকীয়া নিয়ে যেসব কথা চলছে । কারো কাউকে ভালো না লাগলে তার সাথে জীবন কাটাতে হবে এই নীতিতে আমি বিশ্বাসী নই ।
পরকীয়া কেউ করে থাকলেই বা কী ? তারজন্য কেউ মারধোর করতে পারে না।
পছন্দ হয় না ? ডিভোর্স করো - সেপারেটেড হও। বস্তুত কারোই মুখ বুঝে কোন কিছু সহ্য করা উচিত না।
আইন আদালত, সমাজ আছে - সবাইকে জানাও এই বিশ্বাসভংগ হয়েছে।
আর ভালো লাগা না লাগা তো মানুষের মনের ব্যাপার- সেইখানে তো জোরাজুরি নেই ।
তবে বৈবাহিক সম্পর্কের আওতায় থাকলে পরকীয়া করা চুক্তিভংগের সামিল ।
সেই ক্ষেত্রে যে কোন মানুষের উচিত আগে সম্পর্ক মিটিয়ে নিয়ে তারপর অন্য সম্পর্কে জরানো।

কিন্তু পরকীয়ার বা সন্দেহের অভিযোগে কেউ কাউকে গালাগালি, মারধোর করতে পারে না। মানসিক টর্চারও করতে পারে না।

এই ধরনে নৃশংস কান্ড ঘটানো তো দূরের কথা।
========================================
আর আমাদেরেও কিছু দায় আছে - আমরা এই ধরনের ঘটনা ঘটার পর হাউকাউ শুরু করি । কিন্তু নিজের আত্মীয় স্বজন এমনকি নিজের জীবনে এই সিমটম দেখলেও কেউ
মুখ খুলি না। এইটা একধরনের হিপোক্রেসী।
এই জন্যেই এই ব্যাপারে কোন মন্তব্য করছি না।
অনেকেই এসব জানে দেখে - তারপরো কিছু বলে না । ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর সবাই খুব লম্বা চওড়া বক্তব্য নিয়ে হাজির।
বক্তব্য যারা দিচ্ছে দিক - ভালো । সাথে নিজের আশেপাশের জানা এমন পারিবারিক ঘটনারা সিমটম দেখে থাকলে সেই ব্যাপারেও মানুষজন সচেতন করা বুদ্ধি দেয়া আর সতর্ক করা প্রয়োজন।

আর পেপার খুললেই এইসব ব্যাপারে প্রতিদিন একটা না একটা খুনোখুনির ঘটনা চোখে পড়ে - এসব নিয়ে বলতে হলে সব কিছু নিয়েই বলতে হবে। শুধু একটা ঘটনায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না।
প্রায়ই দেখি স্বামী দ্বারা কুপিয়ে হত্যা, যৌতুকের কারনে হত্যা।
ইদানিং নতুন দেখছি পরকীয়ার কারনে স্ত্রী কতৃক বাচ্চা হত্যা ।
লিখলে সব কিছু নিয়ে লেখা উচিত - সব ধরনের এ্যাবিউজের বিপক্ষে।
জেনারালাইজড ভিউ নিয়ে বা ষ্টেরিওটাইপিং করে বা একচোখ দিয়ে বিচার করে সবার কাছে পৌছানো যায় না ।
আর ডমেষ্টিক ভায়োলেন্স- ইমোশনাল এ্যাবিউজ সামাজিক রোগ, আশেপাশের কার্যকরণ, তার সুষ্ঠ চিকিৎসার সব গুলো ব্যাপার আমাদের লেখালেখিতে উঠে আসা উচিত ।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩১৭৮৩(৮)    
লেখকের মন্তব্য

খুবই যুক্তিনিষ্ঠ কথাবার্তা। এমনটাই হওয়া কাম্য।
রুমানা-সাঈদের ঘটনাটি অন্য কোনো দেশে হলে আদালত থেকে রুমানার অভিভাবকের কাছে জবাবদিহি চাওয়া হতে পারতো। আগেও মারধরের ঘটনা ঘটেছে অথচ তারা আদালত বা পুলিসে যায় নি; সেক্ষেত্রে সমর্থন, প্ররোচনা অথবা দুষ্কর্মে সহায়তা বা অ্যাবেটমেন্টের প্রশ্ন তোলার সুযোগ থাকে কিন্তু। রুমানা নিজে কীভাবে এই অবস্থা সহ্য করে গেলেন তার ব্যাখ্যা একটিই হতে পারে; সন্তানের জন্য পারিবারিক আবহ টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন তিনি। এটা যে কতো বড় ভুল, এমন একেকটা ঘটনার পর আমাদের দেশের অভিভাবকরা/মেয়েরা কিছুটা বুঝতে পারে হয়তো।

যৌতুক, নারী নির্যাতন এগুলো নিয়ে আলাদাভাবে কাজ হয়েছে। কিন্তু সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ, অপরাধপ্রবণতার ট্রেন্ড-- এগুলো বিবেচনায় পুরুষ-মহিলা অপরাধী নির্বিশেষে ডোমেস্টিক ভায়োলেন্সের জন্য সুস্পষ্ট ফৌজদারি আইন হওয়া দরকার। আলাদা আদালতে দ্রুত বিচার, এবং শাস্তি হওয়া দরকার দৃষ্টান্তমূলক। এখন কে লিখবে এসব নিয়ে? বিচার শুনানি দীর্ঘসূত্রিতায় গড়ালে অনেকেরই লাভ।

পরকীয়ার কারণে সন্তান খুনের মতো অপরাধের খবর বেশ গুরুত্ব দিয়ে আসে মিডিয়াতে। কিছুদিন আগে পত্রপত্রিকাগুলো মাতামাতি করলো একজনকে মহিলাকে নিয়ে, কীভাবে প্রেমিকের সহায়তায় খুন করলো নিজের সন্তানকে, তা নিয়ে ছিছিক্কার পড়ে গেলো। বেশ কিছুদিন পর পলাতক প্রেমিক গ্রেফতার হবার পর যখন জানা গেলো, পরকীয়ায় জড়িত থাকলেও মহিলা খুনী নয়, তার সন্তানকে লুকিয়ে অন্য জেলায় নিয়ে গিয়ে খুন করেছে তার প্রেমিক, তখনই সব আগ্রহ শেষ আমাদের মিডিয়ার। পরদিন থেকে ঐ বিষয়ে আর কোনো খবর নেই!

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩১৫১৭(৯)    

বিবাহের কপালে ঝাটা মারি!

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩১৬৬৯(১০)    
লেখকের মন্তব্য

যতই ঝাঁটা মারেন না কেন, বিবাহ না করলে আপনার এই সুপারডুপারহিট রন্ধনপোস্টগুলি আমরা পেতাম না :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩১৫২৭(১১)    

আমি বধিরতা চাই কেননা 'এদের জ্ঞান দাও প্রভু'- এখানে প্রভু বা এরা কেউই জ্ঞান দানে ও গ্রহণে উৎসাহী নয়। :(

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩১৬৬৩(১২)    
লেখকের মন্তব্য

সেজন্যে আমিও তাই চাইলাম :(

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩১৫২৮(১৩)    

মুনীর-রীমার সেই ঘটনা সারাদেশে অনেক আলোড়ন তুলেছিলো এটা মনে আছে।

বিমানবন্দরে অপেক্ষমান সাংবাদিক শব্দগ্রাহক-যন্ত্রদণ্ডটি বাড়িয়ে ধরে তাকে প্রশ্ন করেছেন: আপনি কি স্বামীর বিচার চান? প্রশ্ন বটে একখানা!

সেদিন ইউটিউব খুঁজে দেখলাম এই ক্লিপ। সাংবাদিক হয়তো আশা করেছিলো রুমানা বলবে এবারের মতো মাফ করে দিলাম।

আজব দেশের আজব প্রাণী আমরা!!

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩১৫৪৫(১৪)    

ধন্যবাদ রাসেল। এই খুঁটিনাটি বিষয়গুলো তুলতে ইচ্ছা করে না, কিন্তু তুললে এড়িয়ে যেতে পারি না। আমরা কবে পশু থেকে মানুষ হবো বলতে পারো?

আমাদের দেশের সাংবাদিকরা ভালো করেই জানে, এ ধরণের প্রশ্ন হল-- ক্রিসপি ক্র্যাকার্সের মত, পাব্লিক মানে আমরা খাবো ভালো।
আর একটা শংকা তো থেকেই যায়---"অপরাধীর বিচার হবে তো?" কারণ যে কোন মুহূর্তে অপরাধী আইনের হাত গলে- বীর পুরুষের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারে।
নইলে সাংবাদিক কোন সাহসে প্রকাশ করে, 'রুমানার আকুতি যে- 'অপরাধীর যেন বিচার হয়।' অপরাধীর আোপরাধ অনুযায়ী বিচার হবে এটাই তো বাঞ্চনীয়।
" সবাই রুমানার বাইরের ক্ষতটাই দেখছে, মনের ক্ষতটা কেউ দেখছে না। যে মানুষটাকে সে ভালোবেসেছিল, যার সাথে হয়তো আছে অসংখ্য সুখের স্মৃতি, দুজনের ভালোবাসার ফসল তাদের একমাত্র সন্তান। রাতারাতি বদলে যাওয়া প্রেক্ষাপটে সেই মানুষটা সম্পর্কে এত কিছু বলা বা করা কি একটা সুস্থ মানুষের পক্ষে সম্ভব???
বন্ধ হোক এই ঘৃণ্য সাংবাদিকতা। ফেইস বুকে ঢুকলে পরিচিত অনেক মেয়েকে দেখি, মানসিক ভাবে অসুস্থ হয়ে, ঢালাওভাবে পুরুষদের নোংরা গালাগালি করে বক্তব্য দিচ্ছে। সব কিছুর উপর একেবারে আস্থা হারিয়ে ফেলছে। সবার উপর সবাই আস্থা হারালে, একটা সমাজের আর থাকে কি?
শরীরের ব্যাধি (দূরারোগ্য না হলে) দ্রুত সারানো যায়, মনের ব্যাধি কিন্তু চাইলেই সহজে সারানো যায়না। তাই আমাদের দেশের সাংবাদিকদের আরও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয়া উচিত।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩১৬৭০(১৫)    
লেখকের মন্তব্য

অক্ষরে অক্ষরে একমত। এতোটা গুছিয়ে বলতে পারতাম না।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩১৫৩০(১৬)    

বেশ কষ্ট করেই পড়লাম। রুমানার উপর যে কোন লেখা আমাকে কি পরিমান চাপ দেয় তা তো তুমি জানই। রুমানা আসলে শুধু শারিরীক না, সামাজিক অন্ধত্বের সাথে ও লড়ছেন।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩১৬৬৪(১৭)    

অদিতি, সামুর পোষ্ট টা আমি পড়েছি, লেখার মন্তব্য করতে গিয়ে শুরুতেই একজন বলেছেন, "যাক এতদিনে মনের মত লেখা পেলাম, এত রাগ হয়ে ঘিয়েছিল যে পুরুষদের পক্ষ নিয়ে সাফাই গেয়েছি, বা এই টাইপের কিছু।।।"
কি বলবো? কিছুই বলার নেই।
আরেকটা খবর পড়ে দেখ।।। http://www.thedailysangbad.com/?view=details&type=gold&data=Software&pub_no=753&menu_id=13&news_type_id=1&val=70326 বাঙলাদেশর পত্রিকা পড়িনা গত পাঁচ বছর হল, -রুমানার ঘটনার পর পড়তে গিয়ে দেখ কি বেহাল অবস্থা।।।। কিছু ভালো লাগেনা।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩১৬৭৪(১৮)    
লেখকের মন্তব্য

আমিও সহ্য করতে পারি না, একদম এড়িয়েই যাচ্ছিলাম। এপুর ফেইসবুক স্ট্যাটাসে এই রিমান্ড আর সাংবাদিকের কথার উদ্ধৃতি দেখে ফেলে এমন মেজাজ খারাপ হলো :(

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩১৫৪২(১৯)    

বস, প্রথমেই হ্যাট অফ, সেটা শুধু ভালো লেখার জন্য নয়, কারণ সব সময়ই তুমি ভালো এবং প্রয়োজনী্য় লেখা লিখ।
হ্যাট অফ এই কারণে যে, তোমার কাছে দেশের আইন সংশ্লিষ্ট , নিরাপত্তা বিধানকারী প্রতিষ্ঠান এবং বিচার বিভাগের দায়িত্ব নিয়ে মনে মনে এ ধরণের একটা লেখা খুব খুব আশা করছিলাম।

আচ্ছা, একটা সাধারণ কৌতুহল, এই আইন গুলো বা আইনের ফাঁকগুলো কোনভাবেই পরিমার্জন বা পরিবর্তন হচ্ছে না কেন?

এটা কি শুধু পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার ফলাফল?
পোষ্ট টা প্রিয়তে নিয়েছি, তোমার দেয়া লিন্কগুলো পরে দেখবো।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩১৫৬৪(২০)    

গতকালকে সামুর স্টিকি পোস্ট পড়ে হাসি পেল। নারীতন্ত্র-পুরুষতন্ত্র যারা বলে তারা নাকি জ্ঞানপাপী!

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩১৬৭৮(২১)    
লেখকের মন্তব্য

আইন কারা প্রণয়ন/সংশোধন/পরিমার্জনের ক্ষমতা কার? সংসদ সদস্যদের। তাদের অবস্থা শোনো। খালেদা জিয়ার প্রথম আমলের ঘটনা। ফরিদা আখতার নামের এক সদস্য প্রস্তাব উত্থাপন করলেন, দ্বিতীয় বিবাহের সময় শুধু প্রথম স্ত্রী না, আদালতেরও অনুমতি নিতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে ফুঁসে ওঠেন বীরপুরুষ সংসদ সদস্যগণ। বিশেষ একটি বিষবৃক্ষ দলের বোধহয় জনাদুয়েক সদস্য ছিল, তারা কঠোর আন্দোলনের হুমকি দিয়ে ফেলেন। তাদের সমর্থন করেন তৎকালীন বিরোধীদল আওয়ামী লীগের সদস্যরা পর্যন্ত। বেচারি ফরিদা আখতারের উপর ব্যক্তিগত আক্রমণও চলে।

কারা পারে সংসদকে এসব আইনগত বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রস্তাব দিতে? আইন ও মানবাধিকার নিয়ে কাজ করে এমন সংগঠন। তাদের শীর্ষকর্তা থেকে শুরু করে কর্মী-- সবাই-ই প্রায় আইনজীবী। এখন তেতো সত্য কথা হলো এইসমস্ত ফাঁকফোকর আছে বলেই শুনানি প্রলম্বিত হয়; মামলার কার্যক্রম দীর্ঘসময় ধরে চলে। যত বেশি তারিখ পড়ে, তত বেশি হাজিরা, তত বেশি রোজগার এই পেশাজীবীদের। বাকী কথা সহজেই বোধগম্য।

যারা মাঠপর্যায়ে কাজ করেন, তারা বিভিন্ন সময়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা নিয়ে সেমিনার-ওয়ার্কশপ ইত্যাদি করেন, সেখান থেকে খুব গোছানোভাবে প্রস্তাব পাঠানো হয় ওপরমহলে, সেগুলো খুব আগ্রহ নিয়ে অথবা আদৌ খুলে দেখা হয় কি না সন্দেহ আছে।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩১৬৯৪(২২)    

ফরিদা আখতার না রহমান। ফরিদা আখতার তো উবিনীগের, ফরহাদ মজহারের স্ত্রী। ফরিদা রহমানের কথাবার্তা সবসময়ই ভালো লাগতো। তবে কে না জানে দুনিয়ায় ভদ্রলোকের (নারী/পুরুষ নির্বিশেষে)ভাত নাই। সেজন্য বিএনপিতে কখনোই বেশী সুবিধা করতে পারেন নাই।

বিষবৃক্ষ দলটার নাম যদি জ দিয়ে শুরু হয় তাহলে মোট ২০ (২ জন মহিলা সহ) জন এমপি ছিলো।

২০০০ সালের বাঁধনের ঘটনা মনে আছে? পান্না কায়সার দ্রুত বিচারের দাবী জানালে জয়নাল হাজারি নামের এক হা** বলে বসলো, বিচার করলে দুজনেরই করতে হবে। দুইজনই সরকারী দল আওয়ামী লীগের এমপি।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩১৬৯৮(২৩)    
লেখকের মন্তব্য

ঠিক ঠিক, উনিই। চকলেট আপার কারণে মহিলা উইংয়েও সুবিধা করতে পারেন নি। জাহানারা বা সেলিমার চেয়ে কথাবার্তা অনেক কংক্রিট ছিলো।

ঐদিন উপস্থিত ছিলেন জনাদুয়েক, তাদের হুমকিতেই আওয়ামী সদস্যরা গলা মিলিয়ে ফেলেন।

বাঁধনের সময়কার ঘটনাও মনে আছে। দুর্ভাগ্যবশত আমার এক সহকর্মী ছিলো ঢাবি-ছাত্র, ছাত্রলীগের সদস্য, ঐ অ্যাসল্টের অন্যতম কালপ্রিট। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় গেলে ফতোয়ার আইনগত বৈধতা দেবেন, সর্বশেষ তত্ত্বাবধায়ক আমলে আওয়ামী লীগ থেকে আসা একটা ঘোষণা ছিল। হাজারীর কথা কী বলবো, রাজনৈতিক ক্ষমতাকাঠামোয় পুরুষতন্ত্রের তোষণ ও চর্চার আদর্শ উদাহরণ।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩১৬৯৬(২৪)    

পুলিশ কি আজকাল আসামীর উকিলের দায়িত্ব পালন করছে নাকি? বেশ বেশ, এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। আর মামলার জন্য রুমানার ইমেইল/ফেইসবুক এ্যাকাউন্ট ওপেন করার দরকার হলে তো আগে আদালত থেকে ওয়ারান্ট নিতে হবে।
ব্যকতিগত ভাবে আমার অবশ্য সাইদের সাংবাদিক সম্মেলন নিয়ে কোন আপত্তি নাই। জানিনা প্রচলিত আইনে কোন সমস্যা আছে কিনা।

৬ বছর বয়সী রেইপ-ভিকটিম শিশুকন্যাকে হাসপাতালে নেয়ার আগে থানাচত্বরেই চারপাশ থেকে ছেঁকে ধরে জিজ্ঞেস করা হয়েছে, "ঐ লোক কী করছিলো? ... তখন তুমি কী করলা? ... তুমি এখন কী চাও? ..."

মাঝে মাঝে আমার মনে হয় এইসব লোকদের নাম-ছবি সহ ফেইসবুক/ব্লগে প্রচার করা উচিত-"এরা সাইকোপ্যাথ। এদের গ্রেফতারের জন্য সামাজিক আনদোলন গড়ে তুলুন।"

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩১৭১৮(২৫)    
লেখকের মন্তব্য

পুলিশ আসলে ক্ষমতাসীনের আজ্ঞাবহ মাস্তান-- কার যেন কথাটা, ভুলে গেছি।
গ্রেফতারি পরোয়ানার অর্থ হলো ধরে এনে সোজা থানা হাজতে বা গারদখানায় ঢোকানো, পরবর্তী সেশনেই কোর্টে চালান দেয়া। ধৃত আসামীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে উপস্থিত করার বিধান আছে সিআরপিসিতে, সেখানে শুধু যাতায়াত/পরিবহনের সময়টুকুর প্রভিশন আছে। আইনে তো "সংবাদ সম্মেলন" কথাটা উল্লেখ করে দিয়ে মানা করে নাই, এটা একটা চরম ফ্যালাসি। অনেকটা সেরকম: আমাকে তিনজন খুন করতে দেখছে, ঠিক আছে আমি তিন হাজার জন নিয়ে আসবো যারা আমাকে খুন করতে দেখে নাই। এই ফ্যালাসি প্রশ্রয় দিলে পুলিশ আজকে সংবাদ সম্মেলন করতে দিচ্ছে, আগামীকাল বাসায় নিয়ে আরাম করতে দেবে, পরশু এসকর্ট করে প্লেনে তুলে দিয়ে আসবে।

৯৬-৯৭এর আওয়ামী আমলের শুরুর দিকে ধর্ষণ-মহামারীর কথা মনে আছে? সৈয়দ ইকবাল কার্টুন করেছিলেন তখনকার ভোরের কাগজের পাতায়: পত্রিকা পড়ছে লোকে; দৈনিক ধর্ষণবার্তা। পুলিস কনট্রোলরুমে শিশু ধর্ষিত হবার পর আদালত আদেশ দিলেন সংবাদপত্রের রিপোর্টে ধর্ষিতার নাম-পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না। তখনকার প্রভাবশালী দৈনিক জনকণ্ঠে সাধু সাবধান কলামে প্রথমপাতায় প্রতিবেদন এলো: আদালতের এই আদেশ গ্রহণযোগ্য নয়। তাহলে এখন কীসের আকর্ষণে মানুষ পত্রিকা পড়বে? বিশ্বাস করুন, ঠিক এই ভাষায়, "আকর্ষণ" শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছিলো।

বিএনপি-আমলও কম যায়নি। দক্ষিণের এক জেলায় ছাত্রদলের ক্যাডাররা এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করলো, সে অন্তঃসত্তা হয়ে পড়ল। সংসদে ঐ ক্যাডারদের গ্রেফতারের দাবিতে কথা তুললেন মতিয়া চৌধুরী। কোনো এক প্রভাবশালী মন্ত্রী/সাংসদ মন্তব্য করেছিলেন, বরিশালের মেয়েদের এতো ফার্টিলিটি আগে জানলে ওখানেই বিয়ে করতাম। এরা আমাদের আইনসভার সদস্য।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩১৫৪৮(২৬)    

"কাজ শেষে বাড়ি ফিরে বউর কাছে খাবার চেয়েছিলাম, দেরি হওয়াতে মেজাজ উঠে গেলো, মারলাম লাথি, বুঝি নি বউটা মরে যাবে"

ভাত রান্নার মত একটা তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে লোক তার স্ত্রীকে পিটিয়ে মেরে ফেলতে পারে, তার আবার অনুশোচনা!!??গুল্লি
আসলে এসব ঘটনা আমাদের দেশে অহরহ ঘটার কারণ হলো নেতিবাচক সামাজিকীকরণ। এখানে মেয়েদের ভূমিকা কন্যা-মাতা-গৃহিনী। আর সমাজ তাকে দেখতে চায় সুকন্যা-সুমাতা-সুগৃহিনী রূপে। মুখ বুজে সহ্য করলেই "সু" হবে। আর নয়তো প্রতিবাদ করতে গেলেই নষ্টা, খারাপ....ইত্যাদি বিশেষণও যোগ করা হবে সাথে জুটবে নির্যাতন।
হায়রে সোনার বাংলা! এসব জঘন্য কাজগুলো যেন বংশ পরম্পরায় চলে আসছে।
নুশেরাপু :গুরু:ধন্যবাদ :গুরু:এমন একটি পোষ্টের জন্য...........গুরু-মানি-ওস্তাদ

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩১৬৮১(২৭)    
লেখকের মন্তব্য

সেটাই। যে ছেলে নিজের পরিবারে দেখে তার বোনের চেয়ে তার খাতির বেশি, বাবা-চাচাদের হাতে মা-চাচিদের নিগ্রহ অথবা মহিলাদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করাটা খুব স্বাভাবিক বিষয়, তারা তো একটা মেয়ের জন্য মানুষ হিসেবে ন্যূনতম শ্রদ্ধাবোধ পোষণ করবে না। অর্থনৈতিক অথবা শিক্ষাগতভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারগুলোর কথা বাদই দিলাম। খোদ রুমানার পরিবারের কাছেও মেয়ের নিগ্রহের চেয়ে সামাজিক সম্মান বড় ছিলো বলে চরম অঘটনের আগ পর্যন্ত তারাও মুখ খোলে নি।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩১৫৬২(২৮)    

আসামীর পর্যাপ্ত সুবিধার প্রতি পুলিশের আগ্রহটা শুরু থেকেই স্পষ্ট ছিল। পরেও তার পরিবর্তন হবার কোন কারণ নেই। কিন্তু বিচারকের আগ্রহটা আমাকে বিস্মিত করেছে। ওটা কি নিছক অজ্ঞতা, নাকি সচেতন প্ররোচণা, উচ্চপর্যায়ের প্রভাবের ব্যাপার তো আছেই। তবু আসামীর প্রতিপক্ষ যখন নারী তখন আদালত পুরুষবাদী সমাজের প্রতিনিধিত্ব করবে এটাই স্বাভাবিক ধরে নেবো?

এদের জ্ঞান দাও, প্রভু। নইলে আমাদের দাও সাময়িক বধিরতা।

মিডিয়ার এই মানুষগুলোকে আমি বুঝলাম না আজো। বহু বছর ধরে এই বোধশূণ্য প্রশ্নগুলো নিয়ে কথাবার্তা হচ্ছে। বয়ঃপ্রাপ্ত হতে কতযুগ সাংবাদিকতা করতে হয়? এমনকি কমনসেন্স জিনিসটাও শুণ্য এদের?

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩১৬৮৯(২৯)    
লেখকের মন্তব্য

আমাদের দেশে একটি বিভাগ খুব ঘটা করে 'স্বাধীনতা' অর্জন করেছে। এখন কী হয়? বেসরকারি ল কলেজ থেকে বইপত্র কেটে সার্টিফিকেট নিয়ে দশ বছর (এটা বোধহয় আরো কমানো হয়েছে) ধরে মফস্বলের লোয়ার কোর্টে ঘোরাঘুরি করেও সরাসরি উচ্চ আদালতের বিচারক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া যায়। দরকার শুধু শহীদ জিয়া অথবা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনুসারী হওয়া। বিএনপি আমলের ফয়সল ফয়েজির মার্কশিট জালিয়াতির কথা মনে আছে নিশ্চয়ই (উনার প্রোটোকল করেছিলো আমার এক বন্ধু; আহা, সে কী অভিজ্ঞতা)। দুদিন আগে মক্কেলের পকেটে হাত ঢুকিয়ে আর দশটা টাকার জন্য টানাটানি করছেন যিনি, তিনি সোজা উঠে বসছেন খাজা বাবার দরবারে। যেখান থেকে কাউকে ফেরানো হয় না খালি হাতে। খুন, ডাকাতির আসামীও জামিন পেয়ে যায়। শোনা যায়, কোর্টপাড়ার ইটপাথরও টাকা খায়। নতুন সংযোজন "আদালত প্রতিবেদক" নামের বিশেষ একটি পক্ষ। আর বিসিএস ক্যাডার থেকে নিয়োগপ্রাপ্তদের অবস্থাও খুব ভালো তা বলবেন কীভাবে? এই সংবাদটি পড়ে দেখুন ভেতরে কী চিত্র।

মিডিয়ার লোকজন নিয়ে একটা কথাই বুঝলাম; একমাত্র এই সেক্টরে 'ক'রে খেতে হলে' শুধু অক্ষরজ্ঞানটুকু থাকলেই চলে।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩১৬২১(৩০)    

*sigh*

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩১৬৯৩(৩১)    
লেখকের মন্তব্য

ঘুম দেন :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩১৬৩০(৩২)    

পৃথিবীতে যদি সবকিছুই ভালভাবে চলতো, তাহলে সমস্ত সংবাদমাধ্যম রুগ্নশিল্পে পরিনত হয়ে যেতো! কথাটি কয়েক বছর আগে জনপ্রিয় একটি সংবাদমাধ্যমের টিভি চ্যানেলের এডিটর-ইন-চিফ'কে বলেছিলাম, তিনি করুণ হাসি হেসেছিলেন। সময় চেয়েছিলেন, বলেছিলেন আমাকে একটু সময় দাও, সবেমাত্র এডিটর-ইন-চিফের দায়িত্বভার পেয়েছি, আমি প্রচলিত ধারা বদলের চেষ্টা করব। কথা রেখেছিলেন তিনি!

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩১৬৯২(৩৩)    
লেখকের মন্তব্য

আপনাদের ওখানের এবিপিএলের কথা বলছেন বোধহয়। ওদের টিভি চ্যানেল দেখা হয় নি।

সবকিছু যেভাবে চলছে তাতে তো আমাদের মিডিয়ার স্বাস্থ্যবান শিল্পে পরিণত হবার কথা, মুনাফার দিক থেকে হয়েছেও বোধহয়, তবে মানের দিক থেকে নিশ্চিতভাবেই নয়!

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩১৬৩২(৩৪)    

প্রথম প্যারার ঘটনা জানা নেই আমার। তখন মনে হয় অনেক ছোট ছিলাম।
ক'দিন আগেতো আমাদের মেডিকেলেই ঘটেছে এমন ঘটনা। দেখেছি, নারীকে কিভাবে দোষারোপ করা হয়।

আমি সবচেয়ে অবাক হয়েছি, সাইদের মতো অপরাধী কি করে মিডিয়ার সামনে কথা বলার সুযোগ পেল?

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩১৭৩১(৩৫)    
লেখকের মন্তব্য

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সেই ঘটনার কথা আমারও মনে পড়েছিল রুমানার খবরটা পড়েই। এই সিরিজেই সেটা নিয়ে লিখেছিলাম।

সংবাদ সম্মেলন নিয়ে কথা বলার অনেক কিছুই আছে; কিন্তু আমাদের হজমশক্তি আর সহ্যক্ষমতা বোধহয় দিন দিন নির্বিকারভাবে বেড়ে চলেছে :(

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩১৬৬০(৩৬)    

এদের জ্ঞান দাও, প্রভু। নইলে আমাদের দাও সাময়িক বধিরতা। আমিন।

রীমা হত্যার পরে অনেক বাবা মা'ই ছেলে মেয়ের মুনির খুকু নাম পাল্টেছিলেন। কিন্তু ঘুনে ধরা সমাজের ঐ অন্ধকার মন কি পালটানো গিয়েছিলো?

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩১৭৩৫(৩৭)    
লেখকের মন্তব্য

রীমা গৃহবধূ ছিলো, বিপরীতে খুকু নামের একজন ভ্যাম্প সেখানে ছিলো। তাই আমরা নির্দ্বিধায় মুনীরকে দানব বলতে পেরেছি। রুমানার দুর্ভাগ্য, সে বরং বাড়তি দোষ করেছে পেশাগত অবস্থান আর উচ্চশিক্ষা নিয়ে।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩১৭৫৩(৩৮)    

গণদাবীতে তো নিম্ন আদালত খুকুরও ফাঁসির আদেশ দিয়েছিলেন। আমরা তখন বোধ হয় মাত্র ইউনিভারসিটিতে ফার্স্ট ইয়ারে। আমাদের যে বিচারবুদ্ধি ছিলো, ঐ মাননীয় আদালতের সেটা ছিলোনা। পরে অবশ্য হাইকোর্টে রায় পাল্টে যায়।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩৩০৪১(৩৯)    
লেখকের মন্তব্য

পাবলিক সেন্টিমেন্টে প্রভাবিত স্টুপিড। ব্রিটিশ আমলে বিচারকদের যে প্রায় নির্বাসিত জীবন যাপন করতে হতো, সেটা একদিকে খারাপ ছিলো না :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩১৭১২(৪০)    

বিরাট আইন কানুন দেখি!
ওয়েল জনসংখ্যা যে বেশি থেকে বেশিয়েস্ট এর দিকে যাচ্ছে এর চেয়ে ভালো কিছু আশাও করা যায় না। একটু রিচ বা পপুলার লোকদের সাথে হলে মিডিয়ায় আসে বাকি হাজার হাজার তো সামনেই আসে না। আর কিছু মানুষের বুদ্ধির যে লেভেল! সেইরকম। পাইপ দিয়া রক্ত যাইবো ''তেল'' যাইবো না এমন এক কমেন্টে দেখলাম ৬ টা লাইক। কমেন্ট দাতা ও আরো ৬ জন টৌটাল ৭ জন কেউই ''তেল'' নামের গ্যাস দেয়ায় রাজি না।
এত্ত বেশি মানুষ, চোরা সরকার, আহাম্মক কিছু সিটিজেন সব মিলিয়ে একটা হবু আফ্রিকা দেখা যাচ্ছে।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩১৭৩৭(৪১)    
লেখকের মন্তব্য

পোস্ট বিরক্তিকর; কমেন্টগুলিই বরং পড়েন।

হবু আফ্রিকার আশঙ্কাটা খুব বেশি বাস্তব...

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩১৭৭২(৪২)    

১ - এর প্রথম ঘটনা নিয়ে একটা লেখা পড়েছিলাম বেশ কিছুদিন আগে, খুনি স্বামী নাকি এখনও জীবিত- আমেরিকা থাকে (যদি সে ঘটনা মুনীর রীমার হয়ে থাকে )
২য় ঘটনার স্বামী নিজে স্বীকার করার পরেও কি সে খালাস পেয়ে গেল???!!

বাকি অংশ

সাইদ ধরা পরার পর একটা ফেইসবুক স্টেটাস দিয়েছিলাম এরকম

হাসান সাইদ'দের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি হওয়াটা ফরজ। আর প্রশাসনের সে ফরজ পালন করাটাও ফরজ ।

সেটা কেউ কেউ লাইক করেছেন আবার কেউ কেউ লাইক করেননি -

কেউ অপরাধ করে যদি পার পেয়ে যায়, উপযুক্ত বিচার না হয় ,তাহলে সেক্ষেত্রে অপরাধের মাত্রা অটোমেটিক বেড়ে যায়।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩২০৮০(৪৩)    
লেখকের মন্তব্য

মুনীরের ব্যাপারে একটা কন্সপিরেসি থিওরি ছিলো যে তার বদলে অন্য কাউকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে, তাকে বিদেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। তেমন কিছু হলে নিশ্চয়ই প্রমাণ পাওয়া যেতো। আমাদের দেশে অবশ্য বহু কিছু ঘটে; একবার কারাগারে এক লোককে দেখেছিলাম যার পেশাই হলো অন্যের হয়ে জেল খাটা। বিনিময়ে তার পরিবার মাসোহারা পায়। এভাবে সে কয়েকজনের হয়ে মোট ২৬ বছরের মতো জেল খেটে ফেলেছে!

দ্বিতীয় ঘটনাটার লোকটির কী হয়েছিল খোঁজ রাখি নি; তবে এরকম ক্ষেত্রে যেমন দেখেছি মৃত্যু ঘটানোর উদ্দেশ্যে আঘাত করা হয় নি; এমন কিছু প্রমাণ করা গেলে সাতআট বছরের জেল হয়। যাবজ্জীবন হলেও গুড কনডাক্ট ইত্যাদি বিবেচনায় আটদশ বছরের মাথায় বেরিয়ে আসে।

ফরজ-বাণী পছন্দ করলাম।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩১৮২৫(৪৪)    

আইনের মারপ্যাচ খুব বেশি কিছু বুঝি না, তবে এবার ল এর একটা কোর্স করত্রে গিয়ে এতটুকুই বুঝলাম, মানুষের ইন্টেনশান যদি ভাল কিছু করার না হয়, বিচারক যদি সুবিচার দিতে না চান, তবে কোণ আইনের আসলে কোণ কিছু ঠিক রাখার পথ নাই, রুমানা সাঈদের ঘটনা, বা অন্যান্য হাবিজাবি আরো যা ঘটছে, এগুলোর বিচার হয়তো হবে, শাস্তি তাও হয়তো হবে, কিন্তু এর পরেও অন্য আরেকজন রুমানার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা কি আমাদের সোসাইটি দিতে পারবে?

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩২০৮৩(৪৫)    
লেখকের মন্তব্য

আমাদের দেশের যে সিস্টেম তাতে পুলিশ, পাবলিক প্রসিকিউটর, আর বিচারক-- এই তিনপক্ষের একপক্ষও যদি সৎ+দক্ষ না হয়, ন্যায়বিচার পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।

প্রশ্নের জবাবটা আমাদের জীবদ্দশায় বোধহয় হ্যাঁ-সূচক হবে না...

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩১৮৫৬(৪৬)    

আমাদের দেশের সাংবাদিকতা দেখলে আমার মেজাজ চরম খারাপ হয়ে যায়! আইন সম্পর্কে কিছু বলার নাই। সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে' কথাটা মনে পড়ে।
কেমন আছেন?

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩২০৮৪(৪৭)    
লেখকের মন্তব্য

তোমাকে দেখাই যায় না ভাইয়া, লেখা কই?

এইতো আছি একরকম। তুমি?

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩২১৮৯(৪৮)    

এইতো আপু। ব্যস্ততা আর আলসেমির কারণে ব্লগে আসা হয় না, লেখার উৎসাহ পায় না। তাছাড়া, পরিচিত প্রিয় ব্লগারদের না দেখলে ব্লগে ভালো লাগে না।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩৩০৪২(৪৯)    
লেখকের মন্তব্য

মাঝেমধ্যে একটু আসলেই দেখবে নতুনরাও চেনা হয়ে যাবে। আর পুরনোরাও আছি তো! তোমাকে তবু কালেভদ্রে দেখি, মাঝেমধ্যে ফারহান আর মেহরাবকেও। আসিফ আর দূরন্তকে দেখি না অনেকদিন।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩১৮৫৮(৫০)    

কেমন আছেন আপি???

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩২১৮২(৫১)    
লেখকের মন্তব্য

চতুর্মাত্রিকে স্বাগতম, স্বপ্নবিলাস!
স্বাগতম আমার ব্লগেও :)

আছি সবার মতোই, আপনার জন্য শুভেচ্ছা।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩১৮৯৯(৫২)    

আদালত বুঝি না। একেবারেই না। তবে আইন মনে হয় একটু আধটু বুঝি। আর সবচেয়ে বেশী যেটা বুঝি সেটা হলো আইনের ফাঁক-ফোকর। সেটা ছোটবেলা থেকেই পেপারে পত্রিকায় কিংবা বাস্তবে ভিকটিম হয়ে দেখেছি/শিখেছি। সাইদ কে সাপোর্ট করার জন্য দীনতা যেই দেখাক সেটার মতো ঘৃন্য আর কি হতে পারে! আপনার মেরুদন্ডী যে লোকটার এনালজী দেখালেন এখানেও অন্যথা ঘটছে না।
-------------------
টিভির এইহারে যারা যারা রিপোর্টার হচ্ছে তাদেরও চিকিৎসা প্রয়োজন।
--------------------------------------
সেমি অফটপিক: আর আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় ক্ষতি করছে রাজনীতিবিদেরা। আমরা খুব ছোটবেলা থেকে মিথ্যা বলা, বানিয়ে কথা বলা প্রতিদিন পড়তে পড়তে এক সময় দক্ষ হয়ে পড়ছি। আর সেগুলো ঘরেও ব্যবহার শুরু করেছি। ছোটবেলা থেকেই দেখছি একজন মিথ্যা বলছে আর অন্য দশজন সেটাকে সাপোর্ট দিচ্ছে। আর বাবা মায়ের কড়া শাসনের মাঝেও এইগুলো যে কেউ কেউ গ্রহন করছে না, তা কিন্তু নয়। এভাবে কিন্তু শৈশব থেকেই আমাদের নীতিবোধটাকে একরকম ভঙ্গুর করছে। এই অধপতনের জন্যও আমি আমাদের অধঃপতিত রাজনীতিবিদদেরকেই দায়ী করবো। একটি সম্মানিত অভিবাবক যেমন তার নিজের জন্য সম্মান আনে, তেমনি তার পরিবারের জন্য। আর তার নৈতিক অবক্ষয়ের প্রভাব শুধু তার পরিবারের উপর নয় সমগ্র সমাজের উপরই একটা প্রচ্ছন্ন প্রভাব তৈরী করে। ধরুন একজন শিক্ষক নকল দিতে গিয়ে কিংবা অন্য কোন অকাজ করতে গিয়ে ধরা পড়লো , সেটা কিন্তু পুরো বিদ্যালয়ের সকল ছাত্র-ছাত্রীর জন্য পীড়াদায়ক। আর সেই শিক্ষক রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ছাড়া পেয়ে, কোন কোন জায়গায় নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে পরদিন ক্লাসে পড়াতে আসে--- সেটা সেই ছাত্র-ছাত্রীদের কাউকে কাউকে একই অকাজে উদ্বুদ্ধ করছে না? অবশ্যই করছে।

যাক গা---মেজাজটাই গেল! আর নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় এমন কিছু আছে যেটা পাবলিকলি বলতে ইচ্ছে করছে না। তবে যাই হোক, আমাদের ভালো যা দিন যাচ্ছে তা একেবারেই যাচ্ছে। শ্রেয়তর হওয়ার কোন সম্ভাবনা দেখছি না।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩২১৮৪(৫৩)    
লেখকের মন্তব্য

ধন্যবাদ পদ্ম, আপনার সেমি-অফটপিকটাই সবচেয়ে বড় অনটপিক এখন দেশের জন্য। শিক্ষক-ছাত্রের উদাহরণটা যথাযথ দিয়েছেন। নিজস্ব অভিজ্ঞতার কথা যা বললেন, ফিকশনের মতো করে হলেও আমাদের সঙ্গে শেয়ার করুন, আর কিছু না হোক শিক্ষাটা নিয়ে রাখবো।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩২০৩৬(৫৪)    

এদের জ্ঞান দাও, প্রভু। নইলে আমাদের দাও সাময়িক বধিরতা। আমিন।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩৩০৪৮(৫৫)    
লেখকের মন্তব্য

পড়ার জন্য ধন্যবাদ, সকাল

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩২০৫৫(৫৬)    

এদের জ্ঞান দিলেও এরা তা নিবে না। আমাদেরই বধির হয়ে যেতে হবে, সাময়িক না, চিরকালের জন্য।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩৩০৪৯(৫৭)    
লেখকের মন্তব্য

অনেকদিন বিরতি গেলো, তারপর আপনার অনুবাদ দেখলাম। ভালো কাজ, ধন্যবাদ।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩২২৪৬(৫৮)    

পোস্ট আর মন্তব্য পড়তে পড়তে এক বেলা শেষ! অনেক কিছু জানলাম। আইনের বাধ্য-বাধকতার চেয়ে ফাঁক-ফোকর অনেক বেশি! অপরাধীর সাজা না-হওয়া এতই স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে পড়েছে যে, এখন আর তা নিয়ে কারো মাথা ব্যাথা দেখা যায় না। এ দেশে সব 'অসম্ভব' কেমন করে যেন 'সম্ভব' হয়! এই 'কেমন করে' যতদিন থাকবে ততদিন বিচার থাকবে ক্ষমতাবানের হাতে - যতই সে ব্যাবস্থাকে স্বাধীন করা হোক!

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩৩০৫০(৫৯)    
লেখকের মন্তব্য

এখানে আপনার অজানা কিছুই নেই হুদাভাই, শুধু রিভাইজ করলেন।
সব হঠকারী অসম্ভব যে কীভাবে যে আমাদের দেশে সম্ভব হয়ে যায়... :(

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩২৬২১(৬০)    

আমাদের দেশে ধর্ষিতা ধর্ষণ হয় কয়েকবার। প্রথম ধর্ষণের পর ২য়বার পুলিশের কাছে, ক্রমান্বয়ে মিডিয়া , আদালত এমনকি আমাদের এই সমাজের অনেকের কাছেই। ধর্ষকের কথা না বলে , বলতে শুনি ধর্ষিতার কি দোষ ছিল !! আর বিচার কার্যক্রমের যে অবস্থা ......... বিচার না চাওয়াটাই বোধহয় সেই অসহায় নারীর জন্য ভাল। অন্তত আদালতের দ্বারা তার ধর্ষনের সুযোগ বন্ধ হবে, কিংবা হাসপাতালের বেডে শুয়ে পুলিশের কাছে স্ট্যাটমেন্ট দেয়া থেকে বাচতে পারবে অথবা তার পরিবারকে নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। আমার বেশি ক্ষোভ কাজ করে আদালতের ওই দীর্ঘ সূত্রিতার উপরে। অনেক সময় দেখা যায় থানায় মামলাই নেয়া হয় না। একবার ভাবেন, আমরা কোথায় বসবাস করছি.............. আমার নিজেকে খুব অসহায় মনে হয়, চারিদিকের এত এত অন্যায় - অত্যাচার দেখে.......

লেখাটা ভাল লাগল, ধন্যবাদ

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩৩০৫১(৬১)    
লেখকের মন্তব্য

আমাদের দেশে ধর্ষিতা ধর্ষণ হয় কয়েকবার। প্রথম ধর্ষণের পর ২য়বার পুলিশের কাছে, ক্রমান্বয়ে মিডিয়া , আদালত এমনকি আমাদের এই সমাজের অনেকের কাছেই। ধর্ষকের কথা না বলে , বলতে শুনি ধর্ষিতার কি দোষ ছিল!!

কঠিন সত্যের উচ্চারণ।
অনেক ধন্যবাদ মধ্যরাতের হাইওয়ে।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩৩৮৫৯(৬২)    

জিরোদার সাথে একমত। আসলেই রুমানা ম্যাডামের উচিত হয়নি এতদিন ধরে এই অত্যাচার সহ্য করে যাওয়া। আত্মীয়-বন্ধুদের জানানো উচিত ছিলো, থানায় জিডি করে রাখা উচিত ছিলো। অবশ্য এখন আর বলে কি লাভ...
---------------
সাংবাদিকদের প্রশ্ন করার জ্ঞান দেখলে মাঝেমাঝে এত অবাক হই যে ঘেন্না ধরে যায়। নিজেকে একবার উত্তরদাতার জায়গায় দাঁড় করিয়ে দেখুক তো কেমন লাগতে পারে এ ধরণের প্রশ্নের সম্মুখীন হলে?

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩৩৯৯৮(৬৩)    
লেখকের মন্তব্য

এখন বলে লাভ এটুকুই যে বর্তমান ও ভবিষ্যতের বাদবাকী রুমানারা হয়তো সাবধান হবে। আমার ক্ষমতা থাকলে শাপলার পোস্টটা মাধ্যমিক পর্যায়ে মেয়েদের জন্য অবশ্যপাঠ্য করে দিতাম।

=========================

এমন রিপোর্টারদের আক্কেলজ্ঞান যে কবে হবে! এতোরকম প্রশিক্ষণ-ওয়ার্কশপ হয় দেশে, কেউ এদের কমনসেন্সের ট্রেনিংটা যদি দিতো!

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩৪২৫৯(৬৪)    

আমার ক্ষমতা থাকলে শাপলার পোস্টটা মাধ্যমিক পর্যায়ে মেয়েদের জন্য অবশ্যপাঠ্য করে দিতাম।

এই কমেন্টে সাত তারা।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩৪১৫১(৬৫)    

মানুষ আমরা এখন গন্ডারকেও হার মানাতে চলছি ,,সবকিছুই সহে সহে চলছি, সব অস্বাভাবিকই এখন স্বাভাবিক মনে হয়। নয়ত সাঈদদের প্রতি কি করে সহানুভুতি আসে?

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩৪৪৪২(৬৬)    
লেখকের মন্তব্য

:(

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩৪৩৮৭(৬৭)    

পোস্ট-কমেন্ট মিলে বিশাল অবস্থা বলে কাল পুরো পোস্টটার প্রিন্ট নিয়েছিলাম। টোটাল কুড়ি পাতা! সবগুলো ট্রেনে বসে খুটিঁয়ে খুটিঁয়ে পড়েছি। ইদানিং এই অভ্যাসটা হয়েছে, বড় কোন লেখা প্রিন্ট করে সময় নিয়ে পড়ি। এর সুবিধা হলো, গতানুনিক "আহা উহু, দেশটা রসাতলে গেল রে" টাইপ কমেন্ট না করে বতস্তুনিষ্ঠ বক্তব্য এবং প্রশ্ন রাখা যায়।

বছর দুয়েক আগে কার কাছ থেকে যেন শুনেছিলাম নুশেরাপু ম্যাজিস্ট্রেট বা এই পদের কোন একজন ছিলেন। আপনার ব্লগ ঘাটঁলে সেটার নমুনা মেলা ভার তবে এই পোস্টে সেটা বেশ বোঝা গেল! :ঢ়

লোকটি তার স্ত্রীকে লাথি দিয়ে হত্যা করার পর লাশের উপর বড়শী দিয়ে নির্যাতন করেছে?!! মাই গড!! তা শেষতক কি শাস্তি দিয়েছিলেন লোকটাকে, সেটা তো জানা গেল না।

আমার ধারনা, মন্দ মানুষের পোষাক বা কর্ম, কোনটাই তার হৃদয়ের চে বেশী কালো নয়। হাদিসে আছে, পাপী ব্যক্তিদের হৃদয়ে আক্ষরিক অর্থেই কালিমা থাকে। এবং একটা পর্যাযে এটা এতটা ভয়াবহ পর্যায়ে চলে যায় যে, কোন রকম চেষ্টা বা অনুতাপ ছাড়াই সে পাপকাজে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে।

আমি কখনো কোন খুনীকে চাক্ষুষ দেখিনি। তবে পৃথিবী কুখ্যাত সব খুনীদের সাক্ষাৎকার আর জীবনী পড়েছিলাম। ভয়ংকর সব সাইকোলজিক্যাল শক পেয়েছিলাম।

রুমানা মনজুরের ঘটনা আমাদের বর্তমান সমাজের দুর্দশার একটা পরিপূর্নচিত্র দেয়। সমাজের সব "কু" এই ঘটনায় আছে। কিন্তু সবচে ভয়ংকর যে তথ্যটা এই ঘটনা আমাদেরকে দিয়েছে সেটা হলো, সমাজের উচ্চবিত্ত এবং উচ্চশিক্ষিত নারীরা্ও স্বামীর (এমনকি ঘর-জামাই স্বামীরো) প্রাণঘাতী আক্রমন থেকে নিরাপদ নয় অথচ আমরা জানতাম নারীর শিক্ষা এবং স্বাবলম্বন নারীকে মুক্তি দিতে পারে। এখানে বরং উল্টোটা হয়েছে। উচ্চ শিক্ষার অপরাধে (!) রুমানার মুক্তি তো মিলেই নাই উল্টো সে আজীবন একটা নিকষ কালো অন্ধকারে বন্দী হয়ে গেল!

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩৪৪৪১(৬৮)    
লেখকের মন্তব্য

আমার দেখা সেই ট্রান্সফর্মড খুনীর কী শাস্তি হয়েছিল তা আর জানা হয় নি [আমাদের ম্যাজিস্ট্রেসির দায়িত্ব ছিলো কগনিজেন্স কোর্ট বা আমলী আদালত পরিচালনার। কগনিজেন্স কোর্ট আসামীর প্রতি সমন/গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি, জামিন শুনানি, তদন্তের আদেশ, রিপোর্ট/চার্জশিট গ্রহণ ইত্যাদির পর মামলা বিচারের জন্য প্রস্তুত করে বিচার-আদালতে পাঠিয়ে দেয়। খুনের মামলা দায়রা আদালত বিচার করতেন (সাধারণত জেলা জজ অথবা অতিরিক্ত জেলা জজ)]। এরকম ক্ষেত্রে যেমন দেখেছি, "মৃত্যু ঘটানোর উদ্দেশ্যে আঘাত করা হয় নি"-- এমন কিছু প্রমাণ করা গেলে সাতআট বছরের জেল হয়। খুনের দায়ে যাবজ্জীবন হলেও গুড কনডাক্ট ইত্যাদি বিবেচনায় দশ বছরের মধ্যে বেরিয়ে এসেছে এমন নজির আছে।

=========================

তোমার প্রিন্ট-আউট নিয়ে মন্তব্যসহ পোস্ট পড়ার কথা জেনে টাশকিত হলাম!

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩৪৩৮৯(৬৯)    

আচ্ছা, আদালতে সাইদের দোষ প্রমানিত হলে তার কি / কি কি শাস্তি হতে পারে বলে মনে করেন?

"রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বাহাউদ্দিন ফারুকী জানান, রুমানা মনজুরের ফেইসবুক ও ই-মেইল অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড জানতেন আসামি। ওই অ্যাকাউন্টগুলো পরীক্ষা করার জন্য আসামিকে হেফাজতে নেওয়া প্রয়োজন।" - এখানে হেফাযত মানে কি রিমান্ড? যদি তাই হয়, তাহলে সেখানে নিয়ে মারধর করা হয় কেন আসামীকে? আর আমি তো ভাবলাম, ভালই হলো, শয়তানটাকে রিমান্ডে নিয়ে গিয়ে আরো কিছুদিন ছ্যাচাঁ দেয়া হোক। বিচার প্রক্রিয়া তো দীর্ঘতর এমনি হবে, ্ওমনিতে্ও হবে। মার দিয়েই দীর্ঘ হোক।
আরেকটা ব্যাপার, রিমান্ডে নিয়ে যে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, তার কোন আই উইটনেস রাখার কোন ব্যবস্থা আছে কি? উপস্থিত লোকজন ছাড়া্ও, বিচারের খাতিরে কোন সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তি যদি পুরো প্রক্রিয়া আদালতের অনুমতি নিয়ে ভিডি্ও করে আদালতে জমা দিতে চায়, সেক্ষেত্রে আদালত অনুমতি দেবে? আর ৩য় পক্ষের কাছে (যদি আদালত সেটা নেয়) সহযোগিতার ব্যাপারে বাদী বা বিবাদী বা আসামী পক্ষ কোনরকম কৈফিয়ত চাইতে পারে কিনা? অষ্ট্রেলিয়াতে যেমন ফ্রিডম অব ইনফরমেশনের আ্ওতায় সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তি যে কোন সময় বিচার প্রকিয়ার যে কোন তথ্য উর্ধ্বতন কতৃপর্ক্ষের কাছে দাবী করতে পারে এবং এটা তার নাগরিক অধিকার সুতরাং, কতৃপক্ষ তাকে তার বিচার সংশ্লিষ্ট সবরকম তথ্য জানাতে বাধ্য। বাংলাদেশে এইরকম কোন ব্যবস্থা রয়েছে কি? যদি থাকে, তাহলে এটা ক্লেইম করার আইনগত পদ্ধতিগুলো কি কি?

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩৪৪৬৪(৭০)    
লেখকের মন্তব্য

প্রলয় ম্যালা প্রশ্ন করে ফেললো দেখি!

সাঈদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে হত্যাপ্রচেষ্টার। অপরাধ প্রমাণিত হলে দণ্ডবিধি ৩০৭ ধারা অনুসারে আদালত সাজা দেবেন। সাঈদের অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ফ্যাক্টরগুলো যেমন আসামীর অভিপ্রায়, ভিকটিমের আঘাত ইত্যাদি বিবেচনাসাপেক্ষে সাজার মাত্রার হেরফের হতে পারে (অর্থদণ্ডসহ সর্বোচ্চ দশ বছরের কারাদণ্ড, অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, এমনকি মৃত্যুদণ্ডের আদেশও দিতে পারেন আদালত)। কাজেই সাক্ষ্যপ্রমাণের যথাযথ উপস্থাপনার উপর নির্ভর করছে সাজা কী হতে পারে।

হ্যাঁ, এখানে হেফাজতটাই রিমান্ড (হেফাজত অনেকরকম আছে, নিরাপত্তা-হেফাজত যেমন রিমান্ডের সম্পূর্ণ বিপরীত; ভিকটিমকে দেয়া হয়)। সিআরপিসি (কোড অভ ক্রিমিনাল প্রসিডিওর) ছাড়াও আরেকটি বিশেষ আইনের সাপোর্টে এই প্র্যাকটিসটা চলে।

একটা বাস্তব কথা বলি: রিমান্ড হলো ক্ষমতাসীনের জন্য ক্ষমতার অপচর্চা এবং পুলিশের জন্য বাণিজ্যের সুযোগ। প্রথমটি ব্যাখ্যা করা নিষ্প্রয়োজন। দ্বিতীয়টির মজার দিক হলো, পুলিশ রিমান্ডে পিটানোর জন্য এক পক্ষ থেকে ঘুষ পায়, না পিটানোর জন্য আরেক পক্ষ থেকে পায় :)

না, তৃতীয় পক্ষের তদন্ত প্রক্রিয়ায় এভাবে অংশ নেয়ার কোনো সুযোগ আমার জানামতে নেই। বিশেষ কোনো ট্রাইব্যুনালের জন্য প্রণীত বিশেষ বিধান বা আইনে সুযোগ থাকলেও থাকতে পারে; নিশ্চিত নই।

আসামীর অবশ্যই মামলা-সম্পর্কিত তথ্য জানার পূর্ণ অধিকার আছে। আসামীপক্ষের আইনজীবী মামলার যে কোনো পর্যায়েই নথিতে থাকা আদেশনামা, রিপোর্ট ইত্যাদির সার্টিফাইড কপি রেকর্ডরুমে আবেদনপূর্বক পেতে পারেন। কগনিজেন্স বা আমলী আদালতের কার্যক্রমে আসামীপক্ষের "নারাজি" দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। পুলিস চার্জশিট দিলে অথবা জুডিশিয়াল ইনকোয়্যারিতে প্রাথমিকভাবে অপরাধের সত্যতা পাওয়া গেলে মামলা কগনিজেন্স কোর্ট থেকে ট্রায়াল কোর্টে যায়। সেখানে প্রযোজ্যক্ষেত্রে জামিন শুনানির পর চার্জ শুনানি হয়। তারপর কোর্ট চার্জ ফ্রেইম করলে গঠিত অভিযোগ আসামীকে পড়ে শোনাতে হয়। কোন্ কোন্ আসামীর বিরুদ্ধে কোন্ কোন্ ধারায় কী কী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে বিচারক তা প্রত্যেককে আলাদাভাবে ব্যাখ্যা করে পড়ে শোনান। তারা অপরাধ স্বীকার করেন কি না জানতে চাওয়া হয়। জবাব নথিতে রেকর্ড করা হয়। আসামীরা সাফাই সাক্ষ্য দেবেন কি না জানতে চাওয়া হয়, তার পর তাদের আর কিছু বলার আছে কি না জানতে চাওয়া হয়; থাকলে সেটাও রেকর্ড করা হয়। তাছাড়া মামলার বিষয়ে উচ্চতর আদালতের শরণাপন্ন হবার সুযোগও আছে।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩৪৬৪১(৭১)    

অনেক দেরীতে আপনার এই পোস্টটা পড়লাম । বাসা বদল নিয়ে ব্যস্ত থাকায় মিস করেছিলাম।
১। মুনির-রিমার ঘটনার সময় আমি কিসে পড়তাম মনে নেই, তবে ঘটনাটা ভালোই মনে আছে। তাছাড়া আব্বু জেলা জজ হওয়ায় আরো ভালো ভাবে জানতাম।(মানে আব্বুর কাছ হতে আম্মু শুনতো, আমরা কান পা্ততাম।)
২। ২য় ঘটনাটা অনেক স্বাভাবিক। আব্বুর দেওয়া প্রথম ফাঁসির আদেশের কাহিনীটাও অনেকটা একইরকম।
৩। নুশেরাপু, আমার কেনো জানি মনে হচ্ছে আইনের ফাক-ফোকড় দিয়েই সাইদ পিশাচ বের হয়ে যাবে। আব্বুকে মাঝে মাঝে বলতে শুনতাম যুক্তি-তর্কের ফাঁক দিয়েই কিভাবে আসামিরা সব পার পেয়ে যাচ্ছে।
৪। বিসিএস ক্যাডারের বিচারকদের নিয়ে আপনার কথায় আমার কিছুটা দ্বিমত আছে।
------------------
মাঝে মাঝে প্রচন্ড রাগ এসে জমা হয় গলায়, মুখ দিয়েই বের হয়ে যায় কখনো। কিন্তু শেষে নিস্তেজ হয়ে পরি। আত্মসান্তনা নিই-আমি একা কখনোই কিছু করতে পারবো না, যদি সবাই না একত্রিত হই। কবে আমরা সবাই একসাথে গর্জে উঠবো?

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩৪৬৬৫(৭২)    
লেখকের মন্তব্য

১. আপনার স্মরণশক্তি তাহলে অনেক ভালো :)
২. একমত। সেজন্যই ওরকম একটা উদাহরণ দিলাম যাতে এ বিষয়ে জানেন না এমন পাঠকরা একটু ধারণা পান।
৩. সাঈদের বিরুদ্ধে মামলাটির বিচার-আদালতের বিচারক কে হবেন, তার উপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। পুলিশ কী করছে আমরা দেখছি। পিপি কী করবেন আন্দাজ পাচ্ছি। এক্ষেত্রে ডাইনামিক এবং স্ট্রিক্ট একজন বিচারক ছাড়া যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত সম্ভব না।
৪. এটা বোধহয় একটা মন্তব্যের সূত্রে বললেন। আপনার দ্বিমতের কারণটা অনুমান করতে পারছি। আমার মতামতের ভিত্তিটা বলি। গত দেড় দশকে বিসিএস ক্যাডারে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মান কীরকম অবনমিত হয়েছে, সত্যিই আপনাদের কল্পনার বাইরে। পিএটিসিতে পিএসসির রেজাল্ট আর বিভিন্ন ক্যাডারের নিজস্ব প্রশিক্ষণ একাডেমির কোর্সসমূহের ফলাফল নিয়ে একটা ইন-হাউজ গবেষণাকাজ দেখার সুযোগ হয়েছিলো। পরিসংখ্যানের উদাহরণটা এখানে দিতে চাই না। সেখানকার মতো বাস্তবক্ষেত্রেও দেখেছি, সবচেয়ে অবনতি হয়েছে বিচার এবং প্রশাসন-- এ দুটো ক্যাডারের। গোটা দশেক মামলায় সাক্ষ্য দিতে অন্তত কুড়িবার বিচার আদালতে সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়েও জজশিপের বিচারকদের মান দেখেছি। অভিজ্ঞতা থেকে দুটো ঘটনার উল্লেখ করবো।
এক) আমার সৌভাগ্য হয়েছিলো দুই বছর ধরে অসাধারণ একজন বিচারকের অধীনে শিক্ষানবিশি করার। উনি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা জজ; অথচ কর্মস্থলের জেলা জজের চেয়ে উনার জ্যেষ্ঠতা উপরের সিরিয়ালে! সেই জজ ছিলেন আদতে মেডিকেল কলেজের ছাত্র। থার্ড ইয়ারে পড়ার সময় মিথ্যা মামলায় ফেঁসে গিয়ে জেদ করে মেডিকেল ছেড়ে আইন পড়েন, যথারীতি ভালো ফল করে বিচারক হন। উনার স্ত্রী অত্যন্ত সফল পেশাজীবী; ঢাকায় সন্তানদের নিয়ে থাকতেন, আর স্যার সারা দেশ ঘুরে যেখানে বদলির আদেশ হয় সেখানেই চাকরি করতেন। সার্ভিস রুলের বিরুদ্ধে গেলেও এক বছরে এমনকি এক মাসে তিনবারও বদলি হয়েছেন মন্ত্রী/এমপির রোষে পড়ে। অসাধারণ পড়ুয়া সেই বিচারকের একটা মন্তব্য মনে পড়ে, "এখন ক্যাডার সার্ভিসের বিচারকদের মধ্যে ৬০% সরাসরি অসৎ, ২০% চ্যানেলের মাধ্যমে অসৎ, ১৫% চাপের মুখে নতিস্বীকারের মাধ্যমে অসৎ।"
দুই) আমাদের বাসায় ভয়াবহ এক ডাকাতি হয় ২০০৭ সালে। আব্বু মামলা করেন। আসামী ধরা পড়ে, আমার বোন টিআই প্যারেডে চারজন আসামী শনাক্ত করে। অথচ মাননীয় বিচার-আদালত ঘুষ খেয়ে মামলাটি ছিঁচকে চুরির হিসেবে চার্জ ফ্রেম করে সবাইকে জামিন দিয়ে দেন, সেখানে দুজন খুনের আসামীও ছিলো। তার পর থেকে কী ধরণের আতঙ্কজনক পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে আমার বোনসহ পুরো পরিবারকে, থ্রিলার সিনেমায় দেখা যায় কেবল।

========================

অপেক্ষায় আছি, নিয়াজভাই। গর্জে উঠুক সবাই!

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩৪৬৭৬(৭৩)    

আপনার অভিজ্ঞতা দুটো পড়লাম, খুব খারাপ লাগলো। আমি যতদূর জানি এখন বোধহয় অবস্থা অনেক খানি বদলে গেছে। বরং সমস্যা এখন উচ্চ আদালতের বিচারকদের। আর আমি বলেছিলাম কিছুটা দ্বিমত আ্ছে, তার মানে অনেকাংশে একমত আছি, তাই না?
-------------------------------------
আমার মনে হয় আপনি যদি আমাকে 'তুমি' ডাকেন, আমি বোধহয় খুব খুশি হবো।

খুব ভালো থাকুন, আর গর্জে উঠার সময় সাথে থাকুন।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩৪৬৮৯(৭৪)    
লেখকের মন্তব্য

উচ্চ আদালত মানে আইনজীবী থেকে ল্যাটারাল এন্ট্রিতে বিচারকদের কথা বলছো তো? এদের নিয়োগ, যোগ্যতা আর মান প্রসঙ্গে কথা যত কম বলা যায়; মঙ্গল।
----------------------------------------
আচ্ছা, 'তুমি' বলেই ফেললাম :)
ভালো থেকো তোমরাও।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩৪৬৮৪(৭৫)    

আমি তো আরো দুটো কমেন্ট করেছিলাম। এর ভেতর একটা অনেক বড় ছিলো! এটা নিশ্চয়ই সাইটের বাগ। সাইটের জাভাসহ অনেক স্ক্রীপ্ট স্লো রেন্ডার করলে অনেক সময় এইভাবে কমেন্ট মিসিং হয়। (কিন্তু যতদূর মনে পড়ে কমেন্ট দুটো প্রকাশ হয়েছিলো)। এখন কমেন্ট দুটো আবার করতে হবে। অসম্ভব বিরক্ত লাগছে।

১. ইমেইল বা ফেসবুক এ্যাকাউন্ট চেক তো আদালতের সামনেই করা যেত। দু মিনিনের মামলা। আদালত কি এটা জেন্ওে ১ দিনের রিমান্ড মন্জুর করেছে?

২. সাংবাদিকদের প্রশ্নগুলো আপাত: দৃষ্টিতে অনর্থক এবং হাস্যোষ্পদ মনে হয়, এটা সত্যি, কিন্তু এ জাতীয় প্রশ্নের বিক্ল্প কি হতে পারতো? মানে, নুশেরাপু আপনি ঐ সাংবাদিকের জাগায় থাকলে রুমানাকে প্রথমেই কোন প্রশ্নটি করতেন?

আমাদের মনে রাখা দরকার যে, সাংবাদিকরা স্রেফ এক ধরনের পেশাজীবি। তাদের কাজ জনসেবা নয়। সেটার জন্য দেশে সমাজসেবক এবং নেতারা (?) আছেন। সাংবাদিকরা পেটে ভাতে মানুষ। অবশ্য পত্রিকার কাটতির ব্যাপারটা ইদানিং অনেক বেশী খোলামেলা হয়ে গেছে। এই প্রসংগে হুমায়ূন আহমেদের একটা ছোট গল্প মনে পড়ে গেল। অনেক বছর আগে তার সাক্ষাৎকার নিতে তার বাসায় গিয়েছিলো একজন তরুন সাংবাদিক। তো সাংবাদিক যে প্রশ্নই করেন, তার সাথেই হু. আ সহমত পোষন করেন। শেষে সে আক্রামনাত্নক কথা বার্তা বলতে লাগলে। -"আপনি তো কিছুই লিখতে পারেন না। সব অখাদ্য। পাবলিক আপনার ছাইপাশ তো পড়ে না।" হু.আ যথারীতি মাথা নেড়ে সায় জানালো -"জ্বি, ঠিক বলেছেন। আমি জানি আমি অখাদ্য আর ছাইপাশ লিখি।" রণেভঙ্গ দিয়ে সাংবাদিক বেরিয়ে যাবার সময় জিজ্ঞেস করা হলো সাক্ষাৎকারটি কবে ছাপা হবে? সে উত্তর দিলো - " এটা পাবলিক খাবে না। সুতরাং, ছাপা হবে না।" এটাই হলো আসল কথা।

একটা বোনাস প্রশ্ন: বেশ, ধরে নিলাম মৃত্যু ঘটানোর উদ্দেশ্যে হত্যা করা হয়নি। কিন্তু এরপর যে পিশাচ কান্ডটি ( বড়শী দিয়ে নির্যাতন) করা হয়েছিলো, সেটার ব্যাখা আদালতে কি দেয়া হয়েছিলো? সেটার জন্য শাস্তি পাবে না?

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩৪৬৯৫(৭৬)    
লেখকের মন্তব্য

তোমার এই মন্তব্যটা লাফিয়ে সব মন্তব্যের ওপরে চলে গেছে। সেখানে উত্তর পাবে।

বোনাস প্রশ্নের উত্তরে:

ধরে নিলাম মৃত্যু ঘটানোর উদ্দেশ্যে হত্যা করা হয়নি।

তুমি বোধহয় বলতে চেয়েছো: "ধরে নিলাম হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করা হয় নি"। সেক্ষেত্রে বড়শির আঘাতটার প্রমাণ (চিকিৎসকের সনদের মাধ্যমে) যথাযথভাবে উপস্থাপিত হলে আসামীর হত্যার অভিপ্রায় প্রমাণিত হবে। তদুপরি এরকম বীভৎসতা জড়িত থাকলে খুনের সাজার মাত্রা যাবজ্জীবনের বদলে মৃত্যুদণ্ডে উন্নীত হওয়াটাই বাঞ্ছনীয়। ওই মামলাটি আমি আর অনুসরণ করি নি, কাজেই বলতে পারছি না শেষ পর্যন্ত কী ঘটেছিলো।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩৫৩০৫(৭৭)    

ওহ সরি, ঠিক বলেছেন। "হত্যা" শব্দটির জাগায় "আঘাত" শব্দটি হবে। মাথায় হত্যা শব্দটা ঘুরছিলো মনেহয় তখন।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩৪৬৯৯(৭৮)    

নুশেরা, তোর কাছ থেকে ঠিক এরকম একটা লেখাই আশা করছিলাম!

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩৪৭১১(৭৯)    
লেখকের মন্তব্য

শুচি তুই!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!
বুকে আয় বাভুল বুকে আয় বাভুল বুকে আয় বাভুল

লেখালেখিটা আবার শুরু করবি? প্লিজ!

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩৪৭৩১(৮০)    

তাজ্জব কি বাত!! এইটা নির্ঘাত সাইটের বাগ। আরণ্যক ভাইকে জলদি জানান। কোনদিন এই বাঘ আমার ঘরে (আমার ব্লগে) হানা দেয় কে জানে!!
প্রিন্ট নিয়ে পড়লে অনেককিছু নিয়ে ঠান্ডা মাথায় চিন্তা ভাবনা করা যায় যেটা মনিটরে পড়ার সময় ঠিক হয়ে উঠে না।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৩৫২৮৯(৮১)    

হ্যালো নুশেরাপি!!