নুশেরা-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

বিশ্বকাপ ক্রিকেটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান মাঠে বসে সামনাসামনি যারা দেখেছেন, তাদের ভাবই আলাদা। ভারতের সঙ্গে প্রথম ম্যাচ মাঠে বসে দেখে অনীক তো ধুন্ধুমার পোস্ট দিয়ে ফেললো। এসব দেখে-পড়ে মনে হলো, নিজের ক্রিকেট দেখার স্মৃতির জাবর কাটলে মন্দ হয় না।
১.
প্রথম মাঠে বসে ক্রিকেট ম্যাচ দেখার অভিজ্ঞতা হয়েছিলো ১৯৮০ সালের জানুয়ারি মাসে। পাকিস্তান দল বাংলাদেশে খেলতে এসেছে, প্রথম খেলাটা হবে চট্টগ্রাম স্টেডিয়ামে (তখনো তার সঙ্গে ব্যক্তিনাম জুড়ে বসেনি) । সেটা ছিলো খুব সম্ভবত দুই বা তিনদিনের ম্যাচ। তখন দেশে ক্রিকেট খেলার তেমন একটা চল ছিলো না এখনকার মতো, ফুটবলই ছিলো দাপুটে খেলা। আমার এক মামা খেলতেন, যেহেতু খুব বেশি খেলোয়াড় ছিলো না, কোনরকমে ব্যাট ধরে টেনিসবলে দু্একটা বাড়ি দিতে পারলেই বোধহয় জাতীয় দলে চান্স পাওয়া যেতো
ভাইয়ের খেলা দেখতে মা আমার এক মামীকে নিয়ে প্রথম দিনের একটা সেশন দেখে এসেছিলেন। টিভিতে সরাসরি ক্রিকেট দেখানোর ব্যাপারটা বাংলাদেশে তখন সম্ভবত ছিলো না, তবে রেডিওর ধারাভাষ্য ব্যাপক জনপ্রিয় ছিলো। দর্শকদের হাতে ছোট ট্রানজিস্টার রেডিও খুব দেখা যেতো। আমাদের বাসায় একটা বেশ লোভনীয় চেহারার চাইনিজ রেডিও ছিলো; সাদা-কমলা রঙে ক্রিম-কেকের আকৃতির। মূলত ওইটার দখল কয়েকঘণ্টার জন্য হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে দেখে পরদিন মাঠে যাবার জন্য কান্নাকাটি শুরু করি।
দ্বিতীয় দিনের খেলা দেখতে মা আর মামী আমাকে সঙ্গে নিলেন। তখন স্টেডিয়ামের গ্যালারি মাত্র একতলা, তাও কিছু কিছু জায়গা শুধু কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘেরা। বেড়ার বাইরে দাঁড়িয়েও খেলা দেখছে অনেক মানুষ। আশেপাশে সার্কিট হাউজের (পরে জিয়া জাদুঘর) সামনে, সিআরবির দিকটায় পাহাড়ের ঢালে আর বড় বড় গাছে চড়ে বসেও খেলা দেখছে লোকে। ওই বছর পাঁচেক বয়সে খেলার কিছুই বুঝি না, তবে খেয়াল করেছিলাম বাংলাদেশ দলের শফিকুল হক হীরার স্ত্রী অথবা বান্ধবী লুসি (লুসি বিউটি পার্লারখ্যাত; চৈনিক বংশোদ্ভূত; পরবর্তীতে নায়ক সালমানের শ্বাশুড়ি) বাইনোকুলার হাতে অনেকের দ্রষ্টব্য হয়ে বসেছিলেন প্যাভিলিয়নের বারান্দায়। রেডিওর ধারাভাষ্য চলছিলো বাংলা আর ইংরেজি মিলিয়ে। বদরুল হুদা চৌধুরী নামের একজন ভাষ্যকারের নাম মনে আছে, উনিও চট্টগ্রামের লোক ছিলেন।
দুপুরের পরপর হঠাৎ করে চারপাশের পরিবেশ বদলে গেলো। মারামারি শুরু হলো, পুলিশের ধাওয়া, টিয়ার শেল ফাটানো, ধোঁয়া, এমনকি গোলাগুলি। যে যেদিকে পারছে প্রাণ নিয়ে ছুটছে। মাকে হারিয়ে মামীর হাত ধরে দৌড়াতে থাকি। ভিড়ের চাপে প্রাণপণ দৌড়ানোর মধ্যে আমার সাধের রেডিওটা কীভাবে যেন হাতছাড়া হয়ে গেলো। ওটার শোকে কাঁদারও সময় নেই। গাছের উপর থেকে ফল পড়ার মতো ধুপধাপ করে মানুষ ঝরে পড়ছে। দৌড়াতে দৌড়াতে আমরা পাহাড়ের ওপর একটা বাসায় গিয়ে আশ্রয় নিই। সেটা ছিলো খুব সম্ভবত পুলিশের অথবা নেভির কোনো বড়কর্তার বাসা। সেখানে জড়ো হওয়া 'মহিলা ও শিশু' দর্শকদের গৃহকর্তা ব্যাপক লেকচার দিলেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই এলাকা রণক্ষেত্র হয়ে ছিলো। রাতের বেলায় বাসায় ফেরার পর দেখি মা পায়ে ব্যান্ডেজ বেঁধে বসে আছে, আর অবধারিতভাবে বাড়ি মাথায় করে আমার হিটলার বাপ চেঁচামেচি করছেন।
পরে জেনেছি আসিফ ইকবালের অধিনায়কত্বে ওটা ছিলো স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে পাকি দলের প্রথম সফর। ফিল্ডিংয়ের সময় বাউন্ডারির কাছে দাঁড়ানো দুই পাকি খেলোয়াড়ের সঙ্গে দর্শকদের বচসা মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ পর্যন্ত গড়িয়ে যায়। তারা বাংলাদেশের জন্য অপমানজনক কিছু বলে ফেলে, যা সহ্য করতে না পেরে একদল দর্শক চা-বিরতির সময় প্যাভিলিয়নে গিয়ে পাকি প্লেয়ারদের সাইজ করার চেষ্টা করে। আবার দর্শকদের একটা অংশ ছিলো 'বিহারি' যারা প্রথম দলটির বিপক্ষে অ্যাকশনে নেমে যায়। গোলাগুলিতে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছিলো সেদিন।
২.
দ্বিতীয়বার মাঠে বসে খেলা দেখি দশ বছর পর, ১৯৮৯এর শেষ অথবা ১৯৯০এর প্রথমদিকে। এসএসসি পরীক্ষা সামনে, স্কুলে যেতে হয় শুধু প্র্যাকটিকাল ক্লাসের জন্য। অনূর্ধ্ব ঊনিশ বিশ্বকাপ না এশিয়া কাপ কী একটা টুর্নামেন্টের হোস্ট হয়েছে বাংলাদেশ। ততোদিনে ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশ খানিকটা পরিচিতি পেয়ে গেছে ১৯৮৮-র এশিয়া কাপের হোস্ট হবার সুবাদে এবং ৮৭-৮৮-৮৯তে শারজা কাপ, অস্ট্রেলেশিয়া কাপ ইত্যাদিতে খেলার সুযোগ পেয়ে। বুলবুল-আকরাম হার্ডহিটার হিসেবে উঠে আসছেন গাভাস্কারের ধারাভাষ্যে।
তো সেই যুব টুর্নামেন্টে আমাদের অধিনায়ক ছিলেন সেলিম শাহেদ, তার ওপেনিং পার্টনার ছিলেন সহঅধিনায়ক বুলবুল। ঢাকায় একটা ম্যাচে ক্রিকেটে নবাগত সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে দুজনেই সেঞ্চুরি করে ফেললেন। ফলে সিঙ্গাপুরের মান বুঝতে পেরে চট্টগ্রামে সিঙ্গাপুর-ভারত ম্যাচে টিকেট কেটে খেলা দেখার মতো দর্শক ছিলো না। আমাদের কিছু বন্ধুবান্ধব সিরিয়াসলি স্কাউট-গাইড মুভমেন্টের সঙ্গে জড়িত ছিলো, তাদের স্টেডিয়ামে যেতে হতো। তাদেরকে চমকে দিতেই তাৎক্ষণিক পরিকল্পনায় আমরা ছয় বান্ধবী হাজির হলাম স্টেডিয়ামে। বিশ টাকা করে টিকেট, তাও কাটতে হলো না, সোজা নিয়ে প্যাভিলিয়নে ঢুকিয়ে দিলো গেইটে দাঁড়ানো স্কাউটের ছেলেরা।
তখন লাঞ্চব্রেক চলছে, ডেকোরেটারের সস্তা ফোল্ডিং চেয়ারে বসে খেলোয়াড়রা খাচ্ছেন। ভারত দলে সৌরভ-স্নেহাশীষ গাঙ্গুলি দুই ভাই, পেসারজুটি জাদেজা-জাইদী আর স্পিনার জ্ঞানেন্দ্র পাণ্ডে টুর্নামেন্টে খুব ভালো খেলার সুবাদ পেপারে ছবি পেয়ে গেছেন, তবে তখনো তারা ভারতের জাতীয় দলে ঢোকেননি, আমাদের ছয় কন্যাকে দেখে দিব্যি হাই-হ্যালো বললেন। মজার ব্যাপার (পরে আফসোস করেছি), অজয় জাদেজা আমাদের অটোগ্রাফ দিতে চাইলেন, কিন্তু আমরা ফিজিক্সের প্র্যাকটিকাল খাতা নষ্ট করতে রাজী হইনি! সবচেয়ে সুদর্শন ছিলেন ভারতীয় উইকেট কিপার, তবে তার নামটি জেনে আমরা যারপরনাই হতাশ হয়েছিলাম (আব্বাস আলি খান; জামাতের তখনকার ভারপ্রাপ্ত আমীরের নাম!)।
ভারতের ৪০০-র বেশি রানের বিপরীতে সিঙ্গাপুর ৩০ রানের ধারেপাশে মুড়িয়ে গেলো। আমাদের জন্য এর চেয়ে ভালো কিছু হতে পারতো না, কারণ বাসায় সময়মতো ফেরার ব্যাপার আছে। তবে যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধ্যা তো হতেই হবে। স্টেডিয়াম থেকে বের হতেই পাড়ার মানিকভাইয়ের সঙ্গে দেখা; যাকে তার আগের সপ্তাহেই পাশের বাসার সোনিয়া আপার সঙ্গে ইয়ে করতে দেখে মুখরোচক সংবাদটি পাড়ায় রাষ্ট্র করে দিয়েছিলাম। মানিকভাই সন্ধ্যার মধ্যেই প্রতিশোধ নিয়ে ফেললেন। বাবামায়ের সেই ঝাড়ি আজও ভুলিনি!
৩.
২০০১-এর নভেম্বর। জিম্বাবুয়ে এসেছে বাংলাদেশ সফরে। বাংলাদেশ দলে অনেক নতুন মুখ; নবাগত পেসার মাশরাফি তার ঠিক আগের নিউজিল্যান্ড সফরে সবার দৃষ্টি কেড়েছেন। জিম্বাবুয়েতে ফ্লাওয়ার ভাইরা ছাড়াও ফ্রেন্ড নামের এক পেসার দারুণ ফর্মে। সিরিজের একটা ম্যাচ হবে চট্টগ্রামে। বাপের হোটেলে থাকলেও ততোদিনে প্রায় বছর চারেক ধরে চাকরি করি বলে বেশ পাখা গজিয়ে গেছে আমার, কাজেই বাবামায়ের ঝাড়ির চিন্তা না করে দুটো টিকেট কিনে ফেলি প্যাভিলিয়নের পাশে ইন্টারন্যাশনাল গ্যালারির। আরণ্যকের কথামতো আসলেই আমার রোমান্টিকতার মিটার খাটো, কারণ খেলা দেখতে সঙ্গে নিয়েছিলাম সেই মামীকে, দুই দশক আগে যার সঙ্গে একই মাঠে জীবনে প্রথম ক্রিকেট দেখতে এসেছিলাম!
মাঠে ঢোকার আগে ডানোর কৌটার ছবিঅলা চার-ছয়-আউট লেখা কার্ড ধরিয়ে দেয়া হচ্ছিলো দর্শকদের। মামী বললো, লাগবে না। কার্ড বিতরণকারী, ততোদিনে সাবেক-বনে-যাওয়া ক্রিকেটার, সেলিম শাহেদ ঘটনা বুঝে হাসেন: নিন আপা এটা ফ্রি! -- তাহলে চারটাই দেন, গ্যাসের চুলার নীচে বিছায় দিলে কালি ধরবে না
ঢোকার মুখে জিমনেসিয়ামের সামনে এক মন্ত্রীর (খুব সম্ভবত শ্রমমন্ত্রী; মিরসরাই এলাকার সাংসদ ছিলেন) গাড়ি দাঁড়িয়ে, পাশ কাটিয়ে যাবার সময় হাত বাড়িয়ে ফ্ল্যাগস্ট্যান্ড থেকে ছোট পতাকাটা খুলে নিয়ে যাই। রোজার দিন ছিলো বলে পতাকা চুরির পর তওবাও করে নিয়েছিলাম। পতাকাটা চুলের ক্লিপের সাথে আটকে খেলা দেখেছি সেদিন। চট্টগ্রাম স্টেডিয়াম ততোদিনে বেশ সুন্দর গোছানো হয়ে উঠেছে, দর্শকরাও অনেক প্রাণবন্ত। একটা ছেলে মেক্সিকান ওয়েভ, চার-ছয়ের সময়কার লাফালাফি এসবে লিড দিচ্ছিলো। রোজা রেখেছিলাম বলে একটুতেই আমাদের মামীভাগ্নির দম ফুরিয়ে গিয়েছিলো। সেই ছেলে সামনে এসে ব্যাপক ঝাড়লো: কী ব্যাপার আপারা, হাতে কি ঘাও হৈছে, তালি দেন না ক্যান? সিটে কি লাসা লাগায় বসছেন, উইঠা লাফান না ক্যান?
টিভিপর্দায় তখন একুশে টেলিভিশনের খবরের জয়জয়কার; ইটিভির রিপোর্টাররা দেশের সুপারস্টার। খেলা কাভার করতে যাওয়া তুষার আবদুল্লাহ গ্যালারির সামনে দিয়ে হেঁটে হেঁটে বারবার প্রেসবক্সে যাওয়া-আসা করছিলেন। জিম্বাবুয়ের লংঅফের ফিল্ডারকে "ভুয়া-ভুয়া" ধ্বনিতে ভাসিয়ে দিচ্ছিলো দর্শকরা; সেটা শুনে তুষার আবদুল্লাহ্ বোধহয় বুঝলেন "তুষার-তুষার", দিব্যি জননেতার ভঙ্গিতে হাত নাড়তে নাড়তে এগোলেন তিনি।
বাংলাদেশের দুর্বল সংগ্রহ জিম্বাবুয়ে সহজেই টপকে যাবে, এমন অনুমানে খেলা দেখায় ক্ষান্ত দিতে চেয়ে সেদিন অনেক দর্শক উঠে দাঁড়িয়েও আবার বসে পড়েছিলেন মাশরাফির বোলিং দেখে। দেশের মাটিতে সেটাই তার প্রথম সিরিজ ছিলো। তখন তার রানআপ অনেক লম্বা; দেখার মতো দুটো সরাসরি বোল্ড করেছিলো মাশরাফি, যেগুলোর বেল ছিটকে পড়েছিলো ত্রিশ গজ বৃত্তেরও বেশ বাইরে! এবার আর আমাদেরকে লাফানোর কথা বলে দিতে হলো না। অনেকদিনের টিভি দেখার অভ্যস্ততায় মামী শুধু বলে ফেলেছিলো, ইশ কী দারুণ আউট, আরেকবার রিপ্লে দেখাবে না?
মন্তব্য
বাহ বাহ, হা হা হা।
১৯৮০-২০০১ সাল পর্যন্ত দারুণ সব অভিজ্ঞতা নিয়ে এতদিন বসে ছিলেন? খুব ভাল লাগল পড়ে। অনেক কিছু জানলামও। রাজনৈতিক অস্থিরতা মনেহয় আমাদের ঐতিহ্যের সাথে মিশে আছে। যাই হোক, ধন্যবাদ। কষ্ট করে এতবড় একটা পোষ্ট লিখার জন্য।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ দ্বিতীয় ধ্বনি, ভাগ্যিস বসে ছিলাম নইলে আপনার এতো সুন্দর মন্তব্যটা পেতাম কোথায়!
রাজনৈতিক অস্থিরতার চেয়ে সচেতনতা বা স্পর্শকাতরতার ব্যাপারটাই বোধহয় তখন বেশি ছিলো। গোলাম আজম ওই একই বছরে জুমার নামাজ পড়তে গিয়ে মুসল্লিদের জুতার বাড়ি খেয়েছিলেন। পরে মানুষের ক্ষোভ অথবা তার প্রকাশটা কমে যায়।
গ্যাসের চুলার নীচে বিছায় দিলে কালি ধরবে না
মামীর বুদ্ধি আছে।
লেখকের মন্তব্য
হুঁ, বিরাট বুদ্ধিমতী মামী। প্রথম যখন দেশে cone আইসক্রিম আসে, মামীর সাথে দোকানে গিয়ে খেলাম। মামী খুব সাবধানে আইসক্রিমটুকু খেয়ে 'কোন'টা দোকানীকে ফেরত দিতে গিয়ে জানলেন ওটা চিবিয়ে খাওয়া যায়
=========

পোস্ট পড়তাসি আর ভাবতাসি - "চাচাচৌদুরীর মগজ কম্পিউটারের চে প্রখর"
আর "নুশেরা আপুর মেমোরী হার্ডডিস্কের চে অক্ষয়"
অথবা "নুশেরা আপুর মেমোরী রিটেন অন আ স্টোন"
১৯শ কুয়াত্তর সনে কি করসিলাম সব ভুলে খাইয়া ফেলসি আমি। বন্ধুবান্ধব পরিচিত জনের মুখে যখন নিজের কোন বান্দরামী শুনি - তখন অবাক হই - আরে এই ঘটনা আমার মনে নাই কেন ?
-----------------
মন্ত্রীর গাড়ীর পতাকা চুরী করসেন - সাহস তো কম না !
-----------------
আর ক্রিকেটার রা বোথাম-ইমরান-রিচার্ডস জামানা থিকাই লুলপুরুষ ।
লেখকের মন্তব্য
বাবারও বাবা থাকে, সেরের উপর সোয়া সের। রোবোট নানা ঠিকমতো ফাঁকফোকর বের করে ফেলছেন
মন্ত্রীরা সারা দেশ লুটেপুটে নিচ্ছে আর জাতীয় পতাকা তো আমাদের অধিকারের জিনিস!
ক্রিকেটাররা আরো আগে থেকেই--- যাকে বলে রমণীমোহন। ভিভ রিচার্ডস, গ্যারি সোবার্সের জন্য দু্ই ভারতীয় অভিনেত্রী কী না করেছিলেন! নীনা গুপ্তা সিঙ্গেল মাদার, অঞ্জু মহেন্দ্র চিরকুমারী থাকার পণ করেছিলেন (অনেক পরে বোধহয় কোনো ব্যবসায়ীকে বিয়ে করেন)।
জানি না আপনার জীবনের ঘটনাগুলোই এমন চমকপ্রদ, নাকি আপনার বলার ভঙ্গির গুণ, কিন্তু এখনতক কোন ঘটনা পড়ে আমার মুখে হাসি ফুটে নাই এমন হলো না! খেলা দেখার প্রথম ঘটনাটা দারুণ আবেগের। ভালো লাগলো দেখে। মাঝে তো এই অনুভূতিটা মানুষ হারিয়েই ফেলেছিলো (ম্যারিমি আফ্রিদি...)। এখন আবার একটু একটু ফিরে আসছে। হামবড়া ভারতীয় বা ফাকিস্তানি খেলোয়াড়দের প্রতি 'টান' একটু কমেছে। না কমলেও এখন নির্লজ্জের মতো প্রকাশ করে না!
৯০-এর দিকে জাদেজারা বেশ শিশু শিশু ছিলো মনে হয়। ৯২-এর বিশ্বকাপের কথা মনে আছে, চ্যাংড়া পুলা শচীন আর জাদেজা। জাদেজা চুইংগাম চিবাতে চিবাতে পিটাতো। হে হে।
২০০১ এর টেস্টের কথা স্পষ্ট মনে আছে। হিথ স্ট্রিক বারোটা বাজিয়ে দিয়েছিলো। আর বিকালে দেড় ঘন্টা খুঁটি গেড়ে বসেছিল আশরাফুল! মাশরাফিকে তখন আমরা কৌশিক ডাকতাম, ওর ডাক নাম-এ। পরে জাতীয় দলের খেলোয়াড় বলে ধীরে ধীরে নামটা হারিয়ে মাশরাফি জায়গা করে নিলো। সে'সময় ওর ভঙ্গি থেকে একটা রাগ-উচ্ছ্বাস আর ক্ষুধা ফুটে বেরুতো। দেখতেই ভালো লাগতো। ফাস্ট বোলার এরকম না হলে কি চলে?
লেখকের মন্তব্য
কিছু 'আনকমন' অভিজ্ঞতা বাদ দিলে আমার কিন্তু নিজের জীবন সাদামাটাই মনে হয়, হাবিজাবি ঘটনাও তোমাদের 'অ্যাপ্রেশিয়েট' করার ক্ষমতায় সাহস পেয়ে লিখে ফেলি
বিদেশি খেলুড়েদের প্রতি এই নির্লজ্জ 'টান' কমার পিছনে আমাদের খেলোয়াড়দের নৈপুণ্যবৃদ্ধির বিশাল ভূমিকা আছে কিন্তু!
তোমার স্মরণশক্তিও তো বেশ! জিম্বাবুয়ে কিন্তু আগের দশকের দারুণ টিম, তখন সম্ভবত ওরা ইংল্যান্ডের চেয়ে এগিয়ে, সাউথ আফ্রিকার চেয়ে অবশ্য পিছিয়ে। প্লেয়াররা ছিলো সব শ্বেতাঙ্গ।
মাশরাফির ভঙ্গিটার দারুণ বর্ণনা দিলে! সে আসলেই পেসারদের একটা নতুন প্রজন্মের সূচনা করে বাংলাদেশে। তার ডাকনাম দেখি িটম্যানের নামে

১। ৮০ সালের ওই খেলার কথা মনে আছে। রকিবুল হাসান আর ইউসুফ বাবু ব্যাট করছিলেন। রকিবুল সেদিন ওপেনিং করেন। এর কয়দিন আগে ভারতের কাছে খেলার মাঠে ছ্যাঁচা খাবার পর বাংলাদেশে ফিজিক্যালি ছ্যাঁচা খাওয়া। শুনেছি পাকিস্তানি খেলোয়াড়রা বলেছিলো "তোমরা মুসলমান না হিন্দু"
২। ১৯৮৮ সালে ঢাকায় হয় এশিয়া কাপ।
৩। ১৯৮৯ সালে হয় অনুর্ধ ১৯ এশিয়া কাপ। সে টিমে বুলবুল, জাভেদ, হাবিবুল, সুজন এরা ছিলেন। শাহেদ ওয়ান ডাউন আর বুলবুল টু ডাউনে নামতো বলেইতো মনে পড়ে। ওই টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের সাথে জাভেদ দারুণ একটা ইনিংস খেলেছিলো। স্লো, কিন্তু সেসময় সেটারই দরকার ছিলো। অপরপ্রানতে আরেকটা কেউ দাড়ালে সেদিন বাংলাদেশ জিতে যায়।
৪। লাসা কথাটা আমার মাও খুব ব্যবহার করতেন।
লেখকের মন্তব্য
১। আঙুল দিয়ে 'গোল্লা' আঁকার ভঙ্গিও নাকি করেছিলো, অপমানটা আমাদের জাতীয় পতাকাকে করা। সিরিজটাই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। ঢাকার ম্যাচ না খেলে পাকি প্লেয়াররা দেশে ফেরত গিয়েছিলো।
২। চট্টগ্রামেও দুটো খেলা হয়েছিলো। লোকাল হিরো আকরাম খান দারুণ খেলেছিলেন, সঙ্গে আমিনুল ইসলাম বুলবুল।
৩। একদম ভুলে গেছিলাম। আপনি নমস্য! সিঙ্গাপুরের সঙ্গে খেলায় পিটানোর জন্য ঐ জুটি বোধহয় ওপেন করেছিলো। জাভেদ ওমরের কপাল খারাপ, ওয়ানডে যুগে তার নার্ভ আসলে ছিলো টেস্ট খেলার। বেচারা ভালো পার্টনারের অভাবে বেশ কয়েকবার আনসাং হিরো হয়ে থেকে গেছে। আরো দুজনের জন্য দুঃখ লাগে, নান্নু-বুলবুল। টেস্ট ক্রিকেটকে কিছু দেয়ার মতো অবস্থায় নতুন খেলোয়াড় নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করার নামে তাদেরকে নিষ্ঠুরভাবে বসিয়ে দেয়া হয়।
৪। মজা লাগে শুনতে
চাটগাঁয় ২টা খেলা হয়েছিলো। মনে পড়ছে।
জাভেদ ওমরের শট লিমিটেড ছিলো, কিন্তু ওর গ্রাউন্ডস ফিলডিং দেখার মত ছিলো। ডিফেন্সও ক্লাস সেভেন-এইটে অনুর্ধ ১৯এ যা দেখিয়েছিলো সেটা পরে বেশী দেখা যায়নি। শট লিমিটেশনের কারণেই মনে হয় টেস্টে তেমন ভালো করেনি। মরনিং শোজ দ্যা ডে প্রবাদটাকে বারবারই ভুল প্রমাণ করেছে জাভেদ। ১ম টেস্টে সে যেরকম খেলেছিলো, আর ক্রিকেট career (এই শব্দটার উচ্চারণ বাংলায় লেখা সম্ভব না) যেমনে শেষ হলো সেটাই বড় প্রমাণ।
http://www.espncricinfo.com/ci/engine/match/63930.html
বুলবুল-নান্নুকে আরো সুযোগ দেয়া দরকার ছিলো।
ও আরেকখান কথা- জাদেজা তো তখন ৩য় পেসার ভারতের। সমীর মেহরা নামে একজন ছিলো।
লেখকের মন্তব্য
জাইদির পুরো নাম ছিলো আশীষ উইনস্টন জাইদি। দুজনেরই দারুণ ভালো স্পিড-নিশানা ছিলো, কিন্তু কপিল দেবের চারশো পার করার জন্য অনেকদিন মূল দলে সুযোগ পায়নি। সমীর সম্ভবত পরে কিছুদিন খেলেছিলেন জাতীয় দলে, পরে ভেঙ্কটেশ প্রসাদ আর শ্রীনাথের দাপটে বসে যান
প্রথম নামটা আশীষ না মনে হয়, মনে হয় অসীম। আশীষ কাপুর নামে এক স্পিনার-অলরাউন্ডার ছিলো। ওই সময় ২ শর্মা চেতন-সন্জীব এর পর ওয়াসান-আংকোলা-রাজদান এরাও ছিলো আসা যাওয়ার মাঝে। ৯১-৯২এ শ্রীনাথ আসার পর এদের দিন শেষ। বরং মনোজ প্রভাকর কিছুদিন ছিলো দলে। প্রসাদের ডেব্যু বোধ হয় ৯৩-৯৪তে।
লেখকের মন্তব্য
১০০% নিশ্চিত, আশীষ। চেতন শর্মা ৮৩ বা ৮৭-র বিশ্বকাপে হ্যাট্রিক করেছিলেন না?
ওয়াসনের ফার্স্ট নেইম ছিলো অতুল, আঙ্কোলার সলিল, রাজদানের বিবেক। ঠিক কিনা বলেন
আশীষই বটে।
http://www.espncricinfo.com/india/content/player/36137.html
চেতনের হ্যাট্রিক ৮৭র বিশ্বকাপ। নিউজিল্যান্ডের সাথে।
ফা্র্স্ট নেইমের পরীক্ষায় ফার্স্ট হৈসেন
লেখকের মন্তব্য
আমি কিন্তু নেটে কোথাও খুঁজিনি, স্রেফ স্মৃতির ভরসা। মিললো দেখে বেজায় আনন্দ হচ্ছে
ভালো কথা, আপনার দুস্ত ভাস্কর ভাইয়াও খুব খেলাপাগল ছিলেন, উনার সাথেও এসবের গল্প করে মজা ছিলো
শুভরাত্রি, নুশেরা আপু
লেখকের মন্তব্য
সুপ্রভাত আকাশ অম্বর
অনীক ভাইয়ের মতো আমারো একই কথা মনে হচ্ছে যে আসলেই কি আপনার জীবনে বেশি মজার ঘটনা ঘটেছে নাকি সাদাকালো ঘটনাগুলোই আপনার কলম থুক্কু কিবোর্ডের ছোঁয়ায় রঙীন হয়ে উঠছে ... সে যাই হোক রেজাল্টের টেনশনের মাথায় আপনার লেখা পড়ার পর আমার প্রেশার নেমে গেল, হয়তো ওষুধও খাওয়া লাগবে না
লেখকের মন্তব্য
কী দেখলাম! এইটুকু বাচ্চা ছেলে, ওষুধ খেয়ে প্রেশার নামাতে হয়?!!

খুব খারাপ কথা
একমত। একমত।
জন্মগতভাবে খোদাতাল্লা পিছনে বেশ কয়েকটা প্রেসক্রিপশন ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন, এইটাতো একটা কেবল
এত ছোট বয়স (মেট্রিক পরীক্ষা দেওনের আগে) থেকে টাংকি মারা শুরু করছিলা?
লেখা অনেক ভাল্লাগছে নুশেরাপু.........একসময় আমিও নিয়মিত স্টেডিয়ামে যেতাম, এখন বেশি আইলসা হয়ে গেছি তাই কম যাওয়া হয়।
টিভির চেয়েও মাঠে খেলা দেখতে আমার ভালো লাগে।পুরো মাঠ চোখের সামনে, আহ!!!
আর ব্যট-বলের সেই আসল শব্দের লোভ এড়ানো সত্যিই অসম্ভব।
লেখকের মন্তব্য
উইলো-চেরির শব্দটা মাঠে বসে শোনার মতো নিখাদ উপযোগ কম আছে, যে শোনেনি মিস করেছে
আরে আমার তো মামীকেই খুব মজার লাগলো
ইশ কী দারুণ আউট, আরেকবার রিপ্লে দেখাবে না?
হাহাহা
লেখকের মন্তব্য
মামী দারুণ বন্ধুসুলভ মানুষ। তার খুব আশা ছিলো, আমি যখন প্রেম করবো, রিকশাভাড়া-পার্কের বাদাম-রেস্টুরেন্টের ফাস্টফুড সবকিছুর খরচ সে দেবে। ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় কদিন পরপর জিজ্ঞেস করতো, কিরে তোর কিছু হইলো না?
হ আমিও অনেক বন্ধুসুলভ মামী চাচী তাইলে
কিছু হইলো কিনা খোঁজ নিয়ে বিয়েও দিয়ে ফেলছি
একরম যুদ্ধ করে সেই বিয়ে দেয়া
আমার সেই ভাইজিও নিশ্চয় বলবে চাচী অনেক ভালো
লেখকের মন্তব্য
আমাকে মামীচাচী ডাকনেঅলারা বেশ ছোট, ডাকাডাকি শুরু করেনি সেভাবে। তবে খালা ডাকার কথা যাদের, তাদের ধারণা আমি সাক্ষাত ড্রাগন
ব্রেইন দেখি সেইরাম স্ট্রং, একটুও ব্যাড সেক্টর পরে নাই সব ক্লিয়ার। যেমনে ১৯৮০ সালের কাহিনী দিয়া শুরু করছিলেন আমি ভাবছি তখন এইজ ২০ আছিলো
আমি কোনদিন স্টেডিয়ামে বড় কোন ক্রিকেট ম্যাচ দেখি নাই। আপচুস
:~
লেখকের মন্তব্য
হেহেহেহে
খেলা দেখার আসল মজা মাঠে। পরবর্তী সুযোগেই দেখে নিয়েন কিন্তু!
বর্ণাভ্য ক্রিকেট দর্শক জীবন, এতদিন ধরে খেলা দেখতেছো !!
এই মেয়েটার হৈলো কি? "বর্ণাভ্য"-এটার মানে কি? পোস্টে লিখা রাখসে "রমণি"। রমণী যে হ্রস্বইকার দিয়া লেখা যায় সেটাইতো জানতাম না। তনুজায়েডের বদলে কাকনাইটিস হৈলে তো মুশকিল।
লেখকের মন্তব্য
বর্ণান্ধ লেখো নাই তাতেই খুশি

একটা নতুন শব্দ দান করলাম বাংলা ডিকশনারীতে :-b
লেখনী আর স্মৃতিশক্তিকে

লেখকের মন্তব্য
ব্যাপক!
লেখকের মন্তব্য
দারুণ , দারুণ
শেষ দু'টো লাইনে আমিও স্মৃতিকাতর হয়ে গেলাম । কলেজ লাইফে দেখা ম্যাচটির কথাই সম্ভবত বলছেন , ১১ রান দরকার ছিল জিম্বাবুয়ের, সেটার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামল জিম্বাবুয়ে । রান শুন্য থাকতেই মাশরাফির বলে দু'বার স্ট্যাম্প চড়কির মত ঘুরতে ঘুরতে অনেক দূরে চলে গিয়েছিল ।
আসিফ ইকবালের সেই সফরের কথা শুনেছিলাম , প্রত্যক্ষদর্শীও পেয়ে গেলাম
দেশে যখন ক্রিকেট বেশিদূর এগোয়নি , ক্রিকেট খেলা দেখার মাঝে একটা পিকনিক ভাব ছিল সম্ভবত । ৮৮ এর এশিয়া কাপের গল্প শুনেছিলাম আমার কাজিনের কাছে, পাকিস্তানের কোন এক খেলোয়াড় ছক্কা মারার পর বল চলে গেল কাপড়ের শামিয়ানার ওপর । অমনি এক দর্শক বাঁশ বেয়ে বেয়ে শামিয়ানার ওপর থেকে বল নামিয়ে আনে । সম্ভবত তখন বল বদলানোর নিয়ম ছিল না , বাঁশ বেয়ে ওঠা সেই ছেলেটি তখন তাৎক্ষণিক হিরো , ম্যাচ শেষে ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে ১০০০ টাকা পুরস্কারও জুটেছিল তার
লেখকের মন্তব্য
বাহ্, দারুণ লাগলো তোমার স্মৃতিচারণ! শামিয়ানার ওপর বল পড়ার ঘটনাটা ভুলেই গিয়েছিলাম, এখন মনে পড়লো। ধারাভাষ্যকাররা তখন বলছিলেন, কোন্ খেলায় ছক্কামারা বল খুঁজে না পাওয়ায় ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছিলো সেই রেকর্ডের কথা।
মাশরাফির করা ওই দুটো বোল্ডআউট দেখার অভিজ্ঞতা অনন্য। একে তো প্রথম ওভার, তাছাড়া বেইলদুটো কতোদূরে ছিটকে পড়েছিলো, ফ্রিজবির মতো করে!
মাঝে আমার এমন অবস্থা হয়েছিল যে সামনে বসে বা পাশের কেউ আস্তে কথা বললে আমি বলতাম-"ফোনের কাছে এসে কথা বল" পুরে বহু কষ্টে নিজের এই কথা থামিয়েছি।আপুনি,আপনার মেমরী আমাকে ধার দেন,কিছু ফরীক্ষা আছে সাম্নে।ভালোমত কাজে লাগিয়ে ফিরিয়ে দিব।
আর পোষ্ট হইয়াছে উত্তুম ঝা ঝা!!!!
লেখকের মন্তব্য
আপনার লেখার ধরন অনেক ভিন্ন। আগ্রহ ধরে রাখে!
শুভকামনা!
লেখকের মন্তব্য
মেকানিক্স, অনেক শুভকামনা আপনাকেও
আমার জীবনে এখনও মাঠে গিয়ে খেলা দেখা হৈলো না

ঘটনা সবগুলাই মজার, তবে ২ নাম্বারটা পড়ে বেশি মজা পাইলাম।
লেখকের মন্তব্য
আমি আরো খেলা দেখেছি মাঠে গিয়ে। চট্টগ্রামে স্টার যুব ক্রিকেট বলে একটা খুব নামকরা টুর্নামেন্ট হতো, দলগুলো দেশের ভালো খেলোয়াড়দের পাশাপাশি বিদেশি প্লেয়ারও আনতো,,, সব এখন গল্প হয়ে গেছে!
মাঠে গিয়ে খেলা আজো দেখা হলো না :(
:sad:
সাবলীল লেখায় সাবলীল পোস্ট
লেখকের মন্তব্য
সময়-সুযোগ করে অবশ্যই অভিজ্ঞতাটা সঞ্চয় করে নেবেন
কোনটা রেখে কোনটা নিয়ে বলি এখন?
সেইরম মেমোরি!! দ হা ঠিক বলছে কোন ব্যাড সেক্টর নাই। এর আগে বই নিয়া পোস্টটা পইড়াও তাই মনে হৈছিলো।
মামীর কান্ড কারখানা ব্যাপক। আর এতসব স্মৃতি জমাইয়া রাইখা এতদিন পর এইরম পোস্ট দেওয়াটা মারাত্মক লাগল মানে আমি পুরাই পাঙ্খা গো।
লেখকের মন্তব্য
:বু্আবা:
কিছু গরমিল হলে রোবোট নানা ঠিকঠাক ফাঁকগুলো ধরে ফেলেন
১৯৮০!!
আমার তখন জন্ম হয়নি। হেহ হে
২০০১ এ স্কুলের ছাত্রদের জন্য ফ্রি ব্যাবস্থা ছিলো, সেটা দেখতে গেছিলাম তাও স্কুল পালায়।
লেখকের মন্তব্য
এই কমেন্টে (দু্ইরকম) রেটিং কেন হলো
লাইকস!!!
লেখকের মন্তব্য
তাত্তাড়ি লেখা শুরু কর!!

মামীর বুদ্ধিটা বউরে শিখাইয়া দিলাম। আশির দশকের একজন ক্রিকেট দর্শকের চমৎকার স্মৃতিচারণ শুনলাম আর নস্টালজিয়ায় আক্রান্ত হলাম। পাক-ভারতের ক্রিকেট সমর্থনের সেই অমর্যাদাকর গ্লানিময় অতীতের কথা ভাবলে এখন লজ্জাই লাগে। তখন কিছু অতি উৎসাহী দর্শককে ভারত অথবা পাকিস্তানী পতাকা হাতে গ্যালারীতে লাফালাফি করতে দেখা যেতো। আমাদের নতুন প্রজন্ম এদিক দিয়ে অনেক সৌভাগ্যবান যে তারা নিজেদের জাতীয় দলের সমর্থনে, জাতীয় পতাকা নিয়ে বিজয় উত্সব করতে পারছে। ধন্যবাদ নুশেরা আপনাকে ।
লেখকের মন্তব্য
৮৮-র এশিয়া কাপে চট্টগ্রামে হলো বাংলাদেশ-পাকিস্তান খেলা। বিশাল বিশাল পাকিস্তানী পতাকা (বিহারি বা আটকেপড়া পাকিস্তানীদের বড় ভূমিকা ছিলো) ভরা শহরটা দেখলে কষ্ট হতো। স্কাউট-গাইডের ছেলেমেয়েরা পাকি প্লেয়ারদের মৌমাছির ঝাঁকের মতো ঘিরে রেখেছে। সুখের বিষয়, সেই সব দিন গল্প হয়ে গেছে! এই ব্যাপারটা আমাদের প্রজন্ম অন্তর দিয়ে অনুভব করার কথা, আপনি করেছেন দেখে খুব ভালো লাগলো!
আরি! নুশেরাপু, আপনি ২০০১ এ চাটগাঁয় স্টেডিয়ামে গেসলেন বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে খেলা দেখতে! আমিও তো গেসলাম! আওয়াজ দিলেননা কেনু ??? দেখা হই যেত তক্ষুণি !!! {P} {P} {P} {P}
লেখকের মন্তব্য
আরে তাই নাকি! কোন্ গ্যালারিতে ছিলেন, দেখলাম না কেন?
লেখকের মন্তব্য
দোকানীও রসিক, বলেছিলো-- ঠিক আছে আপা, শুধু শুধু খাবেন কেন, আরেকটু আইসক্রিম দিই
নুশেরাপু , খুব ভালো লেগেছে আপনার লেখাটা । ক্রিকেট নিয়ে এমন সুন্দর স্মৃতি চারণ আমি আগে পড়িনি । মানুষের জীবন যে বহমান একটা নদীর মতো তা এ লেখাটা পড়ে অনুমেয় হয়।আপনাকে ধন্যবাদ ।
লেখকের মন্তব্য
আপনাকেও ধন্যবাদ
ওহ!! আপনার মামীরে লাইক! যদিও শয়তানি কৈরা, তবুও একই রকম রিপ্লের কথা আমার মাথায় প্রতি উইকেটের সময়ই আসছে, যখন ইন্টারন্যাশনাল একটা ম্যাচ দেখছিলাম ঢাকায়। এর পরে কথা হৈলো- ক্রিকেট খেলাটায় আসলে এত বেশি ডিটেইলস দেখতে মন্চায় যে, মাঠে গিয়া দেখতে ইচ্ছে করেনা, যদিও এখনকার দিনে স্ক্রীন মিস্ক্রীন দিয়া হুলুস্থুল। তাও, মাঠে খেলা দেইখা শুধু লাফানের আনন্দ পাই, খেলাটা মজা করতে পারিনা!
আর আপনের লেখা!
এক পাতার একটা ব্লগ পড়লেও মনে হয় এক গাদা মজাদার জিনিষ পড়া হৈলো!
এহ, আপনে পারেনও!
লেখকের মন্তব্য
খেলার মাঠে স্ক্রিনটিন থাকুক বা না থাকুক, মাঠে বিশাল দর্শকের অংশ হয়ে দেখার একটা বিশেষ আনন্দ আছে, তার তুলনা হয় না
বিলাইর গল্প পড়ি না অনেক দিন হয়ে গেলো
নিজেতো হেসেছিই, আরো কয়েকজনকে নিয়ে হেসেছি।
লেখকের মন্তব্য
Its really a nice post sir.
Would be please sent it to our directory.
thank you
লেখকের মন্তব্য
"Would be please sent it to our directory."- কথাটার অর্থ বুঝি নি
যাই হোক, পঠন ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।
আপ্নে কি প্রাইম্মিনিস্টার হৈসেন্নি? আমাদের পিএম কিনতু পারসোনালি আপা, অফিসিয়ালি স্যার
লেখকের মন্তব্য
Its really a great post
----
Bangla News
লেখকের মন্তব্য
শুভেচ্ছা
তোমার মামীর তো দেখি আমার মতই বুদ্ধি!
লেখকের মন্তব্য
তোমাকে আপার বদলে মামী ডাকব নাকি?
পোস্ট টা ভালো পাইলাম।
অভিজ্ঞতা ভালো লাগলো। সেলিম শাহেদের নামটা দেখে আরো মজা লাগলো। ১৯৯৪ এর আইসিসি খোদাবক্স মৃধাদের মুখে কমেন্ট্রিতে তার নাম বেশ শুনছিলাম।
মারামারি লাগার ঘটনাও বেশ কমন একটা ব্যাপার। লাঈভ খেলা দেখার ব্যাপারে ক্রিকেটের চেয়ে আগে ফুটবলই এগিয়ে ছিলো। মোহামেডান আবাহনী খেলা হলে আমার ভাই চাচা সবাই যেত। একবার পুলিশের টিয়ার গ্যাস আর জনতার দাবড়ানিতে পায়ে ব্যথার পরে চাচা বন্ধ করলেও আমার চাচাতো ভাই (যিনি নিজেও ঐসময় ঢাকা ভার্সিটির হয়ে ফুটবল খেলতেন) আমাকে নিয়ে যেতেন। একবার মোহামেডান আবাহনী ম্যাচ দেখতে গিয়ে কী বিপদ !! আমার ভাই আবাহনী তো বসছে আবাহনীর গ্যালারিতে। আমিও তার সাথে। অথচ আমি মোহামেডান। মোহামেডান গোল দেয় খুশি করতে পারি না। চেহারায় দুঃখ দুঃখ ভাব লাগিয়ে রাখতে হয়।
প্রথম লাইভ ক্রিকেট খেলা দেখা ১৯৯০ এ। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ঢাকা মাঠে জাতীয় দল আর বিকেএসপির খেলা। আমি তখন শুধু দুজনের নাম জানি। নান্নু আর বুলবুল। বুলবুল বিকেএসপির ক্যাপ্টেন। আমার সাথে নামে মিলে (আমিনুল ইসলাম) বলেই বিকেএসপির সাপোর্ট দিলাম না বুঝেই। নোবেল নান্নুর ভব্যাটিং দেখে বিরক্ত হয়ে এসে পড়ছিলাম। এরপরে পশ্চিমবঙ্গ যখন ঢাকায় আসে তখন দুইদিনের ম্যাচ দেখতে যাওয়া হয়। বুলবুলের আউট নিয়ে (আসলে হয় নাই) দর্শকদের মাঝে উত্তেজনা ছড়ায়। এমনকি আম্পায়ার নাকি বুলবুলকে অনুরোধ করেছিলেন আবার নেমে ব্যাট করবার জন্য।
ক্রিকেট জনপ্রিয় হবার পরে মোটামুটি সব সিরিজেই একাধিকবার মাঠে যাওয়া হয়েছে। ১৯৯৮ এ ইন্ডিপেনডেন্স কাপ দিয়ে শুরু। ব্ল্যাকার সন্দেহে পুলিশের চোখে পড়া থেকে শুরু করে নানা মজার অভিজ্ঞতাই আছে সেগুলো লিখতে গেলে আরেকটা পোস্ট হয়ে যাবে। শুধু একটা ঘটনা দিয়েই শেষ করি। ২০০৪ বাংলাদেশে অনুর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের সময় ফতুল্লায় খেলা দেখতে গিয়ে বিপদে পড়েছিলাম। কারণ মাঠ থেকে আসার কোন পরিবহন নাই। রাস্তায় খালি ট্রাক দাড় করিয়ে আমজনতার উঠে পড়া এবং তা দিয়ে নারায়ন গঞ্জে যাওয়া আমার জীবনে ২০ মিনিটের কঠিন তম ভ্রমনের অভিজ্ঞতা। ফ্লাইং লাফ দিয়ে ট্রাকে উঠার সময় টের পাই কিছু একটা আমাকে আটকে রাখছে। আমি টেনে উঠে আসি। একটু কেমন ব্যথা ব্যথা লাগে হাটুর একটু উপরে। নারাযগঞ্জে এসে টের পাই আমার প্যান্টের একটা অংশ হাঁটুর উপরে ছিড়ে গেছে আর সেখান দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। ট্রাকের কোন অংশের গুতাতএই এই তীব্র বিপত্তি। নারায়ন গঞ্জে আমার চাচীর বাসায় অবস্থান নিয়ে সে যাত্রায় রক্ষা।
যা হোক বহুত পুরান একটা পোস্ট পড়ে খুব মজা পাইলাম।
লেখকের মন্তব্য
মন্তব্যটা উপভোগ করলাম অনেক।
১.
২.
অন্তত ২টা তুমুল পোস্টের আশায় থাকলাম
মন্তব্য করুন