পদ্ম -এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

বেচারা। হা হা। আমি চাইলাম কি আর পাইলাম কী! হা হা হা।
-কি অইছে মাম্মা? কইতথেক্কা পাইলি এই মাল? কড়া মাল।
-এক মফিজ আছিল তেতুঁল গাছটার নীচে খাতার দোকানডার সামনে। খাড়াইয়া খাড়াইয়া খাতা না কি জানি কলম কিনতাছিল। হালার ব্যাগের পিছের পকেটে রাখছিলো এই মাল। হা হা। চামে চেইনডা সরাইয়া নিয়া ফুটলাম। হালায় একটু নড়েচড়েও নাই। হা হা।
-হ, মালডা তো নয়া। দেখছস পাখীডা ফাল পারতাছে। তোর সিমডা ঢুকা। সালামের লগে কতা কমু।
-নাহ, এই মালের কতা কাউরে কবি না। বস টের পাইলে নিয়া যাইবো গা। এর আগে আরেকটা নতুন মাল পাইছিলাম। বস হালায় নিছেগা খালী দুইডা পুরিয়া দিছিলো। লাটকি'র পো, এইডার কতা যদি কইছস তো?
-যা কমু না। দে। কতা কই। ওই ওই মাম্মা, রিং আইছে। কি করবি? ধরবি? নাকি? নে, তুই কতা ক।
"হ্যালো, আপনি কে বলছেন? কথা বলেন? কে বলছেন আপনি? দেখুন আজ মাত্র চারদিন হয় আমি মোবাইলটা কিনেছি। প্লিজ। কথা শুনুন। আপনি যা চান তাই পাবেন। আমার মোবাইলটা ফিরিয়ে দিন। প্লি-ই-ইজজজজজজ।" ওপাশ থেকে ফোনটা কেটে গেলো। তরুনের চোখে আর্দ্র হয়ে যাচ্ছিলো। গত সপ্তাহে দশ হাজার টাকা দিয়ে জীবনের প্রথম মোবাইলটা কিনেছে। নিজের প্রথম কালারড স্ক্রীন মোবাইল। আজকে নিউমার্কেটে এসে নিজের প্রায় একবছরে জমানো সব টাকা দিয়ে কেনা মোবাইলটাকে খোয়াতে হলো। মা-কেই বা কী বলবে? কীভাবে বুঝাবে। আচ্ছা জাহিদ, তুই দেখলি না? তুই তো আমার সাথেই ছিলি। দেখতে পেলি না?
এই সন্ধ্যায় এখন কোথায় যাই, কোথায় খোঁজ করি! আর এখানে খাতার দোকানের সামনে থেকে ব্যাগ থেকে কীভাবে নিল।
-তুই ব্যাগে রাখতে গেলি কেনো? নিজের পকেটে রাখতে পারলি না? এহ, মোবাইল কেউ ব্যাগের পকেটে রাখে? নিজের দোষ আর এখন আমারে হুদাই দোষ দিতাছস। ল, দোকানদাররে জিগাই। দেখি উনি ত কিছু আইডিয়া দিতে পারবো।
-আচ্ছা, ল যাই।
-ভাই, এখানে কি কোন পকেটমার আছে? মানে চেনাজানা?
-কি কন? এইখানে তো সারা নীলক্ষেত এলাকা ধইরাই এইতানে ভর্তি। কি হইছে?
-ভাই, আমার মোবাইলটা নিয়ে গেছে। গত বুধবারে কিনেছিলাম।
-আচ্ছা, এক কাজ করেন। মালিক সমিতির অফিসে যান। ওনারা হয়তো কোন সাহায্য করতে পারবে।
সন্ধ্যায় কারেন্ট চলে যাওয়া নীলক্ষেত মার্কেটের নিয়মিত ঘটনা। এর আগে একবার ফটোকপি করতে এসেও এমন ফ্যাসাদে পড়তে হয়েছিলো। মালিক সমিতির অফিসটা কোনদিকে ভাই?
সামনে গিয়ে চিপা গলি পাড় হয়ে তিনটা দোকানের পরে হাতের ডাইনে যে লোহার গেট দেখবেন, ঐডাই মালিক সমিতির অফিস। বলতে বলতে দোকানদার দোকানের সিলিংয়ে উঠছিলো। গরমে সারা শরীর কাঁদা হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সেদিকে খেয়াল করে লাভ কি? মন পড়ে আছে মোবাইলে।
মালিক সমিতির অফিসে গিয়ে তরুন জিজ্ঞেস করলো- ভাই, আজকে এই ঘন্টাখানেক আগে আমার একটা মোবাইল হারিয়ে গেছে। পকেটমার নিয়ে গেছে। একটু কি হেল্প করতে পারেন এটা খুঁজে বের করার জন্য।
হা হা হা। অফিসে বসে থাকা তিনজন ভুড়িওয়ালা মধ্যবয়স্ক লোক একসাথে এমনভাবে হাসলো, যেন চরম হাসির কোন জোক বলেছে।
-কই থাকেন? ঢাকা কবে আইছেন? হা হা হা। ভাইজান, আমাগো অফিস থেইকাই সব চুরি কইরা নিয়া যায়গা। আর আপনে আইছেন দোকানের সামনে থেইকা নিছে সেডার খোঁজ করতে? নাহ রে ভাই কোন সাহায্য করতে পারমু না আমরা।
ভীষন মনক্ষুন্ন হয়ে তরুন নীলক্ষেতের সরু গলির দোকানগুলোর পাশ দিয়ে হেটে যাচ্ছে আর জাহিদকে বলছিলো- জাহিদ চল, কেউ সাহায্য করবে বলে মনে হয় না। চল নিজেরাই কিছু একটা করে বের করি।
-কীভাবে? কি করবি? এখন বাজে রাত সাড়ে আটটা। এরপরে হলে তো ক্যাম্পাসে যাওয়ার বাস মিস করবি। এখনো সায়েন্সল্যাব গেলে বাস পাওয়া যেতে পারে।
-তুই গেলে যা। আমি মোবাইল না নিয়ে এখান থেকে যাচ্ছি না।
- পাগলামী করিস না। এখানে কে নিয়েছে, কোথায় চলে গেছে, সেটা কি আর পাওয়া যাবে? আর বেশীক্ষন এখানে থাকলে তোর ব্যাগে যে ক্যামেরা ও ওয়াকি ডিস্কম্যান আছে সেটাও নিয়ে যাবে। যাহ, আমি চাকরী পেলে প্রথমেই তোকে একটা মোবাইল কিনে দিবো।
-নাহ, আমি যাবো না। ইচ্ছে হলে তুই চলে যেতে পারিস। আমি একটা কিছু বের করার চেষ্টা করবো। ইফ ইউ ওয়ান্ট ইউ ক্যান ফলো মি।
তরুন অনার্স ফোর্থ ইয়ারে পড়ে। জাহিদ তরুনের ক্লাসমেইট। জাহিদ একেবারে ঠান্ডা টাইপের ছেলে। সন্ধ্যার পর ঘর থেকে, হল থেকে বের না হওয়া ছেলে। আজ চোখের লজ্জার কারনে তরুনের সাথে থেকে এই হঠাৎ উটকো ঝামেলায় নিজেকে জড়াতে হচ্ছে।
-ঠিক আছে চল কোথায় যাবি।
চিপা গলি থেকে বেরিয়ে সোজা চলে এলো সেই তেঁতুল গাছটার সামনে। সেটার পাঁচ দশ হাত সামনেই একটা সিগারেটের টং টাইপ দোকান। এটাকে দোকান বলার মতো কিছু না। একটা বক্সটাইপ কাঠের ফ্রেইম, তিনপাশ বন্ধ, একপাশ খোলা। সেখানে দোকানদার বসে বসে সিগারেট, চকলেট, ম্যাচ এগুলো বিক্রি করে। তরুনের মনে হলো এদের কোন পকেটমারের সাথে খাতির থাকতে পারে। তাই, একেই জিজ্ঞেস করা যায়।
আপনি একটু বাইরে আসেন তো, একটু কথা আছে। একটু সাইডে আসেন।
কি কথা? এইখানেই কন।
নাহ, এখানে না। সাইডে আসেন।
নিউমার্কেটের এই এলাকায় হয়তো চাঁদাবাজ থাকতে পারে। তরুনের কথায় লোকটা হয়ত সেই দলের কাউকে ভেবেছে কিনা কে জানে! লোকটা বের হওয়ার সময় দোকানে একটা মেয়ে এলো। বক্সটার সামনে দাড়িয়ে এক প্যাক গোল্ডলিফ চাইলো। সম্ভবত ইডেন নয়তো হোম ইকোনোমিক্সের কোন মেয়ে হতে পারে। ঠিক ঘরোয়া জামাও না, আবার যে মার্কেটে এসেছে তাও না। আর যেভাবে সিগারেট চাইলো তাতে দোকানির পরিচিত বলেই মনে হলো। লোকটা সেটার ভ্রুক্ষেপ না করে নীচে নেমে এলো।
কি কইবেন কন, শুনি।
লোকটাকে মোবাইলের কথাগুলো বললে কিছুক্ষন চিন্তামগ্ন হলো।
-আপনি এক কাজ করেন। বাবুপুরা বস্তির ঠিক আগে আগে একটা প্রিন্টং প্রেস আছে। ঐখানে সাইফুল নামের একটা পোলা আছে। ওরে ধরেন, কাম হইতে পারে। আমার কথা কিছু কইয়েন না।
তরুনের এখন মোবাইলটা প্রয়োজন। কারো কথা কাউকে বলে ঝামেলা বাড়ানোর তো কিছু নেই। মেয়েটি ঘার ঘুরিয়ে জাহিদ তরুন দুইজনকেই দেখছিলো। তরুনের সেদিকে কোন খেয়াল নেই। জাহিদ একটু পর পর একবার তরুনকে আরেকবার মেয়েটিকে দেখছিলো।
চল, সাইফুলকে খুঁজে বের করি।
জাহিদ বেচারা মুখ চোখ শুকিয়ে চুপ হয়ে গেছে।
সানরাইজ প্লাজার বইয়ের দোকানগুলো পার হলেই একটা ভাঙাচোড়া প্রিন্টিং প্রেস। মোমবাতি জ্বলছে। সেখানে যেতেই একজন ছয়ফুট লম্বামতো লোক বেরিয়ে এলো। কারে চান?
সাইফুলকে।
আমিই সাইফুল, কি কাম? পুরিয়া লাগবো?
পুরিয়ার কথা শুনে তরুন ভিতরে ভিতরে একটু ভয় পেয়ে গেল। কিন্তু জাহিদ বা লোকটাকে ভয় পেয়েছে সেটা বুঝানো যাবে না।
নাহ, পুরিয়া না, অন্য কাজ। মোবাইল পকেটমার হয়েছে। বের করতে হবে।
কোন সময় হলো?
সন্ধ্যা ছয়টার দিকে।
"শিহাব, আমি একটু আইতাছি। কেউ আইলে বইতে কইছ।" বলে সাইফুল মেইন রোডের দিকে হাঁটতে শুরু করে সাথে যাওয়ার জন্য ইশারা করলো।
দেখান তো কোন জায়গা থেকে নিছে।
তেতুল তলা।
হুম, এইটা তো পাছা উচা লালু'র এরিয়া।
চলেন আরেকটু সামনে যাই। এগিয়ে ওভার ব্রীজটার নীচে গেলো। রাত তখন দশটা ছুঁই ছুঁই।
-এই এরিয়া হইলো টাইগার লালু'র। এইখানে দুইটা লালু আছে। পুরা নিউমার্কেটে সাতটা এরিয়ায় ভাগ করা আছে। আর প্রত্যেক এরিয়ার আবার সাব-হেড আছে। সব মিলা শ'খানেক পকেটমার আছে। আর আইজকা হইলো মঙ্গল বার। আজকে দিন যে কেউ যেকোন দিকে যাইতে পারে।
ঠিক আছে, চলেন মার্কেটের কোনার দিকে যাই। গিয়ে দাড়াতেই একটা সাদা মাইক্রোবাস থেকে দুইজন বের হলো। যারা বের হলো তাদের মধ্য থেকে একজন এসে তরুনের ব্যাগে টিপে টিপে দেখছে আর সাইফুলকে প্রশ্ন করছে- হেগো কই পাইলি?
না, হের মোবাইল নিছেগা। এডার লেইগ্যা হেল্প করতাছি।
-মাঙ্গির পো, হেল্প *দাও? এই, আপনেরা এই লাইনে কবে থেইকা?
জাহিদ এতক্ষনে আরো ছোট হয়ে গেছে। তরুনও বুঝতে পারছে না লোকগুলো এমন করছে কেনো! ততক্ষনে মাইক্রো থেকে আরো তিনজন বের হলো। একজনের হাতে স্ট্যানগান টাইপ একটা অস্ত্র। তরুন বুঝলো ওনারা আসলে সাদা পোশাকের পুলিশ।
সাইফুলকে আলাদা করে সামনে নিয়ে কি যেনো বলে তাড়িয়ে দিল। প্রথমে যে ব্যাগ টিপছিলো, সে জিজ্ঞেস করলো, ঘটনা শুনে বললো- "রাস্তার ঐপাড়ে যান। গিয়ে দেখেন একদল পোলা-বুড়া মিলা হিরোইন খাইতেছে। ওদের গিয়া জিগান। কাজ হইতে পারে।"
তরুন সাথে সাথে রাস্তা পেরিয়ে নিউমার্কেটের কোনায় এলো। এখানে ময়লা, বর্জ্যের গন্ধে দাড়ানো মুস্কিল। সেখানে প্রায় দশবারো জন একসাথে গোল হয়ে বসে আছে। কেউ মাথা নীচু করে ঝিমাচ্ছে। সামনে দাড়াতেই একজন চল্লিশোর্ধ সামনে এগিয়ে আসলো।
কি কাম? পুরিয়া লাগবো?
না, আমার মোবাইল আপনাদের কেউ নিয়েছে। সেটা খুঁজতে আসছি।
নাহ, আজকা আমার কোন পোলাপাইন মোবাইল হাতায় নাই।
পুলিশ তো কইলো আপনাদের কেউ নিয়েছে।
-জামাই কোনদিন মিছা কতা কয় না। এডা লালুর পোলাপাইনের কাম। পঁচায় নিতে পারে। পাছা উচা লালুরে ধরেন। আমার নাম কইয়ে না। বাবুপুরা বস্তির ভিতরে গিয়া জিগাইলে লালুর ঘর দেখাই দিবো। যান, লালুরে গিয়া ধরেন।
রাত প্রায় এগারোটা। তরুনের পেটে ক্ষুধা থাকলেও সেটা ফিল করছে না। জাহিদ লজ্জায় কিছু বলছে না। ও সাথে থেকে নিয়ে গেছে, সেটা যেন ওর অপরাধ। সেই অপরাধবোধ থেকে সঙ্গ দিয়ে ক্রমশ জটিলতার দিকে নিজেকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। তরুনকে না করে লাভ নেই। শুনবে না। তাই কথা না বাড়িয়ে বাবুপুরা নীলক্ষেত মার্কেটের ঠিক পিছনে গা ঘেঁষা বাবুপুরা বস্তির দিকে যাচ্ছে। বস্তির মুখে কতগুলো মেয়ে সেজেগুজে দাড়িয়ে আছে। এরআগে কোনদিন রাতে ঢাকায় এভাবে বের হওয়া হয়নি। লোকজনের মুখে অনেক গল্প শুনেছিলো রাত্রিবালিকাদের। আজকে একেবারে সামনে থেকে দেখে কোনকিছু মনে হচ্ছিলো না। ওরা ওদের টার্গেট খুঁজছে, আর তরুনও তরুনের নিজের আকাঙ্খিত মোবাইল খুঁজছে। এখন এতকিছু ভাবার সময় নেই। তরুনের এখন শুধু লালু কে প্রয়োজন।
একটা পনের বিশ বছরের মতো ছেলে আধো আলো আধো অন্ধকারে মেয়েগুলোর থেকে একটু দূরে দাড়িয়ে দুলছে। ঠিকমত সোজা দাড়াতে পারছে না।
-এই, পাছা উচা লালুর ঘর কোনডা রে?
-ওহ, লালুর ঘর খুঁজেন? (একটু জড়িয়ে জড়িয়ে উত্তর দিলো।) দশ টেকা দেন, দেখাইয়া দিমু।
-একটা থাপ্পড় দিয়া বাপের নাম ভুলাইয়া দিমু। কোনদিকে দেখা। তরুনের চোট দেখে ছেলেটা আর এক মুহুর্তও দেরী না করে জাহিদ আর তরুনের সামনে সামনে হাটা শুরু করলো।
প্রথম ঘরটা পার হতেই যে ঘরটা পড়লো, আসলে ঠিক ঘর না। ছোট ছোট কবুতরের বাসার মতো। তার মধ্যে টিভি চলছে। সামনে একজন বসে পিস্তল মুছছে একটা রুমাল দিয়ে। জাহিদের চোখে পড়লে জাহিদ হয়ত সেখান থেকেই উল্টো দিকে হাটা শুরু করতো। জাহিদের চোখে পড়েনি।
-এই লাইনডা শেষ হইলে ওই বাত্তি জ্বলে ঘরটা দেহেন? ঐডাই লালুর ঘর। পাঁচটা টেকা দ্যান?- ছেলেটার আবদার।
-গেলি? তরুনের ঝাড়ি।
এই প্রথম তরুনের একটু ভয় ভয় লাগছে। যদি এখানে কেউ আটকিয়ে রেখে সব নিয়ে যায়, কিছুই করার থাকবে না। জাহিদকে বলা হয়নি যে ওর ব্যাগে এখনো তিনহাজার টাকা আছে। একসাথে ডলার ভাঙিয়েছিল মোবাইল কেনার আগে। সাথে ক্যামেরা, আর ডিসকম্যান। এগুলো একসাথে করলেও তো মোবাইলের চেয়ে অনেক দামী। নাহ, ভয়টা কাউকে বুঝানো যাবে না। উদ্দেশ্য পরিপুর্ন না হওয়া পর্যন্ত ভয় পাওয়া চলবে না। আস্তে আস্তে লালুর ঘরের সামনে চলে এলো। ছোট একটা খুপড়ির ভিতরের বিশ থেকে পঁচিশ জন তিনটা মোম জ্বালিয়ে বসে আছে গোল হয়ে সেটা বাইরে থেকে আঁচ করার কোন উপায় নেই। এটা অন্য রকম একটা জগত। ঘরের সামনে দাড়িয়ে তরুন মোটামোটি দরাজ গলায় জিজ্ঞেস করলো-- লালু আছে ভিতরে?
একজন লুঙ্গী পরিহিত শুকনো লিকলিকে মুখে খোঁচা দাড়ি নিয়ে বাইরে এসে দাড়ালো।
-আপনি উচা লালু? নিজের বড় ভাইয়ের চেয়ে বড় লোকটাকে পাছার উপমাটা ব্যবহার করতে তরুনের সংকোচ লাগছিলো। তাই সে শুধু উচা লালু বলেই সম্বোধন করলো।
-হ, আমি পাছা উঁচা লালু। কি অইছে কন।
-আজকে তো আপনের এক পোলা আমার একটা মোবাইল লইয়া গেছেগা। পঁচাই কই? পঁচায় নিছে।
-পঁচা? আপনের পঁচার নাম জানলেন কইত্তে? জামাই কইছে? আজকা তো আমার কোন কামলা কামে যায় নাই। আজকা আউট কামলা আহে। কেরানীগন্জের খাডাসগুলা আইসা কেরপা করে। কার থেইকা নিছে? আপনের থেইকা? আমার ত জিনস (জেন্টস) কামলা নাই। সব লেডিস কামলা।
-ভাই এতকিছু জানি না। পচায় মোবাইল নিছে। মোবাইল দ্যান।
আইচ্ছা আমনে এক কাম করেন। আইজকা ত অনেক রাইত অইয়া গেছেগা। কাইল সকালে আসেন। আপনের একটা মোবাইল নাম্বার দিয়া যান। পাইলে আপনেরে ফোন দিমু।
পরদিন সকালে চক্ষুলজ্জায় আটকা পড়া জাহিদকে না নিয়ে তরুন একাই বাবুপুরা সেই বস্তির খুপড়িগুচ্ছের ভিতরে গেল। পাশাপাশি দুইজন একসাথে হাঁটা যাবে না এমন জায়গা রেখে মুখোমুখি ঘরগুলো মনে হচ্ছে এই সকাল এগারোটায়ও ঘুমুচ্ছে। অথচ রাতে এমন ছিলো না। তরুনকে দেখে লালু বের হলো। মাথা নুয়ে ঘরের ভিতরে গলা বাড়িয়ে ডাকতেই পচা এসে হাজির। দেখে মনে হলো জমির খড়ের মারায় আধাপোড়া একটা লাঠির মতো। যেমন শুকনা, তেমন কালো। কিন্তু চোখগুলো নিষ্পাপ। তিনজন মিলে নীলক্ষেতের দিকে রওনা দিলো। বের হয়ে যাওয়ার সময় পিছন থেকে লালুর হাটার স্টাইল দেখে পাছা উচা লালু নামটা যথার্থই মনে হলো তরুনের।
-আপনের মোবাইলটা কি মামা সিটিং দিয়া নিছে?-- লালুর প্রশ্ন।
-মামা সিটিং? তরুন মনে হলো আকাশ থেকে পড়লো।
-কিছু দেখাইয়া টেখইয়া নিছে?
-নাহ। আমি খাতা কিনছিলাম______
ওহ। আসেন দুই নম্বর গেইটের দিকে যাই।
সামনে যেতেই জামাইকে দেখে লালু দৌড় শুরু করলো ওকে ধরার জন্য। জামাইও লালুকে দেখে আজিমপুর কবরস্থানমুখী দৌড় শুরু করেছে। পিছনে পঁচা। আর তার পিছনে তরুন। মনে মনে খুব বিরক্ত হচ্ছিলো, কিন্তু ওকে যে মোবাইলটা পেতেই হবে। জামাইকে আর ধরতে পারেনি। পরে তরুনকে নিয়ে দাড়িয়ে একটা বিড়ি ধরাতেই একটি মাইক্রো থেকে একজন জোর গলায় ডাকছে-- ঐ লালু। কি ঘটনা? কি ঝামেলা?
তরুন সামনে এগিয়ে বুঝলো কাল রাতের সেই মাইক্রো। সাদা পুলিশকে জানালো এখনো কোন হদিস মিলেনি।
-ঐ ওনার মোবাইল ফিরাইয়া দে, নাইলে ***** বাচ্চা, তোগা হাড্ডি আলগা কইরা ফালামু। পুলিশের গাড়ী ছেড়ে দিলো।
আচ্ছা, আপনে কি কেইস দিবেন? যদি চান দিতে পারেন। আর নাইলে আমাগে কিছু টাইম দেন। আপনের মোবাইলের দাম কত আছিলো?
-সব মিলে এগারো হাজার।
-সাত হাজার দেই?
-আমি টাকা নিবো না। আমার মোবাইল ফেরৎ দেন।
ট্রাফিক সার্জেন্ট রাস্তার ওপাশে দাড়িয়ে খেয়াল করছিলো। হাত দিয়ে ডাকলো। তরুনের কাছ থেকে সব শুনে দুইজনকেই হাতের লাঠি দিয়ে দুই ঘা দিয়ে ফেললো। **** বাচ্চা, কালকের মধ্যে মোবাইল ফিরাইয়া দিবি, নাইলে এক লাঠি তোগো --------- দিমু।
তরুন একই সাথে বিহ্বলিত ও কৌতুহলী হয়ে গেল। কি ব্যাপার দেশের পুলিশ এত ভালো? যেখানে সেখানে পুলিশ এসে মোবাইল ফিরিয়ে দেয়ার কথা বলে ওর হয়ে লালুদের শাসিয়ে দিচ্ছে।
লালুদেরকে নিয়ে তরুন আবার আগের জায়গায় এসে দাড়ালো।
-ভাই, আমাগো একসপ্তাহ টাইম দেন। হয় আপনের জন্য টেকা, নাইলে মোবাইল জোগাড় কইরা দিমু- লালুর মিনতি।
ঠিক আছে, আপনাদের দশদিন টাইম দেয়া হলো। এর মধ্যে যোগার করেন।
-- ঠিক দশদিন পরে সেই খুপড়ির ভিতরে পঁচা ও লালুর হাত থেকে তরুন তার সেই মোবাইলটাকে নিয়ে আসে। যদিও সিমকার্ড ও কভার কিছুই ছিলো না। কিন্তু তরুনের কাছে ফিরে পাওয়া এ মোবাইলটা শুধু মোবাইল ছিলো না। ছিলো আত্নবিশ্বাসের জয়, অধ্যবসায়ের জয়। কোনকিছু মন থেকে সত্যি চাইলে মনে হয় পাওয়া যায়। কষ্ট হয়, যুদ্ধ করতে হয়, কিন্তু অধিকারে নেয়া যায়।
**********************************************************
বি:দ্র: তরুনের জায়গায় ইচ্ছে করলে, পদ্ম বসিয়ে নিতে পারেন। ২০০৪ সালের ঘটনা। আজ প্রায় আট বছর পরে লিখতে গিয়ে অনেকভাবে নাড়াচাড়া করছিলাম। শেষ পর্যন্ত গল্পের মতোই লিখে শেয়ার করে ফেললাম। ভদ্রস্ত রাখার জন্য অনেক আসল শব্দ বাদ দিতে হয়েছে। ২০০৮ এ অল্প কিছুদিনের জন্য দেশে গিয়ে একদিন রাতে নিউমার্কেটে গিয়েছিলাম। গিয়ে লালুকে দেখি সেই তেতুল গাছের পাশে ট্রাফিক সিগনালের পাশে দাড়ানো। আমি ওর কাছে গিয়ে নাম ধরে ডাকলে জোর করে আমার হাত ধরে জিজ্ঞেস করছিলো--- "আমারে কেমনে চিনেন? আমি ত কত কিছু করি! কন। ক্যামনে চিনেন?" হা হা। কোনরকমে হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বাসে উঠে পড়েছিলাম। আর কিছুই বলিনি।
**আজকে কিছু টিপস দেয়ার ইচ্ছে ছিলো, হাও টু প্রোটেক্ট ইউর স্টাফ ফ্রম দ্য পকেটমারস ইন নিউমার্কেট। বাট টায়ার্ড। অন্যদিন দিমুনি। 
মন্তব্য
আরে, পদ্ম ভাই, অসাধারণ লেখসেন তো!
- এদের নেটওয়ার্ক সাংঘাতিক! আপনে সাহস আর জিদ করসিলেন বইলা আপনের জিনিস ফিরৎ পাইসিলেন! শাবাশ!
- এক ঈদের ছুটিতে আমগো বাসায় চুরি হইসিলো। ব্যাপক ঘুরাঘুরি, দাঁত কামড়ানি জেদের কারণে, অবিশ্বাস্য হইলেও সত্য, সব জিনিস ফিরৎ পাইসিলাম! সব!
- টিপস গুলা দিয়া ফালান!
খুব ভালো থাইকেন!
লেখকের মন্তব্য
হে হে বাপী ভাই! গা ছমছম করছে নাকি? এটা আটানব্বই ভাগ সত্য ঘটনা। আমি মাঝে মাঝে নিজের সাথে নিজে বাহাদুরী করি এই ঘটনা মনে কইরা। শাবাশ কইলেন? খিক খিক। লজ্জা পাইলাম। সৎ সাহসের মোটামোটি অভাব নাই।
কিন্তু আপনের ঘটনা ত দেহি হালায় আরো অবিশ্বাস্য! একিন-ই আইবার চাইতাছে না। হাচা কইতাছেন? কন কী? সাবাস তো আপনে ই না! 

ওহ টিপস, ওকিজ দিয়ে ফেলবো। ঘটনা হলো, আমার যেদিন রিপোর্ট লিখা থাকে, সেদিনই এই বড় বড় পোষ্ট লিখে ফেলি। লাস্টের পোষ্ট ডেডলাইনের আগের রাতে লিখেছিলাম। আর কালকের মধ্যে আরো একটা রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
আমার কাছে প্রথম থেকেই বাস্তব মনে হচ্ছিলো।
শেষ অব্দি ঠিক তাই। এই ধরনের জয়ে আত্ম বিশ্বাস অনেক বেরে যায়।
অসাধারণ লিখনি।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ ভাই। এতবড় পোষ্ট মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য কৃতজ্ঞতা।
সুপার-ডুপার লাইক দেবার ব্যাবুস্থা থাকলে একটা ডাউস দেইখ্যা দিয়া যাইতাম। আর বর্ণনা হুবহু তুলে আনার মধ্যে যথেষ্ট মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন। সাহসের প্রতি স্যালুট। এমন সৎ-ইচ্ছা আমাদের মধ্যে জাগরুক থাকুক।
ভালো লাগা শুভেচ্ছা। আর এর পর আশা করি ব্যাগের মধ্যে মুবিল নিয়ে ঘুড়বেন না.....
লেখকের মন্তব্য
ম্যাথমেটিক্স, নাহ, এরপরে আর ব্যাগে রাখিনি। আর ব্যাগে রাখার একটা কারন ছিলো। জিন্সের পকেটে রাখলে স্ক্রিনের উপরে যে লেমিনেটিং পেপারটা থাকে সেটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছিলো তাই ব্যাগের পকেটে রেখেছিলাম। আমাকে যে সাহসী বলা হচ্ছে, আসলে সেটাকে ঠিক সাহস বলা উচিৎ হচ্ছে কিনা। সময়ের প্রয়োজনে বলতে পারেন। আর কেন পেরেছি সেটা দারাশিকো ভাইয়ের রিপলাইয়ে বলছি।
স্বাগত।
লেখাটা বরাবরের মতোই- আপনার ফিরে পাওয়া মোবাইলটা দেখতে ইচ্ছে করছে। আপনার জিদটার স্বরূপ নিয়ে ভাবছি।
লেখকের মন্তব্য
এই হচ্ছে সেই মোবাইল। ছবি তুলে রাখা হয়নি, যদিও ক্যামেরা ছিলো। আর ছিলো ফিল্ম ক্যামেরা, গুনে গুনে ছবি তুলতাম।
ব্যাপক রে ভাই। তবে মোবাইল আমার কাছ থেকে হারায় না। কারণ সবাই মোবাইল পকেটে রাকে কিন্তু আমি রাখি হাতে। মানে পকেটে থাকলেও হাতে বাসে ঘুমায়া পড়লেও হাতে সব সময় হাতে। এক ঘটনা কই। ২০১০ সালে বিশ্বকাপ চলে। আমি সায়েদাবাদের জ্যামে আটকা। মোবাইলে খেলার স্কোর চেক করতেসি বাসের জানালার পাশে। এমন সময় অনুভব করলাম মাথার কাছে কোন এক ছায়া। পর মুহূর্তে লাফ দিয়ে আমার হাতে থেকে মোবািল ছোঁ মারলো। কিন্তু তার ছো মারার ১ সেকেন্ডের মাঝে আমার বাম হাতার হাতের উপর ছোঁমারলো আর আমি বাসে জানালার রেলিং এ তার হাত ঠেকিয়ে সরবশক্তিতে দিলাম চাপ। মোবাইল ফেলে হাত ছুটিয়ে সে দাড়ায়ে আমার দিকে তাকায়ে রইলো।
আপনার কাহিনীতে সাহসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়। বিশেষ করে যেমনে এক লিংক থেকে আরেক লিংকে দৌড়াইছেন সেই অধ্যবসায় ও প্রশংসার দাবিদার।
পোস্ট টা সবার অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারে।
লেখকের মন্তব্য
সেরাম কাহীনি তো আপনার! আসলে সাহসী না ভাই। লেগে থাকা, বলতে পারেন। তখন মোবাইলের প্রতি এত প্যাশান ছিলো, কোথায় যাচ্ছি, কি করছি কোন খেয়াল ছিলো না। আমার মনে হয়েছিল মোবাইলটা আমার দরকার। এজন্য যেখানে যেতে হয় যাবো। আমি তো আর কোন অপরাধ করিনি। তাই ভয় ছিলো না। আর একসময় লালবাগে থাকতাম। সেটার কারনেও নিউমার্কেটে ভয় পাওয়ার মতো জায়গা মনে হয়নি। থ্যংকস এ লট আমিন ভাই।
চমৎকার লেখা!
-আপনি তো ভীষণ সাহসী!
লেখকের মন্তব্য
অপা আপু, লেখাটা কেমন যেন মিসলিডেড হয়ে গেল নিজের ব্যাপারে। আমি দেখাতে চেয়েছিলাম লেগে থাকা, কিংবা সদিচ্ছা থাকার ব্যাপারটা। আর সবাই ---
বাপরে পদমের দেখা যায় অনেক অনেক কাহিনী
আর অনেক অনেক সাহস
খুব ভালো, এমন লেগে থাকতে পারলে সবই মিলবে জীবনে
সবের ভেতর একসাথে সাড়ে সাতশ প্রেমিকাও আছে
---
গাড়ীর কাহিনীটা লিখে ফেলেন এক সময়
লেখকের মন্তব্য
কাহীনি আরো আছে জালাপা। আর গাড়ী! ভাঙা গাড়ীর পিছে জলাপা এত লাগছে ক্যানে? আট বছর হইয়া লউক!
আর প্রেমিকা! সব বদখত। সবগুলারে পাঙখা বানাইয়া মরুভুমিতে খাড়া কইরা রাখতে পারলে ভালো হইতো। একটাই হয় না। আবার সাতশ৫০। তবে বাইচা যখন আছি একটা হপেই!

-----------------
লিখে ফেলবো। দেখি। ঐ ইতিহাসটা একটু মন খারাপের ইতিহাস, তাই লিখতে গেলে আবার মন খারাপ হয়ে যাবে।
দারুন
লেখায় আলাদা আকর্ষন তৈরী হয় পড়তে, মনোযোগ দিয়ে না পড়ে উপায় নেই।
লেখকের মন্তব্য
আমি তো ভাবছিলাম আপনে বাতাসী! এখন দেখি বাতাসী নীচে আছে। আপনে ঝিনুক? স্বাগত। আকর্ষন নিয়া পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
আপনার সাহস আছে বটে

লেখকের মন্তব্য
ধুরো বয়সের সাথে সাহস দিনে দিনে কইমা গেছে।
মা গো মা! কত্ত জেদ পদ্মভ্রাতার! ঠিক বাইর কইরাই ছাড়লেন। সাবাস!
------------------------------
কোনকিছু মন থেকে সত্যি চাইলে মনে হয় পাওয়া যায়। কষ্ট হয়, যুদ্ধ করতে হয়, কিন্তু অধিকারে নেয়া যায়।
লেখকের মন্তব্য
এই কমেন্টে লাইক। আসলে এটাই বলতে চেয়েছিলাম। জেদ। আসপি না কেনো? আসতেই হপে জরিনা।
বাহ, দারুন এক্সপেরিয়েন্স তো - ঠিক থ্রিলার গল্প
মোবাইল ছিনতাই হয় নাই, চুরি হৈসিলো রুম থেকে, নিছে আশে পাশের কোন এক রুমের বাসিন্দা - উদ্ধার করতে পারি নাই
লেখকের মন্তব্য
শিক্ষিত চোর হলে সেটা পাবেন না। কনফার্ম। আর আমার কাছে যেটা মনে হয়েছে চোর ডাকাত সবার ভিতরে কু এবং সু দুই ধরনের প্রবৃত্তিই আছে। আপনার উপর কিছুটা নির্ভর করবে তার ভিতরের কোন প্রবৃত্তিটাকে আপনি জাগ্রত করতে পেরেছেন। লালুর ঘরে ২য় দিন যখন গেলাম, তখন ওর বৃদ্ধ মা কলসী কাখে করে পানি আনছিলো। আমাকে দেখে বার বার ছেলের কথা বলে গালাগাল দিচ্ছিলো, আমি কিছু বলিনি শুনছিলাম। সেখানে লালুও দাড়িয়ে ছিলো। বলছিলো -- মা, তুই যা, ভিতরে যা। আর এরপরেই পঁচাকে ডাকে। আসলে ঐ সময়টাতেই মনে হয়েছিলো লোকটা যতযাই করুক, তার ভিতরে একটা ভালো মানুষ আছে। সে অকারনে কারো ক্ষতিবৃদ্ধি করবে না। কেমন যেন আত্নবিশ্বাস। আর সবচেয়ে অবাক লেগেছিলো, পরদিন যখন দৌড়াদৌরি শেষে ফিরে আসছিলাম--তখন লালু বলছিলো-- আপনে কয়ডা টাকা নিয়া যান। ১০০ টাকা দেই। এই যে কষ্ট কইরা আসতেছেন বার বার। আমি ঠিক বুঝতে পারিনি। আজব লেগেছিলো। আমি এই যে যত বার গিয়েছি, সাথে ঘন্টার পর ঘন্টা কাটিয়েছি, কিন্তু একবারের জন্যও খারাপ ব্যবহার করিনি কিংবা গালি দেইনি। হয়তো এই কারনগুলোও পজিটিভ ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করেছে। আর কাকতালীয়ভাবে এতবার পুলিশি হেল্পও আরেকটা অনুঘটক ছিলো মনে হয়।
আপনাকে আমার ব্লগে স্বাগতম।
বিশ্বাষই হচ্ছেনা যে পকেটমার মোবাইল ফেরত দিয়েছিলো। তাও ২০০৪ এ।
আপনার সাহসের তারিফ করি। সেই সাথে এটাও বলি, আপনার ভাগ্য ভালো ছিলো। নাহলে অনেক বিপদই তো হতে পারতো।
লেখকের মন্তব্য
সুরঞ্জনাদি, আমার এখানে একজন পুলিশের কর্মকর্তা ছিলেন। ওনাকে এই ঘটনা বলার পর উনিও বিশ্বাস করতে চাননি। তবে সেই ঘটনা বন্ধু মহলে যারা যারা জানতো তাদের কেউ কেউ আমাকে উচা *** ডাকতো!
ভাগ্য ভালো বলতে পারেন, আর সদিচ্ছা ছিলো। এই দুইটা থাকলে সাহস না থাকলেও ব্যাপারস না!
থ্যংক্স দি, এত বড় একটা পোষ্ট পড়ার জন্য।
প্রথমেই ডুমাডুম ডুমাডুম ভালুবাসা। কেমন আছেন ভাই??
আপনে তো হেভি সাহসী, আফসোস আমার মোবাইল, ক্যামেরা, টাকা সব নিয়া গেলো কিছুই করতে পারলাম না। কেমনে করি কন, ৫ হাতের পাচটা চাপাটির লগে এক খালি হাত কখনো পারে!!
লেখকের মন্তব্য
ভয়ানক ঘটনা! আপনার এই ঘটনা কবে ঘটলো? সেই জন্যই কি ব্লগে নিরুত্তাপ ছিলেন? মনের এখন কি অবস্থা? নাহ রে ভাই কমেন্টগুলা পড়লে বুঝতে পারবেন, সাহস না, অন্য আরো ফ্যাক্টর ছিলো যেটা হেল্প করেছে।
লেখাটা চমৎকার! যথেষ্ট সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। আবার অনেক সময় বেশী সাহসিকতা বিপদের কারণও হতে পারে।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যাবাদ। শুভকামনা রেখে গেলাম!

আপনি বেশ সাহসী এবং ধৈর্য্যশীল!
টিপসগুলো দিয়ে দিন, লেইট কইরেন না।
লেখকের মন্তব্য
টিপস! ওকিজ! আপনি কি নিউমার্কেটে যান নাকি?
সাতে সাত! সাহসের জন্য, ধৈর্যের জন্য, আর সত্য কাহিনী একেবারে গল্পের মত সুন্দর করে শুনাবার জন্য। এমন কাহিনী শুনতে আর জানতে ভালো লাগে, আর ভালো যা লাগে তা প্রিয় অবশ্যই। বাহবা দিই বারেবারে, কামনা করি এই সৎসাহস আজীবন বজায় থাকার।
শুভ কামনা।
লেখকের মন্তব্য
হা হা নাজমুল ভাই। এটা পোষ্ট করার সময় ভেবেছিলাম, সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিবো, মেরিটলেস, বোরিং পোষ্ট দেয়ার জন্য। কিন্তু এরকম ঘটনা সচরাচর ঘটেনা বলে হয়তো সবার ভাল লেগে গেছে। আপনি প্রিয়তে নিয়েছেন দেখে ---- ইন্সপায়ার্ড!
আমার কোনো সাহস নাই
লেখকের মন্তব্য
আপনার সাহস লাগবে না। কি-বোর্ড ঠিক থাকলেই চলবে!

চমৎকার।
কথা অনেক থাকে অবশ্য। তবে দোষ এই সমাজের!
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ উদরাজী ভাই। তবে সব দোষ সমাজকে দিলেন? বিজ্ঞান যে বসে বসে ড্রাগগুলা বানাচ্ছে?
দুর্দান্ত! আসলেই, বাস্তবতা কখনো কখনো গপ্পোকেও ছাড়িয়ে যায়!
লেখকের মন্তব্য
রাইট, সামহোয়ার। সামটাইম! কোন গল্পকার হয়তো এতবার পুলিশি হেল্পের কথা ভাবতে পারতো না। অনেকদিন পরে দেখে ভালো লাগছে শব্দপুঞ্জ ভাই।
সবাই আপনার সাহসিকতার, ধৈর্যের, আত্ম প্রত্যয় এর অনেক জয়গান ইতিমধ্যেই গেয়েছে।
আমি শুধু বলব " কোনকিছু মন থেকে সত্যি চাইলে মনে হয় পাওয়া যায়। কষ্ট হয়, যুদ্ধ করতে হয়, কিন্তু অধিকারে নেয়া যায়।" এই কথা টা অনেক বেশি মনে ধরল।
লেখকের মন্তব্য
বাতাসী, জীবনের সবকিছু মোবাইলের মতো পাওয়া যায় না। মোবাইল তো কথা বলতে পারে না, এটাকে জোর করা যায়, মানুষকে জোর করা যায় না। অনেকদিন পরে দেখলাম। ভালো থাকবেন।
হুম জোর করা যায় না। আর জোর করে যদিও বা পাওয়া যায় সেখানে অধিকার থাকে না, সেটা অর্জন হয় না। মানুষ এর জন্য চেষ্টা করা যায়। ধৈর্য ধরা যায়। অপেক্ষা করা যায়। কিন্তু ঐ যে বলেছেন মন থেকে চাইবার কথা, একটা সময় দেখা যায় আমরা মানুষ নিজ চাওয়াটা কেই সনাক্ত করতে পারি নাহ।
লেখকের মন্তব্য
চমৎকার বলেছেন এই কথাগুলো। মনে হলো কোন সুলিখিত গল্প থেকে উদ্ধৃত।
একটি-আবেগের-মোবাইলীয়-সংস্করন কি অবস্থা!
আমি পড়ছি একটি-আবালের-মোবাইলীয়-সংস্করন
আপনে যে আকামটা করছেন ৮০% কেইসে ব্যাগের বাকি মালগুলিও হাপিস হওয়ার কথা ছিলো। যাই হৌক বাইচা গেছেন গা।
-------
আপনেরে দেইখা ধরেন ৩/৪ বছর পরে একটা কোবতে মনে পইরা গেলোগা
গোল গোল বয়ামে আচার রাখা
আচার দেখে আসে কামনার জিভে জল
লেখকের মন্তব্য
**************************
নাঃ। অকাম না। নিজের মোবাইল, চুরি ত আর করতে যাই নাই। আর যদি নিয়াও যাইতো তাও খারাপ কী? আত্নতৃপ্তি থাকতো চেষ্টা তো করছিলাম। পাই নাই, সেডা অন্য কতা। সো, ঐগুলাও নিতোগা সেডার জন্য ডরাই নাই। ডরাইছি লগের জাহিদের লেইগা। যদি ওর কিছু একটা হইয়া যাইতো।
*****************
হ। ঐ কোবেতেডা আপনের লগে আমিও পড়ছিলাম। টুনটুনঝুনঝুন -----
আমার এত সাহস নাই, হারাইলে মন খারাপ করে গুম মাইরা বইসা থাকি
লেখকের মন্তব্য
হে হে! কি কি হারাইছেন? লিস্টি দ্যান দেখি। তাইলে প্লট আকা যাবে কোনটা কীভাবে ফেরৎ আনা যাবে!

হুম, পদ্ম হইলেন অক্ষণ থিক্কা চতুর ডিটেক্টিভ !!!
লেখকের মন্তব্য
বন্দুক কিন্না দ্যান!
নেন ধরেন
লেখকের মন্তব্য
এডা কি দিলেন? রাব্বী ভাইয়ের জিনিস খুঁজতে কি আমি লিলিপুট পাড়ায় যাবো নাকি? আপনি রাব্বী ভাইরে অপমান করলেন? ছেঃ!
কন কি? এইটা রেডিও ডি-অ্যাক্টিভেটরযুক্ত, মেটাল ডিটেক্টরকে ফাঁকি দেয়ার ক্ষমতা সম্পন্ন, সম্পূর্ণ "বন্ডীয়" পিস্তল!!! এই পিস্তল না পাওয়ার দুঃখে পিয়ার্স বন্ড ছাইড়া দিসে!
লেখকের মন্তব্য
বন্দুক কি আমি গুলি করার জন্য নিমু নাকি? আমি ত নিবো ভয় দেখানোর জন্য। আমাকে ছোট জিনিস দিয়ে অপমান করপেন না। করপেন না। না না না! বুলেট নিয়া একটা পুষ্ট আছে। পইড়া দেখতে পারেন। তবে ঐডা বুঝনের জন্য ছোড একটা পোষ্ট পড়তে হইতে পারে! আমার প্রেমিকারা------তবে এই পোষ্টের সাথে আমার লেখার মিল ছিলো না।
আপনি পাড়ায় যাবেন কেন?
লেখকের মন্তব্য
আপনেরে সাহায্য করতে!

আমি যাই না, ঘরের ছেলে হোস্টেলেই থাকি
লেখকের মন্তব্য
ঘরের ছেলে ঘরে থাকলে জিনিস হারায় ক্যামনে?
আইচ্ছা, নেন, এইটা নেনঃ
হা হা। FB'র মত লাইক দেয়ার option থাকলে ভালো হত। শব্দপুঞ্জের গিফট টাতে একটা like দিতাম।
বলেন কি?? পকেটমাররা ওদের লিঙ্কগুলো বলে দিলো? তবে দেখা যাচ্ছে ওদের customer care আসলেই ভালো (যদি care করে আর কি)। অনেকটা বিদেশের মত। ঠিকমত কথা রেখেছে।
লেখকের মন্তব্য
আপনার পক্ষ থেকে লাইক দিয়ে দিলাম। এখানে ভোট আপ অপশান আছে। ক্লিক করে দিতে পারেন। শব্দপুন্জ ভাইয়ের লাস্ট গিফট পেয়ে একই সাথে আনন্দিত ও বাক্যহারা হয়ে গিয়েছিলাম।
উত্তর দিবো করেও দেয়া হয়নি তখন।
---------------
হে হে, সে এক বিশাল ঘটনা! বাসায় এতকিছু জানলে খবরই ছিলো।
আপনার লাস্ট ২ টা পোস্ট এত লম্বা কেনু ????
লেখকের মন্তব্য
কারন লাস্টের দুইটা পোষ্টে বাক্যসংখ্যা বেশী!

এই পোষ্টে আগে পড়ি নাই কেনু?
পুরাই ঝাঁ ঝাঁ হইসে।
লেখকের মন্তব্য
চোখে ছানি পড়ছিলো, এইজন্যই আগে দেখেন নাই।
মন্তব্য করুন