পদ্ম -এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

১.
খুব সকালে টুং টাং করে বাজতে বাজতে বেওয়ারিশ কুকুরের মতো রিক্সাগুলো হনহন করে সামনে দিয়ে ছুটে যায়, কোনদিকে তাকায় না। সকাল ছয়টার শহরটাতে এলোমেলো করে, ওদের মত করে হনহন করে ছুটতে ইচ্ছে করে। এনাটমী ফার্মাকোলজি ছেড়ে এই ঘুম ঘুম শহরে একা একা নতুন জামা পড়ে শহরের বড় বড় দালানগুলো থেকে শুরু করে পাটাতনে কুড়িয়ে পাওয়া কঙ্কনগুলোকেও নিজের উদ্দামতা দেখাতে ইচ্ছে করে। কাল যারা মাঝরাতে দেরী করে বাড়ী ফিরে এসেছে, ছুটির দিন ভেবে যারা এই মুহুর্তে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে গায়ের লেপ টেনে আড়মোরা ভেঙে নিজের ছায়াসঙ্গীকে জড়িয়ে ধরে ঘুমটাকে আরো গভীরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, হয়ত ঘুমের আরো গভীরে গিয়ে তারাও আমার জেগে থেকে দেখা স্বপ্নটার মতো বাঁধনহারা হতে চাইছে। রিক্সাস্ট্যান্ডে যে খালা একটু পরে চিতই পিঠার সাথে শুটকী আর ধনে পাতার ভর্তা নিয়ে বিক্রি করতে বসবেন, তিনিও হয়ত ধনে পাতা পাটাতে পিষতে পিষতে মনের অজান্তে তার শৈশবের শীতের সকালে শিশির মাড়ানো খালের পাড়ের ধানের বীজতলার উপর জমে থাকা বিন্দু বিন্দু শিশির বোতলে ভরে ঘরে তুলে আনার কথা চিন্তা করছেন কিংবা গম, সরিষা ক্ষেতের ভিতর থেকে ছোট ছোট শাক তোলার কথা ভাবছেন। ছোট বড় ব্যস্ত কর্মহীন সবার মন ছুটির দিনটাতে একটু অপরিচিত হয়ে উঠে।
২.
নাহ, কোন পরিবর্তন নেই, সামনে দিয়ে রিক্সাগুলো দৌড়েই যাচ্ছে, কেউ এসে আমার জন্য থামছে না। একটি রিক্সায় একটি শিশু তার বাবার কোলে বসে একটি ক্রীম রোলে কামড় দেয়ার চেষ্টা করছে। শিশুটির ঠোঁটের চারপাশে শাদা ক্রীম লেপ্টে আছে। পাশের সিট খালী রেখে বাবাদের কোলে বসে আদর নেয়ার সময়টুকু পেরিয়ে গেলেও মনে এর দাগ কেটে আছে। ছোট থাকাকালীন হরতালের দিনগুলোতে শত শত পিকেটারের 'জয়বাংলা কিংবা জ্বালিয়ে দাও পুড়িয়ে দাও' মিছিলের ভীড়ে বাবা আমাদের নিয়ে রিক্সায় করে আমাদের মতিঝিল এজিবি কলোনী থেকে মহাখালী, বনানী হয়ে ক্ষিলক্ষেতে মরণচাঁদ মিষ্টান্ন ভান্ডারে নিয়ে রুটি আর বাদামী রঙের হালুয়া মুখে তুলে দিতে দিতে রাজনীতি আর সমাজনীতির গল্প শুনাতেন। আমি আর "ছুটকো' পালাক্রমে বাবার কোলে বসতাম। ছুটকো প্রতি হরতালের আগে নতুন জামা চাইতো বাবার কাছে, পরদিন নতুন জামা পরে ঘুরতে যাবে। সপ্তাহে প্রায় সাতদিন টিউশানি করা বাবার কাছে হরতালের দিনটি তার সন্তানদের মতোই আনন্দের ছিল। একদিন ছুটকো'র টি-শার্টের "Oh, Dear! Love is very painful." লেখা থেকে সারা শহরময় রিক্সাঘুর্ণি তিনজনকে বলয় করে জাহানারা ইমাম, ম্যাক্সিম গোর্কি, শ্রীমদ ভাগবত গীতা, মুক্তিযুদ্ধের গল্পগুলো বাবল হয়ে উড়ছিলো। বাবা একটা একটা করে বাবল ফুলাচ্ছিলেন, আমি আর ছুটকো একটা একটা আঙুলে ছুঁয়ে সেগুলোর কোমলতা অনুভব করছিলাম। ম্যাক্সিম গোর্কি, কৃষ্ণ, অর্জুন, পান্ডব ঘুরে ঘুরে গল্পে যখন একজন মুক্তিযোদ্ধার মায়ের দিনের পর দিন না খেয়ে অপেক্ষা করছিলেন, তার সন্তানকে খাইয়ে তিনি নিজে খাবেন, দিন ফুরোয়, শক্তি ফুরোয়, একদিন ছেলেটির আসার সময় হয়, কিন্তু ছেলে আসেনি, এসেছিলো মায়ের একমাত্র অবলম্বন ছেলেটির গুলিবিদ্ধ লাশ, সেই গল্প শুনে সেই মায়ের কষ্টের প্লাবন আমার আর ছুটকোর বুকের ভিতর দলা হয়ে আটকে আসছিলো, আটকে যাওয়া দলাগুলো দু'জনের চোখে ফোয়ারা হয়ে সেই টি-শার্টেই জমা হচ্ছিলো। ফোয়ারাদের দর্শনার্থী বাবাও স্যাঁতস্যাঁতে হৃদয়ে তার সন্তানদের অসহায় অনুভুতি নিয়ে দেখছিলেন কিন্তু কোনরুপ সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করেননি। সেদিন আমরা আর মরণচাঁদ পর্যন্ত যাইনি। বাবার কোলে বসা নিয়েও কোন প্রতিযোগীতা করিনি। তিনজন ভিন্ন বয়সী মানুষ যেন একটি জায়গায় এসে মিশে ছিলো। সারা রাস্তা কোন কথা না বলা মানুষগুলো স্মৃতিতে একাত্তর নিয়ে পিকেটারদের 'জয়বাংলা' শ্লোগান পাথর চোখে দেখছিলো। পাশাপাশি তিনজন যাত্রী একটা সঙ্গীন নীরবতাকে নিয়ে সেদিন বাসায় ফিরেছিলাম।
৩.
ধুর, কি হতো! একটু এগিয়ে গেলেই মনে হয় ভাল হতো। এখানে আরো বিশ মিনিট দাড়ালেও খালী রিক্সা পাওয়া যাবে বলে মনে হচ্ছে না। বাড়ীর গেইটের পাশে দাঁড়ালে একটা আরামবোধ কাজ করে আর এ আরামবোধপূর্বক অলসতার সাথে অন্যমনস্ক বিভোর মুখমণ্ডল নিয়ে দাঁড়ালেও কেউ তৃতীয় চোখে তাকাবে না। ছুটির দিনে সাদমানী ম্যাডামের ফার্মাকোলোজি ক্লাসের সেল রেগুলাশানের চেয়ে এই মুহুর্তে ঢাকা শহরের রিক্সা রেগুলেশানে নিজেকে কন্ট্রোলার বানানোটা বেশী গুরুত্বপূর্ণ মনে হচ্ছে। এতক্ষন হয়ে গেল অথচ এখনো একটা যাওয়ার একটা বন্দোবস্ত করতে পারছি না। নাকি রিক্সার পিছনে রিক্সা হয়ে দৌড় শুরু করবো? যদি কেউ এসে যাত্রী হয়ে ভিতরে পায়ের উপর পা তুলে বসতে চায়? এমন ভাবনায় দোল শুরু হওয়ার সময়ই একটি খালী রিক্সা। আরো ছয়-সাতটি রিক্সার সাথে প্রতিযোগীতা করে অনবরত ক্রিং ক্রিং ক্রিং বেল বাজিয়ে ওর সামনের রিক্সাগুলোকে টিজ করতে করতে যাচ্ছে।
-এই খালী, ঢাকা মেডিক্যাল যাবে?
আমার এই কথার কোন ভ্রুক্ষেপ না করে সিট থেকে উঠে কোমর নেড়ে নেড়ে হর্স পাওয়ার বাড়িয়ে দিয়ে হনহন করে চলে যাচ্ছে।
এই দ্রুতগতির রিক্সাগুলো আমার এক বান্ধবীর কথা মনে করিয়ে দিলো। বেবী নামে আমার একটা বান্ধবী ছিল, ছিল মানে এখন আর নেই। বিয়ের দ্বিতীয় মাসে যেদিন ও ওর হাসব্যান্ডসহ হানিমুনে যাচ্ছিলো সেদিন দাউদকান্দির বিশ্বরোডের পরে শহীদনগর নামক জায়গায় সদ্য বিবাহিত দু'টি অযুত সুখ ও স্বপ্নের আধারকে নিয়ে চলা শাদা প্রাইভেটকারটির উপর দিয়ে একটি ট্রাক উঠে গিয়েছিলো। আমাদের বেবীকে নিয়ে ওর হাসব্যাণ্ড অপার্থিব কোথাও স্থায়ী মধুচন্দ্রিমায় জায়গা করে নিয়েছে। কলেজ লাইফের পরে এই বেবীকে নিয়ে যেখানেই রিক্সায় উঠতাম না কেন, রিক্সাওয়ালাদের শত বারণ সত্বেও আস্তে চালাতো না। বেবীর স্নিগ্ধতার বর্ননা উপমায় সাজালে হয়ত আরো একটি শেষের কবিতা লেখা যেতো। আর ওকে দেখেই হয়তো রিক্সার গতি বেড়ে যেতো, সেটা পুরনো ঢাকায় আহসান মন্জিলের কাছে সরু গলিতে হোক কিংবা উত্তরার সাত নাম্বারের লেকের পাড়ের সুবিশাল প্রসস্ত রোডে। যেকোন জায়গায় আমাদের খিল খিল গুঞ্জরন, খুঁনসুটি একটি নির্দ্দিষ্ট চায়ের দোকানে গিয়ে শেষ হতো। রিক্সাভ্রমণ শেষে সকাল-বিকাল যেকোন সময়েই হোক না কেন, ফেনা ওঠা ডিম-চা পান মানে ছিলো আমাদের সেদিনের যাত্রার সমাপ্তি। কথিত আছে কিছু কিছু দোকানে চায়ের সাথে ডিমের সাদা অংশটুকু মিশানো হয়। এটা ওর কাছ থেকেই শোনা।
৪.
আরো বিশ মিনিট, খালী রিক্সা পাওয়া হয়নি, এখনও বাড়ীর গেইটে স্থির দাঁড়িয়ে। পক্ষান্তরে, মৌন মনের ছায়াকোনের কোথাও ছুটোছুটি বেড়েই চলছে। সামনে এগুলে স্ট্যান্ডে গেলে রিক্সা পাওয়া যাবে। সামনে হাঁটা শুরু করতেই হেলে দুলে বয়স্কমত একজন এলো। হাত দিয়ে ইশারা করতেই কোন প্রশ্ন না করে থামিয়ে দিলো।
-উঠেন। কৈ যাইবেন?
-ঢাকা মেডিক্যাল।
কলেজে যেতে মন টানছে না। দাঁড়িয়ে থেকে থেকে মনের সকল বক্সগুলোর রঙ খালী হয়ে গেছে। আর যেগুলোতে কিছু বাকী ছিলো সেগুলো হয়ে গেছে বিবর্ণ। এ কেমন! এক ঝাঁপ, দিলো টান, সুতোছেঁড়া ঘুড়ির বাণ। হঠাৎ করেই অযাচিত মনে হতে শুরু করা, হাতে রাখা মোটা ফার্মাকোলজিকে রেখে অচেনা কোথাও যেতে ইচ্ছে করছে। ইচ্ছে করছে হয়ে যাই নাটাইবিহীন।
-মামা, রিক্সা ঘুরান। যেখান থেকে উঠেছি সেখানে যান।
রিক্সাওয়ালা আগের জায়গায় এসে নামিয়ে দিয়ে বাইরে অপেক্ষা করছে। ডিং ডং বেইল চাপতেই চোখ কচলাতে কচলাতে মা দরজা খুলে দিলো। হাতের বইগুলো রেখে ভায়োলিনটা সাথে নিয়ে পুনরায় রিক্সায় বসে, "মামা, ধানমণ্ডি চলুন"। শৈশবের দিনে আমার আর ছুটকো'র কথাগুলো ভাবতে ভাবতে, বেবী আরো বেঁচে থাকলে কোথায় কোথায় ঘুরতে যেতাম সেগুলোর কল্পনা করতে করতে, জীবনের বাঁধাধরা সময়গুলোর পরিকল্পনায় খাতায় কাঁটাকুটি কাঁটাকুটি খেলতে খেলতে, একটু তৃষ্ণার জল খোঁজার উদ্দেশ্যে আজ গন্তব্যহীন হতে ইচ্ছে করছে। বিকেলে ভায়োলিন ক্লাসের আগ পর্যন্ত আজ লেকের পাড়ে কাটাতে ইচ্ছে করছে।
৫.
মৌনব্রতগুলো ক্ষয়ে যাওয়া মেহেদী পাতার মতো, আস্তরগুলো খসে পড়ে, তবুও ইচ্ছেগুলো করতলে লাল ফোটা হয়ে দিব্যি জেগে থাকে; পাহারা দেয় তার আদি অস্তিত্ব।
মন্তব্য
শুভ সকাল ভাইয়া।
আমি কি প্রথম???
লেখকের মন্তব্য
শুভ সকাল করিম। প্রথম হওয়ার জন্য
ভাই এই ঠাণ্ডাই চা বা কফি হলে ভালো হতো।
নেন।
লেখকের মন্তব্য
অসাধারণ লেখনী একটানে পড়ে ফেললাম। কোথাও একটি বারের জন্য অস্বস্তি অনুভব হয়নি।
আমার কাছে এটাই একজন লেখকের সবচাইতে বড় গুন।
তাই ভালোলাগাই মন ছুঁয়ে গেলো।
ধন্যবাদ ।
লেখকের মন্তব্য
জেনে ভাল লাগলো। নিয়মিত পাঠের জন্য কৃতজ্ঞতা জানবেন।
পড়তে চমৎকার লেগেছে
আসলেই
লেখকের মন্তব্য
==========================
প্রশ্নের উত্তর তো দিলেন না? গল্পটা কার? কার চোখে দেখলেন? ছেলের না মেয়ের?
পদ্ম ভাই, আপনার লেখায় ব্যবহৃত ছোট ছোট কিছু শব্দ আর উপমা আপনার লেখার স্নিগ্ধতা বাড়িয়ে দেয়, পাঠকের হৃদয়ও ছুঁয়ে দেয়।
সুন্দর এলেবেলে স্মৃতিচারণ মূলক লেখাটি বেশ লাগলো। ইচ্ছে করছে আমিও হয়ে যাই আপনার মতো নাটাইবিহীন ।
লেখকের মন্তব্য
মাহমুদ ভাই ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। রাস্তায় রিক্সার জন্য কিংবা স্টেশনে অপেক্ষমানের মনের ভিতর উঠে আসা গল্পগুলোকে স্মৃতিগুলোকে একত্রিত করে দেখাতে চেষ্টা করেছি।
আপনি সাধারন ঘটনা গুলো কে এত অসাধারন ভাবে উপস্থাপন করেছেন!!!
আমার কাছে ঘটনার চে গুরুত্বপূর্ণ শব্দচয়ন , ভাষার গভিরতা আর narrative style.
আপনি দুর্দান্ত লিখেছেন।
আপনার আর লেখা পড়বো।
ভাল থাকুন
লেখকের মন্তব্য
আপনার মন্তব্যে অত্যন্ত খুশী। আমি মনের খেয়ালে লিখি আসলে। কোন গ্রামার ভাষা আমার অজানা। যখন যেমন তখন তেমন। তবে আপনার এত ভাল লেগেছে দেখে ভীষন আশাবাদী হতে ইচ্ছে করছে, যদি কোনদিন ভাল কিছু লিখে ফেলতে পারি!
আর আরো লেখা পড়বেন শুনে একটু হঠাৎ হাত থেকে কাপ পড়ে যাওয়ার মতো ঘটনা মনে হয়েছে। পড়তে পারেন, তবে হতাশ হলে আমার দোষ নেই। হে হে।
আপনিও ভাল থাকুন।
মনের সকল বক্সগুলোর রঙ খালী হয়ে গেছে। আর যেগুলোতে কিছু বাকী ছিলো সেগুলো হয়ে গেছে বিবর্ণ। এ কেমন! এক ঝাঁপ, দিলো টান, সুতোছেঁড়া ঘুড়ির বাণ। হঠাৎ করেই অযাচিত মনে হতে শুরু করা, হাতে রাখা মোটা ফার্মাকোলজিকে রেখে অচেনা কোথাও যেতে ইচ্ছে করছে। ইচ্ছে করছে হয়ে যাই নাটাইবিহীন।
দারুন লাগলো ।
অসাধারন। হৃদয় ছুঁয়ে গেল
লেখকের মন্তব্য
একটা সৎ গল্প হয়তোবা এভাবেই হয়। আমি চিত্রগুলোতে মগ্ন হয়ে দেখলাম- । লেখক নিজেকে প্রথমকার কল্পনায় (স্মৃতিচারণে) বাবা আর ছোটকো'র সাথে জড়িয়ে রেখেছিলেন খুব শক্তভাবেই। পরবর্তী মুহূর্তে বেবী আসার সাথে সাথে লেখক তৃতীয় মানুষ তথা নিছক বর্ণনাকারী হতে হতে হলেন না। এই জিনিসটা বেশ লাগলো। বর্ণনা ভঙ্গীটা অসাধারণ। বলার কিচ্ছু নাই।
-----------------------------------------------------------------------------------------------
স্যালুটযোগ্য লাইন। স্যালুট।
-----------------------------------------------------------------------------------------------
গল্পটা আরো বিস্তৃতি পাবে এই অনুরোধ লেখকের কাছে। কোন একসময় এটা আরো বড় হোক।
লেখকের মন্তব্য
হালিম ভাই, আপনার সুনিবিড় ও বিচক্ষন পর্যালোচনা থেকে নিজের লেখাই নিজে নতুনভাবে আবিষ্কার করলাম। তবে বেবীর ঘটনাটি সত্যি। ২০০৮ সালের মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে দাউদকান্দির ঐ জায়গাটাতে রোড এক্সিডেন্টে ওদের গাড়ীটা প্রায় রাস্তার সাথে মিশে গিয়েছিল। আর ওর পুরো নাম ছিলো সাদমানী শহীদ বেবী। আগামী পাঁচই জানুয়ারী ওর জন্মদিন। ওর কথা পরে কোথাও লিখার ইচ্ছে আছে। ওর যেদিন চা খেতে ইচ্ছে করতো, ফোন করতো-- "তুমি কোথায়?" আমি বাসায় থাকলে উত্তরাতে কোন চায়ের দোকানে গিয়ে চা খেতাম। আমরা কেউ-ই আসলে রেগুলারলি চা খাই না। তাই, আমাদের কাছে চা খাওয়া একটা ঘটা করে মনে রাখার দিনের মতোই ছিলো। ও আমাদের কথাগুলোর মধ্যে বেঁচে থাকুক। আমার দেখা অন্যতম ভাল একজন মেয়ে ও ভাল একজন মানুষ। এটা শুধু আমার কিংবা আমাদের কথা না, ওর পরিবারের সবাই বলে যে ও একটু অন্যরকম।
চমত্কার লাগলো।
অট: পাহাড়া'টা পাহারা হবে মনে হয়।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ ভাই। বানান ঠিক করে নিচ্ছি। বানানের জন্য অটো কৃতজ্ঞতা বহাল থাকলো। যখনই পাবেন, নির্বিঘ্নে জানানোর অনুরোধ থাকলো।
আমি অপেক্ষা করি ওই দিনের যেদিন আপনি রিকশা থেকে নেমে বলবেন ''ওই মিয়া তুমি কই? আমি তো ধানমন্ডি''
লেখকের মন্তব্য
আসবে, এমন দিন নিশ্চয়ই আসবে।
আহ ক্রিম রোল!
পড়ে এখন খেতে ইচ্ছে করছে
লেখকের মন্তব্য
আমারও।
অনেকদিন পর ব্লগে ঢুকলাম,অনেকদিন পর আপনার নতুন লেখা পড়লাম।

বেশি কথা না বলে শুধু বলি,ফিরে আসা তৃপ্ত হল আমার। পদ্ম দাদা awsome.
লেখকের মন্তব্য
ভাল লাগলো আপনাকে দেখেও। কথা হবে আবারো। শুভেচ্ছা।
বেবীর গাড়ীর ছবিটা মুছে দেয়া যায়? দেখতে কষ্ট হয়......
লেখকের মন্তব্য
সময় বয়ে যায়। কিছু জিনিস টেনে নিয়ে আসে। পৃথিবীর সবাই ভাল থাকুক। সবাই।
পদ্ম ভাইয়া, আপনি তো বাচাল লিস্টে ঢুকে গেছেন। আপনাকে অভিনন্দন
লেখকের মন্তব্য
ক্যাম্নে কী? এডা বিরোধী দলের ষড়যন্ত্র।
''মৌনব্রতগুলো ক্ষয়ে যাওয়া মেহেদী পাতার মতো, আস্তরগুলো খসে পড়ে, তবুও ইচ্ছেগুলো করতলে লাল ফোটা হয়ে দিব্যি জেগে থাকে; পাহারা দেয় তার আদি অস্তিত্ব।'' অনেক সুন্দর।ভাল লেগেছে খুব।
ভাল থাকবেন
লেখকের মন্তব্য
স্বাগতম হীরা। ধন্যবাদ। আপনিও ভাল থাকুন।
একটা রিকশার জন্য অপেক্ষা, আপাত তুচ্ছ একটা ঘটনার সূক্ষ্ণ বর্ণনা , , , পড়ে বেশ আরাম পেলাম
লেখকের মন্তব্য
আপনার উপস্থিতি ভাল্লাগলো, একটা আবেগমাখা পোষ্ট দেন ত, পড়ি। ম্যাক্সিমাম লোক আবেগ চাইছা চাইছা ফালাইয়া পোষ্ট দেয়, এডা আমার কাছে মাঝে মাঝে বিস্বাদ লাগে, আবেগ ছাড়া টেস কই কন? পোষ্ট দিবেন কিন্তুক, হ্যা!
আপ্নেও হোমওয়ার্ক দিতাছেন!
(
লেখকের মন্তব্য
আপনার লেখায় কমেন্ট করা আমার কাজ নয়। পারবো না।।। এইধরনের লিখা বার বার পড়ে বুঝতে হয়। শব্দ ও বাক্যের গঠন বুঝতে সময়ের প্রয়োজন। এটাই হয়ত সাহিত্য।
অসাধারণ।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ উদরাজী ভাই। আশীর্বাদ মাথায় তুলে রাখলাম।
সব ব্লগারের জীবনেই কি একটা করে করুণ ঘটনা আছে?
----------------------------
পোস্টে তথ্য-জ্ঞান-সাহিত্যমান-শব্দচয়নের মুনশীয়ানার চেয়ে ব্লগারের আবেগ-দর্শন-বিশ্লেষণ-সেন্স অফ হিউমার-সহনশীলতা আমাকে টানে বেশী।
(পুরাই অফ টপিক কমেন্ট)
লেখকের মন্তব্য
আমারও মনে হয় তাই। খুব কমই আছে বেদনাহীনতায় ব্লগাতিপাত-এ মনোনিবেশ করেছে। যদি মুহিতের মত বয়সী না হয়।

নির্দ্বিধায় কইয়া ফালান। 
=========
ব্লগারের আবেগ-দর্শন-বিশ্লেষণ-সেন্স অফ হিউমার-সহনশীলতা আমিও বেশী প্রাধান্য দেই। তবে শব্দচয়নও আসলে গুরুত্বপুর্ণ। তবে মূল কথা হলো এরকম, এতরকম পাঠক ভেরিয়েশান আছে বলেই একজন লেখক গড়ে ওঠার জন্য ব্লগ একটি অনন্য প্ল্যাটফর্ম হতে পারে। কারন এখানেও সরাসরি প্রতিক্রিয়ায় লেখক/পাঠক উপকৃত হয়। তবে যদি উনি সিসলাম হন, কোন কথাই কানে নিবেন না।
-------------------
ধন্যবাদ পাঠের জন্য। লেখা কেমন হইছে কইবেন না?
লেখা ভালো না লাগলে কি আর ৭ দেই? বেবীর ঘটনা পড়ে মনে খারাপ হৈসে।
লেখকের মন্তব্য
ওহ! স্যরি। রেটিং এ খেয়াল করিনি। হুম, বেবী। ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। যাক, এখন পোষ্টও দেয়া যাবে নির্দ্বিধায়!
আপনার একটা পোস্টে কমেন্ট করতে চাই বড় দেখে। ঐ যে শাপলাকে দাওয়াত দিয়া নিয়া গেসিলেন।
লেখকের মন্তব্য
হুম। খুব খুশী হবো। প্লিজ। ঐ পোষ্টটা নিয়ে আসলে আমার খুব আগ্রহ। অনেক অনেক থ্যাঙ্কস।
abar porlam. jotobar pori purano hoyna. tai ..... priyote nilam.
valo thakun dada.
apnar lekha comment sobkichui darunnnnnn
লেখকের মন্তব্য
সাকিবা, এভাবে বললে আসলে লজ্জায় পড়ে যাই। আসলে আমি দুষ্টামী পছন্দ করি। বৈদেশবাসী হওয়ার কারনে এই দুষ্টামীর প্রায় পুরোটা চতুরেই হয়ে যাচ্ছে আর আপনাদের প্রশ্রয়ে সেটা ডিজিটাল অলিগলি বেয়ে কমেন্টে উঠে আসছে। কৃতজ্ঞতা। আপনিও ভাল থাকুন।
lekhata kintu purai serious.দুষ্টামী na.
valo ke valo bolbona !!!! eta ki kotha? lojja pele korar kichu nai.
দুষ্টামী choluk obiroto. tar shathe serious lekhao . valo thakun.
লেখকের মন্তব্য
নাহ, আপনি যে সিরিয়াসলি বলেছেন সেটা বুঝেছি। মনমতো খোলামেলা সময় পেলে খুব ভালো হতো, সবার লেখা মন খোলে পড়া যেত। কত রকমের ফিল্টার করে যে পোষ্ট পড়ি, আমি জানি।
দোয়া করবেন। আপনিও ভাল থাকুন।
বহুব্রীহির পোষ্টে একটা লেখার লিংক দিয়েছিলেন না আপনি? ওটা পড়তেই আপনার ব্লগবাড়িতে হানা দেয়া। কিন্তু পড়ে ফেললাম এই লেখাটা। আপনার লেখা নিয়ে কিছু নাই বলি। আমিও উদরাজীভাইয়ের দলের মানুষ। কাকতলীয় ব্যাপার যেটা সেটা হলো বেবী নামের আমার এক কাজিন এক্সিডেন্টেই মারা যান। তখন আমি বেশ ছোট। আপনার এখানে তেমন ঘটনা পড়ে সেই স্মৃতি মনে পড়ে গেলো।
এমনটা হলে কী হয় জানেন? পাঠক গল্পের আসল মজাটাই নিতে পারে না সেভাবে( আমার যেমনটা হয়েছে
) না বলছিনা আমি এটার মজাটা নিতে ব্যর্থ হয়েছি। নিয়েছি বেশ করেই নিয়েছি। কিন্তু আমারে ডাবল সময় ব্যয় করতে হয়েছে।(মিয়া আমার সময়ের মূল্য নাইনি
) হাহাহা,,,,,,আরে বাবা! এতোটা অধৈর্য্য হলে চালে নাকি? ঠিকাছে বলছি, কেনো আমার মনে হলো লেখাটা একটা মেয়ের গল্প।
-----------------------------------------------------------------------------------------------------------
গল্পটা কার? হুমমম আমার কেন জানি মনে হচ্ছে গল্পটা একটা মেয়ের। কারণ কি? আছে বলছি ধৈর্য্য ধরেন। তার আগে বলেন ট্যাগে গল্পটি কার এটা বলার কারণটা কী? পাঠককে গভীর দ্বন্দ্বে ফেলা কেনু রে ভাই
মেয়ের গল্প কারণ এখানে ভাবনার মধ্যে দারুণ শান্ত-স্হির একটা ভাব আছে। সাধারণত মেয়েরা এমন ধীর স্হির ভাবেই ভাবনায় ডুবে যায়(ছেলেরা যায় না তা কিন্তু না) । ছেলে
লেখকের মন্তব্য
ওরে তাই নাকি?
স্যরি ফর দ্যাট। হে হে এরপর থেকে এইরকম পাকনামী করার চেষ্টা করবো না। প্রমিস (প্রতিজ্ঞা করাই হয়, প্রতিজ্ঞা ভাঙার জন্য
)

-------------------
আরেক জনের কান্দে বন্দুক দিয়া গল্প নিয়া পাশ কাটাইয়া যাওয়ার জন্ন (বানাম সত্ত আপনের) নিন্দাগ্যাপন। নিন্দা করছি শরম পান।
-----------
ট্যাগে কি দেখেন? কই আমি ত কিছু দেখি না।
পদ্মাপুউউউউউউ এরাম ভাবে আমারে বিব্রত এবং বেকায়দায় ফেলার মানেটা কী
ট্যাগে গল্প' লিখার পরেরটুকু মুছে আপনি আমারে কিরাম শৃঙ্খলে ফেলছেন কনদি। এখন যে কেউ আইস্যা বাতিঘররে ঝামা ঘঁষে গেলে এর দায়ভার কে নিবে কে? কে? কে?(আকাশ বাতাস কাঁপাইয়া ইকু হপে) আরে নাহ আমার হুদাই প্যাচালে মনরে যোগ করার কোনোই কারণ দেখিনা।
পাকনী আমিই করছি। এত্তোজন পড়ছেন কেউ কিছু কইছেন? তাইলে? বিন্দাস থাকেন,,,,,,,,,,,,,,,
হুম বুঝচ্ছি। আমিই প্যাচটা লাগাইছি। গপটা আপনি ঠিকই লেখছেন আপুমণি। শরমাইতেই হয় আমারে
ভাবনার ঘরে কাঁটাতারের বেড়া তুলে দেবার আমি কেডা রে! কুন কিতাবে লিখা আছে, ছয়মাস আগের দেয়া লেখায় নয়মাস পরে মন্তব্য করা যাবে না
?? আপনারে বুঝতে হপে, এটি কোনো কারেন্ট ইস্যু নয়---এটি গল্প যার আবেদন চিরায়ত,,,,,,হেহেহেহে ,,,আবার পাকনামী 
নতুন লেখা না দিলে ১৯৩২ সালের লিখা তুলে আনা হবে এ আমি কয়া গেলামমমমমম
লিঙ্কুর জন্ন ব্যাপক থ্যাঙ্কু। ভালো থাকেন গো।
আমি খুবই খ্রাপ পাঠক গো কি আর করবেন ক্ষমা ঘেন্না করা হউক
লেখকের মন্তব্য
হে হে, হ, লেখা থাকবে না কেনে? নয়মাস পরে করলে চার্জ বেশী পড়ে। হু, পাকনামী গিন্না করি। এখন এডার বিচার কি আর কে করবে?
এখানে যদি একটা ছেলে থাকতো অপেক্ষার এই দীর্ঘ সময়ে সে অবশ্যই বিড়ি খেতো। তার কাছে না থাকলে খাওয়ার জন্য অস্হির হতো।
হেহেহেহে,,,জানিই হুদাই প্যাচাইলাম এট্টু। যাতে ভাবেন, আরি! বাতিঘর তো ব্যাপক ঘ্যানী হেহেহে,,,,,,
রিক্সা পাচ্ছে না বলে থম ধরে দাঁড়িয়ে থাকাটা একজন ছেলের জন্য একটু বেশিই বিরক্তির। কিন্তু মেয়েরা এট্টু বেশি ধৈর্য্যশীল এব্যাপারে।
ক। ছেলে হলে ধুর ছাতার বলে লম্বা লম্বা পা ফেলে হাঁটা দিতো। মেহেদীর উপমাটা মেয়েদের মনেই বেশি আসাটা স্বাভাবিক। তারপর রঙের বাক্সের রঙ হারানোর ব্যাপারটাও মেয়েদের ভাবনায় আসে বেশি(আমার মতে),,,,,,,ইত্যাদি ব্রিরাট ইতিহাস মিয়াভাই,,,,,,,,এখন কন আমি ফেল্টু খাইছি
আপনার যে লেখাটা পড়তে আসছিলাম সেটা কই? ,,,,,,,এট্টু পড়ার আগ্রহ হইছে। যদি বলতেন দয়া করে বাধিত হইতাম ভাই। ব্যাপক বকবকাইলাম ,,,,,ভালো থাকা হোক।
লেখকের মন্তব্য
-----------
মনের কথা হইলো, আসলে চাইছিলাম ইমোকিটকনের মত একটা গপ লেখনের। আই মিন, ধরেন ইয়াহু ইমো, একই ইমু পোলারাও দেয়, মেয়েরাও। সেরম কিছু আর কী। বুজজেননি।
==========
গল্প দিছি ছয়মাস আগে। নয়মাস পর আইসা কমেন্ট প্রদান?
---------
থ্যান্কু। থ্যান্কু।
---------
ওহ, লিন্কাইতেই ত ভুইলা গেছিলাম। নেন: ক্লিক
আবার দেখে গেলাম। অনেক দিন হয়েছে এবার।
লেখকের মন্তব্য
থ্যাঙ্কস উদরাজী ভাই। আপনি ফিরেছেন দেখে ভাল লাগছে।
সেরাম লিখিয়াছুন
লেখকের মন্তব্য
জোরছে চলেন, হইয়ো।
---------------
উপমা, কাহিনী বিন্যাস, বর্ণনা- এক কথায় 'অসাধারণ'। লেখাটিকে প্রিয়তে নিলাম বার বার পড়বো বলে।
---------------
অঃটঃ নতুন লেখা কই?
লেখকের মন্তব্য
হেহে, তখন স্ট্যাটাসে কমেন্ট করার সময় বলতে চাইছিলাম, পোষ্ট পড়লে কিন্তু প্রিয়তে নিতে হপে, ওমা, আইসা দেখি, শয়তানী করার সুযোগ হাতছাড়া।
থ্যাঙ্কস এ লট। সময় সুযোগ সব নাই হয়ে গেছে। এজন্য নতুন কিছুতে আসা ঝামেলা। ভাল থাকবেন।
মন্তব্য করুন