পাপতাড়ুয়া-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

১.
কাঁপছে তালগাছ। পাতার কার্ণিশে বাবুই পাখি রা সব ঘুম আর ঠোঁট ভর্তি ঘুমের মদ নিয়ে ওপাড়ার শামসুন নাহার গাছের শেকড়ে। মাটির গভীরে ঢুকে পড়ছে শামসুন নাহারের পা আর সড়সড় টেনে নিচ্ছে নির্যাস। শামসুন নাহার এখন একটা বৃক্ষ আর একটা রাতজাগা প্যাঁচা উড়ে আসে তার চুলের আঙিনায়।
২.
কোলাব্যাঙের পিঠে চাপ দিলে সে চ্যাপ্টা হয়ে যায়। সুজন আজ ইশকুলে যায় নি। আজ সে কোলাব্যাঙের পিঠে চাপ দেয়ার পরীক্ষা খেলছে। সুজনের বয়স এখন এগারো। গ্রামে জন্ম আর গারো বছর বয়সে কোলাব্যাঙের পিঠে চাপ দেয় নি, এরকম টা ঈমান থাকুক তো কেউ বুকে হাত দিয়ে বলুক,সুজন কান কেটে ফেলবে!
৩.
আমিনদ্দি কাঁচামরিচ দিয়া আর পিয়াজ দিয়া পান্তা কচলায়। একটা গ্রাস মুখে গুঁজে বউয়ের দিকে তাকায়। বউটার শরীর ভরা। আমিনদ্দি মুখের ভেতর গোটা মরিচ ঢুকিয়ে দেয়।
বউটা মুখে আঁচল চাপা দিয়ে বলে, আপনের লইজ্জা নাই!
৪.
মেয়েটি দৌড়াচ্ছে!
সামনে নয়। পেছনের দিকে।
৫.
শামসুন নাহারের হাতে এখন প্যাচা টার পালক আর চোখে কাঠপিঁপড়া। বুকের উপর তালগাছ। আমাদের শামসুন নাহারের আধিভৌতিক রুপান্তর ঘটছে!
৬.
কোলাব্যাঙ টা মারা গেছে। তার জন্য কবর খোঁড়া হচ্ছে। সুজনই গোরখোদক। কোলাব্যাঙের জানাজা হবে।
৭.
কলের পাড়ে আমিনদ্দির বউটা থালাবাসন ধুতে বসে। শান্তি নেই। ঘরের ভেতর থেকে আমিনদ্দির ডাক। চিরুনীটা কই?
বউ ছুটে গিয়ে দেখে চিরুনী আমিনদ্দির হাতে। বউটা শব্দ করার আগেই তার ঠোঁটজোড়া আটকা পড়ে যায়!
৮.
মেয়েটা শামসুন নাহারের সামনে আছাড় খায়। শামসুন নাহার তাকে টেনে নেয় নিজের দেহের গভীরে, তারপর লুকিয়ে পড়ে তালগাছের গোড়ায়।
৯.
আমিনদ্দি দেখে, তার ছেলেটা ইশকুল ফাঁকি দিয়ে কোলাব্যাঙের জানাজা পড়ছে!
১০.
সুজন চুপিচুপি তালগাছের সামনে দাঁড়ায়। প্রশ্ন করে, আমার মায়েরে দ্যাকছো?
পাতাঘরের বাবুই বালিকা বলে, তোমার মা কী কোলাব্যাঙ?
১১.
এখানে কার জানাজা?
শামসুন নাহার হাসে। সুজন কাঁদে। আমিনদ্দি কিছুই করে না।
১২.
মেয়েটার ভরা শরীর দেখে চোখ পোড়ায় আমিনদ্দির। মেয়েটা শামসুন নাহার কে বলে, আমারে ঘর দ্যাও,মা!
সুজন শামসুন নাহার কে বলে, আসমান দেখছো বুড়ি? আসমানে ম্যাঘ ম্যালা। ক্যামনে যাইবা!
১৩.
শামসুন নাহারের তীব্রচোখে পুড়ে খাঁক হয়ে যায় আমিনদ্দি।
মন্তব্য
সুন্দর গল্প
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ কৃষ্ণ তরুণ।
কেমন আছেন আপনি?
পরমাণু গল্পগুলো ভালো লাগলো।
লেখকের মন্তব্য
পরী,এখানে তো একটা গল্পই!
পুরোটা মিলেই একটা গল্প।
তবে হ্যাঁ,আপনি বললে সব টুকরোই গল্প হয়ে উঠবে।
অসম্ভব রকম উল্টো রথের সম্মুখ যাত্রার বিপরীতমুখী প্রস্থান।
লেখকের মন্তব্য
হা হা হা।
মন্তব্যতে মজা পেলাম।
কী লিখলেন, এটা! স্যালুট ব্রো
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ আরিশ দা।
আমি আপনার জুনিয়র ই হব।তুমি করে বললেই খুশি হবো।
অনেক কঠিন মনে হলো।
লেখকের মন্তব্য
সুরঞ্জনা, শুধু পড়ে যান, পড়তে পড়তে ভাববেন না। পড়া শেষ হলেই বুঝতে পারবেন।
ভালো থাকুন।
পরমাণু গল্পগুলো জুড়ে দিয়ে গাঁথা হয় নতুন কোনও গল্প।
লেখকের মন্তব্য
হ্যাঁ,গল্পের ভেতর গল্প থাকে।জীবনের মত।
ভালো লাগসে
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ প্রণব দা।
নতুন স্টাইল শুরু করলাম। কেমন হলো?
অসাধারণ কনসেপ্ট। শুরুর দিকে বিচ্ছিন্ন মনে হলেও শেষে নিপুন হাতে জোড়া লাগানো হয়েছে। সুপার্ব।
লেখকের মন্তব্য
গল্পের নিজস্ব স্টাইল হিসেবে ঠিক আছে,বস?
তুমি করে বললাম। কিন্তু, আমি নিজেই কিন্তু অনেক জুনিয়র!
লেখকের মন্তব্য
আমি সাড়ে তেইশ!
গল্প টা পড়ে, রিলে রেইস এর কথা মনে পড়ে গেল। nice.
লেখকের মন্তব্য
হা হা হা। সুন্দর ফিলিংস!
মন্তব্য করুন