ফজলে হাসান জামি-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

মাঝে মাঝে আমরা দেখতে পাই, বলা নেই-কওয়া নেই, হঠাৎ করে স্থানীয় প্রশাসন কোন একটি শহরকে সাজানোর তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে। পরে আমরা জানতে পারি ঐ শহরে বা এলাকায় আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বা কোন মন্ত্রী মহোদয়ের আগমন ঘটবে খুব শীঘ্রই। তাই মাননীয় ব্যক্তি বর্গের আগমন উপলক্ষেই শহরকে সাজিয়ে চকচকে-ঝকঝকে করে ফেলা হচ্ছে।
বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার কিছুদিন পর প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম সফরে আসেন। নিয়মমতো বদলে ফেলা হলো চট্টগ্রাম শহরকে। রাস্তার মাঝখানের ডিভাইডারগুলো রঙ্গিন হয়ে গেলো লাল-সাদা রং-এ। রাস্তার ধুলোবালিও যেন কোথায় উধাও হয়ে গেলো। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয়া হলো প্রধানমন্ত্রীর থাকার স্থানের চারপাশে এক বর্গকিলোমিটার এলাকা।
শহরের এই আকস্মিক পরিবর্তন নিয়েই আমার মনে প্রশ্ন জাগে-
শহর সাজানোর এই টাকা কোথা থেকে এলো? নিশ্চিত ভাবেই বলা যায়, এ টাকা জনগণের দেয়া ট্যাক্সের টাকা। ট্যাক্সের টাকা হলো জনগণের উন্নয়ন কাজে ব্যবহারের জন্য। এই শহর সাজানোয় তো জনগণের কোন উন্নয়ন হলোনা। এভাবে শহরকে যদি সাজাবেই তাহলে বছরের বাকি ৩৬৪ দিন কেন তা সাজিয়ে গুছিয়ে রাখা হয়না? এটা কি তাহলে জনগণের টাকায় জনগণকে ধোঁকা দেয়া হলোনা?
নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, আমাকে যেতে হবে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের পাশ দিয়ে। কিন্তু সার্কিট হাউসের এক কিলোমিটার আগেই একজন পুলিশ কর্মকর্তা গাড়ি থামিয়ে দিলেন, বললেন, আপনাকে হেঁটে যেতে হবে। তার কাছে কারণ জানতে চাইলে বলেন, এখানে প্রধানমন্ত্রী আছেন, তাই যাওয়া যাবেনা। অগত্যা গাড়ি থেকে নেমে পাক্কা ২ কিলোমিটার হেঁটে আমাকে গন্তব্যে পৌছুতে হয়েছিলো। শুধু আমি নই, চারপাশে তাকিয়ে দেখি নানা বয়সের শতশত মানুষ গাড়ি ছেড়ে হাঁটছে। সেবার সবচেয়ে বেশি অবাক হয়েছিলাম, যখন দেখলাম একটি এম্বুলেন্সকে সেই রাস্তা দিয়ে আসতে দেয়া হলোনা। প্রায়শই আমরা দেখি যে রাস্তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী যাবেন তা তাঁর আসার ঘণ্টা খানেক আগেই সাধারণ যান চলাচলের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়।
মাস কয়েক আগে প্রধানমন্ত্রী আসলেন কক্সবাজার, থাকলেন সার্কিট হাউসে। তখন দেখলাম দু’দিন ধরে কোন লোডশেডিং হচ্ছেনা। মজা করেই বিদ্যুৎ অফিসে ফোন করি জানার জন্য যে কেন লোডশেডিং হচ্ছেনা। তাদের এক কথা – “মাথা খারাপ, প্রধানমন্ত্রী আছেন না”।
আমরা এ দেশের কর দেয়া জনগণ, কর দিয়ে আমরা গাড়ি ছেড়ে হাঁটব আর প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা নিরাপত্তা বলয়ের ভিতর নিরাপদে বসে থাকবেন, সাথে থাকবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ - ব্যপারটা খুবই বেমানান। কথা ছিল জনগণের জীবনের গতি বাড়াতে তাঁরা কাজ করবেন। কিন্তু তাঁরা কি আমাদের জীবনের গতিকে থামিয়ে দিচ্ছেননা?
নির্বাচনের সময় তাঁদের পোস্টারে লিখা থাকে “অমুক মার্কায় ভোট দিয়ে তমুক ভাইকে জনগণের সেবা করার সুযোগ দিন”। তাহলে নির্বাচিত ব্যক্তিরা হলো জনগণের সেবক। নির্বাচিত হলেই সেই জনগণের সেবক হয়ে যাচ্ছে জনগণের রাজা। আর আমাদের মতো করদাতারা হয়ে যাচ্ছে বলির পাঁঠা।
এই কথাগুলো শুধুমাত্র বর্তমান সরকারের জন্য নয়, পূর্বের সকল সরকারের বেলায় একই কথা প্রযোজ্য।
একটা মজার ব্যপার হলো, প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রী বর্গরা আমাদের মতো বাসে ঝুলে অফিসে/ভার্সিটি যান না, তাঁরা রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যামে আঁটকে থাকেননা, লোডশেডিং নামে যে কিছু আছে তাঁরা তা জানেননা, তাঁদের বাজারে গিয়ে বাজার করতে হয়না। মজাটা এখানেই যে, তাঁরা এমন একটি দেশ পরিচালনা করেন যে দেশের রাস্তায় জ্যাম, ঘরে লোডশেডিং, বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, যা কিনা তাঁদের পরিচিত পরিবেশের মতো নয়। এক কথায় সাধারণ মানুষের চেনা জগৎ তাঁদের জগৎ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন (জনগণের জন্য নেয়া তাঁদের সিদ্ধান্ত কি তাহলে তাঁদের স্বভাব বিরুদ্ধ?)
আমার এ লিখা হয়তোবা কখনোই কোন মন্ত্রী পড়বেননা, তারপরও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীবর্গ ও পূর্বের সরকারের উদ্দেশ্যে বলি, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় গড়া বিলাসবহুল জীবন ছেড়ে জনতার কাতারে নেমে আসুন, তাঁদের দুঃখ-দুর্দশা দেখুন, তা অনুভব করার চেষ্টা করুন। ভুলে যাবেননা আপনারা কিন্তু প্রত্যেকেই একজন ‘পাবলিক সার্ভার’ বা ‘জনগণের সেবক’। এবং যারা আমার মতো আমজনতা তাঁদের উদ্দেশ্যে বলি, সরকার জনগণের সেবক – তাঁরা কখনোয় জনগণের রাজা নয়, তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত নিজেদের দাবী আদায়ে সোচ্চার হওয়া।
মন্তব্য
ভালো বলেছেন জামি ভাই। আসলে, এই চুশীল রাজারা যদি কষ্ট কি নাই বুঝে, তারা প্রজাদের কষ্ট নিরসন করবে ক্যামনে? এদের ভোট দিয়ে লাভ নেই। আগামীতে আমি 'না' ভোট দিব পরিবারবর্গ সহ।
লেখকের মন্তব্য
ভোটতো দিতে হবে। তবে যোগ্য কাউকে। যোগ্য মানুষদের রাজনীতিতে আসতে উদ্বুদ্ধ করা উচিত।
-ধন্যবাদ।
আমাদের এই তথাকথিত স্বাধীন দেশে যোগ্য মানুষের বরই অভাব , জামি
লেখকের মন্তব্য
না। যোগ্য মানুষ আছেন। তারা এই কলুষিত রাজনীতি তে নিজেদের জড়াতে চান না।
জরাতে চায় না না, বলো জড়াতে ভয় পায় ।
প্রথম কথা হলো, সারা বছর তাহলে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখেনা কেনো? এটা আমারও কথা!
দেখলেন না, বিশ্বকাপ ক্রিকেটের সময় ঢাকা আর চট্টগ্রাম কেমন করে সাজলো! ঝকঝকে, তকতকে!
---
শোকর করেন, ঢাকায় থাকেন না বলে! আপনারা বছরে এক/দুইদিন হয়তো এই প্রবলেম ফেইস করেন, আমরা প্রায়ই করি। এইতো সেদিনও, প্রেসিডেন্ট যাবেন, আধাঘন্টা ধরে রাস্তা বন্ধ, রাস্তা হেঁটেও পার হতে দেয় না।
প্রধানমন্ত্রী/মন্ত্রীরা কোন জায়গায় গেলে এত পরিস্কার করা হয় সেই এলাকা, তাহলে ঢাকা কেন এত অপরিস্কার? সবাইতো এই শহরেই আছেন! হায় কপাল!
লেখকের মন্তব্য
শুকরিয়া আমি ঢাকায় থাকি না।
ঢাকার বেশ কিছু জায়গা অপরিষ্কার, কিন্তু ঐসব জায়গায় কি উনারা ভুলেও কখনো যান। তাছাড়া তাঁরা দেখেও হয়তো দেখেননা।
দেখার চোখ থাকতে হবে, তবেই না জনগনের সেবক হবে!
লেখকের মন্তব্য
সহমত।
কেন যে আমরা এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে, ৃথাই আমাদের সুচারু মস্তিষ্কের অপব্যবহার করি জানি না ।
স্বাধীনতার নামে পরাধীন এই দেশটা তে আমাদের ৪০ বছর ধরে বেঁচে থাকার অভিনয় করতে হয়েছে , এখনো তাই করতে হবে ।
পরিবর্তন হয়ার হলে অনেক আগেই হতো । তার চেয়ে চলেন সবাই ঝাল মুড়ি খাই
কথাগুলো শুতে খারাপ লাগ্লেও খুব বেশি বাস্তব ।
লেখকের মন্তব্য
অই জামি মিয়া ... এতো হাইসো না ...

নাক দিয়া মুড়ি বাইর হইয়া যাইবো
লেখকের মন্তব্য
অই কান্দো ক্যান ?
অই কান্দো ক্যান ?
অই কান্দো ক্যান ?
নাক দিয়া মুড়ি বের করে বেচারাকে মহা ঝামেলায় ফেলে এখন বলেন কান্দো ক্যান্?
লেখকের মন্তব্য
ভাই দুঃখটা খালি আপনি বুঝলেন। ধন্যবাদ ভাই নির্মক্ষিক, পাশে থাকার জন্য।
বেশি হাসলে নাক দিয়ে তো মুড়ি বের হবেই ,
লেখকের মন্তব্য
হায়রে কপাল মন্দ। আবার তুমি----

হিহি :
ক্ষমতা এমন একটা জিনিষ! একবার পেলে, বাবাকেও ভুলে যায়।
লেখকের মন্তব্য
দারুণ কথা বললেন ভাইয়া।
আমরাই তো এসবের জন্যে দায়ী। এদেরকে তো আমরাই ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনি। তাই মাঝে মাঝে মনে করি নিজেই প্রধানমন্ত্রী হয়ে যায়। কিন্তু ভোট দিবে কে???

লেখকের মন্তব্য
আমি এখনই ভোট দিলাম।
ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন।
হায় হায়!! ভোট দিয়া ফালাইসেন??? এখন আপনার নাগরিক অধিকার তো আমাকেই দিতে হবে!!!

লেখকের মন্তব্য
কী খবর? কেমন আছেন জামি ভাই?
লেখকের মন্তব্য
ভালো আছি। গতকাল আপনাকে খুব কম দেখা গেলো কেনো নয়ন ভাই? অনেক পোস্টে দেখি কমেন্ট পরছেতো পরছে, কিন্তু আপনার কোন কমেন্ট নাই। অবাক লাগছিলো।

নয়ন ভাই কক্সবাজার যাচ্ছি, যাবেন নাকি? দাওয়াত রইলো কিন্তু।
ভালো থাকুন।
হ্যা ভাইয়া, কাল সারাদিন বাইরে বাইরে ছিলাম। তাই, ব্লগে সময় দিতে পারিনি।
---
তাছাড়া আমাকে বাচালশ্রেষ্ঠ লিস্টে দেখতে দেখতে সবাই বিরক্ত হয়ে যেতে পারে। তাই চিন্তা করছি ব্লগে সময় দেয়া কমাতে হবে। হাহাহা
---
কক্সবাজার যাওয়ার দাওয়াত গ্রহণ করলাম, থ্যাংকস! তবে, ব্যস্ততার কারণে এটেন্ড করতে পারবো না। দ্যাটস ইট!
জামি ভাই কবে যাচ্ছেন কক্সবাজার?
কমেন্টের আন্স দেন্নাই কেন?
লেখকের মন্তব্য
আন্সার দিয়েছিলাম তো কই গেলো ওটা? অবাক ব্যপার।

আমিতো এখন কক্সবাজার। আসবেন নাকি নয়ন ভাই। থাকা খাওয়া ফ্রী।
চলে আসুন না, আরো ২ দিন আছি।
হাহাহা
থ্যাংকস এগেইন!
---
সময়গুলো উপভোগ করুন।
---
ওখানে এই মুহূর্তে ভীড় কেমন?
লেখকের মন্তব্য
অনেক মানুষ। তবে ২৩,২৪,২৫ বন্ধ হওয়াতে তখন কক্সবাজারে হাঁটার জায়গা পাওয়া যাবে না।
আমি আসলে এসেছি আম্মুকে দেখতে। আম্মুর শরীরটা খুব একটা ভালো না, তাই আসা। দোয়া করবেন।
ওহ হো!
দিলেন মনটা খারাপ করে!
...
মা'র কী হয়েছে? এখন কেমন আছেন উনি?
আন্তরিকভাবে দোয়া করছি, উনি যাতে দ্রুত সুস্হ হয়ে যান।
---
আমাকে জানাবেন কিন্তু।
লেখকের মন্তব্য
আসলে বয়স বাড়ছে তো, তাই প্রায় অসুস্থ হয়ে যান। কয়েকদিন ধরেই নাকি গায়ে শক্তি পাচ্ছেন না। খুব বেশী হাঁটতেও পারেন না। এই আরকি।
অবশ্যই জানাবো আপনাকে। আপনাকে কেমন যেন খুব কাছের মনে হয়। অবশ্য তার একটা কারণ আছে। পরে আপনাকে জানাবো কারণটা। ভালো থাকবেন।
আচ্ছা।
চিন্তার কিছু নেই তাহলে, বয়স বাড়লে এরকম হতে পারে। তবে আপনারা পাশে থাকলে উনি নিশ্চই অনেক বেশী ভাল থাকবেন। মা'কে যতটা সম্ভব, সময় দিন। আর বলুন, নির্ভাবনায় জীবন যাপন করতে, আমরা আছি না?
এই সেবকরা জনগনের ভোটেই নির্বাচিত। কাজেই জনগনই জনগনের সেবক বলতে বাঁধা কোথায়?
ভাল থাকবেন, শুভকামনা সতত।
লেখকের মন্তব্য
সহমত।
ধন্যবাদ ভাইয়া। ভালো থাকবেন।
সমর্থন করছি_ ভালো লেগেছে আপনার লিখাটি
ভালো থাকুন
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ।
ভালো থাকবেন।
জামি ভাই, কেমনাছেন? মা কেমন আছে?
লেখকের মন্তব্য
আমি বেশি ভালোনা। মা আগের মতোই।উন্নতি হয়নি।
আপনার আবার কী হইলো জামি ভাই?!
লেখকের মন্তব্য
কারণ বিহীন খারাপ লাগা। আপনি ভালো আছেন নয়ন ভাই?
এই বেশ ভাল আছি।
আপনি কি কক্সবাজারেই?
লেখকের মন্তব্য
না। এখন চট্টগ্রাম।
নয়ন ভাই আপনি কোথায় আছেন? বলা যাবে?
অবশ্য বলাটা আপনার ইচ্ছা।
রাজধানী ঢাকায় (ঢাকা উত্তর
)
আমার বসবাস,
জ্যাম আর ধূলোর মাঝে
করছি হাঁসফাস!
“মাথা খারাপ, প্রধানমন্ত্রী আছেন না”।
তাহলে রাজারা কিভাবে বুঝবেন প্রজারা কে কি অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন? কতো কস্টে তাদের দিন গিয়ে রাতও কাটে? হায়রে আমাদের দেশ, দেশের শাসক।
সুন্দর পোষ্ট
লেখকের মন্তব্য
প্রথমবার কারো কাছে ৭ পেলাম।
অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে। ভালো থাকুন।
এই লেখাটা আমার খুব ভালো লাগলো ।
কত কিছুই না ভাবো। আর কত সুন্দর করেই না প্রকাশ করতে পারো !!
লেখকের মন্তব্য
মন্তব্য করুন