ফজলে হাসান জামি-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

“ধিক তোমাদের-কলঙ্কিত সন্তানেরা, যারা আমার দেশের শহীদদের নামের উপর লাল রং এর কালিমা মাখাতে চেয়েছো”
প্রায় তিন মাস পর কক্সবাজার শহরে এলাম। সবার সাথে ঈদ করবো বলেই আসা। ‘শহীদ স্মরণী’ রোড দিয়ে বাড়ি আসছিলাম। এই রোডটি শহরের ভি.আই.পি. রোড বলেই পরিচিত। কারণ এই রোডে একের পর এক আপনি দেখতে পাবেন সার্কিট হাউস( হিলটপ ও হিলডাউন- ২টি), প্রেস ক্লাব, জেলা পরিষদ, পুলিশ সুপারের কার্য্যালয়, জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ৭১ এর শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে নির্মিত নামফলক, স্থানীয় সংসদ সদস্যের বাসভবন, শহীদ মিনার ও বন ভবন।
এই রোড দিয়ে যখনি যাই আমার বুক গর্বে ফুলে উঠে, নজরুলের মত বলতে ইচ্ছে করে ‘চির উন্নত মম শির’। কিন্তু সেদিন বাড়ি আসার সময় আমার মাথাটা লজ্জায় নত হয়ে এসেছিল। ঐ মূহুর্তে নিজেকে এই শহরের সন্তান চিন্তা করে প্রচণ্ড বিব্রতবোধ করছিলাম।

৭১ এর শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে নির্মিত নাম ফলকের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দেখতে পেলাম সেই কাল নামফলকটির উপর কারা যেনো লাল রঙ দিয়ে চীকা মেরে নিজেদের ক্লাবের নাম লিখেছে। মা-বাবার বখে যাওয়া ছেলেগুলো লিখেছে ‘CKG-20’ । এটা দেখে আমি খুব লজ্জা পেলাম। নিজেকে মনে হচ্ছিলো কলঙ্কিত মানুষ।

৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে প্রাণ দিয়েছেন এই শহরের হাজার হাজার মানুষ। তাঁরা চেয়েছিলেন তাঁদের পরবর্তী প্রজন্ম যেনো মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারে। এই লক্ষ্যকে সামনে নিয়েই সারা দেশের ৩০ লক্ষ মানুষ শহীদ হয়েছিলেন। তাঁদের সেই স্বপ্ন ও বুকের রক্তে নির্মিত স্বাধীন বাংলাদেশে আজ আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু আমরা হলাম ৩০ লক্ষ বীর শহীদের লজ্জিত সন্তান। কারণ আমরা আমাদের বীর শহীদদের প্রাপ্য সম্মান দিতে পারিনি। আজ ধিক জানাই সেসব বখে যাওয়া কুলাঙ্গার অমানুষগুলোকে, যারা কক্সবাজারবাসীর জন্য লজ্জার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে সমাজের মানুষগুলো বীর শহীদদের নামের উপর লাল রং এর লজ্জা মাখানোর চেষ্টা করে তাদের আমি কুলাঙ্গার ও কলঙ্কিত মানুষছাড়া আর কিছুই ভাবতে পারছিনা। আমি মনে করি আজ আমরা সবাই লজ্জিত। কারণ আমরা শহীদদের নামের মর্যাদা রক্ষা করতে পারিনি, তাঁদের প্রাপ্য সম্মানটুকু আমরা এখনো দিতে শিখিনি।
সেই কলঙ্কিত উত্তরসূরীদের আমি খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছিলাম, পারিনি। আশায় আছি কোন একদিন ঠিক পেয়ে যাব। তখন হয়তো তাদের এই কলঙ্কিত কাজের উপযুক্ত জবাব আমি তাদের দিতে পারব।
মন্তব্য
চতুরের চত্বরে স্বাগতম!
আপনার ব্লগে প্রথম কমেন্ট করে একেবারে ইতিহাসের অংশ হয়ে গেলাম!
লেখকের মন্তব্য
শুধু অংশ হলেননা, রীতিমতো আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে গেলেন। আমার প্রথম মন্তব্যদাতাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
হাহাহাহাহা
গতকাল চতুরেই জ্য ক্যূয়ের এর অসম সাহসিক উদ্যোগের কথা পড়েছিলাম, এদেশের জন্য, এদেশের স্বাধীনতার জন্য, এদেশের মানুষের জন্য সম্পূর্ণ অজানা অচেনা এক ফরাসীর ভালবাসায় আভিভূত হয়েছিলাম। আজ এইসব দেখার পর, শুধু কথা না, ভাবনারাও রুদ্ধ হয়ে পড়ে। ওদের শাস্তি কথা হয়তো একবার মনে আসতে পারে, কিন্তু তাতেই কী লাভ? মন থেকে ওদের মধ্যে যে শ্রদ্ধা জাগেনি, বাইরে থেকে ওদের শাসন করে তার কদ্দূর কী হবে? ঘৃণা ওদের চেয়ে ওদের বাবা মা আর অগ্রজদের জন্যই বেশী!
চতুর্মাত্রিকে স্বাগতম।
লেখকের মন্তব্য
সহমত।
আপনাকেও ধন্যবাদ।
গৌরবের অধ্যায়কেও কলুষিত করি, তার মূল্য অনুধাবনের অক্ষমতায়। কী বিচিত্র আমরা!
স্বাগতম চতুর পরিবারে।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ।
বিবেকহীন এই সব অপদার্থদের জন্য দুঃখ লাগল।
শুভেচ্ছা ও স্বাগতম।
লেখকের মন্তব্য
অনেক অনেক ধন্যবাদ।
বিবেকবান মানুষ একদিন মুঝে দিবে কলংক ওদের জ্ঞানের আলোয় আনতে হবে
লেখকের মন্তব্য
সহমত।
ভালো থাকবেন আপু।
উরে উরে, আপ্নার পোস্টেও প্রথম ইতিহাস কইরা আমি কমেন্টের অংশ হইসিলাম? মনেই ছিলো না!
লেখকের মন্তব্য
হা হা।
নয়ন ভাই এই ইতিহাস নিয়েই কিন্তু একটা লিখা আসছে।
আপ্নি কমেন্টটা পর্ছেন মন্দিয়া?
---
কখন, কোথায় লেখা আসছে?
লেখকের মন্তব্য
আমিই আসলে য়াপ্নাকে বুঝাতে পারিনি। আপনার এই ইতিহাস গড়ার ব্যপারটা নিয়ে শীঘ্রই লিখা আসবে।
এই চতুরেই আসবে।
আসছে> এটা যে আসিতেছে আমি সেটা বুঝেছি। আমার প্রশ্ন যেটা ছিলো, সেটার উত্তর পেলাম।
লেখকের মন্তব্য
অপেক্ষায় থাকুন। তারপর,
অপেক্ষায়,,,,
দেখি, আপ্নে কেমন ইতিহাস রচনা করেন!
লেখকের মন্তব্য
হা হা হা। আচ্ছা দেখি।
এতদিনে এই লেখাটা পড়লাম । ভালো লাগলো ভাবনা, দেশপ্রেম, আর আবেগ টুকু ।
নতুন প্রজন্মকে নিয়ে আশাবাদি হলাম কারন জামি তুমি তো নতুনদের প্রতিনিধি।
শুভেচ্ছা।
মন্তব্য করুন