সদর দরজা

ফরিদুল আলম সুমন-এর ব্লগ

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ভোর হোক

এই নিশুতি রাতে কোথায় যাবে একা একা?
তোমার সামনে অন্ধকার, পেছনে অন্ধকার
জমাট অন্ধকারে চাপা পড়ে আছে পথ।
পথের শিরায় শিরায় অজস্র কাঁটাঝোপের ভেতর
ওঁত পেতে আছে নগ্ন ফণার শীতল সরীসৃপ।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

তোমার চিঠি এলে

এখনো কাঁপা হাতে খাম খুলি
আঙ্গুলে তুলে আনি সবুজ তেপান্তর।
যেনো খাকীরঙ ঝিনুকের বুক থেকে
গুটিপায়ে হেঁটে আসে মুক্তোদানা।
কোনো এক বৈশাখে
এমনই বিকেলের ডাকে
ছুঁয়েছি প্রথম আগুন। মনে আছে?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আহা জীবন

এই এক জীবনের পুরোটাই উচ্ছন্নে গেলো আমার
পোড়া ত্বকে মাখা হলোনা শিশিরের জল।
পায়ের পাতা ছুঁয়ে বয়ে গেছে উতরোল নদীঢেউ
অথচ এক দিগন্ত তৃষ্ণা বুকে আমি উদাসী চাতক।
আমারও স্লেট ছিলো বালকবেলায়


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সবকিছু প্রাক্তন হয়ে যাবার পর

আমি মরে গেলে সবকিছু প্রাক্তন হয়ে যাবে
কিছুদিন চিঠি-টিঠি আসবে পুরনো ঠিকানায়
তারপর জবাব না পেতে না পেতে
প্রেরকেরা ধরেই নেবে আমি নেই।
জামা-জুতো, কাঠপেন্সিল, ছাইদানি, মুঠোফোন


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

তোমার ছুটির দিনে

ছুটি পেলে চলে এসো একদিন
বয়েসী বটের নীচে শতরঞ্জি বিছিয়ে
ঠোঁটে তুলে দেবো বনজ অসুখ।
দুপুরের কোল থেকে রোদ নেমে গেলে
দিঘীজলে ঢেলে দেবো পুরানো ব্যথা।
একবার অবসর পাও যদি এখানে আসার


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ছাব্বিশটি কবিতার শিরোনামে নীল টিপ

একটা চিঠি লিখেছি
গোলাপী খামের ওপর সাদা মেঘের অক্ষরে
তোমার নাম লেখা।
খামের ভেতর রেখে দিয়েছি ভাঁজ করা নদী।
নদীর ঢেউ ধরে তিন পূর্ণিমার পথ পেরুলেই
নীল পালের নৌকোবোঝাই ছাব্বিশটি কবিতা।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যায় একজোড়া গন্তব্যহীন প্রজাপতি

ভেজা বাতাসের মাতলামি শুরু হয়ে গেছে। দিনের ভ্যাপসা গরম উবে গেছে ফুরফুরে হাওয়ার স্রোতে। দুপুরের পর থেকেই জলের ভারে নত হয়ে ছিলো বৈশাখী মেঘের দল। মনে হচ্ছে কিছুক্ষণের মধ্যেই আকাশ ভেঙ্গে বৃষ্টি নামবে। পাবল


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

একদিন ঠিকানা ফেলে

যদি ভুলে যাওয়া যেতো এইসব পুরাতন বিকিকিনি,
ফিকে আলনায় ঝোলানো রঙচঙে মসলিন রেসিপি;
পিঠে মায়ারোদ মেখে ধীরপায়ে হেঁটে যেতাম
আন্দামান-নিকোবরে। বুনোবাতাসের ভিড়ে।
আমাদের এইসব ধোঁয়াটে বিকেল পিছে ফেলে


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

হুডতোলা রিকশায় সবুজ আততায়ী

আমাদের কোনো গন্তব্য থাকেনা তাই
ট্রেনের সিগনালে দাঁড়িয়ে যখন
পুরো শহর ঘেমে নাকাল
আমরা তখন ছায়াভেজা কাজলনদীর পাড়ে
ঘাসের ভেতর লুকিয়ে থাকা জোড়াশালিক।
যেনো পাশাপাশি বসলেই


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

বেণীর বাঁধনে বাঁধা পরাগরেণু

সুরের কোনো রং হয় কীনা কী জানি!
চুড়ির হয়।
লাল চুড়ির ভাঁজে সুর গুঁজে নিয়ে তুমি
বিষুবসংক্রান্তির লোকালয়ে মিশে গেছো।
চুড়ির সুরে ঢেউ, ঢেউয়ের আগুনে পোড়া সুখ।
এপাশে রিনিঝিনি বিরহের বৃষ্টিতে


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

জোছনামানবের স্বপ্নভঙ্গ

প্রতি পূর্ণিমায় আমি একেকটি চাঁদ তুলে রাখি কবিতার দেরাজে। স্যুভেনির সাজানোর মত করে। চাঁদের সাথে কবিতারা একান্ত বৈঠকে মিলিত হয় সন্ধ্যেবেলায়।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ভাঙ্গনের শব্দে বসন্তবিদায়

ভাঙ্গনের শব্দে জেগে উঠি প্রতি ভোরে।
পাথর, পাহাড় এবং পাঁজরে শাবল চালায় কিছু লোক।

ওরা জেনে গেছে-
আমাদের প্রতিটি রক্তকণায় লুকোনো বরফ
বসন্তের স্নিগ্ধ সমীরন;


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

জলমগ্ন চাবির খোঁজে

এক জলমগ্ন চাবির খোঁজে
মায়া, মেসোপটেমিয়া, ব্যাবিলন ও
সিন্ধুর অতলে ডুবে গেছে
অর্বুদ করোটি।
আমার পূর্বপুরুষের।

এখনো সে চাবির খোঁজে
জল খুঁড়ে খুঁড়ে
কী অনায়াস কেটে যাচ্ছে


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

চারটি অণুকবিতা

এক
আরতীর বেলা গেলো পুড়ে পুড়ে
ধূপ পোড়ে, পোড়ে প্রদীপশিখা।
প্রণয় অনলে দেখো, এ ঘাটে কানাই পোড়ে
বিরহী বাঁশিতে শুধু, পোড়েনা রাধিকা।

দুই
কাল সারারাত উপুড় হয়ে শুয়ে ছিলাম


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ওপাশে কেউ জেগে নেই

পশ্চিমের উঁচু পাহাড়ের আড়ালে
ডুবে গেলো দিন। বিকেলের সোনারঙ।
সাঁঝবাতির জন্মলগ্নে
সেলফোনের পর্দায় জ্বলে ওঠে হাসিমুখ।
ওপাশে দিনের শেষে
সুর তোলে রিনঝিন গোলাপী অভিমান।