ফরিদুল আলম সুমন-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

সময়: রাত ১২ টা ৩৪ মিনিট
স্থান: অনিকের ঘর
বাংলাফ্রেন্ডশীপ ডটকম (কাল্পনিক নাম)।
লগ ইন করলো আনিক। ৮৪ ইউজারস অনলাইন। ব্যস্ত চোখে খুঁজে চলেছে মেয়ে ইউজারদের নাম। সোনিয়া, কিউটগার্ল, বিডিহটগার্ল, পিঙ্করোজ – নাহ্ নামগুলোই পছন্দ হচ্ছেনা অনিকের। স্ক্রল করলো আরো নীচের দিকে। সিজলিংঈশিতা – নামটি ইন্টেরেস্টিং। ডাবল ক্লিক করলো অনিক।
হাই। ঈশিতা হাউ আর ইউ? দ্রুত টাইপ করে রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা। মিনিটখানেক পর উত্তর এলো। হাই, আই এম ফাইন, হাউ আর ইউ? এসএসএল প্লিজ। সেই থেকে শুরু। কথায় কথায় ভোর পর্যন্ত গড়ালো। এভাবে পরদিন আবার। এবার ইয়াহু মেসেঞ্জারের আইডি বিনিময়। এভাবে আরো কিছুদিন। উঠতি বয়সের আবেগে ঈশিতার ওপর মনস্তাত্বিকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়লো অনিক। ঈশিতাকে অনলাইনে না পেলে তার যেন আর কিছুই ভালো লাগেনা। অবশ্য আরো কয়েকজন মেয়ে বন্ধু যে তার নেই, তা নয়। তবে ঈশিতাই যেন সেরা, যেমন স্মার্ট, তেমন সুন্দরী, হাই প্রোফাইল ফ্যামিলি (ঈশিতার দেয়া তথ্য অনুযায়ী)।
দিনে দিনে আরো অনেক কথা, অনেক ভাব বিনিময়। এবার সময় এলো ভার্চুয়াল রিলেশনকে বাস্তবে রূপ দেবার। দেখা হবে। দুরুদুরু বুকে অপেক্ষার পালা। সময় যেন কাটতেই চায়না অনিকের। এর মধ্যে হঠাৎ করে অনলাইনে আসা বন্ধ করে দেয় ঈশিতা। অনিকের দুশ্চিন্তা বাড়ে। যেদিন দেখা হবার কথা তার আগেরদিন ঈশিতাকে অনলাইনে পেয়েই ঝলকে ওঠে অনিকের চোখ আর মন দুটোই। এক পর্যায়ে ঈশিতা সিরিয়াস হয়। বলে আমাকে ক্ষমা করতে হবে, আজ আমি তোমাকে সত্যি কথা বলবো। সত্যি বেরিয়ে এলো।
ঈশিতা বাস্তবিকপক্ষে অনিকের কল্পনার ধারে কাছেও নেই। স্বামীর সাথে ডিভোর্স হয়ে যাবার পর মায়ের বাড়িতে থাকছে। অনিকের চেয়ে বছর সাতেকের বড়। এক সন্তানের মা। একাকী জীবনে সাময়িক বিনোদনের জন্যেই অনলাইনে আসে সে। টাইমপাস। বেচারা অনিক সব শুনে তো একেবারে থ! এর মধ্যে হারিয়ে গেছে তার কয়েকশ’ ঘন্টা, কয়েক হাজার আবেগ, আর কয়েক লাখ মিষ্টি মিষ্টি অনুভূতি।
এ ঘটনার পর অনিক হয়তো খুঁজে নিয়েছে অন্য কাউকে, হয়তোবা অনলাইনে বন্ধুতা করাই ছেড়ে দিয়েছে, অথবা এমনও হতে পারে – কিছুই হয়নি। তবে ভার্চুয়াল রিলেশনের ওই সময়টাতে তার পড়ালেখা আর পারিবারিক জীবন থেকে যে সে অনেক দূরে সরে গিয়েছিল সেটা হলফ করে বলা যায়।
ভার্চুয়াল রিলেশনের এই যুগে রিয়েল রিলেশন এখন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। আমরা দূরের মানুষকে কাছে টানতে গিয়ে ক্রমশ কাছের মানুষ থেকে দূরে সরে যাচ্ছি। মোবাইলে ঘন্টার পর ঘন্টা বন্ধুর সাথে আড্ডা মারছি, কিন্তু বাসায় ছোট ভাইটির সাথে মন খুলে দু’দন্ড সময় কাটাচ্ছিনা। অনলাইনে জান-প্রাণ-হৃদয় সব দিয়ে বসে আছি কোনো এক না-দেখা ঈশিতাকে। বন্ধুদের আড্ডায় ঝড় উঠছে কার অনলাইন বন্ধু-বান্ধবী কাকে কী বলেছে সেসব প্রসঙ্গে।
এক বাড়িতে এখন একাধিক টিভি। একই বাড়িতে একই সময়ে কেউ মোবাইলে, কেউ অনলাইনে, কেউবা টিভির সামনে বসে দূরের মানুষের সঙ্গেই যোগাযোগ বাড়িয়ে চলেছি। সবাই যেন এক একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ।
ভাচর্ুয়াল রিলেশনের ব্যতিক্রম কয়েকটি ঘটনা ছাড়া বেশিরভাগই আমাদেরকে মানবিক দিক থেকে ক্রমে ক্রমে দরিদ্র করে তুলছে। পরিবার পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আমরা শুধুই মেকি অবাস্তব কিছু সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছি। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি ভার্চুয়াল রিলেশনের অধিকাংশই অসত্যে ভরপুর। এগুলো উন্নত (প্রকৃতপক্ষে ওরা অনেক দিক দিয়ে আমাদের চেয়ে দরিদ্র এবং অনুন্নত) বিশ্বের পরিবার ও সমাজবিচ্ছিন্ন মানুষগুলোকে সাময়িক কিছু আনন্দ দেবার জন্যেই তৈরি করা হয়েছে। তারা নিজেদের মাত্রাতিরিক্ত ভোগ বিলাস নিশ্চিত করতে ছোট বাচ্চাটিকে ডে কেয়ার সেন্টারে রেখে বড় করে। একটু বড় হতেই হোস্টেলে পাঠিয়ে দেয়। বিনিময়ে তাদের ছেলেমেয়েরাও বড় হয়ে মা বাবাকে ছেড়ে যায়। মা বাবাকে আশ্রয় নিতে হয় বৃদ্ধ সদনে।
আমাদের মায়েরা এখনো দুষ্ট ছেলেটির জন্যে খাবার টেবিলে বসে থাকেন গভীর রাত অব্দি। তাই ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্যে অনলাইন বন্ধুতা আমাদের না হলেও চলে। কোথায় যেন একবার পড়েছিলাম বাংলাদেশে প্রতিদিন যে পরিমাণ মোবাইল কল হয়, তার ৬৪ শতাংশ নন-কমার্শিয়াল, আনপ্রোডাক্টিভ। ‘ডিজুস আড্ডা’ (সঠিক নামটি মনে নেই), ‘সিটিসেল দোস্ত’ এগুলো আমাদেরকে কোনোভাবেই মানুষ হিসেবে, নাগরিক হিসেবে উন্নত হয়ে ওঠার শিক্ষা দেয়না। রাত জেগে যৌনকামনাতাড়িত সময় কাটানো আর সকাল বেলায় যথাসময়ে ক্লাসে, অফিসে না যেতে পারার পথ তৈরি করে। সকালের নাস্তার টেবিলে বাড়ির সবার সমবেত হবার পথ রুদ্ধ করে দেয়। একজন নাগরিকের কর্মশক্তি আর কর্মঘন্টার করুন অপচয়ে সাহায্য করে।
আমার মতে ভার্চুয়াল রিলেশন আমাদের যান্ত্রিক জীবনাচরণের একটি বাই-প্রোডাক্ট। এটা ঠিক যে, আমরা বিবর্তনকে পাশ কাটিয়ে কিংবা উপেক্ষা করে চলতে পারিনা। আধুনিক যন্ত্রপাতি, যোগাযোগ মাধ্যম, মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট এসবের ভালো দিক যেমন রয়েছে, তেমনি সঠিক ব্যবহার না জানলে এগুলো ক্ষতিকরও।
তাই মজবুত পারিবারিক, সামাজিক বন্ধনই আমাদেরকে পারে মিথ্যে, প্রতারণা আর বিকৃত মানসিকতার ভার্চুয়াল রিলেশনের শিকার হওয়া থেকে বাঁচাতে। আমরা প্রযুক্তিবিমুখ হবোনা। যে কোনো সংস্কৃতির, যে কোনো ভূখন্ডের যে কোনো মানুষের সাথে বন্ধুত্বের জন্যে আমাদের হাত প্রসারিত থাকুক।
তবে এটাও মনে রাখতে চাই- সম্পর্কের শুরু পরিবার থেকে, তারপর প্রতিবেশ, সহপাঠী, চেনা পরিমন্ডল, সমাজ, দেশ, তারপর সারা পৃথিবী।
আমরা কি নিজেকে প্রশ্ন করতে পারি? পাশের বাড়ির যে বৃদ্ধ চাচাটি দীর্ঘদিন রোগ বিছানায় শুয়ে মৃতু্যর অপেক্ষা করছেন, তাঁকে কবে একবার দেখতে গিয়েছি? নাকি সুদূর নিউজিল্যান্ডের বান্ধবী ক্রিস্টিনার পোষা কুকুরের অসুস্থতায় বিচলিত হয়েছি প্রয়োজনের চেয়েও অনেক বেশি!
মন্তব্য
তেমন কিছু বলার নেই সুমন। খুব প্রাসঙ্গিক একটি বিষয়ে লিখেছেন
'আমরা কি নিজেকে প্রশ্ন করতে পারি? পাশের বাড়ির যে বৃদ্ধ চাচাটি দীর্ঘদিন রোগ বিছানায় শুয়ে মৃতু্যর অপেক্ষা করছেন, তাঁকে কবে একবার দেখতে গিয়েছি? নাকি সুদূর নিউজিল্যান্ডের বান্ধবী ক্রিস্টিনার পোষা কুকুরের অসুস্থতায় বিচলিত হয়েছি প্রয়োজনের চেয়েও অনেক বেশি!'
পোস্টে
লেখকের মন্তব্য
আপনার মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ। আমি ইদানীং আমাদের নতুন প্রজন্মের কাছে প্রযুক্তির ভালোমন্দ দিকগুলি তুলে ধরে এর কার্যকর ব্যবহার শিক্ষার উপর আগ্রহী হয়ে উঠেছি।
সাথেই থাকুন। শুভকামনা অনেক।
সেইরকম একখান পোষ্ট ,,থ্যাম্বস আপ বস ।
লেখকের মন্তব্য
আপনাকে ধন্যবাদ। ভালো থাকুন।
কাজের পোষ্ট দিয়েছেন। হ্যাটস অফফ।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ। শুভকামনা অবিরত।
ভালো পোস্ট। কাজের পোস্ট তার থেকেও বড় কথা এ পোস্ট পড়ে যদি আমাদের কিঞ্চিত বোধোদয় হয়।
আমরা সত্যিই কতটা হারাচ্ছি সেটা বুঝতে পারছি না।
লেখকের মন্তব্য
আমি চাচ্ছি এই ধরণের পোস্টগুলো আমাদের নতুন প্রজন্মের মানুষদের কাছে পৌঁছে যাক। প্রযুক্তির ব্যবহার ও অপব্যবহার তারাই করছে বেশি। তাদের সময়গুলোই বেশি মূল্যবান।
আমরা যারা অগ্রজ, তারা বলতে থাকি।
শুভকামনা রইলো আপনার জন্যে।
অনেক ভাল একটা টপিক নিয়ে লিখেছেন, আপনার কথার সাথে একমত।
---
ভার্চুয়াল রিলেশনে কত কী যে ঘটে! একবার দুই বন্ধু, একজন মেয়ে সেজে আরেকজনের সাথে দিনের পর দিন চ্যাট করতো, এভাবেই বেশ হৃদ্যতাপূর্ণ একটা সম্পর্ক হয়ে গেলো। তারপর একদিন দেখা করার পালা, হাহাহহা, গিয়ে দেখে এ যে তারই বন্ধু কামাল(একটা নাম দিলাম আর কি)! তারপর? তারপর ওকে পঁচানো সবাই মিলে, পার্টি আদায় করা হলো!
প্যাথেটিক কিছু না, মজা করলো তারা।
---
তবে এটাও মনে রাখতে চাই- সম্পর্কের শুরু পরিবার থেকে, তারপর প্রতিবেশ, সহপাঠী, চেনা পরিমন্ডল, সমাজ, দেশ, তারপর সারা পৃথিবী।
লেখকের মন্তব্য
বন্ধুদের সাথে এমন মজা করাটা নাহয় নিছক মজা হিসেবেই ধরে নিলাম। কিন্তু যারা সিরিয়াস তারা প্রায়ই বিপদে পড়ে যান।
ভালো থাকুন অনেক অনেক।
হু!
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ অর্ক।
লেখকের মন্তব্য
রিলেশনের ধরণ যেমনই হোক ভালোমন্দ যাচাই করার বিষয় থাকেই। আপনার কথার সাথে আমি একমত। সম্পর্ক এমন একটা জিনিস যার প্রতিটি পদক্ষেপ হতে হয় সতর্ক, বুদ্ধিদীপ্ত। নাহয় সুখের চেয়ে দুঃখই বাড়ে। বাড়ে হতাশা।
প্রযুক্তি যাদের কাছে আগে এসেছে, মাশুলও তারাই গুনেছে বেশি। আবার তারা ভুল শোধরাতেও শুরু করেছে। আমাদের কাছে প্রযুক্তি নতুন। আমরা একদিকে যেমন পিছিয়ে আছি, অন্যদিকে এটা আমাদের জন্যে একটা সুযোগও। অন্যের ভুল থেকে নিজেরা শিক্ষা নিতে পারি সহজেই।
আমি চাই, প্রযুক্তি আমাদের হাতে আসুক ভুলগুলো বাদ দিয়ে, যতটা সম্ভব পরিশুদ্ধ হয়ে।
ভালো মানুষের আসলে কোনো দেশ নেই, জাত নেই।
ভালো থাকুন বেশি বেশি।
শুধু এই ক্ষেত্রে নয় যে কোন ব্যপারে ভাল মন্দ যাচাই করার একটা বিষয় থেকেই যায়। রিলেশান ভার্চুয়াল হোক আর রিয়েল লাইফ হোক ! নিজেকে নিয়ন্ত্রনে রাখতে হবে কি করে এটা প্রথমে শিখার বিষয়। যেটা পরিবার আমাদের শিক্ষা দেয়।
বিদেশের সমাজ ব্যবস্থা অন্যরকম, আমাদের থেকে অনেকটাই আলাদা, তবে ওদের অনেক ভালদিক আছে, যেমন আছে আমাদের। প্রবাসে আছি , সরল সহজ সাধারন মানুষদের কোন দেশ নেই , তারা নেহায়েতই ভাল মানুষ, দেশ কিংবা প্রবাসে !
লেখকের মন্তব্য
রিলেশনের ধরণ যেমনই হোক ভালোমন্দ যাচাই করার বিষয় থাকেই। আপনার কথার সাথে আমি একমত। সম্পর্ক এমন একটা জিনিস যার প্রতিটি পদক্ষেপ হতে হয় সতর্ক, বুদ্ধিদীপ্ত। নাহয় সুখের চেয়ে দুঃখই বাড়ে। বাড়ে হতাশা।
প্রযুক্তি যাদের কাছে আগে এসেছে, মাশুলও তারাই গুনেছে বেশি। আবার তারা ভুল শোধরাতেও শুরু করেছে। আমাদের কাছে প্রযুক্তি নতুন। আমরা একদিকে যেমন পিছিয়ে আছি, অন্যদিকে এটা আমাদের জন্যে একটা সুযোগও। অন্যের ভুল থেকে নিজেরা শিক্ষা নিতে পারি সহজেই।
আমি চাই, প্রযুক্তি আমাদের হাতে আসুক ভুলগুলো বাদ দিয়ে, যতটা সম্ভব পরিশুদ্ধ হয়ে।
ভালো মানুষের আসলে কোনো দেশ নেই, জাত নেই।
ভালো থাকুন বেশি বেশি।
নম্রতা,
আপনার এই মন্তব্য হঠাৎ করে চোখে পড়লো।
সাধ্য থাকলে লক্ষ ভোট দিতাম আপনার এই অসাধারণ মন্তব্যে! এখানে একজন সর্বোচ্চ একটাই ভোট দিতে পারে বলে সেটাই দিলাম।
যারা দেশের বাইরে পা রাখেননি কখনও, তাঁদের কেউ কেউ হয়তো এই শাশ্বত সত্যটা হৃদয়ঙ্গম করতে পারেন না।
'জাতীয়তাবোধ' থাকা খুব ভাল, কিন্তু যে কোন বিষয়েই চরমপন্থা অবলম্বন করাটা বিপদজনক।
'জাতীয়তাবোধ'-এর আতিশয্যই রেইসিজম-এর জন্ম দেয়, যার মহা ক্ষতিকারক ফল হয় সুদূরপ্রসারী।
আবারও বিনীত কৃতজ্ঞতা আপনাকে নম্রতা, অসাধারণ মন্তব্যের জন্য!!
একই কথা আমি একটু উল্টিয়ে বলি,
"খারাপ মানুষদের কোন দেশ নেই, তারা নেহায়েতই খারাপ মানুষ, দেশ কিংবা প্রবাসে!"
ফাটাফাটি মামু
পাশের বাড়ির যে বৃদ্ধ চাচাটি দীর্ঘদিন রোগ বিছানায় শুয়ে মৃতু্যর অপেক্ষা করছেন, তাঁকে কবে একবার দেখতে গিয়েছি?
পাশের বাড়ির যে বৃদ্ধ চাচাটি দীর্ঘদিন রোগে বিছানায় শুয়ে মৃতু্যর অপেক্ষা করছেন, তাঁকে কবে একবার দেখতে গিয়েছি?
মনে হয় এইরাম হবি , কিতা কও?
লেখকের মন্তব্য
এটা রোগ বিছানায় হবে। আমি ঠিকই লিখেছি।
শোধরানোর চেষ্টা করেছেন বলে ধন্যবাদ। আশা করি সাথেই থাকবেন। ভালো থাকুন।
-এই কথাটাই আমি খুব কাছের কিছু মানুষকে এখনো বুঝাতে পারিনি।

লেখকের মন্তব্য
দরদ দিয়ে বোঝাতে থাকুন। একদিন নিশ্চয়ই বুঝবেন তারা।
শুভকামনা রইলো জনাব জামি।
খুব জরুরী আর উপকারী একটা লেখা ।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ।
শেষের প্যারাটা আরেকটু শারপ হলে,,,,,,,,,, খুব কাজের পোষট
নিজের গলপগুলোও জানাতে পারেন। অন্যদের কাজে লাগতে পারে।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ পদ্ম।
আমি অন্যের গল্প শেয়ার করলাম। যা বোঝার এতেই বোঝা যাবে আশা করি।
শেষের প্যারাটা শার্প করা গেলোনা বলে আফসোস হচ্ছে।
সুমন ভাইয়া,
আপাতত অর্ধেকটুকু পড়লাম। খুব ভাল লাগলো!
সুবর্ণ সুযোগ থাকবার পরও সেই কৈশোর বেলা থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত 'অনলাইন চ্যাট' থেকে আমি বরাবরই অনেক দূরত্বে রেখেছি নিজেকে।
অর্ধেকটা পড়েই সাত তারা দিলাম!
বাকী অর্ধেক পড়বো রাতে।
লেখকের মন্তব্য
অর্ধেক পড়েই সাততারা! বাকি অর্ধেক পড়ে আবারো দেবেন। মোট চৌদ্দতারা হবে। হা হা হা ...
আর কি বলব?? সাতে সাতইইতো অনেক কিছু বলে দেয়।
লেখকের মন্তব্য
বুঝলাম।
অসাধারণ! শেষ লাইনটা রীতিমত চাবুক! সাততারা, সাথে শেয়ার করছি ফেবুতে, ভাবনাগুলো ছড়িয়ে দিতে চাই!
লেখকের মন্তব্য
সাততারা এবং শেয়ার করার জন্যে ধন্যবাদ। ভালো থাকুন
পোষ্ট কিন্তু সেরাম, প্রিয়তে রাইখা লই।
লেখকের মন্তব্য
রাখেন। চুরি কইরেননা কিন্তু।
ভাল লিখেছেন সুমন ভাই। সামান্য সময়ের জন্য হলেও থমকে দাড়িয়েছি।
লেখকের মন্তব্য
কিন্তু রেসিপি দেয়া যেন থমকে না দাঁড়ায়।
অসাধারণ ভাই।
ঠিক এই মুহূর্তে যে লাইন গুলি খুব মনে পরছে,
সত্যিই মানুষ খুব বিচিত্র। ছোট্ট এই মানুষগুলো এক সময় কেন এত্ত বড় হয়ে যায়? ছোট্ট হাতের মুঠোয় একদিন সে যাদের হাত ধরেছিল তাদেরই হাত ছাড়াতে প্রয়োজন বোধ করে! তার কাছের মানুষগুলো, মা-বাবা কখনো বা ভাই কখনোবা বোন চেয়ে চেয়ে দেখে তাদের সেই ছোট্ট বাবুটি কত দ্রুত বদলে যাচ্ছে। একসময় বাবুটা কেমন অচেনা হয়ে যায়। কাছের মানুষগুলো দীর্ঘশ্বাস ফেলে। তারপর তাদের চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে। এই অশ্রু অভিমানের অশ্রু...ভালোবাসার অশ্রু../i>
কপি পেষ্ট, কেন মিছে নক্ষত্রেরা জেগে থাকে। একুয়া রেজিয়া।
লেখকের মন্তব্য
আপনার মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ।
অসাধারন!! পুরো লেখাটা দারুন লাগল, আমার মনের কথা গুলো বলেছেন সাজিয়ে গুছিয়ে, যা হয়তো আমি কখনোই পারতামনা। আমি নিজেও এর আগ্রাসী থাবায় বিক্ষত হয়েছিলাম বছর তিনেক আগে। চাপা আগুন উগরে দিতে চাই না। সাত দিলাম।
লেখকের মন্তব্য
সাত দেয়ার জন্যে ধন্যবাদ। ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। তবে এ শিক্ষা নেয়াটা যেন খুব দেরি হয়ে যাবার পর নাহয়।
ভালো থাকুন সবসময়।
এক কথায় বর্তমান এর ভার্চুয়েল বাস্তবতাটি পুরোটাই উঠে এসেছে আনার লেখায় ভাইয়া,

আর পুরো লেখাটাই নতুন প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত শিক্ষণীয় ।
লেখকের মন্তব্য
পড়লেন বলে ধন্যবাদ। আমি চাচ্ছি পাঠকরা তাঁদের বন্ধু ও পরিচিতমহলে লেখাটি প্রচার করুন।
ভালো থাকবেন প্রতিদিন।
বর্তমান প্রজন্মের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের অবতারণা করলেন। ভার্চুয়াল রিলেশনের ব্যাপারে সবারই খুব সতর্ক থাকা প্রয়োজন বলে মনে করি।
লেখকের মন্তব্য
আপনার মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ।
সতর্কভাবে পথ চলতে পারলে ভার্চুয়াল রিলেশনের কারণে আমাদের ক্ষতিগ্রস্থ হবার তেমন কোনো সম্ভাবনা থাকেনা।
ভালো থাকুন।
এই অবাস্তবতার বাস্তব ক্ষতিকর দিক নিয়ে সকলকে সচেতন হবার সুযোগ দিয়েছে এই পোস্ট। এমন সুন্দর করে মার্জিত সরল ও সাবলীল ভাষায় অপূর্ব বর্ণনা পড়লাম মুগ্ধতা নিয়ে।
ধন্যবাদ ভাই সুমন। [এত দেরিতে পড়ার জন্য খা্রাপ লাগছে!]
লেখকের মন্তব্য
পড়ার জন্যে ও মন্তব্য করার জন্যে আপনাকেও ধন্যবাদ নাজমুল ভাই। আমিওতো অনেক দেরীতে উত্তর দিচ্ছি। ক্ষমা করবেন।
নতুন বছরে গত বছরের চেয়ে বেশি ভালো থাকুন।
নমস্য। ফেবুতে শেয়ার করলাম।
লেখকের মন্তব্য
আপনাকে ধন্যবাদ হালিম ভাই।
লেখকের মন্তব্য
এই পোস্ট টা আগে পড়া হয়েছিলো।
কেন জানি মন্তব্য করা হয় নাই।
অনলাইন জগত আর মোবাইল জগতে ভার্চুয়াল মানুষের ভিড়ে আসল মানউষদের হারিয়ে যাওয়ার গল্প দেখেছি দেখছি।
এটা একটা সামাজিক ব্যাধির মত গ্রাস করছে আমাদের।
পোস্টে ভালো লাগা জানিয়ে গেলাম।
লেখকের মন্তব্য
মন্তব্যের জন্যে আপনাকে ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন।
এমুন কুইরা সুইত্য কুতাগুলানেরে সাজাইছেন !!!
দিওন ছারা নুতুন কুনু কাম দেইকছিনা !!! যান, আপনের লাইগ্-গা ১খান
পুরা ফ্রিইইইইই !!! 
লেখকের মন্তব্য
হাহাহা... কোক দেওনের লাইগা ধইন্যবাদ। কিন্তু আমি যে ঠান্ডা খাইতে পারিনা, গলায় সমস্যা আছে।
আপ্নেরে কুইছে কিডায় যে এইড্ডা ঠান্ডু মিয়ার দুকানের ???
এইট্টা গরম বিবির আড়ত থেইক্কা আনছি !!!
খাইপেন ???
ইরপর কিন্তুক কুমু না !!!
খাইয়াল্মু !!! 
আমরা প্রতিদিন নিজেদের কাছ থেকেই নিজেরা দূরে সরে যাচ্ছি।
আপনার ফ্যান হয়ে গেলাম।
খুব ভাল একটি বিষয় নিয়ে অসাধারণ লিখেছেন।
হঠাত করে আসা ভালোবাসাকে আমাদের অনেক বড় মনে হয়। কিন্তু সেটা ভালোবাসা, মোহ নাকি ঘোর ওটা বুঝতেই আমাদের সব সময় হারিয়ে যায় অথচ যে ভালোবাসা আমাদের চারদিককে ঘিরে রাখে তার কথা আমাদের মনেই থাকে না।
আপনার লেখা পড়া হয়নি আগে। এটা পড়ে অনেক ভালো লাগলো । বিষয় বস্তু আর উপাস্থাপনা সবই অসাধারন।
আমার আন্তরিক ভালো লাগা জানাচ্ছি। আরও লেখা পড়ব ।
ভালো থাকুন । লেখাটা প্রিয়তে নিলাম।
অসাধারণ লাগলো। অনেক ভালো লিখেছেন ভাইয়া। শুভ কামনা।।
ইদানীং দেশে ভাগ্না ভাগ্নি ভাস্তা ভাস্তিদের অবস্থা দেখছি আর খারাপ লাগছে। ভার্চুয়াল এই রিলেশনের দিকে না গিয়ে উপায় নাই তাদের! একটা খেলার মাঠ নেই, সাইকেল চালানোর জন্য সুন্দর পার্ক নেই, হই হল্লা করে ছোটখাট পারিবারিক পিকনিক করার ভাল জায়গা নেই। এই পিচ্চিগুলান সারাদিন চোখ মুখ কুঁচকে টিভি দেখে, পিএসথ্রি খেলে আর ৭ বছর বয়সেই ফেসবুক একাউন্ট খুলে ম্যাডামের কক্সবাজার এর ট্যুর এর ছবি দেখে ! ! আমি জোর করে আমার ভাগ্নের মাকে বললাম 'আপা ওর ফেসবুক একাউন্ট খুলার বয়স হয় নাই, ওটা বন্ধ কর।' আপা অবাক হয়ে বলে 'কেন থাকলে দোষ কি? সময়টা কাটে নইলে শুধু জ্বালায়। এই জ্যামের ভিতরে প্রতিদিন কি আর নভোথিয়েটার বা সাইন্স মিউজিয়ামে নিয়ে যাওয়া যায়? তুই নিয়ে যাবি? আর তুই কি নিয়ে যাবি? একদিন গিয়েছিলি এবং ওর সামনে যে বিড়ি টেনেছিস ও আমাকে সেটা বলেছে। নিজে বিড়ি খাওয়া বন্ধ কর, তারপর বড়বড় কথা বলিস, যত্তসব জ্ঞানী কথা, কাজের বেলায় ঠনঠন!'
আমি আর জবাব দিতে পারি নাই, কোন দোষটা বেশি? বিড়ি খাওয়া নাকি ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ড এ বুঁদ হয়ে পড়ে থাকা?
আপনি কোন পদক্ষেপ নিলে জানাবেন।
(আমি অবশ্য ঝাড়ি খেয়েও পিচ্চির ফেসবুক একাউন্ট বন্ধ করেছি এবং তাকে কয়েকটা পাজল সল্ভ করার ওয়েব সাইট এর এড্রেস দিয়েছি। ভাইগ্না এখন মহাউৎসাহে আমাকে মেইল করে জানায় কি কি পাজল সে সল্ভ করেছে)
কোন একটা বুদ্ধি করে এই সমস্যার সমাধান বের করতে হবে - হা হুতাশ করলে চলবে না ।
প্রতিটা ভালো জিনিসের সাথে বাইপ্রডাক্ট হিসাবে কিন্তু মন্দ জিনিস এসে পড়ে - ভার্চুয়াল দুনিয়ার কারনে এইযে আমরা কতো মানুষের কথা জানছি এটা কিন্তু কম কথা না ।
কিন্তু খারাপটাকে বেছে চলতে হবে - বুদ্ধি করেই এই সমস্যার সমাধান করতে হবে
অনেক ভাল লাগল সুমন ভাই। ভাল থাকবেন।
মন্তব্য করুন