ফরিদুল আলম সুমন-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

ঘাসফুলের কী এক অপরূপ মখমল গালিচায় আমার দৈনিক হেঁটে চলা! শুভসকালে চকচকে রোদের সামিয়ানার নীচে গড়িয়ে যায় ঘড়ির কাঁটা। আসে একলা দুপুর। সবুজ পাতাদের মিছিলের ভেতর ঢুকে পড়ে মিহি বাতাসের আততায়ী। কিছু রঙ খুন হয়ে যায়। এপিটাফের বর্ণমালা থেকে বিন্দু বিন্দু শোকের লিরিক শুষে নিয়ে বিকেল আসে। সোনারঙ আকাশের ক্যানভাসে আঁকা হয় সন্তর্পণ শোকছবি। নদীর শরীর বেয়ে নেমে যায় দিনের ক্লান্তি ও অভিমান। তারপর?
অন্ধকারের উদারতার সিংহদুয়ারে হাঁটু গেঁড়ে বসে আলোর ঔদ্ধত্য। কালো সিঁড়ি ভেঙ্গে উঠে যায় নিঃশ্বাসেরা। মৃত্যু এবং জীবনের কাছে সমর্পিত হতে হতে ওরা ভুলে যায় সীমানার সীমানা। বোঝা যায়না মৃত্যু এবং জীবন কতটা নিকট প্রতিবেশী। তারপর?
বেঁচে থাকা এবং মরে যাওয়ার মধ্যে কার্যতঃ কোনো পার্থক্য থাকেনা। যেমন থাকেনা কোলাহল ও নীরবতার মধ্যে।
সহস্র নক্ষত্রের আলোয় ভেসে যাওয়া উৎসবের মুহূর্তগুলো তখন দোল খায় ঘরের দেয়ালে, মেঝেতে, চৌকাঠে, কার্নিশে। ঝাড়বাতির অন্তর্গত সৌরভ ঝরে পড়ে শরীরময়। রাতের আঁচল জুড়ে উড়ে বেড়ায় থোকা থোকা জোনাকী ফুল। আবেশ, মোহ, জীবন, মৃত্যু, দৃষ্টি এবং অন্ধত্বের বুক চিরে এগিয়ে যায় উৎসবের শোভাযাত্রা।
অতঃপর উৎসব থেমে যায়। পড়ে থাকে খালি হওয়া পানপাত্র এবং আধভাঙ্গা স্যুভেনির। থেমে যায় সবুজ রক্তক্ষরণ। ধীরে ধীরে মরে যেতে থাকে অন্ধকার। শুধু ঘড়ির কাঁটারা অবিশ্রান্ত গড়িয়ে চলে আরেকটি শুভসকালের মরীচিকার দিকে।
মন্তব্য
"ঘাসফুলের কী এক অপরূপ মখমল গালিচায় আমার দৈনিক হেঁটে চলা!
এই কথাটার মধ্যেই কি যেন এটা কোমলতা লুকিয়ে আছে ।
আসলেই এভাবেই বুঝি শুরু হয় প্রতিদিন নতুন করে শুভ সকালের মরীচিকার ।
কেমন আছেন ভাইয়া ?
লেখকের মন্তব্য
জ্বী, আমি ভালো আছি।
মখমল গালিচায় হেঁটে চলতে চলতে কখনো মনে হয়, কোলাহল এবং নীরবতার মধ্যে আসলে কোনো পার্থক্য নেই।
বাস্তবতা এবং মরীচিকা আসলে একই জিনিস। হাহাহা... কী উদ্ভট সব চিন্তা, তাইনা?
জটিল চিন্তা-ভাবনা।
লেখকের মন্তব্য
হুমম.. একটু জটিল। আবার একেবারেই সরল।
কেমন আছেন?
ঘাসফুলের কী এক অপরূপ মখমল গালিচায় আমার দৈনিক হেঁটে চলা!
শুভসকালে চকচকে রোদের সামিয়ানার নীচে গড়িয়ে যায় ঘড়ির কাঁটা।
আসে একলা দুপুর। সবুজ পাতাদের মিছিলের ভেতর ঢুকে পড়ে মিহি বাতাসের আততায়ী।
কিছু রঙ খুন হয়ে যায়।
"অপূর্ব"
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ
শুভসকালের মরীচিকা ।।।। এ বড় সান্দ্রকথা কবি !
সুখি মানুষের সাময়িক যন্ত্রণা কেটে উঠবে বেলাশেষে , অন্য কারো সারাজীবনেও নয়।
লেখকের মন্তব্য
সবার যন্ত্রণাকাতর সময়গুলো কেটে যাক, আলোয় আলোয় ভরে থাকুক এ-বেলা, ও-বেলা।
মন্তব্য করুন