ফরিদুল আলম সুমন-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

নিশুতি রাইতে খিড়কি দিয়া
এক টুকরা চান্দের আলো
আমার বুকের মাঝখানে আইসা পড়লে
অইখানে তোমার চেহারাখান দেখা যায়।
আমি নড়িচড়ি, আর তুমি হাস
তোমারে হাসতে দ্যাখলে
আমার খুব শরম করে।
আইচ্ছা কও
পুরুষ মাইনষের এত শরম থাকে?
গেলোবার জমির চাচার ছোট পোলাডার
খৎনার সময়
আমগো গায়েন দলের লগে
যখন গীত করতেছিলাম
তুমি হাশেমগো বাড়ির জানলা থেইকা
ছলিমা ফুপুরে জড়ায়ে ধরে
এমন হাসতেছিলা
দেইখা আমার গলায় য্যান
হাজার গায়েনের সুর উথলায়া উঠছিলো।
গীতের পরে ওস্তাদজী তো
আমারে জড়ায়ে ধরে হাসতে হাসতে খুন।
কয় জব্বর গাইলি তো আইজ
তোর গীত শুইনা মনে হইল
আইজ তুই-ই ওস্তাদ হয়া গেলি।
আমি জানি, আমার কী হইছিল।
তুমি যখন
আমার দিকে চায়া চায়া হাসতেছিলা
মনে হইছিল গেরামের বেবাক মানুষ
আমার গীত শুইনা হাসতেছে
আমারে বাহবা দিতেছে।
বেপারি চাচার ছোড ছেলেটা
তোমারে বিয়ে করার জন্যে
রমিজ ঘটকরে যখন
তোমাগো বাড়িতে পাঠালো
ইচ্ছা হইছিলো খুন কইরা ফালাই।
কোনোদিন কাউরে কই নাই
আইজ তোমারে কই
অই রাইতে
মায়ের কবরের পাশে গিয়া শুয়া আছিলাম
মায়ের কথা খুব মনে হইতেছিল
তোমার কথা খুব মনে হইতেছিল
বুক ঠেইলা কান্দন আসতেছিল
আইচ্ছা কও
পুরুষ মানুষ কি কান্দে?
আমার দোস্ত কাসেমরে তো চেনো
সেকেন্ড ডিভিশনে আইকম পাস দিয়া
অহন কাঁঠালতলী ইস্কুলের মাস্টার
অয় কি আর আমার মত মুখ্যুসুখ্যু মানুষ?
মাস্টার মানুষের কথার দাম আছেনা?
অয় কী কয় জানো?
অয় কইলো -
এই যে তোমারে হাসতে দ্যাখলেই
আমার খালি শরম করে
তোমার কথা হুনলেই
আমার খালি গান বান্ধনের ইচ্ছা হয়
তোমাগো বাড়িতে ঘটক আসলে
আমার খালি মায়ের কথা মনে হয়
এইডারে নাকি ভালোবাসা কয়।
তুমি কী কও?
মন্তব্য
চ ম ৎ কা র
চ ম ৎ কা র
খুব সুন্দর কবিতা।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ।
গল্পের মত কবিতাটা পড়তে সত্যিই খুব ভাল লাগল।
লেখকের মন্তব্য
আপনাকে ধন্যবাদ জনাব আচার্য। কেমন আছেন?
পুরুষমানুষের এত শরম আগেতো কোনখানে দেহি নাই
হায় আল্লাহ !
ও পরী ,( আমার চান্দের লাহান বইনটা) তুই ওর লগে পিরিত করিসনা !
লেখকের মন্তব্য
কাবাবমে হাড্ডি! পরীকে পিরিত না করতে প্ররোচিত করা হচ্ছে!!
লেখকের মন্তব্য
ভিন্ন ধাঁচের কবিতা মনয়!
লেখকের মন্তব্য
মন্তব্য করুন