ফরিদুল আলম সুমন-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

[স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, রাজাকার এসব বিষয়ে অতি সংবেদনশীল ব্যক্তিগণকে এই পোষ্ট না পড়ার জন্যে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি]
গ্রামের এক বাড়িতে রাতে ডাকাত এলো। জমি বিক্রি করে সেদিনই যে বাড়িতে টাকা এনে রাখা হয়েছে, তা ডাকাতদের জানিয়ে দিয়েছিলো দুষ্ট এক প্রতিবেশী। সবাইকে মারধর, হেনস্থা করে বাড়ির মূল্যবান জিনিসপত্র আর টাকা নিয়ে চলে যাবার সময় বাড়ির কর্তা শেষতক রুখে দাঁড়ালেন। এই ডাকাতদল এর আগেও গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে হানা দিয়ে সর্বস্ব লুটে নিয়েছে। নিজের পরিবার এবং পুরো গ্রামের স্বার্থে তিনি সাহসিকতার সাথে বাধা দিলেন। ডাকাতদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে প্রাণ হারাতে হলো তাঁকে। হৈচৈ হট্টগোল শুনে গ্রামবাসী ছুটে এসে একযোগে প্রতিরোধ সৃষ্টি করলো। ডাকাতদলের প্রায় সবাই ধরা পড়লো তাদের হাতে। উত্তম মধ্যম দিয়ে পরদিন তুলে দেয়া হলো পুলিশের হাতে।
ডাকাতের হামলায় বাবা মারা যাবার পর কিশোর তিন ভাই আর পড়ালেখা করতে পারেনি। গ্রামের কারো কারো পরামর্শে তারা বাবা মারা যাবার কাহিনী শুনিয়ে মানুষের কাছে সাহায্য চাইতে শুরু করে।
[চল্লিশ বছর পর]
তিন ভাইয়ের এই সাহায্য চাইবার প্রক্রিয়া ভিক্ষাবৃত্তিতে পরিণত হয়েছে। তারা এখন পুরোদস্তুর ভিক্ষুক। তাদের মুখে বাবা মারা যাবার কাহিনী শুনতে শুনতে গ্রামের মানুষ ত্যক্তবিরক্ত। অবশ্য তাদের বাবাকে ব্যক্তিগতভাবে চিনতো এমন দুয়েকজন যে মাঝেমধ্যে মুখে চুকচুক শব্দ করে আফসোস করেনা, তা নয়।
এর মধ্যে ডাকাতদলের পালিয়ে বাঁচা দুই সদস্য ভোল পাল্টিয়ে, মাফ চেয়ে গ্রামের মানুষের সাথে মিলেমিশে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। তাদের ব্যবসাবাণিজ্য, জায়গাজমি, ঘরবাড়ি সবই জৌলুসপূর্ণ। তাদের ছেলেপুলেগুলোর শরীরের চেকনাইও মাশাল্লাহ দেখার মত।
অসহায়ত্ব ও স্বজন হারানোর বেদনা কী করুণভাবে ওই তিন ভাইকে ভিক্ষুকে পরিণত করলো এবং ভিক্ষুক করেই রাখলো, সেটাই এখন ভেবে দেখার বিষয়।
আলাদা আলাদাভাবে ভিক্ষা করতে গিয়ে ওই তিন ভাই তাদের বাড়িতে ডাকাতি হওয়া এবং তাদের বাবা মারা যাবার গল্পটাও তিন রকম করে ফেলেছে। শুধু গ্রামের পুরনো মানুষজন ছাড়া কমবয়সীরা এখন তাদের কারোরই গল্প পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারেনা।
[আসলে যে কথা বলতে চাইছি]
চল্লিশ বছর আগে সময়ের প্রয়োজনে আমাদের দেশের মুক্তিকামী মানুষ যুদ্ধে নেমেছিলো। যারা স্বাধীনতার প্রয়োজনীয়তা বোঝেনি তারা বিরোধিতা করেছে।
আগামীকাল যদি দেশের মানুষ আরো একটি স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রয়োজন অনুভব করে, আমাদের অনেকেই সেই যুদ্ধে যোগ দেবেন। কেউ না কেউ নেতৃত্ব দেবেন। কেউ কেউ হয়তো আবারো বিরোধিতা করবেন। প্রয়োজনের তীব্রতা থাকলে এমন যুদ্ধ আরো চল্লিশ বছর পর কিংবা চারশ' বছর পর আবারো হবে।
একটু ভেবে দেখি, আমাদের দেশটা তো একসময় ভারতেরই অংশ ছিলো। ভারতকে স্বাধীন করার জন্যে বৃটিশবিরোধী আন্দোলনে যেসব ভারতীয় প্রাণ দিয়েছেন, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন কিংবা অন্যভাবে বীরত্ব দেখিয়েছেন, তাঁদের বীরত্বগাঁথা আমাদের এই প্রজন্মের মানুষগুলোর অনুভূতিকে কতটুকু স্পর্শ করে? আদৌ করে কি? অথচ তাঁরাও তো আমাদেরকে বৃটিশদের অত্যাচার থেকে রক্ষা করার জন্যেই প্রাণ দিয়েছিলেন।
একইভাবে যে মানুষটি মুক্তিযুদ্ধ দেখেননি, মুক্তিযুদ্ধের অনেক পরে যাঁর জন্ম তাঁকেও মুক্তিযুদ্ধের গৌরব, ব্যথা, বেদনা হয়তো ততটা স্পর্শ করবেনা, যতটা করবে তখনকার সময়ের কাউকে। এটাই বাস্তবতা।
[৩১ বার তোপধ্বনির খরচ ১২ হাজার টাকা]
এ বছর ১৬ ডিসেম্বরের শূণ্য প্রহরে বাংলাদেশেরই কোনো এক জেলায় ৩১ বার তোপধ্বনির জন্যে ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ হাজার টাকা। সহজ বাংলায় বললে ৩১টি পটকা ফোটানোর জন্যে খরচ করা হবে ১২ হাজার টাকা। এ টাকার পুরোটা পটকার পেছনে খরচ হবেনা। বেশিরভাগই লোপাট করা হবে।
এভাবে পুরো বাংলাদেশে বছরের ৩৬৫ দিন নানারূপে নানারকম পটকা ফোটানো হচ্ছে। সবাই পটকার আওয়াজ শুনতে পেলেও খরচ কত হচ্ছে আর লোপাটই বা কত হয়ে যাচ্ছে তা কেউই টের পাচ্ছিনা।
গল্পের গ্রামটিতে ডাকাতেরা ডাকাতি করেছে, ধরাও পড়েছে, গ্রাম ডাকাতমুক্ত হয়েছে। তিন ভাইকে পরিশ্রম করে সৎভাবে বেঁচে থাকার পরামর্শ না দিয়ে ভিক্ষুক হবার পরামর্শ কিন্তু ডাকাতরা দেয়নি, দিয়েছে তাদেরই গ্রামের লোকেরা। একইভাবে এই যে পটকাবাজি ফোটানোর পেছনে আমরা এত খরচ করছি, এটা কিন্তু পাকিস্তানীদের দোষ নয়। পাকিস্তানীরা অপশাসন, শোষন, নির্যাতন করে বাংলাদেশের যতটা না ক্ষতি করে গেছে, তার চেয়ে বেশি ক্ষতি করেছি গত চলি্লশ বছরে আমরা নিজেরাই।
'মুক্তিযুদ্ধের চেতনা' কথাটির চর্বিতচর্বন এখনকার জন্যে আর বাস্তবসম্মত নয়। কারণ দুর্নীতিমুক্ত স্বদেশ গড়া, তথ্যপ্রযুক্তি, বিজ্ঞান, উৎপাদন, শক্তিশালী বাণিজ্যনীতি, পররাষ্ট্রনীতি- এগুলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ছিলোনা। এসব কথা ভেবে কেউ মুক্তিযুদ্ধ করেননি। মুক্তিযুদ্ধের একটাই চেতনা ছিলো- শত্রুমুক্ত স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। লাখো শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে সে চেতনা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমরা বাংলাদেশ পেয়েছি।
কিন্তু এর পরের কাজটুকু আমরা মোটেও সফলভাবে করতে পারিনি। আমরা শুধু বাবা মারা যাবার গল্পটাই শুনিয়ে যাচ্ছি। তা-ও আবার তিন ভাই তিনরকম ভাবে।
বিজয় দিবসকে সামনে রেখে আমরা যতটা উৎসবমুখর হয়ে উঠেছি, ততটুকু উজ্জীবিত হতে পেরেছি কি? আমাদের মধ্যে যাঁরা ফেসবুকে প্রোফাইল পিকচার হিসেবে জাতীয় পতাকার লাল সবুজ ধারণ করেছেন, তাঁদের সবাই এ বছর যথাযথভাবে ট্যাক্স দিয়েছেন তো? আমরা যারা পাকিস্তানের ক্রিকেট টিমের সদস্যদের উদ্দেশ্যে জুতা প্রদর্শণ করি, তাঁরা সবাই নিজের বাড়ির ময়লাগুলো যথাস্থানে ফেলি তো?
যার যার নিজের পরিমন্ডলে যথাসাধ্য দুর্নীতিমুক্ত জীবনযাপন করছিতো? কোনোকিছু গ্রাস করার আগে একবার কি ভাবি, দেশের ক্ষতি হচ্ছেনাতো? যদি না ভাবি, তাহলে চল্লিশ বছর আগের পাকিস্তানীদের চেয়ে আমরাই আমাদের জন্যে বেশি ক্ষতিকর হয়ে আছি। আমাদেরকে এই ক্ষতিকর অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
আমরা একাত্তরে একবার স্বাধীন হয়েছি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করার পরও কেউ কেউ দাবী করেছিলেন বাংলাদেশ আরেকবার 'স্বাধীন' হয়েছে। নব্বইয়ে এরশাদের পতনের পর আরো একবার। বিএনপি সরকারের পতনের পর 'মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তির বিজয়ের' মাধ্যমে আরো একবার। আওয়ামী বাকশালীদের পতনের পর 'জাতীয়তাবাদী শক্তির বিজয়ের' মাধ্যমে আরো একবার।
এতোবার স্বাধীন হয়েছি বলেই কি আমাদের কাছে স্বাধীনতার দায়িত্ববোধটুকু ফিকে হয়ে আসছে?
ডাকাতদলের পালিয়ে বাঁচা দুই সদস্যকে গ্রামের মানুষ একবার ক্ষমা করে দিয়েছিলো। তারপর তাদের বিচার করতে আমাদের চল্লিশ বছর লেগে গেলো!
আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করতে চাই মুক্তিযুদ্ধের সব বীর সেনানীদের। শুধু বিজয়ের মাসে নয়, সারাবছর। মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়, মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর, সার্টিফিকেট, সম্মাননা, স্বাধীনতার ঘোষণা এসব নিয়ে আমরা বারেবারে বহুধাবিভক্ত হয়ে পড়ছি। নতুন প্রজন্মের কাছে সম্মান হারাচ্ছি। এ থেকেও আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। মুক্তিযুদ্ধকে ব্যবসা-বাণিজ্য, রাজনীতি অথবা স্রেফ হুজুগে ব্যবহার না করে যথাযথ সম্মানের জায়গায় রেখেই আমাদেরকে ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যেতে হবে।
আমাদের নতুন প্রজন্মকে এই মানচিত্রের জন্মের ইতিহাস জানানো যেমন জরুরী, তার চেয়েও বেশি জরুরী একে পৃথিবীর বুকে সমুন্নত করে রাখার পথ দেখানো। আমাদের লাল সবুজের পতাকা যেনো শুধু অতীতের ইতিহাস ধারণ করেই থেমে না থাকে, ভবিষ্যতের স্বপ্ন এবং তার বাস্তবায়নের ছকও যেনো সেখানে আঁকা হয়, তাহলেই প্রকৃত বিজয় আসবে।
মন্তব্য
ইনশাহল্লাহ
লেখকের মন্তব্য
ইনশাল্লাহ।
আমার কাছে এই লিখাখানা অসাধারণ মনে হলো। পুরো লিখাটায় দ্বিমত পোষণ করার মত কোন কিছুই পেলাম না। আমার দৃষ্টিতে
এর চেয়ে খাঁটি কোন কথা আছে বলে মনে হয় না। প্রতিদিন আমরা ঘুম থেকে ওঠে ভাবি দেশকে এগিয়ে নিতে হবে, কিন্তু দিনশেষে নিজেরাই নিজেদের পিছিয়ে দিই অনেকখানি। সময় এখন এমন, যেন নিজের পায়ে নিজেই কুঁড়োল মারছি।
লেখকের মন্তব্য
আমরা ক্রমাগত নিজের পায়েই কুড়োল মেরে চলেছি। তাই বিজয় দিবসে শপথ হোক সামনে এগিয়ে যাবার।
আমার মনের কথাগুলোর সাথে আপনার মনের
কথাগুলোর বেশ মিল তো। প্রিয়তে নিলাম
।তুলাদন্ড ৭........
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ আপনাকে। ভালো থাকুন প্রতিদিন।
লেখাটির সাথে ১০০ ভাগেরও বেশি একমত পোষণ করছি।
নিজেরা নিজেদের ঠিক না করলে কে করবে??
আমরা বাংলাদেশ যুদ্ধ ও রক্তের বিনিময়ে পেয়েছি, ভারতের মত রাতের অন্ধকারে নয়।
কিন্তু তারপরও তাদের দেশপ্রেম ও বীরদের প্রতি যে ভালোবাসা তা এক কথায় অসাধারণ।
তারা আজ কত উন্নতি করছে আর আমরা এখনোও সেই ভিক্ষুক!!!
লেখকের মন্তব্য
অতীতকে স্মরণ রাখতে হবে। ধরে বসে থাকলে হবেনা। আমরা অতীত ধরেই বসে থাকি, বিরোধে জড়াই, বিভক্ত হই। এটাই সমস্যা।
আপনার মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন।
আত্মসমালোচনামূলক রচনাটি অভিনন্দন যোগ্য। এভাবে লিখতে থাকুন। আরও এবং আরও। ভিত নড়াতে হবে আজ তাদের যারা ইতিহাস নিয়ে ব্যবসা করছে আর আপনার আমার মাঝে বিভেদ তৈরি করছে।
লেখকের মন্তব্য
ঠিক বলেছেন মাহবুব ভাই। আমরা আমাদের বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও কাজের মাধ্যমেই প্রকৃত মুক্তির স্বাদ পেতে পারি।
আপনার জন্যে শুভকামনা রইলো।
১। আপনি বলছেন "যারা স্বাধীনতার প্রয়োজনীয়তা বোঝেনি তারা বিরোধিতা করেছে।"
পাকিস্তানীরা আমাদের উপর এতো অন্যায় অত্যাচার করার পরো যদি কেউ "স্বাধীনতার প্রয়োজনীয়তা" না বোঝার ভান করে তবে তারা ছিল সুবিধাবাদী নীচ শ্রেনীর অমানুষ যারা পাকিস্তানীদের দেয়া রুটির টুকরো বেঁচে থেকতো।
২। লিখেছেন "বৃটিশবিরোধী আন্দোলনে যেসব ভারতীয় প্রাণ দিয়েছেন, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন কিংবা অন্যভাবে বীরত্ব দেখিয়েছেন, তাঁদের বীরত্বগাঁথা আমাদের এই প্রজন্মের মানুষগুলোর অনুভূতিকে কতটুকু স্পর্শ করে? "
আপনিতো এই প্রজন্মের , আপনার ভাবনায় যখন আছে, আপনিও কিন্তু তাদের শ্রদ্ধা করেন। বীর সৈনিক যারা সত্য ও ন্যায়ের জন্যে লড়েছেন তা যে দেশেরই হোক। ইতিহাসে বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা, দেশ কাল পাত্র ভেদে বিচার করা হয়না তাতে ইউরোপ , জাপান, এশিয়া বলে কিছু নেই।
৩।"একইভাবে যে মানুষটি মুক্তিযুদ্ধ দেখেননি, মুক্তিযুদ্ধের অনেক পরে যাঁর জন্ম তাঁকেও মুক্তিযুদ্ধের গৌরব, ব্যথা, বেদনা হয়তো ততটা স্পর্শ করবেনা, যতটা করবে তখনকার সময়ের কাউকে। এটাই বাস্তবতা।"
আরমেনিয়ানদের জেনোসাইটের কথা আমরা সবাই জানি। আজো কি তিব্র সে প্রতিবাদ ! শত বছর পেরিয়ে গেছে এটি মাঝে। নতুন প্রযন্মের কন্ঠ সোচ্চার।
৪। "'মুক্তিযুদ্ধের চেতনা' কথাটির চর্বিতচর্বন এখনকার জন্যে আর বাস্তবসম্মত নয়।"
সহমত হতে পারলাম না , পারবো না হয়তো কোনদিন। আমাদের শক্তি , আমাদের অহঙ্কার আমাদের মুক্তিযুদ্ধ। আমি মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি। অনুভব করতে পারি তা কতটা ভয়াবহ ছিলো আমার পিতামহের জীবন।
৫। "কারণ দুর্নীতিমুক্ত স্বদেশ গড়া, তথ্যপ্রযুক্তি, বিজ্ঞান, উৎপাদন, শক্তিশালী বাণিজ্যনীতি, পররাষ্ট্রনীতি- এগুলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ছিলোনা। এসব কথা ভেবে কেউ মুক্তিযুদ্ধ ।আমরা বাংলাদেশ পেয়েছি।কিন্তু এর পরের কাজটুকু আমরা মোটেও সফলভাবে করতে পারিনি। "
আমাদের দেশের উন্নতি ও সাফল্যে "মুক্তিযুদ্ধের চেতনা" অন্তরায় নয় , সহায়ক। ন' মাসে দেশ স্বাধীন হয়েছে , আমরা কেন পারবো না তথ্যপ্রযুক্তি, বিজ্ঞান, উৎপাদন বাণিজ্যনীতি, পররাষ্ট্রনীতিতে আরো শক্তিশালী হতে ?
৬। "আমাদের মধ্যে যাঁরা ফেসবুকে প্রোফাইল পিকচার হিসেবে জাতীয় পতাকার লাল সবুজ ধারণ করেছেন, তাঁদের সবাই এ বছর যথাযথভাবে ট্যাক্স দিয়েছেন তো? আমরা যারা পাকিস্তানের ক্রিকেট টিমের সদস্যদের উদ্দেশ্যে জুতা প্রদর্শণ করি, তাঁরা সবাই নিজের বাড়ির ময়লাগুলো যথাস্থানে ফেলি তো? যার যার নিজের পরিমন্ডলে যথাসাধ্য দুর্নীতিমুক্ত জীবনযাপন করছিতো? কোনোকিছু গ্রাস করার আগে একবার কি ভাবি, দেশের ক্ষতি হচ্ছেনাতো? "
সহমত, শুধু আমি আর আপনি কেন দেশের লক্ষ কোটি মানুষ তাই মনে করে। সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে ঘরে ঘরে।
পরিশেষে বলবো :
শুধু গুটিকয়েক সুবিধাবাদী অমানুষের সাথে আমাদের এবারের যুদ্ধ। আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, কঠিন এ পারাপার, কিন্তু আমরা জয়ী হবই ! সমস্যায় জর্জরিত থাকা পরেও পৃথিবীর অন্য অনেক দেশ থেকে আমরা দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছি। নানা দেশের লোকের ভীড়ে কখনই নিজেকে অসহায় মনে হয়নি বরং গর্ববোধ করেছি।
যখন সারা পৃথিবী ৫২ র ভাষা আন্দোলন , ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ , দ্রারিদ্র বিমোচনে সাফল্য (গ্রামীন ব্যাংক) , বানিজ্যে (তৈরিপোশাক ও অন্যান্য) ও মেধার প্রশংসা করে ও ভৌগলিক কারনে বাংলাদেশকে এশিয়ার একটি সম্ভাবনাময় দেশ বলে মনে করে।
এখন শুধু সামনে এগিয়ে যাবার পালা। হয়তো বলবেন ৪০ বছরে এ দেশ কি বা পেলো , বলবো ৫২ থেকে ৭১ তারপর ২০১১ মাথা উচুঁ করে দাড়িয়ে আছি পৃথিবীর ৬ষ্ঠ স্থান অধিকারী - বাংলা ভাষী একজন!
এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দেশ --- বাংলাদেশ।
লেখকের মন্তব্য
জ্বী, এরা সুবিধাবাদী নীচ শ্রেণীর মানুষ। কোনো সন্দেহ নেই।
সব দেশেই বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শণ করা হয়। তবে আমাদের মতন এত বাস্তবতাবিমুখ, স্মৃতিকাতর জাতি বোধহয় আর দ্বিতীয়টি নেই।
সামনে এগিয়ে যাবার, মাথা তুলে বেঁচে থাকার সব আয়োজন ঠিক রেখেই হয়তো তাঁরা সোচ্চার থাকেন। আমাদের মত বহুধাবিভক্ত হয়ে নিশ্চয়ই নয়।
এই অনুভবটা আমিও করতে পারি। তবে বেদনায় ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ে না থেকে নিজেরা উন্নত হয়েইতো জবাব দেয়া যায় যত অন্যায়, অবিচারের।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আমাদের উন্নতি ও সাফল্যের অন্তরায়- এমনটা বোঝাতে চাইনি। বোঝাতে চেয়েছি এখন আমরা কথায় কথায় 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনা', 'স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তি'- কথাগুলো যেখানে সেখানে ব্যবহার করতে করতে হালকা করে ফেলছি। ভেতরের বোধটুকু হারিয়ে শুধু শব্দগুলো নিয়েই ব্যস্ত থাকছি।
এই এগিয়ে যাবার কথাটাই আমি বলতে চেয়েছি। তবে পৃথিবীর অন্য কোন কোন দেশ থেকে আমরা দ্রুত এগুচ্ছি একটু জানতে ইচ্ছে হয়। সিয়েরা লিওন, উগান্ডা, ঘানা- এগুলোর কথা বলছেন? এসব দেশকে মাপকাঠি ধরে নিজেদের এগুনোতে যদি সুখবোধ করেন, তাহলে আমি আপনার মতের সাথে থাকতে পারছিনা।
পৃথিবীতে সম্ভাবনাময় নয় এমন কোনো দেশ আছে কি? নিজেদের ভুলগুলো শুধরে নিয়ে সঠিক পথে এগুতে পারলে মরুভূমিতেও ফুল ফোটানো সম্ভব। বাংলাদশেকে আমরা যত শতবার 'সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা' বলি, তার চেয়েও বেশি সুজলা সুফলা সবুজ দেশ আমি দেখেছি। তারা সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা প্রাকৃতিক রিসোর্সের উপযুক্ত ব্যবহার করে, এগুলো নিয়ে এতো জাবর কাটেনা।
একাত্তর, গ্রামীণ ব্যাংক, পোশাকশিল্প এগুলো আমাদের হাজারো ব্যর্থতার মাঝে দুয়েকটি সাফল্য। ফাইনালি এগুলোকেও কি আমরা নিষ্কলুষ রাখতে পেরেছি? গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ, পোশাকশিল্পের অব্যবস্থাপনা, একাত্তর নিয়ে আমাদের মজ্জায় স্থায়ীভাবে বাসা বাঁধা বিরোধ আমাদের এসব অর্জনকেও ফিকে করে দেয়নি?
যে হারে বাংলাদেশে বাংলাভাষীর সংখ্যা বাড়ছে, তাতে অচিরেই হয়তো প্রথম স্থানে চলে আসবো আমরা। তাতে কি মাথা আরো উঁচু হবে বলে মনে করেন?
কোন কোন দিক দিয়ে শক্তিশালী সময় পেলে একটু লিখবেন, শিখতে চাইছি।
আমি যখন দেশের বাইরে থাকি কিংবা থাকতাম, ওখানকার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে সুশৃঙ্খল পরিবেশে কাজ করার সময় বাংলাদেশের ব্যাপারে একটা অতি উচ্চমার্গীয় দরদ কাজ করতো। দূরে থাকলে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু দেশে যখন ৮০ টাকার সিএনজির দূরত্ব ২৫০ টাকায় যেতে হয়, যখন এক ঘন্টার রাস্তা সাড়ে চার ঘন্টায় পেরোতে হয়, যখন পুলিশ ও বিচার বিভাগের লোকজনের বিরুদ্ধেও কথা ওঠে, অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তখন সত্যিই বাংলাদেশের নাগরিক হওয়াটা কতটা গৌরবের তা নিয়ে অন্তর্দ্বন্দ্বে ভুগতে শুরু করি। এটা আমার বোধের দূর্বলতাও হতে পারে।
দূরে থাকলে এটাই স্বাভাবিক।
সুমন , এতকাল ভেবেছি আমি আপনার কাছ থেকে এক ক্লিক দুরত্বে আছি। এভাবে এক নিমিষে আপনি !
থাক , আজ আর কোন কথা নয়।
লেখকের মন্তব্য
দূরত্ব আমরাই রচনা করি আমাদের মনের ভেতর। যদি ভাবি আমরা এক ক্লিকের দূরত্বে, তাহলে তা-ই। যদি ভাবি আমাদের দূরত্ব এক সহস্র আলোকবর্ষ, তাহলে ওটাই আমাদের দূরত্ব।
আশাকরি বুঝবেন। ভালো থাকুন আজ, কাল এবং আগামীতেও।
ভাল পোষ্ট।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ সাহাদাত ভাই।
লেখকের মন্তব্য
নম্রতার মন্তব্যের কয়েকটির সাথে আমি একমত। কয়েকটির সাথে দ্বিমত পোষন করেছি। আলোচনায় এলে অনেককিছুই শেখা যায়। আমি তা-ই চেষ্টা করছি।
ভালো থাকবেন বেশি বেশি।
ভাল লেগেছে।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ ডাইনোসর। ভালো থাকুন প্রতিদিন।
সুচিন্তিত সুলিখিত সময়োপযোগী পোস্ট। লেখকের মতামত শ্রদ্ধার সাথে গ্রহণযোগ্য। নম্রতার মন্তব্যও বিবেচনা বহির্ভুত নয়। কোনটা ভালো তা না জানবার, না বুঝবার কিছুই নেই - দরকার শুধু সেই ভালোটুকুকে কাজে লাগানো। মানসিকতা সে ভাবে গড়ে তুললে বা গড়ে উঠলেই সমস্যার প্রায় সবটুকু মিটিয়ে ফেলা অসম্ভব কিছু নয়।
অভিনন্দন ভাই সুমন।
ভালো থাকুন।
লেখকের মন্তব্য
নম্রতার মন্তব্যের কয়েকটির সাথে আমি একমত। কয়েকটির সাথে দ্বিমত পোষন করেছি। আলোচনায় এলে অনেককিছুই শেখা যায়। আমি তা-ই চেষ্টা করছি।
ভালো থাকবেন বেশি বেশি।
ভালো লাগা
ভালো থাকুন
লেখকের মন্তব্য
আপনিও ভালো থাকবেন নাদেখা গোলাপ। আপনি নাদেখা গোলাপ বলেই কি প্রোফাইল ছবিতে গোলাপ জাতীয় কিছু দেখতে পাচ্ছিনা?
চল্লিশ বছর আগে সময়ের প্রয়োজনে আমাদের দেশের মুক্তিকামী মানুষ যুদ্ধে নেমেছিলো। যারা স্বাধীনতার প্রয়োজনীয়তা বোঝেনি তারা বিরোধিতা করেছে।
কী চমৎকার সাফাই গাইলেন!!!
পাকিদের জুতা প্রদর্শনাকারীদের প্রতি আপনার উষ্মাও চোখে পড়ার মতো
লেখকের মন্তব্য
আমি আসলে সাফাই গাইনি। ক্রোধ মানুষের সৃজনশীলতাকে বিনষ্ট করে। আমাদের দেশের যারা স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিলো, তাদের বিরুদ্ধে মনের ভেতর জমে থাকা ক্রোধটাকে ভবিষ্যত বিনির্মাণের প্রয়োজনেই চাপা দিয়ে রাখতে চেয়েছি। আরো বৃহত্তর প্রতিশোধ নেবার জন্যেই।
পাকিস্তানীদের জুতা প্রদর্শণ করার মধ্যে আমি সত্যিই কোনো বীরত্ব দেখিনা, দেখিনা সভ্যতার নিদর্শণও। জুতা প্রদর্শণের চেয়ে আমি বেশি সমর্থন করি অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক, কূটনৈতিকভাবে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে জাতীয়ভাবে পাকিস্তানকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা। জুতা প্রদর্শনের অর্জনটা কী- একটু বলতে পারবেন? একজনকে গালি দিলে শুধু পরিবেশটাই দূষিত করা হয়না, নিজের মগজটাকেও বিক্ষিপ্ত করা হয়।
স্বাধীনতার প্রয়োজন না বুঝে তারা রাজাকার, আলবদর প্রভৃতি খুনিবাহনির জন্ম দিল? প্রয়োজন না বুঝে তারা হত্যা-ধর্ষণ-লুণ্ঠন চালালো? এই সবই স্বাধীনতার প্রয়োজন না বুঝে করেছে? আর এটা আমাদের ক্রোধ, নাকি ন্যায় বিচার পাওযার আকাঙ্খা?
পাকিদের জুতাপ্রদর্শনীতে বীরত্ব নেই, কিন্তু ঘৃনা প্রকাশ আমরা করতেই পারি; তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা আত্মসমালোচনা কর প্রশ্নেরই জন্ম দেয়।
তবে আপনি যেভাবে পরিবেশ নিয়ে চিন্তত হয়ে পড়েছেন তাতে মনে হচ্ছে 'ম্যারি মি আফ্রিদি' মতো ভাতৃত্বসুলভ লেখাটাকেই কাঙ্খিত মনে হচ্ছে!!! যেহেতু এটা গালি নয়, মগজ এবঙ পরিবেশ কোনটাই দুষিত হওয়া সম্ভাবনা নেই!!
ও, বলে রাখি, আপনার লেখার মুল ভাবে সাথে খুব দ্বিমত নেই। তবে বাংলাব্লগস্ফিয়া বড়ই বিচিত্র, সেই কারনে দ্বিমতগুলো স্পষ্ট করছি।
লেখকের মন্তব্য
প্রয়োজন না বুঝে কথাটি ব্যবহার করে আমি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাওয়া কিংবা বিচার হওয়ার কোনো বিরোধিতা করিনি। ন্যায়বিচার পাবার আকাঙ্ক্ষার সাথে আমি মনেপ্রাণে আছি। ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে বারবার ভুল করার পক্ষেই নেই শুধু। বর্তমানে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের যে প্রক্রিয়া চলছে এমন বাস্তবসম্মত প্রক্রিয়ার সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে বলতে চাই- বিগত চল্লিশ বছরে আমরা শুধু 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনা' কথাটি নিয়েই ব্যস্ত ছিলাম। কাজ করিনি। কাজ করলে বহু আগেই এদের বিচার করা যেতো। আমার অসন্তোষ এই 'কাজ না করার' ব্যাপারেই।
আমরা সমস্যার মূলে আঘাত হানার মত বুদ্ধিমান হয়ে উঠতে পারছিনা, শুধু ওপর দিয়ে ঢিল-পাটকেল ছুঁড়তে অভ্যস্ত। তাই আবারো বিনীতভাবে বলতে চাই- জুতা প্রদর্শণের সাথে আমি নেই। বাংলাদেশ কেন পারলোনা আন্তর্জাতিকভাবে চাপ প্রয়োগ করে, জনমত গঠন করে আইন-কানুন, কনভেনশন, একর্ড- এসবের আলোকে পাকিস্তানকে জাতীয়ভাবে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করতে? যদি ক্ষমা না চায়- তাহলে পাকিস্তানের সাথে সমস্ত কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে পারাতো উচিত ছিলো কমপক্ষে। পেরেছে? পারেনি। কারণ, আমরা জুতা প্রদর্শণ আর হৈচৈ করেই ক্লান্ত হয়ে গেছি। আসল কোপটা মারার সময়ই পাইনি।
আর 'ম্যারি মি আফ্রিদি'? এরা তো জুতা প্রদর্শণকারীদের চেয়েও বড় আহাম্মক। এরা আলোচনার বিষয়বস্তু হবারও যোগ্য নয়।
লেখার মূল ভাবের সাথে একমত পোষন করলেন বলে আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। দ্বিমত প্রকাশ করলেন বলে আমিও তো কিছু শিখতে পারলাম। আশা করি এমন আলোচনা-সমালোচনায় ভবিষ্যতেও সাথে থাকবেন।
ভালো থাকুন প্রতিদিন।
লেখাটা পড়েছি। মূল ভাবের সাথে আমি একমত, যে আমরা একটা দেশ পেয়ে সেটাকে নিজেদের মতো গড়ে নিতে পারি নি। প্রথমত দায়ী ছিল মুক্তিযুদ্ধোত্তর প্রথম প্রজন্ম। তারা একে একে সরে গেছেন নানা কারণে, নানা সীমাবদ্ধতায়। আর খারাপরা জায়গা করে নিয়েছে। ভালোরা শূন্যস্থান ফেলে গিয়ে সবচেয়ে বড়ো ভুলটা করেছিলেন। সেই ভুলেই একের পর এক হত্যা, লুঠ, দূর্নীতি, সামরিক শাসন ইত্যাদি।
তবে, আপনার লেখায় এই আত্মবিশ্লেষণের তুলনা কেন পাকিস্তানের গণহত্যার সাথে এলো এটা নিয়ে ভাবছি।
আসলেই?? এই লাইনটা পড়ে বিস্মিত হলাম! ঠিক কোন দৃষ্টিতে ৩০ লক্ষ হত্যাকে আপনি দাড়িপাল্লায় তুলেছেন? একটা এথনিক ক্লেনজিং করতে চেয়েছে পাকিস্তান, আমাদের দেশের যাবতীয় সমস্যাকে যোগ করেও তো তার সমান হবার কথা না। আমি এখুনি এই কথাটা নিয়ে ভাবছি। আপনি কেন মনে করেন যে পাকিস্তানিদের অত্যাচার এভাবে তুলনাযোগ্য, তা বিস্তারে জানান।
আরো কিছু বাক্য স্বভাবতই প্রশ্নের উদ্রেক করে। উপরে এসেছে। আশা করবো আপনি ব্যাপারগুলো ব্যাখ্যা করবেন।
লেখকের মন্তব্য
পাকিস্তান যে এথনিক ক্লিনজিং করতে চেয়েছিলো- তার আক্রমনটা ছিলো এক্সটারনাল সোর্স থেকে। ওটা খোলা চোখে দেখা গেছে। আমরা অনেক প্রাণের বিনিময়ে সেটা প্রতিহত করেছি। বিজয়ীও হয়েছি। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আমরা যেমন প্রতিবাদ করেছি, বিশ্বের অনেকেই প্রতিবাদ করেছে।
কিন্তু আমরা এখন প্রত্যেকটি সেক্টরে আকন্ঠ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়ে, প্রতিটি ক্ষেত্রে বহুধাবিভক্ত হয়ে, প্রতিটি ক্ষেত্রে অদূরদর্শিতার পরিচয় দিয়ে নিজেদের যে ক্ষতিটা করে চলেছি, এগুলো আমাদের বেশিরভাগ মানুষই দেখতে পাচ্ছিনা। দেখতে পেলে এমন কেন? দেখতে পাচ্ছিনা বলেই এই রোগগুলো আমাদের জন্যে আরো বেশি ভয়াবহ। নির্ণীত রোগ নিরাময় করা সহজ, যে রোগ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা- সেটা প্রাণসংহারী।
আপনার প্রশ্নের উত্তর পেলেন কীনা দয়া করে জানাবেন।
আমার কথাটা ছিল - যে খুনের বিচার হয় নি, যেটার জন্য পাকিস্তান ক্ষমাও চায় নি, সেটার সাথে বাংলাদেশের পরবর্তী আর কোনো বিচ্যুতিকে তুলনা করা ঠিক না। আগে বিচার হোক। মীমাংসিত সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক। শর্মিলা বোস আর রুবাইয়্যাতদের ইতিহাস-বিকৃতি থামুক। তারপর এইটাকে নিরপেক্ষ ও নির্মোহ দৃষ্টিতে দেখা যাবে।
কোন তুলনায় না গিয়েও বাংলাদেশের সমস্যার কথা বলা যায়। আর পাকিস্তানের ব্যাপারে আলোচনা বাংলাদেশের সমস্যার সাথে মিউচুয়ালি এক্সক্লুসিভ।
লেখকের মন্তব্য
আপনার সুচিন্তিত মতামতের জন্যে ধন্যবাদ। কথাগুলো আমাকে ভাবাচ্ছে। আশা করি ভবিষ্যতেও আলোচনা সমালোচনায় সাথে থাকবেন। শুভকামনা রইলো অনীক ভাই।
পাকিস্তানীরা অপশাসন, শোষন, নির্যাতন করে বাংলাদেশের যতটা না ক্ষতি করে গেছে, তার চেয়ে বেশি ক্ষতি করেছি গত চলি্লশ বছরে আমরা নিজেরাই।
এই কথাটির সঙ্গে আমি একশ পার্চেন্ট সহমত পোষন করছি, আমি নিজেও বিশ্বাস করি পাকিস্তানীরা অপশাসন, শোষন, নির্যাতন করে বাংলাদেশের যতটা না ক্ষতি করে গেছে, তার চেয়ে বেশি ক্ষতি করেছি গত চলি্লশ বছরে আমরা নিজেরাই। আমরা স্বাধীনতার মাত্র চার বছরের মাথায় আমাদের জাতির জনক তথা স্বাধীনতার নির্মাতাকে সপরিবারে হত্যা করেছি, যেটা পাকিস্তানীরাও করতে সাহস পায়নি। গত চল্লিশ বছরে আমরা অসংখ্য মুক্তিযুদ্ধাকে হত্যা করেছি যারা দীর্ঘ নয় মাস পাকিদের বিরুদ্ধে বীরত্বের সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে ছিলেন। আমরা আমাদের দেশকে দূর্নীতিতে বহুবার চাম্পিয়ন বানিয়েছি। দেশকে সন্ত্রাস আর চাদাঁবাজীর চারণ ক্ষেত্র বানিয়েছি। এইতো সেদিন আমরা আমাদের সেনাবাহিনীর ৫৭ জন সদস্যকে ঠান্ডা মাথায় নির্মম ভাবে হত্যা করেছি (বিডিআর হত্যাকান্ড), পুরো মুক্তিযুদ্ধেও একসঙ্গে আমাদের এতো বিপুল সংখ্যক পদস্থ সেনা অফিসার নিহত হোননি। আমাদের এমন আত্মবিধ্বংসী কার্যকলাপের আরো অনেক উদাহরন চাইলেই ভুরি ভুরি দেয়া যাবে। এই সব কার্যকলাপের মাধ্যমে আমরা আমরা আমাদের স্বাধীনতার মূল চেতনাকেই শুধু বিনষ্ট করিনি, জাতি হিসেবে মাথা উচুঁ করে দাঁড়ানোর সকল সম্ভাবনাকেও একে একে নস্যাৎ করেছি। পাকিস্তানীরা ত্রিশ লক্ষ মানুষকে হত্যা করে বাঙালির হৃদয়ে যে ক্ষত তৈরী করেছে তা কখনোই নিরাময় যোগ্য নয়, কিন্তু বাস্তবতা হলো সেই পৈশাচিক নির্মমতা এখন ইতিহাস, দীর্ঘ পাকিস্তানী শাসনের শোষণ- বঞ্চনার ভয়াবহ ক্ষতি এখন অতীত । কিন্তু বর্তমানে আমরা সততা নৈতিকতা এবং দেশপ্রেম জলাঞ্জলি দিয়ে আমাদের ভবিষ্যতের মূলে যেভাবে কুঠারাঘাত করে চলেছি তা সত্যি চিন্তার বিষয়। তাই সময় এসেছে এখন আত্মবিশ্লেষণের এবং আত্মশুদ্ধির। নয়তো আমাদের সামনে কেবলই ঘোর অমানিশা। ধন্যবাদ ফরিদুল আলম সুমন, এমন সুচিন্তিত সুলিখিত সময়োপযোগী একটি পোস্ট দেয়ার জন্য।
লেখকের মন্তব্য
শ্রদ্ধেয় ঈশান মাহমুদ, অন্য একটি ব্লগে আমার এই পোস্টটির একটি মন্তব্যের জবাব দিতে আপনার কথাগুলো হুবহু কপি করতে হয়। আপনার অনুমতি চাইছি।
আমি খুবই সন্মানিত বোধ করছি। অনলাইনে কপি পেস্ট করতে গিয়ে অনেকেই অনুমতি নেয়ার সাধারন সৌজন্যতা টুকু প্রকাশ করতেও কার্পণ্য করে। আপনি সানন্দে আমার লেখা যেখানে খুশী ব্যবহার করতে পারেন। ফরিদুল আলম সুমন, আপনার প্রতি শুভকামনা রইল।
লেখকের মন্তব্য
অনুমতি দিলেন বলে ধন্যবাদ। সত্য ও সুন্দরের চর্চায় সাথেই থাকবো। আশা করি আপনিও থাকবেন। শুভেচ্ছা অনেক অনেক।
আপনার পোস্টের বেশির ভাগ কথার সাথেই একমত ।
তবে দ্বিমত সেই জায়গায় - যাদের পরিবার, আত্মীয়স্বজন স্বাধীনতা যুদ্ধে নিহত হয়েছে তাদেরকে কোন রকমের স্তোকবাক্য বা কোন কিছু দিয়েই তাদের ক্ষতিপূরন করা সম্ভব নয় ।
তবে স্বাধীনতা অর্জনের চে স্বাধীন ভাবে মাথা তুলে বাচা কঠিন - এইটা বার বার উপলব্ধি করি।
লেখকের মন্তব্য
যাদের পরিবার, আত্মীয়স্বজন স্বাধীনতা যুদ্ধে নিহত হয়েছেন, কোনো সান্তনার বাণীতেই তাঁদের সেই ক্ষতিপূরণ হবার নয়।
শুধুমাত্র একটি স্বনির্ভর, উন্নত জাতি গড়ে তোলার মাধ্যমে তাঁদের কিছুটা হলেও সান্তনা দেয়া সম্ভব বলে আমি বিশ্বাস করি। শহীদদের আত্মত্যাগকে কিছুটা হলেও সম্মানিত করা সম্ভব বলে মনে করি।
ভালো থাকুন প্রতিদিন।
বিজয়ের লাল-সবুজ শুভেচ্ছা রইল।

লেখকের মন্তব্য
আপনাকেও শুভেচ্ছা জনাব ঈশান মাহমুদ।
অনেক জোড়া চোখের অশ্রু দিয়ে দেশ কিনেছি। এখন সময় তা হাসিতে ভরানোর। দুই পরিবার বিলুপ্ত হোক।
লেখকের মন্তব্য
এই পোস্টটির মন্তব্য আর মন্তব্যের জবাবে নম্রতা, প্রণব আচার্য্য, অনীক, ঈশান মাহমুদ এবং পোস্টের লেখক ফরিদুল আলম সুমন যে বুদ্ধিমত্তা ও সহনশীলতার দৃষ্টান্ত দেখিয়েছেন তা অভিনন্দনযোগ্য। তাদের সকলকে আজ এই বিজয় দিবসে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন।
সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। আপনাদের ভালোবাসা অটুট হোক।
ব্লগিং হোক মননশীল, শুভ ব্লগিং।
লেখকের মন্তব্য
আমিও এই ব্লগের সদস্যদের সহনশীলতায় মুগ্ধ হয়েছি। এখানে ব্লগিং করে স্বস্তিবোধ করছি।
মূল্যায়নের জন্যে আপনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি জনাব নাজমুল হুদা। শুভকামনা অবিরত।
মন্তব্য করুন