ফারহান দাউদ-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

কখনো এমন কারো, কোন গান শুনেছেন যেটা শুনে মনে হয়েছে জীবনটা আসলে বৃথা গেল, কারণ আপনি এমন একটা কিছু সৃষ্টি করতে পারেননি? মনে হয়েছে যে কোন একটা যন্ত্রে টোকা দিয়ে এমন একটা সুর তুলতে পারেননি বলে পৃথিবীতে আসাটাই অর্থহীন হয়ে গেল? মনে হয়েছে যে এমন কয়েকটা কথা লিখতে পারিনি, যে কথাগুলো আসলে এভাবেই বলা উচিত, এভাবেই বলে গেছে কেউ একজন, হয়তো আমিও এটা বলতে পারতাম কিন্তু পারিনি, তাহলে কি করলাম এক জীবনে? কোথাও একটা দাগ দূরে থাক, একটা আঁচড়ও রাখা গেল না, কারণ এমন একটা গান সৃষ্টি করা গেল না, গীটারে এমন কয়েকটা টোকা দেয়া গেল না, কাগজে এমন ক'টা বাক্য তোলা গেল না?
ঠিক এমন একটা অনুভূতি হয়েছিল, এক বর্ষাভেজা হিমেল রাতে যখন প্রথম শুনি পিংক ফ্লয়েডের "কামিং ব্যাক টু লাইফ"। এমন নয় যে পিংক ফ্লয়েড আগে কখনো শুনিনি, সর্বকালের সেরা ব্যান্ডগুলোর মাঝেও ব্যতিক্রমী এই দলের কিংবদন্তীসুলভ একেকটা গানের সাথে পরিচিত নয় এমন গানপাগল আছে বলে মনে হয় না। এই দলটাকে শুধুই একটা গানের দল বলে ছেড়ে দিলে তাদের প্রতি অন্যায় বা মিথ্যাভাষণ যা হোক, সেটাই করা হয়। নিজেদের সম্পর্কে তাদের নিজেদের মূল্যায়ন--"শুধু গান বা সুর জানলেই পিংক ফ্লয়েড হওয়া যায় না, হতে হবে দার্শনিক, জানতে হবে পিংক ফ্লয়েডের জীবনদর্শন"। অবশ্য সর্বকালের সেরা ক'জন গীটারিস্ট আর লিরিসিস্টের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা দলটি শুধু তাদের মিউজিকের জন্যই অনন্য হতে পারতো, কিন্তু কথা, সুর আর গানের পেছনে অন্য গান নিয়ে পিংক ফ্লয়েডের সৃষ্টি তারচেয়েও বেশি কিছু, সবকিছুর সমন্বয়ে এদের একেকটা গান একেকটা "শিল্পকীর্তি", শুধু রঙ বা তুলি বা ক্যানভাস নয়, মন আর দর্শনের সাথে মিলেমিশে গিয়ে একেকটা "পিস অভ আর্ট"। যখন কেউ শুনবে "অ্যানাদার ব্রিক ইন দ্য ওয়াল" বা "হাই হোপস", কোথাও যার বিদ্রোহী চিৎকার আবার কোথাও অতীতের আর্তনাদ, কোথাও খুব গভীরে ডুবে যাবে শ্রোতা, যেখান থেকে নিজে তুলে আনা সম্ভব নয় এমন কোন পাতাল থেকে উঠে আসা অচেনা কোন একটা অনুভূতিতে আচ্ছন্ন হয়ে ভাবতে হবে, হ্যাঁ, এভাবেই হয়, এভাবেই হওয়া উচিত।
তো, কামিং ব্যাক টু লাইফ শোনার জন্য ঠাণ্ডা শীতল নিশিযাপনের দরকার হলো কেন? হতে পারে পিংক ফ্লয়েডের গান ঠিক সাদা কথায় প্রকাশ করার জন্য নয়,ঠিক হুল্লোড়ের মাঝে থাকার জন্য নয়, মনের অতল থেকে যে অনুভূতির বাষ্প তুলে আনতে চায় ওরা তার জন্য হয়তো চারপাশ থেকে বিচ্ছিন্নতার দরকার হয়। প্রথমবার এই গানটা শুনেছিলাম কোন এক বাসায়, চারপাশে লোকজনের ক্যাঁচম্যাচ, তারমাঝে মনে হয়েছিল গানটা বেশ, অতটা মাথায় ঢোকেনি তখন, কিন্তু এরপরে আর লিরিক মনে নেই, গানটাও খোঁজা হয়ে ওঠে না, শুধু শেষ লাইনটা মনে ছিল। অনেকদিন পর, নানা কারণে বিক্ষিপ্ত মন, বসে আছি কোন এক রাতে যেমন থাকি রাতের পর রাত, কাজ নেই , ঘুম পায় অথচ ঘুমাতে ইচ্ছা করে না, মনে হল কিছু একটা খুঁজি, খুঁজলাম,পেলাম, শোনা শুরু করলাম, জীবনের কাছে ফেরা শুরু করলাম।
শুধু এটুকুই মনে আছে, পরেরদিন অফিস যেতে দু'ঘণ্টা দেরি হয়ে গিয়েছিল, কারণ ঝিম ধরে শুনতে শুনতে ঘুমের কথা খেয়াল হলো রাত ভোর হবার পর যখন আলো এসে জানালা দিয়ে উঁকি দেয়া শুরু করলো। ছোট্ট দু'একটা টোকা গীটারে, এরপরে একটু প্রলম্বিত, তারপর অসাধারণ গলায় দীর্ঘ টানে যখন শুরু হলো --"হোয়্যার ওয়্যার ইউ হোয়েন আই ওয়াজ বার্নড অ্যান্ড ব্রোকেন?", পিংক ফ্লয়েডের সাথে শুরু হলো নিজের ভাঙাচোরা দুমড়ে যাওয়া অস্তিত্বের মাঝে নিজেকে খোঁজার পালা। খুব সহজ কথা, হারিয়ে যাওয়ার কথা, একদৃষ্টে তাকিয়ে শূন্যতায় কেটে যাওয়া রাত-দিনের কথা, সময়ের হিসেব ভুলে যাওয়া সময়ের কথা, চারদিক ঘিরে রাখা ঝড়ের কথা, বাইরে তখন টিপটিপ বৃষ্টি, আর নিঃস্তব্ধ রাতের সাথে পিংক ফ্লয়েডের গীটার সলো, তারগুলোতে টোকায় কোন একটা আর্তনাদ, কোন একটা অজানা অনুভূতি বাকি সবকিছু থেকে আলাদা করে দিচ্ছে একজন মানুষকে, কোথা থেকে আসে এমন এক অপার্থিব অনুভব?
সেদিন জানতে পারিনি, পারিনি আজও। সম্ভবত এমন গানের জন্ম পৃথিবীর কোথাও নয়, এক জীবন চেষ্টা করেও এর নাগাল পাবে না আমাদের মত কেউ, অন্য কোন এক জগৎ থেকে অতিমানবিক কোন ক্ষমতা নিয়ে এলেই এর সৃষ্টি সম্ভব। আমি শুধু শুনতে পারি, শুধু আচ্ছন্ন হতে পারি, শুধু ভাবতে পারি, শুধু চাইতে পারি আবার, বারবার শুনতে, সেদিন যেমন শুনেছিলাম, যেমন আলো এসে উঁকি দিয়েছিল রাত শেষ করে আর মনে হয়েছিল জীবনের কাছে ফিরে এলাম একটা ঝড়ো অন্ধকার পার করে, ঠিক জলের মত বয়ে যাওয়া একটা ছন্দ যেভাবে ভেতরটাকে ধুয়ে মুছে দেয় ঠিক সেভাবেই। এখনো খুব বিক্ষিপ্ত হলে, চারপাশ খুব বেশি এলোমেলো হয়ে উঠলে ফিরতে হয় নৈঃশব্দের মাঝে বয়ে যাওয়া নদীর কাছে, কোন একটা রাশ টেনে ধরে তখন গিলমোরের গীটার, ভাবতে বাধ্য হই আর শুনতে বাধ্য হই বাধ্য ছেলের মত, ঠিক সেরাতের মতই যখন টানটান স্নায়ুগুলো লক্ষ্মী হয়ে চুপ করে গিয়েছিল শান্ত কোন এক হাতের ছোঁয়ায়, যে হাতের জন্মও আমাদের চেনাজানা কোন জগতে নয়। তারপর ভাবতে পারি আরো একবার এবং তারপর আরো একবার, বারবার, বারবার।
পিংক ফ্লয়েডের "দ্য ডিভিশন বেল" অ্যালবামের এই গানগুলো নাকি গাওয়া হয়েছিল, তাদের ভাষায়, যোগাযোগ করার জন্য, হয়তো একের সাথে অন্যের, অথবা আত্মার সাথে বাইরের। আজকে, এমনই এক নিঃসঙ্গ রাতে যখন গিলমোর তার গীটার টেনে ধরেন, আর প্রশ্ন করেন ঘোর নিস্তবদ্ধতায়, কোথায় ছিলে তুমি, তখনো আমি যোগ করতে পারি গানের সাথে নিজের ভেতরের, খুঁজে আনতে পারি না খুঁজে পাওয়া, এখনো নাম দেয়া হয়নি এমন কোন অনুভূতিকে যার নাম দেয়ার ক্ষমতা আমার হয়নি অথচ জানি ভেতরেই আছে, আর নিশ্চিতভাবে জানি,যখন চোখ ধাঁধিয়ে যাবে প্রখর তাপে আর বদ্ধ ভাঁপে, নিঃসীম অন্ধকারে চোখ বন্ধ করে তখন খুঁজতে পারি আলোর রেখা শীতল ঢেউয়ে, যখন পিংক ফ্লয়েড গেয়ে উঠবে--"আই টুক আ হেভেনলি রাইড থ্রু আওয়ার সাইলেন্স, আই নিউ দ্য মোমেন্টস হ্যাড অ্যারাইভড, ফর কিলিং দ্য পাস্ট অ্যান্ড কামিং ব্যাক টু লাইফ।"
আজকের রাতের ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টিতে তাই আরো একবার নির্জনতার কোলাহলে পিংক ফ্লয়েডের সাথে আমি জীবনের কাছে ফিরি।
[কেউ এখনো না শুনে থাকলে, তার শোনার জন্য, আর যারা শুনেছে, তাদের আরেকবার শোনার জন্য--
www.youtube.com/watch?v=uhV4me_k8Y8
]
মন্তব্য
না এরকম কোন কারনে জীবন ব্যর্থ মনে হয়নি, কারন এসব ছাড়াও অনেক আগে থেকেই জীবন ব্যর্থ!
লেখকের মন্তব্য
কন কি? সুখে থাকতে ভূতে কিলাইলো?
পিংক ফ্লয়েড নিয়ে ছন্নের একটা প্রিয় পোস্ট ছিলো - সেটা চতুর্মাত্রিকে থাকলে খুব ভালো হতো।
পিংকের অনেকগানই শোনা আছে - তবে আপনারে থ্যাংকস এই গান মন দিয়ে শুনলাম আবার -
আপনার মতো আলোরিত না হতে পারলেও - আপনার আবেগটা ঠিকই ধরতে পারলাম ।
লেখকের মন্তব্য
কোন গান কখন নাড়িয়ে দিয়ে যাবে এইটা ঠিক করা কঠিন, স্থান-কাল-ব্যক্তি বিশেষে বদলায়। এমনিতে এদের অনেকগুলো গান অসাধারণ, একটা পরিবেশে খুব বেশি ভাল লেগেছে আরকি এটা।
আমার এমনই প্রিয় একটা গান ইউ২ এর উইথ অর উইদাউট ইউ
লেখকের মন্তব্য
আাজকেই এক বন্ধু ইউ২ এর ঠিক এই গানটাই মোবাইলে শোনাচ্ছিল।
লেখকের মন্তব্য
সেইটার আগে ইউ ২ নিয়া একটা পোস্ট দিয়া ফেলেন।
অবশ্যই দিবো - এইটা অনেক অনেক দিন ধরে পেন্ডিং পড়ে ছিলো ।
সত্যি বলতে কি গানটি এখনও শুনিনি।
এখন ডাউনলোড করতে দিছি।
শুনে পরে বলছি।
লেখকের মন্তব্য
শুনে ফেলেন, হতাশ হবার কথা না।
ভাইয়া আপনি কি সুইডেনে থাকেন ?
লেখকের মন্তব্য
না রে ভাই, আমি জীবনেও দেশের বাইরে পা দেই নাই।
আপনি কি বুয়েটে পড়তেন ? মানে আমার এক ভাইয়া আপনার কথা বলেছিল, তাই আরকি।
এখনও উত্তরডা পাইলাম না
লেখকের মন্তব্য
পড়তাম, ম্যালাদিন আগের কথা আরকি।
পিংক ফ্লয়েডের অনেক গানই খুব ভাল লাগে।
লেখকের মন্তব্য
এই গানটা প্রথম শুনেছিলাম মাইলসের শাফিনের কণ্ঠে, বুয়েটে নতুন এসেছি, পড়াশোনার চাপে একেবারে মাথা নষ্ট, তখন মনে হয়েছিল, এরচেয়ে বেশি কাম্য কথাবার্তা আর হতে পারে না, এত পড়াশোনা করে সেই তো অ্যানাদার ব্রিক ইন দ্য ওয়াল।
হুম এইটা আমার অনেক প্রিয় গান।
পিঙ্ক ফ্লয়েড তেমন একটা শোনা হয়নি। এই গানটাই প্রথম শুনি।
লেখকের মন্তব্য
শুরু করে দেন, বের হতে পারবেন না।
গত পরশু আমি আর আমার বন্ধু যখন পিঙ্ক ফ্লয়েডের গান শুনছিলাম,তখন আমরাও ঠিক এমন কথাগুলোই বলছিলাম।
আমার অনেক প্রিয় পিঙ্ক ফ্লয়েডের গান।
লেখকের মন্তব্য
আবির বলছিল, পিংক ফ্লয়েডের প্রতিটা গান নিয়েই একেকটা নিজস্ব গল্প লেখা যায়।
কোথাও যার বিদ্রোহী চিৎকার আবার কোথাও অতীতের আর্তনাদ, কোথাও খুব গভীরে ডুবে যাবে শ্রোতা, যেখান থেকে নিজে তুলে আনা সম্ভব নয় এমন কোন পাতাল থেকে উঠে আসা অচেনা কোন একটা অনুভূতিতে আচ্ছন্ন হয়ে ভাবতে হবে, হ্যাঁ, এভাবেই হয়, এভাবেই হওয়া উচিত।

লেখকের মন্তব্য
এভাবেই যে হয় সেটাও ঠিক।
আপনার অনুভিতর বর্ননটা দারুন লাগলো! খুব ভাল লাগলো পোষ্ট!
সাইকোডেলিক গানের জন্য পিঙ্ক ফ্লয়োডের অল্টারনেটিভ নাই! অনেক গানই আছে আমার খুব ফেভারিট! এই গানটাও দারুন লাগে!
অবশ্য পিঙ্ক ফ্লয়োডের শুধু এই গানই না অন্য আরো গানগুলো, মেটালিকা, কব, ড্রিম থিয়েটার, পোয়েটস, নিরভানা সহ অনেকের ফ্যাভারিট গান গুলো শুনলে আমার প্রায়ই মনে হয় লাইফটা পুরাই বৃথা গেল, কোন একটা ইন্সট্রুমেন্ট বাজাইতে পারলাম না !
ম্যালাদিন পর আজকে আবার পিঙ্ক ফ্লয়োড শুরু করলাম
লেখকের মন্তব্য
কিছুদিন চেষ্টা করে হাল ছেড়ে দিয়েছি, হয় প্রতিভা নেই বা তীব্র ইচ্ছাটা নেই, শোনাটাই ভরসা। গান বুঝি সেটা না, কিন্তু প্রতিটা সুর আলাদা একটা রঙ তৈরি করে আমাদের ভেতর, সবাই সেই রঙটা তৈরি করতে পারে না, কিন্তু সে রঙটা অনুভব করতে তো পারে সবাই, নাহয় এক জীবন ঐ রঙ দেখেই কাটিয়ে দেব।
গানটা কলেজ জীবনের শেষ দিকে এসে অনেক শুনতাম, তখন কেন যেন মনে হতো গানটা আমার ভেতরের কেউ একজন গাইছে।
এরপর ছোট ১টা ঘটনার পর থেকে সে গানটা শোনা বন্ধ করে দেই, সেই থেকে আজ অবধি আর শুনিনি
লেখকের মন্তব্য
আরো একবার শুনে নতুন করে শুরু করতে পারেন।
জীবনে ব্যরথতা নিয়ে একটা মগে সিরিয়াল পোস্ট লিখতে পারি, "বিবিধ ব্যর্থতার বিব্রত বয়ান"
লেখকের মন্তব্য
এইখানে দেখি সবাই আমার চেয়েও ব্যর্থ
সবাইরে কি সুখে থাকতে ভূতে কিলাচ্ছে?
এভাবেই হয়।
দারুণ লেখা!
আগের তিন পর্ব কি এখানে দিসিলেন?
লেখকের মন্তব্য
২টা দিসি, ১টা আগের ব্লগে।
পিঙ্ক ফ্লয়েড বেশি জোশ!
লেখকের মন্তব্য
হ!
আমি অনেকদিন হলো পিঙ্ক ফ্লয়েড শুনি না। শুনলে খুব বেশি মন খারাপ হয়। মন খারাপ হলেও সমস্যা ছিলো না, দেখা যায় মন খারাপটা আশেপাশের সবাইকে ইফেক্ট করে। তারা তো বুঝতে পারে না কেন আমার মন খারাপ, তাই ভুল বুঝে।
পিঙ্ক ফ্লয়েডের প্রতি প্রবল টান এখন তাদের গান থেকে দূরে রাখছে আমারে। এর চাইতে বড়ো পরিহাস আর নাই!
লেখকের মন্তব্য
ম্যালা পুরান একটা কথা মনে পড়লো--"বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না, দূরেও ঠেলিয়া দেয়।"
ভাই, কি বলব? কোন কুক্ষণে যে এই গান শুনতে গেসিলাম, মাথায় যে ঢুকসে, আর বের করতে পারতেসি না। শেষ ৬-৭ মাস ধরে এই গান মাথায় নিয়া ঘুরতেসি। এর সাথে আছে হেই ইয়ু, কমর্ফোটবলী নাম্ব, হাই হোপস, উইস ইয়ু ওয়ার হেয়ার। সবগুলোই নেশা ধরানো, রক্তে মাদকতা সৃষ্টি করা গান।
এই নেশা থেকে বের হয়ে আসা সম্ভব না।
লেখকের মন্তব্য
একেবারেই সম্ভব না।
মন্তব্য করুন