ফারহান দাউদ-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

তখন আকাশটা আরেকটু নীল ছিল। এই তামাপোড়া শহরে আরেকটু খোলা বাতাস ছিল। কংক্রিটের জঙ্গলের মাঝে ২-১টা মাঠ ছিল ছোট-বড়-মাঝারি। মিষ্টি চেহারার কয়েকটা বাড়ির সামনে একচিলতে উঠান ছিল। এমনকি, দানবীয় বাক্সমার্কা অ্যাপার্টমেন্টের বদলে ২-৩-৪ তলা দালান গুলোর ছাদেও একটুখানি হাঁটার আর পাশের বাসার মেয়েগুলোকে দেখে চোখ জুড়াবার ব্যবস্থা ছিল। তখন আমরা গায়ে ধুলো মাখতাম, তখন আমরা ছুটোছুটি করে খেলতাম। অবু দশ-কুড়ি-নাড়ি-ভুড়ি, চিংড়ি মাছের চচ্চড়ি বলে বাটাবাটি করতাম কে চোর আর কে পুলিশ হবে। ৪টা করে হাত একসাথে থেকে হঠাৎ আকাশে ছুঁড়ে দেখতাম কে
হয় চোর, ব্যাটার কপালে ম্যালা দুঃখ। তখন আমরা শিশু ছিলাম, আমাদের একটা মাটিগন্ধী শৈশব ছিল, এই কঠিন শহরেও আমরা বিদেশী ক্রিকেট আর ফুটবলের আগেই মাটির খেলার খোঁজ পেয়েছিলাম।
এসব অর্থহীন খেলার আগেই শোনা হয়ে গিয়েছিল নানা রকম ছড়া কাটা, ঐ বয়সে সবচেয়ে অপমানজনক ছিল যার মাথা ন্যাড়া তার জন্য একখানা চার লাইনের ছড়া---
"বেল মাথা চাইর আনা,
চাবি দিলে ঘুরেনা,
চাবি হইলো নষ্ট,
বেল মাথার কষ্ট।"
শুধু ছড়া কেটে ছেড়ে দিলে এক কথা ছিল, সাথে যে যখনি সুযোগ পেত মাথায় তবলা বাজিয়ে যেত, ওদিকে মা-বাপদের একটা ধারণা ছিল যে মাথাটা টাক্কু বেল করলে চুল হবে ঘন কালো, কাজেই নিয়মিত শুনতে হতো ঐ ছড়া, তবলার বোলের সাথে। ঐ যে মাথায় ন্যাড়াবেলের ব্যাপারে আতঙ্ক ঢুকে গিয়েছিল, এখনো চুল কাটাতে গেলেই অস্বস্তি লাগে, কদমছাঁট হয়ে যাবার আগেই চেয়ার ছেড়ে উঠে পড়ি ঝটপট।
মানুষ হয়েছি এই কঠিন শহরে একা, মাঝে মাঝে নানাবাড়ি গেলে খালাতো মামাতো ভাই-বোনরা খেলতো পুতুল আর রান্নাবাটি, ২-৪ দিন খেলেই উৎসাহ হারিয়ে ফেললাম, এ জিনিসে পোষাবে না। বোনেরা ছড়া কাটতো আরো কিছু, কি যেন---
"আকাশ থেকে নেমে এল ছোট্ট একটি প্লেন,
সেই প্লেনে বসে ছিল একটি ছোট্ট মেম,
মেমকে আমি জিগেস করলাম হোয়াট ইজ ইউর নেম,
মেম আমাকে উত্তর দিল
মাই-নেম-ইজ-বিউ-টি-ফুল।"
এই বলে হাসতে হাসতে একে অপরের গায়ে গড়িয়ে পড়তো, যদিও এই ছড়ায় এত হাসির কি আছে, এখনো বুঝিনি। মাঝে মাঝে সবাই হাত পাততো, আবার চলতো ছড়া, প্রতি শব্দে একেকজনের হাতে ছোঁয়া--"ইচিং বিচিং চিচিং চা, প্রজাপতি উড়ে যা"। যার হাতে পড়তো "যা", সে বাদ পড়ে গেল। তবে একটু উৎসাহ পেলাম "ফুল টোকা" তে, মহা গ্যান্ঞ্জামের খেলা। ভাগ হয়ে যেত দুই দলে, প্রত্যেক দলে একজন হতো রাজা, ২ দিকে বসতো ২ জন। বিপক্ষের একজন এসে ধরবে রাজার চোখ, আর আরেকজন এসে জোরসে একটা টোকা মেরে ফেরত যাবে তার দলে, চোখ খুলে রাজাকে গিয়ে ধরতে হবে কে মেরে গেল, ধরতে পারলেই সে বাদ, এভাবেই চলতে থাকবে যতক্ষণ না এক পক্ষের সব খেলোয়ার ধরা পড়ে। গ্যাণ্ঞ্জামটা ছিল, মহা দুই নম্বুরি হতো, যার চোখ ধরা হলো সে যেকোনভাবে হোক একটু দেখার চেষ্টা করতো। না পারলে, আগে থেকেই দলের মাঝে চোখ-হাতের নানা রকম ইশারা ঠিক করাই থাকতো, কে টোকা দিয়েছে সেটা ধরার জন্য। বিরক্ত হয়ে শেষমেশ কষে চোখ বাঁধার ব্যবস্থা হলো এক্কেবারে র্যাব স্টাইলে, কিন্তু কিসের কি, যে পক্ষ ধরা খাবে তারা একেবারে সাংবাদিকদের মতই হাউকাউ শুরু করে দিত চুরি-চোট্টামির অভিযোগ এনে, বেশিরভাগ দিনই খেলা শেষ হতো অমীমাংসিতভাবে।
তারপরে একটু বড় হয়েছি, তবে অতটা বড় না যে বড়দের সাথে খেলতে পারি, কিন্তু লাফঝাঁপ পারি হালকা, বোন আর প্রতিবেশিনীরা লোকজনের অভাবে মাঝে মাঝে ডাক দিতেন "কুতকুত" খেলায়। ১০০ ভাগ রমনীয় খেলা, টিভিতে পেপসির বিজ্ঞাপনে যেমনটা দেখায়, সাকিব আল হাসান উল্টো মুখ করে একটা ইটের টুকরো (যেটাকে চারা বলে) ছুঁড়ে দিচ্ছেন, আর তারপরে একদমে কুতকুত কুতকুত বলতে বলতে এক পায়ে লাফিয়ে সেই চারাটাকে ঠেলে ঠেলে কোর্টের শেষ মাথায় নিতে হবে, ৪ আর ৬ নম্বর ঘরে গিয়ে আবার ২ পা ফেলা যেত। আপুদের দড়িলাফেও মাঝে মাঝে অংশ নেয়ার সুযোগ হতো, দড়িতে পা বেঁধে পড়ে তাদের বিনোদন দেয়া ছিল আমাদের মত "দুধভাত" দের কাজ, মানে কিনা, তোমরা খেলার অংশ নও, তবে থাকতে পারো আরকি, কান্নাকাটি করো না। দুধভাত নেয়ার ব্যবস্থা সব খেলাতেই ছিল, যে পিচ্চিটা বড়রা খেলায় না নিলে গিয়ে বাপ-মাকে নালিশ করে সাধের খেলাটা পণ্ড করে দেয়ার ব্যবস্থা করবে তাকে ঠাণ্ডা করার রাজনৈতিক ব্যবস্থা, যেমন আমাদের নেতারা গত ৪০টি বছর ধরেই জনগণকে দুধভাত বানিয়ে দিব্যি খেলে যাচ্ছেন খেলারামের খেল।
একেবারেই উপভোগ করতে পারতাম না যে খেলাটা, তার নাম "কানামাছি।" একবার চোর হয়েছ তো তোমার দফা শেষ, চোখ বেঁধে মাঝখানে ছেড়ে দেয়া হবে আর তোমার কাজ হলো তোমার আশপাশে ঘুরে ঘুরে যারা "কানামাছি ভোঁ ভোঁ, যারে পাবি তারে ছোঁ" বলে গায়ে ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাচ্ছে (আসলে কিলিয়ে কাঁঠাল পাকিয়ে যাচ্ছে) তাদের পাকড়াও করা। সিনেমাতে মাঝে মাঝে নায়ক-নায়িকা এই মহা রোমান্টিক খেলাটা খেলে থাকেন, আগেকার বাদশাহ-বেগমরাও নাকি খেলতেন আর সেখানে আনারকলিরা বরাবরই একটু খেলিয়ে সেলিমের আলিঙ্গনে ধরা দিতেন, কিন্তু এই বান্দা সারা জীবনে আনারকলি দূরে থাক কোন ম্যাডাম ফুলিও ধরতে পারেনি, শুধু কিল খেয়ে "ফুল" হওয়া ছাড়া। তারচেয়ে বরং "কুমির-কুমির" খেলাটা ভাল ছিল, ৪-৫ টা জায়গা ঠিক করা হতো উঠানে দাগ দিয়ে, ওগুলো হল জেগে ওঠা চর, বাকি জায়গাটুকু কুমিরের সম্পত্তি, মানে জল। যে ক'জন খেলোয়ার থাকতো চর থাকতো তারচেয়ে ২-৩টা কম, কোন চরে একসাথে দু'জনের বেশি থাকতে পারবে না, কাজেই দৌড়ে দৌড়ে জায়গা বদল করতে হতো কুমিরের হাত এড়িয়ে, ধরা পড়লে নিজেকেই হতে হবে কুমির। যে কুমির হতো তার বেশ কষ্ট, বিশেষ করে যখন অন্যরা চর থেকে অল্প একটু জলে নেমে "কুমির তোর জলে নেমেছি" বলে নাচ দিতো, পুরো গা জ্বলে যেত।
একদম বাচ্চাকালের আরেকটা খেলা ছিল, ওপেনটি বায়োস্কোপ। জেমসের গানটা মনে আছে? ওই যে---
"ওপেনটি বাইস্কোপ,
নাইন টেন টেইস্কোপ,
সুলতানা বিবিয়ানা
সাহেব বাবুর বৈঠকখানা।"
এই ছড়া বলতে বলতে রেলগাড়ির মত লাইন করে একদল ঘুরে ঘুরে যেত হাত উঁচু করে রাখা ২ জনের মাঝ দিয়ে, ছড়া শেষ হবার সাথে সাথে হাত নামিয়ে
একজনকে পাকড়াও করে ফেলা হয়, যে ধরা খাবে তার কাজ হলো ঐ দু'জনের ছড়ানো পায়ের উপর দিয়ে লাফ দেয়া। লাফ দিতে গিয়ে মাঝে মাঝেই মুখ থুবড়ে পড়লেও উৎসাহের অভাব নেই, ধুলা না লাগলে আর খেলাধুলা কি? ওটার সাথেই চলতো "এলন্ডি লন্ডন" নামের আরেকটা খেলা, যে চোর, সে পেছন ফিরে থাকবে, অন্যরা একটু দূর থেকে তার দিকে এগিয়ে আসবে, চোর "এলন্ডি লন্ডন" বলেই ঝট করে পেছন ফিরে তাকানোর আগেই একদম স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে যেতে হবে, যদি নড়াচড়া ধরা পড়ে তবে একদম আগের জায়গায়। যে সবার শেষে থাকবে, সে হবে পরবর্তী চোর। চোরের ভোগান্তি আরো বেশি ছিল "সাত পাতা" খেলায়, তার কাজ হলো ৭ রকমের পাতার নাম বলা, অন্যরা সেগুলো যোগাড় করে প্রতিটা থেকে ১টা করে টুকরো নিয়ে কোথাও লুকাবে, চোরের কাজ সেগুলো খুঁজে বের করা, যদিও বেশিরভাগ সময়ই সেটা পাওয়া ছিল একটা অসম্ভব ব্যাপার।
যখন মোটামুটি ছোটাছুটি খেলার পর্যায়ে চলে এলাম, তখন শুরু হলো "ছোঁয়াছুয়ি" বা চোর-পুলিশ খেলা, নিয়ম খুব সরল, চোর ধাওয়া করবে অন্যদের পেছনে, যাকে ছুঁয়ে দেবে সে হবে চোর। (আহা, তখন কতই নিষ্পাপ ছিলাম, বালিকাদের ছোঁয়া থেকে বাঁচতে দিতাম ছুট, এখন হলে ধরা দিতাম যেচে)। এর একটু জটিল আর দলীয় সংস্করণ ছিল "বরফ-পানি", এক দল আরেক দলকে ধাওয়া করতো, বিপক্ষ দলের কাউকে ছুঁয়ে "বরফ" বলে চিৎকার দিলেই তাকে সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকতে হবে, যতক্ষণ না তার দলের কেউ এসে তাঁকে ছুঁয়ে "পানি" না বলবে। দলের লোকজনকে উদ্ধার করতে হতো বলে ব্যাপারটায় বেশ বীরত্বের ভাব ছিল, অনেক বেশি দৌড়াতে হতো বলে মাঠটাও লাগতো বড়, আর সত্যি বলতে কি, মাঝে মাঝে কোন "বরফ" বালিকাকে উদ্ধার করতে পারলে ঐ বয়সেই নিজেকে বেশ আলেকজান্ডার মনে হতো। দৌড়-ঝাঁপের আরেকটা খেলা ছিল দাঁড়িয়াবান্ধা, কেন যেন নিয়মটা ভুলে গেছি, আর ছিল গোল্লাছুট, সেখানে একটা স্তম্ভ বা ঘাঁটিকে ঘিরে দাঁড়িয়ে থাকবে একটা দল, আরেক দলের কাজ হলো লম্বা দম নিয়ে ঐ ঘাঁটির আশপাশে ঘুরে আসা, এবং সুযোগ পেলেই ঐ স্তম্ভটাকে ছুঁয়ে প্রতিপক্ষের হাত এড়িয়ে নিজের কোর্টে ফিরে আসা, তাতে বিপক্ষের একজন খেলোয়ার বসে যাবে, এভাবে চলবে শেষ না হওয়া পর্যন্ত। কাছাকাছি নিয়ম "বউ-চি" বা "বুড়ি-চি" খেলার, শুধু স্তম্ভের বদলে ওখানে নিজেদের একজনকে সাজাতে হতো বউ, তাকে ছুঁয়ে আসতে হতো। "মাংস-চোর" খেলাটাও ছিল এটার আরেক সংস্করণ, বিপক্ষ দল একটা দাগের পেছনে থাকতো, সামনে একটা ঘরে থাকতো মাংসরূপী ইটের টুকরো, আরেকদলের লক্ষ্য ছিল একই সাথে একদমে প্রতিপক্ষের কোন খেলোয়ারকে ছুঁয়ে বসিয়ে দেয়া আর মাংসটা চুরি করে খেলা জেতা, তবে ধরা পড়লে নিজেকেই বসে যেতে হবে। খেলাটা কঠিন, বেশিরভাগ সময়েই দমের অভাবে ধরা পড়ে যেতে হয়, একেবারে হাডুডুর মতই বিপক্ষ ঝাঁপিয়ে পড়ে চেপে ধরে তখন।
সন্ধ্যার পরে যদি ঘরে আটকা পড়ে যেতাম, তখন চলতো "চোর-পুলিশ-সাহেব-গোলাম", চার টুকরো কাগজে চারটা নাম লেখা হবে, প্রতিটায় আলাদা পয়েন্ট থাকবে, না দেখেই চারজন চারটা তুলে নেবে, যে পুলিশ পাবে, তাকে অনুমান করতে হবে কে চোর। যদি পারে, চোরের পয়েন্ট টাও সে পাবে, না পারলে, শূন্য। বালিশ মারামারি ছিল আরেক বিনোদন, যদিও অভিভাবকদের মহা আপত্তি ছিল ওটায়, বালিশগুলোর ১২টা তো বাজতোই, সাথে ঘরের দু'চারটা জিনিসও অক্কা পেত। তখন অত লোডশেডিং ছিলনা, মাঝে মাঝে হলে সেটা বিনোদন, পড়ায় ফাঁকি মেরে নেমে যেতাম সবচেয়ে গা ছমছম খেলায়, শুদ্ধ ভাষায় যার নাম "লুকোচুরি", বাচ্চাদের ভাষায় "টিলোস্প্রেস", "পলান্তিস" ইত্যাদি। চোর মুখ ঢেকে গুণবে ১০০ পর্যন্ত জোরে জোরে, এই ফাঁকে বাকিরা লুকাবে, এরপর চোর খুঁজে বের করবে সবাইকে। যদি চোর দেখার আগেই কেউ তার গায়ে ছুঁয়ে দিতে পারে, তবে সে বেঁচে গেল, যদি চোর কাউকে দেখে ফেলে আগেই, তবে সে ফেঁসে গেল, পরের চোর হিসেবে। চোর হওয়াটা এখানে আনন্দের বিষয় ছিল না মোটেই, ছাদের আর বাড়ির কোণাকান্ঞ্চি থেকে অন্ধকারে কে কখন হালুম করে "এসপ্রেস" বলে ঘাড়ে লাফিয়ে পড়বে, এই ভয়ে সারাক্ষণ বুক কাঁপতে থাকতো, আর গ্রামের বাড়িতে এই খেলা মানে পুরো ভূতুড়ে অবস্থা।
গ্রামে গিয়েই একটা খেলা ডেখেছিলাম যেটা শহরে কখনো দেখিনি, সেটার নাম "মুলাবাড়ি।" একটা ভেজা গামছা পাকিয়ে শক্ত করা হতো, সেটা হলো "মুলা", তারপর একজন সেটা নিয়ে ধাওয়া করতো সবাইকে, নাগালে পেলেই ধুমধাম বাড়ি, যার গায়ে লাগতো সে বুঝতো মুলা জিনিসটা আসলে বেশি সুবিধার না, গাধা ছাড়া আর কারো ওটার পেছনে দৌড়ানো উচিতও নয়। "ডাঙ্গুলি" খেলাটা একটু বিপজ্জনক দেখে ২-১ বারের বেশি খেলতে দেয়া হয়নি, একটা চোখা বাঁশের টুকরোকে একটা গর্তের মাঝে রেখে আরেকটা পাটকাঠি জাতীয় কিছু দিয়ে গদাম বাড়ি দেয়া হতো, বিপক্ষের উদ্দেশ্য থাকতো সেটা উড়ন্ত অবস্থায় ধরে আউট করা, বেসবলের বাংলা ভার্সন বলা যায় আরকি। ব্যথা পাবার ১০০ ভাগ সম্ভাবনা নিয়েও অবশ্য "বম্বাস্টিং" খেলেছি নিয়মিত, অনেকে ওটাকে বলতো "পিঠ জ্বলান্তিস" বা "কিং-কুইন"। একটা টেনিস বল নিয়ে যাকে নাগালে পাও তাকেই গায়ের জোরে মেরে বসতে হবে, যার গায়ে লাগবে সে আউট, লাস্ট ম্যান স্ট্যান্ডিং হবে বিজয়ী, তবে ২ দলে ভাগ হয়েও খেলা যায়। টেনিস বল লাগতো আরেকটা খেলাতেও, সেটা "সাত চারা", একটা ইটের উপর ৭টা চারা (ইটের টুকরো) বসিয়ে দূর থেকে বল মেরে সেগুলো মাটিতে ফেলেই ভোঁ দৌড় দিতে হবে, এবং তারপর বিপক্ষের হাত এড়িয়ে আবার ওই চারাগুলো ইটের উপর বসাতে হবে। বিপক্ষের কাজ হবে বলটা নিয়ে চারাভাঙ্গা দলের গায়ে লাগানো, বলাই বাহুল্য, এখানেও গায়ে বল মারার ব্যাপারে কোনরকম দয়ামায়া চলতো না, চারা বসানোর বীরপুরুষ হওয়া তাই খুব একটা সোজা কাজ ছিল না।
একদম শেষে যেটার কথা মনে পড়ছে, নিজে সেটায় বিশেষ সুবিধা করতে পারতাম না, সেটা হলো "মোরগ লড়াই"। এক হাত দিয়ে এক পা ধরে লাফিয়ে লাফিয়ে অন্যদের গুঁতোধাক্কা দিয়ে বৃত্ত থেকে বাইরে ফেলতে হতো, দামড়া ছেলেপেলেদের আধিপত্য ছিল সেখানে বেশি। তবে জেতার জন্য কি শিশুরা খেলে? আজকে যখন দেখি শিশুরা "মার্ক্স অলরাউন্ডার" বা "চ্যানেল আই ক্ষুদে প্রতিভা" হবার জন্য মরণপণ লড়াইতে নামে, বাদ পড়ে যাওয়ার পড়ে বুড়ো-হাবড়া বিচারকদের মায়াকান্না দেখে ছোট্ট নিষ্পাপ মুখগুলোতে তীব্র বেদনার ছায়া নামে, তখন মনে পড়ে অর্থহীন ওপেনটি বাইস্কোপের ছড়া। ক্লাস ওয়ান-টু তে পড়া বাচ্চাগুলো যখন কোচিং আর প্রাইভেট টিউটরের যন্ত্রণায় হাঁসফাঁস করে গম্ভীর বাবু হয়ে যায়, মনের আকাশে খেলতে থাকে সন্ধ্যাবেলার লুকোচুরি। বাক্স অ্যাপার্টমেন্টের গ্রিল ধরে থাকা শিশুটা যখন কম্পিউটার গেমস নিয়ে বসে থাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, তখন মনে হয় খুব বেশি কি পিছিয়ে গেছি আমরা ঐ বয়সে খোলা মাঠে বরফ-পানি খেলে? নাকি আসলে আমরা অতীতচারী, এখনো বেঁচে আছি পায়ের নিচে ঘাসের ছোঁয়া আর ধুলো মেখে বালির ঘর বানানোর মিথ্যে স্বপ্ন নিয়ে? হতেও পারে, তারপরেও সন্তান যেন আমার বুনো মানব হয় আমার চেয়েও অনেক বেশি, যন্ত্রঘেঁষা পণ্ডিত দিয়ে আমি মাটির পৃথিবীকে পাথরের দানবে বদলে দিতে চাই না, আমার সন্তানের সবুজ শৈশবকে ধুসর করে দিতে চাইনা, শিশু যেন আমার বেড়ে ওঠে ধুলো আর মাটিতে, ধুলো মাখা তার ছোট্ট হাতগুলো দেখে আরেকবার যেন বলতে পারি--"ইচিং বিচিং চিচিং চা, প্রজাপতি উড়ে যা।"
ভালো থাকুক আমাদের সন্তানেরা, দুধে-ভাতে না হোক, আলোতে আর বাতাসে।
[লেখাটা মাথায় এসেছিল আমার ভার্সিটির এক জুনিয়র, তানজিনা আফরিনের সাথে কথা বলতে গিয়ে, অবাক হয়ে দেখেছিলাম আমাদের শৈশবের খেলাধুলাগুলোর কি আশ্চর্য মিল। তাই কৃতজ্ঞতা সহ লেখাটা তাকেই উৎসর্গ করা হলো।]
মন্তব্য
কেমন আছেন দাউদ?
অনেক দিন পর আপনার লেখা পড়লাম।। বেশ ভালো লাগলো
লেখকের মন্তব্য
বেঁচে আছি দাদা, ভালয়-মন্দয় চলে যাচ্ছে। আপনাকেও অনেকদিন পরে দেখলাম, কেমন আছেন?
আমি আছি মোটামুটি বেঁচেবর্তে
লেখকের মন্তব্য
বেঁচে থাকাটাই আজকাল বড় ব্যাপার দাদা, নাই খবর হলো ভালো খবর।
এই লেখাটা পুরাই নষ্টালজিক করে দিলো -
মজার ব্যাপার হলো - আজকে চিন্তা করতাসিলাম - ছোট বেলার কুত কুত খেলা নিয়ে পোস্ট দিবো - মেয়ের সাথে প্রতিদিন সকালে কুতকুত খেলি এখন
প্রিয়তে গেলো ।
লেখকের মন্তব্য
কন কি? এই বয়সে কুতকুত? এক পায়ে দম ধরে লাফানো বেশ কঠিন।
আমাদের সবাইকেই একসময় শৈশবে ফিরতে হয়, কালকে কথা বলতে গিয়ে দেখি আমাদের নতুন প্রজন্ম মনে হয় এই দেশী খেলাগুলোর নামই জানে না, কি নির্দোষ বিনোদন ছিল!
এইখানে স্কুলে কুতকুত খেলার কোর্ট আছে - এরা নিয়ম কানুন জানে না - চারা দিয়ে খেলে হুদাই লাফায় --
মেয়ে ছোট - আর কেউ খেলা বোঝে না - তাই আমি লাফাই ওর সাথে - খেলা শিখাই --
একদম ছোট থাকতে কুতকুত অনেক খেলেছি - -
মেয়েগো সাথে পারা যাইতো না যদিও
দেখি - একটা ভবঘুরে সব স্মৃতি জমানোতে কুতকুত কাহিনী লিখে ফেলবো
লেখকের মন্তব্য
কুতকুত খেলার কোর্ট? স্কুলে? কুতকুত টুর্নামেন্ট হইবো নাকি? খেলাটার নিয়মকানুন আমারো পুরা নাই, পোস্ট দিলে ডিটেলস নিয়মসুদ্ধা দিয়েন, যাদের কন্যাশিশু আছে এবং থাকবে তাদের কাজে আসবে।

আহা, আপুরা ক্যান যে আর কুতকুত খেলতে ডাকে না, তাইলে হয়তো আমরাও সাকিবের মত ২-১টা শট আবিষ্কার কইরা ফেলতে পারতাম।
কি মজার পোস্ট! কতো খেলায় দুধভাত হবার ইতিহাস মনে পড়লো ( গোব্দা-গাব্দা হওয়ায় আমাকে প্রায়ই দুধভাত হতে হতো...
...)
লেখকের মন্তব্য
হাহাহাহাহা, পিচ্চি থাকতেও এই দুধভাত বেশি হতে হয়নি, খুবই অপমানজনক ছিল।
ইদানীং চতুরে নস্টালজিক লেখা খুব বেশি পড়ছি।এই ছড়াটা একেবারে নস্টালজিক করে দিল।শত প্রার্থনা কিংবা কোটি টাকা দিয়েও সেই দিনগুলোকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব না।আফসোস.....
লেখকের মন্তব্য
ছড়াটা কিন্তু এখনো দুর্দান্ত লাগে, আর টাকমাথা কাউকে দেখলেই ইচ্ছা হয় মাথায় তবলা বাজাই।
আমিতো ব্লগার হিসাবেও দুধভাত রয়ে গেলাম। এত রাতে কি করো? কাল অফিস নাই?
লেখকের মন্তব্য
আপনেতো স্বেচ্ছা নির্বাসনে। অফিস আছে, বাসার পাশে, ২ মিনিট লাগে হেঁটে যেতে, ৯টায় উঠে রেডি হয়ে ৯-৩০ এ ঢুকে পড়ি।
না স্বেচ্ছানির্বাসনে নাইতো। পোস্টাই, কমেন্টাই। সবই তো করি।
----------------------------------------
ছোয়াছু্য়ি জাতীয় খেলা বেশী খেলিনাই বলেইতো মনে হয়। স্কুলের মাঠ ছিলো, কলোনীরও মাঠ ছিলো (ব্যাপারটা কি গোয়ালভরা গরু, পুকুরভরা মাছ, গোলাভরা ধানের মত শোনাচ্ছে?) সেজন্য আউটডোর গেমস খেলতাম। ফুটবল/ক্রিকেট। মানি খুবই খারাপ খেলোয়াড় ছিলাম। ইনডোর গেমসের মধ্যে লুডু/দাবা। বাসার মধ্যে ক্রিকেট খেলতাম। ব্যাডমিন্টন ব্যাট=ব্যাট, উলের গোলা=বল, আলনা=উইকেট, করিডোর/প্যাসেজ=পিচ।
নাম-দেশ-ফুল-ফল খেলতাম। এটা আসলেই ব্যাপক শিক্ষামূলক খেলা।
বাসায় খেলনা গাড়ি ছিলো না। তবে জুতার বাক্স বাসের আর ওষুধের বাক্স সাধারণ গাড়ি হিসেবে ব্যবহার করতাম।
লেখকের মন্তব্য
ফুটবল ক্রিকেট তো কমন খেলা, স্কুলের পাশে ছিল কলোনির মাঠ আর রেল হাসপাতালের মাঠ, ঐখানে খেলা হতো। স্কুলের সময় খেলা ছিল নিষেধ,, মাঝে মাঝেই শিক্ষকরা বেত নিয়ে হানা দিতেন, তখন দেয়াল টপকে পালাতে হতো।
এতো কিছু এমন নিখুঁতভাবে মনে রাখা আর এমন অনবদ্য সাবলীলতায় বর্ণনা করার জন্য অভিবাদন! আবার জুতমতো রাজনীতির খেলারামও টেনে আনছেন, পারেনও আপনি। শেষের কথায় দীর্ঘশ্বাসসহ একমত।
চমৎকার একটা পোস্ট! সোজা প্রিয়তে।
আমরা চোর-ডাকাত-বাবু-পুলিশ খেলতাম, আপনার সাহেব-বিবি-গোলামের আরেকটা ভার্সন। বাবু ১০০, পুলিশ ৮০, ডাকাত ৬০, চোর ৪০ এরকম স্কোর থাকতো। পুলিশ একদানে ডাকাত আর পরের দানে চোর বের করতো। চালাক খেলোয়াড় ভাঁজ করার সময় চিহ্ন রেখে দিতো যাতে পরে বুঝতে পারে। ধরা পড়লে আবার নতুন কাগজ ছেঁড়ো।
হুইসপারিং গেইম ছিলো যাতে ফিসফিসিয়ে একজনের কথা পরেরজনের কানে পৌঁছানো হতো। এভাবে ঘুরে আসলে ব্যতিক্রম দেখা দিলে উল্টো দিক থেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বের করা হতো কে ভুল শুনেছে/বলেছে।
পালা করে আদ্যক্ষর বলে নামদেশফুলফল লেখার একটা খেলা ছিলো। উদ্ভট অক্ষরে আজব কোনো দেশের নাম বানাতো চালু কোনো শিশু।
আচ্ছা, রুমাল-চোর বাদ গেলো নাকি? গোল হয়ে বসে কার পিছনে রুমাল দিলো চোর, অনুমান করার খেলা।
'চোর' হওয়ার ব্যাপার আছে এমন সব খেলাতেই চোর নির্ধারণে "অবু-দশ-বিশ-ত্রিশ-চল্লিশ" গোনা হতো। ইংরেজিতে দেখি "ইনি-মিনি-মাইনি-মো-হোয়্যার ইট গোজ আই ডোন্ট নো" বলে, একই কায়দা!
'চোর' আর 'কুমির' হওয়া নিয়ে কতো বিরক্তি আর দুঃখের স্মৃতি যে আছে, শুধু আপনাকেই পেলাম সমব্যথী
লেখকের মন্তব্য
বুদ্ধিমান পোলাপান চোর হলে সেটা ঝটপট অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে পারতো, আমি একটু বেকুব টাইপের, একবার চোর হলে খেলার শেষ পর্যন্ত তাই থাকা লাগতো।
হুইসপারিং গেমটা খেলা হয় নি, সত্যজিৎ রায়ের ছেলেবেলার স্মৃতিতে শুধু পড়েছি।
একদম ছোটবেলায় ফিরে গেলাম
দু একটা ছাড়া প্রায় সব গুলোই আমি খেলেছি
আমি তো মফস্বলের মানুষ, বাড়ীর সামনে বিশাল খোলা জায়গা ছিলো বিকাল হলেই আশপাশ থেকে অনেক ছেলেমেয়েরা চলে আসতো
ইসস আমার জন্য একদম আফসুসময় পোস্ট হয়ে গেছে এটা
লেখকের মন্তব্য
মাঝে মাঝে আফসুস করতেও তো ভাল লাগে।
লেখাটা খুব স্মৃতিকাতর করে দিলো! এই খেলাগুলো বেশি খেলেছি স্কুলে। তবে ডাংগুলি কখনই খেলি নাই, ভয় দেখিয়েছিল মা কিংবা বাবা, তাই খেলা হয় নি। এটা বাদে বাকি সবগুলাই বেশ নির্দোষ দৌড়াদৌড়ি টাইপের খেলা। শিশুদের জন্যে তো এগুলো খুব উপকারীও।
বোম্বাস্টিং অবশ্য বড়োই বেদনাদায়ক লাগতো। পিঠে বল এসে লাগলে তার যে জ্বলুনি, প্রায় মিনিটখানেক লাগতো ব্যথা ভুলতে!
লেখকের মন্তব্য
ডাংগুলি আসলেই বিপজ্জনক, চোখে লাগলে----
বোম্বাস্টিং আর সাতচারা ২টাতেই একদম গায়ের জোরে মারতো সবাই, তবে বাগে পেলে তো আর আমরাও ছাড়তাম না।
অতি চমৎকার! আরও আগে কেন যে চোখে পড়েনি বুঝতে পারছিনা। এক্কেবারে সেই পিচ্চিকালে টেনে নিয়ে গেলেন।
আমরা এই ছড়াটি আউড়াতাম এই ভাবেঃ
ওপেনটি বাইসকোপ
নৈটানা তেইস্কোপ
চুলটানা বিবিয়ানা
সাহেববাবুর বৈঠকখানা।
যে জীবন আমরা আমাদের ছোটবেলায় পেয়েছি, তা আমাদের ছেলেমেয়েরা পায়নি। তাদের ছেলেমেয়েদের জীবনে এক টুকরো মাঠ আর খোলা আকাশ স্বপ্ন হয়ে থাকবে। এসব গল্প তারা শুনবে অবাক বিস্ময়ে, কেউ বা অবিশ্বাস করবে-কেউ ফেলবে দীর্ঘশ্বাস।
সেই মুক্ত জীবন, প্রাণপূর্ণ উচ্ছলতা হারিয়ে যাচ্ছে দিনের পর দিন। ঘরবন্দী আড়ষ্টতা এদের নিত্যসঙ্গী হচ্ছে/হবে ভাবতেও মনের মধ্যে কেমন যেন করে ওঠে।
লেখকের মন্তব্য
আমরা যখন কলোনির মাঠে খেলতাম তখন এত বিশাল মাঠটায় জায়গা পেতেই কষ্ট হতো, এত ভিড় ছিল। এখনো মাঠটা আছে, মাঝে মাঝে বিকালে গেলে দেখা যায় ছেলেমেয়েরা জটলা পাকিয়ে একেক কোণায় বসে মোবাইল ফোন টেপাটিপি করছে, খেলার দিকে উৎসাহ নেই।
আহারে আমার শৈশব!!!! এসব খেলা কত যে খেলেছি।
সোজা প্রিয়তে।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ।
বেল মাথার জায়গায় আমাদের এখানে বলত ডাব্বু মাথা... এ ঝামেলায় আমাকে যেতে হয়নি, বেঁচে গিয়েছি।
আকাশ থেকে নেমে এল ছোট্ট একটি প্লেনের ছড়াতে যে শেষে থাকত সে বলত তার নাম, ঠিক... অনেক হাসাহাসি হত, কেন হাসতাম কে জানে!
ফুল টোকা খেলতে ভয় পেতাম শুধু টোকার ভয়ে, এত জোরে দিত... ডাকার ভঙ্গীটা মজার ছিল, আসরে আমার গোলাপ ফুল/মাধুরী/কলিজা...... যখন যেটা মনে আসত। ইশারা করে বোঝালেও আমি বুঝতাম না।
ওপেনটি বাইস্কোপ বঞ্চিত এখনকার বাচ্চারা, তাদের অধিকাংশকেই চোখে চশমা দিয়ে ঘুরতে দেখি, সারাদিন যদি পড়াশুনা, কম্পিউটার, গেমস নিয়ে বসে থাকতে হয়... তাদের দোষ নেই, তাদের আসলে করার কিছুই নেই, কোথায় যাবে তারা?
'এসপ্রেস' বলে ঝাঁপিয়ে পড়ার অভিজ্ঞতা আছে তবে দাঁড়িয়াবান্ধা, ডাংগুলির অভিজ্ঞতা নেই।
খেলেছি রুমাল চোর, নাম-দেশ-ফুল- ফল... আরো কত কত... !
খুব ভাল লাগল, একটা একটা খেলার বর্ণনা পড়ছি আর শৈশব হাসছিল আমার সাথে।
অনেক অনেক ধন্যবাদ।
লেখকের মন্তব্য
বলেন কি? আপনার মাথা ন্যাড়া করেনি কখনো? জোর বেঁচে গেছেন।
ফুলটোকাতে যে চোখ ধরতো সে ব্যাপক ঝামেলা করতো, আগে থেকেই ইশারা দিত, এই নিয়ে প্রায় মারামারি।
এখনকার ক্লাস ওয়ান-টু এর বাচ্চাগুলোকেই দেখি ৩-৪টা করে জায়গায় "প্রাইভেট" পড়ে, সময় পাবে কোথায়? কম্পিউটার বিশেষজ্ঞ হোক একেকজন, সমস্যা নেই, কিন্তু সাথে যে বাইরেটাও একটু দেখা দরকার, এটাই মনে হয় এখনকার বাপ-মা বুঝতে চায়না, শেষমেশ যা বের হচ্ছে এগুলোকে ফার্মের মুরগী ছাড়া আর কিছু মনে হয়না।
দারুণ স্মৃতি জাগানিয়া লেখা! স্মৃতি নামের পাজীর হাড্ডি একটা মেয়ের কথা মনে পড়ে গেলো
খালি আমারে দুধভাত বানাইতো সে। অজুহাত, আমি খেলার সময় কিছুতেই পায়ের জুতা খুলতাম না। তাছাড়া রোগাভোগা হবার কারণেও খেলা নিতো না অনেক সময়
মাথা ন্যাড়া করলে ঘরেই লুকিয়ে থাকতাম। কারণ ঐ সময়ে আমারে খেলায় নেবার চরম উৎসাহ দেখা যাইতো। প্রথম প্রথম বুঝতাম না। পরে বুঝচ্ছি, শুধুমাত্র ন্যাড়ামাথায় চাটি কষাবার জন্যই ঐ ষড়যন্ত্র। ঠিকই, আমাদের ছেলেবেলায় আমরা শৈশব বলে যে মধুর ব্যাপারটা আছে খুব খুব বুঝেছি। যেটা এখনকার বাচ্চাগুলো বুঝতেই পারলো না। ওরা শৈশবেই কেমন বড় হয়ে যায় যেন!
পোষ্টটা খুব ভালো লাগলো ভাইটি! ধন্যবাদ আপনাকে। ভালো থাকা হোক।
লেখকের মন্তব্য
রোগাভোগা হবার সমস্যাটা আমারো ছিল, কোন খেলাই খুব ভাল পারতাম না, কিন্তু তাতে কখনোই উৎসাহ কমেনি, এখনো কম না,ঐ দিয়ে পুষিয়ে নিতাম। আমার মাথা ন্যাড়া করতো আমার আম্মা, একটু বড় হয়েই আর কাজটা করতে দিতাম না, চুল কাটানোটা এখনো আমার কাছে বিরক্তিকর একটা ব্যাপার। আমাদের শৈশবে আমরা অনেক বেশি অর্থহীন কাজ করতাম, এখনকার বাচ্চারা তো অনেক কিছু বোঝে, কে জানে, হয়তো সেটা ভালো, হয়তো ভালো না, শুধু মনে হয় আমাদের সময়টা আর ফিরবে না।
মন্তব্য করুন