লেখকের ক‌থা

সদর দরজা

৯/১১ আর আধুনিক বর্ণবাদ

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ফিলিস্তিনের মানুষজনের "মুসলমানিত্ব" নিয়ে এই বান্দার বিশেষ মাথাব্যথা নেই। সোমালিয়ার শতকরা কত ভাগ মুসলিম সেটাও জানি না। ইরাকের কয়জন লোক দাড়ি রাখে সেটা নিয়েও বিন্দুমাত্র ধারণা নেই। আরব বিশ্বের দিকে, উপরওয়ালা মাফ করুন, বিশেষ কোন শ্রদ্ধাও বোধ করি না, অন্তত এই আরব নেতৃত্বের দিকে শ্রদ্ধা হবার কোন কারণ নেই। সাম্যবাদী বা কম্যুনিস্ট নই, দুনিয়ার মজদুরদের দিয়েই দুনিয়া স্বর্গ হয়ে যাবে এমন কোন ধারণাতেও বিশ্বাস করি না। তারপরেও বহুদিন হলো পশ্চিমা উপনিবেশবাদীদের দিকে বেশ একটা বিতৃষ্ণা বোধ করি, আর দিনে দিনে সেটার পরিমাণ বাড়ছে বৈ কমছে না। বিতর্কটা শুরু হয় ঠিক এখান থেকেই। কেন? পশ্চিমা সভ্যতায় ভাল কিছু নেই? অবশ্যই আছে, ওরা সভ্য, ওরা নিয়মতান্ত্রিক, এবং খুব সামান্য অর্থনীতির জ্ঞান নিয়েও বলা যায়, নানারকম মন্দা সত্ত্বেও পুঁজিবাদী ব্যবস্থার একটা জোর আছে, আধুনিক পৃথিবী মোটামুটি পশ্চিমা সভ্যতার উপর নির্ভরশীল, যে ল্যাপটপে বসে ইন্টারনেটে জ্ঞান ফলাচ্ছি সেটাও পশ্চিমাদের অবদান, কাজেই তাদের দিকে বিতৃষ্ণা প্রকাশ করা রীতিমত অকৃতজ্ঞতার শামিল।

তাহলে? প্রশ্নটা আসলে "মুসলিম-অমুসলিম" নিয়ে না, প্রশ্নটা চিরাচরিত "সারভাইভ্যাল অভ দ্য ফিটেস্ট" এর "নৈতিকতা" নিয়ে, বা "ফুড চেইন"-এর উপরে থেকে অন্যকে খেয়ে আরো উপরে ওঠাই যৌক্তিক কিনা সেটা নিয়ে। একটু ব্যাখ্যায় যাওয়া লাগে তাহলে। জীবজগতের মূলনীতিই হলো, যার শক্তি বেশি, সে টিকে থাকবে, যে দুর্বল সে প্রাকৃতিক নিয়মেই বিলুপ্ত হয়ে যাবে। সবল দুর্বলকে খাবে, যদি তার উপরে গিয়ে টিকে থাকার যথেষ্ট সামর্থ্য না থাকে তো আরেকজন তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেব। মানুষ যদি সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হয়ে থাকে, এক্ষেত্রে মানবজাতিও সেই নীতিই অনুসরণ করছে অন্য প্রজাতির বেলায়। অহিনহস নিরামিষাশীরাও সত্যিকার অর্থে অন্য ১টা প্রাণ ধ্বংস না করে বেঁচে থাকতে পারে না, সম্পর্কটাই খাদ্য আর খাদকের। এই ফুড চেইনে "নৈতিকতা"র প্রশ্নটা তখনই আসে, যখন কাক খাওয়া শুরু করে কাকের মাংস, মানবজাতিরই কোন একটা অংশ অন্য কোন অংশের উপর নিজের শ্রেষ্ঠত্ব দাবী করে বসে আর নিজেকে খাদকের সুবিধাভোগী আসনে বসিয়ে অন্যদের আপেক্ষিক মূল্য মানুষ অপেক্ষা নিচুতর কোন পর্যায়ে নিয়ে যায়।

এই ফুড চেইনের উপরে থাকার মীমাংসা করার পদ্ধতিটা মানবজাতির শুরু থেকে এখন পর্যন্ত একই, হানাহানি। ঝাঁপিয়ে পড়ো, মেরে-কেটে খেয়ে ফেলো। আদিকালে গোত্র সর্দার হতো সবচেয়ে নিষ্ঠুর যুদ্ধবাজ হিংস্র ব্যক্তিটি, এখনো ক্ষমতার সর্বোচ্চ শিখরে আসীন ব্যক্তি অন্য মোড়কে একই রকম ক্রুর, কুটিল, প্রচলিত ভাষায় আমরা অনেকে তাদের "রাজনীতিবিদ" বলে থাকি। একটা সময় বর্শা-কুড়াল-তলোয়ার নিয়ে শক্তিশালী গোত্রপতি নিজেই নেতৃত্ব দিতেন, এখন শুধু সুসজ্জিত কক্ষে বসে বোতাম টিপে আদেশ জারি করে থাকেন। প্রযুক্তির উন্নতি হচ্ছে, বিজ্ঞান এগিয়ে যাচ্ছে, মূল উদ্দেশ্যে কোন ব্যাঘাত ঘটছে না, সেই নিজেদেরকে শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করার নিরন্তর প্রচেষ্টা।

মূল কথা থেকে আসলে অনেকদূর সরে গেছি, কথা হচ্ছিলো মুসলমান, সোমালিয়া, ৩য় বিশ্ব অথবা পশ্চিমা সভ্যতা নিয়ে। বিশেষ করে পশ্চিমাদের কথাই কেন এল, সেটা একটু বলি। গত ২-৩ হাজার বছরের ইতিহাসে, মাঝের কয়েক শতাব্দীর মুসলিম আগ্রাসন বাদ দিলে, উপনিবেশবাদ বা সাম্রাজ্য বিস্তারের ব্যাপারে পৃথিবীর পশ্চিমাংশের লোকদের অবদানই বেশি ছিল, সেটা রোমান সাম্রাজ্য বলি, ব্রিটিশ বা ইউরোপিয়ান উপনিবেশ বলি, আর হালের মার্কিন সাম্রাজ্যবাদই বলি। কেন এরাই বারবার আধিপত্য বিস্তার করে সেটা নিয়ে বিশাল গবেষণা হতে পারে, আদতে তারা শ্রেষ্ঠ কিনা সেটাও আরেক বিষয়, কিন্তু এই শ্রেষ্ঠ ভাবার প্রবণতা এবং শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের প্রাণপণ চেষ্টা যে তাদের মাঝে রয়েছে সেটা নিঃসন্দেহ। জ্ঞান-বিজ্ঞানে শ্রেয়তর হবার চেষ্টা করার দোষের কিছু নেই, কিন্তু তার অনিবার্য পরিণতি হিসেবে প্রতিবারই চলে এসেছে অন্য জাতিগোষ্ঠীর উপর সেই শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দেবার উদগ্র বাসনা। আনবিক শক্তির উদ্ভাবন মানবসভ্যতার গতিপথ ইতিবাচকভাবে পাল্টে দিতে পারতো, কিন্তু তার প্রথম উল্লেখযোগ্য ব্যবহার হলো আনবিক বোমা বানিয়ে হিরোশিমা আর নাগাসাকির নিররিহ মানুষের উপর। প্রথম ধাক্কাতেই "ফ্ল্যাশ বার্ন"- এ হিরোশিমাতে মারা যায় ৯০,০০০ মানুষ, আর নাগাসাকিতে ৬০,০০০ (অনেকেই বলেন হিসেবটা রক্ষণশীল), পরবর্তীতে তেজষ্ক্রিয়তার কারণে হিরোশিমার সংখ্যাটা ১,৫০,০০০ এ দাঁড়ায়, নাগাসাকিতে ১ লাখের কাছাকাছি। হায়, পৃথিবীর ইতিহাসে এত গণহত্যার কথা আমরা বলি, অথচ "সভ্যতম" জাতির দ্বারা স্বল্পতম সময়ে সংঘটিত বৃহত্তম গণহত্যার কথা কত সাবধানে এড়িয়ে যাই!

বিতর্কটা এখানেই যে, নিজেদের "সভ্য" দাবী করা কোন জাতি সেই আদিমতম "খাদ্য-খাদক" নীতির উপর চলতে পারে কিনা, আর যদি চলে, তাহলে তাদেরকে কেন এই পশুবৃত্তির জন্য পশুর পর্যায়ে বিবেচনা না করে "মানুষ", বা আরো সুক্ষ্মভাবে, "সভ্য মানুষ" হিসেবে বিবেচনা করা হবে। হিরোশিমা আর নাগাসাকির ঘটনা প্রকৃতপক্ষে পার্ল হারবারে জাপানী বিমান হামলার একধরণের প্রতিশোধ, যে হামলায় প্রায় ৫ হাজার আমেরিকান সৈন্য মারা গিয়েছিল। পার্ল হারবার নিয়ে সাহিত্য-সিনেমার কোন অন্ত নেই, হাহাকার চলছে এই ৭০ বছর পরেও, কিন্তু তার ৫০ গুণ বেশি মানুষ মারা যাবার পরেও হিরোশিমা-নাগাসাকির বোমাবাজিকে "গণহত্যা" বলে কয়জন উল্লেখ করেন? তারমানে কি দাঁড়ায় যে একজন বিজয়ীর জীবন=৫০ জন পরাজিতর জীবন? বা অর্থসম্পদে সামরিক শক্তিতে উন্নত জাতির একজনের জীবনের দাম পিছিয়ে থাকা কোন জাতির শত শত মানুষের চেয়েও বেশি? খুব সাবধানে চিন্তা করলে, এটাই কিন্তু "বর্ণবাদ"-এর মূল কথা। "আর্য" জাতির শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখার জন্য হিটলার যে ইহুদী নিধন কর্মসূচী শুরু করেছিল, তার মূল কথাও ছিল আর্যরা সভ্য, অন্য জাতিগোষ্ঠীকে পথ দেখানোর দায়িত্ব তাদের, বিশ্বের শান্তি-সমৃদ্ধির জন্য পথ দেখাতেও হবে জার্মানদের, বাকিরা তাদের অনুসরণ করবে মাত্র। কথাগুলো কি খুব পরিচিত মনে হচ্ছে? হতেই হবে, বিশ্ব মানবাধিকার রক্ষা এবং পৃথিবীর নানা প্রান্তে "স্বাধীনতা" দেয়ার জন্য যখন মার্কিন বাহিনী নামে, তাদের কাছ থেকে এই মুখস্ত বুলি প্রায়ই শুনে থাকি আমরা। হিটলার মরেও ওপার থেকে অট্টহাসি দিচ্ছে নিশ্চয়ই, তার আদর্শ, তার প্রেতাত্মা তারই ঘোরতর শত্রুর কাঁধে সওয়ার হয়ে দিব্যি এগিয়ে চলেছে।

এতদিন পরে এই পুরানো কাসুন্দি নিয়ে ঘাঁটাঘাটি কেন? কারণ খানিকটা "গোয়েবলসীয়" প্রচারণার দিকে বিরক্তি আর খানিকটা সেটা নিয়ে সবার লাফঝাঁপ দেখে। তেলা মাথায় তেল দিতে সবাই পছন্দ করে, কাজেই ৯/১১ এর দশম বর্ষপূর্তি নিয়ে পশ্চিমা মিডিয়ার হাহাকারের সাথে তাবৎ বিশ্বের বুদ্ধিজীবি মহল যোগ দিয়েছে, বাংলাদেশী মিডিয়াও পিছিয়ে নেই। ৫,০০০ মানুষের মৃত্যু কোন মুখের কথা নয়, ভয়াবহ এবং দুঃখজনক বললেও সেটা কম হয়ে যায়, টুইন টাওয়ারে নিহত মানুষগুলোর জন্য সারা বিশ্ব কাঁদতেই পারে। কিন্তু সেটার প্রতিশোধ নিতে ইরাকে বাঁধিয়ে দেয়া যুদ্ধে শুধুমাত্র সংবাদপত্রের হিসাবেই এখন পর্যন্ত মারা গেছে ১,১১,০০০ ইরাকী, যারা কেউই কোনরকম সন্ত্রাসবাদের সাথে জড়িত নয়। (http://www.iraqbodycount.org/)। এর সাথে যোগ করা যায় একটি দেশ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাওয়া, এবং যুদ্ধ পরবর্তী দুর্ভিক্ষে ভবিষ্যতে মৃতের সংখ্যা, যেটা আমাদের অনুমানের বাইরে। ৯/১১ এর ধাক্কায় ঐ তাৎক্ষণিক ৫,০০০ মানুষের জীবনের দাম মেটাচ্ছে কোটি কোটি মানুষ, ঘুরেফিরে সেই একই প্রশ্ন, একজন সভ্য মানুষের জীবনের দাম আসলে কতজন "অনুন্নত" বিশ্বের মানুষের সমান? আবারো বলি, টুইন টাওয়ারে হামলা মানবসভ্যতার এক জঘন্য ঘটনা (এখানে ষড়যন্ত্র তত্ত্বগুলো বাদ দিচ্ছি, ধরে নিচ্ছি এই হামলা সন্ত্রাসবাদীদের কাজ), এবং ৫,০০০ কেন, ৫ জন মানুষের জীবনও অমূল্য। সেক্ষেত্রে, টুইন টাওয়ারের ৫,০০০ মানুষের জীবন আর ইরাকের ৫,০০০ মানুষের জীবনের মূল্যে কোন তফাৎ হওয়া উচিত নয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, হচ্ছে, অনেক বড় ব্যবধান হচ্ছে। টুইন টাওয়ারে মৃত মানুষগুলোকে নিয়ে এত হাহাকার, সেটা কি তারা "মানুষ" বলে, নাকি উন্নত বিশ্বে বসবাসকারী "সভ্য শিক্ষিত" মানুষ বলে? সেক্ষেত্রে, যারা প্রথম বিশ্বে থাকে না, তারা কি "মানুষ" বলে গণ্য হবে না? নাকি তাদেরকে আমরা আদিমযুগের মতই "খাদ্য-খাদক" সম্পর্কে নিচুতলায় বসিয়ে "আধুনিক বর্ণবাদ" চালু করবো?

এবার দৃষ্টি ফেরাই আফগানিস্তানের দিকে। আফগানরা সম্ভবত জংলী (আমাদের উদারমনা "বুদ্ধিজীবি"দের মতে), কিন্তু সেটাও আসলে তাদেরকে পাইকারী বোমা মেরে খুন করার অনুমতি দেয়না। কেউ যদি সেটা ভাবে, তাহলে তা ঐ ব্রিটিশ এবং ইউরোপিয়ান উপনিবেশবাদীদের মতই হয়ে গেল, যারা আমেরিকায় পা দিয়েই রেড ইনডিয়ানদের "জংলী" এবং "হিংস্র" উপাধি দিয়ে পাইকারী হারে খুন করে তাদেরই জমি দখল করে আজকের তথাকথিত "আমেরিকান সভ্যতা" গড়ে তুলেছে। রেড ইনডিয়ানরা এখনো নিজভূমে পরবাসী, ইনডিয়ান রিজার্ভে আলাদা হয়ে বাস করে, নিজের জমিতে তাদের থাকতে হয় শ্বেতাঙ্গদের দয়ার উপর, যারা কিনা এখন সারা দুনিয়াকে "স্বাধীনতা" আর "মানবাধিকার"-এর সংজ্ঞা শিখিয়ে বেড়ায়। শুধুমাত্র আমেরিকাতেই অষ্টাদশ শতকে রেড ইনডিয়ান ছিল ১ মিলিয়নের বেশি, রোগ আর যুদ্ধে, এবং তাদের নিজস্ব বাসস্থান থেকে অন্যত্র সরিয়ে দেয়াতে এখন কমতে কমতে সেটা দাঁড়িয়েছে ২,৫০,০০০ এর কাছাকাছি। (http://en.wikipedia.org/wiki/Population_history_of_indigenous_peoples_of_the_Americas)। আফগানিস্তানে ২০০১ থেকে এখন পর্যন্ত মৃতের আনুমানিক সংখ্যা ২০ হাজারের কাছাকাছি (http://www.unknownnews.net/casualties.html)। এই ওয়েবসাইট টির মতে ইরাকে মৃতের সংখ্যা ৮ লাখের বেশি, পূর্বে উল্লিখিত "ইরাক বডি কাউন্ট" নামের সাইট টি শুধুমাত্র সংবাদপত্রে প্রকাশিত মৃতের সংখ্যা হিসেব করে বলে বাস্তবের চেয়ে সেটা অনেকটাই কম বলে ধরা যায়।

সভ্য দুনিয়ার সবচেয়ে বড় প্রহসন, এবং একই সাথে "মুসলিম ভ্রাতৃত্বের" প্রতি চরমতম উপহাস হয়ে টিকে থাকা ফিলিস্তিনের দিকে দেখা যাক। গত ৫০০ বছরে এই "মুসলিম ভ্রাতৃত্ব" সত্যিকার অর্থে মুসলিমদের কোন উপকারে এসেছে বলে এই বান্দার জানা নেই, সেখানেও এই বর্ণবাদ, "আশরাফ-আতরাফ" সমস্যা। আরবরা নিজেদের ভাবে অভিজাত মুসলিম, আমাদের মত ৩য় বিশ্বের মুসলিমরা "মিসকিন", কাজেই ১৯৭১ সালে সৌদী বাদশাহদের অকুণ্ঠ সমর্থন ছিল পাকিস্তানের প্রতি, বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যায় ৩০ লাখ মানুষের মৃত্যুতে আরব নেতারা ফিরে দেখার দরকার বোধ করেনি। পাকিস্তানিদের এই বাঙালি নিধনের পেছনেও কাজ করেছে পরোক্ষ বর্ণবাদ। ওদিকে ফিলিস্তিনের ব্যাপারে বিশ্ববিবেক আর মুসলিম বিবেক দু'টোই আশ্চর্যজনকভাবে নীরব, এমনকি ফিলিস্তিনে মৃতের সংখ্যা ঠিক কত এটা নিয়েও বিতর্ক খুব বেশি। অন্য সব ব্যাপারে মোটামুটি নির্ভরযোগ্য উইকিপিডিয়া ফিলিস্তিন ইস্যুতে পুরোপুরি পক্ষপাতদুষ্ট, গত ৬০ বছরে তাদের হিসেব অনুযায়ী মাত্র ৭ হাজার ফিলিস্তিনি মারা গেছে, অন্যান্য আরব মিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী সংখ্যাটা ২ লাখের কাছাকাছি। ১৯৪৮ সালেই প্রায় ৫০ লাখ ফিলিস্তিনি উদ্বাস্তু হয়, যুদ্ধ আর দুর্ভিক্ষে মৃতের সংখ্যা যে আরো বাড়তে পারে, সন্দেহ নেই। এখানে বিশ্ববিবেক আমেরিকা নির্লজ্জভাবে বারবার ভেটো দিয়ে গেছে জাতিসংঘে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যে কোন নিন্দা প্রস্তাবে, এবং "আমেরিকান ড্রিম"-এ স্বপ্নালু বাংলাদেশীদের মনে করিয়ে দেয়া যেতে পারে, এটা আমেরিকান প্রশাসনের জন্য নতুন কিছু নয়, গণহত্যাকারী পাকবাহিনীকে জেনেশুনেই তারা ১৯৭১ সালে অকুণ্ঠ নৈতিক ও সামরিক সমর্থন দিয়েছিল।

যুদ্ধ আর সরাসরি আগ্রাসন বাদ দিয়ে শুধুমাত্র বিশুদ্ধ বর্ণবাদের দিকে চোখ ফেরানো যাক। একদম গোড়ায় ফেরা যাক বর্ণবাদের, কালো আফ্রিকাতে, দাস ব্যবসায়। "আটলান্টিক স্লেভ ট্রেডিং" নামে পরিচিত দাস আমদানির বয়বসা ছিল ষোড়ষ থে অষ্টাদশ শতকের সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা, মধ্যযুগে মূলত যার দখল ছিল আরবদের হাতে, এরপর সেটা চলে যায় ইউরোপিয়ান, বিশেষ করে পর্তুগীজ, ওলন্দাজ আর ব্রিটিশদের কাছে। মৃতের সংখ্যা? গোণা সম্ভব নয়, তবে মোটামুটি রক্ষণশীল হিসেবেও সেটা ১০ মিলিয়ন বা ১ কোটির (ভুল দেখছেন না, ১ কোটি-ই) কাছাকাছি। (http://en.wikipedia.org/wiki/Atlantic_slave_trade) এটা শুধু আনা-নেয়াতে মৃতের সংখ্যা, আনার পর কঠিন পরিশ্রম আর খাদ্যাভাবে মৃতের সংখ্যা কত, কেউ জানে না, সংখ্যাটা দ্বিগুণ হলেও অবাক হবার কিছু নেই। এবার বর্তমানে ফেরত আসি, অবস্থা কি খুব বদলেছে? ফরাসী অর্থনীতির বড় একটা অংশে এখনো অবদান রাখে আফ্রিকার হীরা, যার অনেকগুলোরই পরিচিতি "ব্লাড ডায়মন্ড" হিসেবে। সরাসরি অংশগ্রহণ থেকে গৃহযুদ্ধে ইন্ধন দেয়ার অভিযোগ আছে ফরাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে, সাথে জোট বাঁধা আছে ডি বিয়ার্সের মত আন্তর্জাতিক হীরা ব্যবসায়ীদেরও। একটা ছোট্ট হিসেব অনুযায়ী, শুধুমাত্র সিয়েরা লিওনের হীরার খনিসংক্রান্ত সংঘাতে মৃতের সংখ্যা ৭৫,০০০, বাস্তুহারা হয়েছে আরো ২ মিলিয়নের বেশি (http://history.howstuffworks.com/african-history/african-diamond-trade2.htm)। তা হোক না, ৬০ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসার কাছে লাখখানেক মানুষের জীবনের দাম আর কত? দাস ব্যবসায়ীদের মনোভাবের সাথে কোন পার্থক্য পাচ্ছেন কি?

সোমালিয়ার দিকে তাকাই। দুর্ভিক্ষ আর গৃহযুদ্ধের কারণে অবিশ্বাস্য রকমের বেশি, প্রতি ১০০০ জনে ১৫ জন প্রায়। (http://www.indexmundi.com/somalia/death_rate.html)। অন্যানয় আফ্রিকান দেশগুলিতেও যে অবস্থা এরচেয়ে খুব ভাল তা নয়। জাতিসংঘ এবং অন্যান্য পশ্চিমা সংস্থা সাহাযয় দিচ্ছে, টবে সেটা খুবই অপ্রতুল। সাহায্যের সাথে সাথে এসব দেশে একনায়ক শাসক বসিয়ে রাখা এবং গৃহযুদ্ধ বজায় রাখার ব্যাপারেও তারা সমান তৎপর, অস্ত্র ব্যবসার বিশাল একটা অংশ যে এই আফ্রিকাতেই। শোনা কথা, তবে শান্তিরক্ষী বাহিনীগুলোতে নাকি আমেরিকান আর ইউরোপিয়ান সৈন্যদের বেতন-ভাতা বাংলাদেশী এবং অন্যান্য সৈন্যদের ৩ গুণ। তা বটে, উন্নত জাত বলে কথা! এই দেখুন না, আমেরিকার হারিকেন ক্যাটরিনাতে মারা গেছে মোটামুটি ১,৮০০, তাতেই মনে হচ্ছে কেয়ামত হয়ে গেছে, অন্তত পশ্চিমা মিডিয়ার মতে। ১৯৯১ তে বাংলাদেশে সাইক্লোনে মারা গিয়েছিল আনুমানিক ১,৩৮,০০০ লোক, এই তুলনায় কতটা কথা হয় সেটা নিয়ে? ঐ একই ব্যাপার, জীবনের আপেক্ষিক দাম, ৩য় বিশ্বে জন্মালে ১ম বিশ্বের তুলনায় ১০০ ভাগের এক ভাগ হতেও পারে, সেজন্যই মনে হয় তথাকথিত সভ্য প্রথম বিশ্বের নাগরিক হয়ে ফুড চেইনের উপরে উঠে যেতে আমাদের এই প্রাণান্ত প্রচেষ্টা। আর যদি কেউ সেটা হয়ে যায়, সে তখন "মোর আমেরিকান দ্যান বুশ", বাস্কেটবল আর বেসবলের ফ্যান হবার সাথে সাথে ৯/১১ নিয়ে বাণী দেয়া তখন নিয়মিত কর্তব্য হয়ে দাঁড়ায়। আমাদের দেশের পত্রপত্রিকাতেও তখন নিউইয়র্কের বাসিন্দাদের "ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস" আর তাদের শোকদুঃখগাঁথা নিয়ে বড় বড় কলাম বরাদ্দ হয়, কিন্তু ইরাক বা সোমালিয়ার দুর্ভিক্ষ নিয়ে কয় লাইন লেখা হয়, সেটা অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে খুঁজে বের করতে হয়।

৯/১১ এর নিহতদের স্মরণে যারা গ্রাউন্ড জিরোতে মোমবাতি জ্বালান আর বড় বড় প্রবন্ধ ফাঁদেন, তারা একবারও কি যুদ্ধ আর অনাহারে মৃত লাখ লাখ "৩য় শ্রেণীর" এসব মানুষের কথা মনে করেন? যদি সেটা না করেন, সম্ভবত আপনি জানেন না তাদের কথা, অথবা আপনাকে অন্ধ করে রাখা হয়েছে, অথবা আপনি জানতে চান-ও না। যদি সেটা হয়, এই অজ্ঞতার দায় কি তারা এড়াতে পারেন? এই নব্য বর্ণবাদের সুবিধার পুরোটাই কিন্তু ভোগ করছেন সেই "সভ্য-সুশীল" লোকজন, তাহলে এর পরিণতির দায় কিভাবে এড়াবেন তারা? হিটলারের নাজি জার্মানি যখন রকেটের গতিতে উপরে উঠছিল, জার্মান জনগণই হিটলারকে দেবতার আসনে বসিয়েছিল। পরিণতিতে যখন জার্মানি ধ্বংস হয়ে গেল, তারা বললো, এই আগ্রাসন আর নৃশংসতার কিছুই তারা জানতো না। হতে পারে, তবে এই নৃশংসতার দায় বা পরিণতি তারা এড়াতে পারেনি, ২ কোটি জার্মানের জীবন দিয়ে সেটা শোধ করতে হয়েছে, পুরো বিশ্বের সামনে এই নৃশংসতার লজ্জা বয়ে বেড়াতে হবে তাদের আরো অনেকদিন।

এমন কোন এক "শেষ বিচারের দিনে", যেদিন এই অজ্ঞতা আর অবহেলার জন্য সবার সাথে কাঠগড়ায় উঠবেন এই মোহগ্রস্থরাও, তখনও আপনি কি "আধুনিক বর্ণবাদ"-এর শ্রেষ্ঠত্ব ধারণ করে গর্বিত বোধ করবেন?

7
আপনার মূল্যায়ন: আপনি মূল্যায়ন করেন নি। গড় রেটিং: 7 (৬ জন মূল্যায়ন করেছেন)
শেয়ার করুন » Facebook Twitter Delicious Digg MySpace Google Orkut Blogger Google Buzz Technorati
অথবা এই সংক্ষিপ্ত লিংক শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৬১১৮৫(১)    

দুর্দান্ত।
প্রায় প্রতিটা বাক্যে একমত। কাছাকাছি থিমে আরও লেখা পড়েছি। কিন্তু দুঃখের কথা হইলো এত কিছুর পরেও আমাদের বিবেক জাগ্রত হয় না। আমরা ভোগবাদী হই, আরো ভোগ করি, আর ভোগ করার মাঝেই নিজেকে অপরের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ভাবি। পুঁজিবাদ ভোগবাদকেই প্রমোট করে। তাই মোবাইল আইপড আই ফোন ব্লা ব্লা ব্লা যত বেশি থাকবে তার স্তট্যাটাস ততো উপরে। সমাজ কিংবা সভ্যতার জন্য অবদান যাই হোক না কেনো।
বাকিদের মতামত শোনার এবং দেখার জন্য গ্যালারিতে বসলাম।
দেখি সবাই কে কী বলে।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৬১২৫০(২)    
লেখকের মন্তব্য

পুঁজিবাদী ব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি কিন্তু লোভ। আধুনিক মার্কেটিং-এর মূল তত্ত্ব হলো তোমার প্রয়োজনকে ভোক্তার কাছে পৌঁছে দেয়া না, বরং নতুন করে প্রয়োজন সৃষ্টি করা, যেটা আসলে না হলেও তোমার চলবে। এভাবেই লোভের চাহিদা থেকে কৃত্রিম একটা জগতে নিয়ে ফেলে রাখো জীবনের সবটা সময়, সেটা মিটাতে গিয়ে বাকি সবাই জাহান্নামে গেলেও সমস্যা নেই।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৬১১৯৮(৩)    

একমত! খাদ্য-খাদক সমপর্কটাই মূল কথা। সার্ভাইভ্যাল অফ দ্য ফিটেস্ট এর দৌড়ের মধ্যে পড়ে পৃথিবীটাই ভাগ হয়ে গেছে। এই দেখুন না, তৃতীয় বিশ্ব! নৈতিকতা কই? শ্রেয়তররা (!?) উপরে বসে নীচের সারির উপর খবরদারি করবে, তার সঙ্গে তাল দেবার জন্য ঐ নীচের সারিতেও ফিটেস্ট হওয়ার রেসে শামিল হওয়া এক শ্রেণীর ধামাধরার দল মুখিয়ে আছে! মানবিকতা, ভ্রাতৃত্ববোধ ইত্যাদি এখন অভিধানের পাতায় নির্বাসিত, অপাংক্তেয় শব্দাবলী মাত্র। ক্ষমতাবানরা নিজস্ব বৃত্তটাকে সুরক্ষিত রাখে, সামান্য ফাটলের সম্ভাবনা দেখলেই এমন হইচই লাগায় যে মনে হয় আরমাগেডন চলে আসলো, বাদবাকি দুনিয়া ভুখা মরলেই কি আর পুড়ে ছাই হলেই কি! ভণ্ড সুশীলের দলের চিৎকার ডেসিবেল স্কেলে কান ফাটানো মাত্রায় পৌঁছে যায়! কি বলব আর, জ্বলন হয় খুব এই সব দেখে শুনে!
আপনার লেখাটা দারুণ লেগেছে! শুভেচ্ছা নেবেন!

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৬১২৫৬(৪)    
লেখকের মন্তব্য

বড় ক্ষমতাবানরা তাদের বৃত্তটাকে সুরক্ষিত করে কিন্তু ক্ষমতাবান হতে চাওয়া নিচু সারির লোকজন দিয়েই। এইজন্যই দেখবেন ৩য় বিশ্বের যেসব দেশের দিকেই সাম্রাজ্যবাদীরা হাত বাড়িয়েছে, সেখানেই মীরজাফর, পিনোশে, মবুতু, আইয়াদ আলাবি, রেজা শাহ,হামিদ কারজাইদের মত ধামাধরা বসিয়ে রেখেছে।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৬১২০১(৫)    

অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় তুলে ধরলেন। আপনার প্রতিটি কথার সাথেই একমত ফারহান ভাই।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৬১২৬১(৬)    
লেখকের মন্তব্য

অনেক ধন্যবাদ। :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৬১২৭৯(৭)    

সারভাইবাল ফর দ্যা ফিটেস্ট কিন্তু ইকো সিস্টেমেরই একটা অংশ, এটা নিয়ন্ত্রিত এবং এর ব্যাখাটা এমন নয় যে শক্তিশালী সে নিম্ন শক্তি আরেকজনকে মেরে/খেয়ে ফেলবে। বরং প্রকৃতির বিববর্তনের সাথে যারা খাপ খাওয়াতে পারবে, সঠিক ভাবে অভিযোজিত হতে পারবে তারাই প্রকৃতিতে টিকে থাকবে। ফুড চেইন ও ইকোর ইস্টেমের একটা অংশ, খেয়াল করবেন এটা হলো চেইন, অর্থাৎ ছাই থেকে ধুলো-ধুলো থেকে ছাই-পরিপূর্ণ মাত্রায় ব্যালেন্সড। ছোট মাছকে বড় মাছ খাবে..বড় মাছ মরলে ব্যাকটেরিয়া দ্বারা মিনারেলে চেন্জ হবে, দেন ওইটা থেকে গাছ-গুল্ম হবে, সেইটা খাইয়া আবার ছোটমাছ বাচবে। পুরোপুরি ব্যালেন্সড। তাই বর্তমান সভ্যতার ধারা যেভাবে চলছে তা প্রকৃতির নিয়মে নয় বরং মানুষের প্রকৃতিকে বাইপাস বা আগ্রাহ্য করা প্রচেষ্টা। বিজ্ঞান মানুষকে শক্তি দিয়েছে কিন্তু প্রকৃতি যে বিজ্ঞানের উৎস, সেটা ক্রমশ মানুষ ভুলে যাচ্ছে।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৬১২৮৩(৮)    
লেখকের মন্তব্য

ব্যাপারটা এইখানে একটু ব্যাখ্যার দাবী রাখে, তোমার কথার সূত্র ধরে আসি। ইকোসিস্টেমের একটা ব্যাপার হলো, যেটা বলছো, ব্যালেন্সড খাওয়াদাওয়া। যেমন ধরো, ব্যাং পোকামাকড় খাবে, ব্যাংরে সাপ খাবে, সাপটারে আর কেউ খাবে, এইরকম। এখন ব্যাং বা সাপটা যদি লোভী হয়ে গিয়ে অতিরিক্ত খাওয়াদাওয়া করে ফেলে, পুরা সিস্টেমটার ব্যালেন্সের ১২টা বেজে যাবে, এবং আপাতত বুঝা না গেলেও একটা সময় পুরা সিস্টেমের প্রতিটা এলিমেন্ট সাফার করবে। প্রযুক্তি আর সামরিক শক্তিকে ব্যবহার করে প্রথম বিশ্ব তাদের এই লোভকে মিটাতে গিয়ে দুনিয়ার জনসংখ্যার মাত্র ৫% হয়েও ৩০% এনার্জি এবং অর্ধেকের বেশি সম্পদ ব্যবহার করে ফেলছে, একটা না একটা সময় এই দায় মিটাতে হবেই,, কোন না কোন একটা উপায়ে। কিন্তু লোভ আর উচ্চাকাঙ্ক্ষা মানুষকে অন্ধ করে দেয়, ইতিহাসে এমন উদাহরণ কম নেই, কিন্তু ইতিহাস থেকে কে কবে শিক্ষা নিয়েছে?

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৬১২৮৯(৯)    

কেউ সিস্টেমের বারোটা বাজালে সেটা আর সিস্টেম (সিস্টেমের সংজ্ঞা কি এইটা নিয়া বিতর্ক থাকতে পারে) একমুখী হয়ে যায়।।।একমুখী সিস্টেম একসময না সময় বন্ধ হতে বাধ্য। কারণ যে কোন এক দিক নিহ্নিন্হ হলে খাদ্য অথবা খাদক- তখন কি হইবো???।।।।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৬১২৯৬(১০)    
লেখকের মন্তব্য

তখন, হিসাবমত, সিস্টেম আবার নতুন করে শুরু হবার কথা, তবে কিছু প্রজাতি সিস্টেম ঠেকে বিলুপ্ত হয়ে যাবে। উল্কাপাতের পরেও পৃথিবী তার মত ঠিক হয়ে গেছে, কিন্তু ডায়নোসর বিলুপ্ত হয়ে গেছে। মানবজাতিরও কোন কোন অংশ ধুলায় মিশে যাবে, পৃথিবী আবার ঠিক হবে, কিন্তু কারা এরজন্য মূল্য দিবে, সেইটাই হলো প্রশ্ন।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৬৫৭২৫(১১)    

একটা কথা বলি ভাইয়া, সকল বর্ণবাদের উৎস কিন্তু ধর্ম আর পুঁজিবাদ। পুঁজিবাদের কারনেই ধনী মানুষ, গরিব মানুষ সৃষ্টি হয়, আরেকজনকে ছোট করে দ্যাখার মানসিকতা সৃষ্টি হয়। \
আমাদের দেশে " নষ্টা মেয়ে" আর " কোপা শামসু" নামের চলচিত্র সেন্সর বোর্ড এ মুক্তি পায় কেন জানেন? কারণ নিম্নবিত্ত গরীব মানুষেরা হলে গিয়ে কি দেখল, এতে তাদের মানসিক বিকৃতি ঘটল নাকি এ নিয়ে আমরা কেউ মাথা ঘামাই না। তাদেরকে সম্ভবত মানুষ বলেই মনে করিনা। তেমনি ধনী দেশগুলো আমাদেরকে বলে "থার্ড ওয়ার্ল্ড কান্ট্রি"। আমাদের ভাষায় বললে " রিকশা ওলার বস্তি" ।
আর এ সবি সৃষ্টি করেছে পুঁজিবাদ। তাই আপনি যদি পুঁজিবাদের সমর্থক হন, আপনার বর্ণবাদের বিরুদ্ধে কথা বলা মানায় না।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৬১২৮৪(১২)    

দারুন ইন্টারেস্টিং টপিক মনে হচ্ছে! পড়া শুরু করিনি এখনও, বুকমার্ক হিসেবে মন্তব্য রেখে গেলাম...হে হে হে।
গতকাল এক্সট্রিমিস্ট সেক্যুলার একটি দেশের ফতোয়া শুনে মেজাজের পারদ সামান্য উঁচুতে। :)

রয়ে সয়ে মন লাগিয়ে পড়ে পরে মন্তব্য করবো, এই প্রত্যাশা জানিয়ে আজ বিদায় নিচ্ছি।

সুন্দর একটা দিন কাটুক আপনার, ফারহান! :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৬১২৮৫(১৩)    
লেখকের মন্তব্য

এখানের প্রতিটা কেস নিয়ে বিশাল বিশাল গবেষণা হয়েছে, হচ্ছে, কাজেই সবগুলো এক লাইনে সাজিয়ে একটা প্যাটার্ন বের করার চেষ্টা করেছি (সেটাও নতুন কিছু না, হয়ে গেছে অনেকবার)। আরো বড় করতে পারলে ভাল হতো, ধৈর্য্যে কুলালো না। আপনার মেজাজের পারদ কেন উঁচুতে সেটা নিয়ে লিখে ফেলুন, চিন্তাভাবনার একটা জায়গা পাওয়া যাবে। ::)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৬১৩৪৮(১৪)    

আরবরা নিজেদের ভাবে অভিজাত মুসলিম, আমাদের মত ৩য় বিশ্বের মুসলিমরা "মিসকিন", কাজেই ১৯৭১ সালে সৌদী বাদশাহদের অকুণ্ঠ
সমর্থন ছিল পাকিস্তানের প্রতি, বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যায় ৩০ লাখ মানুষের মৃত্যুতে আরব নেতারা ফিরে দেখার দরকার বোধ করেনি।

আরবরা হল অশিক্ষিত আর পশ্চিমারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মানবিকভাবে সুশিক্ষিত নয়। পৃথিবীতে
নেলসন ম্যান্ডেলা বা আব্রাহাম লিঙ্কনের মত সুশিক্ষিত মানুষ খুব কম এসেছে। আসলেও তারা রাজনীতি
না করে বেশিরভাগ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করেছেন।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৬১৬২১(১৫)    
লেখকের মন্তব্য

ম্যান্ডেলা বা লিংকনের চূড়ান্ত বিজয় হয়নি, কিন্তু তাদের পথ সঠিক। আমরা বিশ্বনাগরিকতার কথা বলি, কিন্তু কালো-ফরসা, লম্বা-বেঁটে, বরিশাইল্যা-নোয়াখাইল্যা এই জাতীয় বর্ণবাদ কি আমাদের মাঝেই কম আছে?

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৬২২১৬(১৬)    

আমাদের মধ্যে যে ভয়াবহ বর্ণবাদ আছে, তা আমরা নিজেরা প্রায়ই টের পাই না। ফারহান ভাইয়ার মন্তব্যে প্লাস!

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৬১৩৭২(১৭)    

চমত্কার গোছানো লেখা! সংকলনে গৃহীত হবার পক্ষে ভোট দিলাম। :)

আমার ধারণা, যতদিন মানুষের অস্তিত্ব থাকবে, বর্ণবাদও টিকে থাকবে বিভিন্ন রূপে।
ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, সভ্যতার উত্থান-পতন সাধারণত একটা চক্র (cycle) অনুসরণ করে চলে।
[অট: সভ্যতার উত্থান-পতন সংক্রান্ত একটা গাণিতিক সমীকরণ নি্যে লেখা খুব মজার একটা বই সেদিন পড়ছিলাম - অবশ্য আমার কাছে কিছুটা pseudoscience বলে মনে হয়েছে।]

যাই হোক, পশ্চিমা মডেল-এর ত্রুটিগত কারণেই পশ্চিমা সভ্যতা 'শীর্ষ স্থান'(!) থেকে ছিটকে পড়বে প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে। পশ্চিমা জগতে যে ধ্বস নামা শুরু হয়েছে, এই বিষয় নিয়ে নানাবিধ আলোচনা অনেক আগেই শুরু হয়েছে বিদগ্ধমহলে।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৬১৬২৩(১৮)    
লেখকের মন্তব্য

খুব নির্মম একটা সত্যি কথা বলে ফেললেন, যতদিন মানুষের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ঠাকবে ততদিন কোন না কোনভাবে বর্ণবাদ থাকবেই। এর মাঝেও বের হয়ে আসবে কিছু সত্যিকার মানুষ, সংঘাতই গতি। আপনার পড়া বইটার একটা পিডিএফ লিংক দিলে ভাল হতো :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৬২৪৫৮(১৯)    

আমি দু'টি বই লাইব্রেরী থেকে এনেছিলাম। সাধারণতঃ লাইব্রেরী থেকেই বই নিয়ে পড়ি। রেফারেন্স খুব যত্নে নোট করে রেখেছি, কিন্তু আমি খুব সম্প্রতি আন্তঃমহাদেশী্য় মহাযাত্রা করেছি (হে হে...নতুন দেশে সেটল করছি), এখনও সব এলোমেলো অবস্থায় আছে বিধায় রেফারেন্স হাতের কাছে নেই। তবে আমি খুঁজে বের করে আপনাকে অবশ্যই জানাবো। একটা ছিলো হাইলি ইন্টারেস্টিং।

আর একটা পিডিএফ লিংক নিচে দিচ্ছি। সেটা এখনও পড়িনি। একটু বোরিং ভাষায় লেখা মনে হচ্ছে।
http://www.rmki.kfki.hu/~tsbiro/civGB.pdf

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৬৩৯০৩(২০)    
লেখকের মন্তব্য

ধন্যবাদ, দেখছি।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৬১৬৪৩(২১)    

অত্যন্ত সুলিখিত একটা পোষ্ট! নাইফা অনামিকার সাথে আমিও সুর মিলিয়ে( সংকলনে গৃহীত হবার জন্য যে ভোট দিতে হয় এটা জানা ছিলো না) পোষ্টটি সংকলনে গৃহীত হবার পক্ষে ভোট দিলাম। বর্ণবাদ আসলে সবযুগেই ছিলো। সময়ের সাথে কেবল নামটাই বদল হয়েছে, কার্য কারণে জুড়ে বসেছে প্রযুক্তি কিংবা বলা ভালো আধুনিক শিক্ষিত বদমাইশি। কাজেই অদূর ভবিষ্যতেও এটা ভোজবাজির মতো উবে যাবে সেটা চিন্তা করা বোকামিই। আর তৃতীয় বিশ্বের একশ' মানুষের জীবনের মূল্য যে তথাকথিত উন্নত শিক্ষিত বিশ্বের একজন মানুষের সমান সেটা তো আপনি পোষ্টে ফিলিপস বাতি জ্বেলেই দেখিয়ে দিয়েছেন। চোরাগুপ্তা বর্ণবাদের হামলা থেকে আমরা কেউ মুক্ত নই(মসজিদের ব্যাপারটা খেয়াল করেন, ঈদের জামাতের কথা ভাবেন,,,পবিত্র হজ্জ্বব্রত পালনের সময়ে সেখানকার নিরাপত্তারক্ষী বেষ্টিত ক্ষমতাসীন মানুষটির কথা ভাবেন,,,,আরো ভাবেন জাতী সংঘের মাধ্যমে পরিচালিত শান্তি মিশনে নিয়োজিত দেশের সৈন্যদের কথা,,,,,এরকম শতেক উদাহরন আছে যা মানবতার দোহাইয়ের নামে শ্রেফ বর্ণবাদ ছাড়া আর কিছুই না) ঘরে বাইরে নিরন্তর আমার দ্বারা সে, তার দ্বারা আপনি নিগৃহিত হচ্ছেন/হচ্ছি। এই চাকা একমাত্র কেয়ামতই থামানোর ক্ষমতা রাখে কিকমু কি কইতে কিসব কইলাম খোদাই জানেন! আসলে পোষ্টটা পড়তে বসে অনেকবার উঠতে হয়েছে। যেকারণে হয়তবা অপ্রসঙ্গিক কথাই বলে ফেললাম। তবে সব কথার শেষ কথা হলো পোষ্টটি অতি চমৎকারভাবে লেখেছেন। আপনাকে উত্তম জাঝা!

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৬৩৯০৪(২২)    
লেখকের মন্তব্য

এই লেখাটা লেখার কিছুদিন পরেই আয়রনি দেখা গেল, এক সময়ের কালো আফ্রিকার অত্যাচারিত জাতি ঠেকে উঠে আসা বারাক ওবামাও কিভাবে বিক্রি হয়ে গেলেন, ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতার বিপক্ষে গলাবাজি করলেন। যে যায় হোয়াইট হাউসে সেই হয় বুশ।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৬৬০১৫(২৩)    

একটা কথা বলি ভাইয়া, সকল বর্ণবাদের উৎস কিন্তু ধর্ম আর পুঁজিবাদ। পুঁজিবাদের কারনেই ধনী মানুষ, গরিব মানুষ সৃষ্টি হয়, আরেকজনকে ছোট করে দ্যাখার মানসিকতা সৃষ্টি হয়। \
আমাদের দেশে " নষ্টা মেয়ে" আর " কোপা শামসু" নামের চলচিত্র সেন্সর বোর্ড এ মুক্তি পায় কেন জানেন? কারণ নিম্নবিত্ত গরীব মানুষেরা হলে গিয়ে কি দেখল, এতে তাদের মানসিক বিকৃতি ঘটল নাকি এ নিয়ে আমরা কেউ মাথা ঘামাই না। তাদেরকে সম্ভবত মানুষ বলেই মনে করিনা। তেমনি ধনী দেশগুলো আমাদেরকে বলে "থার্ড ওয়ার্ল্ড কান্ট্রি"। আমাদের ভাষায় বললে " রিকশা ওলার বস্তি" ।
আর এ সবি সৃষ্টি করেছে পুঁজিবাদ। তাই আপনি যদি পুঁজিবাদের সমর্থক হন, আপনার বর্ণবাদের বিরুদ্ধে কথা বলা মানায় না।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৭৫০৩২(২৪)    
লেখকের মন্তব্য

আমি পুঁজিবাদের সমর্থক এমন কথা কোথাও বলেছি বলে মনে পড়ছে না। :)

 

মন্তব্য করুন

এই তথ্যটি সর্বদাই গোপন রাখা হবে এবং কোন অবস্থাতেই তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
ছবি যাচাই
আপাতত: শুধু মানুষদের জন্যই আমাদের দুয়ার খোলা। পরে নাহয় রবোট, বায়োবট বা এন্ড্রয়েডদের কথা বিবেচনা করা যাবে।
7 + 2 =
এই গাণিতিক সমস্যাটি সমাধান করুন এবং সঠিক উত্তরটি উপরের ঘরে লিখুন। যেমনঃ ১+৩ এর জন্য লিখুন ৪।