ফাহাদ চৌধুরী-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি


০০
মেঘ যেন রুপকথার কোন চরিত্র, প্রয়োজনে নিজের আকার বদলে ফেলে । মাঝে মাঝে মেঘগুলোকে মনে হয় আকাশের বিশাল শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কনফেশনারীতে সাজানো স্পঞ্জী মিঠাই । সাদা পোষাকে সাজান বরফগুলো কখনোবা পরীদের ছায়াশরীর, থোকায় থোকায় ভাষমান উড়ন্ত ছেড়াপালক । আকাশ হয়ে উঠে পরীদের পালকে সাজানো ফ্রোজেন ডেজার্ট, আইসক্রিমের সাম্রাজ্য ।
০১
ডেনিম ব্লু আকাশের শেষ বিকেলে মেঘ জমতে থাকে যেন পয়স্বীনি গাভীরা নীড়ে ফিরে আসে পানিপানের নিমিত্তে । কামরাঙা লাল মেঘ সাঁতরে অন্ধকারের নীড়ে ফেরে সাদা বক আর মাছরাঙ্গা । জলপূর্ণা মেঘেরা উষর মাটির বুকে ফিরিয়ে আনে যৌবনের উদ্দিপনা । ফুল, ফল আর ফসলে পৃথিবীতে আসে পুর্নতা ।
০২
কিছু মেঘ ফিরিয়ে আনে নবম মেঘে কাটিয়ে দেয়া শৈশবের চকচকে স্মৃতিগুলো । বাতাসের চিলেকোঠায় উড়ে মেঘেদের পপকর্ন । মেঘেদের স্কুলে ফিরে পাই নষ্টালজিক এক খেলার মাঠ । স্মৃতির নদী্র ওপাড়ে আশ্রয় নেয় শুভ্রমেঘ, অতপর ভোরের আকাশের কার্টিলজে ফুটে থাকে সাদা কাঁশফুল ।
০৩
কখনো স্ট্রাটোস্ফিয়ারের ব্যালকুনিতে ঝুলে আছে সাদা বিকিনি, কখনো বা কিউপিডের হৃদস্পন্দন হয়ে আয়নোস্ফিয়ারে আনে আলোড়ন । স্নানঘরে মেঘরাণীর সাদাচুল যেন ডুবে আছে বাথটাবের সাবানফেনায়, ড্রেসিং রুমের পাউডার পাফের আলতো পরশে সজ্জিত হয়ে গ্রীনরুমে ঢুকে পড়ে কালোচুলে । পরের দৃশ্যে আকাশের সাব ওয়েতে উড়তে থাকে মারিলিন মনোরোর উত্তাল স্কার্ট ।
০৪
আবার মাঝে মাঝে মেঘে মাথা গুজে স্তব্ধ দাড়িয়ে থাকা নির্জন বৃক্ষ মনে হয় নিজেকে । আকাশের অসুখগুলো ধারন করে তখন মেঘগুলো দুর্বোধ্য, অন্ধতমস । মনখারাপের মেঘের খামে বন্দী হয় চাঁদ । গম্বুজের মত ভাবগম্ভীর কিছু ভয়ঙ্কর মেঘ আকাশ কালো করে দেয় ঝড়সংকেত । এরপর আকাশ কাঁদে অভিমানী মেয়ের মত ।
০৫
কিছু স্তরীভুত মেঘ আকাশের নীল রঙের রঙিন ডাইনিং স্পেসে পড়ে থাকে, উচ্ছিষ্ট খাবারের মত । তখন মনে হয় নোংরা নীল টেবিল ক্লথের একপাশে পড়ে থাকা সুর্যটাই যেন আমার খাবার শুন্য প্লেট ।
০৬
রাতের আঁধারে তারাদের ফিসফিস বরফের গিরিখাদের চোরাবালিতে আটকে পড়ে আলো হয়ে । জাদুকরের জলপূর্ণা পাথরের ঘর্ষনে একটা আগুনরঙা রিবন মুহুর্তেই আকাশব্যাপি ছড়িয়ে পড়ে, অদৃশ্য হয় আধাঁরে আড়াআড়ি । কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মার্চপাস্টে ব্যস্ত হয়ে উঠে মেঘসেনারা । বাজছে ডমরু, কান পেতে শুনি উন্মক্ত রণসঙ্গীত । তীক্ষ্ণ দাঁতের আচঁরে বাতাসের বুকে লিখে চলে ক্রোধের গ্রাফিটিগুলো, লিখে রাখে তার মনখারাপের রোজনামচা । রাত্রিদৃশ্যে ছড়িয়ে পড়ে নৈশব্দ্যের ধ্বংসাত্বক অনুনাদ ।
০৭
কৃষ্ণমেঘ কেটে গেলে পাস্তুরিত সাদা মেঘপুঞ্জ দেখে মনে শব্দহীন আকাশ সাদা ম্যাগনোলিয়ার বিভায় উদ্ভাসিত হয়ে উঠছে । মেঘের আড়ালে হাস্যজ্জল সুর্য আর মেঘ গুলো হয়ে উঠে সানবাথে ব্যস্ত জলনকুল । এরপর ক্রমেই ফিরোজা রঙ ধারন করা আকাশের প্যানোরামায় পরিচলনশীল মেঘ গুলো হারিয়ে যায় ঐ আকাশেরই অসীমে ।
মন্তব্য
বোঝাই যাচ্ছে অনেক সুন্দর কিছু ছবি আছে। অন্তত ক্যাপশনগুলো পড়ে পোস্টটি প্রিয়তে রাখার লোভ সামলাতে পারলামনা।
আমার নেটের স্পীড ভয়াবহভাবে কম। তাই ছবি দেখতে পারিনি।
লেখকের মন্তব্য
ক্যাপশন গুলোকেই আসলে ছবি করে তোলার ইচ্ছে ছিল । লেখাটায় শুধু একটা জেপিজিই যোগ করেছি ।
শুভরাত্রি ।
সুন্দর!
কোন এক কবি এই টাইপের একটা লাইন আগের্থিকাই লিক্সিলো মনে লয়
লেখকের মন্তব্য
কোন কবিতা ভাই?
সামুতে সরলতার একটা পোষ্টে কমেন্ট হিসাবে লিক্সিলাম । ঐ পোষ্টে এই লাইন্টা লিক্ষা আমি নিজেও হেব্বি শান্তি পাইছিলাম
। পরে ঐ কমেন্ট থেকেই এই পোষ্ট ।
থ্যাংকু ।
পড়তে খুবই ভাল লাগলো!
অসাধারণ লিখেছেন!
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ বারীশ । শুভদুপুর ।
বেশ লাগল ফাহাদ ভাই। মুগ্ধপাঠ!
লেখকের মন্তব্য
থ্যাংস হালিম ভাই ।
শুভদুপুর ।
সুন্দর। নীলে নীলময়। কিংবা সাদায় সাদাময়।
লেখকের মন্তব্য
. . . . কিংবা কালোয় কালোয় মেঘময় ।
আকাশ হয়ে উঠে পরীদের পালকে সাজানো ফ্রোজেন ডেজার্ট, আইসক্রিমের সাম্রাজ্য ।
মেঘেদের স্কুলে ফিরে পাই নষ্টালজিক এক খেলার মাঠ ।
পরের দৃশ্যে আকাশের সাব ওয়েতে উড়তে থাকে মারিলিন মনোরোর উত্তাল স্কার্ট ।
মনখারাপের মেঘের খামে বন্দী হয় চাঁদ ।
. . . . . . . . . . চমৎকার!!!
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ জানবেন পলক ।
শুভরাত্রি ।
মুগ্ধপাঠ।
লেখকের মন্তব্য
অজশ্র ধন্যবাদ ।
শুভেচ্ছা ।
খুবই ভালে লাগালো, পোয়েট!
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ স্বপন ভাই ।
. . . . . . .এক ঝাঁক নাছোড়বান্দা মেঘ
. . . . . . কিছু সুর্যগন্ধী মেঘ. . . .
অনেকদিন পর তোমার লেখা পড়লাম রুমমেট । এরকম হারাই গেছো ক্যান?
লেখকের মন্তব্য
হারিয়ে গিয়েছি এটাই জরুরি খবর. . . . . গানটা শুনস নাই? হা হা হা
তোরেও ম্যালাদিন পর দেখলাম, জ্যাক্স । দাপ্তরিক কর্মকান্ড কেমন চলে?
আর দপ্তর,, গতমাসের ২৬ তারিখে চাকরী থেকে স্যাক করছে,,২৭ তারিখে মাথার কাছ থেইক্যা মোবাইল দুইডা চোরে নিয়া গেছে
সুদীর্ঘ ভ্যাগাবন্ড থাকার পর এই মাসে একখান জব পাইছি । ভাবতাছি এহন থেইক্যা নিয়মিত শিষ্টাচার প্রাকটিস করমু ।
লেখকের মন্তব্য
শিষ্টাচার পরিপন্থী শিষ্টাচার প্রাকটিস অতীব গুরুত্বপুর্ন একটি বিষয়

শুভ্র!
সুন্দর!
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ ।
শুভেচ্ছা ।
কিছু মেঘ ফিরিয়ে আনে নবম মেঘে কাটিয়ে দেয়া শৈশবের চকচকে স্মৃতিগুলো ।
বাতাসের চিলেকোঠায় উড়ে মেঘেদের পপকর্ন ।
মেঘেদের স্কুলে ফিরে পাই নষ্টালজিক এক খেলার মাঠ ।
স্মৃতির নদী্র ওপাড়ে আশ্রয় নেয় শুভ্রমেঘ,
অতপর ভোরের আকাশের কার্টিলজে ফুটে থাকে সাদা কাঁশফুল ।
০-২ পর্যন্ত পড়লাম। দারুণ লাগছিলো পড়তে। মেঘেদের কোমল আর তোমার সিগনেচার টিউন উপমার ফিউশন পড়তে আরাম লাগছিলো।
বাকিগুলো পড়ে পড়বো।
ব্রাভো পোয়েট।
লেখকের মন্তব্য
অনেক ধন্যবাদ, রানা ভাই ।
তিনের পরের গুলোই লেখার জন্যই এই লিখাটা লিখেছিলাম বস ।
দারুন মেঘ বন্দনা! মুগ্ধ হলাম।
লেখকের মন্তব্য
থ্যাংস অ্যা লট ।
শুভভোর ।
খুব খুউব ভালো লেগেছে লেখাটা!

লেখকের মন্তব্য
থ্যাংস অ্যা লট ।
শুভরাত্রি ।
মাল্টিফ্যাসেটেড মেঘ।
অসাধারণ পোয়েট!
লেখকের মন্তব্য
থ্যাংস বস ।
শুভদুপুর । ম্যালাদিন পর চতুরে দেখলাম । আশা করি কুশলে আছেন ।
মেঘ যেন রুপকথার কোন চরিত্র
লেখকের মন্তব্য
মারিলিন মনোরোর উত্তাল স্কার্ট
মন্তব্য করুন