বর্ষার মেঘমালা-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

তখন সন্ধ্যাকাল । শহরের ছাদে ছাদে গভীর সব বিরহ আর হাহাকার শুনে লোকজন কাতর হয়ে পড়ছে । আমিও ছাদে যাবার একটা টান অনুভব করছিলাম । আমার ছাদে যাবার সঙ্গী হিসেবে যে যুবকের আসার কথা সে এখনও আসে নাই । আমি তাই রাস্তায় খাড়ায়ে খাড়ায়ে লালা চোখওয়ালা জিরাফের মত সোডিয়াম বাতি দেখছিলাম । ইদানীং বেশীক্ষণ সোডিয়াম ল্যম্পের দিকে তাকিয়ে থাকি না । বেশীক্ষণ তাকিয়ে থাকলেই জিরাফগুলি গা ঝাড়া দিয়ে উঠে । অমায়িক ভঙ্গিতে কথা বলতে চায় ।
আমি বেগুনী রঙের রাস্তায় বসে থাকলাম ।
- ছাদে যাওয়া যাইব না , ছাদ বন্ধ ...
যুবক এসেছে । যুবকের নাম অঘ্রাণ । আমি অঘ্রাণের দিকে তাকিয়ে বললাম
- যাওয়া যাইব না মানে ? ফাইজলামো চোদাস নাকী ? আমি চল্লিশ টাকা রিক্সা ভাড়া দিয়ে আসছি ...
- ফ্ল্যাটের ম্যানেজার তালা দিয়ে রাখছে , পোলাপান ছাদে গাঁজা খায় এটা ফ্ল্যাটের লোকজন কমপ্লেন দিসে ....
- তোর ম্যানেজররে আমি চুদি ......
ম্যানেজারের সাথে এই জাতীয় কোন সম্পর্ক করার ব্যপারে যুবককে আগ্রহী মনে হল না । সে উদাস মুখে একটা সিগারেট ধরাল । মনে হল তার মন খারাপ । অবশ্য মন খারাপ নাও হতে পারে । সন্ধ্যাকালে আমার সবাইকেই কেন জানি মন খারাপ মনে হয় । আমি বললাম
- অঘ্রাণ ভায়া , আপনার মনটা কি খারাপ ?
- হঁ ...
- তোর মন খারাপের রঙ কি ?
অঘ্রাণ চিন্তা করল । মনে হয় গভীরভাবেই চিন্তাকরল । তারপর বলল
- আমার মন খারাপের রং সবুজ । গভীর সবুজ ।
আমি হাসলাম । অঘ্রাণও হাসল । আমাদের হাসাহাসির শব্দে আকৃষ্ট হয়ে একটা সোডিয়াম ল্যাম্পের জিরাফ আগ্রহ নিয়ে মাথা ঘুরিয়ে তাকাল ।
তাহার পরে সন্ধ্যা আরও বেগুনী হয়ে গেল । আমি বললাম
- আজকে সারাদিনে কি করলি ?
- ব্যাস্ত ছিলাম মোটামুটি
- তাই নাকী ?
- হুঁ ,তুই কি করলি ?
- আমিও ব্যাস্ত ছিলাম মোটামুটি
আসলে কেউই সরাদিনে কিছু করি নাই । তারপরেও আমরা দেখা হলেই এমন একটা ভাব করি যেন সারাদিনে আমাদের কি অসীম ব্যাস্ততা ছিল । অথবা হয়তো ব্যস্ত ছিলাম , নিজেরাই বুঝি নাই । ব্যস্ততা আমাদের শৈশবের অভ্যাস ।
অঘ্রাণ বলল
- ঐ দেখ ....
আমি দেখলাম । আমাদের থেকে একটু দূরে দাড়িয়ে তিনটা বাচ্চা টাইপের ছেলে সিগারেট টানছে । সিগারেট টানার ফাঁকে ফাঁকে আড়চোখে আমাদের দিকে তাকাচ্ছে । আমি বললাম
- অঘ্রাণ বাদ দে ...
- বাদ দিমু মানে ? কিসের বাদ দিমু ? তুই ঐ হলুদ গেন্জিরে ধরে আন ....
- আমার কোন আগ্রহ নাই । তোর এলাকা , তোর মন চাইলে কর ....
অঘ্রাণ ঝট করে উঠে দাড়াল । অঘ্রাণের পিছেপিছে আমিও ক্লান্ত পায়ে উঠলাম । এত ক্লান্তি ! কোত্থেকে আসে এই ক্লান্তি ?
যুবক কঠোর গলায় বলল
- ভাইয়া কই থাক ?
ছেলেটা নির্লিপ্ত গলায় বলল
- এখানেই থাকি ?
- এখানে কোথায় ?
- এত কথা দিয়ে আপনার কি দরকার ?
আমি দেখলাম অঘ্রাণ রাগে কাঁপছে । রাগের পরিমাণ এত বেশী যে কিছু রাগ আমার ভিতরেও সংক্রমিত হল । গাড় বেগুনী রাস্তায় দাড়িয়ে আমরা রাগে কাঁপতে লাগলাম । আমি গলায় বিষ ঢেলে বললাম
- শুয়োরের বাচ্চা , কথার ঠিক মত আনসার দে , এখানে দাড়ায় সিগারেট খাস কিজন্যে ? সিনিওর দেখস না ?
ছেলেগুলা মনে ভয় পেল । আমি মানুষের চোখে বহুবার ভয় দেখেছি । সেটা বড়ই ইন্টারেস্টিং দৃশ্য । ছেলেদের মধ্যে যে প্রধান বক্তা সে কাঁপা গলায় বলল
- কথা ঠিকমত বলেন ভাই , ছোটলোকের মত করছেন কেন ?
অঘ্রাণ ঠাস করে একটা চড় বসিয়ে দিল । ছেলেটা কয়েক হাত দুরে ছুটে গেল । আমি দেখলাম অঘ্রাণের চোখে কি গভীর হিংস্রতা আর উল্লাস । হিংস্রতার সাথে উল্লাসের ব্যপারটা সবসময়ই জড়িত ।
প্রধান বক্তা চড় খাওয়ার পরেই বাকী দুজন বন্ধু ঝাপিয়ে পড়ার প্রস্তুতি নিল । আমি পকেট থেকে চাকু বের করে বললাম
- কাছে আইলে মুরগির মত জবাই হয়ে যাবা , দুরে যাও ...যাও ...
ছেলেগুলো পিছিয়ে যাচ্ছে । প্রধান বক্তা গাল চেপে ধরে বলল
-তোরা খাড়া আমি আইতেসি .....
তারা চলে গেল । আমি আর অঘ্রাণ রাস্তায় বসে থাকলাম । অঘ্রাণ এখনও কাঁপছে । সে কাঁপা হাতে মোবাইল বের করল । মোবাইলে চার্জ নাই । সে কাঁপা গলায় বলল
- দোস্ত মনে হয় সমস্যা হয়ে গেল...........
- কি সমস্যা ?
- মোবাইলে চার্জ নাই , পোলাপাইন খবর দিব কিভাবে ? তোর মোবাইলে চার্জ আছে ?
- আরে বেটা আমার তো মোবাইলই নাই ...
- শিট্
- হলি শিট্......
তারপর আমরা আবার হো হো করে হাসলাম । হাসতে হাসতে অঘ্রাণ দুটা সিগারেট বের করল । আমি বললাম
- এখানেই খাবি ?
- আরে কোন খানকির পোলারে চুদি , ধরা তো ...
আমরা ধরালাম । এই এলাকায় অঘ্রাণের দলের বাকীদের কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না । সবাই জানি কোথায় হারিয়ে গেছে । কোন কোনদিন আসে যখন সবাই হারিয়ে যায় ।
রিক্সা করে কে জানি যাচ্ছে । আমি ভাল করে তাকিয়ে দেখলাম আমাদের স্কুল জীবনের এক স্যার । আমাদের স্কুলটা এখানেই । আমি হাত উচায়ে বললাম
- স্যার ভাল আছেন ?
তিনি বিরক্ত হয়ে তাকালেন । উৎকট গন্ধের কারণে আমাদের কাছে আসতে পারলেন না ।
অঘ্রাণ হঠাৎ করেই বলল
- দোস্ত একটা বিষয় বুঝতে পারলাম
- কি ?
- যেই ছেলেটা চড় দিলাম না , ওকে চিনতে পারসি ...
- কে ওটা ?
- নাম মনে নাই , তবে ওর আপন বড় ভাই ছাত্রলীগ করে ...এদিকের কোন এলাকায় জানি ভুইলা গেলাম ..
আমি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললাম
- শালা শুয়োরের বাচ্চা ...
- গালাগালি করবি না ...
আমাদের চারপাশে নীল লাল ধুয়া উড়ছে । সোডিয়াম ল্যাম্পগুলা মনে হল আমাদের দেখে মজা পাচ্ছে । অঘ্রাণ আবার বলল
- একটা ফোন করা দরকার , ফোন করা দরকার ., ফোন করা দরকার
আমি বললাম
- হলি শিট্ , হলি শিট্.........
রাত কয়টা বাজে কে জানে । আমরা আগের জায়গাতেই বসে আছি । আমাদের ঘিরে দশবারোজন যুবক দাড়িয়ে আছে । তাদের আচরণ অদ্ভুত । তার কোন কথা না বলে আমাদের দিকে স্থির চোখে তাকয়ে আছে । একসময় আমি বললাম
- ভাই কি দেখেন ?
যুবকদের মধ্যে একজন বলল
- আপনাদের চেহারায় অনেক বিউটি তো , তাই দেখতেসি ....
- দেখে কি আনন্দ পাচ্ছেন ?
- বুঝতেসি না । সবসময়ই আনন্দ পেতে হবে এমন তো কোন কথা নাই ।
- তাও ঠিক ।
এই যুবকের বয়শ মনে আমার থেকে বেশী হতে পারে । তার গলায় মাফলার । মাফলারের রং লাল । আমি বললাম
- মাফলার ভাই , আমাদের কাছে কি চান ?
- সময় হলেই বুঝবেন । ঐ এদিকে আয়
যাকে ডাকা হল সে আসল । সেই প্রধানবক্তা ছেলেটা । মাফলার কোমরে হাত দিয়ে দাড়িয়ে সিগারেট ধরায়ে বলল
- কে মারসে তোমারে ? এরা ?
প্রধানবক্তা মাথা নাড়ল । মাফলার ভাই বললেন
- কি হইসে আবার বলতো ...
প্রধানবক্তা সংক্ষেপে এই গল্পের দ্বিতীয় অংশ বলে গেল । মাফলার থুথু ফেলে বলল
- আপনারা কই থাকেন ভাই ?
অঘ্রাণ কোন জবাব দিল না । হাই তুলল । অভিনয় করে হাই তোলা না । আসলেই তাকে ক্লান্ত মনে হচ্ছে । আমি বললাম
- জায়গামতো থাকি , জায়গামতো থাকা বোঝেন ?
মাফলার ভাইয়ের চোয়াল শক্ত হয়ে গেল । বুঝলাম তিনি জায়গামতো থাকার মানে বোঝেননা । ভুড়িওয়ালা ভারী গলার একজন বলল
- এখানে এরকম গন্ধ কিসের ? আপনারা গাঁজা খাচ্ছিলেন নাকী ?
অঘ্রাণ বলল
- জ্বি খাচ্ছিলাম , আপনার কোন সমস্যা হয় ...
মাফলার ভাই এবার আমাদের সামনে হাটু ভেঙে বসল । সরাসরি অঘ্রাণের চোখের দিকে তাকালো । আমি বুঝলাম না এত নাটকীয়তা করার কি , সরাসরি রড দিয়ে পিটালেই হয় ।
তিনি বললেন
- ভাই , আমাদেরকে চিনেন ? আমরা ছাত্রলীগের পোলাপান । ঐ যে দূরে বাইকের উপ্রে দেখসেন না বসে আছেন উনি আমাদের বড়ভাই .......
আমি দেখলাম দূরে বাইকের উপরে নায়কের ভংগিতে বসে একজন লোক সিগারেট খাচ্ছে । তার চোখে এই সন্ধ্যা কালেও কাল চশমা । যারা রত্রিকালে বা সন্ধ্যাকালেও কাল চশমা পড়ে তাদের ভেতরে সমস্যা থাকে । এই সমস্যা তার অন্যদের মাঝেও ছড়িয়ে দিতে চায় । এই বড়ভাই কি তাই করবেন ? নিজের গভীর সব সমস্যা আমাদের মাঝে ছড়িয়ে দিবেন । হয়তো দিবেন । আর তখন
আমি বললাম
- অদ্ভুত আঁধার এক আজ এসেছে পৃথিবীতে......
মাফলার ভাই বললেন
- লাইনে কিছু ভুল আছে ..
- কিরকম ভুল ?
- উফ্ , যথেষ্ট বিরক্ত করলেন আপনারা দুজন । এবার শুরু করে দেই ?
অঘ্রাণ বলল
- শুরু করেন
আমরা দাড়িয়ে গেলাম । তারপর আমরা মারামারি করলাম । অঘ্রাণ মাফলার ভাইয়ের পেটে একটা ঘুষি দিল । মাফলার ভাই মাটিতে পড়ে গেলেন । তখন ভুড়িওয়ালা কোত্থেকে জানি একটা টিউব লাইট বের করে অঘ্রাণের মাথায় বসিয়ে দিলেন । অঘ্রাণ মাথা চেপে ধরে রাস্তায় বসে গেল । আমি পকেট থেকে চাকু বের করে প্রধানবক্তার হাতে একটা টান দিলাম । কে একজন জানি পেছন থেকে আমার হাতে চাপাতি দিয়ে কোপ মারলেন । আমার হাত কেটে রক্ত পড়ছে । আমি বিস্মিত হয়ে দেখলাম আমার রক্তের রং ঘন বেগুনী ।
তারপর মোরা এলাম হেথায় । কোথায় ? এখানে একটা মাঠ । মাঠের মাঝে একটা ক্লাবঘর । অঘ্রাণদের এলাকার ক্লাবের মাঠ না । ছাত্রলীগের বড়ভাইরা এত বোকা না ।
ক্লাবেরঘরটা ছোট । ফকিন্নি টাইপের জায়গা । আমি বললাম
- কি বালের ক্লাব বানাইসেন ভাইয়েরা , আপনাদের গুন্ডামীর টাকা কি বড়ভাইয়ের সানগ্লাস কিনতেই খরচ হয়ে যায় ?
- চুপ থাকেন তো ভাই আপনে , আপনে কিন্তু আরও মার খাবেন ...
আমি চুপ করলাম । ইতোমধ্যেই যথেষ্ট মার খেয়েছি । এরা মাইক্রবাসে করে ক্লাবে নিয়ে আসার টাইমে বেশ কয়েকবার মেরেছে । আমার থেকে অঘ্রানের অবস্থা খারাপ । যতবার তাকে মারা হয় ততবারই সে হাত পা চালানোর চেষ্টা করে । তাই সে মার খায়ও বেশী । আমার একটা চোখ খুলা যাচ্ছে না । যে চোখটা অল্প অল্প খোলা যায় সেটা দিয়ে দেখলাম অঘ্রানের মাথা দিয়ে দরদর করে রক্ত পড়ছে । তার রক্তও কি আমার মত বেগুনী ? নাকি লাল । আজকাল লাল আর বেগুনী আলাদা করতে কষ্ট হয়ে যায় । অঘ্রাণ ফিসফিস করে কি জানি বলল । আমি বললাম
- সাউন্ড প্লিজ....
- পানি খাব ।
মাফলার ভাই বলল
- এই ওরে কেউ একটু পানি দাও ....
মাফলার ভাইয়েরও ঠোঁতের একপাশ ধস্তাধস্তি করার সময় কেটেছে । সানগ্লাস পড়া বড়ভাই ঘরে ঢুকলেন । তার পোশাক আশাক বেশ ভাল । তিনি বললেন
- বিচারটা খুব সহজ । তোমরা আমার ছোট ভাইরে সরি বলবা । আর এলাকায় দেখে রাখবা , দ্বিতীয়বার কোন ঝামেলা যেন না হয় ।
অঘ্রাণ আবার ফ্যাসফ্যাসে গলায় কি জানি বলল । বড়ভাই বললেন
- কি কয় ও ?
আমি বললাম
- আপনাকে গালি দিসে । বলেছে “অফ যা চুতমারানির পোলা”
বড়ভাইয়ের তেমন কোন ভাবান্তর দেখা গেল না । মাফলার ভাই এগিয়ে এসে কষে অঘ্রাণকে একটা লাত্থি দিল । আমি বললাম
- ভাই আমি সরি বলব , তবে একটা শর্ত আছে ।
- কিসের শর্ত ..
- আপনে আপনার সানগ্লাসটা খোলেন ।
বড়ভাইয়ের মুখ রাগে লালা হয়ে গেল । তার গাল থরথর করে উঠল । তিনি হিসহিস করে বললেন
- এই শুয়োরটারে মেরে টুকরা করে ফেলাও , কুচি কুচি করে ফেলবা .....
ভুড়িওয়ালা চাপাতি হাতে এগিয়ে আসছে । এরা কি সত্যি সত্যি কুচি কুচি করবে ? আগে কখনও করেছে ? মনে হয় না কুচি কুচি করতে পারবে । ভুড়িওয়ালার চেহারায় ক্লান্তি , বাকী সব ছাত্রলীগ কর্মী ভাইদের চোখেও ক্লান্তি । ক্লান্ত মানুষ আসলে কিছুই করতে পারে না । গুরু বলেছেন না , ক্লান্তি মোরে ক্ষমা কর প্রভু ..... । ক্লান্তি মোরে ক্ষমা কর প্রভু , ক্ষমা কর ........
রাত যখন বারটা তখন আমাদের দুজনকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হল । আমাদেরকে কুচি কুচি করা হয় নি । তবে যে অবস্থা করা হয়েছে সেটাও খারাপ না । আমরা কেউই হাটতে পারছি না । অঘ্রাণের মনে হয় জ্বর এসে গেছে । পুলিশকে বড়ভাইরা বলল যে আমরা দুজনই ছিনতাইকারী । ছিনতাইকালে ধরা পড়ার সময় পাব্লিক আমাদের গণধোলাই দিয়েছে । বড়ভাইরা পাব্লিকের হাত থেকে উদ্ধার করে আমাদেরকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে । পুলিশের গাড়িতে উঠার পরে পুলিশ বলল
- আপনাদের অবস্থা তো ভয়াবহ , আগে তো হাসপাতালে নিতে হবে .....
আমি বললাম
- আপনি জ্ঞানী লোক এটা আপনাকে দেখেই বুঝেছিলাম ।
- এভাবে মারল কেন ? করেছিলেন কি ? আপনারা আর লোক পেলেন না , ছাত্রলীগের পোলাপানের সাথে ঝামেলা করলেন .....
আমি কোন কথা বললাম না । অঘ্রাণ গোঙানির মত শব্দ করে বলল
- একটা ফোন করব ......
রাত গভীর হচ্ছে । আমার কেন জানি এটা দুপুরবেলা । গভীর রাত বিষয়ে আমার এই সমস্যা হয় । মনে হয় কোন একটা ঝলমলে দুপুরবেলা । ছাত্রলীগ বিষয়ক এই কাহিনী অঘ্রাণ এখানে শেষ করবে বলে মনে হয় না । অঘ্রানের দলবল খবর পাওয়া মাত্রই দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু হয়ে যাবে । ওরাও ভাল হ্যাডা আলা পোলাপান । এত সহজে ছেড়ে দিবে না । সেই কাহিনীতে কি আমি থাকব ? মনে হয় না । আমি যেকোন কাহিনীর শুরুতে থাকতে পছন্দ করি ,তবে শেষ পর্যন্ত টানতে আর আগ্রহ হয় না । সুতরাং এই কাহিনীতে আমার ভুমিকা এখানেই শ্যাষ ।
বিদায় , শুভরাত্রি !
মন্তব্য
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ
লেখাটা খুভ ভালো লাগলো, কেমন যেন রিয়েল রিয়েল।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ

পড়েছি----ছাত্রলীগময় সন্ধ্যাকাল।
লেখকের মন্তব্য
লেখকের মন্তব্য
একটা হিমু হিমু গন্ধ আছে - তবে তার চেয়ে ভাল । গল্প ন্যারেটর এর নিরাসক্তিটা ভালো লাগল । আরো কিছু কিছু বিষয় ,যেমন সাররিয়েলিস্টিক টোনটা জোশ ।
লেখকের মন্তব্য
থ্যাংক্স

বাস্তবতার ছোঁয়া আছে।
লেখকের মন্তব্য
ভালো লাগলো।
লেখকের মন্তব্য
লেখাটা ভালো লেগেছে
লেখকের মন্তব্য
ভাল লাগলো ।
লেখকের মন্তব্য
উফফ! সাংঘাতিক ভালো লাগসে! স্যালুট, বর্ষার মেঘমালা!
৭।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ বাপী ভাই

লেখকের মন্তব্য
থ্যাংক্স ম্যান

আমি তো ভাই আপনার পাঙ্খা হয়া যাইতেসি। সাররিয়েলিজমের ব্যাপার বেশ আছে গল্প জুড়েই। সেটাই বেশি টানলো।
গল্প ভালো লেগেছে।
ভালো থাকবেন।
লেখকের মন্তব্য
জটিল ! সাত দাগাইলাম
আপনার জিরাফ রহস্য শেষ হলো তাহলে - এখন জিরাফ কে আরো দারুন লাগছে ।
এই ভাবে মোহআবিষ্ট করে রাখেন আরো কিছুক্ষন আমাদের মতো পাগলাদের ।
আপনার এই গল্প থেকে দারুন একটা আইডিয়া পাইসি আমি দেখি - যে দিন গল্প লিখতে ইছ্ছে হবে সেই দিন ব্যবহার করবো ।
আপতত টুপি বিয়োজন
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ আরণ্যক ভাই

ধূয়া ধূয়া স্টাইলে লেখা গল্প গুলি সময়ের সাথে বেশ এগিয়ে যাচ্ছে। পড়তে ভালৈ লাগে।

লেখকের মন্তব্য
মুগ্ধতা! আপনার লেখা আমার কাছে এম্নি এম্নিই ভাল লেগে যায়!
দারুণ, বস!
ভাই এখানে কি 'হ্যাডাম আলা' হবে !
গল্প জোশ হইছে। শুভেচ্ছা ।
ওহহহহহহহ, ফাটা ফাটি গল্প!
আপনারে আগে প্রিয় চতুরে নিয়া নেই তার পরে আপনারে ধরতাছি!
না..মানে.. তার পর আপনার বাকি সব লেখা পড়তাছি!
ও সাত দিছি কিন্তু!!!!!!!!!
ব্যতিক্রমী গল্পগুলো ভালই লাগে ... খুব সুন্দর হয়েছে ... জটিল গল্প
( এখানে 'জটিল' অসাধারন অর্থে )
অ-সা-ধা-র-ণ......
ভাই, জীবনে অনেক গল্প পড়ছি ব্লগে- এরকম বোধ হয় ১টাও লাগে নাই......
আপনার মত আমিও যেন ঘোরের মাঝে চলে গিয়েছিলাম......
এরকম গল্প আরও চাই.....আরও......
মন্তব্য করুন