বর্ষার মেঘমালা-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

একদিন কি হল জানেন ? আমি আমার চার নাম্বার শিশিটা খুঁজে পেলাম না । আমার তো পুরা মাথা আউলায়ে গেল । আমি এখানে খুঁজি , ওখানে খুঁজি কোথাও পাইলাম না । আমি আবারও গুনতে বসলাম । একটা আমার প্যান্টের পকেটে , একটা আমার হাতে আরেকটা আমার সামনে টেবিলের উপরে । তাহলে চাইর নাম্বারটা কই ?? আমার এই অবস্থা দেখে আমার পাশে বসে থাকা জলরঙা মানবী খিলখিল করে হাসতে লাগল । আমি কঠিন চোখে তাকালাম । বললাম
-হাসিস কেন ? খবরদার হাসবি না.....
জলরঙা মানবী আরও জোরে জোরে হাসতে লাগল । বলল
-তোমার অবস্থা দেখে হাসি
-চোউপ মাগী ! আমার শিশি কই ?
-শিশি আর পাবে না....খুজে লাভ নাই...
আমার পুরা মাথায় রক্ত উঠে গেল । আমি জলরঙার গালে কষে একটা চড় লাগালাম । জলরঙা মাথা ঘুরে পড়ে গেল । মনে হয় মারা গেল । আমি দেখলাম আমার ঘরে শকুনের পাল ঢুকতে শুরু করেছে । তাদের একজন বলল
-স্যার অনুমতি দিলে শুরু করি
-শুরু কর ভাল কথা , তবে বিসমিল্লাহ বলে শুরু করবা.....
তারা একযোগে বলল , “বিসমিল্লাহ !” আমার ঘরটা ঝনঝন করে উঠল । অথবা আমি ঝনঝন করে উঠলাম । আমি কিছুক্ষণ মুগ্ধ হয়ে দেখলাম তারা কিভাবে জলরঙার অপুর্ব নারীদেহটাকে দক্ষতার সাথে ছিন্নভিন্ন করে ফেলল । তারপর আমি দেখি , আমি রাস্তায় । চার নম্বর শিশিটার ব্যাবস্থা করতে না পারলে একটা ভয়ংকর ব্যাপার হবে । আমি ফার্মেসী খুজতে লাগলাম..। ফার্মেসীর সুখী সুখী চেহারার বৃদ্ধ বলল
-বাবারে অনেক তো হল...আর কত ?
বুড়োর পাশে বসে তার সুন্দরী তরুণী স্ত্রীও আহ্লাদী মিষ্টি গলায় বলল ,
-হ্যাঁ গো ভাই , “আর কত?”
আমি লাজুক গলায় বললাম
-আপনি আমাকে ভাই ডাকছেন কেন ? আমি কি আপনার ভাই নাকী?
আমার কথায় বৃদ্ধ হাসল । তার স্ত্রী হাসল লজ্জা লজ্জা ভংগিতে । আমিও হাসলাম ভদ্রতা করে ।
আমি চারপাশে তাকালাম । শহর ভর্তি ধুয়া ,ধুয়া আর ধুয়া । কোনটা কষ্ট , কোনটা লাল , কোনটা আনন্দ , কোনটা গভীর নীল । বৃদ্ধ আমাকে এসে জড়িয়ে ধরলেন । কান্না কান্না গলায় বললেন ,
-সব ঠিক হয়ে যাবে আপনি কোন চিন্তা করবেন না....চার নম্বর শিশিটা ছাড়াই ঠিক হবে.....
আমি এলোমেলো পা ফেলে হাটছি...এই শহরের শেষ প্রান্তে একটা সমুদ্র আছে । আমি সমুদ্রের গর্জন শুনছি । কি এক মায়ার টানে ছুটে যাচ্ছি । সমুদ্রের তীরে এসে বুঝলাম আর বেশীক্ষণ নাই । এখনই সুর্যাস্ত হবে... আমি হাটুভেঙে বসে পড়লাম । আমি কাঁদতে কাঁদতে জলরঙা মানবীর নাম ধরে চিৎকার করলাম । সাথে সাথেই জলরঙা তার ক্ষতবিক্ষত শরীর নিয়ে ছুটে এল । আমি দেখলাম জলরঙার একটা চোখ শকুনরা খেয়ে ফেলেছে । তার সারা শরীরে নানান জায়গায় মাংস নাই । তারপরও তাকে এত রূপসী লাগছে । জলরঙা মায়া ভরা গলায় বলল
-কি হয়েছে জান ?
আমি বললাম
-সময়তো প্রায় শেষ ,কি করা যায় বলতো ?
জলরঙা উপরের দিকে তাকাল । শকুন শালারা এখানেও চলে এসেছে । জলরঙা আমার হাতে চার নম্বর শিশি দিতে দিতে বলল....না আর কিছু বলল না । বলবে কিভাবে , তাকে তো শকুনরা আবার ঘিরে ধরেছে ।
সমুদ্রের বাতাস আস্তে আস্তে ঘননীল হতে লাগল..........কি সুন্দর ! কি সুন্দর !
মন্তব্য
মজা পাইলাম পৈড়া।
ভালো লাগলো। তবে কিছু বুঝি নাই।
অন্য জগতের লেখা!
কেমন যেন,
বুঝিনা আর বুঝতেও ইচ্ছে হয় না কিন্তু পড়তেই ইচ্ছে করে, ইচ্ছে করে...
মন্তব্য করুন