লেখকের ক‌থা

সদর দরজা

কফ সিরাপ : একটি উত্তরাধুনিক প্রয়াস

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

একদিন কি হল জানেন ? আমি আমার চার নাম্বার শিশিটা খুঁজে পেলাম না । আমার তো পুরা মাথা আউলায়ে গেল । আমি এখানে খুঁজি , ওখানে খুঁজি কোথাও পাইলাম না । আমি আবারও গুনতে বসলাম । একটা আমার প্যান্টের পকেটে , একটা আমার হাতে আরেকটা আমার সামনে টেবিলের উপরে । তাহলে চাইর নাম্বারটা কই ?? আমার এই অবস্থা দেখে আমার পাশে বসে থাকা জলরঙা মানবী খিলখিল করে হাসতে লাগল । আমি কঠিন চোখে তাকালাম । বললাম
-হাসিস কেন ? খবরদার হাসবি না.....
জলরঙা মানবী আরও জোরে জোরে হাসতে লাগল । বলল
-তোমার অবস্থা দেখে হাসি
-চোউপ মাগী ! আমার শিশি কই ?
-শিশি আর পাবে না....খুজে লাভ নাই...
আমার পুরা মাথায় রক্ত উঠে গেল । আমি জলরঙার গালে কষে একটা চড় লাগালাম । জলরঙা মাথা ঘুরে পড়ে গেল । মনে হয় মারা গেল । আমি দেখলাম আমার ঘরে শকুনের পাল ঢুকতে শুরু করেছে । তাদের একজন বলল
-স্যার অনুমতি দিলে শুরু করি
-শুরু কর ভাল কথা , তবে বিসমিল্লাহ বলে শুরু করবা.....
তারা একযোগে বলল , “বিসমিল্লাহ !” আমার ঘরটা ঝনঝন করে উঠল । অথবা আমি ঝনঝন করে উঠলাম । আমি কিছুক্ষণ মুগ্ধ হয়ে দেখলাম তারা কিভাবে জলরঙার অপুর্ব নারীদেহটাকে দক্ষতার সাথে ছিন্নভিন্ন করে ফেলল । তারপর আমি দেখি , আমি রাস্তায় । চার নম্বর শিশিটার ব্যাবস্থা করতে না পারলে একটা ভয়ংকর ব্যাপার হবে । আমি ফার্মেসী খুজতে লাগলাম..। ফার্মেসীর সুখী সুখী চেহারার বৃদ্ধ বলল
-বাবারে অনেক তো হল...আর কত ?
বুড়োর পাশে বসে তার সুন্দরী তরুণী স্ত্রীও আহ্লাদী মিষ্টি গলায় বলল ,
-হ্যাঁ গো ভাই , “আর কত?”
আমি লাজুক গলায় বললাম
-আপনি আমাকে ভাই ডাকছেন কেন ? আমি কি আপনার ভাই নাকী?
আমার কথায় বৃদ্ধ হাসল । তার স্ত্রী হাসল লজ্জা লজ্জা ভংগিতে । আমিও হাসলাম ভদ্রতা করে ।
আমি চারপাশে তাকালাম । শহর ভর্তি ধুয়া ,ধুয়া আর ধুয়া । কোনটা কষ্ট , কোনটা লাল , কোনটা আনন্দ , কোনটা গভীর নীল । বৃদ্ধ আমাকে এসে জড়িয়ে ধরলেন । কান্না কান্না গলায় বললেন ,
-সব ঠিক হয়ে যাবে আপনি কোন চিন্তা করবেন না....চার নম্বর শিশিটা ছাড়াই ঠিক হবে.....

আমি এলোমেলো পা ফেলে হাটছি...এই শহরের শেষ প্রান্তে একটা সমুদ্র আছে । আমি সমুদ্রের গর্জন শুনছি । কি এক মায়ার টানে ছুটে যাচ্ছি । সমুদ্রের তীরে এসে বুঝলাম আর বেশীক্ষণ নাই । এখনই সুর্যাস্ত হবে... আমি হাটুভেঙে বসে পড়লাম । আমি কাঁদতে কাঁদতে জলরঙা মানবীর নাম ধরে চিৎকার করলাম । সাথে সাথেই জলরঙা তার ক্ষতবিক্ষত শরীর নিয়ে ছুটে এল । আমি দেখলাম জলরঙার একটা চোখ শকুনরা খেয়ে ফেলেছে । তার সারা শরীরে নানান জায়গায় মাংস নাই । তারপরও তাকে এত রূপসী লাগছে । জলরঙা মায়া ভরা গলায় বলল
-কি হয়েছে জান ?
আমি বললাম
-সময়তো প্রায় শেষ ,কি করা যায় বলতো ?
জলরঙা উপরের দিকে তাকাল । শকুন শালারা এখানেও চলে এসেছে । জলরঙা আমার হাতে চার নম্বর শিশি দিতে দিতে বলল....না আর কিছু বলল না । বলবে কিভাবে , তাকে তো শকুনরা আবার ঘিরে ধরেছে ।
সমুদ্রের বাতাস আস্তে আস্তে ঘননীল হতে লাগল..........কি সুন্দর ! কি সুন্দর !

6.673331
আপনার মূল্যায়ন: আপনি মূল্যায়ন করেন নি। গড় রেটিং: 6.7 (৩ জন মূল্যায়ন করেছেন)
শেয়ার করুন » Facebook Twitter Delicious Digg MySpace Google Orkut Blogger Google Buzz Technorati
অথবা এই সংক্ষিপ্ত লিংক শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৬১৯৪৭(১)    

মজা পাইলাম পৈড়া।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৭৪৪০৪(২)    

ভালো লাগলো। তবে কিছু বুঝি নাই।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২২৬৪২২(৩)    

অন্য জগতের লেখা!

কেমন যেন,
বুঝিনা আর বুঝতেও ইচ্ছে হয় না কিন্তু পড়তেই ইচ্ছে করে, ইচ্ছে করে...

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৬৭১৪৯(৪)    

অন্য জগতের লেখা!

কেমন যেন,
বুঝিনা আর বুঝতেও ইচ্ছে হয় না কিন্তু পড়তেই ইচ্ছে করে, ইচ্ছে করে...

 

মন্তব্য করুন

এই তথ্যটি সর্বদাই গোপন রাখা হবে এবং কোন অবস্থাতেই তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
ছবি যাচাই
আপাতত: শুধু মানুষদের জন্যই আমাদের দুয়ার খোলা। পরে নাহয় রবোট, বায়োবট বা এন্ড্রয়েডদের কথা বিবেচনা করা যাবে।
8 + 5 =
এই গাণিতিক সমস্যাটি সমাধান করুন এবং সঠিক উত্তরটি উপরের ঘরে লিখুন। যেমনঃ ১+৩ এর জন্য লিখুন ৪।