বর্ষার মেঘমালা-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

এখানে ওখানে যাই
সবাইরে দেখি
তাদেরকে যারা
বিরক্ত হয় আমারে দেখে ।
কোমরে হাত দিয়ে
খাড়ায়ে থাকি
বিড়ি খাই
ধুঁয়া ছাড়ি ,
হঠাৎ হঠাৎ চা খাই
আমার চায়ের মধ্যে এরা
চার আঙ্গুল হুইস্কি মিশায়ে দেয় ।
দেখি একটা মেয়ে,
শাড়ি পরা , চিকন ফর্সা কোমর,
হাতে শাখা , সাদা সাদা
মাথায় সিদুঁর নাই...
হিন্দু ,
মনে পড়ে কোন এক কালে
কয়েকজন হিন্দু
আমার কাছ থেকে
ঝাল গরুর মাংস কেড়ে নিয়েছিল ,
সেই অভিমানে এখনও আমি
হিন্দুদের সাথে কথা কই না।
তাই আমি
গম্ভীর হয়ে দাড়ায়ে থাকি ,
চারটা কাক উড়ে যায়
একটা আসে
আশেপাশের সব লোক
চোখের কোনা দিয়ে
দেখে আমারে ।
আমি এগিয়ে যাই
হিন্দু রমণীর দিকে
কেউ কেউ আগায়ে আসে
আস্তে আস্তে ধাক্কা দেয়,
আমি বলি ,
“বলতে পারেন , শহরে কয়টা কাক আছে?”
এরা অবাক হয় ।
আমি বলি,
“কালকের থেকে দুইটা কম আছে,
একটা মারা গেছে
মনে গভীর এক দুঃখ নিয়ে
আরেকটা ভেগে গেছে একটা চড়ুই পাখির সাথে..।“
বলতে বলতে আমার গলা ধরে আসে
এরা রাগ হয়
খালি রাগ হয়,
ধুঁয়া ছাড়ে ।
কাকের হিসাব রাখা গুরুত্বপুর্ণ না,
শহরে আরো কত সমস্যা
মানুষ মরছে,
জীবিতরা বিশ্রী ভাষায়
ঈশ্বরকে গালি দিচ্ছে,
কানে তুলো গুঁজতে গুঁজতে
ঈশ্বর শহরের সব তুলা নিয়ে গেছে
তুলার অভাবে,
বিপ্লবী বান্ধবীরা
বাধ্য হয়ে ঘরে থাকছে ।
তারপরও কাকের হিসাব রাখতে হয়
কাউকে না কাউকে,
কারণ শহরটা যতই তিনশ ষাট ডিগ্রী কোনে
ঘুরে যাক,
কাক আর প্রেম থেকে যায় ।
মন্তব্য
বেশ লিখেছেন । কাক আর প্রেম থেকে গেছে শহরে । জানেন তো আমি অনেক ছোট্ট বেলায় বিহারের কাছে 'মগমা" বলে একটি জায়াগায় ছুটি কাটাতাম , দাদুর কাছে ।সেটা সাঁওতাল পরগনা । কিন্তু সেখানে কোন কাক দেখিনি । অবেক হয়ে ভাবতাম কেন নেই। সেখানে প্রেম ছিল, ভালবাসা ছিল, দেহ দেওয়া নেওয়া, ভক্তি ছিল, নাচ গান, মাংস ঝলসে খাওয়া, রাগা রাগি, মার পিট সব ছিল সাঁওতালিদের মধ্যে- কিন্তু কাক ছিলনা ।
জানিনা এতদিনে কাক এসে গেছে কিনা !
লেখাটায় অনেক কিছুই মনে হল বুঝলাম, তবে আসলেই কিছু বুঝলাম কিনা জানি না।
ব্যাখ্যা করবেন কি ভাই? দয়া করে? খুব কৌতূহলী।
আপনার লেখা বরাবরের মতই ঘোরালো (ঘোর ঘোর লাগে পড়তে)
কি যে বুঝলাম, জানি না। কিন্তু ভাল লাগল পড়তে ।।।
মন্তব্য করুন