বর্ষার মেঘমালা-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

আমরা ঐ জায়গা থেকে বের হলাম কয়টায় কে জানে । তবে রাত তখনও গভির হয় নাই , এই কথাটা সত্য । দেখলাম রাস্তায় কুয়াশা , ক্লান্ত রিক্সাওয়ালা , বিরক্তিকর ভিক্ষুক পুলিশ সবাই মোটামুটি একটা স্বাভাবিক অবস্থানে আছে । আমার সংগি এলোমেলো পা ফেলছে , আমি হাসিহাসি মুখে এদিক ওদিক তাকাচ্ছি । সংগি কইল
- আপনে কই জানি যাইবেন ?
- হুঁ ,যামু তো , আপনে আমার সাথে যাবেন নাকী বাসায় যাবেনগা ..
- আরে ধুর বাসা , আমি রাস্তায় থাকি ..ঘরবাড়ি ভাল লাগে না ...
- আমার লগে যে লাইগা আছেন ইহার কারণ কি ? আপনে সমকামী না তো ?
- আরেহ নাহ .. চিন্তাভাবনার লাইনটা এতো পিকুলিয়ার কেন আপনার ...
- পিকুলিয়ার না , স্বাভাবিক চিন্তাভাবনা ....
- আপনেরে প্রতিদিনই দেখি একা একা ঘুরেন , মুখে করূণ ভাব নিয়ে হাটেন ...দেইখা মায়া লাগল ... ভাই আপনার মনটা খারাপ থাকে নাকী ?
আমি বিশুদ্ধ বিস্ময় নিয়ে যুবকের দিকে তাকালাম । এই প্রশ্নটা কেউ আমাকে কখনও করে না । করে না কারণ সেরকম যৌক্তিকতা নাই করার । কিন্তু এই ফালতু টাইপের একটা লোক কেমনে কেমনে জানি অতি গুরুত্বপূর্ন একটা প্রশ্ন করে ফেলল । আমার মনটাই উদাস হয়ে গেল । আমরা একটা রিক্সা ঠিক করলাম । যেখানে যাব সেখানে হাঁটা দূরত্ব তারপরেও রিক্সা লইতেসি , কারণ আমাদের দুজনেরই রাস্তা চিনতে অসুবিধা হচ্ছে । রিক্সাওয়ালারে কইলাম
- মামা যাবে ?
- যামু না কেন ? বামবাম করে যাব ..
রিক্সাওয়ালা হি হি করে হাসছে । রিক্সায় উঠে আমরা একটা সিগারেট ধরালাম । একটাই ছিল । আমি দেখলাম শহরটাকে চকে আঁকা মনে হচ্ছে । ছুডকালে যেই স্কুলে পড়তাম , সেখানে আমাদের একজন টিচার ছিল । অংক পড়াত মনে হয় । মাঝেমাঝেই অংক করানও বাদ দিয়ে উনি ঘোরলাগা চোখে তাকিয়ে বলতেন , “ বাবারা একটা মজা দেখবা ?” আমরা কিছু বলতাম না । উনার ঘোরলাগা আনন্দ আমাদেরকে স্পর্শ করত না । উনি তখন চক দিয়ে বোর্ডে একটা শহর আঁকতেন । সেই শহরে বাড়ি আছে , ইলেকট্রিকের খাম্বা আছে , মাথা বাঁকানো কাক আছে , রিক্সায় হুডদিয়ে চলতে থাকা যুবকযুবতী আছে । আমরা হা করে দেখতাম । পোলাপান মানুষের মুগ্ধতার থেকেও বেশী মুগ্ধতা থাকত আমাদের চোখে । ভদ্রলোক লাস্টের দিকে স্কুলের চাকরি ছেড়ে দিয়ে আঁকাআঁকি শুরু করলেন । উনার আঁকাআঁকিকে কেউ সেরকম পাত্তা দেয় নাই । তাতে উনার তেমন কোন সমস্যা হয় নাই , উনি নিজের তৈরী রিয়েলিটির ব্যাপারে নিশ্চিত ছিলেন । উনি সেই রিয়েলিটিতেই সুখে বসবাস করতে থাকলেন । নিজের রিয়েলিটিতে বিশ্বাস করা মনে হয় গুরুত্বপূর্ন ..।
আজকে এই কুয়াশার রাতে , আমি মনে হয় আমার সেই প্রাক্তন শিক্ষকের তৈরী রিয়েলিটিতে ঢুকে গেছি । চকে আঁকা অদ্ভুত এক রাত ....
রিক্সা জ্যামে পড়ল । কেন পড়ল ? এখানে এইটুক রাস্তায় জ্যাম লাগার কোন কারণ নাই । আসলে রাস্তার দুইপাশে খোড়াখুড়ি চলছে । হঠাৎ হঠাৎ করেই রাস্তাখোড়াখুড়ির মৌসুম আসে । লোকেরা নারায়ে তাকবির বলে রাস্তা খুড়তে ঝাঁপিয়ে পড়ে । ইন্জিনিয়ার আর কন্ট্রাক্টারদেরদের মুখে প্রশান্ত টাইপের একটা লাজুক হাসি দেখা যায় । কত সাধ্য সাধনা করে উনারা একেকটা কন্ট্রাক্ট জোগাড় করেন । তারপরে পর্যাপ্ত পরিমাণে টাকাপয়সা মেরে দিয়ে স্ত্রীদের নামে জমি কেনা হয়ে যাবার পর ইন্জিনিয়ারগণ রাস্তার ব্যাপারে উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন । শহরে গর্তের পরিমাণ তাই বাড়তেই থাকে । ভালই । বাংলাদেশে শুওরদের একটা লিস্ট বানালে ইন্জিনিয়ারগণ মনে হয় এক থেকে পাঁচের মধ্যে অবস্থান বাগিয়ে নিতে পারবেন , পারবেন না ?
রিক্সাওয়ালা রাস্তাখোদকদের বাপ মা গুষ্টি তুলে গালাগালি দিতে দিতে রিক্সা চালাচ্ছে । আমার সঙ্গীও তার সাথে যোগ দিয়েছে । গালাগালির একটা পর্যায়ে আমার মোবাইল বেজে উঠল । আমি ধরলাম
- হ্যালো ..
- আপনে আসতেসেন তো ?
- কে যুথী ম্যাডাম ? অবশ্যই আসতেসি ...আপনে কতদুর ..
- আমিও পথে , ওয়েট করা লাগলে একটু ওয়েট করবেন ...
- ওর্ডার মারেন ক্যানো ? এখনও তো লিভ টুগেদার শুরু হয় নাই ... শুরু হলে তখন অর্ডার মারবেন ..
তিনি “অ্যাসহোল” বলে ফোন রেখে দিলেন । রিক্সা চলছে , চলবই তো । আমি সংগীকে বললাম
- বিয়ে করেছেন ?
- নাহ্ ...
- গার্লফ্রেন্ড আছে ?
- তাও নাই ...
- চলে কেমনে ? হোটেলে যান ?
- যাই মাঝেমধ্যে ...... উপায় না থাকলে তো যাইতেই হয় ...
তিনি দেখলাম লজ্জা পাচ্ছেন । বললাম
- লজ্জা পাওনের কিছু নাই ভাইডি , আমারও অভ্যাস আছে ...
- প্রেম হইল না জীবনে আপনার মনে হয় ... আমার কিন্তু একবার হইসিল , সে এক কাহিনী ....
আমি কাহিনী শুনতে আগ্রহ বোধ করলাম না । বরন্চ নিজের অপ্রেমজীবনের কথা ভেবে উদাস হবার চেষ্টা করলাম । ইদানিং ঘন ঘন উদাস হই , যে কারণে আমার চোখদুটায় একটা ঢোলাঢোলা ভাব চলে এসেছে । আমার প্রজন্ম আর বয়সানুসারে এতদিনে আমার কয়েকটা প্রেমের অভিজ্ঞতা থাকার কথা । অন্ততঃ কোন মেয়ের কথা ভেবে কোন গাঁজা বা মদের আসরে একটু উদাস হয়ে যাওয়া উচিৎ ছিল , অথবা আমার সংগীটার মত গলা টেনে টেনে বলা উচিৎ ছিল যে আমার কোন একটা গভীর কাহিনী আছে কিংবা ব্লেড ডিয়ে হাতের কয়েক জায়গায় কেটে বন্ধুবান্ধবকে দেখায়ে বলতে পারতাম যে জীবনটা আসলে একটা “পেইন” । এগুলা হয় নাই । আমি ছুটির দিনে বারটায় ঘুম ধেকে উঠে নাস্তা খাই , চা খাই , বিড়ি খাই , ফার্মগেটের হোটেলে যাই ,টাকা থাকলে নেশফেশা করি ..এই । ভ্যালেন্টাইন ডেতে আমিও একটা সুন্দর জামা গায়ে দিয়ে বের হই , গত কয়েকদিন আগে ছ্যাক খেয়ে একা একা কাটাইতেসে এরকম পোলাপান খুঁজে বের করি । আড্ডা মারি , ঝগড়া করি । আমার এম্নেই চলে । আমি মাঝেমাঝেই চিন্তা করি যে আমি কেন কারও লগে প্রেম জাতীয় কিছু করলাম না ? এর একটা কারণ হল কাউকে আসলে ঐভাবে ভাল লাগে নাই , হয়তো চেহারা ভাল্লাগসে , ফিগার ভাল্লাগসে কিন্তু একটা মানুষ যেমনে আরেকটা মানুষরে লাইক করে সেই ঘটনাটা কখনও ঘটে না । কাউকে নিজের পুরা দুনিয়া দিয়ে দিতে মন চায় না , একধরণের ভয় লাগে , নিজেকে দুর্বল দুর্বল মনে হয় । বিষয়টা জটিল । আমি নিজেই ঠিকমত বুঝি না , বুঝাব আর কেমনে ।
আজকে যে নিজের থেকে বয়স্ক একজন তরুণীর সাথে দেখা করতে যাচ্ছি তার কারণ হল ঘোর । কুয়াশাও একটা কারণ হতে পারে । এজগতের অধিকাংশ বিষয়ের কারনই আসলে আমরা যা ভাবি তা না । তবে আমি অধিকাংশ সময়েই নিজের থেকে বেশি বয়সের তরুণীদের প্রতিই আকৃষ্ট হয়েছি । যখন কলেজে ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে ছিলাম , আমার এক বড় মামাতো ভাইয়ের বন্ধুর লগে পরিচিত হলাম । মেয়ে বন্ধু , বান্ধবী না ...। আমি এমনিত মেয়েদের সামনে লজ্জা পাই । তবে ইনার সামনে পাচ্ছিলাম না , যদিও তিনি সুন্দর ছিলেন । তো কিছু কথাবার্তার পর জানলাম তিনি পড়াশোনার সাথে সাথে একটা মানবাধিকারমূলক প্রতিষ্ঠানে যুক্ত । ভাল । বললাম
- কি ধরণের মানবাধিকার করেন , আপু ?
- এই মনে কর পথশিশু , প্রস্টিটিউট ...
যেহেতু প্রস্টিটিউটের কথা আসল তাই উনি একটু আড়ষ্ট হয়ে গেলেন । আর আমিও । এখন কথা কোনদিকে যাচ্ছে না দেখে একসময় আমি বললাম
- প্রস্টিটিউটদের কাজ করার ব্যাপারে আমার কিছু কথা আছে ...
তিনি একটু আতংকিত চোখে তাকালেন । আমি উৎসাহ পেয়ে বললাম
- এই মনে করেন যে উনাদের সাথে কাজ করার ব্যাপারে যাদের অভিজ্ঞতা নাই , তারা খালি উনাদের সাথে কথাবার্তা বলে উনাদের মেইন সমস্যাটা উপলব্ধি করতে পারবেন না .... এংগেলের একটা বিষয় আছে । তবে রুচিবোধ এখানে একটা সমস্যা........
এই কথাটা বলার পরে তিনি খুব রেগে গেলেন । আমি ভয় পেয়ে গেলাম । আমার মামাতো ভাই ঘটনাস্থলে ছিলেন না , সুতরাং তার কোন রিএকশানও দেখা যায় নাই । তবে পরবর্তিতে তিনি আমাকে ছোটলোক বলেছিলেন । আর তার উত্তরে আমি উনাকে ফট করে একটা খারাপ কথা বলে ফেললাম । যে কারণে আমার মামাতো ভাইয়ের সাথে এখন আমার কোন যোগাযোগ নাই । এভাবেই আসলে আমি দিনে দিনে একা হয়ে যাচ্ছি ।
আমরা ঢুকলাম সেখানে । গভির রাতের সেই রেস্টুরেন্টে । আমাদের সাথে সাথে একরাশ কুয়াশাও ঢুকে পড়ল ভিত্রে । যুবক হঠাৎ করেই বলল , “উফ আর ভাল্লাগতেসে না ..” আমি মিনমিন করে বললাম , “ কষ্ট করে এতক্ষণ যখন থাকসেন তখন আরেকটু থাকেন , গল্প প্রায় শেষের দিকে......” । আর তাই সে থাকল ।
রেস্টুরেন্ট জ্বলজ্বল করছে । আমার চোখে আলোতে কটকট করে । একটা কোমল চেহারার লোক বসে বসে কফি (চা অথবা জুসও হতে পারে) খাচ্ছেন , আর কাউন্টারে বসা এক স্টাফ আমাদের দিকে ক্লান্ত চোখে তাকিয়ে আছে । আমি খুঁজি তারে , খুঁজি । তারপর দেখলাম আমাদের ঠিক উল্টাদিকের টেবিলেই সে আছে । সেই তো মনে হয় । ফেসবুকে দেখা তরুনীর সাথে সেরকম কোন মিল নাই । তাছাড়া আমি আছি টাল অবস্থায় । ভাল মত কিছু দেখতেও পারছি না । এগিয়ে গেলাম । কোমল হলুদ বর্ণের একজন ছোটখাট তরুনী । বয়স কত বোঝা যায় না । তবে আমার থেকে বেশি । তার চোখে রাজ্যের ক্লান্তি । আমি বললাম
- হ্যালো ...
তিনি মাথা ঘুরিয়ে তাকালেন । আমার সংগী তরল গলায় বলল
- ম্যাডাম স্লামালেকুম ...
তরুনী উজ্জ্বল চোখে আমাদেরকে দেখল । সে একাই এসেছে । কেউ নাই । কোন ব্যাটেলিয়ান বা সৈন্য বাহিনী নাই । আমার খারাপ লাগল । রাজকন্যাদের সাথে সৈন্যবাহিনী না থাকলে ভাল দেখায় না । আর তারপর সে বলল
- আপনাদের মধ্যে কুরু কোন জন ?
আমি হাত তুললাম । তিনি বললেন
- বন্ধু নিয়ে আসছেন কেন ? খারাপ মতলব আছে নাকি ?
- ছিঃ ছিঃ .....
আমার ছিঃ ছিঃ বলার স্টাইল দেখেই বুঝলেন । বলল
- বস ... খাড়ায়ে রইলা কেন ?
আমি বসলাম । সাথে সাথেই তিনি হাসলেন , আমি গভীর ক্লান্তি নিয়ে লক্ষ্য করলাম আমার ইনারে ভাল লেগে গেছে । তিনি বললেন
- সমস্যাটা কি আপনার ?
- কোন সমস্যা তো নাই .... আপনার আছে মনে হয় ..
তিনি একটু উদাস হলেন । আমি সুযোগ বুঝে বললাম
- আপনার মনটা খারাপ থাকে নাকী ইদানিং ?
তিনি অবাক হয়ে তাকালেন । আর আমার সংগী অশ্লীল একটা ভংগিতে তার দিকে তাকিয়ে থাকল । তাই মেয়েটা অসোয়াস্তি নিয়ে বলল
- কুরু আপনার বন্ধুকে চলে যেতে বলেন , সে লোক ভাল না ...
আমি বললাম । সংগী হাসি হাসি মুখে বলল
- কুরু ভাই , আমি চলে গেলে কিন্তু আপনেও থাকতে পারবেন না ... আপনার সাথে আমার যোগাযোগটা কত গভীর সেটা ম্যাডামকে বুঝায়ে বলেন , আজকে সারা রাতে একটা লোকও সেই কথাটা বুঝছে বলে আমার মনে হয় না ..
- সেটা গল্পকার হিসেবে আমার ব্যার্থতা ...
- আপনে একটা চ্যাটের বাল , সকাল বিকাল থাবড়ানো দরকার আপনারে ....
যুবক ক্রুদ্ধ চোখ নিয়ে উঠে গেল । উঠে গিয়ে বেশীদূর যাইতে পারল না । আমাদের থেকে একটু দূরের একটা টেবিলে ক্লান্ত ভংগীতে বসে পড়ল । যূথী দুঃখিত চোখে তাকিয়ে বলল
- এই অবস্থা আপনার ? প্রথম দর্শনে কে বুঝবে .....
আমি উত্তর না দিয়ে একটা সিগারেট ধরালাম । রেস্টুরেন্টের এক স্টাফ এগিয়ে এসে বলল , “ প্লিজ স্যার ডোন্ট স্মোক ...” । পাশের টেবিলে বসা আমার সংগী ঝড়ের বেগে উঠে এসে স্টাফের পেটে ঘুসি বসিয়ে দিল । যুথী হাঁ করে তাকিয়ে আছে । আমি বললাম
- ওর দিকে মনোযোগ দেয়ার দরকার নাই , আমার দিকে দেখ ...
আর সে দেখল আমার পানে । আমি বললাম
- ফেসবুকে এই ফাজলামিটাকে এতদূর কেন আনলেন ?
- এম্নি , অথবা কোন একটা প্রগাঢ় কারণ আছে হয়তো ... সেটা তোমারে বলার দরকার দেখি না ....তুমি আসলা কেন ?
- কুয়াশা .....
- কি ?
- কুয়াশার কারণে আসছি .. আসতে হয় ...
তারপর সে জানি কি ভাবল । আমাদের চারপাশে কুয়াশারা আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকল । রেস্টুরেন্টের স্টাফ দেখলাম বলল , “ তোমাগো খবর আছে , চেন তুমি আমারে ...” । আমি ভয় পাচ্ছি , অধচ যুবক ভয় পাচ্ছে না । তাকে আনন্দিতই মনে হল । যুথী বলল
- তোমার তেমন কোন বিশেষত্ব নাই ...
- কি রকম ?
- চেহারা ফিগার পাসোর্নালিটি ....আইচ্ছা তোমার ক্ষমতা কিরকম ?
- ভাল না , এলাকায় কেউ সেরকম বেল দেয় না ...
- আমি সেই ক্ষমতার কথা বলি নাই , যেটার কথা বলসি সেটা ভাল করেই বুঝছ ..
- ওহ.. ঐটাও ভাল না ... কমদামী ড্রাগ খেয়ে নেশা করতাম তো ...
- তাইলে আর কি থাকল ..
দেখলাম সে হতাশ হল । আমি সরু গলায় বললাম
- হতাশ ?
- হুঁ...
- হোয়াই ? আমার কি কোন একটা চান্স ছিল নাকী ?
সে হাসি চাপতে চাপতে বলল , “ ছিল ছিল ...” । আমি বিস্মিত হলাম । আমার গলা ধরে আসল । সে আমার করুণ চেহারা দেখে হোহোকার করে হাসতে লাগল । শব্দটা বড় মিষ্টি । সে বলল
- আমার সমন্ধে তোমার মতামত কি ?
আমি বেশ অনেক্ষণ তাকিয়ে থেকে বললাম
- আপনার চেহারা সুন্দর ......
দেখলাম তার মুখ থেকে আবার হাসি মুছে গেল । তার নিজস্ব ক্লান্তি চলে এল সেখানে , আমাদের সেই পুরাতন নিজস্ব ক্লান্তি । সে বিড়বিড় করে বলল
- থ্যাংকিউ , আহা শুইনা খুবই খুশি লাগতেছে ...এত খুশি লয়ে আমি কই যাই .....
আমি খুবই বিব্রতবোধ করছি । এভাবে তার মনটা খারাপ করায়ে দেয়া কোন কাজের কথা হল না । যুবক এগিয়ে আসল । বলল
- কুরু ভাই বহুত ঢং করছেন ।এখন তাড়াতাড়ি এই জায়গা থেকে বের হন । স্টাফরা পোলাপান খবর দিছে ...লোকজন খুব খারাপ হয়ে গেছে ইদানীং ...সুন্দরী মেয়েছেলে পাইলে সুযোগ ছাড়ে না ....
- আমি আপনে কিন্তু ঐরকম খারাপ হই নাই , তাই না ব্রাদার ?
- হমুও না ...
যুবক হাসছে , আমি হাসলাম । যুথী আমাদের কথাবার্তা শুনেছে । তার চোখে স্পষ্ট ভয় , দেখলে মনে কষ্ট লাগে । আমি বললাম
- চল বাইর হই ...
সে চলল । ফিসফিস করে বলল
- ভয় লাগতেছে ..
- সমস্যা নাই , যুবক বন্ধু আছে না , উনি লোক খারাপ । এটা আমাদের জন্যে মারাত্নক সুবিধা ...
যুথী তাকাল । সে কি এখন যুবক বন্ধুর প্রতি আকর্ষণ বোধ করা শুরু করল । ধুর বাল , করলে করুকগা । আমাদের আর জটিল হিসাব নিকাশ করতে ভাল লাগে না ।
রাস্তাভরা কুয়াশা , গভীর এক ভয়ংকর অরণ্যের মত শহর আমাদের চারপাশে । অসভ্যরা শহর বানাতে পারে না , তারা যা বানায় তা শেষ পর্যন্ত ঐ অরণ্যই হয়ে যায় । তারপর তারা নিজেদের দালানগুলার উপ্রে বসে বসে , ছাপড়ার নিচে বসেবসে , একে অন্যকে “জানোয়ার” আর “অসভ্য” বলে গালাগালি করে । শুওরের বাচ্চারা ।
যুবক হেলেদুলে হাটছে । মাঝেমাঝে হাততালি দিচ্ছে । এই অরণ্যে বেঁচে থাকার জন্যে তার মত হওয়া দরকার ছিল । তার কাছেই সব কিছু নিরাপদ থাকবে । আমি দুধের মত মিষ্টি কুয়াশা সরিয়ে হাটতে হাটতে একসময় উদাস গলায় বলি , “ ভাবতেও অবাক লাগে , এই শহরে ..এরকম রাতও নেমে আসতে পারে .....”
যুবক ফিরে তাকিয়ে বলল , “ কুরু ভাই গল্পের মাঝখান দিয়ে দিয়ে আপনার সস্তা কবিতার লাইন ঢুকানোর এই তরিকাটা কিন্তু খুব ফানি ......”
আমি কিছু বললাম না । আমরা জলের ধারে চলে এসেছি । মানুষের সব যাত্রা মনে হয় একসময় জলের ধারে এসেই শেষ হয় । যুবকবন্ধু “হুউউউউইইইইইই.....” করে একটা শব্দ করে জলে ঝাঁপিয়ে পড়ল । হাসতে হাসতে বলল , “ কুরু চইলা আসেন ....যুথী নাইমা পড়েন ...পানি গরম আছে ....” । সে খ্যাকখ্যাক করে হাসতে লাগল ।
আমি বললাম , “ যুথী ..আমি যাইগা তাহলে ...”
সে সামান্য নরম গলায় বলল , “ আরেকটুক্ষণ থাকতে পার ইচ্ছা করলে ... থাক আরেকটু ...”
আমি আরেকটুক্ষণ থাকব বলে ঠিক করলাম ।
কেন থাকব ?............ কারণ আমাদের থাকতে হয় ।
মন্তব্য
আপ্নের মত বিন্দাস্ লেখক এই যামানায় কসম দিয়া কইলাম একজনও নাইকা। লিখতে থাকুন, পড়তে আছি।
একই কথা বলব মেঘ ভাই......

"অসাধারণ" শব্দটা আর কত ইউজ করব আপনার জন্য ??
কিছুই বলার ভাষা পাচ্ছি না......
আবার ৭ দিলাম......
নতুন লেখার অপেক্ষায় থাকলাম......
সে সামান্য নরম গলায় বলল , “ আরেকটুক্ষণ থাকতে পার ইচ্ছা করলে ... থাক আরেকটু ...”
আমি আরেকটুক্ষণ থাকব বলে ঠিক করলাম ।
কেন থাকব ?............ কারণ আমাদের থাকতে হয় ।
বর্ষা আরেকটু থাকলে জটিলতাই বাড়ে শুধু, জানেন?
আচ্ছা বর্ষা, কেন আমাদের আরেকটু থাকেই হয়?
কে? কেন?
আমাকে লেখা শিখাবেন?
মারত্নক লাগতেছে আপনার লেখা থেকে আপনাকেও!
কি করেন আপনি জানতে মুঞ্চায়!
আপনার গল্পের মতোই মনে হচ্ছে আপনাকেও!
যাই হোক, শুভ কামনা!
লেখকের মন্তব্য
ভাই আপনি কষ্ট করে লেখাগুলা পড়েছেন দেখে খুব ভাল লাগল
আমি ইস্টুডেন্ট , একটা প্রাইভেট মেডিকেলে পড়তেসি , সরকারীতে পরীক্ষা দিসিলাম চান্স পাই নাই , 
আপনার আসল নাম জানতে পারি ভাই?
সিরিয়সলি আমি আপনার ফ্যান হয়া গেসি......
এইচএসসি কোন ব্যাচ?
মন্তব্য করুন