লেখকের ক‌থা

সদর দরজা

জলভরা এক আশ্বিনে ৪

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আমি টিএসসিতে পৌছালাম সন্ধ্যা ছটায় । দুনিয়ার লোক এখানে এসে জড়ো হয়েছে । রাস্তার পাড় হবার সময় প্রায় দুবার আমার গায়ের উপ্রে রিক্সা উঠে যাওয়ার মত হল । উফ ! এত লোক কেন এখানে ? মানুষের কি যাওয়ার আর কোন জায়গা নাই । এখানে দেখার মত কিছুই নাই । অথচ মানুষজন যে আগ্রহের সাথে ঘোরাফেরা করছে তাতে মনে হওয়া স্বাভাবিক যে এখানে কোন উৎসব হচ্ছে । এই গ্যান্জামের মধ্যেও মাসুদকে খুঁজে পাওয়া খুব একটা কষ্টকর হবে না । নির্দিষ্ট কিছু স্পট ছাড়া অন্য কোথাও সে থাকে না । পকেটে আমার মোবাইল কাঁপছে । আমি ফোন বের করে দেখলাম আপার নাম্বার । একবার ভাবলাম এই ঝামেলার মধ্যে আপার কল ধরব না , তারপরই মনে হল যে গতকাল থেকে আপার কল ধরতেসি না । কাজটা ঠিক না । আপাকে খুশি রাখাটা জরুরী , কারণ আপা মাঝেমাঝেই আমাকে হাতখরচ দেয় । আমি ফোন ধরে গলায় মধু ঢেলে বললাম
- হ্যালো আপা , স্লামালেকুম ।
আপা থমথমে গলায় বললেন
- গতকাল থেকে ফোন ধরিস নাই , এটা কিরকম বেয়াদবী ?
- আপা , ইয়ে মানে ব্যাস্ত ছিলাম ।
- ফালতু কথা বলবি না , তোর আবার কিসের ব্যাস্ততা ? তুই আমার নাম্বার দেখেই ধরিস নাই ...
- এরকম করার আমার কি কোন কারণ আছে আপা ? তুমি কি আমার কাছে টাকা পাও ...
- তুই ভাল করেই জানিস ঘটনা কি ..
- আপা প্লিজ আমাকে খুলে বল । আমার মাথায় বুদ্ধি কম ,ঘোরানো কথা বুঝতে পারি না ।
আপা একটু থেমে বললেন
- তুই ফেসবুক থেকে আমাকে রিমুভ করেছিস কি জন্যে ?
রাগে আমার গা জ্বলে গেল । এই কথাটা বলার জন্যে সে ফোন করেছে ? আপার ফোন ধরাটাই ভুল হয়েছে । ফোনে কথা বলতে বলতে হাটার কারণে আমি এই পর্যন্ত দুজন মানুষের সাথে ধাক্কা খেলাম । এদের মধ্যে একজন কিছুই বলেনি । আরেকজন “ভাইয়া কি চোখ পকেডে লয়ে ঘুরেন” বলে কঠিন চোখে তাকিয়ে থেকে চলে গেছে । আমি গলার স্বর স্বাভাবিক রেখে বললাম
- আপা তুমি এই কথাটা বলার জন্যেই আমাকে ফোন করেছ ?
- কেন কথাটা কি জরুরী না ? তুই কত বড় তালেবর হয়েছিস যে আমাকে রিমুভ করে দিলি ..... আমি তোর বড় বোন .....
আমি বিস্মিত হয়ে শুনলাম আপা ফোঁপানোর মত শব্দ করছে । আমি বিরক্ত হয়ে ফোন রেখে দিলাম । কর্মহীন লোকজন সবসময়ই অদ্ভুত সব সমস্যায় জড়িত থাকে । আপার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে । বাংলাদেশের অধিকাংশ লোকই আসলে কর্মহীন । একারণেই তারা অদ্ভুত সব সমস্যায় জর্জরিত । আবার মোবাইল বাজছে । আমি মোবাইল অফ করে রেখে দিলাম ।

মাসুদকে টিএসসির মধ্যেই পাওয়া গেল । ওয়াইফাই জোনে ল্যাপটপ কোলে বসে আছে । মাসুদের ব্যাপারে আগেই বলেছি যে সে একটা গুরুত্বপুর্ণ ক্যারেক্টার । তার ব্যাপারে ছোটখাট একটা পরিচিতি দেই । মাসুদের আমার পরিচয় ক্লাস এইট থেকে । ঐ সময় আমরা হরিহর আত্না ছিলাম । সবসময় একসাথে থাকতাম । তবে এখন সেরকম একটা দেখা হয় না । তারপরও মাসুদকেই আমার একমাত্র বন্ধু বলা যায় । আবার আমাকেও মাসুদের একমাত্র বন্ধু বলা যায় । আমার সমস্যা হল ইদানীং আমার মানুষের সংগ অসহ্য লাগে , তাই আমার কোন রকম বন্ধু বান্ধব নাই । আর মাসুদের সমস্যা হল তার কারো সাথেই বেশীদিন বন্ধুত্ব থাকে না । যে লোকটাকে সে একসপ্তাহ আগে ভাল লোক বলেছে , একসপ্তাহ পরেই দেখা যাবে তার ব্যপারে মুখবিকৃত করে বলছে , “ বাইনচোদ বহুত দেখছি , এরকম খাঁটি বাইনচোদতো দেখি নাই ..শালার...” । মাসুদের অর্থনৈতিক অবস্থা বেশ খারাপ । বাপ মা কেউই নাই । ঢাকা ভার্সিটিতে কম্পিউটার সায়েন্সে চান্স পেয়েছিল । এই বিষয়ে বেশ ভাবে ছিল অনেকদিন । পলিটিক্যাল এক বড়ভাইকে ধরে হলে সিট জোগাড় করে ফেলল । তবে পলিটিক্স বেশীদিন করতে পারে নাই । পার্টির মিটিং ফিটিং একটাতেও যেত না । তাই প্রথম বছরের পরেই বড়ভাইরা পার্টি থেকে বের করে দিল । তবে হলের দখল ছাড়ে নাই । হলে ঠিকই থাকছে । মাঝেমাঝে ঝামেলা হলে , এখানে এক মামার বাসায় গিয়ে থাকে । মাসুদের পড়াশোনা কবে শেষ হবে এই বিষয়ে আমি জানি না । তার নিজেরও এই বিষয়ে আগ্রহ আছে বলে মনে হয় না । হাতিরপুলে একটা প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্টের অফিসে মাঝেমাঝে তাকে সামনে কম্পিউটার নিয়ে বসে থাকতে দেখা যায় । সে বলে ঐ অফিসে গ্রাফিক্স ডিজাইনারের কাজ করে । আমি বেশ কয়েকবার সেই অফিসে গিয়ে দেখেছি মাসুদ বসে বসে সিগারেট টানছে আর ফেসবুকে হাবিজাবি করছে । এই অফিসের কাজকর্ম আমার কাছে পরিষ্কার না । মাসুদকে এরা মাসে মাসে যে টাকা দেয় এমনও না । হঠাৎ হঠাৎ কোন মাসে পাচ ছয় হাজার টাকা ধরায়ে দেয় ।
কালেভাদ্রে এই অফিস থেকে নানান জায়গায় পার্টির আয়োজন করা হয় । এসব পার্টি হলে মাসুদের লাভই হয় । সে আরামে চারপাচটা ফরেন বোতল সরায়ে ফেলে । এসব বোতল বাইরে বেচে সে এককালীন কিছু টাকা পায় । অনেক সময় নিজেই খেয়ে ফেলে । তবে গত কয়েকমাস ধরে মাসুদের ধারণা হয়েছে সে একজন কবি । এই ধারণা হবার পর থেকে মাসুদের সাথে আমি দেখা সাক্ষাৎ কমিয়ে দিয়েছি । দেখা হলেই সে অতি অখাদ্য সব কবিতা শোনাতে আসে ।
মাসুদ হাত উচায়ে ডাকছে । তার গায়ে টকটকে লাল একটা গেন্জি । চুল দাড়ি বড় করেছে । বড় চুল দাড়িতে তাকে ভালই লাগছে । আমার এই বন্ধুটি একজন সুদর্শন মানুষ ।
মাসুদ আমাকে দেখে হাসল । বলল
- দোস্ত খবর কি তোর
- আছি মোটামুটি....তোর কি অবস্থা ? বন্ধুবান্ধবরে তো ভুইলাই গেস....
- শালা , আমি ভুলে গেছি ? আমিই তো তোমারে কল দিতে দিতে অস্থির হয়ে যাইতেসি .....
- আমি তো বুঝসই .....সবসময়ই পিনিকে থাকি ...খেয়াল থাকে না অতো ....
মাসুদ কম্পিউটার টিপাটিপি করতে করতে বলল
- দোস্ত , আমর কবিতাটা পড়সিলি ?
- কোন কবিতা ?
- ঐযে ফেসবুকের নোটের ভিত্রে । তোকে তো ট্যাগ করসি সবার আগে ।
- না পড়ি নাই ....
- কস কি ব্যাটা ...একশ দশটা লাইক পড়সে আর সত্তরটার মতো কমেন্ট ...এটা তো তোর টপ নিউজে থাকার কথা , তুই কি ফেসবুকে ঢুকস না ?
- ঢুকসিলাম । বড়আপাকে রিমুভ করে বাইর হয়ে গেসি ..... অত খেয়াল করি নাই ...।
- মিস করে গেলি রে , আরে আজিজের দুইজন কবি আমার কবিতা পড়ে বলেছে যে আমার হবে .......
- আজিজের কবি মানে ?
- আজিজের কবি মানে হল , আজিজ মার্কেটের কবি । বাংলা সাহিত্যের তীর্থস্থান হল আজিজ মার্কেট ...শালা তুই আসলেই একটা অশিক্ষিত ....
- ভাল ভাল , তো এই মহান কবিরা বলেছে যে তোকে দিয়ে কবিতা হবে ?
- হুঁ , তুই শুনবি ?
- কি শুনব ?
- কবিতাটা ....
- দোস্ত মাফ কর ...
- আরে বেটা শোন না । বন্ধু মানুষ হয়ে এমন করলে হয় নাকী ?
মাসুদ গম্ভীর গলায় আবৃত্তি শুরুর করল –
অনেক অন্ধকার একরাতে এসেছিল
পৃথিবীতে ,
প্রত্যেক বৃক্ষশাখায় শাখায় অন্ধকারগণ জড়াজড়ি করেছিল
সকালে সব অন্ধকার চলে গেল সব বৃক্ষরে রেখে,
একজন ছাড়া ,
বৃক্ষের প্রতি গভীর প্রেমে
অন্ধকার আটকে থাকল বৃক্ষশাখায় চিরকাল ...
বৃক্ষরে সবাই ভুতুড়ে বলে
তাকে করেছে ত্যাগ ....
বৃক্ষ তো সুখেই আছে
তার আর কি লাগে .....
মাসুদ গভীর আবেগে আবৃত্তি করছে । আশেপাশের লোকজন মুখে চাপা হাসি নিয়ে মাসুদকে দেখছে । আমার ভয় লাগছে যে কখন কে একটা বাজে কমেন্ট করে বসে ,আর মাসুদ শুরু করবে ক্যাচাল । মাসুদ আবৃত্তি শেষ করে আমার দিকে আগ্রহ নিয়ে তাকাল । বলল
- কেমন মনে হল ?
- কিছুই বুঝি নাই ....
মাসুদ বিরক্ত মুখে বলল
- তুই আসলেই একটা ফাউল রে , কবিতার ব্যাপারে কখনো এই কমেন্টটা করবি না । কবিতার ব্যাপারে দুটা কমেন্ট হয় , ভাল লেগেছে ...ভাল লাগে নাই । ছাগলের মত বলবি না যে কিছুই বুঝি নাই । কোন কবিতাই পুরোপুরি বোঝা সম্ভব না । বোধের আস্পষ্টতা কবিতার একটা মুল বিষয় ..

মাসুদ আংগুল তুলে লেকচার দিচ্ছে । আমি এবার খেয়াল করলাম যে তার চোখ সামান্য লাল । শালা মনে হয় গাঁজা টানসে কিছুক্ষণ আগে । আমি শীতল গলায় বললাম
- মাসুদ থাম .....
মাসুদ চুপ করে গেল । আবারও কম্পিউটার নিয়ে ব্যাস্ত হয়ে গেল । একসময় মুখ তুলে স্বাভাবিক ভাবেই বলল
- দোস্ত মীমের সাথে সেদিন কথা হল , আমারে ফেসবুকে এ্যাড করসে....
- মীম কে ?
- মীম কে মানে ? মীম আমার গার্লফ্রেন্ড ... ব্রেকআপ হয়ে গেসিল মাঝখানে..
- তোর তো অনেক মেয়ের সাথেই রিলেশন আর ব্রেকাপ হইসে । আমার এখন আর হিসাব নাই....তুই কার কথা কস ?
মাসুদ আহত গলায় বলল
- দোস্ত এটা তুই কি কইলি ? আমি কি লুইচ্চা ...তোর কথা শুনে তো যে কেউ ভাববে যে আমি লুইচ্চা ....আরে মীম হল শরীফ ভাইয়ের ছোট বোন...
আমি এখনও চিনতে পারি নাই । তারপরও বললাম
- ও আচ্ছা.... চিনসি..
মাসুদ খুশি খুশি গলায় বলল
- দোস্ত এবার মনে হয় বিয়েশাদী করে ফেলব । এই মেয়েটাই আসলে পারফেক্ট ....
- কর ...ভালই হয় । কবে করবি আমারে জানাইস...আমিও বিয়ে করতেসি । দুজনে একই দিনে করমু....
মাসুদ চোখ বড় বড় করে তাকাল । বলল
- তুই বিয়ে করতেসিস ? কারে বিয়ে করতেসিস ?
- যুথী...
- যুথী মানে ? উত্তরার ঐ..
- হঁ
- ভাই তোর সমস্যাটা কি আমারে কতো....
- আমার তো কোন সমস্যা নাই । আশেপাশর পুরা দুনিয়ার সমস্যা আছে । আমার কোন সমস্যা নাই..কোন কালে ছিলও না ।
- তুই প্রস্টিটিউট বিয়ে করবি ?
- করব , তোর কোন প্রবলেম ? আর প্রস্টিটিউট প্রস্টিটিউট কইলে কিন্তু চড় খাবি.... আর কোনদিন বলবি না...

মাসুদ বিস্মিত হয়ে তাকিয়ে আছে । আমি নিজেও যথেষ্ট অবাক হলাম । আমি লক্ষ করলাম আমি প্রচন্ড রেগে গেছি । অনেকদিন পর এরকম রাগ হলাম । কেন হলাম ? যুথীর ব্যপারে কোন প্রসংগ উঠলেই যে আমি এরকম হিংস্র হয়ে উঠতে থাকি তার কারণটা আসলে কি ? এটা কি আমার ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ নাকী আমার নিজের মনের ভেতরেও যুথীর প্রেমে পড়া নিয়ে একধরণের রাগ কাজ করে ? কে জানে । আমরা নিজেদেরকেই বুঝি না আর প্রকৃতির গভীর সব রহস্য বুঝার চেষ্টা করি ....।
মাসুদ আমার মাথায় টোকা দিয়ে বলল
- ঐ বেটা চেতস কেন ? তুই তো ঠান্ডা মানুষ , তোরে তো এরকম চেততে দেখি না...
- সরি ...
- আরে খাইসে ,তুই আবার সরি কওয়া শিখলি কবেত্থেকে ? শোন তোরে যারে ইচ্ছা তুই বিয়ে করবি । ঐযে আছে না “ পিরিতি এই জগতে জাতি কুলের ধার ধারে না....”
- শুনি নাই তো ..গানটা ধর ...
- পিরিতি এই জগতে জাতি কুলের ধার ধারে না... ওরে যার সাথে যার মন মইজাছে সে কিন্তু তারে ছাড়ে না....

মাসুদ যথেষ্ট আবেগ নিয়ে গান গাওয়া শুরু করল । আমি একটা খালি পানির-বোতলে হাত দিয়ে বাড়ি মেরে মেরে তাল দিচ্ছি । টিএসসিতে সন্ধ্যাবেলা যার মন চায় সেই গান গাওয়া শুরু করতে পারে । আমাদের আশেপাশে আরও অনেক পোলাপান গান গাচ্ছে । গানের শব্দ , আযানের শব্দ আর সুর্যাস্ত মিলেমিশে টিএসসি একাকার হয়ে যাচ্ছে ।

( চলব...)

7
আপনার মূল্যায়ন: আপনি মূল্যায়ন করেন নি। গড় রেটিং: 7 ( ভোট)
শেয়ার করুন » Facebook Twitter Delicious Digg MySpace Google Orkut Blogger Google Buzz Technorati
অথবা এই সংক্ষিপ্ত লিংক শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৭৭১১৮(১)    

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এলেন!
- খুব ভালো লাগছে পড়তে!
ভালো থাকবেন!

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#১৭৭৮৭৩(২)    
লেখকের মন্তব্য

ধন্যবাদ বাপী ভাই :) :) :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০০৩২২(৩)    

ভাইয়া
কমেন্ট করা হয়নি বলে ভাববেন না, আমি পড়িনি। আসলে পড়েছিলাম এবং পরের পর্বের জন্য ওয়েট করছিলাম। কিন্তু আপনার তো ঘুম ভাঙ্গেনা!
আজ কি দিবেন নাকি পরের পর্ব?

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২২৫৩৫৬(৪)    

কি অসাধারণ বর্ণনা!

গানের শব্দ , আযানের শব্দ আর সূর্যাস্ত মিলেমিশে টিএসসি একাকার হয়ে যাচ্ছে ।

কি মন্তব্য করব?
ভাষাহীন!

আমারে লেখা শিখান না! প্লীজ!

 

মন্তব্য করুন

এই তথ্যটি সর্বদাই গোপন রাখা হবে এবং কোন অবস্থাতেই তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
ছবি যাচাই
আপাতত: শুধু মানুষদের জন্যই আমাদের দুয়ার খোলা। পরে নাহয় রবোট, বায়োবট বা এন্ড্রয়েডদের কথা বিবেচনা করা যাবে।
14 + 1 =
এই গাণিতিক সমস্যাটি সমাধান করুন এবং সঠিক উত্তরটি উপরের ঘরে লিখুন। যেমনঃ ১+৩ এর জন্য লিখুন ৪।