বর্ষার মেঘমালা-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

লিফটে উঠলাম । দেখলাম সে আছে । আমি রাগ হলাম । সেও কিন্চিত অস্বস্তিতে পড়ল ।
আকাশের কাছাকাছি আমার ঘর । সেই ঘরের মেঝেতে সমুদ্র খেলা করে । আগে আমার ধারণা ছিল আকাশের কাছাকাছি বাস করলে মেঘ ছোয়া যায় । এখন জানি শহরের রাস্তায় হাটতে হাটতে কিছু বিশেষ লোকজন কত অনায়াসে মেঘমালাদের ধরে ধরে পকেটে ঢুকিয়ে ফেলেন ।
আর আমি বললাম , “ আপনি ভাল আছেন ?” সে বলল , “ না , মনটা খারাপ ...আপনি কেমন ?” আমি হাসলাম কৌতুকে । সেও হাসল । আমাদের হাসিতে লিফটের লোহার ঘরটা বেগুনী হয়ে গেল । তার বয়ফ্রেন্ড বিরক্ত হল । আমি বললাম , “ হে তাহার বয়ফ্রেনড , আপনার সমস্যাটা কি ?” বয়ফ্রেন্ড কিছু বলল না । লিফটের মেঝেতে থুথু ফেলল । আমি বললাম . “ এটা কিন্তু ছোটলোকামি , যুথী তুমি এইরাম ছোটলোকের সাথে প্রেম কর ?” সে ক্লান্ত গলায় বলল , “ আমার আর উপায় নাই , এই শেষ । কতদিন আর কচুরি পানার মত ঘুরব ?” আমি কিছু বললাম না । আকাশে বসবাসরত পরিচালক সাহেব আমার জন্য কোন ডায়ালগ খুঁজে পাননি ।
তাই আমি চুপ । সে চুপ , আর বয়ফ্রেন্ডের বড় বড় দীর্ঘশ্বাস । হয়তো অধিকার প্রমাণ করার জন্যেই সে তার গরম নিঃশ্বাসগুলো যূথীর ঘাড়ের উপর ফেলতে লাগল , আর শীতার্ত রমণী সেই নিঃশ্বাস গ্রহণ করল গভীর এক অপরাধবোধ নিয়ে । আমি হাসলাম । বললাম , “ ভাই , বড় পোলাপান মানুষ আপনি ..” তিনি কুৎসিত ভংগিতে বললেন , “এই মেয়েটার চুলগুলা রেশমের মত..।“
আমি ক্ষেপে গিয়ে বললাম , “ ভাই , আপনার কিন্তু খবর আছে , আমি মানুষ ভাল না ...” তিনি বললেন , “ আমিও আপনার থেকেও খারাপ লোক , আমি পলিটিক্স করি ....” । আমি বললাম , “ হা হতশ্রী!!”
তিনি কাঁপতে লাগলেন । আর আমিও । আর যূথী বলল , “ দেখেন দেখেন , এখানে সৈকতের মত অনার্য বাতাস আমার চুলে খেলা করছে ...” । আমি বললাম . “ করবেই তো . আমার ঘরের সমুদ্র লিফটের ভেতরেও চলে এসেছে ...”
তার বয়ফ্রেন্ড মোবাইল বের করে আমার দিকে হিংস্র চোখে তাকাল । আর আমি আমার বাইসেপ আর কেশর ফুলিয়ে তৈরী হলাম । তারপর গভীর দুপুর চলে গিয়ে সন্ধ্যা হয়ে গেল । মুয়াজ্জিন মিলন সাহেব , তার সুরেলা কন্ঠে মাগরিবের আযান দিল ।
আমরা ছাদে চলে আসলাম । তার বয়ফ্রেন্ড ভদ্রলোকদের মত গলায় বলল , “ খেয়াল কর ব্রাদার , মেয়েটা তোমার থেকে চার বছরের বড় ..এন্ড সি ইজ নট ইভেন আ ভার্জিন ...”
আমি উৎফুল্ল্ গলায় বললাম , “ আপনি কি আমার কেশর দেখে ভয় পাইলেন ?”
তিনি কঠিন চোখে তাকালেন । আমি ঠান্ডা চোখে তাকালাম , এবছর বড় শীত পড়ল । পাশের বাসার কন্ট্রাকটার সাহেব শুয়োরের বাচ্চা ন্যাকা ন্যাকা গলায় বললেন , “ এখানে মারপিট কইরেন না গো , ভদ্রলোকের এলাকা এইটা....... “
বয়ফ্রেন্ড বলল , “ ইলাকা চুদি....”
বললাম , “ সাবধানে , চিরকাল কাহারও সমান যায় না .... “
আমরা অরণ্যচারী পশুদের মত একে অন্যের উপ্রে ঝাপিয়ে পড়লাম ।
যূথী ছাদের কার্ণিশে পা ঝুলিয়ে বসল । হালকা আহ্লাদী গলায় বলল , “ আমাকে দুটো ডানা দিয়ে দাও গো , আমি যাই গা ...” । আমি হতাশ গলায় বললাম , “ সরি , বাট এই কাজটা করলে গল্পটা অবাস্তব হয়ে যাবে , আফটার অল ঘটনাতো একটা এংগেল থেকে সত্য ....” । যূথী একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল , তারপর মাত্র একসেকেন্ডে আমাদের সব সমস্যার সমাধান করে দিল । মেয়েটা বড় ভাল ছিল , বড় ভাল ।
আমি “আমাদের” ঘরের সমুদ্রে পা ডুবিয়ে বসলাম । জনৈক বয়ফ্রেন্ড কই গেল কে জানে । আমি সমুদ্রে জলে পা দিয়ে ছপছপ শব্দ করতে করতে বললাম –
“আমার ঘরে একটা সমুদ্র বাস করে ,
অনেক গভীর দুপুরবেলায়
তার উষ্ণ জল আসে যায় ,
পৃথিবীর সব বিরহ ভালবাসা নিয়ে ।.................”
মন্তব্য
চমৎকার রচনা।
ভালো লাগলো বেশ।
লেখকের মন্তব্য
থ্যাংক্স
অসাধারণ! কলমটারে ইচ্ছামত চলতে ফিরতে দিলেন কিন্তু সে ঘুরেফিরে শেষপর্যন্ত একটা সুন্দর নকশাই তৈরী করল, এলোমেলো করেনাই। ভাল কলম, অনুগত কলম।
লেখকের মন্তব্য
থ্যাংক্স ব্রাদার , জাস্ট এখ্খন আপনার একটা লেখা পড়লাম আর মনভরা হিংসা লয়ে ফিরলাম ( ইমোদেয়া যায় না ক্যান , আমার কম্পুটারের প্রবলেম নাকী !!!!)
হামার আগের গল্প গুলো পইরেন সময় পাইলে -- আমাদের লাইনে সে বস - অনেক আগায় আছে । দারুন লাগবো আপনার
ভাইডি - পুরাই সুররিয়াল লাগলো আমার কাছে ।
নোট: লাইন গুলো আলদা করে দিলে পড়তে আরাম লাগে - ডায়লগ তো । বুনোটে বোঝা যায় না ঠিক মতো ।
লেখকের মন্তব্য
পড়ার জন্যে ধন্যবাদ ভাই , ডায়ালগের ব্যাপারটা খেয়াল থাকবে
অফটপিকঃ নাগরিকব্লগে একজন আরণ্যক আছেন , আপনি আর উনি কি একই ব্যাক্তি ??
নাহ ! - আমি সামুর শূন্য আরন্যক - এই খানে শূন্যটা খুলে রাখসি - কিছু দিনের জন্য
এ্যাঁ! আপনি ওই আরণ্যক না? আমি তো নাগরিকের আরণ্যকই ভাবছিলাম্। তবে আপনি আন্তরিক অনেক্।
সুপার্ব!
চমৎকার স্মার্ট একটা অনুগল্প পড়লাম!
সোজা প্রিয়তে!
লেখকের মন্তব্য
থ্যাংক্স ম্যান

আপনারে আমি যতই দেখি, ততই অবাক হই! আপনার মাথায় এট্টু মাথা ঘষতি চাই, বর্ষার মেঘমালা ভাই।
অদ্ভুত থার্ড ম্যান আই.................. সুপার্ব
গল্প পড়ে বিমূঢ় হলাম। আকাশে বসবাসরত পরিচালক সাহেব আমার জন্য আপনার গল্পের প্রশংসা যোগ্য কোন ডায়ালগ খুঁজে পাননি ।অনেক শুভেচ্ছা।
অসাধারণ!
আপনার দুইটা লেখা পড়লাম। মনে হলো, কলমটা তার খেয়াল-খুশিমত চলতে থাকে। আর এভাবে চলতে চলতেই দারুন এক একটা লেখা চলে আসছে।
এরকম লেখা পড়তে মজা লাগে।
বেশ ভালো লাগল।
প্রিয়তে পাঠিয়ে দিলাম।
এক্কেবারে জাত লেখা। বেশ বেশ। এমনটা নিয়মিত হলে মন্দ হয় না।
বরাবরের মত, লাগামহীন সৌন্দর্য। ভাল লাগল।
অসাধারণ লাগলো।
চরম!
আপনার গল্পগুলো ঠিক বুঝতে পারি না! পড়তে ভালো লাগে, কিন্তু বুঝি না! এই তো বিশাল যন্ত্রনা!!
কিছু কিছু ডায়লগতো অসাধারণ লাগলো।
ভালো থাকুন খুব।
সিম্পলি Awesome
কেমন যেন! তবে ভাল লাগসে!
কালই পড়েছিলাম, কমেন্ট আজ করলাম।
কি বলব?
খুব ভাল লাগছে, অসাধারণ, ভাল লিখেছেন, ভাল্লাগছে, পড়ে খুব ভাল লাগলো-- কোন টাই যুত সই না!
তাই কিছু না বলে সাত দিয়ে আপনার পরের পোষ্টে যাচ্ছি!
আপনার লেখা গুলো কেমন যেন টানছে খুব!
দেখি কতক্ষণ টানা টানি চলে!
মন্তব্য করুন