বাপী হাসান-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

ঘটনা কিছুই না। সামান্য ব্যাপার! সকালে দেখলাম পথের মধ্যে এক তরুণ আর এক তরুণীর ঝগড়া। দুজনেরই গলা সপ্তমে তোলা। একজন আরেকজনকে ঝেড়ে যাচ্ছে! সে কি ঝাড়! বাপ রে! মনে হলো যেন রিহার্সাল করা নিপূণ পার্ফরম্যান্স! একজন গালির তুবড়ি ছোটায় তো অপর জন ঘাড় কাত করে চুপচাপ শোনে। সে থামলে তখন অন্যজন শুরু করে! আর কি ভাষা! অথচ আশ্চর্য ব্যপার হলো, দুজনের কাউকেই কিন্তু হাত চালানোর ব্যপারে মোটেও আগ্রহী দেখলাম না! শুধু মুখ চালিয়ে গেলো, তারপর, মিনিট তিনেক পর, কি ভাবে কি হলো বুঝলাম না, দুজনে হাত ধরাধরি করে হেঁটে চলে গেলো! ভাবছেন কাজকাম শিকেয় তুলে এই অধম কেন অতক্ষন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মজা দেখলো? উপায় ছিলো না রে ভাই, উপায় ছিলো না! আমার কর্মক্ষেত্রের সামনেই এই ঘটনা, আমি, বরাবরের আর্লি বার্ড, দরজা খোলার অপেক্ষায় ছিলাম! তো এই নাটক দেখে আমাদের বাঙালিদের গালাগালির কথা একটু মনে পড়ে গেলে খুব কি বেশি দোষ দেয়া যা্য়?
গালি দেয় নি বা খায় নি এমন কেউ কি আছে? কিল খেয়ে কিল চুরির মতন কেউ যদি বলেন কখনো গালি খান নি, আমি না হয় শান্তি বজায় রাখার স্বার্থে মেনেই নিলাম! কিন্তু গালি দেন নি কখনো? যাঃ! কখনোই না? আচ্ছা, সরবে না হোক, মনে মনে? এইটার উত্তরেও যদি 'না' বলেন পাব্লিক কি আর সে কথা মানে!
গালি কেন দেয় লোকে? আমি সমাজবিদ বা মনোবিদ বা ভাষাবিদ বা নিদেন মোটামুটি গিয়ানি কেউ হলেও না হয় একটা ব্যাখ্যা দাঁড় করানো যেত! এখন শুধু এইটুকু বলতে পারি, গালি দিয়ে ভূত ভাগাতে পারলে মনের ঝাল ঝাড়া যায়, রাগ কমে, স্বাস্থ্য থাকে ভালো! চিৎকার চেঁচামেচি করে পাবলিক নুইস্যান্স তৈরি করার মতো গালাগালের কথা বলছি না, মনে মনে, জনান্তিকে, সটো ভসে! মনে মনে গালাগাল করার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো কে 'স্বতঃপ্রণোদিত' হয়ে আপনাকে বাঁশ দেবে সে ভয়টা আর থাকে না! ভাবছেন আমি পলায়নবাদী, কাপুরুষ? ভাবুন, অসুবিধা নাই! আমি চিরকালই পৃষ্ঠপ্রদর্শনে পটু, বিশ্বাস না হয় প্রোপিক দেখুন!
অনেক বছর আগে, একবার ঢাকা থেকে পাবনা যাচ্ছিলাম (আরে, পাবনায় অন্যরা থাকে না? আজীব!) ফেরিতে প্রত্যক্ষ করেছিলাম অন্য এক ঝগড়া। দুই পিচ্চির মধ্যে। বছর দশেকের বেশি হবেনা ওদের বয়স। পিচ্চি নং এক সিদ্ধ ডিম ওয়ালা, পিচ্চি নং দুই ডাব ওয়ালা। ঝগড়া শুরুর পরই পিচ্চি নং এক তারস্বরে হুমকি দিলো পিচ্চি নং দুইকে, "বকা দিমু কইল্ শোরর বাইচ্চা!" আমি চমৎকৃত হয়ে গেলাম রে ভাই! ভাবুন একবার, বকা এখনো দেয় নি তাতেই 'শোরর বাইচ্চা', বকা দিয়ে ফেল্লে কি দাঁড়াতে পারতো বলুন দেখি!
আমার স্কুল জীবনের এক বন্ধুর ছোট ভাইয়ের কথা একটু বলি। তখন এইট কি নাইনে পড়ি। বন্ধুর ছোট ভাইটা পিচ্চি।একদিন ওদের বাসায় গেছি। গিয়ে দেখি পিচ্চি মন আর গলা খুলে কাকে যেন গালাগাল করে যাচ্ছে, "বালিশের বাচ্চা! তোষকের বাচ্চা!" ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম একটু! বন্ধুকে শুধাই, "কি রে? ঘটনা কি?" বন্ধু বলে, "আর কইস না দোস! আব্বার কাম! সালমানের মিজাজ বেশি গরম তো, মুখ খারাপ কইরা গালিগুলি দেয়! তো আব্বায় কইসে, 'অই, মাইনষেরে জানোয়ারের নামে গালি দিলে আল্লায় গুনা দেয় জানো তো? মিজাজ খুব খারাপ হইলে বালিশ, তোষক কইয়া গালি দিবা। গালিও হইলো, শরীলের রাগও কমলো, গুনাও আর কামাই করা লাগলো না!' এর পর থিকা অয় ঐসব গালি দেওয়া শিখসে!" বুঝুন! মানি, যুক্তিতে ফাঁক আছে। থাকুক, দুনিয়ার সব কিছুই অকাট্য যুক্তি মেনে হতে হবে এমন কথা কোথায় লেখা আছে?
আমার একেবারে পিচ্চিকালের একটা ঘটনা বলি। আমার বয়স তখন বছর চারেক। বোনটা তো আরও ছোট। ঢাকায় থাকি, ইন্দিরা রোডে। পাশেই মায়ের মামার বাসা। সেখানে আমার চেয়ে একটু বড় বড় কয়েকটি খালারও বসবাস। একদিন, মা গোসল করিয়ে, জামা কাপড় পরিয়ে, মাথায় তেল দিয়ে, পাটপাট করে চুল আঁচড়ে দিয়েছেন। দু ভাইবোন সুবোধ বালক/বালিকার মতো রোদে বসে আছি। হঠাৎ আমাদের এক খালা ঝড়ের মতো উদয় হয়ে সদ্যস্নাত দুই ভাইবোনের গায়ে একমুঠো বালি ছড়িয়ে সুর করে "কুত্তা বান্দর শুওর হারামি" বলতে বলতে উধাও হয়ে গেলেন! কেন এলেন আর কেন গেলেন, কেনই বা ঐ গালাগালের গান সে রহস্য কোনদিন ভেদ করতে পারি নি! হতে পারে সেই প্রথম গালি খাওয়া!
একবার গালি না দিয়েও ম্যালা বদনাম কামাতে হয়েছিলো! এক বন্ধুর মামা মারা গেছেন। আমাদের প্রিয় একজন মানুষ, আমাদের সবার কমন মামা। মিলাদে গেছি। বন্ধুর মাকে ভদ্রতাসূচক ও স্বান্তনাসূচক কিছু বলতে গিয়ে বল্লাম, "আহা, ফেরেশতার মতো মানুষ ছিলেন!" আর যায় কোথায়! খালাম্মা ক্ষেপে লাল! বলেন, "তুমি আমার মরা ভাইরে অপমান করলা! জানো না, মানুষ হইলো আশরাফুল মখলুকাত! সৃষ্টির সেরা জীব! ফেরেশতারা তো মানুষেরে সিজদা দিসিলো, জানো না? আব্বা আম্মায় শিখায় নাই এইগুলা?" তো শিখেছিলাম, সেইদিনই! এই জীবনে এই ভুল আর কখনোই করি নি!
গালির রাজ্যে পৃথিবী জন্তুময়! কুকুর, শুকর, গাধা, গরু, বাঁদর, উল্লুক - এগুলো সবই গালি। গালির জগতে আরেকটি নিরীহ প্রাণী আজকাল একদম প্রথম সারিতেই আছে, ছাগল। ছাগল বলতে বেশ লাগে কিন্তু! বেশ একটা গাল ভরা শব্দ! এইসব নামে কাউকে ডাকতে হলে নিজ দায়িত্বে ডাকবেন! খবর হয়ে যাবার সম্ভাবনা প্রচুর! অথচ দেখুন, ঘোড়ার মতো দম, সিংহের মতো তেজ, বাঘের মতো সাহস, বিড়ালের মতো ক্ষিপ্র - এইসব হলো প্রশংসার কথা! 'জানোয়ার!' উৎসভেদে এই শব্দটি শোনার জন্য অনেকেই জান লড়িয়ে দিতে পারে বলে অনুমান করি! পাখিদের মধ্যেও টিয়া, ময়না, কবুতর অনেক আদরের শব্দ। কিন্তু প্যাঁচা, শকুন তা নয়, বরং উল্টো! জড় পদার্থও গালি হয়, যেমন পাষাণ!
গালি নিয়ে গালগপ্পো অনেক হলো। কত গালি খেয়েছি! সব তো আর মোটা চামড়া ফুঁড়ে ভিতরে ঢোকে নি! একটা ঢুকেছিলো, সরাসরি আমাকে গালিটা দেয়া হয়নি যদিও, তবু ঢুকেছিলো, ভালো ভাবেই! বলছি সে কথা। মীরপুরের এগারো নম্বরের বাজার। একদিন গেছি বাজার করতে। এক জায়গায় দেখি ঢলঢলে হাফপ্যান্ট পরা নগ্নগাত্র বছর দশেকের এক ছেলেকে পেটাচ্ছে এক মোটাসোটা ভদ্রলোক। এক হাতে ঘাড় চেপে ধরে আরেক হাতে নিষ্ঠুর ভাবে মেরে যাচ্ছে ছেলেটাকে। তরুণ বয়স তখন, হাঁক দিয়ে বল্লাম, "এই যে মেবাই, কি হইতেসে? হার্ট এ্যাটাক করব তো আপনের, ছাড়েন, ছাড়েন!" নিজের ভালো পাগলেও বোঝে, ভদ্রলোক কি বুঝলেন কে জানে, তবে ছেড়ে দিলেন। ঘটনা কি? না, ভদ্রলোকের অনুগামী গৃহভৃত্যের হাতে বাজারের ব্যাগ, তার মধ্যে থেকে উঁকি দিয়েছে ডাঁটা শাকের ডগা, ছেলেটির অপরাধ সে নাকি ঐ ডগা ধরে টান দিয়েছে!
ছেলেটি তখন বড় বড় শ্বাস ফেলছে। এপাশ ওপাশ নড়ে চড়ে কাটা ছেঁড়ার যোগ ফল বের করতে চেষ্টা করছে। খানিক পর, এক দলা রক্তমাখা থুতু ফেলে, হাতের তালুর উল্টো পিঠে নাক চুঁইয়ে আসা রক্তটুকু মুছে নিয়ে তীব্র, অশ্রুহীন, খরখরে চোখে তার ছোট্ট জীবনের সবটুকু ঘৃণা মিশিয়ে, অনুচ্চ অথচ স্পষ্ট উচ্চারণে হিস হিসিয়ে ছেলেটি বলেছিলো, "শালার মানুষ...!"
মন্তব্য
ইস! এত মজার লেখায় দিলেন তো মনটা খারাপ করিয়ে। জুন্তু জানোয়ার পর্যন্ত ভালোই ছিল কিন্তু কেন সেই সব মানুষের কথা মনে করিয়র দিলেন????
লেখা কিন্তু মারাত্মক হয়েছে।
লেখকের মন্তব্য
আরে শাপলা, নিরুদ্দেশ হয়েও চতুরকে ভোলেন নি দেখে ভালো লাগলো! লেখাটা পড়ে মজা পেয়েছেন জেনে আমি আনন্দিত! একই সঙ্গে বিনীতও! আপনাকে কৃতজ্ঞতা, পড়ার জন্য, প্রশংসার জন্য!
হালকা চালে লিখতে গিয়েছিলাম তো! শেষটায় এসে কি যে হলো!
খুব ভালো থাকুন!
চমৎকার আপনার লেখার হাত

লেখকের মন্তব্য
বাতিঘর! আপনি এলেন আমার পাতায়, কি যে ভালো লাগছে আপনাকে পেয়ে!
প্রশংসাটুকু মাথায় করে রাখলাম! অপরিসীম কৃতজ্ঞতা জানবেন!
অফুরান শুভ কামনা আপনার জন্য!
আজকে আবারও আসলাম গো ভাইটি। আপনি সবার মন্তব্যের প্রতি মন্তব্য এতোটাই দরদের সাথে দিয়েছেন যে এই হুদাই পাঠকের মনটা আপ্লুত হইলো চরমভাবে! অনেক কৃতজ্ঞতা গো ভাই। অনেক ভালো থাকবেন।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ, ভাইটি! আপনিও ভালো থাকবেন খুব!
গালি না দিতেই শোরের বাচ্চা ....চমৎকার
তবে শালার মানুষ ভব্যতার মানুষ কবেযে সত্যি মানুষ হবে!!!!!!
শুভ কামনা
লেখকের মন্তব্য
সেটাই! সমুদ্রজল, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা!
শুভ কামনা আপনার জন্যেও!
লেখকের মন্তব্য
জলরঙ! অদ্ভুত? মানে বিদঘুটে? ইয়াক্ টাইপের?
হাহাহা! অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে! পড়ে, মন্তব্য করে উৎসাহিত করার জন্য কৃতজ্ঞতা!
ভালো থাকবেন খুব!
অদ্ভুত লাগলো লেখাটা
বাতিঘর বলেছেন চমৎকার আপনার লেখার হাত
আগে পড়লাম।
খোমাবইতে শেয়ার দিলাম।
তারপর লগাইলাম।
লেখার শুরু থেকে বোঝাই যায়নি শেষে এসে এমন একটা প্রশ্ন অপেক্ষা করছে যার উত্তর খুঁজতে খুঁজতে জীবন শেষ হয়ে যাবে।
লেখাটা সংকলিত পাতায় যাক এই কামনা।
লেখকের মন্তব্য
মেঘ, আপনাদের প্রশ্রয় আমার সব চাইতে দামী পাওয়া! লেখাটা ভালো লেগেছে জেনে খুবই আনন্দ পাচ্ছি আমি! আপনি এই লেখাকে অনেক বড় সার্টিফিকেট দিয়েছেন, ভাই! অপরিসীম কৃতজ্ঞতা জানবেন!
ভালো থাকুন খুব! আনন্দে থাকুন!
বাপী ভাই, এরকম লেখা আমার সাধ্যে নাই। অসাধারণ। অসাধারণ।
লেখকের মন্তব্য
হালিম ভাই, আপনি আমাকে রুদ্ধবাক করে দিলেন! আপনার আন্তরিকতা হৃদয় ছুঁয়ে গেলো! এত প্রশংসা আমার প্রাপ্য নয়, ভাই। যাঁরা পড়েন তাঁদের উদারতার কাছে যে লেখে তার যোগ্যতা তো তুচ্ছ! আপনার প্রশংসাটুকু মাথায় করে রাখলাম! অপরিসীম কৃতজ্ঞতা জানবেন আমার!
আপনার জন্য রইলো অনেক শুভ কামনা!
অনেক ঝরঝরে একটা লেখা । শুভ কামনা বাপী ভাই।
লেখকের মন্তব্য
স্রোত, অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে! পাঠের জন্য কৃতজ্ঞতা!
অনেক শুভ কামনা আপনার জন্যও!
চমৎকার একটা লেখা। অনেক অনেক ভালো লাগলো। ++
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ, বৃষ্টি ভেজা সকাল! আমার কৃতজ্ঞতা জানবেন!
অনেক ভালো থাকুন, ভাই!
গালির রাজ্যে পৃথিবী জন্তুময়!


আজকে থেকে ঠিক করলাম কারো সাথে মস্করা করতে ইচ্ছে করলে বলবো - মিয়া আপনে পুরাই জানোয়ার !! মানে বাঘের মতো ডরপুক আর কী !
===============
খুব ভালো লিখেছেন । হ্যাটস অফ ।
লেখকের মন্তব্য
আরণ্যক, থ্যাংকস্ আ বাঞ্চ্, ভ্রাতা! আপনার প্রশংসা হৃদয়ে ধারণ করলাম! কৃতজ্ঞতা!
-- 'জানোয়ার' শব্দটার কিন্তু ব্যঞ্জণা অনেক! গালি হিসাবে পুরা এ্যানিম্যাল কিংডম কাভার কইরা ফালায়! আবার, বিশেষ ঘনিষ্ঠ মূহুর্তে কারো আবেশী গলায় ফিসফিসানিতে 'জানোয়ার' শুনতে চ্রম লাগে বইলা অনুমান করি! হাহাহা!
ভালো থাইকেন খুব!
বন্ধুর ছোট ভাইয়ের স্টাইল রপ্ত করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। স্বাস্থ্যও ভাল থাকবে, গুনাও হবে না, মনের ঝাল মেটানো যাবে। চমৎকার টিপস। লেখা বরাবরের মতই ভাল লেগেছে।
লেখকের মন্তব্য
মাতরিয়শকা, অজস্র ধন্যবাদ জানবেন, ভাই! সঙ্গে থেকে উৎসাহিত করছেন, আমি কৃতজ্ঞ!
অফুরান শুভ কামনা রইলো!
বন্ধুর ছোট ভাইটা দেখি জোশ গালি দে! মজা লাগছে বাপী ভাই লিখাটা পড়ে
লেখকের মন্তব্য
আমীন, হ্যাঁ রে ভাই! সেই পিচ্চি এখন জবরদস্ত জোয়ান, শেষ খবর হলো, সে এখনও ঐ ভাবেই গালি দেয়!
অনেক অনেক ধন্যবাদ! খুব ভালো থাকবেন ভাই!
লেখা বেশ। প্রসংগটাও অদ্ভূত! ভাল থাকুন।
লেখকের মন্তব্য
আমার পাতায় স্বাগতম, পলাশমিতা!
অনেক ধন্যবাদ! পাঠের জন্য, পাঠপ্রতিক্রিয়া জানিয়ে উৎসাহিত করার জন্য!
আপনিও অনেক ভালো থাকবেন, ভাই!
আজকাল সব লেখা পড়ার সময় পাই না, আপনার গালিকাব্য পড়ে মনে হলো সময় উঁসুল! অনেক ধন্যবাদ বাপী হাসান।
লেখকের মন্তব্য
অসংখ্য ধন্যবাদ, চৈতী! ধন্যবাদ তো আপনার প্রাপ্য, আমার পাতায় সময় দিয়েছেন বলে! প্রশংসার জন্য বিনীত কৃতজ্ঞতা! অনেক, অনেক ভালো থাকুন!
গালি! এটা প্রয়োগ করলে মাথা কিছুটা ঠাণ্ডা হয়। তবে জিনিসপত্র ভাঙলে আরও ভালো। টুকরো স্মৃতি থেকে যা দিয়েছেন তার জন্য অনেক ইমো পাওয়ার অধিকার আপনার আছে। কিন্তু আমি সিলেক্ট করলেও তা আসে না। সুতরাং বুঝে নিন। ধন্যবাদ।
লেখকের মন্তব্য
বুঝে নিলাম! অনেক ধন্যবাদ, ভাই মাহবুব! কৃতজ্ঞতা জানবেন!
শুভ কামনা রইলো আপনার জন্য!
বাহ, বেশ লেখেন।
খালার রহস্যটা আজব লাগল যদিও
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ, বহুব্রীহি!
রহস্যটা আজবই, সন্দেহ নাই! বড় হবার পর সেই খালাকে তার এহেন কীর্তিকলাপের কারণ শুধালে তিনি তো বেমালুম অস্বীকার করেন, "আমি করসি ঐ কাজ!? হ্যাত! অসম্ভব! তুই বানায়া গপ্প দিতাসস!" সুতরাং ঐ রহস্য ভেদ হওয়ার নিকট সম্ভাবনা নাই বল্লেই চলে!
অনেক শুভ কামনা!
লেখকের মন্তব্য
আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী পাশাপাশি দুই হলে একবার গালাগালি শুরু হৈসিলো। কিছুক্ষণ পর সবার জোশ উইঠা গেলে মাইক ভাড়া কৈরা আনা হৈসিলো
লেখকের মন্তব্য
হাহাহা! হামা ভাই, ফজলে রাব্বি হল আর বদ্রুন্নেসা কলেজের হল তো পাশাপাশি, জানেনই তো! অনেকগুলা মধ্যরাতের নিদারুণ সব স্মৃতি মনে করায় দিলেন!(আমি অবশ্য ঢামেক এর ছাত্র ছিলাম না! তাই বইলা ভাইবেন না অন্য কলেজটার ছাত্র (ী) ছিলাম!)হাহা!
আমার পাতায় আসার জন্য অনেক ধন্যবাদ, ভাই! ভালো থাইকেন!
মনে রাখার মত একখান পোষ্ট হয়েছে বাপী ভাই।

উত্তম ঝা ঝা। সমাপ্তিসহ পুরাই টনটনে পোষ্ট।
লেখকের মন্তব্য
স্বর্নতরলকারিণী, আপনার প্রশংসায় আমি উচ্ছসিত! কৃতজ্ঞতা অনেক!
অফুরান শুভ কামনা!
শালার মানুষ এর কোন বিকল্প গালি খুঁজে পাচ্ছি না।
আরণ্যক ভায়া যথার্থ বলেছেন, "গালির রাজ্যে পৃথিবী জন্তুময়!"
লেখকের মন্তব্য
মায়া,মমতা,বিবেক,শ্রদ্ধাবোধ,পরিমিতি এইসব অন্তর্হিত হলে মানুষের অবস্থান নেমে যায় বই কি! হৃদয়হীন মানুষ গালিরই মানুষ!
পড়ার জন্য আর মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ, তারার হাসি!
ভালো থাকুন খুব!
আমার মা বলতেন, ভূত-প্রেত-বাঘ-ভাল্লুক ভয় পাওয়ার কিছু নাই, আমি ভয় পাই মানুষ। আপনার লেখার শেষটা পড়ে সেটা আরেকবার মনে পড়লো।
চমৎকার লেখা, সাত তারা।
লেখকের মন্তব্য
মা ভুল বলেন নি! জানি এমন অভিজ্ঞতা অনাকাংখিত, হওয়া উচিত নয়, তবু আমাদের সবারই কম বেশি এমন অভিজ্ঞতা আছে!
আপনার সহৃদয় প্রশংসা আমি অন্তরে নিলাম!
জনান্তিকে বলি, আপনার গদ্যশৈলির আমি একজন অনুরাগী ভক্ত!
কৃতজ্ঞতা, ফারহান দাউদ!
শুভ কামনা!
হুম শালার মানুষ
লেখকের মন্তব্য
ফয়সল রাব্বি, আমার পাতায় আপনার পদার্পণে দারুন আনন্দিত!
অনেক ধন্যবাদ আর অফুরান শুভ কামনা!
আগেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি, আমার আপনার গালির গল্প পড়ে চিটাগং-এর একটি গালির গল্প মনে পড়েগেল



দুই বন্ধুর মধ্যে এক বন্ধুরে গালি দিয়েছে এলাকার আরেক ছেলে, তাই শুনে অপর বন্ধু কি বলছে শুনুন
"তুই চোদানির পোয়ারে গাইল দিয়েদে হোন্ চোদানির পোয়া? যে চোদানির পোয়া তুই চোদানির পোয়ারে গালি দিইল, আই চোদানির পোয়া ওই চোদানির পোয়ারে দেই চারুম"
যারা বুঝবেননা, দয়া করে বুঝাতে বলবেননা।দুঃখিত
লেখকের মন্তব্য
হাহাহা! আমার তো বুঝতে সমস্যা হয় নাই! কেউ না বুঝে থাকলে এরকম একটা টোনড্ ডাউন ভার্সন দেয়া যায় নাকি? --- "তুই হালারে গালি দিসে কুন হালায়? যেই হালায় তুই হালারে গালি দিসে, আমি হালায় ঐ হালারে দেইখা ছারুম!"
যোদ্ধাবাজ্, আমার পাতায় স্বাগত জানাই!
শুভ কামনা!
ত্রিমাত্রিক জগতে মনোনিবেশ করবো চতুর্মাত্রিক ছেড়ে ছুড়ে যখনই ভাবি, ঠিক তখনই এরকম একটা ঘাসফুলের অমোঘ আকর্ষণে ফিরে আসি, ফিরে ফিরে আসি।
বাপী-ক্লাসিকখানি সংকলনে গৃহীত হবার পক্ষে ভোট দিলাম।
লেখকের মন্তব্য
নাঈফা, আমার পাতায় এলেন অবশেষে! স্বাগতম!
আপনিও আমাকে কৃতজ্ঞ করলেন! প্রশংসাটুকু আশাতীত, হৃদয়ে তুলে নিলাম!
বিনম্র ধন্যবাদ আর অনেক শুভ কামনা!
সহব্লগার বাপী হাসান
সুযোগ পেলে শুধুই হাসান
চারিপাশে ঘটে যা নিত্য
দেখে শুনে শান্ত হয় চিত্ত
সেই সব টুকরো কথা দিয়ে
নিজ মনের মাধুরী মিশিয়ে
সাজিয়ে অপরূপ গল্পের ঝাঁপি
হাসাতে পারেন মোদের বাপী।
লেখকের মন্তব্য
হাহাহা! আপনের পদচিহ্ন ছাড়া আমার উঠান কেমুন জানি ভইরাও ভরতেসিলো না! এইবারে বেশ একটা ইয়ে লাগতেসে!
আমাদের হুদা ভাই
লেখনীর জুড়ি নাই
ভানামের বূল শোধরান!
কোথা গেলো হুদা ভাই
কতদিন দেখা নাই
দিল ভেঙ্গে হলো খান খান!
হুদা ভাই ফিরে এসে
আমাদের ভালবেসে
হাত খুলে লিখবেন এখন!
এ চতুর ব্লগ মাঝে
আনন্দ-ঘন্টা বাজে
মনে লাগে নাচের মাতন! -- হে হে, আম্মো পারি!!!
শরমে মরমে মরি, কি করি কী যে করি, ভেবে ভেবে হই হয়রান,
লাগি না তো কারো কাজে, তাই আমি মরি লাজে, হয়ে পেরেশান।
যাহা নই তাই বলে ভাসাইছে আঁখি জলে, কত ভালোবেসে এই বাপী হাসান।
পোস্ট টা খুব ভালো লাগলো।
বেশ মজা নিয়ে লেখা অথচ শেষে একটা ধাক্কা দিয়ে গেলো।
লেখকের মন্তব্য
আমিন শিমুল, আন্তরিক ধন্যবাদ জানবেন!
অনেকদিন পর এলেন! বহুদিন আপনার লেখা আসছে না! শিগগীরই পাবো আশা করছি!
অনেক ভালো থাকবেন!
আপনার ভাবীকে পড়ে শুনাতে যেয়ে চোখে পড়লো
এখানে ভূত বানানটি ভুল!
লেখকের মন্তব্য
বানানটা শুধরে নিয়েছি, হুদা ভাই! আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ!
--- তাইলে এইটা ভাবীরে শুনাইসেন! জাইনা খুব ভাল্লাগতেসে! ভাবীর কেমন লাগলো জানতে মন চাইতেসে যে!
সে তো ধীরে ধীরে আপনার লেখার ভক্ত হয়ে উঠতে শুরু করেছে। স্মৃতির জাবর-৪ পড়ে শুনালাম আজ, আর আজকের তোমাদের জন্য ভালোবাসা!!!।
সহজে মুগ্ধ না হবার গুণ আছে এই মহিলার, তার পরও আপনার লেখা পড়ে শুনালে তার চোখমুখে মুগ্ধতার ছাপ ফুটে উঠতে দেখলাম।
লেখকের মন্তব্য
এহেম, এহেম! ইয়ে, মানে শরমে লাল হওয়ার কথা থাকলেও ঘোর কৃষ্ণ (মা বলতেন উজ্জ্বল শ্যাম!) বর্ণের কারনে অবশেষে বেগুনি হয়া গেলাম!
ভাবীকে সালাম দেবেন, হুদা ভাই!
শুভ কামনা!
মানুষই এখন সবচেয়ে বড় গালি। দুঃখজনক, কিন্তু সত্যি।
লেখকের মন্তব্য
মাঝে মাঝে! সত্যিই দুঃখজনক!
আপনাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা, দারুচিনি লবঙ্গ! পাঠের জন্য এবং মন্তব্যের জন্য!
অনেক শুভ কামনা!
লেখকের মন্তব্য
আরে, আরে, এ তো দেখতেসি হুঁশ হারায় ফেলসে হাসতে হাসতে!--- বুঝছেন তো? মানুষরে আর ফেরেশতা কইয়া গালি দেওন যাইবো না! কিন্ত কথা হইলো কি, ফেরেশতাগো মানুষ কইয়া ডাকলে অগো রিএ্যাকশনটা কি হয় সেইটা দেখতার্লে হইতো!
অনেক কৃতজ্ঞতা ধূসর দিগন্ত! ভালো থাকুন!
মৌ এর শ্বশুরের মত জানোয়ার গালিটাই এখন বেশী আসে।
তবে একথা দুঃখজনক ভাবে সত্যি, এখন মানুষ এই শব্দটিই হলো বড় গালি।
দারুন লিখেছ।
লেখকের মন্তব্য
হেহেহে! তোর ভাল্লাগসে দেইখা আমারো খুব ভাল্লাগতেসে!
অফুরান শুভ কামনা!
এমন একটা লেখা আমি সারাজীবন চেষ্টা করেও নামাতে পারবোনা, কসম!
লেখকের মন্তব্য
নয়ন, নয়ন, নয়ন!!!
কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা!
চমৎকার লিখেছেন। শেষে এসে সুরটা সত্যিই বদলে গিয়ে মন খারাপ হয়ে গেল।
তবে আমার কিন্তু বালিশের বাচ্চা তোষকের বাচ্চা গালিটা খুব পছন্দ হয়েছে।
লেখকের মন্তব্য
অসংখ্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা, মাহী ফ্লোরা!
- হুম, ঐটা আমারও বেশ পছন্দ!
খুব ভালো থাকুন!
পুরো লেখাটাই, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভালো লেগেছে। গালি নিয়েও সুন্দর একটা লেখা রিখতে পারার কৃতিত্ব সম্পূর্ণ আপনার। তবে একটা জিনিস মাথা ঢুকে না, মানুষ গালি দেয়ার জন্যে কেন ঐ জন্তু-জানোয়ারদের বাচ্চাদের শরণাপন্ন হয়! এটা কবে থেকে শুরু হয়েছে কে জানে। গালির মাধ্যমে নিষ্ঠুরতা ফুটিয়ে তোলার জন্যেই কি আসে প্রাণীদের নাম। কিন্তু তাতেও তো কথা থেকে যায়।
আবার কাউকে প্রশংসা করার জন্যও প্রাণীদেরকে ডেকে আনা হয়! বড়োই আজব!
শুভকামনা জানবেন।
অনেক অনেক ভালো থাকবেন।
কাজের চাপে িবরক্ত হয়ে 'চতুর্মাত্রিক এর েপইজটা খুলে বসেছিলাম। লেখাটা এত অানন্দ িদল। যদিও 'শালার মানুষ' গালিটা অাবার নিজের ও জাতের পতন নিয়ে ভাবতে বসাল। েলখাটা খুব ভাল লেগেছে
শুভকামনা
শেষের গালিটা মর্মান্তিক।
টিনটিনে ক্যাপ্টেন হ্যাডকের গালিগুলো মনে পড়ে গেলো।
লেখকের মন্তব্য
আমার পা্তায় প্রথম এলেন আজ! আপনাকে স্বাগতম!
পড়া আর সহৃদয় মন্তব্যের জন্য আমার কৃতজ্ঞতা জানবেন, নিশাচর!
- অফুরান শুভ কামনা!
মন্তব্য করুন