বাপী হাসান-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

শীতের দুপুরের সুর্যটা ম্যালা চেষ্টা চরিত্র করেও আগুন ঝরাতে না পেরে স্রেফ ডুবিয়ে দিয়েছে চরাচর গলানো সোনায়! সেই সোনা গায়ে মেখে গাঁয়ের মেটে পথ ধ'রে হেঁটে যাচ্ছি আমি। একা। কাছে কোথাও জংলা জায়গা আছে, ঘুঘুর ডাক ভেসে আসছে, শুনছি। এর বাইরে তেমন কোন শব্দ নেই, ঝিম ধরা একটা ভাব ঘিরে আছে আমাকে। হেঁটে যাচ্ছি, দেখছি পথ একটু দূরেই বাঁক নিয়ে হারিয়ে গেছে কোথাও। পথের পাশেই বেশ বড় একটা বাড়ী, টিনের চালওয়ালা। চালের কোনাটা ঠিক পথের উপর হুমড়ি খেয়ে আছে যেন! আর সেখানে, চালের উপরে, দুটো কবুতর, ঠোঁটে ঠোঁট ঘষে যাচ্ছে। দেখছি আর হাঁটছি। হঠাৎ কি যে হলো! চারপাশের জগৎ মিলিয়ে গেলো, সুর্যের সোনা রঙ গেলো ঘোলাটে হয়ে, মনে হলো, ঠিক এই খানে, এই পথে আমি আগেও কোন দিন যেন হেঁটেছি! কেমন যেন নিশ্চিত জেনে গেলাম একটি কবুতর এখনই নামবে, নেমে এসে ঐ ধূলোমাখা পথে ব'সে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাবে! ঠিক তাই ঘটলো। এবং ঘোরটাও কেটে গেলো!
একসময় পাখি শিকার করতাম। বন্দুক ছোঁড়ার হাত খুব একটা খারাপ ছিলো না! একদিন সকালে বেরিয়েছি, হাতে একটা পয়েন্ট টু টু রাইফেল। আগের দিন বিকেলেই নিজ হাতে জিরোইং করেছি, পরীক্ষামূলক ভাবে একটা এক ফুট বাই এক ফুট টার্গেটের মাঝখানে একটা গোল্লা এঁকে পঞ্চাশ ফুট দূর থেকে পাঁচ রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে দেখেছি। পাঁচটা গুলির পাঁচটা ফুটোকে মোটামুটি দেড় ইঞ্চি ব্যাসের একটা বৃত্তের মধ্যেই আঁটিয়ে ফেলা যাবে! পথের পাশে তীব্র সবুজ পাতার এক বট গাছের রাঙা ফল গুলো ঠুকরে খাচ্ছে এক মোটা তাজা বটকল (হরিয়াল - গ্রিন পিজিয়ন।) আমার থেকে পনেরো ফুট মতো দূরে, লোভনীয় এই টার্গেট দেখে খুশি হয়ে উঠলো মনটা! রাইফেলটা বাগিয়ে নিশানা করলাম যত্নের সঙ্গে! হঠাৎই, একদম কোন কারণ ছাড়াই মনে হলো আমি পাখিটার গায়ে গুলি লাগাতে পারবো না! একটি একটি করে তিনটি গুলি ছুঁড়েছিলাম, একটাও লাগেনি! মজার কথা হলো, পাখিটা উড়েও যায়নি! সগর্বে মাথা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে আমার দিকে তাকিয়েছিলো ড্যাব ড্যাব করে! - আমি যে কেমন শিকারি সেটা তো আপনারা বুঝেই গেলেন!
গাঁজাখুরি গপ্পের ঝুলি খুলে বসেছি, বিরক্ত হন যদি কেউ, ক্ষমা চাই! তবে, সত্যি করে বলুন তো, হঠাৎ এরকম কি আপানাদেরও হয়? কোন একটা সময়ে কোন একটা জায়গা বা ঘটনা খুব পরিচিত মনে হয়? মনে হয় এখানে আগেও এসেছিলাম? এ ঘটনা আগেও কখনো ঘটতে দেখেছিলাম? এই তো, কদিন আগেই, টিভিতে একটা গানের অনুষ্ঠান দেখছিলাম। সুমন (অর্থহীন), বাপ্পা (দলছুট), নকীব (রেনেসাঁ) এবং ড্রামার রাফা বেশ জমিয়ে তুলেছিলো! গল্প কথার ফাঁকে ফাঁকে গান চলছিলো বেশ! হঠাৎ মনে হলো বাপ্পা এইবার বাজী গানটা গাইবে! এত মজা লাগলো যখন সত্যিই বাজীই গাইলো!
আমাদের মেয়ে নেই। এখন নেই। সে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলো খুব। জ্বর কমছিলো না কিছুতেই। হাসপাতালে ডাক্তাররা বাথটাবে বরফ ভরে তাকে সেখানে শুইয়ে রাখতো। ছোট্ট শরীরটা ফুঁড়ে ফুঁড়ে এটা ওটা হাজারো রকম পরীক্ষা নীরিক্ষা! একটু পর পর একটা করে স্লিপ ধরিয়ে দিতো কোন ওষুধের নাম লিখে, সেটা খুঁজে পেতে জোগাড় করে আনতে হতো। ডিসেম্বরের সে রাতে, প্রায় মধ্য রাতে, এরকম একটা স্লিপ পেলাম। সেটা নিয়ে আমি ঢাকা শহর চষে ফেল্লাম! মিটফোর্ড মার্কেটের এমাথা ওমাথা বাদ রাখলাম না কিছু! পল্টনের এক দোকানদারকে বাসা থেকে ডেকে এনে দোকান খোলালাম! কোথাও মিললো না সে ওষুধ! হঠাৎ আমার মনে হলো এই ওষুধ যার জন্য খুঁজছি, তার বোধ হয় আর ওষুধের দরকার নেই! হলি ফ্যামিলির গেট দিয়ে ভিতরে ঢুকে সিঁড়ির গোড়ায় দাঁড়িয়ে আমার স্ত্রীর কান্নার শব্দ পেলাম। সেদিন সে ওষুধ না পাওয়ার ব্যর্থতার জন্য আজও আমি নিজেকে ক্ষমা করতে পারি নি।
সে যাক! আমার স্ত্রী এবং আমি মাঝে মাঝেই নীরব আড্ডা জমাই! নীরব আড্ডা? সে কেমন? দুজনে বসে থাকি, পাশাপাশি। টিভি চলে না। কথা বার্তা হয় না। যাকে বলে কম্ফর্টেবল এ্যান্ড কম্প্যানিয়নেবল সাইলেন্স! চুপচাপ নিজেদের ভাবনায় ডুবে থাকি। এই নীরবতার মাঝেই হঠাৎ ক'রে সশব্দে সায় দিয়ে কিছু বলে ফেলি কেউ! আগে অবাক হতাম খুব, এখন উপভোগ করি ব্যাপারটা! "কোন কিছু না বলি" ও যে অনেক কথা বলে ফেলা যায় এটা কবির কষ্ট কল্পনাই যে কেবল নয়, এটাই মনে হয়!
আমি পেশাগত কারণে খুব তরুণ বয়স থেকেই ঘর ছাড়া। ছুটি ছাটায় বাড়ী আসাটা চিরকালই ছিলো মহা আনন্দের ব্যাপার! কতবার সারপ্রাইজ দেয়ার চেষ্টা করেছি! মাকে কখনোই সারপ্রাইজ দিতে পারি নি! একবারের ঘটনা বলি, সেবারের ঈদে আমার কেনো, আমাদের দলের কারও ছুটি পাবার কথা ছিলো না। ঈদের দুদিন আগে ফোনে বাবা আর মাকে কনফার্ম করেছি ছুটি না পাবার বিষয়টি। ঈদের আগের দিন খুব ভোর বেলায় খবর পাওয়া গেলো যে একজনকে ছুটি দেয়া যেতে পারে। সে হিসেবে যাঁর ছুটি পাবার কথা তিনি প্রস্তাব দিলেন, একজনই যখন ছুটি পাবে তখন দলের তরুণতম সদস্যটিকেই ছুটি দেয়া হোক! (এ রকম অযাচিত স্নেহ ভালবাসায় আমি যে কতবার সিক্ত হয়েছি এ জনমে!) অতএব, ঈদের আগের দিন আমি ঘাড়ে ব্যাগ ফেলে ছুট দিলাম কুমিল্লা থেকে টাঙ্গাইলের পথে! বিকেল সাড়ে চারটা নাগাদ বাড়ীতে পৌঁছে দেখি সবার মুখ আনন্দে উজ্জ্বল, কিন্তু সারপ্রাইজের চিহ্নমাত্র নেই! ঘটনা শুনলাম বাবার কাছ থেকে। বিষণ্ন ভোরে অনিচ্ছুক বাবাকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন মা। জোর করে বাজারে পাঠান। বলেন, "বাপী আসছে। আমি জানি।" বাবা বলেন, "তুমি জানো? তুমি কি পীর সাহেব? গতকালই তো বাপী বল্লো এবার কেউ ছুটি পাচ্ছে না!" মায়ের এক কথা, "আমি জানি। আমার মন বলছে!" এর উপর আর কি কথা থাকে?
-------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
* দে জা ভু ব্যাপারটা অনেকের কাছেই শুনেছি।
** টেলিপ্যাথি আমার কাছে গাঁজাখুরি মনে হয়! অন্যের ভাবনা চিন্তা কি জানা যায় নাকি? কিন্তু---
*** লেখাটি নিজস্ব অনুভূতির প্রকাশমাত্র। অবৈজ্ঞানিক চিন্তা ভাবনার ক্যানভাসিং নয়। সেরকম কারও মনে হলে তার জন্য ক্ষমাপ্রার্থী।
মন্তব্য
পড়ে গেলাম একটানে। মাঝখানের প্যারাটা পড়ে খুব মন খারাপ হলো।এখনো সন্তানের পিতা হতে না পারলেও সন্তানের জন্য বাবা মায়ের টান কেমন তা জানি । আজ থেকে প্রায় সাড়ে চার বছর আগে ছিনতাইকারীদের গুলিতে আমার এক বন্ধু নিহত হয়। ওর লাশ যখন ঢাকা মেডিক্যাল মর্গ থেকে বের করা হয় তখন আমি দেখেছিলাম আঙ্কেল আন্টিকে। সেনাবাহিনীর সদস্যরা এমনিতে খুব টাফ হয়। আঙ্কেলের চেহারা দেখে সেটাই আবার মনে পড়ছিলো। তবে পাথরের বুক চিরে ঝরণার স্রোত যেভাবে আসে তেমনিভাবে পাথর কঠিন মুখের উপরে গাল বেয়ে একটু একটু করে অশ্রুর ধারা পড়েছিলো। আন্টি কাণনদছিলেন। কিন্তু সেটা শোনার পরে তাকে সান্তনা দিতে যাবার সাহস করতে পারিনি।
দেজাভু এর নাম শুনেছি কিছুদিন আগে। অথচ জিনিসটির সাথে আমি অনেক অনেক আগে থেকে পরিচিত।অনেক সময়ই এরকম মনে হয়, এই মুহূর্তের পরে যা ঘটবে তা আগি জানি, দেখেছি কোথাও। খুব ছোটবেলায় আমার মা তখন নরসিংদীর রায়পুরার একটা কলেজের শিক্ষকতা করেন। নরসিংদী থাকেন। একদিন সন্ধ্যায় আমার মনে হলো। আম্মা আসছেন শুধু তাই নয় কোথায় আছেন তখন সেটাও আমি দেখতে পারছি। আমার দাদা আমার কথা শুনে মন খারাপ করলেন। ভাবলেন আম্মা না থাকায় আমি বুঝি প্রলাপ পারছি। অথচ আমি মৃদু ভাবে বলছি আম্মা ঐ গলির মোড়ে এখন, একটু পড়ে ঐ গলি হয়ে পাঁচ মিনিট বাদে আসবেন। সবাইকে অবাক করে দিয়ে ঘটনাটা ঘটে যায়। আমি জানি এটা কাকতাল। হয়তো এমন হাজার বার মনে হলে কেবল একবারেই ঘটে অথচ সে সম্ভাবনা পরিসংখ্যানের হিসাবে তারচেয়ে অনেক অনেক ছোট হবে।
আমার মা আমার বন্ধু ছিলেন।তার মাঝে অদ্ভুত কিছু দেখেছি। মাঝে মাঝে আম্মা বলতেন তার নাকি কান্না পায় কোন কারণ ছাড়া। আর প্রতিবার যখনই এমন ঘটনা হতো কিছুদিনের মাঝেই মৃত্যু সংবাদ পেতেন। তার পরে সেই কান্না কান্না ভাবটা কেটে যেত।আমার মাঝে এমন কোন ক্ষমতা নেই। তবে শেষবার যখন মায়ের সাথে কথা বলে ঘুমাতে যাই নিজের অজান্তেই ঘুম থেকে জেগে উঠি। বাথরুমে পানি ঢালার শব্দ পাই। আমার আব্বা অসুস্থ ছিলেন। ভাবলাম হয়তো বা তিনি মাথায় পানি ঢালছেন। আমাকে একটু পরে অবাক করে দিয়ে আব্বা আমাকে আমার মায়ের পাশে বসতে বলে আমার মামা(ডাক্তার)কে ডাকতে বের হন। টেলিপ্যাথি কিনা জানি না। আমার মায়ের পাশে গিয়ে বসার পর আমার বুক ফেটে কান্না এলো। আমি ডাক্তার নই। আমার আম্মার কোন অসুস্থতাও ছিলো না। ঘন্টা চারেক আগেই তার সাথে বসে টেলিভিশনে ঈদের অনুষ্ঠান দেখেছি। অথচ তখন তার পাশে বসে মনে হলো, শেষ , সব শেষ। আর কোনদিনই আমার মাকে ফিরে পাবো না। আমার মায়ের সাথে আমার আসলেই আর কথা বলা হয়নি। সেদিন সকালে আমার মাকে যখন এম্বুলেন্সে তুলে দেই তখনই আমি মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলাম। অথচ সব ডাক্তার সিমপটম স্বাভাবিক, সিরিয়াস কিছু না বলছিলেন। চারদিন পরে আমার মা মারা যান।
যা হোক পোস্ট পড়ে আমিও হাবিজাবি অনেক প্যাচাল পেরে ফেললাম। পোস্ট টা প্রিয়তে নেয়া দরকার ছিলো। তা আর করলাম না। আপনার লিংক আমার প্রোফাইলে এ্যাড করলাম। কারণ প্রিয়তে নিতে গেলে আপনার সব পোস্টই নিতে হয়।
ভালো থাকবেন।
শুভকামনা।
বুকের ভেতরটা মুচড়ে উঠল।
লেখকের মন্তব্য
আমি দুঃখিত, জনিকা!
জানি না কি বলব!!!!
লেখকের মন্তব্য
কিচ্ছু বলতে হবে না, বোন, আমি বুঝতে পারছি!
- আমার কৃতজ্ঞতা জানবেন। খুব ভালো থাকুন!
শিমুল ভাই, পড়তে না চাইলেও কেন জানি পড়া হয়ে যায়!
কষ্ট কষ্ট কষ্ট!
লেখকের মন্তব্য
আমিন শিমুল, আপনার মন্তব্যটা পড়েছি আগেই, কিন্তু কি যে লিখি জবাবে সে কথা ভেবেই পাচ্ছিলাম না! এখনো পাই নি!
আমার পোস্টটি দেয়ার আগে বুঝিনি কি মন খারাপ করা একটা কাজ করতে যাচ্ছি। আমি কাগজে লিখি না কিছু আর। পোস্ট যেগুলো দিই, মাথার ভিতর খানিকটা সাজিয়ে নিয়ে সরাসরি এখানেই টাইপ করে ফেলি। বিরাট একটা অসুবিধে যে আছে এই পদ্ধতিটিতে তা এখন বুঝতে পারছি। যে কথাগুলো স্রেফ কন্টেক্সচুয়ালি আসবে বলে ভেবেছিলাম, ভেবেছিলাম একজন ডিট্যাচড বর্ণনাকারী হিসেবে আমি শুধু নির্মোহ উপস্থাপনা করে যাবো। বাস্তবে তা হয়নি। - আমি কিন্তু, ভাই, নিজেই অবাক হয়েছি আমার নিজের বাচালতায়। যে বিষয়টি দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে ট্যাবু হয়ে আছে, যে বিষয়ে কখনোই কিছু বলি না, সেই কথা কেন বল্লাম এটা ভেবে অবাক হচ্ছি। কেন যেন মনে হচ্ছে, অবচেতনায় কি সহানুভূতির জন্য সুপ্ত কাঙ্গালিপনা চতুরদের সস্নেহ প্রশ্রয়ে জেগে উঠলো? আমি সত্যিই লজ্জ্বিত!
- আবার ভাবি, আমার আবেগ অন্ততঃ একজনের তো এমন কোথাও ছুঁয়ে দিয়েছে, যেখানে স্পর্শ পেলে মানুষ হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালোবাসে! আপনার মন্তব্যে অনুভূতির গভীরতা আর আন্তরিকতা আমার চোখ ভিজিয়েছে। পুরুষের কাঁদতে নেই - এজাতীয় ম্যাচো ভাবনায় বিশ্বাস করি না। - আপনার মায়ের জন্য শ্রদ্ধা মেশানো প্রার্থণা!
- আপনার প্রশংসা আমার কাছে বিরাট বড় ব্যাপার। ব্যাখ্যা করতে পারা যাবে না। মন্তব্যের শেষের কথা কটি আমাকে দারুণ সম্মানিত করেছে। সে জন্য জানাই কৃতজ্ঞতা। গৎবাঁধা নয়, অকপট! অজস্র শুভ কামনা রইলো।
আপনার শেষের প্যারায় চোখ আটকে গেলো অনেকক্ষণ। আমি অনেক সম্মানিত বোধ করছি এবং কিছুটা লজ্জাও বোধ করছি।
আপনার কাছে দুই যুগে মনের ভেতরে জমানো কষ্ট বলে ফেললেন, এতে সহানুভূতি পাবার ব্যাপার কিন্তু আমার কখনোই মনে হয়নি। কারণ এ কষ্ট এমন কষ্ট যা সহানুভূতি কিংবা সান্তনার অনেক উর্ধ্বে। মনের অজান্তেই মনের কথা অকপটে বলে ফেলা। বলতে পারেন আপনার পোস্ট পড়ে আমিও কিছু বলতে পারলাম। আমার মাকে যখন হারাই আমার দুজন বন্ধু সামহোয়ারে আমার মাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে পোস্ট দিয়েছিলো। তখন অভিভূত হয়েছিলাম চোখে জল এসেছিলো, ব্লগারদের অনেক চমৎকার ভালোবাসা বন্ধুত্ব মাখানো কথা পেয়েছি। অথচ কিছু বলার সাহস করে উঠতে পারিনি। কারন ঐ সংকোচ। আপনার পোস্ট পড়ে সেই সংকোচ একটু হলেও কাটাতে পেরেছি। মনের ভেতরের যে কথা বলতে গিয়েও চেপে রাখি তা অবলীলায় বলে ফেললাম। আমার মা আমার বন্ধু ছিলেন আমার অনুপ্রেরণা এখনও। তিনি বাংলা সাহিত্যের ছাত্রী এবং শিক্ষক ছিলেন। তার উৎসাহ বলতে গেলে আমার লেখালেখির উপর বিরাট প্রভাব বিস্তার করে আছে। আমি নিজে শখের বসে হাবিজাবি লেখার চেষ্টা করি। সে অর্থে লেখক ও নই। কিন্তু যদি আরো বছর দশেক বেঁচে থাকি এবং শক্তি সঞ্চয় করতে পারি, আমার লিখে যাওয়ার ইচ্ছা আছে আমার মায়ের কথা। সে গল্প আরেকদিন হবে।
আপনাকে আোন্তরিক শুভকামনা।
ভালো থাকবেন।
এডিট করে দিলাম মন্তব্যটা। পরে এসে কমেন্ট দিয়ে যাবো।
লেখকের মন্তব্য
পদ্মভাই, আপনার কাছেও ক্ষমা চেয়ে নিতে চাই! প্রগল্ভতার মাশুল দিচ্ছি নিদারুণ মনোকষ্টে!
- আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং অনেক শুভ কামনা!
হয়ত যার জন্য কিনতে এসেছি, সে-ই আর নেই!
লেখকের মন্তব্য
পদ্ম ভাই, আপনি ফিরে এলেন? 'কে হায় হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালোবাসে---'।
- নতুন বছরটার নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরাতে থাকেন - এই কামনা করি!
বাপী ভাই অসাধারণ। ভালো খারাপ মিলিয়ে কিছু অনুভূতি জানালেন। মাঝের প্যারাটা নিয়ে কিছুই বলার নেই, কারন এই বিষয় গুলির শান্তনা নেয়।
হ্যা এই ব্যাপারটা আমার বেলায়ও অনেক হয়েছে, একটা কিছু ভেবে রেখেছি দুদিন বাদে দেখাগেলো সে ভাবনা মতোই কাজ।
লেখকের মন্তব্য
অনেক ধন্যবাদ, করিম ভাই! ঠিকই, অনেকের কাছেই এমন অভিজ্ঞতার কথা শুনেছি। এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা কিছু নিশ্চয়ই আছে, আমার জানা নেই!
কৃতজ্ঞতা!
অফুরান শুভ কামনা!
মায়ের এক কথা, "আমি জানি। আমার মন বলছে!
আমার ধারণা টেলিপ্যাথি আছে।
আপনার লেখাটা পড়ে মনটা কেমন যেন হয়ে গেলো।
লেখকের মন্তব্য
জগতের সব মায়েদের মন জুড়েই তো থাকে সন্তানের ভাবনা, সন্তানের জন্য মমতা আর মঙ্গলাকাঙ্খা!
- মন খারাপ করিয়ে দেয়ার জন্য আমি দুঃখিত!
- সদয় মন্তব্যের জন্য কৃতজ্ঞতা! খুব ভালো থাকুন, সুমন!
ঠিক তাই!
এরকম হয়, মাঝেমধ্যে।
লেখায় আপনার কিছু জিনিস পড়ে যেমন কষ্ট পেয়েছি, আবার মায়ের ব্যাপারটা বেশ ভালও লাগল।
মায়ের মন বলে কথা! আহ!
(গুলশান-১ এর ওদিকে দে জা ভ্যু নামে একটা রেস্টুরেন্ট আছে, হাহাহা, কথাটা অপ্রাসঙ্গিক ঠেকতে পারে আপনার কাছে, কিন্তু আমি প্রাসঙ্গিক ভাবেই নিয়ে এসেছি। কারণ, আপনার লেখার শিরোনামে 'দে জা ভ্যু' দেখে আমি ভেবেছিলাম, ওই রেস্টুরেন্ট নিয়ে কোন স্মৃতিচারণ-টারণ লিখেছেন, আমি এত্ত বোকা!)
লেখকের মন্তব্য
নয়ন, তোমাকে দেখেই মন ভালো হয়ে যায়! দেজাভ্যু রেস্তোরাঁর কথা মাথায় এসেছে, এর মধ্যে বোকামি তো দেখলাম না কোথাও!
মায়ের মন!!!
কৃতজ্ঞতা, নয়ন! অফুরান শুভ কামনা!
দে জা ভ্যু ব্যাপারটি নিয়ে রেস্টুরেন্ট ছাড়াও যে আরো অনেক কিছু লিখা যেতে পারে, সেটা মাথায় আসেনি আর কি!
থ্যাংকস বাপী ভাই!
আমার বেলায় প্রায়ই এটা ঘটে। এমনকি স্বপ্নের মাঝেও। কোন নতুন জায়গায় গিয়ে মনে হয়, এখানে আমি আগে এসেছি। ঐ খানে এই গাছ আছে, বা ঘরটা ঐ রকম। মাঝে মাঝে মিলেও যায়। স্বপ্নের মাঝেও আমার মনে হয় এটা তো আমি অনেকবার দেখেছি। একই স্বপ্ন আমি অনেকবার দেখি। এসবের কোন কারন জানিনা। জানার দরকারও নেই। চুপচাপ থেকেও যে অনেক কিছুই বলা যায় তা ভালোই বুঝি।
এটাই অনেক আনন্দের কথা। আমাদের জীবনের, আমাদের বংশের একমাত্র গভীর ক্ষত নিয়ে কিছু বলতে চাইনা। 
"অনেক কথা যাও যে বলি কোন কথা না বলি"
তবে কবি কিন্তু সেই না বলা ভাষা বোঝার আশা জলাঞ্জলি দিয়েছিলেন। যা তোমরা দাওনি।
লেখকের মন্তব্য
তোমারও যে একই ঘটনা ঘটে তা তো জানি! গোড়া এক না?
- কৃতজ্ঞতা! পড়ার জন্য, মন্তব্যের জন্য, অনুভবের জন্য!
খুব ভালো থাকিস!
মন আগাম গায় অনেক সময় ব্যাখ্যাতীতভাবে। মন রহস্যের আধার; মেলে না সবকিছুর ব্যাখ্যা আজও তার!
....
কিছু সময় স্তব্ধ সময়।
মা, মা। মমতায় ঘেরা আপন জগত তার। জন্মদাত্রী বলেই হয়তো অটুট নারীর টান। মুখ দেখেই অনুধাবন করে নেয় সারমর্ম অনেক, আর দূর থেকেও সন্তানের উপর দৃষ্টি মেলা থাকে।
লেখকের মন্তব্য
মানিক ভাই, ঠিকই বলেছেন। মন আগাম গায়, মনে হয় চিন্তা যেন টাইম মেশিনে চেপে এগিয়ে যায় হঠাৎ!
আপনি আমার কৃতজ্ঞতা জানবেন, ভাই!
- শুভ কামনা রইলো!
পড়লাম বাপী ভাই কিছু বলতে ইচ্ছে করছে না, আমার সাথেও এরকম অনেক ঘটনা আছে যা আমি আগেই দেখেছিলাম বা ভেবেছিলাম যার অনেকগুলোই ভয়ানক। ভালো থাকবেন ।
লেখকের মন্তব্য
কিচ্ছু বলার দরকার নেই, চৈতী! নীরবতাও খুব বাঙ্ময় হয় কখনো কখনো!
- সাথে থাকার জন্য কৃতজ্ঞতা!
অফুরান শুভ কামনা!
বিষয়টা নিয়ে ভাবার অনেক কিছু আছে? মানুষ তার জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনা কি আগে থেকে টের পায়! আর যদি টের পেয়েই থাকে তবে কেন ঘটল?
আপনার পোষ্ট পড়ে বিরাট ভাবনায় পড়ে গেলাম। অনেক কিছু বলার থাকলেও আমি কিছু ঘুচিয়ে লিখতে পারছি না। কোথায় দিয়ে শুরু কোথায় দিয়ে শেষ করব?
লেখকের মন্তব্য
তাই! তাই চলুন কিছু না বলে শুধুই অনুভব করি!
উদরাজী ভাই, আপনাকে আমার কৃতজ্ঞতা জানাই!
শুভ কামনা রইলো!
বাপী ভাই যে কথাটা বলা হয় নাই তা হচ্ছে। আমি কোথায়ও যেতে লাগলে রিক্সার চেইন পড়ে যায়। মাঝে মাঝে আমার কাজ হয় না। কিন্তু রিক্সার চেইন পড়ে গেলে আমি অস্থির হয়ে পড়ি।
গত সপ্তাহে একবার মিশুকের চেইন পড়ে গিয়েছিল! আমি ভয়ে ছিলাম। এটা কি টেলিপ্যাথি!
শুধু নীরব হয়ে পড়লাম। মন্তব্যের ভাষা আমার জানা নেই!
নিরন্তর ভাল থাকবেন বাপী ভাই।
লেখকের মন্তব্য
আপনাকেও বলি, অপাংক্তেয়, কিচ্ছু বলতে হবে না! আমি বুঝতে পারছি, আর কৃতজ্ঞতায় বুক ভরে যাচ্ছে!
- আপনার জীবন শিল্পিত সুন্দর হোক, আকাঙ্খাগুলোর চার পাশ থেকে অসম্ভবের দেয়াল সরে যাক!
আমি মীন রাশির জাতক। পানি আমার আশ্রয়! এখন দেখছি আমাতে আশ্রয় নিয়েছে পানি। এ পানির স্বাদ লবণাক্ত, সমুদ্রের হয়তো বা! নিজের কষ্টে এ পানি চোখ ফেটে বের হয়ে আসে, অপরের দুঃখে তা আসে হৃদয় হতে। আমাকে দলিত মথিত করে নয়নে বান ডাকে, চার দিক হয়ে আসে অন্ধকার। বাপী আর শিমুলের কষ্ট আমাকে কাঁদালো আবারও। না, এতে তাদের দুঃখিত হওয়া দরকার নেই।
বাপী হাসান শুধু হাসানই না, কাঁদাতেও পারেন। কেঁদে যদি কষ্ট কমে! কমে তো, কিন্তু মুছে যায় না একেবারে। চোখের পানি দিয়ে সব কষ্ট তাড়িয়ে দিতে যদি পারতাম!
ভালো থাকুন, সবাই ভালো থাকুন।
লেখকের মন্তব্য
হুদা ভাই, জবাবে শুধু কৃতজ্ঞতা জানাই আজ। অন্য কোন পোস্টে দীর্ঘ আলাপ হবে!
- অফুরান শুভ কামনা!
ঠিক আছে।
হেথা নয়, অন্য কোথা, অন্য কোনখানে।
গতকাল আমার এক বন্ধুকে বলছিলাম " দোস্ত , আমার ভেতর বোধহয় অলৗকিক কোন ক্ষমতা আছে " । শুধু বলার স্বার্থে নয় একদম সত্যি করেই বললাম আমার ক্ষেত্রে ,প্রায়ই এমনটি ঘটে তবে । তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিভৎসতা দেখি । প্রথম দিকে সংজ্ঞায়নটা করতাম অন্যভাবে যেমন এটা আমার ডিজিজ । এরকম কিছু ঘটলে ধরে নিতাম আমি এটিকে স্বপ্নে দেখেছি এবং যেটি এই মুহূর্তে সত্য হচ্ছে । এখন মনে হচ্ছে, যেহেতু আমি একা নয় সবাই কম বেশি এই ঘটনার সাথে পরিচিত হয়তোবা এরকমটি হতেই পারে পৃথিবীর অনেক কিছুই তো রহস্যাবৃত ।
অনেক ভালো লাগলো বাপী ভাই ।
লেখকের মন্তব্য
অনেক ধন্যবাদ, স্রোত! অনেকেরই এরকম অভিজ্ঞতা আছে শুনেছি!
আপনার প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা রইলো!
খুব ভালো থাকবেন!
মনের কথাটা বাতাস কানে কানে এসে বলে যায়। কখনো শরীরও বলে, ভেতর থেকে।
আমারো, আপনার দশা। হঠাৎ মনে হয়, পরে সত্যি হয়।
লেখকের মন্তব্য
হাহাহা! আপনি আর আমিই শুধু নই, মনে হচ্ছে এই ক্লাবের মেম্বার অগুন্তি!
পাঠ ও সদয় মন্তব্যের জন্য আমার কৃতজ্ঞতা নিন, নিশাচর! অজস্র শুভ কামনা!
কিছু না বলাও অনেক সময় অনেক বলা।
লেখকের মন্তব্য
অঙ্ক, আপনার নীরবতা অনেক কথা বলে গেলো!
অপরিসীম কৃতজ্ঞতা আপনার অনুভূতির জন্য!
দারুণ ভালো থাকুন!
এই পোস্ট আর শিমুলের কমেন্ট দুটো একসাথে সহ্য করতে পারা খুব কঠিন
কাল পড়ে কিছু কমেন্ট করাও সম্ভব হয়নি এজন্য
লেখার সময় আপনার কেমন লাগছিলো সেটাও ভাবনায় আসলো এখন
হুমম দেজাভু, অনেকবারই অনেক ঘটনার সামনে দাড়িয়ে মনে হয়েছে আরে এ সবই তো খুব চেনা, আগে কখনো এইসব স্বপ্নে দেখেছি মনে হয়।
লেখকের মন্তব্য
জলরঙ, কষ্ট!
আপনি লেখাটা পড়েছেন, অনেকটা সময় দিয়েছেন এখানে, আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা নিন!
- আরে, সামনে অনেকটা পথ! কোন এক আনন্দময় পোস্টে আবারও দেখা পাবো নিশ্চয়ই?
-অফুরান শুভ কামনা!
লেখাটা পড়ে খুব অদ্ভুত কিছু অনুভূতি কাজ করছে ভাইয়া.............
লেখকের মন্তব্য
স্বর্নতরলকারিনী, আমি বোধ হয় বুঝতে পারছি!
- অনেক কৃতজ্ঞতা আর অফুরান শুভ কামনা!
ভাইজান, আপনার পোস্টটা পড়ে খুব একটা অবাক হই নাই। এই যে মনে হয় না জায়গাটা বেশ পরিচিত এমন ব্যাপার সত্যিই আমার জীবনেও আছে।
১। যেমন প্রথমেই অবিশ্বাস্য একটা ঘটনা বলি, ক্লাস ফাইভ থেকেই আমার চুল পাকতে আরম্ভ করেছিলো ধীরে। তো জীবনে প্রেম করতে না পারার কারণে অপেক্ষা করছিলাম পারিবারিক ভাবে ব্যাপারটা ঘটে কিনা। কোনো এক কারণে আমার প্রথম বিয়ে (মায়ের ভাইয়ের মেয়ে) কেচে যাওয়ার পর প্রায় দীর্ঘকাল বিয়ের ব্যাপারে অনীহা ছিলো। যাই হোক শেষটায় লোকজনের প্যাঁদানী মায়ের বোনের অদ্ভুত ইজ্জত হানিকর আর চরিত্র হানিকর কথা বার্তা শুনে শুনে সম্মত হলেও দেখি মেয়ে পক্ষ কোনোভাবে আমাকে দেখার পরই পালিয়ে যায় বা আত্মগোপন করে। কারণ ছেলের মাথায় পাকা চুল। বয়স লুকাচ্ছে। এমনই একটি বিয়ে জিলানী ভাইয়ের বোনের সঙ্গে প্রায় পাকা হওয়ার পথে ছিলো, কোনো এক অজ্ঞাত কারণে তারাও চুপ হয়ে গেলেন। (এখনও মাঝে মধ্যে গ্রামের বাড়ি গেলে ভদ্রলোকের সঙ্গে দেখা হয়। এবার ঠিক করেছি তাকে জিজ্ঞেস করবো, বিয়েটা কেন হলো না?)
আমি ধরেই নিয়েছিলাম আমার বাকি জীবন এমনিতেই যাবে যদি নিজে মাঠে না নামি। তার আরো আগে একটা অদ্ভুত স্বপ্ন দেখেছিলাম, কোনো একটি মেয়ের সঙ্গে কোনো এক নদীর ধারে বসে কথা বলছি। শয়তানের কারবার ভেবে আর পাত্তা দেই নাই। কিন্তু বিস্ময়ের ব্যাপার তাকে যখন দেখি ঠিক স্বপ্নের মেয়েটির সঙ্গে তার সব মিলে গিয়েছিলো। আরো অবাক করা ব্যাপার ছিলো তার বিয়ের ব্যাপারগুলোও ঠিক আমার মতই পাত্রপক্ষ তাকে দেখে যাওয়ার পরই ডুব দিতো নয়তো এড়িয়ে যেতো।
২। আমার মায়ের ব্যাপারটাও এমন। মার যখন অসুখ হয়, কষ্টে থাকেন, আমি শুনতে পাই মা আমাকে ডাকছেন। মায়ের ডাক আমি শুনি দিনের বেলায়, কাজের ব্যস্ততার ভেতর। কেবল আমার ক্ষেত্রেই মা কেমন করে যেন টের পেয়ে যান আমি মায়ের কাছে যাচ্ছি। তিনি নাকি আমার কণ্ঠস্বর আর পদশব্দ পান। আগের বার যখন ছুটিতে দেশে যাই। ঢাকা থেকে একদিন পর মায়ের সঙ্গে দেখা করতে যাই। দেখি মা উঠোনে দাঁড়িয়ে আছেন। আমাকে দেখেই বলে উঠলেন যে, দুদিন ধরে আমার পায়ের শব্দ পাচ্ছেন। এবার যদি দেশে যাই একই ঘটনা ঘটবে সন্দেহ নাই।
৩। বন্ধুর মতোই আমার এক চাচাতো ভাই আছেন। কেমন করে যেন তার সঙ্গে আমার সম্পর্কটা বড় ভাই ছোট ভাই থাকেনি। বন্ধুর মতোই হয়ে গেছে। তিনি বিয়ে করলেন। কোনো এক দুর্ঘটনার কারণে, তার সাথেও বন্ধুত্বের মতো সম্পর্ক তৈরি হয়ে যায়। অন্যান্য নারীদের নিয়ে কেউ কেউ আমাকে সন্দেহ করলেও তাকে নিয়ে কোনো বিরূপ কথা বার্তা শুনতে হয়নি।
যাই হোক এখান থেকে মাঝে মধ্যে আমি তাদের খোঁজ-খবর করতে ফোন করি। যখনই আমার মনে হয় যে তারা কেমন আছে? হয়তো ভালো নেই। ফোন করে সত্যিই জানতে পাই ভাবিটা সুস্থ নেই।
একবার হলো কি, আমার খুবই অস্থির লাগছিলো তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলাম না দেখে। নেটোয়ার্ক পাচ্ছিলাম না। তাদের ভাবনায় আমার ঘুম হচ্ছিলো না। দুদিন পর ফোনের লাইন পেতেই জানতে পাই যে, ভাবিটা হাসপাতালে। পিত্তপাথর অপসারণ না করালেই নয়।
৪। বাবার ব্যাপারটা বেদনা দায়ক। লম্বা হয়ে যাবে। হয়তো লিখতে পারবো না বলেই সন্দেহ।
তাই বলি মনের তথ্য সংযোগের ব্যাপারটা আমার কাছে সত্যি বলেই মনে হয়।
একবার হঠাৎ শুনতে পাই বাবা! যেন আমার বড় ছেলে ডাকছে। মটুর সঙ্গে কথা হলেও তার সঙ্গে খুব একটা কথা হয় না। পরদিন ফোন দিয়ে তাকে বলি, কিরে আমারে ডাকস ক্যান?
ছেলে জানায়- কয়দিন ধইরা তোমার কথা খুব মনে পড়তাসিলো।
লেখকের মন্তব্য
জুলিয়ান ভাই! আমার পোস্ট দেয়াটা সত্যিই সার্থক হয়েছে! আমিন শিমুলের লেখা পাওয়ার পর অপরাধবোধ অনেক কমেছিলো, আপনার এই লেখাটা পেয়ে খচখচানিটা একদমই দূর হয়ে গেলো! আপনাদের দুজনের লেখা এই পোস্টকে মাত্রান্তরে নিয়ে গেছে!
ভাই, আপনার ১ নম্বর সম্বন্ধে বলি, আপনি শক্তিমান লেখক, দারুণ গল্প যে আপনার জীবন নিয়েই হয় সেটা আপনিও জানেন, জানেন না? তাইলে, লেখেন না কেনো? অনুরোধ, ভেবে দেখবেন নিশ্চয়ই!
- অন্য ঘটনা গুলোর সাথে একাত্ম হয়ে গেলাম! ভালোবাসার গভীরতা বোধ হয় একটা ফ্যাক্টর। ভালোবাসার জন অন্তর জুড়ে থাকবে, সেটাই তো স্বাভাবিক। আর সেই অন্তরের ভাবনা চিন্তার ছোঁয়া লাগবে যে অন্তর্গত, তার উপরে! বুঝিনা ঠিক। আর, বোঝার দরকারটাই বা কি? কিছু রহস্য থাক না জীবনে। ক্ষতি কি?
- ভাবীকে স্বেপ্ন দেখার অংশটুকু পড়ে, জুলিয়ান ভাই, শিহরণ লাগলো! একদম আক্ষরিক অর্থেই, গুজবাম্প হলো!
আমার অনুভুতির সঙ্গে মিশে যাবার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাই!
খুব ভালো থাকবেন! আপনি, ভাবী ও ভাতিজা!
মটুরে গল্পটা মাঝে মধ্যে বলি। সে অবাক হয় না। হয় তো বা বিশ্বাস করে না। কিন্তু সে যে আমার জন্য ঈশ্বর প্রেরীত সেই ভাবটা বেশ উপভগ করে।
জীবনে রহস্য না থাকলে কি তা পানসে হয়ে যেতো না। রহস্য আছে বলেই একজনের অনুভূতি পাশের জনকেও ছুঁয়ে যেতে পারে।
-সত্যি ঘটনাকে প্রলম্বিত করা বা ফুলানো ফাঁপানো কঠিন। তা ছাড়া আমার জীবনটা বলতে গেলে যাচ্ছে-তাই। যার ঘটনা নিয়া প্রকৃত গল্প হয় না।
আগে একবার ঘুরে গিয়েছিলাম। প্রথম প্যারাটা পরে চলে গিয়েছিলাম। এখন এসে পড়লাম। কিন্তু বুঝতে পারছি না পড়ে ভাল করলাম না খারাপ করলাম। মনটা কেমন হয়ে গেল!
লেখকের মন্তব্য
মন খারাপ করে দেয়ার জন্য আমি দুঃখিত, আচার্য!
-ঘুরে ফিরে আমার পাতায় আসার জন্য আমি সত্যিই ধন্য। আমার অপরিসীম কৃতজ্ঞতা জানবেন।
-শুভ কামনা আপনার জন্য!
সেদিন মন খারাপ ছিলো খুব। তাই বাপী ভাইয়ার পোস্ট পড়তে শুরু করলাম।
তারপর কি হল বলে কাজ নেই...।
পোস্টে কোন মন্তব্য করবার সাহস সঞ্চয় করতে কয়েকদিন লেগে গেল...।
মামণি'র জন্য রইল আকাশ-উজাড় ভালোবাসা।।
---------------------------------------
দেজাভু ব্যাপারটা জাতি-বর্ণ-ভৌগোলিক অবস্থান নির্বিশেষ ইউনিভরস্যলি এক্সপরিয়েন্সড বলেই আমি জানি।
আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তো রয়েছেই। ভবিষ্যত বলতে পারি না - কিন্তু দেখা গেল যে কোথাও বেড়াতে গেলাম, কিংবা কোন ঘটনা যখন ঘটছে, তখন অদ্ভুত একটা অনুভুতি - মনে হচ্ছে প্রত্যেকটা মুহূর্ত আগেই ঘটে গেছে...ঘটনার সব সিকোয়েন্স আমার চেনা...রাস্তাঘাটগুলো আমার সব চেনা...[অফ টপিকঃ মজার কথা হল, কোরআন শরীফে 'অন্য ভুবন সংক্রান্ত স্মৃতি মানুষের নিউরোনে রয়েছে' এই জাতীয় একটা আয়াত আছে...সে টপিকে আর গেলাম না।]
----------------------------------------
আমার ভাবী, ভাস্তে আর চমৎকার ভাইয়াটার জন্য রইল অনেক অনেক শুভেচ্ছা আর ভালোবাসা।।
লেখকের মন্তব্য
অমিতা, আমার মনেই হচ্ছিলো আপনি এই পোস্ট পড়েছেন। - টেলিপ্যাথি, হাহাহাহা!
-ওয়েলকাম টু দ্য ক্লাব দে জা ভু!
- আমার বাবার শিক্ষাজীবনের শুরুটা মাদ্রাসায়। তাতে সুবিধা হয়েছিলো এই, পবিত্র গ্রন্থ স্রেফ মোহনীয় অথচ দুর্বোধ্য কিছু পংক্তিমালা হয়ে থাকে নি আমাদের কাছে। বাবার বয়স হয়েছে, আমারও। তবু, এই এখনো, ফোনে কথা বলার সময় অবধারিত ভাবেই বাবা আমাকে কোন না কোন আয়াত আর তার তর্জমা শোনান। তাঁর কাছে আমি আর বেড়ে উঠতে পারলাম না! হাহাহা!
যাক, আপনার রেফারেন্স থেকেই বুঝে নিতে পারবো, এমন পড়াশোনা আমার নেই! তবে আয়াতটি পড়েছিলাম, এইটুকু মনে আছে।
- জীবনে কিছু রহস্যময়তা থাক, মনে প্রাণে তা চাই বলেই বিতর্ক এড়িয়ে চলি! (বিতর্ক এড়িয়ে চলার মূল কারণটা অবশ্য আমার জ্ঞানের অগভীরতা! আমি কূপমণ্ডুক। সীমিত আমার দিগন্ত। )
- অনেক প্যাচাল পেড়ে ফেল্লাম! আমার কৃতজ্ঞতা জানবেন, নাঈফা!
- লাবণ্য, আমার ভাইটি আর আপনার জন্য অনেক শুভ কামনা!
দেজা ভু খুব অদ্ভুত একটা ব্যাপার, এটা যখন হয় তখন মাথা কেমন যেন আউলা হয়ে যায়। অনেক সময় স্বপ্নের মধ্যেও হয়। তখন আরো পেজগি।
নীরব আড্ডা কনসেপ্টটা পছন্দ হৈসে। আমার বউয়ের সাথে দিবো।
আর টেলিপ্যাথি একটা পপুলার বাট ইল্লজিকাল সায়েন্স ছাড়া কিছুই না।
ভালো থাইকেন ব্রো।।
লেখকের মন্তব্য
আপনে আসায় যারপরনাই আনন্দিত, হামা ভাই!
স্বপ্নে যখন ঐ জিনিস হয়, আসলেই, বিরাট পেজগি লাগে! আমি একবার, স্বপ্নেই, ভাবতেসি যাক, বাবা! এইটা খালি স্বপ্নই! - ঘুম ভাইঙ্গা ধাতস্থ হইতে টাইম লাগসিলো বেশ!
- টেলিপ্যাথিতে আমিও কোন লজিক দেখি না। আইডিয়াটা পপুলার, সন্দেহ নাই!
- আমার কৃতজ্ঞতা জানবেন! খুব ভালো থাইকেন!
দেজা ভুঁ আমার প্রায়ই হয়। ছোটবেলায় যখন হত, এত অবাক লাগত। আশেপাশে কাউকে তা বললে সে বিশ্বাসই করতে চাইত না আমার কথা।
আর টেলিপ্যাথির মত কিছু ব্যাপারও ঘটে। হয়তো সবকিছুর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা খুঁজতে যাওয়াই উচিৎ না। থাকুক না, এইটুকু অবৈজ্ঞানিক ব্যাপার।
লেখকের মন্তব্য
দারুচিনি লবঙ্গ, কৃতজ্ঞতা রইলো আপনার প্রতি! খুঁজে পেতে পূরোনো লেখাও পড়তে আসেন, এটা আমাকে অভিভূত করে।
- তাই, কে খোঁজে ব্যাখ্যা! কিছু কিছু অনুভূতি থাক না সারা গায়ে রহস্য মেখে!
- খুব ভালো থাকুন!
টেলিপ্যাথি বা সেরকম টপিকে মন্তব্য করার ইচ্ছে হচ্ছে না, আমি শুধু বলতে চাই আপনার লেখনী নিয়ে।
অনেক অনেকদিন পর এমন অনবদ্য লেখা পড়ার সৌভাগ্য হলো। ভাগ্যিস ব্লগ ছিল, ভাগ্যিস চতুর্মাত্রিক ছিল!
সময় করে আপনার সব লেখা পড়ে নিতে চাই।
শুভকামনা সব সময়ের জন্য।
লেখকের মন্তব্য
"ভাগ্যিস ব্লগ ছিল, ভাগ্যিস চতুর্মাত্রিক ছিল!" - চতুর্মাত্রিকে আপনার প্রতিটি লেখা প'ড়ে আমার অনুভূতি ছিলো এটাই। গত জুলাইতে আমি যখন চতুর্মাত্রিকে হাঁটি হাঁটি পা পা শুরু করলাম, সেই থেকে আজ অবধি আপনাকে কোন পোস্ট দিতে দেখি নি। কিন্তু তা'তে আমার আপনার লেখার মুগ্ধ পাঠক হওয়াটা আটকায় নি! চতুরে সবাই আশা করে আপনি ফিরবেন, আবার উজ্জ্বল ক'রে তুলবেন এর পাতা। আমারও একই রকম আশা। গত মাস থেকে আপনাকে মন্তব্য করতে দেখছি, সবার মতই আমিও আনন্দিত!
- আপনার সহৃদয় মন্তব্যে কতখানি উজ্জীবিত আমি তা' যদি জানতেন!
- আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানবেন, বোন নুশেরা! অসংখ্য ধন্যবাদ!
- অফুরান শুভ কামনা!
আপনি ওসব হাবিজাবি পড়েছেন জেনে সম্মানিত বোধ করছি, বাপীদা!
এর মধ্যে টের পেয়ে গেছি, আমার খুব প্রিয় মানুষ সুরঞ্জনা আপা আর আপনি ভাইবোন। বেশ বোঝা যায়, পঠন-পাঠন-লেখালেখি এগুলোতে আপনাদের একদম জিনগত উত্তরাধিকার
বাপী ভাই, আপনার পোস্ট আর শিমুলের কমেন্ট পড়ে মন খারাপ হোলো। আমি একটা বিচিত্র জিনিস দেখেছি, যারা ব্লগিং করেন তাঁদের সবারই কিছু খুব সিরিয়াস কষ্টের স্মৃতি আছে। জানিনা জেনারালাইজ করলাম কিনা।
বাপী ভাইয়া, অনেকটা হঠাৎ করেই আপনার এই লেখাটা আমার আজকে দেখা হলো, পড়ার পর কিছুক্ষণ চুপ হয়ে ছিলাম। তারপর কমেন্টগুলো পড়া শুরু করলাম। আমিন শিমুলের কমেন্ট পড়ার পর আবার---। একবার ভাবলাম কোনো কমেন্ট করবো না, চুপচাপ চলে যাই, কারণ কেনো জানি না খুব খারাপ লাগছিলো। তারপর 'মন্তব্য করুন'-এ এসে আবার কিছুক্ষণ চুপ। তারপর------
আমার আম্মু যখন মারা যান, আমি তখন মেডিকেলের ফাইনাল পরীক্ষা দিয়ে বাসায় এসেছি।রেসাল্ট দেবার আগে প্রায় দেড় মাসের ছুটি। আমি জানতাম আ্ম্মুর ক্যান্সার শেষ পর্যায়ে। বাসায় এসে আম্মুকে সুস্থ দেখলাম। পাঁচ দিন পর বিছানা নিলেন। মুখে খেতে পারতেন না, আমি নিজে স্যালাইন দিতাম, ইসুলিন দিতাম, বাথরুমে নিয়ে যেতাম। ঐ অবস্থায় আম্মু আমাকে জিজ্ঞেস করতেন,রেসাল্ট দিবে কবে? ডাক্তার হবি তো? একদিন হঠাৎ করে মনে হলো, আম্মু আমাকে ডাক্তার হিসেবে দেখে যেতে পারবে না। প্রায় প্রতিদিন ঢাকা ভার্সিটির রেজিস্ট্রার অফিসে খোজ নিতাম রেসাল্ট দিবে কবে। যত দিন যেতো, মনে হচ্ছিল সময় আর হাতে নেই। তারপর একদিন সকাল বেলা আম্মুকে দেখে আব্বুকে খুব শান্ত স্বরে বললাম, আপনি আজ অফিসে যাইয়েন না। আব্বু অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে ছিলো, কোনো কথা বলেনি, কিন্তু অফিসে যায় নি। আমার ছোট বোন নিশাতের সেদিন আইপিডিসিতে জয়েনিং-এর ডেট ছিলো, আমি বললাম, দুপুর পর্যন্ত বাসায় থাক, ও থাকে নি। ঠিক দুপুর তিনটার সময় আমার হাতের উপর আম্মু মারা যান, তখন পাশে কেউ ছিলো না, আব্বু ঘুমাচ্ছিলেন, শুধু আমি একা! আমি একটা টু শব্দও পর্যন্ত করি নি। রাতে ক্যাম্পাস থেকে লিসা বাসায় আসলো, পরদিন যখন ওকে বিদায় দিতে যাচ্ছিলাম, আমার হাত ধরে বললো, নিয়াজ কাঁদো, তখনও কাঁদতে পারি নি। তিনদিন পর যখন রেসাল্ট দিলো, আমি যখন ডাক্তার হলাম, তখন আর নিজেকে সামলে রাখতে পারলাম না, পাগলের মতো কেদেছি--তিন দিনের কান্না একসাথে।
আমি তখনো সিরাজগঞ্জে থাকতাম, ঢাকায় ১৫ দিনে একবার যেতাম। একদিন সকালে গিয়ে দেখি আব্বু অফিসে চলে গেছে, বাসায় আসবে বিকেল বেলা। আমার আবার সেদিন বিকেলেই ক্যাম্পাসে ফিরে আসার কথা, একটি কাজে। বাসায় গিয়ে আব্বুর সাথে ফোনে কথা হলো, আমাকে বললো --কি এমন কাজ যে এসেই আবার যেতে হবে? তোর সাথেতো তাহলে আর দেখা হ্লোল না, ঠিক আছে ভালোভাবে যাস। বিকেলে যখন বাসে উঠেছি --মনে হোল আব্বুর সাথে দেখা করা উচিত ছিলো। ক্যাম্পাসে এসে দুইদিন ফোনে কথা বলতে পারি নি, দ্বিতীয় রাতে খুব পরিচিত একজন আমাদের ওয়ার্ডেই মারা গেলেন, সারা রাত তাঁকে নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। সকালে হঠাৎ মনে হলো আজ আব্বুর সাথে কথা বলা দরকার, কিন্তু তখন ব্যাল্যান্স না থাকায় কথা বলতে পারি নি। দুপুরে খাবার সময় মোবাইলে টাকা ভরে যেই আব্বুকে ফোন দিবো, ঠিক সেই সময়ে আমার বোন নিশাত ফোন দিলো, কান্নাজড়িত কন্ঠে বলছে, ভাইয়া আব্বু আর নেই। সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকায় আসার পথে কাদিনি, আব্বুকে কবর দেবার পরও কাদিনি, বাসায় এসে আব্বুর রুমে ঢুকে আর নিজেকে সামলাতে পারিনি।
অনেক কথা বলে ফেলেছি, আপনারা বলেছেন, আমারটাও বের হয়ে গেছে। আজ আর ভালো লাগছে না ভাইয়া, খুব ভালো থাকুন আপনি এবং আপনারা।
মন্তব্য করুন