বাপী হাসান-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

"আপনি খুব অতীত-প্রেমিক! অতীত না ছুঁয়ে লিখতেই পারেন না কিছু!" অভিযোগ এটা, আমার বিরুদ্ধে! আসলেই কি তাই? অতীতের আরশির সামনে কেবলই কি দীর্ঘশ্বাস ফেলে যাই আমি নার্সিসাস? কেবলই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নিজেকেই দেখি? না মনে হয়। অতীতের আয়নাটা আমার কাছে, কি বলি, মনে করুন রিয়ার ভিউ মিররের মতো! ওতে তাকাই চেহারা দেখতে নয়, পিছনের ভুলচুক ঘাতক ট্রাক হয়ে গাঁক গাঁক ক'রে ঘাড়ের উপর না এসে হামলে পড়ে, জীবনে চলার পথে এইটুকু সতর্ক হ'তে চাওয়া কি খুব দোষের?
মনের বাঘ, বনের বাঘ! এর আগের পর্বে শুনিয়েছিলাম অপহরকদের হাত থেকে বেঁচে আসার গল্প। এই পর্বে থাকছে সেধে বাঘের গুহায় মাথা ঢোকানোর আখ্যান!
স্বীকার করতে দ্বিধা নেই, প্রচণ্ড ভয় পেয়েছিলাম! এতটাই, যে ঢাকা ছেড়েই পালালাম! ক'দিন ঢাকার বাইরে কাটিয়ে ফিরলাম যখন, তখন দেখি বুকের ভিতরে ভয়ের জায়গাটা নিয়ে নিয়েছে সম্পূর্ণ আলাদা কোন বোধ। কি নাম সেই বোধের? গোঁয়ার্তুমি? একগুঁয়েমি? আহাম্মকি? - আজ মনে হয় সবগুলোই! তার সাথে কিছু ক্ষোভ, কিছু হতাশা। দিনে দুপুরে, হাজার জোড়া চোখের সামনে থেকে একজন মানুষকে এভাবে, ইচ্ছের বিরুদ্ধে তুলে নিয়ে যাওয়া হলো! খুবই কষ্ট হচ্ছিলো এটা মেনে নিতে।
সমগ্র অনুভবে এক ধরনের টানাপোড়েন চললো বেশ কিছুদিন। ক'টা টাকার শোক নয়, উপহার পাওয়া প্রিয় ক্রস বলপেনটা হারানোর কষ্ট নয়, সব কিছু ছাপিয়ে পুরো ঘটনাটায় যে অসহায়ত্ব আর নিগুঢ় অপমানটুকু ছিলো, সেটাই পোড়াচ্ছিলো খুব! প্রতিটি মানুষই তো স্বাধীন স্বত্তা নিয়ে জন্মায়, পরাধীনতার কলঙ্ক তো আসে পরে, সর্বদাই অন্য মানুষের আরোপ হয়ে। এই আরোপটিই কিছুতেই মেনে নিতে চাইছিলো না মন। কি করি, কি করা যায় - এই ভাবনাটা তাড়িয়ে ফিরছিলো উদয়াস্ত। সেই তাড়নায় অস্থির হয়ে বিপজনক এক সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি।
ঠিক ক'রে ফেলি, এই গাবতলি অঞ্চল যার অঙ্গুলি হেলনে ওঠে, বসে, যার তুড়িতে চাকা ঘোরে, চাকা থেমে যায়, সেই মহা ক্ষমতাবান, সম্রাটপ্রতিম মানুষটির সাথে দেখা করতে হবে, অভিযোগ জানাতে হবে! তখন তরুণ বয়স! হঠকারিতার, আর অপরিণামদর্শী নানান অকাজে জড়িয়ে দুর্নাম তেমন মন্দ ছিলো না সে সময়! তাই আমার সিদ্ধান্তের স্যালিয়েন্ট ফিচার ছিলো, অবধারিতভাবেই, গোপনীয়তা। কাউকে জানালাম না কি করতে চলেছি!
সম্রাটের (এই পকেট গডফাদারটিকে সম্রাট বলছি এ লেখায়) দুর্গটি গাবতলির শুরুতেই - শুরু নির্ভর করছে আপনি ঢাকার দিকে যাচ্ছেন, নাকি ঢাকা ছেড়ে আসছেন, তার উপর। মজার ব্যাপার, গাবতলির দু'পাশেই এরকম দু'টো দুর্গ আছে। নাম ধরছি না, একটু রহস্য নয় রইলোই! তো, অতি দুর্ভেদ্য সে দুর্গ! সেইখানে প্রহরী, দেহরক্ষী আর পরিতোষক পরিবৃত হ'য়ে সম্রাট তাঁর দরবার বসান। বিচার আচার হয়। শুনেছি, তাঁর সব বিচারই 'আই দ্য জুরি, আই দ্য জাজ' নিয়ম মেনে চলে। একটা স্বাধীন দেশের রাজধানীর বুকে, একদম খোলা মেলা এই রাজ দরবার। যাঁদের দেখবার কথা তাঁরা অন্ধ হ'য়ে থাকাটাকেই শ্রেয়, অথবা স্বস্তিকর মনে করেন! তাঁদের দৃঢ়সংবদ্ধ টনক নড়ে না কোন ঝড়েও!
একদিন সক্কালবেলা আমি গিয়ে হাজির সেখানে। এলাহি কাণ্ড! বিশাল কোন কর্পোরেট জায়ান্টের হেড অফিস যেনো! প্রথমেই দৌবারিক দূর! দূর! ক'রে তাড়িয়েই দেন প্রায়! সম্রাটের নামের শেষে 'ভাই' লাগিয়ে, কণ্ঠে অনেক খানি অসহায়ত্ব আর একটুখানি একরোখা জেদের এক আজীব ককটেল মিশিয়ে সে বাধা পার হওয়া গেলো। আসল বাধা এলো মূল দরবার কক্ষের বাইরে। এ্যাপয়েন্টমেন্ট নেই? কে পাঠিয়েছেন? কার কাছ থেকে খবর পেয়েছেন? জটিল সব প্রশ্ন আর কুটিল সব দৃষ্টির আঁচে দুমড়ে মুচড়ে যাওয়ার জোগাড়! এইখানে, যেন ঈশ্বরপ্রেরিত এক ত্রাণকর্তার আবির্ভাব! একজন পাতি নেতা, মুখ চেনা। চোখে চোখে 'কি, কেমন আছেন' টাইপের মুখ চেনা। অপ্রত্যাশিতভাবেই এই পাতি নেতা আমার স্পন্সর হ'য়ে বসলেন!
অতঃপর সিকিউরিটি চেক। সর্বাঙ্গে কর্কশ হাতে থাবড়ে থুবড়ে দেখলেন একজন উদ্যমী রক্ষী। ক'দিন আগেই পৌনে একডজন পিস্তলের মুখে অপহৃত হ'য়ে অবধি শরীরের সূর্যোদয়হীন অঞ্চলে থাপ্পড় খাওয়াটা একটা বদভ্যাসে দাঁড়িয়েছে, এইবিধ ভেবে কিঞ্চিৎ রসাপ্লুতও হয়েছিলাম, যদ্দূর মনে পড়ে! আতঃপর প্রবেশাধিকার মিললো। মনে মনে বুকে ফুঁ দিয়ে দুই বিশালদেহী রক্ষীর মাঝখানে পাঁচফুট আটের মোটামুটি অস্তিত্বহীন একদলা জেলি হ'য়ে ঢুকলাম ভিতরে।
ব'সে আছেন সম্রাট! প্রায় নাভী পর্যন্ত বুক খোলা শার্ট, গলায় ভারী চেইনে ঝোলানো ততোধিক ভারী গোল লকেট বুকের উপর বসা, এক হাতের তিন আঙ্গুলে ধরা ঘুর্ণায়মান সান গ্লাসের ডাঁটি। উন্মুক্ত এবং খানিকটা নিদ্রালু দু'চোখের রক্তিমাভ, কৌতুহলশুণ্য দৃষ্টি কিসের যেন কাঁপন ধরায় বুকের একদম ভিতরটায়! ঘেমে উঠলো হাতের তালু, গলার চারপাশ! শীতাতপ নিয়ন্ত্রন ছিলো কিনা মনে নেই। তবে, পরিষ্কার মনে আছে, সিংহাসনের পাশেই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম সেই সর্দার গোছের লোকটিকে, যাকে আমার অপহরণকাণ্ডের পরিচালক ব'লে জানি। একটু কি অস্বস্তি ছিলো তার চোখের তারায়?
আমাকে নিয়ে যাওয়া হ'লো সম্রাটের একেবারে সামনে। অভিবাদন ক'রে দাঁড়ালাম। নিদ্রালু চোখে নিরীক্ষন হ'লো খানিক। কথোপকথন:
- "বলেন।"
- "আমার একটা অভিযোগ ছিলো!" সম্ভাষণের আপাতঃ ভদ্রতায় খানিকটা বিস্মিত আমি। 'আপনি' আশা করি নি।
- "অভিযোগ?" একটি ভ্রু আকাশমুখি! "কার বিরুদ্ধে অভিযোগ?"
দ্বিধা ঝেড়ে ফেলে আঙ্গুল উঁচাই। "এই যে, ইনার বিরুদ্ধে।" অকৌতুহল চোখে যেন খানিকটা কৌতুক!
- "এর বিরুদ্ধে? কি রে? কি করছস তুই?" আমার দিকে ফিরে, "কি করছে এ?"
আমি বর্ননায় যাই। প্রথমে থেমে থেমে, অসহিষ্ণু বাধার ভয়ে কণ্টকিত হ'য়ে। বাধা না পেয়ে ক্রমশঃ আমার বয়ান গতি পায়। সর্দারগোছেরটির উপর চোখ পড়ে, তাকে ছটফট করতে দেখি, সম্রাটের চোখ থেকে নিদ্রালু ভাব উড়ে তেতে দেখি, সেখানে জমাট বাঁধতে দেখি, কি? খানিকটা ক্রোধ? অনেকটা অবিশ্বাস? অকস্মাৎ, এই প্রথম বারের মতো মনে হয়, এই লোক তো জানে না কিছুই! চ্যালা চামুণ্ডারা তা'দের ব্যর্থতা গোপন করে গেছে? তাই কি এই ক্রোধ?
ঘটনা বয়ান শেষে, শীতল দু'চোখ আমার দু'চোখে আটকে রেখে প্রশ্ন ছোঁড়েন সম্রাট, "আমারে কি করতে বলেন?" - তখন, সেই ক্ষণটিতে আমার উপলব্ধি হ'তে থাকে কি বোকামি আমি করেছি! সত্যিই তো, কি আশা করেছিলাম আমি? কি পাবো ব'লে ভেবেছিলাম? ভীষণ রকম অসহায় লাগতে থাকে আমার! সর্বসমক্ষে এক নগ্নতার বোধ তার হিমশীতল হাতে ছুঁয়ে দেয় আমাকে!
- "বলেন, আমার কি করার আছে? বলেন!" অধৈর্য!
- " আমারে খামাখই উঠায় নিয়া গেলো, মাইরধর করলো! আমারে..."
- "থামেন!" বজ্র নির্ঘোষ! "মাইরা তো ফেলে নাই! নাকি ফেলসে? আমার কাছ পর্যন্ত আসতে তো পারছেন, নাকি?"
- "জ্বি, তা' পারছি। কিন্তু আমার শার্ট ছিঁড়া ফেলসে, ব্রিফকেইস কাইটা ফেলসে, ক্রস বলপেনটা নিয়া গেসে, নগদ টাকা নিয়া গেসে..." এখনো বেঁচে আছি, এই সত্যটা হাতুড়ির মতো আছড়ে পড়ে মাথায়, অভিযোগগুলো নিজের কাছেই অকিঞ্চিতকর মনে হ'তে থাকে!
- "ট্যাকা নিসে?" সর্ডার গোছেরটির দিকে ফিরে, "কি রে, অই xxxx xx, xxx xx, ট্যাকা নিছস? কলম নিছস?xxx x, ফিরত দে, হারামজাদা, ফিরত দে!" আমার দিকে ফিরে, "যান, অর সাথে যান, ট্যাকা দিয়া দিবে, কলম উলমও, থাকলে ফিরত পাইবেন, যান!" হাতের অসহিষ্ণু ঝাঁকিতে মামলা ডিসমিস ক'রে দেন সম্রাট। চ'লে আসবার জন্য ঘুরে দাঁড়িয়ে দু'পা বাড়াতেই ডাক পড়ে ফের। চোখে প্রশ্ন নিয়ে তাকাই।
- "আমারে চিনেন?" মাথা দোলাই। "গাবতলি দিয়া আইবেন, যাইবেন, দিন নাই, রাইত নাই, শইল্যে টোকাও দিবে না কোন হালায়, যান!"
এই হ'লো টাকা ফেরত পাওয়ার গল্প! যদি মনে হ'য়ে থাকে ভিলেইন চরিত্রের মানুষদের গ্লোরিফাই করার চেষ্টা করা হয়েছে, তা'হলে সবিনয়ে বলি, তা' সম্পূর্ণ অনাকাঙ্খিত। আসলে এইসব লোকের প্রতি আতঙ্ক থাকে, ঘৃণা থাকে, সহানুভূতি প্রায়শঃই থাকে না। স্মৃতি খুব রহস্যময়, দুঃখ, ক্রোধ, তিক্ততা সে অতি দ্রুত মুছে ফেলতে পারে, লেপে দিতে পারে নিস্পৃহ কৌতুক। তা'বলে সত্য কিছু বদলে যায় না। আমাদের দেশে অনেক আছে ক্ষমতার পকেট, অনেক আছেন পকেট সম্রাট। তাদের কারো কারো হাতের থাবা আমাদের মানচিত্রের চেয়েও বিশাল, তাদের ছায়া বিশালতর। সেই ছায়ায়, অন্ধকারে, ভয় ছাড়া অন্য কিছু বাঁচে না!
জীবনে, খেয়াল করেছেন, গা' শিউরানো হিংস্রতাগুলো কোথায় লুকিয়ে থাকে? মনের খুব গহীনে, যেখানে ঘৃণার আঁতুড়ঘর, চোর-পুলিশ খেলে শিকারী ও শিকার! সেখানে, সেই আইন-কানুন, নিয়ম-নীতিহীন অন্ধকার অভয়ারণ্যে চোখেরা দেখে, মুখেরা কথা বলে না! লজ্জ্বা আর ভয়ের ঘেরাটোপ বিছিয়ে থাকে অস্তিত্বে - ঘটনা, দুর্ঘটনারা সেইখানে ঘুরপাক খায়, গুমরে গুমরে মরতে থাকে, মরে না, কেবলই মরতে থাকে! সেইখানে কেউ লাইফলাইন ছুঁড়ে দিলে, কত না দুঃসহ স্মৃতি পূনর্জন্ম পায়!
তবু ভয়ের প্রতি আকৃষ্ট হই! ভয় আমার অভিভাবক। দারুণ কেয়ারিং! সে আমাকে সাবধান করে। ভয় পাই ব'লেই হুঁশিয়ার হই। ভয় পাই ব'লেই প্রতিবাদী হই। ভয় পাই ব'লেই লড়ি। ভয় বেঁচে থাকুক অন্তরে, উইদিন রিজন!!!
মন্তব্য
একদম খাঁটি কথা বলেছেন।
লেখকের মন্তব্য
পড়েছো ব'লে ধন্যবাদ জেনো, আচার্য!
ভয়ই মুখ খোলায়, ভয়ের ইঙ্গিতেই চুপ থাকি! আমি খুব ভীতু মানুষ রে ভাই।
কৃতজ্ঞতা জেনো, আর, খুবই ভালো থেকো!
বাহরে সব কিছু এমনিতেই ফেরত দিয়ে দিলো
তারপর তো দেখি আবার খাতিরও করছে কেউ টোকাও দেবেনা বলে।
লেখা তো বরাবরের মতই দারুণ
এই লেখাটা আমি লিখতে বসলে কি লিখতাম তাই ভেবে নিজেই হাসছি খুব
লেখকের মন্তব্য
আপু রে, আর খাতির! খাতিরের ঠ্যালায় গলা এমন শুকাইসিলো, কত কতদিন যে জিবলাডারে শিরিষ কাগজের মতন লাগতো, তার আর হিসাব নাই!
- তুমি লেখলেও হেব্বি জমায় দিতে পারতা, হাসির কিসু নাই। তোমার লেখার সাথে যিমুন আমগো পরিচয় নাই! আউলামি কাটায়া লেখা নিয়া কবে আসতেসো সেইডা কও!
- ধন্যবাদ তো দিবই, কাজ কাম ফালায়া, অন্য অনেক আকর্ষণ পাশে সরায়া আমার মতন ছুটকা নাটকা পাব্লিকের লেখা যারা পড়ে, পইড়া মন্তব্য করে, তাগোর প্রতি অন্তরের একদম গভীরে কৃতজ্ঞতা অনুভব করি! তোমারে বইলা সবাইরেই বল্লাম আর কি।
ভালো থাইকো।
বাপী ভাই" ভালো আছেন?
আপনিতো এখন ঢাকার ২য় সম্রাট হয়ে গেলেন।।।।হাহাহাহাহাহাহাহাহাহ

লেখকের মন্তব্য
মনির, আমি ভালো আছি, ভাই!
আর সম্রাট!!! আমরা যে কত অসহায়, সেইটা তো দেখলেনই।
আপনেরে অনেক ধন্যবাদ আর কৃতজ্ঞতা, মনির। শুভ কামনা!
লেখাটা খুব ভালো লাগলো। তীব্র হিংস্র লোকটির মাঝেও মানবতার ছিটে ফোঁটা অবশিষ্ট আছে অনেক লোকের চেয়ে বেশি এটা দেখে কেন জানি ভালো লাগলো।
ভালো থাকুন।
লেখকের মন্তব্য
আমিন শিমুল, আপনার উপস্থিতি দারুণ কাঙ্খিত। খুবই অনুপ্রেরণা পেলাম আপনার ভালো লেগেছে জেনে।
- কিন্তু দেখেন, সেই মানবিকতার দেখাটি পেতে কত অমানবিকতার পাহাড় টপকাতে হলো! আমরা, সাধারন মানুষেরা, দৃশ্যমান কোন শৃঙ্খল না থাকলেও বন্দী! এই ভাবনাটা মাঝে মাঝে মন খারাপ ক'রে দেয়!
এইটা স্মৃতিকথা?
এমন কৈরা লেখছেন কেন?
পুরাই ফাটাফাটি থ্রিলার!!
আপনে এমন ভয়ানক লেখেন নাকি? লেখনি কি ভয়ানক শক্তিশালী এইটাতে, একদম সীজনড।
লেখকের মন্তব্য
ভ্রাতা শাওন, আপনে তো জাইনাই গেসেন, আমার পাতায় আপনের দেখা পাইলে কি পরিমাণ উৎসাহ পাই! আইজকা তো খুশিতে লাফাইতে মুঞ্চাইতেসে!
- এই লেখাটা আপনের কাছে সীজনড লাগসে? তাইলে সীজনিং এর নামডা বইলা দেই? সীজনিং এর নাম চতুর্মাত্রিক! কথা কিন্তু সইত্য!
অসংখ্য ধন্যবাদ, অপরিসীম কৃতজ্ঞতা! খুবই ভালো থাইকেন!
কলম উলম কী দিছিল ...যার জন্য বাঘের ঘরে গেছিলেন ফের?
লেখকের মন্তব্য
হাহাহা! সমুদ্রজল, হ্যাঁ, কলম উলম তো ফিরত দিসিলো। কিন্তু ঐ ব্যাডায় অনভ্যাসে ক্রস বলপেনডারে গায়ের জোরে টাইনা বারো বাজায় দিসিল!
- অনেক ধন্যবাদ আর কৃতজ্ঞতা জানাই আপনাকে! শুভ কামনা!
কলমের জন্য তোমার তো বুক ফেটে যাবারই কথা! কারন কলম জমানো তোমার হবি ছিলো!
লেখকের মন্তব্য
হাহাহা! সেইগুলার মধ্যেই একটা সোনালী কলম! হবি টবি কই গেসে এখন!
বর্ণনাও কী ভয়ংকর সুন্দর!
আপনিতো বুকে বহুত বল রাখেন, বাপী ভাই!
=========
আপনার অদম্য সাহসিকতা'র জন্যে ৭ দিলাম!
লেখকের মন্তব্য
তুমি তো পুরাই ধোঁকা খায়া গেলা, নয়ন! সাহসের লিগা সাত দিলা, সাত তো পানিত গেলো! আমি গাই ভয়ের জয়গান, আর তুমি করো আমার সাহসের তারিফ! কেম্নে কি?
- বর্ণনার কথায় তোমার বিশেষণ দেইখা, লজ্জ্বা লজ্জ্বা লাগলেও কই, একা একাই খুশিতে দাঁত বাইর হয়া যাইতেসে!
- অনেক ধন্যবাদ আর কৃতজ্ঞতা জাইনো, ভাইডি! অফুরান শুভ কামনা!
তবু ভয়ের প্রতি আকৃষ্ট হই! ভয় আমার অভিভাবক। দারুণ কেয়ারিং! সে আমাকে সাবধান করে। ভয় পাই ব'লেই হুঁশিয়ার হই। ভয় পাই ব'লেই প্রতিবাদী হই। ভয় পাই ব'লেই লড়ি। ভয় বেঁচে থাকুক অন্তরে, উইদিন রিজন!!!
ধন্যবাদ।
লেখকের মন্তব্য
আমার পাতায় প্রথম এলেন, পঞ্চম! আপনাকে স্বাগত জানাই!
আপনি আমার ধন্যবাদ নিন, আর অনেক কৃতজ্ঞতা জানবেন। খুব ভালো থাকুন, ভাই।
কী দারুন কথা! কী নিদারুন সত্য!!
সাহসের তারিফ করে আপনাকে বিব্রত করতে চাই না। তবে লিখেছেন যা, তা একেবারে অন্তরের সবটুকু দরদ দিয়ে। চমৎকার! অতি চমৎকার!! পোস্টের জন্য সাত দিয়ে তৃপ্তি হচ্ছে না পুরোটা। সুযোগ থাকলে এমন আরও শ'খানেক সাত দিতাম।
আর সাহসের জন্য? কিছুই দেবার ব্যাবস্থা নেই এখানে! নেবার যে ব্যাবস্থা আছে সে সুযোগ গ্রহণ করলাম।
শুভেচ্ছা বাপী হাসান।
লেখকের মন্তব্য
হুদা ভাই! আপনে হইলেন, কি আর কমু, আপনে হইলেন আপনেই! যে আন্তরিকতা দিয়া আমগো চতুরগোরে ঘিরা রাখসেন আপনে, দুনিয়ার সব সাত দিয়া দিতে পারলেও তো কমই হবে মনে হয়! আমরা আপনের ভালোবাসার কাছে স্বেচ্ছাবন্দী, আছি, থাকতেই চাই!
- আপনের সাহসের কথাও কিন্তু আমি জানি! আমি যে মূলতঃ, এবং সর্বাগ্রে পাঠক সেইটা কি ভুইলা গেলেন মিয়াবাই?
- পোস্ট প্রিয়তে নিয়া অধমেরে ধন্য কইরা দিসেন গো!
- অনেক ধন্যবাদ আর অপরিসীম কৃতজ্ঞতা! হাতে ধরা লাগামে মাঝে মাঝে কইষা টান দিয়া জীবনের ঘাম ছুটায় দেন, ঐ ব্যাডা ঐটাই ডিজার্ভ করে!
শ্রদ্ধেয় বাপী ভাইয়ার অসাধারণ লেখা কি যে ভাল লাগলো!কি সাহস আপনার!
কলম উলম কি ছিল ভাইয়া?প্রিয় ক্রস বলপেন
উত্তম ঝাঁঝাঁ
লেখকের মন্তব্য
আপনিও আমার পাতায় প্রথম এলেন, মেঘপরী? স্বাগতম!
- যদি জানতেন আমার সাহসের দৌড়! আমি পৃষ্ঠপ্রদর্শনে বিশেষ পটু, বিশ্বাস না হয় আমার প্রোপিক দেখুন!
- কলম ফেরত পেয়েছিলাম, ভাঙ্গা অবস্থায়! প্রাণে যে বেঁচেছি, সেই তো ঢের, তাই না?
- অনেক ধন্যবাদ আর কৃতজ্ঞতা জানবেন! খুব ভালো থাকুন!
আগেও আপনার পাতায় আসা হয়েছে ভাইয়া।কিন্তু ভাগতম অবস্থায়
(লগইন ছিলাম না আর কি
)


-প্রোপিক দেখে বুঝলাম
-অবশ্যই ভাইয়া।ছোটবেলায় পড়া বাঘের গল্প থেকে শিখেছি বাঘের গলায় মুখ ঢুকিয়ে প্রান নিয়ে বেঁচে আসাই তো পুরস্কার
-আপনিও অনেক ভাল থাকুন ভাইয়া
কোথাও পড়েছিলাম ভয় নাকি সেই গুহামানবের কাল থেকেই মানুষের আদিমতম সঙ্গী।
===================
কী দারুণ লেখা!
শেষ প্যারাটা তো দুর্ধর্ষ!
লেখকের মন্তব্য
নুশেরা, প্রিয় লেখক, বিনীত কৃতজ্ঞতা!
- আমিও সেইরকমই জানি, মানুষ আর ভয় সমবয়সী।
- এই লেখার আগের দু'টো পর্ব সময় পেলে যদি পড়েন, কৃতজ্ঞ হবো!
- অফুরান শুভ কামনা!
আসল ঘটনায় সাহিত্য একটু বেশী লাগলো। আমিও ছোটখাট কিছু একটা পাড় হয়ে মোবাইল ফিরে পেয়েছিলাম, তাই হয়ত খুব বেশী মটকস মনে হলো না। মনে হলো, ইটস ওকে, এরম ত হতেই পারে।

-----------------------
মনের বাগ বড় বাগ। এটা তাড়ানোর চেষ্টায় আছি। (বাঘ না কিন্তু)
লেখকের মন্তব্য
আপনের মোবাইল ফিরে পাওয়ার ঘটনাটা ছিলো দারুণ!
- ঘটনা তো আসলেই খুব বেশি না, এইরকম তো হ'তেই পারে!
- "আসল ঘটনায় সাহিত্য একটু বেশী লাগলো" - এইটারে তো কম্প্লিমেন্টই মনে হইতেসে!!! হাহাহা! সামান্য ঘটনার বর্ণনায় আড়ম্বর আসার কারণ তো বুঝেনই, নাইলে আপনেও কি আর পড়তেন? মূল ঘটনাটা ঠিক রাইখা অনুভূতিগুলার প্রকাশ ঘটানোর একটা চেষ্টা ছিলো। স্মৃতিচারণ বইলাই ইন রিট্রসপেক্ট কিছু কিছু কথা মনে হইসে, যেইগুলা ঘটনার সময় এত তীব্রতা নিয়া মনে হয়তো আসে নাই। অথবা হয়তো আসছিলো। কে জানে?
- বাগ খেদানোর চেষ্টা আমিও চালাইতেসি!
- অনেক ধন্যবাদ, পদম ভাফু! অপরিসীম কৃতজ্ঞতা! - খুব ভালো থাইকেন!
ছোটকালে একটা বাংলা ছবি দেখছিলাম এমন। জসিমের বড় ভাই দয়ালু গুন্ডা।
আমি হইলে যাইতাম না। গুন্ডাপান্ডা লুক ভয়পাই।
লেখকের মন্তব্য
দখিনো হাওয়া, ভ্রাতঃ, বিশ্বাস করেন, এখন, ট্রাক্টর দিয়া টাইনাও আমারে ঐখানে নেওয়া যাবে না! একবার জানে বাঁচছি, এই তো কত! - তারুণ্য, আহারে তারুণ্য! সেইসব দিন কত পিছনে ফালায় আসছি!
- তবে, এইখানে সাহসের কিছু নাই, এইটা ছিলো ঘাউড়ামি, পিওর এ্যান্ড সিম্পল!
- দয়ালু গুন্ডা খালি সিনেমায়ই দেখা যায় মনয়, গুন্ডা আবার দয়ালু হয় কেম্নে! তাই না? বাস্তব হইলো বাস্তবই!
- অনেক ধন্যবাদ, ভাই। অনেক কৃতজ্ঞতা! খুব ভালো থাইকেন।
( বেশি বেশি কইরা পোস্ট দেন দি ভাইডি! মিথোলজি আপনের হাতে খুবই স্বাদের! তাই বইলা অন্য পোস্ট বিস্বাদ, তা কইলাম কই নাই!)
আপনার সাহস আছে। এই ধরনের ঘটনার পর আর কিছু করার থাকে না। আপনি যা করেছেন তা অবিশ্বাস্য।
লেখকের মন্তব্য
উদরাজী ভাই, সাহস না, ঘাড় ত্যাড়ামি! ঐসব জায়গায় সাহস কোন কাজের জিনিস না। এই লেখাটায় যা ফুটাইতে চাইসিলাম, তা' পারি নাই!
- অনেক ধন্যবাদ আর কৃতজ্ঞতা জাইনেন! খুব ভালো থাকেন!
কী চমৎকার লেখা! মুগ্ধতার মাত্রা দিন দিন অসীম থেকে আরো অনন্ত উচ্চতায় চলে যাচ্ছে!
ভাষাহীন! বাকরুদ্ধ! প্রশংসা করার যোগ্যতা আমার নেই, বাপী ভাই!
লেখকের মন্তব্য
গাছে উঠায় দিলা তো, অপা! তা না হয় উঠলাম, কিন্তু মই যখন কাড়বা তখন কি হবে ভাইবা কিঞ্চিৎ শংকিত!
- এই প্রথম কোন গদ্য আগে কাগজে লিখলাম, তারপর সেটারে টাইপাইলাম! এইটাও একটা লন্ড্রোম্যাট প্রডাকশন!
- ভালো লাগসে জাইনা খুবই আনন্দিত!
অসংখ্য ধন্যবাদ আর কৃতজ্ঞতা রইলো!
অফুরান শুভ কামনা!
কঠিন অবস্থা !
লেখকের মন্তব্য
ঠিক ধরসেন, শুন্য ভ্রাতা! কঠিনই! আপনেরে বলি, যা বলতে চাইসিলাম তা বলতে পারি নাই, এইটা আমার অক্ষমতা। খেয়াল করসেন, পুরা সাক্ষাতটাই একজন ক্ষমতাধর মানুষের হুইমের প্রকাশ? বিশালকায় এক বিড়ালের নেংটি ইঁদুর নিয়া খেলা। তুলতুলে থাবায় তীক্ষ্ণ নখর লুকায় রাখার চেষ্টা একটু ছিলো, সেই রকম মুড না থাকায় হিংস্রতা হয়তো সেইরকম দেখায় নাই, দেখাইলে কিছু তো করারও ছিলো না! এদের সাথে সাহস দেখায়া কোন লাভ নাই! মনের বাঘের সাথে লড়াইতে সাহস কাজে দেয়, বনের বাঘ, রিয়েল লাইফ জুজুরা অনেক, অনেক হিংস্রতর। আমি গোরস্থানে অমাবস্যার রাত একলা কাটাইতে রাজি, কিন্তু সেইখানে যাওয়া আর আসাটা একলা করতে রাজি না। হাহাহা!
- অসংখ্য ধন্যবাদ আর অপরিসীম কৃতজ্ঞতা জানবেন। শুভ কামনা রইলো।
আপনার সাহস তো দুঃসাহসকেও হার মানায়। কিভাবে পারলেন?
লেখকের মন্তব্য
ঘাড় ত্যাড়া, অপরিণামদর্শী, হঠকারী, আহাম্মক, ঘাউড়া - এইগুলা, সলজ্জ্বভাবেই বলি, আমারই নাম! বেইসিক্যালি আমি ভীতুর ডিম।
- দারুচিনি লবঙ্গ, অসংখ্য ধন্যবাদ আর কৃতজ্ঞতা জানাই।
- অফুরান শুভ কামনা।
বাপী ভাইয়ার পোস্ট পড়বার মধ্যে দিয়ে আজ আমার রোদ ঝলমলে দিনের শুরু! (দ্বিতীয় পর্ব পুরোটা না পড়েই প্রথমে শেষ পর্বই পড়লাম।)
-----------
বাপী ভাইয়া,
একটা অনুরোধ রাখবেন?

আপনি এই বেলা সিরিয়াসলি লেখালেখি শুরু করেন। আমি আগামী বইলেমায় আপনার বইটা সবার আগে কিনতে চাই। আমার কথাগুলো কিন্তু সিরিয়াসলি উচ্চারিত! হিউমার, রিচ ভোক্যাব, ড্রামাটাইযেইশন, ডেপ্থ - কি নাই এই লেখায়!
পোস্টে সাত দিলাম, পোস্ট প্রিয়তে নিলাম এবং সংকলনে সংযুক্তির পক্ষে ভোট দিলাম।
---------
আপনার বিরক্তি উদ্রেক না করলে কতগুলো শব্দার্থ শিখতে চাইছি। ১) দৌবারিক, ২) (বজ্র) নির্ঘোষ, ৩) 'হঠকারী' আর 'শঠকারী'র মধ্যে পার্থক্য কি?
--------
কিছু ইংরেজী শব্দ কি চমৎকারভাবে লেখার সাথে ব্লেন্ড করানো হয়েছে।
নিপাট বানান!! (শুধুমাত্র একটা অশুদ্ধ বানান চোখে পড়ল। বাধা --> বাঁধা)
--------
নিরন্তর শুভকামনা।।
লেখকের মন্তব্য
নাঈফা, প্রথমে অর্থগুলো বলি, দৌবারিক> দ্বারিক> দ্বাররক্ষী - সোজা বাংলায় দারোয়ান।
আর, বজ্র নির্ঘোষ হলো বজ্রের হুঙ্কার।
- বাধা - ইন্টারাপশন অর্থে ব্যবহৃত - এটায় তো চন্দ্রবিন্দু হবে না, বাঁধা মানে তো বন্ধণ - টু টাই আ নট যেমন।
- বিরক্তির প্রশ্নই আসে না! আ প্লেযার ইন্ডিড! আপনার মতো পাঠক পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার।
- সিরিয়াসলি লেখার কথা বলছেন? স্বপ্ন দেখতে বলছেন? কে জানে? জানি না। হয় তো কোন একদিন---
- মনোযোগী পাঠের জন্য অপরিসীম কৃতজ্ঞতা, অমিতা! আমার পাতায় আপনার উপস্থিতি খুব সাহস জোগায়!
- অফুরান শুভ কামনা!
লেখকের মন্তব্য
ওহ, একটা বাদ পড়লো দেখছি! হঠকারী মানে অপরিণামদর্শী, দুঃসাহসিক - একগুঁয়ে অর্থে, আর শঠকারী শব্দটার সাথে পরিচয় নেই, শঠ মানে প্রতারক, প্রবঞ্চক।
- শুভ কামনা।
আপনার সাহসের প্রশংসা করবো না, বরং সাবধান হতেই বলবো, কারন এটা বিপজ্জনক।
তবে লেখাটা অসাধারন হয়েছে, বাপী ভাইয়া, খুবই।
মন্তব্য করুন