বারীশ-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি


গুটি গুটি পায়ে পিছুপিছু গেইট পর্যন্ত যেয়েও শেষ বারের মতন তোমার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ব্যর্থ হয়েছিলাম। এরপর রাস্তার অপর পাশ থেকে খোলা দুয়ার পানে তাকিয়ে থেকে তোমার অতিক্রম করা বাতাস থেকে ঘ্রাণ টেনে নিতে বেশ ভালো লাগলেও আমি আধা ঘণ্টার বেশি ওখানে দাঁড়িয়ে থাকিনি। অতঃপর দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে উঠলে স্থান পরিবর্তন করেছিলাম কিন্তু কামনা করিনি কেও এসে সান্ত্বনা দেবে আমায়। এরপর মুক্ত মঞ্চের ডান পাশে, লেকের ধারে দেড় ঘণ্টা বসে থেকে মশার তীব্র জ্বলুনি সহ্য করলেও আমার অভিযোগ ছিল না কোন, যখন দেখছিলাম চারপাশে ব্যস্ত যুবক-যুবতিরা হেটে যাচ্ছে/হেসে যাচ্ছে/ছুঁয়ে যাচ্ছে, কিন্তু কেও ঘাঁটাচ্ছে না আমায়। বরং এক অপার্থিব নিরিবিলি বর্ষণ করে যাচ্ছে।পরা-জাগতিক নীরবতার স্বাদ পুরোপুরি আস্বাদন করে আমি লেকের জলে কি যেন খুঁজছিলাম। আমার আমাকে নাকি? দূর অতীত, নিকট অতীত আর ফেলে আসা ঘণ্টা খানেক আগের অতীত, সব মনে পড়ে যাচ্ছিল। মুঠোফোনে তাঁর সাথে তোমার আদুরে আলাপনের থেকে সৃষ্ট আমার তীব্র অভিমানের বোঝা দূর করে ফেলতে আমি অযাচিত ভাবনাদের টেনে এনেছিলাম, "জানো, আমি একসময় স্কাউট ছিলাম" আর অনেক গুলো গেঁড়োর ভেতর কেবল বড়শী গেঁড়োটার কথাই মনে আছে, এসব ভেবে ভেবে আমি সত্যই তোমার প্রতি অভিমান করছিলাম না কোন...
দেড় ঘণ্টা দেখতে দেখতে চলে গেলেও আমি রাত আটটার পর আর এক মুহূর্তও নিজেকে ওখানে রাখতে চাচ্ছিলাম না। যদিও হাতের ডান দিকটায় তাকিয়ে সি এন জি খুঁজছিলাম, কিন্তু দৃষ্টি বারবার বাম পাশে তোমার দুয়ার পানে ফিরে যাচ্ছিলো আর এভাবে সময় আরও পনেরো মিনিট পার হয়ে গেলেও আমি কোন ভাবেই নিজেকে নয়টা অবধি ওখানে রাখবো না, দৃঢ় সংকল্প করেছিলাম। কখনও নিজস্ব পা জোড়াকে বসে আনা যায় না তখন যন্ত্রকে আর যন্ত্রণা মনে হয় না বলেই সি এন জি আমায় এক টানে বড় রাস্তাটায় নিয়ে গিয়েছিল। জ্যামের মধ্যে আটকে পড়ে নিজেকে নিরাপদ মনে হচ্ছিলো, "এবার আর চাইলেও তোমার আশেপাশে ফিরে যেতে পারব না" ভেবে জ্যামের উপর আমার কোন বিরক্তিই আসছিল না। জোর করে আলিঙ্গনের চেষ্টায় মৃদু বাঁধা পাওয়ার অনুভূতি যে তীব্র ভাবে বুকে বিঁধে যাচ্ছিল তা আমি তখন বুঝতে পেরেছিলাম যখন দেখেছিলাম, ব্যক্তিত্ব গড়িয়ে পড়ে যাচ্ছে সি এন জি’র সবুজ গদিতে আর ভিজিয়ে স্যাঁতস্যাঁতে করে ফেলছিল, আমার কোল। নিজেকে শত ধিক্কার দিলেও আমি কারো প্রতিই তখন কোন দোষারোপ করছিলাম না। এরপর খুব অশ্লীল ভাষা নিজের উপরে প্রয়োগ করে কিছুটা প্রশান্তি পেয়েছিলাম যদিও, কিন্তু নিজেকে মেরুদণ্ড যুক্ত ভাবতে পারছিলাম না। মনে পড়ে যাচ্ছে, গলার উপরিভাগে প্রচণ্ড ব্যথা করছিল আর আমি অসহায় হয়ে নিজের গলা চেপে ধরে অভিমানকে আটকে রেখেছিলাম, তবুও আমার অভিমান গুলো তোমাকে দিতে চাচ্ছিলাম না...
মন্তব্য
এত অভিমান ক্যান ?
ভাল থেকো
লেখকের মন্তব্য
কৈ নাই তো!
সব অভিমান অভিযোগের অবসান ঘটিয়ে পথচলা হোক উভয় উভয়ের সাথে।
শুভ কামনা রইলো।
ভালো লাগা নিয়ে গেলাম তারকা এঁকে দিলাম।।
ভালো থাকবেন সব সময়।
লেখকের মন্তব্য
আপনিও ভাল থাকবেন মনির ভাই!
লেখকের মন্তব্য
।।।।
”বারীশ”
।।।। মানে বুঝলামনা!!!!
কিছু কইলেন??
অভিমানী লেখা পইড়া লোভ সামলানো গেল না। তাই আমিও এমন অভিমান করলাম।
লেখকের মন্তব্য
তাইনাকি!
বেশি অভিমান কইরেন না, গলায় ব্যথা করবো!
মনে হয়...সেইম ব্যাপারটা আমার অনুভূত হচ্ছে....
লেখকের মন্তব্য
তাই? কষ্টকর অনুভূতি দূর হউক!
সুন্দর কথামালা!
লেখকের মন্তব্য
সুন্দর? কি বলেন!
তোমার অতিক্রম করা বাতাস থেকে ঘ্রাণ টেনে নিতে......
তোমার অতিক্রম করা বাতাস থেকে ঘ্রাণ টেনে নিতে
তোমার অতিক্রম করা বাতাস থেকে ঘ্রাণ টেনে নিতে
সবচেয়ে সুন্দর লাইনটা!
শুভকামনা বারীশ।
লেখকের মন্তব্য
আপনি সবসময়ই সুন্দরটা বেছে নেন!
অভিমানি লেখা ভালোই লাগলো পড়তে
এত অভিমান কেন!
৯ টার পর থাকলে কি সমস্যা?
পিচ্চির মুখটা আসলেই খুব অভিমান মাখা
লেখকের মন্তব্য
৬ টা থেকে ৯ টা, অতঃপর আরও অপেক্ষা করা কি যুক্তিসঙ্গত, যখন বৃথাই হবে অযথা এই কাল ক্ষেপণ?
অবশ্য আমরা ইচ্ছে করেই যুক্তিহীন অনেক কিছুই করে যাই, অযথাই, বৃথাই...
ভাল আছেন?
পিচ্চিটাকে "Flickr" থেকে নিয়েছি!
Flickr এ ঢুকেন মাঝে মধ্যে?
অভিমান!
লেখকের মন্তব্য
হুম!
অভিমান ভালো না।
মন্তব্য করুন