মামুন হক-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

(*** নতুন কিছু লেখা হয়ে উঠছে না ইদানীং, পরিমলদের কীর্তি দেখে মানসিকভাবে খুব অশান্তিতে আছি। সত্যি কথা বলতে গেলে পৃথিবীর সব খানেই আজ পরিমলদের দৌরাত্ম। বাইরের দুনিয়ার পরিমলদের দেখে অস্বস্তি আর ক্ষোভের মিশেলে লিখেছিলাম এই কবিতাটি। আজ প্রাসঙ্গিক মনে হওয়ার শেয়ার করছি আপনাদের সাথে। এই পৃথিবীকে পরিমলমুক্ত, নির্মল, এবং শিশুর বাসযোগ্য করে গড়ে তোলার দায়িত্ব আমাদের সকলেরই।)
আমারও তো ইচ্ছা করে পৃথিবীর সব রমণীকে ভোগ করতে
জোহানেসবার্গের খরস্রোতা পাহাড়ী পথে গতি না কমিয়ে
গলা নামিয়ে ড্রাইভার জেফরি বলেছিল
জানেন, কালো মেয়েরা খুব রসালো হয়
ধরার আগেই সিক্ত হয়, ছোঁয়ার আগেই রিক্ত হয়
তারপর মাখনের মতো গলে যেতে থাকে দু’বাহুর আলিঙ্গনে
লাগবে কাউকে আজ রাতে স্যার? পঞ্চাশ টাকাতেই রাত কাবার
সাও পাওলো থেকে ঘুরে এসে আমেরিকান বন্ধু বলেছিল
জানিস, নিষিদ্ধ সঙ্গমে লাতিনাদের মতো পারঙ্গম আর কেউ নেই
বন্ধু , বুড়িয়ে যাবার আগে একবার কার্নিভাল দেখে যাস
ব্যাংককের বারে অচেনা শেখ বলছিল
কার্লর্সবাগ খাই না, ওটা ড্যানিশ বিয়ার
ওরা মহানবীকে নিয়ে কার্টুন আঁকে
তারচেয়ে নস্যি টেনে, কায়দা মেনে
ডবকা থাই ছুড়িকে প্রমোশন দেয়া অনেক ভালো
টাট্টু ঘোড়ার অদম্য গতিতে
আপনাকে চালিয়ে নিয়ে যাবে মেঘের দেশে
চাই কি বলুন ব্রাদার? আমি গোটা তিনেক কিনে নিয়েছি
পুরো দু’সপ্তাহের জন্য, নামমাত্র মূল্যে পূর্ণ তৃপ্তির নিশ্চয়তায়
আমার আসলেই ইচ্ছা করে পৃথিবীর সব রমণীকে ভোগ করতে
কিন্তু,
যখন,
শিপিং কন্টেইনারে দেখি উদ্ভিন্ন যৌবনা উজবেক তরুণীর লাশ
হো চি মিন আর নমপেনে হাজার ডলারে বিক্রি হয় অনাঘ্রাতা বালিকা
ক্যান্টনে মায়ের হাত ধরে হোটেলে আসে চৌদ্দ বছরের ভীতু মেয়েটা
কঙ্গো আর লাগোসের রাজপথে স্তন কেটে নেয়া গণধর্ষিতার মাছের মতো চোখ
গলায় বেড়ি আঁটা ফিলিপিনা দুবাইয়ের প্রাসাদে, কুকুরের মতো উবু হয়ে
পিয়াস মেটায় শেখের ব্যবহৃত ওজুর পানিতে
তখন,
সব দেখেশুনে নিজেকে আর পুরুষ ভাবতেই ভালো লাগে না
সব দেখেশুনে নিজেকে আর মানুষ ভাবতেই ভালো লাগে না
সব দেখেশুনে আজকাল আর ভালোবাসতেও ভালো লাগে না।।
মন্তব্য
মামুন ভাই, শেষ লাইন পড়ে কেমন যেন লাগছে।
পরিমল মুক্ত হোক বিশ্ব পরিমল মুক্ত হোক আমাদের মন
অসাধারন বস ! স্রেফ অসাধারন !
পড়ে মাথাটা কেমন যেন করে উঠলো। পুরুষ জন্মের প্রতি ঘেন্না হচ্ছে মামুন!
টান টান একটা লেখা পড়লাম -
বাট শিরোনাম টা তেমন ভাল লাগে নাই - এই শিরোনাম দেখে কেউ চিন্তাও করতে পারবে না ভিতরটায় এত চমতকার কিছু আছে
অসাধারণ! প্রিয়তে নিলাম। আরণ্যক ভাইয়ের ফেবু লিংক থেকে আসলাম, তাকেও থ্যাংকস।
আর কিছুই বলার নেই.....আবারও গলা মেলাই আসুন আমরা সকলে মিলে আমাদের এই পৃথিবীকে মানুষের বাসযোগ্য করে তুলি...আমাদের প্রজন্মকে দিয়ে যাই সুষ্ঠু মূল্যবোধ...নির্মল পরিবেশ আর সুবিধাবাদীশ্রেনীমুক্ত বাস...
চমৎকার!
প্রিয়তে নিলাম !
যদিও শেষ লাইনটা আমার খুব অপ্রিয়।। ।।
সম্ভবত আপনার এই কবিতাটি কোথাও পড়েছিলাম আগে। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটেও বেশ অর্থবহ মনে হোল -- আগেরবারের মতই ভাল লাগল।
মানুষ -- এবং পুরুষের আজীবনের দ্বন্দ্ব।
যেই পুরুষ বলছে
"আমার আসলেই ইচ্ছা করে পৃথিবীর সব রমণীকে ভোগ করতে"
সেই পুরুষই বলছে
"সব দেখেশুনে নিজেকে আর পুরুষ ভাবতেই ভালো লাগে না
সব দেখেশুনে নিজেকে আর মানুষ ভাবতেই ভালো লাগে না
সব দেখেশুনে আজকাল আর ভালোবাসতেও ভালো লাগে না।।"
দ্বন্দ্বটা বেশ স্পষ্টভাবে তুলে এনেছেন। সাধুবাদ।
বলার কিছু নেই।
কথা সত্য এক বিন্দু মিথ্যা নয়।
জবাব নাই
সোজা প্রিয়তে
ঠিক যেন মনে কথাটাই বলেছেন মামুন ভাই।
লেখকের মন্তব্য
সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনারা সাথে আছেন বলেই মনের কথাগুলো এখনও বলে ফেলতে পারি, চারপাশের হালচাল দেখে দম আটকে এলে এখানে নিশ্চিন্তে দু'দণ্ড শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারি। শিরোনামটা অনেকের কাছে ভালো লাগেনি বলে দুঃখিত, কিন্তু আসলে শেষ লাইনটার জন্যই এত সব আয়োজন।.
সব দেখেশুনে নিজেকে আর মানুষ ভাবতেই ভালো লাগে না
সব দেখেশুনে আজকাল আর ভালোবাসতেও ভালো লাগে না।।।।।

গুজ বাম্পস।
অসাধারন বস, স্যালুট। অসাধারন।
আর আমার শুধু কান্না আসে।কেন ভালবাসা শুধু ভোগের হয়ে গেছে?কেন সব পুরুষ এর শুধু এত ভোগের সাধ?
কবিতা থেকে সবসময় দূরে থাকতাম, কিন্তু এখানে ইউ টার্ণ! সোজা প্রিয়তে! হৃদয়ের রক্তক্ষরণগুলো এমন করে বাঙ্ময় হয়ে উঠেছে এখানে, যেন আমার নিজের মনস্তাপই উৎসরিত হয়েছে বিপুলভাবে! প্রথম এবং শেষ লাইন দুটোই - কি কঠিন সত্য!
ভালো লাগছে মামুন ভাই। আগে নজরে পড়ে নাই। তাই আজকে পড়লাম আনন্দ নিয়ে।
অসাধারণ লাগলো মামুন ভাই ।।। জাস্ট অসাধারন । কবিতা আমার পড়া হয় না। আজ খুব ভালও লাগলো । খুব
একদম আমার কথা বলেছেন । এই সমাজের সবখানে সমস্যা । সবখানে ।

প্রিয়তে নিলাম ।
ভাল থাকুন ।
লেখকের মন্তব্য
আরে খাইছে এইটা দেখি লোকজন এখনও পড়তেছে। সবাইকে আবারো অসংখ্য ধন্যবাদ
অসাধারণ এই লেখাটা পড়তে এতো দেরি হলো বলে নিজেকেই নিজে দুষছি। আপনি কি জানেন এই লেখাটা কতোটা অসামান্য হয়েছে?! আমি রীতিমত স্তব্ধ হয়ে গেছি। পরপর দুইবার তিনবার পড়ছি আর গা কাঁটা দিয়ে উঠছে। কবিতায় এভাবে মুড বদলে ফেলতে পারা হয়তো আবেগের জোরেই সম্ভব। এই লেখায় একদম সেরকমই একটা অনুভব হলো!
অনেক অনেক শুভেচ্ছা নিবেন মামুন ভাই!
লেখকের মন্তব্য
অনেক অনেক ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানবেন অনীক। আপনার শুভেচ্ছা এবং প্রশংসা মাথা পেতে নিলাম।
দারুণ লেখা!
অসাধারণ, অসাধারণ, অসাধারণ
খুব ভাল লেগেছে!
আর কি বলব?
কিছুইতো বুঝি না আমি, পারিও না!
কিন্তু খুব ভাল লাগল!
মামুন ভাই, অনেক দেরীতে এই লেখাটা পড়লাম। পড়ার পর নির্বাক হয়ে বসে আছি। আপনাকে বোঝাতে পারবোনা কতটা মুগ্ধ হইয়েছি। অসম্ভব ভালো লেগেছে।
খুব ভালো থাকুন।
অসাধারন
অনেকদিন পর পড়লাম আপনার লেখা। নির্বাক থাকাই শ্রেয় মনে করছি।
কি কারণে নিজেকে মানুষ বলবো এটাই মাঝে মাঝে ভাবি।
ভীষণভাবে নাড়া দেয়া একটা কবিতা।
বাংলা ব্লগে প্রকাশিত সেরা লেখাগুলোর একটিকে প্রিয়তে নেয়ার সৌভাগ্য হলো।
অসাধারণ গায়ে কাটা দেওয়া কবিতা!
u cant even imagine i was so touched while reading it. truely, great job .
প্রিয়তে নিলাম।
মন্তব্য করুন